কম ফলনে বিপাকে পিরোজপুরের মাল্টা চাষিরা

 

বরিশাল অফিস : অনাবৃষ্টি ও গরমের কারণে এ বছর পিরোজপুরে মাল্টার ফলন কম হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ উঠা নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা। এ থেকে উত্তরণে চাষিদের নানা পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

ব র্তমানে পিরোজপুরে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ হচ্ছে। দামে কম, রসালো এবং সুস্বাদু হওয়ায় এখানকার মাল্টার চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। তাই জেলার চাহিদা পূরণ করে মাল্টা ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।

গেল বছরের তুলনায় এবছর পিরোজপুরে মাল্টার ফলন কম হয়েছে। চাষিদের ভাষ্যমতে, অনাবৃষ্টি ও প্রচণ্ড গরমের কারণে মাল্টার ফুল ঝরে পড়ছে। মাল্টার আকারও তুলনামূলকভাবে ছোট হচ্ছে। এছাড়া মা ল্টা পরিপক্ক হওয়ার আগেই লাল হয়ে ঝরে পড়ছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে চাষিরা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে মাল্টার উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানালেন পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম।

পিরোজপুর জেলায় ছোট বড় দুই হাজারেরও বেশি মাল্টা বাগান রয়েছে। এবছর সাড়ে ৩ হাজার চাষি ২৫৩ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ করেছেন।




কুয়াকাটা সৈকতে উদ্ধারকৃত শিশুকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর

 

বরিশাল অফিস: কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে বাউফল থেকে পালানো মাদ্রাসা ছাত্রকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে ট্যুরিষ্ট পুলিশ। শনিবার তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই মাদ্রাসা ছাত্র হলো মো. ওমর ফারুক (১১)। সে বাউফলের সহিস্যা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, পড়াশোনায় চাপ থাকায় ওমর ফারুক বাসা থেকে পালিয়ে কুয়াকাটা সৈকতে আসে। সেখানে উদ্দেশ্যহীনভাবে একা ঘোরাফেরা করতে ছিলো। বিষয়টি টহলরত ট্যুরিস্ট পুলিশের নজরে পড়লে তাকে উদ্ধার করে ট্যুরিস্ট পুলিশ হেল্প ডেস্কে নিয়ে আসে।

কুয়াকাটা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের নির্দেশে শিশুটিকে কাউন্সিলিং করে বাসার ঠিকানা নেয়া হয়। পরবর্তীতে শিশুটির এলাকার চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মাধ্যমে বাড়ি সংবাদ পৌঁছে দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে তার বড়ভাই মাদ্রাসা শিক্ষক মেহেদী হাসান ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের কার্যালয়ে এসে শিশুটিকে গ্রহন করেন। বড়ভাই মাদ্রাসা শিক্ষক মেহেদী হাসান ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা ট্যুরিস্ট পুলিশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপদ ও আনন্দপূর্ণ ভ্রমন নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ বদ্ধপরিকর।




ববিতে ৩ দিন ব্যাপী আইটি ফেস্টের উদ্বোধন

 

বরিশাল অফিস : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ দিন ব্যাপী আইটি ফেস্ট এর উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিন।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটির আয়োজনে আলট্রা গিয়ার এর পৃষ্ঠপোষকতায় ফেস্টটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

৩ দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ১ম দিন হচ্ছে টাইপিং মাস্টার ৪.০ প্রতিযোগিতা এবং ই-ফুটবল মোবাইল।  ২য় দিন অনুষ্ঠিত হবে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সেমিনার, ফিফা ১৯ ফুটবল এবং ই-ফুটবল খেলা। ৩য় দিনে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড.মোঃ ছাদেকুল আরিফিন বলেন , শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণীকক্ষের পাঠদান ও বই পড়া, গবেষণা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। আজকের আইটি সোসাইটির এই আয়োজন সহশিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে পড়ে, যা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান কম্পিউটার প্রযুক্তির যুগে আইটি সেক্টরে যে যত দক্ষ হবে তার ভবিষ্যৎ তত উজ্জ্বল। সেই দিক থেকে নতুন হলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটি খুব ভালো কাজ করছে।

তোমাদের এই আয়োজন দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি। আশা করি ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের আয়োজন করবে এবং আমি আমার দিক থেকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম, আইটি সোসাইটির  প্রধান নির্দেশক রাহাত হোসেন ফয়সাল এবং কম্পিউটার সাইন্স এণ্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।




পটুয়াখালীতে হাসপাতালে রোগীদের খাবারের অভাব

 

বরিশাল অফিস : পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকা সব রোগী হাসপাতালের খাবার পাচ্ছে না। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগী ভর্তি থাকে শয্যা সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ।

এই বাড়তি রোগীদের খাবারের জন্য অর্থ বরাদ্দ পায় না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে তাদের বাইরের খাবার কিনে খেতে হয়। সরকারি বরাদ্দ না পেলে এ বিষয়ে কিছু করার নেই বলে জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক।

২৫০ শয্যা হাসপাতালের অবকাঠামো এবং সুযোগ সুবিধা নিয়ে গড়ে উঠেছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তবে বর্তমানে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫শ’ থেকে ৬শ রোগী ভর্তি থাকছে। শয্যা না পেয়ে তাদের চিকিৎসা চলে বারান্দায় মেছেতে। এই বাড়তি রোগীরা হাসপাতাল থেকে তিন বেলা খাবার পায় না।

রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে দেয়া খাবারের মানও ভালো নয়। খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুব্ধে রোগীদের সাথে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমীন লিজা জানান, শয্যা সংখ্যা অনুযায়ী রোগীর খাবার বরাদ্দ আসে। বাড়তি রোগীদের খাবার দিতে না পারা তাদের জন্যও বিব্রতকর।
হাসপাতালটি ৫শ’ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।




বরিশালে হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ গ্রেপ্তার তিন

 

বরিশাল অফিস: বরিশালের মুলাদীতে আবদুর রব হাওলাদার হত্যা মামলার প্রধান তিন আসামীসহ ৭জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোর রাত পৌনে ৪টার দিকে হিজলা উপজেলার গৌরব্দী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কানীবগীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজের চৌধুরীর পরিত্যাক্ত ঘর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি পাইপগান, ৪টি ক্রিচ, ৩টি রামদা, ৬ রাউ- গুলিসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান ও হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুবায়ের আহম্মেদের নেতৃত্বে দুই থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের চরকমিশনার গ্রামের মৃত আবুল কালাম ওরফে কলম সরদারের ছেলে কামাল সরদার (৪০) ও জামাল সরদার (৩৫), মুজাহার সরদারের ছেলে মানিক সরদার (৪২), ভোলা সদর উপজেলার চরমোনষা গ্রামের বশার মীরের ছেলে আলম মীর (৩৫), একই উপজেলার রামদাসপুর গ্রামের রত্তন বেপারীর ছেলে জুয়েল বেপারী (৩৫), মৃত মালেক সরদারের ছেলে মাসুম সরদার (২৬) কন্দ্রকপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম মাঝির ছেলে মেহেদী হাসান মাঝি (২২)। এদের মধ্যে কামাল সরদার, জামাল সরদার এবং মানিক সরদার মুলাদীর চরকমিশনার গ্রামের আবদুর রব হাওলাদার হত্যা মামলার আসামী। এ ছাড়া জুয়েল বেপারীর নামে হিজলা থানায় ডাকাতি মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, আসামিরা কানীবগীরচরে পরিত্যাক্ত ঘরের মধ্যে জোটবদ্ধ হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। অভিযানের সময় আসামিরা পুলিশের ওপর ৩ রাউ- গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলো।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, আবদুর রব হাওলাদার হত্যার পরে প্রধান আসামি কামাল সরদারসহ অন্যান্যরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করে। শুক্রবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোর রাতে কানীবগীরচরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অস্ত্র ও ডাকাতি প্রস্তুতি, পুলিশের ওপর হামলা অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। রোববার আদালতে হাজির করে রিমা-ের আবেদন করা হবে।

অপরদিকে, আসামীদের গ্রেপ্তারের সংবাদ পেয়ে উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের তিন শতাধিক মানুষ থানার সামনে জড়ো হয় এবং আসামীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।




ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে রোটেশন যাত্রীদের ভোগান্তি

 

বরিশাল অফিস: অবিরত লোকসান থেকে বাঁচতে রোটেশন চালু করে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছেন ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের লঞ্চ মালিকরা। এ পদ্ধতিতে পাঁচটির পরিবর্তে মাত্র দুটি লঞ্চ বরিশাল নৌবন্দর ছেড়ে যাওয়ায় টিকিট হয়ে গেছঠে সোনার হরিণ। স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সব শ্রেণির যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। ফলে টিকে থাকার শেষ চেষ্টা হিসেবে চালু হওয়া রোটেশনের ভোগান্তিতে যাত্রী সংখ্যা আরও হ্রাসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে দ্রুত দুর্ভোগ কমিয়ে শতভাগ সেবা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে যাত্রীরা।

তথ্য মতে, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের প্রতিদিন দুই প্রান্ত থেকে উপচেপড়া যাত্রী নিয়ে প্রতিদিন ৭-৮টি করে লঞ্চ চলাচল করত। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সড়ক পথে দুর্ভোগ কমে যাওয়ায় লঞ্চে যাত্রী কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। এছাড়াও একাধিকবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে লঞ্চ মালিকরা ‘লোকসানে’ রয়েছে। চলতি বছরের ২৬ আগস্ট রোটেশন পদ্ধতিতে লঞ্চ পরিচালনা করার আগে বিলাসবহুল ছোট লঞ্চের (তিনশ ফুটের নিচে) একটি ট্রিপে লোকসান হতো এক থেকে দেড় লাখ টাকা। একই সময়ে বড় লঞ্চ এক ট্রিপে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লোকসান দিত বলে দাবি লঞ্চ মালিকদের।

এ রোটেশনের ফলে বর্তমানে লঞ্চ সংখ্যা কমে যাওয়ায় লঞ্চের টিকিট সংগ্রহে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে যাত্রীরা। এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ঘুরে ব্যর্থ হয়ে নৌবন্দরে গিয়েও অধিক দামে টিকিট কিনতে ব্যর্থ হচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা। লঞ্চের ডেকেও যাত্রী ভোগান্তি আগের চেয়ে বেড়েছে। অধিকাংশ দিন লঞ্চের প্রথম শ্রেণির বারান্দায়ও ডেকের যাত্রীরা অবস্থান করছে। ফলে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠে যাত্রীরা ভোগান্তি বিহীন গন্তব্যে ফিরতে পারছে না।

শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন মতে, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে প্রতিদিন ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় কমপক্ষে ৫০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতো। ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত জরিপের ফল অনুযায়ী প্রতিদিনের সেই যাত্রী সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজারে। এই এক বছরে ১৭ হাজার যাত্রী হ্রাস পেয়েছে। যাত্রী হ্রাসের শতকরা হারে যা ৩৪ ভাগ।’

নিয়মিত যাতায়াতকারী ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, ঢাকায় যাওয়ার জন্য লঞ্চের একাধিক কাউন্টারের মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে বন্ধ পেয়েছি। তাই স্বশরীরে টিকিট কাউন্টার এসেও কিনতে পারিনি। যে লঞ্চের অফিসেই যাই তারাই বলেন,‘তাদের লঞ্চ নেই’। যে দুটো লঞ্চ চলছে তাতেও কোনো কেবিন খালি নেই। এতো ভোগান্তির পরও টিকিট পাইনি, এখন লঞ্চের ডেকে শুয়েও তো যেতে পারবো না। তাছাড়া রাত ১০টার পর লঞ্চের কাউকে খুঁজেও পাওয়া যায় না। কোনো বিপদে পড়লে লঞ্চের কারও সাহায্য নেবো সেই উপায় নেই।

লঞ্চের ডেক যাত্রী মোকলেস মিয়া জানান, মাত্র তিনশ টাকায় আরামে ঢাকায় যেতে লঞ্চে উঠছি। কিন্তু লঞ্চ কমে যাওয়ায় ডেকে যাত্রী বেশি উঠেছে। আগের মতো শান্তিতে যেতে পারবো না। লঞ্চে যদি শান্তি না পাই তাহলে ৯-১০ ঘণ্টায় কেনো ঢাকায় যাবো? অবিলম্বে যাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি।

বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান জানান, সর্বোচ্চ যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে না পারলে নৌপথের এই সার্ভিস টিকিয়ে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। তাই লোকসান এড়াতে সেবার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে যাত্রী আকর্ষণে নিত্য-নতুন কৌশল অবলম্বনের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার পরিচালক ও অ্যাডভেঞ্জার লঞ্চের মালিক নিজাম উদ্দিন মৃধা জানান, অব্যাহত লোকসান থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে রোটেশনে লঞ্চ চলছে। বর্তমানে প্রতি ট্রিপে লোকসান না হলেও সমান সমান অবস্থায় টিকে থাকার লড়াইয়ে রয়েছি। জ্বালানিসহ সব খরচ বৃদ্ধির কারণে লঞ্চ শিল্প ধূলিসাৎ (ধুলায় পরিণত) হয়ে যাচ্ছে।

লঞ্চ মালিক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, প্রতিনিয়ত সেবার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চলছে। আমরা সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে এই শিল্পের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।




লিবিয়ায় ৪ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত নবজাতক উদ্ধার 

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক:  রীতিমতো অলৌকিক ঘটনাই বলতে হবে একে। ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েলে লন্ডভন্ড লিবিয়ার উপকূলীয় শহর দেরনার একটি ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪ দিন পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে নবজাতক এক মেয়েশিশুকে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। যে ধ্বংসস্তূপ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে বা তার আশপাশে শিশুটির পিতা-মাতা কিংবা কোনো আত্মীয় স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধারের পর দেখা গেছে, তার শরীরের সঙ্গে তখনও নাড়ি সংযুক্ত। অর্থাৎ জন্মের পর তার নাড়ি কাটা হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা হয়েছে শিশুটিকে উদ্ধারের ভিডিও। এবং সেখানে দেখা গেছে, সাধারণ নাগরিক এবং উদ্ধারকারী কর্মীদের একটি দল ধ্বংসস্তূপের জঞ্জাল সরিয়ে নবজাতক সেই শিশুটিকে উদ্ধার করে একটি নীল রঙের তোয়ালেতে জড়িয়ে রাখছেন। এ সময় মাঝে মাঝেই কেঁদে উঠছে শিশুটি; অন্যদিকে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরে আনন্দ চিৎকার করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সেই ভিডিও পোস্টের পর ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও। তবে উদ্ধারের পর দু’দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত শিশুটির অভিভাকত্ব দাবি করে কেউ এগিয়ে আসেননি বলে জানা গেছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর দেরনায় আছড়ে পড়ে ভূমধ্যসাগরে উদ্ভূত প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েল। ঝড়ের ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস এবং শহরটি ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ওয়াদি দেরনা নদীর বাঁধ ভেঙে লাখ লাখ গ্যালন পানি শহরের ভেতরে প্রবেশ করায় আক্ষরিক অর্থেই ভেসে যায় শহরটি।

বস্তুত, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস-বন্যায় দেরনার অধিকাংশ আবাসিক ভবন ভেঙে পড়েছে এবং সেসব ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে এখনও উদ্ধার হচ্ছে শত শত দেহ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় দিনে দেরনার বিভিন্ন ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১১ হাজারের বেশি মরদেহ এবং এখনও অন্তত ২০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস-বন্যায় ইতোমধ্যে শহরের ৩০ শতাংশ অঞ্চল নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।




দুমকিতে ফেসবুক লাইভে শিক্ষকের গলায় ফাঁসের চেষ্টা

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর দুমকীতে ফেসবুক লাইভে এসে রুবেল হোসেন (৩৫) নামে এক শিক্ষক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শুক্রবার মধ্যরাতে ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটান তিনি।

রুবেল দুমকী এ কে মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি বাউফল উপজেলার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা বলেন, রুবেল দু’টি বিয়ে করেছেন এবং দুটি সন্তান রয়েছে। উপজেলার একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার সময় প্রেমে জড়িয়ে এক ছাত্রীকে বিয়ে করেন। কিছুদিন পর ঢাকায় বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে সেখানে প্রেমে জড়ান। পরে স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ দিলে তিনি আইনের আশ্রয় নেন। গত মার্চ মাসে রুবেল আবার সংসার করবেন বলে আদালতে মুচলেকা দেন।
এর আগে বাউফলে আরেকটি বিয়ে করে সন্তান রেখে স্ত্রীকে তালাক দেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছুদিন আগে এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর সুবাদে বড় বোন কে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে ওই পরিবার প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। শুক্রবার রুবেল ফেসবুকে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিলে তা ভাইরাল হয়। এ ছাড়া নিজ কর্মস্থল বিদ্যালয় নিয়ে নেতিবাচক স্ট্যাটাস দিলে অনেকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার বিষয়টি থেকে রেহাই পেতে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন। তার লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গলায় রশি দিয়ে ঝুলে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন তাকে উদ্ধার করেন।

দুমকী এ কে মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মাহামুদা আক্তার হেপি জানান, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়েছেন । তবে শিক্ষক রুবেলের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি।

ছাত্রীর মায়ের ভাষ্য, রুবেলের আচরণ শিক্ষক সূলভ মনে না হওয়ায় তাকে পড়াতে আসতে নিষেধ করেন। পরে মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও প্রত্যাখান করেন। কয়েক দিন আগে তাদের বাসায় এসে হুইল পাউডার খেয়ে রুবেল অসুস্থ হয়ে পড়েন ।

এ বিষয়ে রুবেল হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আবিদ হাসান জানান, রাতে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়টি জেনে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




দশমিনায় চতুর্থবার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হলেন মোফাজ্জেল

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর দশমিনায় উপজেলা পর্যায়ে চতুর্থবার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন কে এম মোফাজ্জেল হোসেন।
তিনি উত্তর আদমপুর কালু মোল্লার হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কে এম মোফাজ্জেল হোসেন ১৯৯৯ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে পাতার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যোগদানের পর উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৩ সালে পূর্ব বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। এরপর একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে উত্তর আদমপুর কালু মোল্লার হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। তিনি ২০০৯, ২০১২, ২০১৫ ও ২০২৩ সালে উপজেলা পর্যয়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।




বরিশালে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অর্থায়নের দাবিতে সাইকেল শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর জিলা স্কুল মোড় থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে বান্দ রোড শিশুপার্কের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন প্রান্তজন, উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশগত কর্মজোট, বাংলাদেশ ওয়াকিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

র‌্যালি শেষে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সরকার ১৮টি এল.এন.জি ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া এল.এন.জি আমদানির জন্য পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর ও কক্সবাজারের মহেশখালীতে টার্মিনাল স্থাপন করা হচ্ছে। এল.এন.জি আমদানিতে ব্যয় বোঝা জনগণের কাঁধের ওপর পড়বে। আমাদের অর্থনীতি ভঙ্গুর অর্থনীতিতে পরিণত হবে।

বক্তারা আরও বলেন, এল.এন.জি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে ৩৫০ গ্রাম কার্বন-ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হয়। যা আমাদের অর্থনৈতিক ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। চলমান ডলার সংকটের মধ্যে বিপুল পরিমাণ এল.এন.জি আমদানি আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য ব্যয়বহুল এবং উপকূলীয় অঞ্চলবর্তী দেশের জন্য বিপদজনক। তাই দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক বিবেচনায় এল.এন.জি টার্মিনাল ও এল.এন.জি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং পরিকল্পনা অনুসারে নবায়নযোগ্য জ্বালানীতে অর্থায়ন করতে হবে।

ক্যাব-এর সমন্বয়কারী রনজিত দত্তের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বরিশাল ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আহ্বায়ক একে আজাদ, প্রান্তজনের নির্বাহী পরিচালক এসএম শাহাজাদা, ম্যাপ-এর নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর চক্রবর্তী, এনভিএস-এর নির্বাহী পরিচালক শওকত আলী বাদল, ইব্রাহিম হামিদ মাসুম প্রমুখ। র‌্যালিতে উন্নয়নকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন।