বরিশালে পানচাষে চাষীদের উদ্বেগ, দরপতনে ক্ষতির শঙ্কা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় পানচাষে চাষীরা দরপতনের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন। উপজেলার বাকাল, বাশাইল, গৈলা ও রাজিহার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য পান বরজ চাষীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে বর্তমানে বাজারে হঠাৎ দরপতনের ফলে চাষীরা দিশেহারা।

গৈলা ইউনিয়নের পানচাষী আকবর মৃধা বলেন, “বরজ তৈরির বাঁশ, দড়ি, শ্রমিক মজুরি, সার ও কীটনাশকসহ সব খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। অথচ প্রতি পোন পানের দাম এখন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কয়েক মাস আগে একই পরিমাণ পানের দাম ছিল ১২০-১৫০ টাকা। এতে আমরা শুধু ক্ষতির মধ্যে পড়ছি।”

অন্য চাষীরা জানান, বরজে সারা বছর বিনিয়োগ করতে হয়। এই দর থাকলে ঋণ শোধ করা তো দূরের কথা, জীবনধারণও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

বরিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পীযুষ রায় বলেন, “চাষীদের প্রাপ্য মূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত নজরে রাখা হচ্ছে।”

বরিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানান, “চাষীদের সহায়তা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।”

চাষীরা আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল করা হলে তারা ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে পারবেন এবং বরিশালের পানচাষ পুনরায় লাভজনক হয়ে উঠবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-১ আসনে গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে ইলিয়াস মিয়া

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক এবং ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক উপ-কমিটির সদস্য মো. ইলিয়াস মিয়া। তিনি ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন গণঅধিকার পরিষদের গৌরনদী উপজেলা কমিটির সভাপতি সোলায়মান তুহিন। তিনি জানান—তরুণ, সৎ ও গতিশীল নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে মো. ইলিয়াস মিয়া এ এলাকার মানুষের মাঝে ইতোমধ্যেই গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।

সোলায়মান তুহিন বলেন, বরিশাল-১ আসন বহুদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার। সাধারণ মানুষের মৌলিক দাবি ও অবকাঠামোগত প্রয়োজনের দিকে দীর্ঘদিন নজর দেওয়া হয়নি। এসব সমস্যা সমাধানে এবং উন্নয়নকে গতিশীল করতে ইলিয়াস মিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলেই দলের বিশ্বাস।

তিনি আরও বলেন, “আমরা আজ অত্যন্ত আনন্দিত। এলাকার প্রকৃত সমস্যাগুলো জানেন ইলিয়াস মিয়া। একজন সৎ, যোগ্য ও তরুণ নেতা হিসেবে তিনি উন্নয়ন ও পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে ভোটের মাঠে নামছেন। আমি সর্বস্তরের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাই—পরিবর্তনের প্রতীক ট্রাক মার্কাকে বিজয়ী করুন।”

দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সমর্থকদের মাঝে মনোনয়ন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা শিগগিরই শুরু হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রাতভর ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’, গ্রেপ্তার ২৩

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের বিশেষ নির্দেশনায় নওগাঁর পোরশায় শুরু হয়েছে ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

রাজশাহী রেঞ্জের একজন অতিরিক্ত ডিআইজির নেতৃত্বে দুটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। শতাধিক পুলিশ সদস্য রাতভর নওগাঁর পোরশা উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায়। চোর-ডাকাত, অস্ত্র ও মাদক কারবারিদের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের ধরতে বাড়ি-বাড়ি তল্লাশি, সড়কপথে চেকপোস্ট স্থাপন এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়।

অভিযানে পোরশা থানায় ১৪ জন, নিয়ামতপুর থানায় ৯ জন এবং নওগাঁ সদর থানা এলাকায় দুইজনসহ মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মধ্যে রয়েছে ৮ জন চিহ্নিত ডাকাত ও কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়।

নিয়ামতপুর ও পোরশা উপজেলার স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকের বিস্তার নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। রাতভর অভিযান পরিচালনার ফলে মানুষের মনে স্বস্তি ফিরেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, অপরাধ দমনে এমন অভিযান নিয়মিত হলে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে।

পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, পোরশা এলাকায় সম্প্রতি বেশ কয়েকটি চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব মামলার আসামি ছাড়াও মাদক কারবারিদের ধরতে আমরা বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছি। অপারেশন ফার্স্ট লাইট এখনো চলমান।, গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়তে পারে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শফিউল সারোয়ার বলেন, পোরশা-নিয়ামতপুর এলাকায় সাম্প্রতিক চুরি-ডাকাতির ঘটনা এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছি। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পুরো জেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।




অ্যাশেজে আম্পায়ারিংয়ে বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা

বাংলাদেশের আম্পায়ারিং জগতে চেনা নাম শরফুদ্দৌলা ইবনে শহিদ সৈকত। দেশকে বিশ্ব দরবারে প্রতিনিধিত্ব করা দেশের খ্যাতনামা এই আম্পায়ার এবার দায়িত্ব পেয়েছেন ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার অ্যাশেজেও।

পার্থে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নিতিন মেনন ও আদ্রিয়ান হোল্ডস্টক। শরফুদ্দৌলা আছেন টিভি আম্পায়ারের দায়িত্বে। তবে ব্রিসবেনে অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টে পাল্টে যাবে তার ভূমিকা। ব্রিসবেনে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে দেখা যাবে তাকে।

উল্লেখ্য, সৈকত গত বছরের মার্চে বাংলাদেশের প্রথম আম্পায়ার হিসেবে জায়গা করে নেন আইসিসির আম্পায়ারদের এলিট প্যানেলে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—দুই সংস্করণের বিশ্বকাপেই মাঠের আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও ছিলেন তিনি




সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জে যাচ্ছেন আপোষ হীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস,  এ উপলক্ষে সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী  আপোষ হীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বিএনপির চেয়ারপার্সন। বিকেল সাড়ে ৩টায় গুলশানের বাসা থেকে তিনি সেনাকুঞ্জের উদ্দেশে রওনা হবেন।

সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা অংশ নেবার সম্মতি জানিয়েছেন। দলীয় চেয়ারপার্সন তার মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি এ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।’

গত বছর খালেদা জিয়া প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচি হিসেবে সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এর আগে, ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সিলেট সফরের মাধ্যমে খালেদা জিয়া শেষবারের মতো জনসমক্ষে হাজির হয়েছিলেন।

এবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ একাধিক শীর্ষ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।




এক টানে মিলল ২০০ মণ ইলিশ

বঙ্গোপসাগরে এক টানে ২০০ মণ ইলিশ নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটার বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এসেছে একটি ট্রলার। এসব মাছ সোমবার (১৭ নভেম্বর) কুয়াকাটা থেকে ৭০ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে ধরা পড়ে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর ) সকালে বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে সাইফ ফিশ নামের আড়তে এসব মাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে উঠানো হয়। ২৬ হাজার টাকা মন হিসেবে ২০০ মন ইলিশ বিক্রি হয় ৫২ লাখ টাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এফবি রাইসা নামের মাছ ধরার ট্রলারটি গত ১৪ নভেম্বর পাথরঘাটা থেকে ১৭ জন জেলে নিয়ে সমুদ্রে ফিশিং করতে যায়। ১৭ নভেম্বর বিকালে গভীর সমুদ্রে মাছগুলো ধরা পড়েছে। ৩-৪শ গ্রামের মাছগুলো ২৬ হাজার টাকা মন হিসেবে মোট ৫২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়।

ট্রলারের মাঝি মাসুদ বলেন, ১৪ নভেম্বর আমরা মাছ ধরার জন্য সাগরে যাই। তিন-চার দিনে মাত্র ৪০০ টি মাছ পাই। ১৭ নভেম্বর বিকালে জাল ফেলে কিছু সময় অপেক্ষা করার পর জাল টান দিতে গিয়ে দেখি ইলিশ আর ইলিশ। ওই এক টানেই আনুমানিক প্রায় ১৮ হাজার ইলিশ ধরা পড়েছে। দীর্ঘদিন মাছ না পেয়ে অনেক কষ্টে জীবন যাপন চলছিল আমাদের। হঠাৎ এত বেশি মাছ পাওয়ায় আমরা অনেক খুশি।

ট্রলারের মালিক রুবেল বলেন, অনেক দিন ধরে সাগরে খুব কম মাছ ধরা পড়ছে। আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছিল। এই মাছ বিক্রি করে আগের লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারব।

আড়ৎদার মোস্তফা আলম বলেন, আমার আড়তে এই মাছ বিক্রি হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে অন্য একটি ট্রলারের প্রায় ১৫০ মন মাছ বিক্রি করি। জেলেরা মাছ পাচ্ছে শুনে খুব খুশি লাগছে।




আশরাফুল হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য, নেপথ্যে পরকীয়া

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  পরকীয়া একটি সামাজিক ব্যধি । এটি ভয়াবহ ভাবে আমাদের সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে । যাতে ভেংগে যাচেছ আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জিবন ।কয়েক দিন আগে   রাজধানীতে দুটি নীল রঙের ড্রামে কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ খণ্ড লাশ উদ্ধারের পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এমন নৃশংস হত্যার ঘটনায় আসামি করা হয় তার বন্ধু জরেজুল ইসলামকে।

জানা গেছে, শামীমা আক্তার নামে বিবাহিত এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন আশরাফুল ও জরেজ। এ নারীর সঙ্গে দুজনের ছিল ত্রিভুজ প্রেম। কিন্তু এই প্রেম তাদের বন্ধুত্বে ফাটল তৈরি করেছিল। যার জেরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় আশরাফুলকে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) স্বল্প সময়ের মধ্যে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, আশরাফুলকে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ‌মৃত্যুর দুই দিন পর তার লাশ কেটে ২৬ টুকরো করা হয়। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন জরেজ ও পরকীয়া প্রেমিকা শামীমা আক্তার।

এ ঘটনায় আশরাফুলের বন্ধু এবং হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জরেজুলকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। গতকাল শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। ‌অন্যদিকে র‍্যাব-৩ এর  একটি দল লাকসাম থেকে হত্যাকাণ্ডের আরেক আসামি পরকীয়া প্রেমিকা শামীমাকে গ্রেফতার করেছে।

জানা গেছে, আশরাফুল একটি মামলার বাদী ছিলেন। সে কারণে তার ডাটাবেজ পুলিশের কাছে ছিল। পরে সিআইডি এসে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিলে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই ডিবি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে।

এ ব্যাপারে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ত্রিভুজ পরকীয়া প্রেমের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। আশরাফুল ও জরেজুল ইসলাম একে অপরের বন্ধু হলেও শামীমা নামে এক নারীর সঙ্গে তাদের দুজনেরই পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে। ‌ এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে আশরাফুল তার বন্ধু ও তার প্রেমিকার হাতে খুন হয়। লাশ উদ্ধারের পর থেকে এ বিষয়ে ডিবি তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি সহযোগিতায় শুক্রবার রাত ১০ টায় কুমিল্লা থেকে জরেজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে ডিবি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




ড্রামের মধ্যে প্রাপ্ত খণ্ডিত মরদেহ পরিচয় সনাক্ত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ;রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন জাতীয় ঈদগাহের সামনে দুটি নীল রঙের ড্রাম ভর্তি এক পুরুষের খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে সিআইডি। নিহত ব্যক্তির নাম মো. আশরাফুল হক (৪৩)। তিনি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. আব্দুর রশিদ।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত সোয়া ৭টার দিকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্ত করে।

তবে কে বা কারা আশরাফুলকে হত্যা করে তার খণ্ডিত মরদেহ দুটি ড্রামে ভরে জাতীয় ঈদগাহের সামনে ফেলে গেছে—তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর দুটা থেকে আড়াইটার মধ্যে একটি ভ্যানে করে দুজন ব্যক্তি এসে ড্রাম দুটি রাস্তার পাশে রেখে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে এতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।




পেঁয়াজ ও সবজির বাজার কিছুটা বাড়তি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: সারা দেশের  বাজারে এখনো চড়া দরেই বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।গত দুই সপ্তাহ ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম বাড়তি। এছাড়া হঠাত্ করেই দাম বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজি।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বাজারে চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে। ডিসেম্বর মাসে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তার আগে দাম কমার সুযোগ নেই। তবে সরকার যদি পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে দাম কমতে পারে।

গতকাল রাজধানীর শান্তিনগর ও কাওরানবাজারসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।  যা দুই সপ্তাহ আগে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। অর্থাত্, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজে দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) তাদের বাজারদরের প্রতিবেদনে পেঁয়াজের দাম বাড়ার এ তথ্য জানিয়েছে।

কাওরানবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশি পেঁয়াজের মৌসুম অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। মজুতকৃত পেঁয়াজও এখন শেষের দিকে। ফলে প্রতি বছরই এ সময় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহে একটু ঘাটতি থাকে। সরকার যদি পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়, তাহলে দাম কমে আসবে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের শুরুতে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন,  চলতি সপ্তাহের মধ্যে (গত সপ্তাহ) পেঁয়াজের দাম না কমলে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে প্রতি কেজি করলা ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা,  কাঁকরোল, ঝিঙে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি শশা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১৪০ টাকায়, টম্যাটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া শিম প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ টাকা বেশি। আর প্রতি পিস ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাওরানবাজারের সবজি বিক্রেতা ষাটোর্ধ আমিনুল বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম অনেকটাই কমেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সবজি নিয়ে ঢাকায় ট্রাক আসতে চাচ্ছে না। ফলে রাজধানীর বাজারগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী সবজির সরবরাহ কমেছে। তবে এটা সাময়িক। আগামী সপ্তাহেই হয়তো এটা ঠিক হয়ে যাবে।




অনশন ভাংতে কেন ডাবের পানি খাওয়া হয়?

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ : দাবি-দাওয়া আদায়ে মানুষজন ভিন্ন রকমের কর্মসূচি পালন করে থাকেন। সেটি যেমন শান্তিপূর্ণ হতে পারে, তেমনি হতে পারে সংহিস। তবে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হলো আমরণ অনশন, যে প্রথাটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে শুরু হয়েছিল। এখনও সেটা চালু রয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচিতে অন্য কারও ক্ষতি না হলেও অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেজন্য বড় রকমের অসুস্থতার হাত থেকে থেকে রক্ষা পেতে অনশনকারীকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেয় কর্তৃপক্ষ।

পুষ্টিবিদরা বলছেন– ক্ষুধা লাগার পরেও না খেলে অ্যাসিডিটি হতে পারে। এমনকি রক্তচাপ কমে যেতে পারে, হতে পারে পেশি ক্ষয়। দিনের পর দিন না খেয়ে থাকলে শরীরে শক্তি কমে যায়। ক্লান্তি ও মাথা ঘোরা অনুভব হয়। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। মেজাজ খারাপ হতে পারে। এতে করে হজমশক্তি সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে যায়— অ্যাসিড বাড়ে, এনজাইম কমে, আর অন্ত্রের মুভমেন্ট ধীর হয়।

আর দীর্ঘমেয়াদে তা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি ও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়াও যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের বা অন্যদেরও রক্তের সুগারের মাত্রা অনেক কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করতে ডাবের পানি অনেক বেশি কার্যকরী। এতে আছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি, যা ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণ করে। ডাবের পানি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। ফলে গরমের সময়ও শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। হজমশক্তি অনেক বাড়িয়ে তোলে। প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

এছাড়াও ডাই-ইউরেটিক উপাদান যা ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে নষ্টই শুধু করে না, পাশাপাশি শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে।

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে একজন মানুষের শরীরে সবচেয়ে বেশি যে ক্ষতিটা হয়– হজমশক্তি দুর্বল হয়ে যায়, অ্যাসিড বাড়ে। ডাবের পানি পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। হজমশক্তি অনেক বাড়িয়ে তোলে।