আমরা কোথায় নিরাপদ ? রান্নাঘর ও এখন যেন অগ্নিকুন্ড

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : দেশে আশংকাজনক হারে বাড়ছে গ্যাস থেকে সৃস্ট অগ্নিকান্ড আর এ আগুনে ঝলসে যাচ্ছে একেকটি পরিবার। পরিবারের বড় সদস্যদের সঙ্গে প্রতিটি দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে দগ্ধ হচ্ছে শিশুরাও।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তথ্যে, ২০২৪ সালে রান্নাঘরে চুলা থেকেই ৩ হাজার ৫৬টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

আর গ্যাস সরবরাহ লিকেজ থেকে ৪৬৫টি অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে, আগুন জ্বালিয়ে কোনো স্থানে গ্যাসের লিকেজ হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা ঠিক না। এ ক্ষেত্রে গ্যাসের লিকেজ হয়েছে সন্দেহ হলে সাবান পানি দিয়ে পরীক্ষা করে এতে বুদবুদ হচ্ছে কি না দেখা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাজধানী ঢাকায় যে গ্যাস লাইন বসানো আছে তার কিছু ৫০ বছর পুরোনো। এগুলো থেকে গ্যাস লিক হওয়ার ঝুঁকি বেশি। আবার যে লাইন দিয়ে ৫০ জন গ্রাহকের লাইনে গ্যাস আসার কথা সে লাইন দিয়ে ৫০০ জন গ্রাহককে গ্যাস দেওয়া হয়। ফলে সেই লাইনে চাপ বেড়ে যাচ্ছে। পাইপলাইনগুলো দুর্বল হওয়ার কারণে এর চাপ নেওয়ার ক্ষমতাও দিন দিন কমে যাচ্ছে। এই পাইপ লাইনগুলোতে জং ধরছে এবং যে লাইনগুলো খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা থেকেও গ্যাস লিক হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় ৭ ডিসেম্বর একটি বাসায় চুলার আগুন থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন। রান্নাঘরের গ্যাস চুলার লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটে।

রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় একটি বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের ছয়জন দগ্ধ হন।

৩০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি বাড়িতে চুলার গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন।

৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বিসিক এলাকায় একটি বাড়িতে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ জন।

তার আগে চলতি বছরের ২৪ মার্চ রাজধানীর বাড্ডার একটি আবাসিক ভবনে রান্নার চুলার গ্যাস থেকে আগুন ধরে দুই শিশুসহ একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, সারা দেশ থেকে মাসে অন্তত ৫০০ আগুনে পোড়া রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হন। এর এক-পঞ্চমাংশেরই মৃত্যু হয় এবং এর মধ্যে ৪০ শতাংশই গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস লিকেজের মতো ঘটনায় গ্রাহকদের গা-ছাড়া ভাবের কারণে অনেক সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়। মাসে অন্তত একবার হলেও সবাইকে ঘরে গ্যাস লিক হচ্ছে কি না তা নিরাপত্তার স্বার্থে তদারকি করা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় কোনো স্থানে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ থাকলে এবং সেখানে কোনো গ্যাস লিকেজ থাকলে সেটি তখন জমাটবদ্ধ গ্যাসে পরিণত হয়। তখন যে কোনো স্পার্ক বা ম্যাচের কাঠি জ্বালানো হলেই তা বিস্ফোরণে পরিণত হয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শহরে অসংখ্য অবৈধ লাইন আছে যে স্থানে ছোট-বড় লিকেজ হচ্ছে। পুরো পাইপলাইন সার্ভে করে অবৈধ সংযোগের মতো বিপজ্জনক পয়েন্ট চিহ্নিত করতে হবে এবং পুরোনো লাইনগুলোও একই সঙ্গে পরিবর্তন করতে হবে। আর এমনটি করা না গেলে কেউই বিপদমুক্ত হতে পারবে না।




ব্রিটেন যেন নারী শিকারিদের স্বর্গ রাজ্য

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : যুক্তরাজ্যের রাস্তাঘাট এখন আরা নারীর জন্য নিরাপদ নয়।  নারী এখন একাকি পথ চলতে নিরাপদ বোধ করেন না বলে উঠে এসেছে নতুন এক তদন্ত প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের মার্চে ওয়েন কাজেন্স নামক লন্ডন পুলিশেরই এক অফিসার সারা এভারার্ড নামে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। ভয়াবহ এই ঘটনা গোটা ব্রিটেনকেই নাড়িয়ে দেয়। রাজপথে হয় ব্যাপক বিক্ষোভ।

কিন্তু চার বছর পার হয়ে গেলেও পরিস্থিতি এখনো খুব একটা বদলায়নি। সারা হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারী দলের প্রধান স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত আইনজ্ঞ এলিশ অ্যাঞ্জিওলিনি সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ‘ব্রিটেনে নারী-শিকারীরা এখনো খোলাখুলি ঘুরে বেড়াচ্ছে। তরুণী ও নারীরা প্রকাশ্য রাস্তায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।’

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ঘটনার পর থেকে অসংখ্য নারী নানা ধরনের হামলার শিকার হয়েছেন।

এই প্রতিবেদনে ‘প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহে মৌলিক ব্যর্থতা এবং মেয়েদের বিরুদ্ধে হামলা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি’ হাইলাইট করা হয়েছে।

অ্যাঞ্জিওলিনির রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ব্রিটেনে প্রকাশ্য স্থানে নারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। এটি নিরাপত্তা নীতি ও পরিকল্পনায় বড় সমস্যা হিসেবে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্রিটেনের অনেক নারী যার মধ্যে ছাত্রী, কর্মজীবী, পুলিশ কর্মী রয়েছেন- তারা পাবলিক জায়গায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে সর্বদা সতর্ক থাকেন। নারীদের কাছে রাস্তা বা পাবলিক জায়গায় হয়রানি এতটাই সাধারণ হয়ে গেছে যে, তারা সাধারণত শুধু বড় ধরনের ঘটনারই রিপোর্ট দেন।

প্রতিবেদনের একটি অংশে জাতিসংঘের সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, ব্রিটেনের ৭১ শতাংশ নারী বলেছেন, তাদের জীবনে অন্তত একবার পাবলিক প্লেসে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করেছে, ব্রিটেনের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের একাধিক মামলার পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে। এই তথ্য ব্রিটেনের ব্যর্থ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই নির্দেশ করে, যা নারীর বিরুদ্ধে হয়রানির সুযোগ তৈরি করে।

এদিকে, ব্রিটেনের কয়েকজন নারী সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, বাইরে বের হলে তারা সহজে দৌড়াতে পারেন এমন জুতো পরে বের হন এবং সবসময় ফোনে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেন যাতে নিরাপদ বোধ হয়।

সামাজিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্রিটেনে নারী বিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় পুলিশ ও বিচার বিভাগীয় কাঠামোতে গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা রয়েছে।




শিশুর মোবাইল আসক্তি কমাতে বিশেষজ্ঞের কার্যকর পরামর্শ

জেন ও আলফা প্রজন্মের শিশুদের সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত আসক্তি। রিলস, কার্টুন, গেম—সব মিলিয়ে স্ক্রিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে তারা হয়ে পড়ছে জেদি, অমনোযোগী এবং শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয়। এতে তাদের আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, কমে যাচ্ছে মনোযোগ ক্ষমতা। উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের জন্য এ বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান

তিনি বলেন, শিশুকে স্ক্রিনের নেশা থেকে দূরে আনতে সবচেয়ে আগে অভিভাবকদের নিজেদের আচরণ বদলাতে হবে। সন্তানের সামনে সবসময় ফোন হাতে থাকলে সে সেটাকেই স্বাভাবিক জীবনযাপন বলে ধরে নেয়। তাই পরিবারের সদস্যদের উচিত সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্তগুলোতে মোবাইল দূরে রাখা, তার পরিবর্তে গল্প বলা, একসঙ্গে খেলাধুলা করা কিংবা রান্নাঘরে সাহায্য নেওয়ার মতো কার্যক্রমে তাকে যুক্ত রাখা। এতে শিশুর মনোযোগ ধীরে ধীরে স্ক্রিন থেকে সরে আসবে।

অনেক মা–বাবা খাওয়ানোর সময় শিশুর হাতে মোবাইল দেন, যাতে খেতে সুবিধা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শিশুর খাবারের প্রতি মনোযোগ কমিয়ে দেয় এবং খাবার গ্রহণে অস্বাভাবিকতা তৈরি করে। পরিবারের সবাই একসঙ্গে খেলে শিশুর সামাজিক দক্ষতা বাড়ে, সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়—যা মনোভাবেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সময়াভাবে বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হলে ঘরের ভেতরেই একটি ছোট খেলাঘর তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেখানে থাকবে সৃষ্টিশীল ও শিক্ষামূলক খেলার উপকরণ—লুডো, ব্লকসেট, পাজল, গল্পের বই, রং করার সামগ্রী ইত্যাদি। এসব খেলায় মনোযোগ দিলে শিশু স্ক্রিন ভুলে সময় কাটাতে শেখে।

তবে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা—হঠাৎ মোবাইল কেড়ে নেওয়া যাবে না। এতে শিশুর আচরণ আরও জেদি ও চঞ্চল হতে পারে। তার পরিবর্তে প্রতিদিনের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে ধীরে ধীরে স্ক্রিন টাইম কমানোর পদ্ধতিই সবচেয়ে কার্যকর। যেমন—প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কার্টুন দেখার নিয়ম করলে সে ধীরে ধীরে নতুন রুটিনে অভ্যস্ত হবে এবং স্বাভাবিকভাবেই ফোন ব্যবহারের সময় কমে আসবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর মোবাইল আসক্তি কমানো কোনো শাস্তির বিষয় নয়। তাকে বোঝানো প্রয়োজন যে ফোনের বাইরে আরও রঙিন, প্রাণবন্ত ও সৃষ্টিশীল একটি পৃথিবী রয়েছে। ধৈর্য, নিয়ম এবং ভালোবাসা—এ তিনটির সমন্বয়ই পারে শিশুকে আবারও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে ফিরিয়ে আনতে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শবনম ফারিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী

আলোচিত অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া কয়েক মাস আগে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তার স্বামীর নাম তানজিম তৈয়ব। রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত একটি মসজিদে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। মসজিদে বিয়ে করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে কিছু সমালোচনা ও বিতর্কও দেখা দেয়। এছাড়া, তার স্বামীর বয়স নিয়েও কিছু আলোচনা হয়।

শবনম ফারিয়া সাম্প্রতিক একটি টিভি অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে পরিষ্কার কথা বলেছেন। তিনি জানান, “বাংলাদেশে বিয়ে করার সময় ছেলে বা মেয়ের কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সীমা থাকে না। যেহেতু আমার বাবা নেই, তাই জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মা ও বড় দুই বোন-বোন জামাইয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তাই মসজিদে বিয়ের সিদ্ধান্তও তাদের পরামর্শমতো নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, মসজিদে বিয়ের খবর প্রথমে গোপন রাখা হয়েছিল। বিবাহোত্তর সংবর্ধনা দিয়ে খবর জানানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে মসজিদে তোলা একটি ছবি কোনো এক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি অজানা থেকে যায়নি। পরে স্বামীর পরামর্শে ফেসবুকে বিয়ের খবর জানান।

শ্বশুরবাড়ির সমর্থনেও ছিলেন তিনি। শ্বশুর ও শাশুড়ি তাকে অনুরোধ করেন, “এসবে পাত্তা দেবেন না, মানুষ কিছুদিনের মধ্যেই ভুলে যাবে।” শবনম ফারিয়া বর সম্পর্কে বলেন, “আমার স্বামী অনেক ফিট। তাই বয়সটা তার চেয়ে কম মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে সে আমার চেয়ে বয়সে বড়।”

শবনম ফারিয়ার ব্যক্তিগত জীবনেও বেশ নাটকীয় অধ্যায় ছিল। ২০১৫ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে হারুন অর রশীদ অপুর সঙ্গে পরিচয় হয়, যা বন্ধুত্বে রূপান্তরিত হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারা আংটি বদল করেন এবং ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম বিয়ে সম্পন্ন হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তাদের সংসার ভেঙে যায়। এরপর শবনম ফারিয়া একা ছিলেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন শবনম ফারিয়া। এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয় মসজিদে, যেখানে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন। তার স্বামী তানজিম তৈয়ব বেসরকারি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। চলতি বছরের শেষে বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন শবনম ফারিয়া।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




গলাচিপায় পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা—সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে স্থবির শিক্ষা কার্যক্রম

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনেই দেখা দিয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। দেশের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে চলমান কর্মবিরতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়—সহকারী শিক্ষকরা দায়িত্ব পালনে অংশ নিচ্ছেন না।

সকাল ১০টার পরও গলাচিপা শহরের পল্লী উন্নয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গলাচিপা বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক স্কুলে পরীক্ষা শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের কর্মচারীরা খাতা–প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষাকক্ষে ঢুকে পরীক্ষার কাজ শুরু করেন। তবে পরীক্ষাকক্ষজুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের হৈচৈ, ছোটাছুটি—কেউ প্রশ্ন না বুঝে চুপ করে বসে আছে, আর কেউ দিশেহারা হয়ে সহায়তা খুঁজছে। কারণ—পরীক্ষায় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সহায়তার জন্য কোনো সহকারী শিক্ষকই উপস্থিত ছিলেন না; তারা অফিসকক্ষে বসে কর্মবিরতি পালন করছিলেন।

পল্লী উন্নয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহারুল ইসলাম জানান, ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন, বেতনভাতা সমন্বয় ও পদোন্নতিসহ তিন দফা দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। ঢাকায় আন্দোলনে পুলিশের হামলার পর দেশব্যাপী সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের কোনো প্রজ্ঞাপন না আসায় ধারণা করা হচ্ছে কর্মবিরতি চলবে অনির্দিষ্টকাল।

এদিকে, অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ। গলাচিপার অভিভাবক রুমা আক্তার বলেন, “শিক্ষকদের দাবি ন্যায্য হতে পারে, কিন্তু পরীক্ষার সময় কর্মবিরতি মানে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের সঙ্গে খেলা করা। তারা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে—পরীক্ষা না হলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে।”

গলাচিপা বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. মরিয়ম আক্তার জানান, সহকারী শিক্ষক না থাকায় একা পরীক্ষা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মচারীদের দিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলেও তা যথেষ্ট হচ্ছে না।

তবে পুরো পরিস্থিতি অস্বীকার করেছেন গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. গোলাম সগীর। তার দাবি—উপজেলার ১৯৬টি বিদ্যালয়ের সবগুলোতেই যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে, মাঠপর্যায়ে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। তিনি নিজে পরিদর্শন করেছেন এবং সহকারী শিক্ষা অফিসাররাও দায়িত্বে আছেন বলে দাবি করেন।

কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসংখ্য বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। এতে পরীক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হয় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।

জানা যায়, গলাচিপা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৯৬টি, সহকারী শিক্ষক ৯১৫ জন, শিক্ষার্থী প্রায় ২৮ হাজার। ফলে কর্মবিরতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষার সময়সূচি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

সহকারী শিক্ষকদের দাবি—১৩তম গ্রেড বাতিল করে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার জটিলতা দূরীকরণ এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি। মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নেয়—তা নির্ধারণ করবে গলাচিপাসহ সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে প্রেমিক যুগলকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়, পুলিশ দুইকে আটক

বরিশালে ঘুরতে আসা এক প্রেমিক যুগলকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ মঙ্গলবার রাতে দুই যুবককে আটক করেছে। ঘটনা ঘটেছে বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোড চৌমাথা লেকের পাড় এলাকায়।

আটককৃতরা হলেন, বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার মো. হাসিবুর রহমান (২৭) এবং পার্শ্ববর্তী বেলতলা এলাকার সায়েম সিকদার (২৬)।

ভুক্তভোগী যুগল জানান, বিকেলে তারা চৌমাথা লেকের পাড়ে খাবার খাচ্ছিলেন। তখন কয়েকজন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তাদের ছবি তোলে। পরে নিউজ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ১১ হাজার টাকা আদায় করা হয়। অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে তারা থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ এসে দুজনকে আটক করলেও বাকি তিনজন পালিয়ে যায়।

বরিশাল মেট্রোপলিটনের কোতয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “চাঁদাবাজির ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জনকে নামধারী এবং ৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ভুক্তভোগীরা লিখিত এজাহার দিয়েছেন। বাকি অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনায় যত্রতত্র পেট্রোল বিক্রি, জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে

বরগুনা জেলায় রাস্তার পাশে অবাধে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। চলতি মাসের ১১ নভেম্বর সরকার পেট্রোল বিক্রির উপর প্রজ্ঞাপন জারি করলেও জেলা সদর ও উপজেলাগুলোর প্রায় ৪ শতাধিক দোকানে তা কার্যকর হচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তার ধারে, বাসস্ট্যান্ড, ফেরিঘাট ও জনবহুল বাজারে পানির বোতল, ভোজ্যতেলের বোতল, প্লাস্টিকের গ্যালন বা রাসায়নিক পাত্রে দাহ্য জ্বালানি রাখা হয়। ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা নির্দেশনা স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার বিপুল চন্দ্র, আমতলী উপজেলার পারভেজ হোসেন ও তালতলী উপজেলার শাহীন সাইরাজ জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রতিদিন এসব দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রজ্ঞাপন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

স্থানীয়রা আরও জানান, জুলাই মাসে স্মৃতি স্তম্ভে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সড়ক ও ফেরিঘাটে দাহ্য জ্বালানি ব্যবহার করে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিপন্ন।

রাস্তার পাশে থাকা একাধিক পেট্রোল বিক্রেতা স্বীকার করেছেন, তারা প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে জানেন, কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে বিক্রি বন্ধ করতে পারছেন না। তালতলী উপজেলার ব্রিজঘাট এলাকার হারুন ফরাজি জানান, মাঝে মাঝে প্রশাসন কিছুটা তৎপর হলেও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেই।

বরগুনার শিক্ষক, আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, প্রশাসনের কার্যক্রমের অভাবের কারণে অনুমোদনবিহীন দোকানগুলোতে পেট্রোল বিক্রি চলতে থাকলে বড় ধরনের অগ্নি দুর্ঘটনা বা নাশকতা ঘটতে পারে।

বরগুনার নবাগত জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের বিষয়ে শনিবার সন্ধ্যা ও রোববার সমন্বয় সভায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রাস্তার পাশে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করার কার্যক্রম শুরু হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“দেশের মানুষ নতুন শাড়িতে পুরোনো বউ দেখতে চায় না”: চরমোনাই পীর

বরিশালের চরমোনাই মসজিদে অনুষ্ঠিত মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা অতীতে দুর্নীতির রেকর্ড রেখেছে, তারা আবারও ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশের মানুষ “নতুন শাড়িতে পুরোনো বউ” দেখতে চায় না। তাই আগামী নির্বাচনে পরিবর্তন আসা অনিবার্য।

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হইনি, মন্ত্রী হওয়ার সুযোগও নেই। তারপরও আমাদের লক্ষ্য দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়া। ৫৪ বছর পর সুযোগ এসেছে, যদি আমরা তা কাজে লাগাতে না পারি, আগামী প্রজন্ম আমাদের ধিক্কার দেবে।”

মাহফিলে ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসাইন বলেন, চরমোনাই পীরের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঐকান্তিক উদ্যোগে উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব পালন সম্ভব হয়েছে। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে কেউ ইসলাম অবমাননা করলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে আইন হাতে তুলে নেবেন না। আমাদের দেশে ধর্মের প্রতি অবমাননা কেউ করতে পারবে না।”

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা ইমতেয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম ও কেএম আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




পিরোজপুরের শতবর্ষী বৈঠাকাটা ভাসমান হাট

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটার ভাসমান হাট শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। ভোরের আলো ফুটার আগেই বেলুয়া নদীর মোহনায় শত শত নৌকা জমে ওঠে, যেখানে সবজি, চারা, নাস্তা ও নিত্যপণ্য বেচাকেনা হয়। এই ভাসমান হাট শুধু কৃষিপণ্যের পাইকারি কেন্দ্র নয়, বরং নদীবর্তী মানুষের জীবিকা ও পর্যটনের মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় চাষিরা তাদের উৎপাদিত সবজি নৌকায় তুলে হাটে নিয়ে আসে। সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত নৌকায় বেচাকেনা চলে। দূর থেকে হাটের দৃশ্য মনে করায় থাইল্যান্ডের ভাসমান বাজারের। নাজিরপুরের আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌকা ও ট্রলারে কৃষিপণ্য এখানে আসে।

ভাসমান হাটকে কেন্দ্র করে এখানকার অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। গোপালগঞ্জ, বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠি ও ইন্দেরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতারা হাটে আসেন। ভাসমান হাটে সকালের নাস্তা, চা-বিস্কিট এবং ভাসমান ভাতের হোটেলের সুবিধাও আছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে বিদেশি পর্যটকও আসে। তবে পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধার অভাবে তাদের নানা সমস্যা হয়। প্রশাসন পর্যটক বিষয়ক ব্যবস্থা গড়ে তুললে হাটটি আরও পরিচিতি পেতে পারে।

সবজি বিক্রেতা রুস্তম আলী বলেন, “এই বাজার ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো। শশা, জিঙ্গা, পটল, মিষ্টি কুমড়া সহ সব ধরনের সবজি এখানে পাইকারি বিক্রি হয়। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার হাট বসে।”

কাঁচামাল ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ বলেন, “মৌসুমের পণ্যগুলো নৌকায় বিক্রি হয়। ছোটকাল থেকেই আমরা এখানে ব্যবসা করি। সড়ক পথে যাতায়াত কম, তাই সবই নৌকাতে।”
নারিকেল ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান জানান, “এখান থেকে নারিকেল কিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। আশেপাশের গ্রামের ব্যবসায়ীরাও নৌকায় পণ্য নিয়ে আসে।”
সবজি ব্যবসায়ী কায়সার আহমেদ বলেন, “৩০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। যদি সড়ক পথ ভালো থাকতো, আরও বেশি লাভ হতো।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, “ভাসমান হাটে জেলার বাইরে থেকে পাইকাররাও কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে নিয়ে যায়। পর্যটকরা ঘুরতে আসে, তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত নয়। নৌকা ও ট্রলারে ক্রয়-বিক্রয় চলে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ঝালকাঠি সুগন্ধা নদী তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ৬৮০ কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি

ঝালকাঠিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুগন্ধা নদী তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একনেকের অনুমোদিত ৬৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকার প্রকল্পটি ১৩ দশমিক ২১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা।

প্রকল্পে ব্যবহৃত বালুর মান কম, ব্লক তৈরিতে কম সিমেন্ট এবং কম ওজনের জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়মের কারণে ইতিমধ্যে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা একজন এসওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমভিবি ও এমটি আই (জয়েন্ট ভেঞ্চার) নির্ধারিত মানের ১ দশমিক ৫০ এফএম বালুর বদলে ১ দশমিক ৩৭ এওএম বালু ব্যবহার করেছে, যা টাক্সফোর্স বাতিল করেছে।

ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় মোট ৩৪টি প্যাকেজের মধ্যে মাত্র ১৭টির কাজ শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগে পর্যাপ্ত বালু না থাকায় নদীর গভীর অংশে কার্যকর প্রতিরক্ষা গড়ে ওঠে না। চর ভাটারাকান্দার বাসিন্দা জামাল হোসেন অভিযোগ করেন, “জিও ব্যাগে বালুর পরিমাণ কম থাকায় পূর্বেও ৪০০ বস্তা বালু বাতিল করা হয়েছে।”

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, “লোকবল সংকটের কারণে সব এলাকায় সময়মতো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

প্রকল্পের পিডি (প্রোজেক্ট ডিরেক্টর) পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, “এই বিষয়ে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেব। বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।”

প্রকল্পে ব্যবহৃত কম মানের সামগ্রী ও ধীরগতির বাস্তবায়নের কারণে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ এবং উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫