দাঁত ভালো আছে কি না বুঝে নিন ৬ লক্ষণে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখা খুবই জরুরি, না হলে বিভিন্ন রাগ বাসা বাঁধতে পারে শরীরে। মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে আগে দাঁতের যত্ন নিতে হবে। অনেকেই আছেন যারা দাঁত ভালো রাখতে শুধু নিয়ম করে এক বা দু’বেলা ব্রাশ করেন।

তবে জানলে অবাক হবেন, দাঁত ভালো রাখার অন্যতম উপায় হলো নিয়মিত দাঁত পরীক্ষা করা ও বছরে বা ছয় মাস অন্তর ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া।

হয়তো ভাবছেন, আপনার দাঁত ভালো আছে তবে আদতে তা নাও হতে পারে। সুস্থ দাঁতের কয়টি লক্ষণ থাকে, চলুন তা জেনে নেওয়া যাক-

স্বাস্থ্যকর মাড়ি
২. দুর্গন্ধমুক্ত শ্বাস-প্রশ্বাস
৩. ক্যাভিটিসমুক্ত দাঁত
৪. মজবুত দাঁত
৫. একই রঙের দাঁত
৬. স্বাস্থ্যকর জিহ্বা।

আপনার মুখ ও দাঁতের সুস্থতা ধরে রাখতে নিয়মিত ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার খেতে হবে। কোমলপানীয় যতটা সম্ভব বর্জন করতে হবে।

বেশি বেশি দুধ-ডিম খেতে হবে। দাঁত সুন্দর রাখতে খাওয়া যেতে পারে পনিরও। পাশাপাশি নিয়মিত রাতে খাবার পর ও সকালে নাস্তার পর দুইবার ব্রাশ করতে হবে।




১৫ বছর বয়সে রেখাকে জোর করে ‘চুমু’ খান অভিনেতা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বলিউডের জীবন্ত কিংবদন্তী অভিনেত্রী রেখা। প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার যার। লম্বা এই সময়ে অসংখ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিনেত্রীর ঝুলিতে। তবে সেসবের সবই যে সুখময় এমনও কিন্তু নয়।

পর্দায় পা রাখার পর মাত্র ১৫ বছর বয়সে নাকি রেখাকে জোর করে ‘চুমু’ খেয়েছিলেন এক বাঙালি অভিনেতা। অভিনেত্রীর আত্মজীবনী ‘রেখা, দ্য আনটোল্ড স্টোরি’তে সেই গল্পই তুলে ধরা হয়েছে। বাঙালি ওই অভিনেতার নাম বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। যিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাবা।

৬০-এর দশকে তৈরি সেই সিনেমার নাম ছিল ‘আনজানা সফর’। পরে যদিও নাম বদলে ‘দো শিকারি’ রাখা হয়। রেখা তখন খুবই ছোট। মাত্র ১৫ বছর বয়স।

রেখার আত্মজীবনী বলছে, ওই সিনেমার শুটিংয়ের সময় পরিচালক কুলজিৎ পাল ও বিশ্বজিৎ রেখার সঙ্গে এক রোম্যান্টিক দৃশ্যের পরিকল্পনা করেন। যে বিষয়ে রেখা বিন্দুমাত্র অবগত ছিলেন না।

পরিচালক শুটিংয়ে ‘অ্যাকশন’ বলতেই রেখাকে কাছে টেনে বিশ্বজিৎ। অভিনেত্রীকে চুমু খেতে শুরু করেন। যে ঘটনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না রেখা। তাকে নিয়ে পরিচালক ও নায়ক মিলে এমন কিছু পরিকল্পনা করেছেন সেটাও ধারণায় ছিল না। ফলে শুটিং স্পটেই কেঁদে ফেলেন তিনি। তবুও তার কথা কানে নেননি পরিচালক।

রেখার আত্মজীবনী বইয়ে বলা হয়েছে, সেই চুমুর স্থায়িত্ব ছিল নাকি ৫ মিনিট। ৬০-এর দশকে ঠোঁটে চুমু মোটেও সহজ বিষয় ছিল না। এ নিয়ে সেসময় তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আলোচনা। যদিও বহু বছর পর ২০১৮ সালে বিশ্বজিৎ দাবি করেছিলেন, এমন কিছু নাকি ঘটেনি। তার বক্তব্য ছিল, ছবিটিতে চুম্বনের দৃশ্য ছিল, সে কারণেই তিনি রেখাকে চুমু খান।




হানিফ ফ্লাইওভারে ১০ বছরে নিহত ১ হাজার ১৪৬ : আলাদা লেন না থাকায় বেশি দুর্ঘটনা মোটরসাইকেলে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : গত ১০ বছরে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৪৬ জন নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৩১২ জন। সবচেয়ে বেশি নিহত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এ তথ্য জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী গবেষণাধর্মী সংগঠন সেভ দ্য রোড। দেশের ২১টি জাতীয় পত্রিকা, ২২টি নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স গণমাধ্যম থেকে এ তথ্য সংগ্রহ করে সংগঠনটি। ২০১৩ সালে হানিফ ফ্লাইওভার উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৩-এর ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান দেওয়া হয়।

সেভ দ্য রোড জানায়, ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছোট-বড় ১৮৮টি দুর্ঘটনা হয় হানিফ ফ্লাইওভারে। এরমধ্যে ১৫৮ জন আহত এবং নিহত হন ৩০ জন। পরের বছর ২০১৪ সালে ৭৩২টি দুর্ঘটনা হয়। যাতে ৫৫৩ জন আহত এবং ১৫৫ জন নিহত হন।

সেভ দ্য রোডের মহাসচিব শান্তা ফারজানা জানান, পৃথক  মোটরসাইকেল লেন না থাকা, যথাযথ তদারকি না করা, নিয়ম না মেনে দ্রুত গতিতে যানবাহন চালানো ও স্লিপারগুলো দুর্ঘটনামুক্ত করার জন্য উপযোগী না হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে চলছে।




শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়াতে উপকারী ৭ খাবার

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য সুষম খাবার খুবই জরুরি। এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো নিয়মিত খেলে শিশুদের মস্তিষ্কের দ্রুত বিকাশ হয়, তাদের স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। যেমন-

ডিম: ডিমে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। শিশুদের পুষ্টির জন্য ডিম অত্যন্ত উপকারী।

ঘি এবং দই: ঘি এবং দই- দুই খাবারেই প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায়। দুটি খাবারই মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়।

ওটমিল: প্রোটিন ও ফাইবারে ভরপুর ওটমিল মস্তিষ্কের ধমনী পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

আপেল: শিশুকে নিয়মিত আপেল খাওয়াতে পারেন। এই ফলটি মস্তিষ্কের গঠনে সহায়তা করে।

বাদাম এবং বীজ: বাদাম এবং বীজ স্নায়ুতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। দুধের সঙ্গে বাদাম মিশিয়ে খেতে পারেন।

মাছ : মাছ ভিটামিন ডি এবং ওমেগা থ্রি’র দুর্দান্ত উৎস। এই দুই উপাদান মস্তিষ্কের গঠনের জন্য উপকারী।

শাক ও সবজি: শাক ও সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকে যা শিশুর মস্তিষ্ক গঠনে সহায়তা করে।




বরিশালের বিলুপ্তির পথে লঞ্চ শিল্প!

বরিশাল অফিস: পদ্মা সেতুর সুফলে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর ভাগ্য ফিরলেও মুখ থুবড়ে পড়েছে ঢাকা-বরিশাল রুটের নৌ-পরিবহন সেবা। যাত্রী সংকট কাটিয়ে উঠতে একের পর এক চেষ্টা করেও সুফল পাচ্ছেন না বরিশালের লঞ্চ মালিকরা। রোটেশন প্রথা চালু করে প্রতিদিন মাত্র দুটি লঞ্চ চলাচলের সিডিউল নির্ধারণ হলেও যথেষ্ট যাত্রী হচ্ছে না। এমন অবস্থা বেশিরভাগ লঞ্চ মালিকরাই লোকসান গুনে আগ্রহ হারাচ্ছেন এ ব্যবসা থেকে। যাত্রী না থাকায় নৌ পরিবহন সেবার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন শ্রেণির কর্মজীবী মানুষের আয় প্রায় শূন্য হয়ে পড়ছে।

পারাবত-১২ লঞ্চের ম্যানেজার শিহাব হাছান বলেন, বর্তমানে যাত্রী খুবই কম। আমরা প্রতিদিনই লস দিচ্ছি। লঞ্চে মোট কেবিন রয়েছে ২৬১টি, ভিআইপি কেবিন রয়েছে সাতটি। এর অধিকাংশই খালি থাকে।

অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের স্টাফ আলতাফ মাহাবুব বলেন, আগে যে যাত্রী হতো তার পাঁচ ভাগের একভাগ যাত্রী এখন হচ্ছে না। ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। প্রতিটি লঞ্চ মালিক বেহাল দশায় রয়েছেন।

বিভিন্ন লঞ্চে ফেরি করে ঝালমুড়ি বিক্রি করা বৃদ্ধ আলতাফ হোসেন বলেন, বেচাকেনার অবস্থা খুবই খারাপ। লঞ্চের যাত্রীদের ওপর নির্ভর করেই আমার সংসার চলত। এখন যাত্রী নেই, বেচাকেনা করবো কার কাছে। আগে দশটি লঞ্চ ছেড়ে যেত। ১০ লঞ্চে ১০ জন করে ফেরি করলেও ১০০ লোকের জীবিকার ব্যবস্থা হতো। কিন্তু এখন লঞ্চ ছাড়ে দুটি। এতে যাত্রী থাকে খুবই কম। তাই আমাদের মধ্যে অনেকেই এখানে ফেরি করা বাদ দিয়েছেন।

লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর যাত্রী স্বল্পতার কারণে কয়েকটি লঞ্চ তাদের সার্ভিস বন্ধ রেখেছে। বর্তমানে যারা লোকসান দিয়েও রুটে টিকে আছে তারা রোটেশন প্রথা মেনে চলছেন। এতেও লোকসান কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি থাকলে উভয় প্রান্ত থেকে মাত্র একটি করে লঞ্চ চালানো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে।

বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পদ্মা সেতু পার হয়ে কয়েক ঘণ্টায় মানুষ ঢাকা-বরিশালসহ অন্যান্য জেলায় যাতায়াত করতে পারছেন। বরিশাল থেকে ঢাকায় ৩/৪ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়। মানুষ এ কারণে লঞ্চে সময় অপচয় করে যেতে চাচ্ছেন না। যাত্রী সংকটের কারণে বরিশালের ১২টি রুটের অনেকগুলো বন্ধ হয়ে গেছ। বরিশালেও যে হারে যাত্রী কমছে তাতে রুট কতদিন চালু থাকে তা নিয়ে শঙ্কিত আমরা।

এদিকে, যাত্রী সংকটে গত আড়াই মাস ধরে আমতলী-ঢাকা রুটে নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চ যাত্রী ও অল্প খরচে মালামাল আনা-নেওয়ার নিরাপদ সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পরেছে। এর প্রভাব পড়ছে দ্রব্যমূল্যের উপরে।




মিসরের সহায়তা চাইল ইসরায়েল

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : অবৈধ দখলকার ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে শনিবার আকস্মিকভাবে ও কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বড় সামরিক অভিযান শুরু করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস।

আর এ অভিযানে অসংখ্য ইসরায়েলিকে হত্যা করা ছাড়াও বেশ কয়েকজন সেনা ও বেসামরিক মানুষকে ধরে নিয়ে গেছে তারা। বর্তমানে সেসব বন্দিদের গাজার বিভিন্ন টানেলে আটকে রাখা হয়েছে।

আর হামাসের হাতে আটক এসব বন্দিকে ছাড়িয়ে নিতে মুসলিম দেশ মিসরের সহায়তা চেয়েছে ইসরায়েল।

মিসরের কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার বরাতে রোববার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েল অনুরোধ জানিয়েছে বন্দিদের ছাড়িয়ে নিতে মিসর যেন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে

গতকাল শনিবার ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ নামের বিশেষ অভিযান শুরু করে হামাস। এদিন ভোরে সীমান্ত বেড়ে ভেঙে হামাসের প্রায় এক হাজার সেনা ইসরায়েলে প্রবেশ করেন।

সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে হামাস ও মিসরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব বন্দিকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে— তাদের সংখ্যাটা ঠিক কত— সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না। কারণ টানেলে থাকা হামাসের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

তবে ইসরায়েল স্বীকার করেছে, হামাসের হাতে তাদের অনেক নাগরিক বন্দি হয়েছেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭৫০ জন ইসরায়েলি সেনা ও অবৈধ বসতিস্থাপনকারী নিখোঁজ আছেন।

এদিকে হামাস ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার এ যুদ্ধ একদিন পেরিয়ে তৃতীয় দিনে পা দিয়েছে। কিন্তু তবুও এখনো হামাসকে পুরোপুরি দমন করতে পারেনি ইসরায়েলি বাহিনী।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রোববারও বিভিন্ন জায়গায় সম্মুখ যুদ্ধ চলছিল।




ফিলিস্তিনিদের ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়নের ফল এই ভয়াবহ যুদ্ধ: ইসরায়েলের এমপি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড অবৈধভাবে দখলের পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে আগেই ইসরায়েল সরকারকে জানিয়েছিলেন একজন ইসরায়েলি আইনপ্রণেতা। কিন্তু তাঁর কথা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার কর্ণপাত করেনি বলেই গতকাল শনিবার এমন ভয়াবহ যুদ্ধের সূচনা হয়েছে বলে আল জাজিরাকে জানিয়েছেন তিনি।

হামাস গতকাল ভোরে ইসরায়েলে হাজার হাজার রকেট নিক্ষেপ করে এবং হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলি শহর ও অবৈধ বসতিতে অনুপ্রবেশ করে ত্রিমুখী হামলা শুরু করেন।

বামপন্থী হাদাশ জোটের নেসেট (ইসরায়েলের আইনসভা) সদস্য ওফার ক্যাসিফ আল জাজিরাকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার যদি ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার নীতি পরিবর্তন না করে, তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে তিনি সতর্ক করেছিলেন। ১২০ সদস্যের নেসেটে হাদাশের চারটি আসন রয়েছে।

ক্যাসিফ বলেন, ‘আমরা নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর যেকোনো হামলার নিন্দা ও বিরোধিতা করি। অর্থাৎ, আমরা ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর যেকোনো হামলার বিরোধিতা করি। আমাদের অবশ্যই ইসরায়েলের চালানো আগের ভয়ানক আক্রমণ ও অবৈধ ভূমি দখলের বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে।

‘আমরা বারবার সতর্ক করেছি। পরিস্থিতি ভয়ানক হতে চলেছে এবং প্রত্যেকেই এর মূল্য দিতে হবে—প্রধানত উভয় পক্ষের নিরীহ নাগরিকদের। দুর্ভাগ্যবশত, ঠিক তা-ই ঘটেছে। ’

ক্যাসিফ আরও বলেন, ‘ইসরায়েল সরকার ফ্যাসিবাদী সরকার। ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নির্মূলকে সমর্থন দিয়ে উৎসাহ এবং নেতৃত্ব দেয়। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চলছে। ফিলিস্তিনিদের রক্তে এটা স্পষ্টভাবে দেয়ালে লেখা আছে। দুর্ভাগ্যবশত এখন ইসরায়েলিদেরও একই দশা হতে চলেছে।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর মতে, ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি গাজার সীমান্ত অঞ্চল ছেড়ে হামাস-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের আরও ভেতরে গিয়ে জাতিসংঘের স্কুলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।

ক্যাসিফ বলেন, ‘নেতানিয়াহু ইসরায়েলের নাগরিকদের মঙ্গল চায় না, অধিকৃত অঞ্চলের ফিলিস্তিনিরা দূরের কথা। তিনি শুধু ক্ষমতায় থাকতে আগ্রহী। মামলা থেকে রেহাই পেতে শুধু জেলের বাইরে থাকতে চায়। এটিই একমাত্র প্রেরণা ও উদ্দেশ্য। ’




৭৫ বছরে কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়েনি ইসরাইল

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। শনিবার সকালে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে এসব রকেট হামলা শুরু করে হামাস। হামলার প্রথম ২০ মিনিটেই ৫ হাজার রকেট ছোড়ার কথা জানিয়েছে হামাস।

সেই সঙ্গে ইসরাইলের ভেতরে ঢুকেও হামলা চালানো হয়েছে বলে তেলআবিব থেকে জানানো হয়েছে।

এর জবাবে গাজায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫০ ইসরাইলি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জন।

বিবিসি জানিয়েছে, ১৯৪৮ সালের পর- অর্থাৎ গত ৭৫ বছরে কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়েনি দখলদার ইসরাইল।

বিবিসির আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর সম্পাদক জেরেমি বাওয়েন বলেছেন, ১৫ বছর আগে হামাস গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। কিন্তু এই ১৫ বছরে তারা কখনো এ ধরনের কোনো কিছু করেনি। ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলিদের মধ্যে মাঝে মাঝে সংঘর্ষ হয় হয়। কিন্তু সেগুলো মূলত পশ্চিম তীরে হয়ে থাকে। এই পশ্চিম তীর জেরুজালেম থেকে শুরু করে জর্ডান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।

শনিবার সকালে যেভাবে হামাসের শত শত যোদ্ধা ইসরাইলে প্রবেশ করেছেন তা ইসরাইলিরা কখনো কল্পনাও করেনি। এছাড়া চেকপোস্টে থাকা ইসরাইলি সেনাদের যেভাবে হামাসের সদস্যরা ধরে নিয়ে এসেছেন সেটি অনেকের কাছে বিষ্ময় মনে হয়েছে।

তবে হঠাৎ কেন এমন কঠোর সামরিক অবস্থান নিল হামাস? আলজাজিরার তথ্যমতে, ইসরাইলি দখলদারিত্বের ইতি টানতেই হামাস এ সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

‘অপারেশন আল-আকসা স্টর্ম’ পরিচালনার মাধ্যমে দশকের পর দশক ধরে চলা ইসলাইলি দখলদারিত্ব, শোষণ ও বঞ্চনার জবাব দেওয়া হচ্ছে বলে আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন হামাস মুখপাত্র খালেদ কারামি।

তিনি বলেন, আমরা চাই বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং পুরো বিশ্বের মানুষ আমাদের ওপর পরিচালিত অত্যাচারের কথা জানুক। আমরা চাই আমাদের মানুষ এবং আমাদের ভূখণ্ডের ওপর, আমাদের পবিত্র প্রার্থনা কেন্দ্র আল-আকসার দখলদারিত্ব থেকে ইসরাইলিরা সরে যাক। অনেক বছরের পুঞ্জিভূত অত্যাচার ও দখলদারিত্বের জবাব দিতেই আমরা প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করেছি।

ইসরাইলি দখলদারিত্ব এবং শোষণের অবসানে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে হামাসের সামরিক কমান্ডার মুহাম্মদ দেইফ বলেন, আমরা অপারেশন আল-আকসা স্টর্ম শুরু করে দিয়েছি। এ অভিযানের মধ্য দিয়ে বিশ্বের বুকে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান হবে।

দেশপ্রেমিক সব ফিলিস্তিনিকে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।




নেতাকর্মী নিয়ে কাউখালীর চেয়ারম্যান পদত্যাগ করলেন জাতীয় পার্টি (জেপি)’র সভাপতির পদ থেকে

বরিশাল অফিস: সাংগঠনিক রীতিনীতি বর্হিভূতভাবে দল পরিচালনা করা, উন্নয়নের ব্যাপক বৈষম্য ও কাউখালী হাটের খাজনা মওকুফ ঘোষনা করা সত্বেও সরকারি টাকা পরিশোধ না করায় জাতীয় পার্টি (জেপি)’র উপজেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম ও শিল্প বিষয়ক সম্পাদক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবু সাঈদ মিয়া মনু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির জেপির সহ-সভাপতি সিকদার মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নসু, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শেখ লিটন, নেপাল চন্দ্র দে, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খসরু মিয়াসহ তিন সহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন।

শনিবার (৭ অক্টোবর ) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগের এই ঘোষনা দেন। এ সময় আবু সাঈদ মিয়া মনু বলেন কাউখালী-ভান্ডারিয়া-ইন্দুকানী তিন উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-২ আসন গঠিত (চলমান) হলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাউখালী উপজেলা চরমভাবে অবহেলিত। বার বার এমপিও মহোদয়কে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার জন্য আহবান জানালেও তিনি তা ভুরুক্ষেপ করেননি। এমপি মহোদয় গত বৈশাখ থেকে কাউখালী উপজেলা হাট বাজার খাজনামুক্ত ঘোষনা করেন এবং সরকারি টাকা নিজ তহবিল থেকে পরিশোধের ঘোষনা দেন। কিন্তু ছয় মাস পর্যন্ত তিনি কোন টাকা পয়সা পরিশোধ করেননি। গত ছয় মাসের টাকা আমাকেই বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবস্থা করতে হয়েছে। এমপি মহোদয় সম্প্রতি সরাসরি বলে দেন তিনি কোন টাকা পয়সা দিবেন না এবং আরও বলেন হাটবাজার সরকারি ভাবে ইজারার দেওয়া হোক। গোটা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও কাউখালীবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। সংগত কারনেই এর আংশিক দায়ভার আমার উপরে বর্তায়।

সে কারণে আর কোন পথ খোলা না থাকায় আমি এবং আমার সাথে থাকা উল্লিখিত নেতৃবৃন্দসহ তিন সহস্রাধিক নেতাকর্মী আমরা পদত্যাগ করিলাম। আগামীতে তিনি কোন দলে যোগ দেবেন কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগে আমি স্বতন্ত্র হিসেবে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম, এরপরে আমি দশ বছর জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত, আপাতত স্বতন্ত্র হিসেবে আছি। উন্নয়নের রাজনীতি করি এ পথ থেকে পথভ্রষ্ট হব না।




বরিশালে বাংলা নাচ-গান করে মুগ্ধতা ছড়াল ভিনদেশিরা

বরিশাল অফিস: দেশের যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে নাচ-গান পরিবেশনটা বাঙালিদের কাছে রীতির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই নাচ-গানে সচরাচর বাঙালিরা অংশ নিয়ে হয়ে থাকে। তবে এবার এ ধরণের আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের এক দম্পতি ও তাদের সন্তানরা বাংলা ভাষায় গান গাওয়ার পাশাপাশি বাংলা গানের সঙ্গে নাচও পরিবেশন করেন।

শনিবার (০৭ অক্টোবর) বরিশালের সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপক সাজ্জাদ পারভেজ জানান, প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি দম্পতি নিজ ইচ্ছায় আমাদের এ কেন্দ্রে এলো।

তিনি বলেন, বিদেশি এই পরিবারের আগমন ঘিরে করা ছোট আয়োজনকে তারাই প্রাণবন্ত করেছে। কারণ, ওই আয়োজনে আমাদের কেন্দ্রের মেয়েদের সঙ্গে তাদের পাঁচ সন্তানকে বসিয়ে বাংলায় গান গেয়েছেন জ্যাকব বার্লিন ও তার স্ত্রী জয়া বার্লিন। এছাড়া তার তিন কন্যা বাংলা গানের সঙ্গে একাধিক নৃত্যও পরিবেশন করেছে।

তিনি আরও বলেন, দুপুরের খাবারের সময় মেয়েদের সঙ্গে সময়ও কাটিয়েছেন জয়া বার্লিন। আর পুরো সময়টাতেই বার্লিন দম্পতি ও তাদের সন্তানেরা বাংলায় কথা বলেছেন। এছাড়া তারা শাড়ি ও পাঞ্জাবিসহ বাংলা পোশাক পড়েছেন। এতে আমরাসহ কেন্দ্রের মেয়েরা খুবই খুশি ও উচ্ছ্বাসিত হয়েছে।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ,কে,এম আখতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, জ্যাকব বার্লিন ও জয়া বার্লিন দম্পতি পজিটিভ চিন্তাভাবনার মানুষ। ‘অ্যাকশন জয় এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিইও জয়া বার্লিন এবং জ্যাকব বার্লিন তার ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তারা অসহায়, দারিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাবলম্বী করার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন এতিমখানা, সেইফ হোম, সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন জায়গাতে যাচ্ছে। এ কারণে পঞ্চম জেলা হিসেবে তারা বরিশালে এসেছেন। আমরা আশা করছি, যেসব ছেলে-মেয়েদের পুনর্বাসন করার সুযোগ ছিল না, তাদের সহযোগিতায় সেটা সম্ভব হবে।

এদিকে বরিশালে এসে বেশ উচ্ছ্বাসিত জ্যাকব বার্লিন ও জয়া বার্লিন দম্পতি এবং তাদের সন্তানেরা। জয়া বার্লিন বলেন, ২০১১ সালের দিকে আমার স্বামী বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীতে কাজের জন্য এসেছিল। তখন আমি আমেরিকার আলাক্সায় থাকতাম। আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশে আবার আসি। ১০ বছর আগে আমি যখন এখানে আসি, তখন আমরা জানতাম তিনবছর পর দেশে চলে যাব। তখন একটি সেইফ হোমের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। সেখানে অনেক ট্রাফিক ওমেন থাকতো। তারা অনেক অসহায় ছিল। তাদের পাশে দাঁড়ানোর চিন্তাভাবনা থেকেই আবার কোভিডের পর বাংলাদেশে আসি।

তিনি বলেন, আমি যদি একদিন একজনের মুখে হাঁসি ফোটাতে পারি তাহলেই আমি সন্তুষ্টি পাব। আর তাই বর্তমান কাজটিকে খুব ভালোবাসি আমি। আমাদের মূলত কোন এনজিও নেই, এটা হচ্ছে আমার একটি সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ (সামাজিক উদ্যোগ)। এরমধ্যে আমার অনেক প্যাশন রয়েছে। আমি কোনো মেয়ের সামনে যখন দাঁড়াই, তখন আমি তাদের বলি, আমি আপনাদের কোনো সাহায্য করব না, কিন্তু আপনার পাশে দাঁড়াব। আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দেব। প্রশিক্ষণের মধ্যে আমরা তাদের সুতা ও কাপড় দেব। যেখানে আঁকা-বাঁকা স্ট্রিচিং করে তারা কষ্ট-দুঃখ প্রকাশ করবে। এভাবেই একদিন তারা স্বাভাবিক জীবনে চলে আসবে।

জয়ার স্বামী জ্যাকব বার্লিন বলেন, বরিশালে ভ্রমণ করতে এসে আমি খুবই খুশি ও আনন্দিত। ২০১১ সালে আমি প্রথম বাংলাদেশে আসি এবং বরিশালের পটুয়াখালীতে তিন মাস ছিলাম। তখন আমি এখানকার গভীর প্রেমে পরেছি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অনেক অসহায় ছেলে-মেয়ে ও নারী আছে। এর ফলে আমার বউয়ের সঙ্গে একটা পরিকল্পনা করেছি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল, আমরা একটি কোম্পানি বানান। যেখানে তারা হস্তশিল্প বানানোর মধ্য দিয়ে ভালো সম্মানী পাবে। প্রয়োজনে পণ্যগুলো আমেরিকায় রপ্তানি করব।

আমেরিকান এই দম্পতির সন্তানদের মধ্যে একমাত্র ছেলে আনন্দ বাংলাদেশকে ভালোবাসে জানিয়ে বলেন, এখানে আমার অনেক বন্ধু আছে। বরিশালে এসে এখানকার ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলেছি। আর মেয়ে হাসি জানান, তিনি বাংলা গানের সঙ্গে নাচতে বেশি ভালোবাসেন।