জি-২০ সম্মেলন সমাপ্ত, ব্রাজিলের কাছে প্রেসিডেন্সি হস্তান্তর মোদির

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স:  বিশ্বের শিল্পোন্নত ও বিকাশমান অর্থনীতির দেশের জোট জি-২০ এর শীর্ষ সম্মেলন শেষ হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে নয়াদিল্লিতে (৯ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর) দুইদিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দিল্লির সম্মেলন সমাপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জি-২০ জোটে ভারতের প্রেসিডেন্সির মেয়াদও শেষ হয়েছে।  

এরপর জোটটির নতুন প্রেসিডেন্সির দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রাজিলের কাছে হস্তান্তর করেছে ভারত।

এর অংশ হিসেবে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দি সিলভার হাতে প্রেসিডেন্সি হস্তান্তরের প্রতীক জি-২০ এর ‘হাতুড়ি’ তুলে দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী এক বছর জি-২০ জোটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন ব্রাজিলের লুলা।

ভারতে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ বিশ্বের অন্যান্য নেতারা অংশ নেন।

আজ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বিশ্বনেতারা রাজঘাটের মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরআগে গতকাল শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জি-২০ সম্মেলন শুরু হয়। এদিন নয়াদিল্লির ভারত মান্দাপাতামে এক এক করে সব নেতাকে বরণ করে নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্মেলনের প্রথমদিন ‘দিল্লি ঘোষণাপত্রে’ সম্মতি প্রকাশ করেন সব নেতা।

দিল্লি ঘোষণাপত্রে বিশ্বের সব দেশের ভৌগলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার বিষয়টি বলা হয়। তবে এতে ইউক্রেনে হামলা চালানো রাশিয়ার সমালোচনা করে কোনো শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয় ইউক্রেন।

এবারের সম্মেলনে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় ছিল— যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, সৌদি আরব ও ইউরোপের মধ্যে রেল ও বন্দর নেটওয়ার্ক তৈরি করা। এছাড়া গতকাল জি-২০ জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয় আফ্রিকান ইউনিয়ন।




দুই ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর এডিসি হারুনকে রমনা থেকে প্রত্যাহার

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন অর রশিদকে রমনা থেকে প্রত্যাহার করে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের দুই নেতাকে থানায় নিয়ে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ পাওয়ার পরেই এই বদলির সিদ্ধান্ত এলো।

এদিকে, দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডিএমপি কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানেন। এটি তদন্ত করা হবে, তদন্তে এডিসি দোষী হলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় ছাত্রলীগের দুই কেন্দ্রীয় নেতাকে পুলিশ নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। আহত ব্যক্তিরা হলেন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফজলুল হক হলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ। তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাদের সহপাঠীদের অভিযোগ, পুলিশের রমনা বিভাগের এডিসি হারুন অর রশিদ তাঁদের থানায় নিয়ে বেদমভাবে পিটিয়েছেন। ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দেওয়ার পরও হারুনের সঙ্গে ১০-১৫ পুলিশ সদস্য মিলে তাদের পেটান।

পুলিশ সূত্র জানায়, এডিসি হারুনের সঙ্গে শাহবাগের একটি হাসপাতালে পুলিশের এক নারী কর্মকর্তা আড্ডা দিচ্ছিলেন। সেখানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ওই নারী কর্মকর্তার স্বামী হাজির হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরবর্তীকালে এডিসি হারুন সেখান থেকে চলে যান। পরে পুলিশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের শাহবাগ থানায় ডেকে নিয়ে মারধর করে।




বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছেন সায়ন্তিকা

চন্দ্রদ্বীপ বিনোদন ডেক্স:  টলিউডে একসময় দাপিয়ে কাজ করেছেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বর্তমানে টলিউডের পর্দায় খুব একটা পাওয়া যায় না তাকে। রাজনীতির ময়দানে পা রেখে এই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কি না তা স্পষ্ট নয়। কারণ টলিউডের এমন অনেক মুখ রয়েছে, যারা প্রথম সারিতে কাজ করে চলেছেন, অথচ সমান তাহলে রাজনীতির ভার বহন করে চলেছেন। রাজ চক্রবর্তী, দেব, মিমি চক্রবর্তী এমন নামের অভাব নেই। তবে কেন পর্দায় নেই সায়ন্তিকা? এই প্রশ্নের জবাব এখনও স্পষ্ট নয়, তবে ভালো চরিত্রের সুযোগ পেলে যে তিনি সিনেমার কাজ ফেরাবেন না, তার প্রমাণ মিলে সেই ইতিমধ্যে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের দুইটি সিনেমার প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন সায়ন্তিকা। সেই সূত্রে বাংলাদেশে যাওয়া-আসার চলছে মাঝেমধ্যেই। এ তো গেল ক্যারিয়ার প্রসঙ্গ, আর ব্যক্তিগত জীবনে কবে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন অভিনেত্রী? বাংলাদেশের এক সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সায়ন্তিকার জানালেন, ভালো পাত্র পেলেই বিয়ে করবেন তিনি। তবে বিয়ের আগে তো পাত্র প্রয়োজন।

হাসতে হাসতে সায়ন্তিকা জানান, তিনি তার মায়ের নম্বর সবাইকে দিয়ে দেবেন, যে ইচ্ছুক সে যোগাযোগ করতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশের এই দুই সিনেমার চরিত্র নিয়ে ব্যস্ত সায়ন্তিকা।

বেশ কয়েক বছর হলো দুই বাংলার কাজের আদান-প্রদান বেড়ে গিয়েছে বহু মাত্রায়। সিনেমা থেকে ওটিটি প্রচারের ক্ষেত্রেও দুই বাংলাকেই বেছে নিচ্ছেন তারকারা। কয়েক মাস আগে কলকাতায় গিয়েছিলেন আফরান নিশো। তিনি জানিয়েছিলেন, দুই বাংলার মধ্যে সবচেয়ে বড় যোগসূত্র হলো ভাষা। হয়ত বলার ধরনটা আলাদা, কিন্তু ভাষা যেহেতু একই… তাই দুই বাংলার প্রত্যেকটি আমাদের সিনেমার দর্শক। তাই দুই বাংলার দর্শকদের কাছে যদি সিনেমাকে পৌঁছে দেওয়া হয়, তাহলে ব্যবসার ক্ষেত্রেও লাভজনক হবে এবং শিল্পীর কাজও অনেকটা পরিধি পাবে।




অস্ত্র, স্যাটেলাইট, উড়োজাহাজ : ম্যাক্রোঁর ঢাকা সফরে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

 চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স:  ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঢাকায় আসছেন রোববার (১০ সেপ্টেম্বর)। তার এ সফরের সময় দু’দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ম্যাক্রোঁর সফরকালে বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এর বাইরে অস্ত্র, উড়োজাহাজ কেনা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যুতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকার ফরাসি দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে বলেছে, প্রেসিডেন্টের এই সফর কিছু সুনির্দিষ্ট প্রকল্প এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, ম্যাক্রোঁর ঢাকা সফর দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাবে।

গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়
ঢাকায় কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই সফর কয়েকটি কারণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্স অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশের কাছে সমরাস্ত্র বিক্রি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। দেশটি সামরিক সরঞ্জাম শিল্পেও বেশ প্রভাবশালী।

যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের আধিপত্য কমাতে দেশের বিমান বহরের জন্য ফরাসি এয়ারবাস কোম্পানির উড়োজাহাজ কেনার কথা বিবেচনা করছে বাংলাদেশ সরকার।

অন্যদিকে ভারত মহাসাগরকে ঘিরে ফ্রান্সের আলাদা কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। এ অঞ্চলে দেশটির সামরিক উপস্থিতিও রয়েছে। ফ্রান্স এখন চাইছে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরের মতে, ফরাসিরা ব্যবসা ও ভূ-কৌশলগত বিষয়ে সবসময় বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে থাকে।

আর যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার মো. আব্দুল হান্নান বলছেন, ফ্রান্স ইউরোপের প্রভাবশালী একটি দেশ। ফলে ভূ-কৌশলগত ও ভূ-অর্থনৈতিক বিবেচনায় ফরাসি প্রেসিডেন্টের এ সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ফ্রান্সের গুরুত্ব দেওয়ার প্রমাণই হলো দেশটির প্রেসিডেন্টের সফর। আশা করা হচ্ছে, ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বের বড় ২২টি অর্থনীতির একটি হবে বাংলাদেশ। সঙ্গত কারণেই ফ্রান্স প্রযুক্তি ও ব্যবসার নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এ কারণে শীর্ষ পর্যায়ের এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ঢাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি সেই হতে পারে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সফরকালে। এটি হবে একটি আর্থ অবজারভেটরি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থলভাগ ও জলভাগ পর্যবেক্ষণ সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হয়েছিল ২০১৮ সালের ১৯ মে যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে। সেটিও নির্মাণ করেছিল ফরাসি একটি প্রযুক্তি কোম্পানি।

এছাড়া এয়ারবাস কোম্পানি থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে উভয় দেশের কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর থেকে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। তার মধ্যেই চলতি বছরের শুরুতে ফ্রান্সের এয়ারবাস কোম্পানি থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকেও নতুন উড়োজাহাজ কেনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে চাপ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই সফরে বিষয়টি আলোচনায় আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২০২১ সালে শেখ হাসিনার ফ্রান্স সফরের সময়ে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সমঝোতাপত্রে সই করেছিল বাংলাদেশ ও ফ্রান্স। দেশটি অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশে সমরাস্ত্র বিক্রি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশও ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে।

এসব নিয়ে আলোচনার জন্য শেখ হাসিনার ফ্রান্স সফরের আগে ২০২০ সালের মার্চে ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঢাকায় এসেছিলেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের কাছে রাফাল জঙ্গিবিমান বিক্রির প্রস্তাব তুলে ধরা।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, সমরাস্ত্র হোক বা এয়ারবাস-তাদের মূল নজরই থাকবে ব্যবসা। আর মনে রাখতে হবে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ফ্রান্সের স্বতন্ত্র সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। অর্থাৎ এ অঞ্চলটি তাদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই ফ্রান্স চাইবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও উন্নত করতে।

স্বস্তি আসবে সরকারের জন্য?
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জি-২০ সম্মেলন থেকে সরাসরি ঢাকায় আসার যে সিদ্ধান্ত ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিয়েছেন, তার রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র যখন বাংলাদেশের ওপর নানা ইস্যুতে ক্রমাগত চাপ তৈরি করছে।

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের বিষয়েও আগ্রহ রয়েছে ফ্রান্সের।

অন্যদিকে, পশ্চিমা সরকারপ্রধানদের মধ্যে একমাত্র ফরাসি প্রেসিডেন্টই চীন সফর করেছেন। চীন আবার বাংলাদেশের নানা প্রকল্পে ব্যাপকভাবে জড়িত।

এমন পরিস্থিতিতে ফরাসি প্রেসিডেন্টের ঢাকার সফর নির্বাচনের আগে বাংলাদেশর বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘যুক্তরাষ্ট্রের কারণে তৈরি হওয়া অস্বস্তি’ কাটাতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে সরকারি সূত্রগুলো।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার মো. আব্দুল হান্নান বলছেন, ভূ-কৌশলগত ও ভূ-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার গুরুত্ব তৈরি করতে পেরেছে বলেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট এ সফরে আসছেন।

তিনি বলেন, স্যাটেলাইট ও এয়ারবাস নিয়ে উভয় দেশ কাজ করছে। এখন এসব নিয়ে চুক্তি করা বা চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার মানে ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি অংশীদারত্বের জন্য বাংলাদেশকে সক্ষম হিসেবে বিবেচনা করছে ফ্রান্স। এর রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।

১৯৯০ সালের পর এই প্রথম কোনো ফরাসি প্রেসিডেন্ট ঢাকা সফরে আসছেন। এর আগে, ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণেই ২০২১ সালের নভেম্বরে ফ্রান্স সফর করেন শেখ হাসিনা।




বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ আট মাসে ৩৬১ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ক্রমান্বয়ে বাড়ছে আত্মহত্যার ঘটনা। পরিবারে অভিভাবক ও স্কুলের শিক্ষকদের ওপর অভিমান করে চলতি বছরের গত আট মাসে ৩৬১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে; যেখানে স্কুল শিক্ষার্থী ১৬৯ জন, কলেজ শিক্ষার্থী ৯৬ জন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৬৬ জন এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ৩০ জন রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আঁচল ফাউন্ডেশন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সমন্বয়ে এ তথ্য জানায়।

সংগঠনটির তথ্য বলছে, যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নেয় তরুণ প্রজন্ম। ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ১০১ জন। ২০২২ সালে দেশে আত্মহত্যাকারী মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৩২। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর দেশের ১০৫টি জাতীয়, স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল থেকে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। তাদের তৈরি সমীক্ষায় দেখা গেছে, চলতি বছর আত্মহত্যা করা ৩৬১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পুরুষ শিক্ষার্থী ছিল ১৪৭ জন এবং নারী শিক্ষার্থী ২১৪ জন। একই সময়ে ২০২২ সালে আত্মহত্যা করেছিল ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী। আত্মহত্যার শীর্ষে এবারও ঢাকা বিভাগ। আত্মহত্যার ক্ষেত্রে এগিয়ে নারী শিক্ষার্থীরা। আত্মহত্যাকারীদের বয়স বিবেচনায় দেখা যায়, বেশি আত্মহত্যা করেছে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার সকালে ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার ক্রমবর্ধমান :কোন পথে সমাধান?’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় আঁচল ফাউন্ডেশন।

দেশের এমন পরিস্থিতিতে আজ ১০ সেপ্টেম্বর দেশে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৩’। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হবে। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করো’।




স্বামীরা ব্যস্ত সম্মেলনে, কী করছেন জি-২০ নেতাদের স্ত্রীরা?

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স:  জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে রয়েছেন জোটের সদস্য ও আমন্ত্রিত দেশগুলোর নেতারা। সঙ্গে গেছেন তাদের স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরাও। সম্মেলন চলাকালে প্রায় সারাদিনই বৈঠক-সাক্ষাতে ব্যস্ত থাকছেন নেতারা। কিন্তু তাদের স্ত্রী বা অন্য সঙ্গীরা কী করছেন? কীভাবে কাটছে তাদের সময়?

জানা গেছে, শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) অন্তত ১৫ জন জি-২০ নেতাদের স্ত্রীরা গিয়েছিলেন দিল্লিতে অবস্থিত ভারতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইএআরআই) ক্যাম্পাস পরিদর্শনে। তাদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রিশি সুনাকের স্ত্রী অক্ষতা মূর্তি, জাপানি প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার স্ত্রী ইয়োকো কিশিদা, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার স্ত্রী রিতু বাঙ্গা প্রমুখ।

ক্যাম্পাসে তাদের স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের স্ত্রী কিয়োকো জয়শঙ্কর।

এদিন আইএআরআই বা পুসা ইনস্টিউটে জি-২০ ‘ফার্স্টলেডি’দের জন্য জমকালো এক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল ভারতীয় কৃষি মন্ত্রণালয়। শুরুতেই ‘শস্য-রঙ্গোলি’ দিয়ে তাদের স্বাগত জানানো হয়। ১৮টি দেশ থেকে সংগ্রহ করা শস্য দিয়ে সাজানো হয়েছিল এই রঙ্গোলি।




ভূমিকম্পে কাঁপলো সিলেট

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স:  ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে সিলেটসহ আশপাশের অঞ্চল। সার্চ ইঞ্জিন গুগলের তথ্য বলছে, বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে অনুভূত এ কম্পনের মাত্রা ছিল ৪ দশদিক ৯। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসামের সোনাই থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে।

বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়াও মিয়ানমারে এ কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে গুগল।

গত ২৮ আগস্ট সিলেটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সেদিন কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬।

এর আগে গত ১৬ জুন সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সিলেট ছাড়াও মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ থেকে ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ভূমিকম্পটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়, যার ভৌগোলিক অবস্থান ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।

৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প প্রায় ১৫ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের গোলাপগঞ্জে, যা সিলেট শহর থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরে।




ইয়াবা নিয়ে শেবাচিম কর্মচারীসহ ২ জন গ্রেফতার

বরিশাল অফিস:  বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) এক কর্মচারীসহ দুইজনকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর ধান গবেষণা রোডের মাদরাসার সামনের সড়ক সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- নগরীর ধান গবেষণা রোড খেয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা কালাম ও সিরাজ। এরমধ্যে কালাম বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অফিস সহায়ক পদে চাকরি করেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই রাকিব হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর ধান গবেষণা রোডের মাদরাসার সামনের সড়ক সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কালাম ও সিরাজকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ৩০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

এসময় পুলিশের অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে জুয়েল ও আকাশ নামে আরও দুজন পালিয়ে গেছে। চারজনের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার দুজনকে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত।

এদিকে মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী কালামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন।




বিশ্বে খাদ্যের দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স: বিশ্বের প্রধান খাদ্যপণ্যগুলোর দাম গত দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এখন সর্বনিম্ন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আগস্টের সূচক এমন তথ্যই দিচ্ছে। সংস্থাটির খাদ্য মূল্যসূচক আগস্টে ১২১ দশমিক ৪-এ নেমে এসেছে, যা গত মাসে ছিল ১২৪ পয়েন্ট।

২০২১ সালে মার্চের পর এই সূচক এতটা আর কমেনি।

এর আগে ২০২২ সালের মার্চে খাদ্য সূচক সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়েছিল। সেই তুলনায় আগস্টে সার্বিক সূচক ২৪ শতাংশ কমেছে। দুগ্ধজাত পণ্য, তেলবীজ, মাংস, দানাজাতীয় খাদ্যপণ্যসহ প্রায় সব ধরনের খাবারের দামই কমেছে।

ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে শস্যচুক্তি বাতিল হওয়ার পরও গম বা ভুট্টার বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ব্রাজিলের উদ্বৃত্ত উৎপাদন আর যুক্তরাষ্ট্রে ফসল তোলার সময় ঘনিয়ে আসায় এই দুই খাদ্যের দামই বরং কমেছে। ভোজ্য তেলের দাম কমেছে তিন দশমিক এক শতাংশ। আর দুগ্ধজাত পণ্যের দাম চার শতাংশ কমেছে।

তবে ব্যতিক্রম চালের বাজার। ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে এর দাম ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে চালের দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে এক দশমিক তিন শতাংশ দাম বেড়েছে চিনির। আগের বছরের তুলনায় চিনির দাম বৃদ্ধির হারও ৩৪ শতাংশে ঠেকেছে।




নয়নতারার জন্য ১৬ বছরের সংসার ভাঙেন প্রভুদেবা

চন্দ্রদ্বীপ  বিনোদন ডেস্ক:দক্ষিণী লেডি সুপারস্টার নয়নতারা। প্রথমবারের মতো পর্দায় জুটি বেঁধেছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের সঙ্গে। এই দুই তারকার অভিনীত সিনেমা ‘জওয়ান’ ইতোমধ্যেই ঝড় তুলেছে ভারতজুড়ে।

কিং খানের সঙ্গে প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাতের পর ভক্ত-অনুরাগীদের আলোচনার কেন্দ্রতেও এখন নয়নতারা। ফলে পর্দার জীবনের বাইরে এই নায়িকার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও চর্চা তুঙ্গে।

বর্তমানে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে সুখের সংসার নয়নতারার। কিন্তু এই নায়িকার জীবনেই একসময় ঝড় উঠেছিল এক বলিউড তারকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কেকে ঘিরে। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহিলা সংগঠনও রাস্তায় নেমেছিল প্রতিবাদে!

কিন্তু কি এমন ঘটেছিল এই অভিনেত্রীর জীবনে? বলিউড তারকা প্রভুদেবার সঙ্গে প্রেম ছিল নয়নতারার। এই অভিনেতা ছিলেন তখন বিবাহিত। স্ত্রী লতার সঙ্গে তিনটি সন্তানও ছিল তার। এরপরও নায়িকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান প্রভু। ২০১০ সালে অভিনেতা নিজেই জানিয়ে দেন নয়নতারার সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা।

এই খবর প্রকাশ হতেই ব্যপক হইচই-এর সৃষ্টি হয়। স্ত্রীর কাছ থেকে ডিভোর্স চান প্রভু। কিন্তু লতা চেয়েছিলেন সংসার করতে। তিনি পাল্টা মামলা দায়ের করেন অভিনেতার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার পরই ভক্তদের চোখেও অপরাধী বনে যান প্রভুদেবা ও নয়নতারা। এমনকি বিভিন্ন স্থানে নারীবাদীদের বিক্ষোভও শুরু হয় তাদের বিরুদ্ধে। এসবের মাঝেই ২০১০ সালেই স্ত্রীকে ডিভোর্স দেন প্রভুদেবা।