বাবুগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ির মালামাল ক্রোক করলো পুলিশ!

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: আদালতের আদেশে ওয়ারেন্টভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ির মালামাল ক্রোক করতে গিয়ে বিস্মিত হয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের চর উত্তর ভূতেরদিয়া গ্রামে।

ওই মাদক ব্যবসায়ীর ঘরের চারপাশ সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য আলিশান ভবনের পিছনের রুমের প্রতিটি জানালায় রয়েছে অভিনব কায়দায় তৈরি করা আলাদা গেইট। যখন তাকে ধরার জন্য পুলিশ অভিযান চালায় তখন সিসি ক্যামেরায় দেখে আলাদা গেইট থেকে পালিয়ে যায় ওই মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছেন বাবুগঞ্জ থানার ওসি তুষার কুমার মন্ডল।

তিনি বলেন, উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মাদক সম্রাট মোঃ শহীদ প্যাদা (৪৫) আলিশান বাড়ির মালামাল ক্রোক করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে প্রায় ৬ লক্ষ্য টাকার আসবাবপত্র ক্রোক করা হয়েছে।

জানাযায়, বরিশাল জেলার বিভিন্ন থানায় ১৫ টি মাদক মামলায় পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামী মোঃ শহিদুল প্যাদা উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের চর উত্তর ভূতেরদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের প্যাদার ছেলে।
এই অঞ্চলের শীর্ষ মাদক ব্যাবসায়ী শহীদ প্যাদা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দিনের পর দিন ইয়াবা ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী শহীদ প্যাদা দীর্ঘদিন ধরেই আত্মগোপনে রয়েছেন। আদালতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা বিচারাধীন থাকলেও এসব মামলার ধার্য তারিখে তিনি গ্রেফতার এড়াতে অনুপস্থিত থাকেন। গত ১৬ এপ্রিল বাবুগঞ্জ থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয় শহীদ প্যাদার বিরুদ্ধে। মামলা নং-৫।

ওই মামলায় বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মাদক ব্যবসায়ীর অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশ দেন আদালত । আদালতের নির্দেশে শনিবার(২৮ অক্টোবর) শনিবার ওই মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে মালামাল জব্দ করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ।




স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পটুয়াখালীর শিশুরা – মানব দেহে বাড়ছে সীসার পরিমান

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলায় মানব দেহে দিন দিন বাড়ছে সীসার পরিমান। বিশেষ করে শিশুদের দেহে পাওয়া যাচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত সীসার উপস্থিতি ।

আন্তজাতিক দাতা সংস্থা ইউনিসেফ এর গবেষণায় দেখা যায় জেলার  ৪৬ শতাংশ শিশুর রক্তে মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত সীসার উপস্থিতি রয়েছে।

পরিবেশ বিপর্যয় এর পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার মানব দেহে সীসা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে জানান জেলার সিভিল সার্জন।

তিনি আরো বলেন, সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় রক্তনালী। আমাদের খাদ্য দ্রবের সাথে সীসা মেশানো হয়, বাচ্চাদের তৈরি করা খাবারে সীসার উপস্থিতি আছে, এর ফলে স্মৃতি শক্তি কমে যায়, রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

ইউনিসেফ এর গবেষণায় দুই থেকে চার বছর বয়সের শিশুদের দেহে শতভাগ সীসার উপস্থিতি রয়েছে।

বরিশাল ইউনিসেফ এর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহসানুল ইসলাম জানান, পটুয়াখালীর ৪৬ শতাংশ শিশুদের রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যার ভিতর ৬৫ শতাংশ রয়েছে অতিরিক্ত উচ্চঝুঁকিতে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক গাইনিকোলজিস্ট ডাক্তার জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘সীসার নীরব বিষক্রিয়া শিশুদের স্বাস্থ্য ও বিকাশের ওপর মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলছে। সীসা গর্ভাবস্থার জন্য একদমই নিরাপদ নয়। এটি গর্ভের ভ্রূণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভপাত এবং মৃত শিশুর জন্মদানের মতো ঘটনা ঘটান সীসা।

পটুয়াখালীর সিভির সার্জন ডা. এস এম কবির হাসান বলেন, মানব দেহে সীসার পরিমান প্রতিদিনই বাড়ছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত হারে শিশুদের দেহে। সীসার উৎস হলো – বাচ্চাদের খেলনা, ব্যাটারির অ্যাসিড, রং, হলুদ ইত্যাদি। সীসার পরিমান কমাতে আমরা একাধিক কর্মশালার আয়োজন করতেছি। কিন্তু এটি প্রতিরোধে আমাদের সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।




বাউফলে ভুয়া ওয়ারিশে মন্দিরের জমি বিক্রির অভিযোগ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জীবিত মাকে মৃত এবং দুই ভাইকে না জানিয়ে ভুয়া ওয়ারিশ বানিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের কালী মন্দিরের জমি বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে এক প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে।

ইতোমধ্যেই কালী মন্দিরের জায়গা দখলে নিয়েছে দলিলের গ্রাহক।

ওই ঘটনাটি ঘটেছে বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামে। ওই দলিল বাতিলের জন্য মোহাম্মদ সুলতান আহম্মেদ নামের মাদ্রাসার এক সাবেক সুপার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা ভূমি অফিসের সূত্রে জানা গেছে, ভরিপাশা মৌজার ৬৩৮ খতিয়ানের ৬৩৮২ নম্বর দাগের ৮ শতাংশ জমি হিন্দু সম্প্রদায়ের কালী মাতার মন্দির। কোনোভাবেই বিক্রিয়যোগ্য নয়।

কিন্তু একটি চক্র পরিমল হালদার নামের এক ব্যক্তিকে ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা বানিয়ে ভরিপাশা গ্রামের রতন ফরাজির স্ত্রী কমলা বেগমের নামে ২০২৩ সালের ১১ মে ২ দশমিক ৮১ শতাংশ জমি দানপত্র দলিল করে নেন। দলিল নম্বর ৩২১৩/২০২৩। এছাড়া একই দিন একই খতিয়ানের ৬৩৮০ ও ৬৩৮১ নম্বর দাগের ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ জমি পরিমলের কাছ থেকে ভরিপাশা গ্রামের আনিচুর রহমান ও জাকির হোসেন দলিল করে নেন। দলির নম্বর ৩২১৪/২০২৩।

স্থানীয়রা জানান, ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ জমির মালিক প্রফুল্ল কুমার সেন। যিনি প্রায় ৫০ বছর আগে মারা গেছেন। তার একমাত্র ওয়ারিশ ছিলেন তাপস সেন। তিনিও ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর মারা গেছেন। ভূমি অফিসের নথিতেও ওই জমির মালিক প্রফুল্ল কুমার সেন। পরিমল হালদারকে প্রফুল্ল কুমারের একমাত্র নাতি দেখিয়ে ভুয়া ওয়ারিশ বানানো হয়েছে। দলিলের সঙ্গে সংযুক্ত পরিমল হালদারের জাতীয় পরিচয়পত্র নং ৬৪০২৩৩২৩২১ অনুযায়ী তার বাবার নাম চিত্তরঞ্জন হালদার, মায়ের নাম পুস্প রানী হালদার। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামে তার বাড়ি। দানপত্রের ওই দুটি দলিলেই পরিমল হালদার তার মাকে মৃত্যু দেখিয়েছেন এবং একমাত্র সন্তান দাবি করেছেন। এ বিষয়ে আনিচুর, জাকির হোসেন ও কমলা বেগম অভিন্নভাবে বলেন, প্রতারণা করলে পরিমল করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত নন।

বাউফল উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মোসা. হাফিজা হাকিম রুমা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ডু বলেন, কালী মন্দিরের জমি বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ দখল করলে অবশ্যই উচ্ছেদ করা হবে।




যে দ্বীপে শুধু কুমিরের বসবাস

মায়ানমারের বৃহত্তম দ্বীপ রামরি। বার্মিজ ভাষায় এটি ইয়ানবাই দ্বীপ নামে পরিচিত। রাখাইন রাজ্যের উপকূলের অবস্থান। দ্বীপটির আয়তন প্রায় ১৩৫০ বর্গ কিলোমিটার। এটি মূলত কুমিরের দ্বীপ হিসেবে পরিচিত। আর এই দ্বীপের কুমিরকে নিয়ে রয়েছে লোহমর্ষক ঘটনা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রামরি দ্বীপ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। কিন্তু সত্যিকারের যুদ্ধ শুরু হয় তখন যখন জাপানি সেনারে যুদ্ধে হেরে পিছু হটে। ১৯৪৫ সালের ২৬ জানুয়ারি ব্রিটিশ সৈন্যরা রামরি দ্বীপে যাওয়ার উদ্যোগ নেয় যাতে তারা নতুন বিমানঘাঁটি স্থাপন করতে পারে। প্রথমে ব্রিটিশ সৈন্যরা জাপানি সামরিক বাহিনীকে আক্রমণ করে যারা এরই মধ্যে দ্বীপটি নিজেদের দাবি করেছিল।

জাপানিদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সফল অভিযানের পর, ব্রিটিশরা ১০০০ শত্রু যোদ্ধাকে পিছু হটতে বাধ্য করে। তখন জাপানি সৈন্যরা রামরির প্রায় দশ মাইল জুড়ে বিস্তৃত ঘন ম্যানগ্রোভ বনভূমির জলাশয়ের দিকে অগ্রসর হয়। কিন্তু জাপানি সৈন্যরা জানতো না তাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে সেখানে।

ম্যানগ্রোভ বনভূমির চারপাশ জুড়ে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ছোট-বড় জলাশয় ছিল। যেখানে বাস করত ভয়ংকর সরীসৃপ প্রাণী কুমির। শোনা যায়, এই কুমিরগুলোর দৈর্ঘ্য ২৩ ফুটের বেশি ছিল। কোনো কোনো কুমিরের ওজন এক টনের বেশি, যা একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে হত্যা করার জন্য যথেষ্ট।

তাই সৈন্যরা যখন রামরির গভীর ম্যানগ্রোভের জলাভূমির সীমানায় আশ্রয় নেয়, তখন দৈত্যাকার টিকটিকি জাপানি সৈন্যদের উপর আক্রমণ করে। কিছু জাপানি সেনারা কুমিরের আক্রমণ থেকে বাঁচতে সেই দ্বীপ ছেড়ে পালাতে চেষ্টা করে। তবে ততক্ষণে অনেকেই কুমিরের খাবারে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, মাত্র ২০ জন সৈন্যকে ব্রিটিশ বাহিনী পুনরুদ্ধার করেতে সক্ষম হয়। যারা বেঁচে ফিরেছেন তারা শুনিয়েছেন কয়েক ডজন কুমিরের একত্রে আক্রমণ করার ভয়ংকর গল্প। রাতে জন্তু-জানোয়ারের চিৎকার, গুলির শব্দ এবং কুমিরের আক্রমণের আতঙ্কে কাটত গোটাদিন।

রামরির ম্যানগ্রোভের গণহত্যার গল্পটি সে সময় অনেক পত্রিকায় উঠে এসেছিল। এমনকি কুমিরের আক্রমণে সর্বাধিক সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনাটি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নেয়। যদিও এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেক মত বিরোধ রয়েছে। এরপর থেকে এই দ্বীপ নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করতে শুরু করে। যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কুমিরের সংখ্যা এখন কমছে।




অপরিকল্পিত ড্রেজিং ইলিশ প্রজননে অন্তরায়

মো:আল-আমিন (পটুয়াখালী): মা ইলিশ রক্ষার জন্য সরকার নানামুখী পদক্ষেপের গ্রহণের কারণে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি অপরিকল্পিত ভাবে ড্রেজিং এর কারণে সাগর ও নদী মোহনায় ইলিশের বিচরণক্ষেত্র ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। মা ইলিশের বিচরণ ও অভিপ্রায়ণ নিরাপদকরণের দাবি করেছেন স্থানীয় ইলিশের আড়ৎমালিকসহ জেলেরা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একাধিক ড্রেজারে নিয়মিত বালু উত্তোলনের কাজ চলছে।

কলাপাড়া উপজেলা মাঝি সমিতির সভাপতি নূরু মিয়া বলেন, আন্ধারমানিকের সাগর মোহনায় বছরের অধিকাংশ সময় বালু তোলা হয়। এসব ড্রেজারের বিকট শব্দে মা ইলিশ অন্যত্র চলে যায়। মোহনা থেকে পালিয়ে যায় গভীর সাগরে। তাই অন্তত প্রজননকালে বালু কাটা যেন বন্ধ রাখা হয়।

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বারো অক্টোবর থেকে দুই নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা, ক্রয়- বিক্রিয়ের ও পরিবহন এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। এসময় বঙ্গোপসাগর থেকে নদী মোহনায় ডিম ছাড়তে আসে মা ইলিশ। তাই ইলিশ রক্ষার অভিযান সফল করতে কাজ করছে মৎস্য বিভাগ।

নিয়ম রয়েছে এ সময়ে অভয়াশ্রম নিরাপদকরণসহ অবাধ প্রজননের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ইলিশের প্রবৃদ্ধি অক্ষুণ্ন রাখতে মৎস্য নৌযানসহ সাধারণের বাণিজ্যিক ট্রলার সমুদ্র উপকূল ও মোহনায় চলাচলে পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করার।

সেখানে সাগর মোহনায় ডুবোচর কেটে ড্রেজার দিয়ে ফ্রি-স্টাইলে রাতদিন বালু উত্তোলনের কাজ চলছে।

স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ী রাসেল মিয়ায় বলেন, সাগর থেকে নদী মোহনায় যাতে মা ইলিশ প্রবেশ করে ডিম ছাড়তে পারে সে জন্য এ অবরোধ দিয়েছে সরকার। কিন্তু সমুদ্রের মোহনায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ড্রেজারে অপরিকল্পিত ড্রেজিং এর কম্পন ও শব্দ দূষণের কারণে বঙ্গোপসাগরের মোহনা দিয়ে মা ইলিশ নদীতে প্রবেশ করতে পারছেনা। আর যদি মা ইলিশ নদী মোহনায় ঢুকতে না পারে তাহলে এই ২২ দিন অবরোধ কোন কাজে আসবে নাহ। সরকারের কাছে দাবি দ্রুত এই ড্রেজিং বন্ধ করা হোক।

ইকোফিসের সহকারী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, ইলিশ দ্রুত গতি সম্পন্ন মাছ। এই সময়টায় মা ইলিশ বঙ্গোপসাগর থেকে নদীতে ডিম ছাড়তে আসে। তবে এ মাছ কোনো ধরনের শব্দ বা কম্পন সহ্য করতে পারে না। এই সময়টাতে ড্রেজিং বন্ধ রাখা উচিত।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, এটি ইলিশের প্রজননকালের জন্য ভয়াবহ সমস্যার। তবে যত দ্রুত সম্ভব আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।




অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক জয়, ভাঙলো অতীতের সব রেকর্ড

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্বকাপ ইতিহাসে সব থেকে বড় ব্যবধানে (৩০৯ রানে) জয়ের রেকর্ড গড়লো অস্ট্রেলিয়া। আজকের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ৩৯৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে অজি বোলারদের তোপে ডাচরা মাত্র ৯০ রান করেই অলআউট হয়।

নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে আজ ডাচদের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।

ব্যাট করতে নেমে দ্রুত এক ওপেনারকে হারালেও ডেভিড ওয়ার্নার তুলে নেন আসরে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এরপর ব্যাট হাতে ঝড়ো এক ইনিংস খেলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ৪০ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম শতক করার রেকর্ড করেন তিনি। তাঁর মারকুটে ব্যাটিংয়ে ৫০ ওভারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা অয়ায় ৩৯৯ রানের বিশাল সংগ্রহ।

অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ৪০০ রানের সংগ্রহে ব্যাট করতে নেমে আজ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে নেদারল্যান্ডস। ডাচদের ব্যাটিং ইনিংসে সর্বোচ্চ জুটিই আজ হয়েছে ২৮ রানের। ইনিংস সর্বোচ্চ ২৫ রান করেছেন ওপেনার বিক্রমজিত সিং। এছাড়া ডাচ ব্যাটারদের মধ্যে আর কেউই আজ ২০ রানের বেশি করতে পারেননি।

স্কোরবোর্ডে ৬২ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারানো নেদারল্যান্ডস অ্যাডাম জাম্পার বোলিং তোপে শেষ পর্যন্ত অল আউট হয়েছে ৯০ রান করেই। বল হাতে অজিদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নিয়েছেন জাম্পা।




লেখিকা কুসুম কুমারী দাশ স্মরণে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা

বরিশাল অফিস: শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের মা ‘আমার দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’ কবিতার লেখিকা বরিশালে আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা দাশের বাড়ীর সন্তান কুসুম কুমারী দাশ স্মরণে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত।

শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণে তাদের তুলির আচরে রূপসী বাংলার প্রকৃতি ও গ্রাম বাংলার চিত্র প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে।

এর আগে কুসুম কুমারী দাশ স্মরণে কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতা গৈলা দাশের বাড়ীর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলার ৪ শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।চিত্রাংকন ও কবিতা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়ে থাকে। একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা অজয় দাশ গুপ্ত বলেন, লেখিকা কুসুম কুমারী দাশের গৈলা দাশের বাড়ীর সন্তান তাই তার স্মরণে কয়েক যুগধরে প্রতিবছর শারদীয় দুগোৎসব এর সময় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকি।

এক সাথে এবছর ৪ শতাধিক শিশু প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। একদিকে শিশুদের মাঝে আনন্দ ও মেধা বিকাশ হয় অন্যদিকে কুসুম কুমারী দাশের বিষয়ে জানতে পারে। বিজয়ী প্রতি যোগিদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিন চারুকলা ইনিস্টিউট অধ্যাপক নিসার হোসাইন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুশিল্পী দিলারা বেগম জলি, হাই কোর্ট সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।




বাউফলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়ে খুশি ষাটোর্দ্ধ সুরামনি 

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের বগা বন্দরের পশ্চিম পাশে একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে আসছেন সুরামনি ও ছেলে গোপাল (১৭) মিস্ত্রি।

স্বামী যুগোল মিস্ত্রী মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। বেঁচে আছেন একমাত্র অবলম্বন ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে। একদিন হয়ত সুখ এসে ধরা দেবে সেই আশায়।  অন্যের দেয়া সাহায্যে চলে তার সংসার। কখনও খেয়ে কখনও না খেয়ে দিনযাপন করতে হয় তাকে। নেই মাথা গোজাঁর ঠাই। কোনো জনপ্রতিনিধি নিচ্ছেন না তার খোঁজখবর। সমাজের বিত্তশীলরাও উদাসীন। ঠিক এমনই এক মুহুর্তে  দেখা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজীর সাথে।

উপজেলার বগা ইউনিয়নের বগা  ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রী কলেজের পূর্ব পাশে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে হতদরিদ্রদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৫ টি ঘর নির্মাণের কাজ পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী।

এসময় সুরামনিকে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতে দেখে তাৎক্ষণিক ভাবে তাকে একটি সরকারি ঘরের ব্যবস্থা করে দেন ওই ইউএনও। ঘর পেয়ে ভীষণ খুশি ওই বৃদ্ধা।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখন আমার কষ্ট দুর হইছে। মরার আগে একটু শান্তিতে থাকতে পারমু। মাথা গোজার ঠাঁই পেয়ে মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান সুরামনি।




নেতানিয়াহুর সঙ্গে সেনাবাহিনীর মতবিরোধের গুঞ্জন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সেনাবাহিনীর মাঝে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। মূলত অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সম্ভাব্য স্থল হামলা নিয়ে এ মতবিরোধ।

ইসরাইলের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও সেনাবাহিনী যৌথ এক বিবৃতিতে স্থল অভিযান নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে।

সোমবার টাইমস অব ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলম্বিত স্থল অভিযান নিয়ে সেনাবাহিনী এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মতবিরোধের খবরে যৌথ বিবৃতিতে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দাবি করেছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের ব্যুরো এবং ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্রের দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং আইডিএফ প্রধান হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের পূর্ণ বিজয় আনার লক্ষ্যে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

‘প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং আইডিএফ প্রধানের মাঝে পূর্ণ আস্থা রয়েছে; যারা একটি সুস্পষ্ট উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন,’ বিবৃতিতে যোগ করা হয়েছে।

‘আমরা গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে এবং জঘন্য প্রতিবেদন প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। তাদের এই ধরনের কার্যক্রম কেবল আমাদের ঐক্য ও শক্তিমত্তাকে আঘাত করে।’

সোমবার ইসরাইলের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গাজায় সম্ভাব্য স্থল হামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ত ও আইডিএফের প্রধান হার্জেই হালেভির মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এই মতবিরোধের একপাশে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ত ও আইডিএফের প্রধান হার্জেই হালেভি আর অপরপাশে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্থল হামলার বিষয়ে সবুজ সংকেত না মেলায় গণমাধ্যমে তাদের মতবিরোধের খবর বেরিয়েছে। তবে হামাসের হাতে জিম্মি ২২০ জনের বেশি ইসরাইলিকে মুক্ত করার বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের সাথে দর কষাকষি করতে নেতানিয়াহু স্থল হামলায় কালক্ষেপণ করছেন বলে অনেকে ধারণা করছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের অন্যতম প্রধান মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও গাজায় স্থল হামলা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে সোমবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা এবং দেশ ইতিমধ্যে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

তবে রোববার গ্যালান্ত বলেছেন, শিগগিরই গাজা উপত্যকায় স্থল অভিযান পরিচালনা করবে ইসরাইলি বাহিনী। সেই অভিযান শুরুর আগে হামাসকে দুর্বল করা প্রয়োজন এবং এ কাজটি করতে হবে মূলত বিমানবাহিনীকে।

‘শিগগিরই গাজা উপত্যকায় স্থল অভিযান শুরু হবে এবং আমরা চাই ইসরাইলের ট্যাংক ও পদাতিক সেনাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগে হামাস যেন আমাদের বিমান বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে পরিষ্কার ধারণা পায়।’

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান হামাস-ইসরাইল যুদ্ধে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের নির্বিচার বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ৫ হাজার ৮৭ জনে পৌঁছেছে।

তাদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিও রয়েছেন।

সোমবার গাজার হামাস নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, উপত্যকা থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ডে হামাসের হামলায় গত ১৬ দিনে ইসরাইলে প্রাণহানি ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও শত শত মানুষ।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, হারেৎজ।




কলাপাড়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীর সামনে ঘরে ঢুকে নৃশংসভাবে হত্যা

বরিশাল অফিস: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তিন কন্যা সন্তানের পিতা সাইদুল সরদারকে (৩৮) ঘরে প্রবেশ করে উলঙ্গ করে খাটের উপর হাত-পা বেঁধে বুকে ধারালো অস্ত্র ঢুকিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে দূবৃত্তরা। এ হত্যাকান্ডের ৪৩ দিন অতিবাহিত হলেও পৃুলিশ এ হত্যার রহস্য উদঘাটন কিংবা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ কারণে খুনীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এখন রাস্তায় নেমেছে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলছেন, তারা হত্যায় ব্যবহৃত একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করেছেন। অবিলম্বে হত্যায় জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার করা হবে।

সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখ আনুমানিক রাত ৯টার দিকে কলাপাড়ার মধ্য টিয়াখালী গ্রামের নিজ বাসার দোতলার শয়নকক্ষের খাটের সাথে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সাইদুল সরদারকে। এ সময় ওই ঘরে ছিলেন শুধু তার দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজা বেগম। সাইদুলকে মারধরের পর মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যা করা হলেও ওই সময় ঘরে থাকা তার দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি। এমনকি ঘরের সব মালামাল ছিলো সুৃরক্ষিত ও অক্ষত। সাইদুলকে হত্যার সময় তার ডাক চিৎকার শোনা গেলেও তার স্ত্রীর কোন চিৎকার শুনতে পায়নি প্রতিবেশীরা। এ সময় সাইদুলের চিৎকার শুনে তার ঘরে গিয়ে প্রতিবেশীরা সাইদুলকে এভাবে হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করে।

কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই রাতেই পুলিশ সাইদুলের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করে। কিন্তু হত্যায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সাইদুলের ঘরে একাধিক চেতনানাশক ঔষধ, জুস ও নাইলনের কট সুতা উদ্ধার করে। ঘরে এখনও রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। কিন্তু এ হত্যায় কারা জড়িত এ বিষয়ে এখনও মুখ খোলেনি ঘটনার সময় উপস্থিত তার দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজা।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই শাহজালাল সরদার ১০ সেপ্টেম্বর কলাপাড়া থানায় অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পুলিশ এ মামলায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজাকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতের মাধ্যমে তিনদিনের রিমান্ডে নেয়। কিন্তু রিমান্ডেও সে অপ্রকৃতস্থ্য আচরণ করে। এ কারণে পুলিশ তার কাছ থেকে কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করতে না পারায় ৪৩ দিনেও সাইদুল হত্যায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে এ হত্যাকান্ড ধামাচাপা পড়ে যাওয়ার আশংকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে সাইদুল সরদারের পরিবার ও তার প্রথম স্ত্রী ও তিন সন্তান। সাইদুলের মা ও স্ত্রী, সন্তানরা বলেন, সাইদুলকে পরিকল্পিতভাবে সম্পত্তির জন্য খাদিজা বেগম অন্যের সহায়তায় হত্যা করেছে। সে একা এ হত্যাকান্ড করতে পারে না। তারা অবিলম্বে এ হত্যাকারীদের সনাক্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানান। আর সাইদুলের ভাই শাহজালাল সরদার ওরফে খোকন বলেন, প্রথম স্ত্রী কাকলী বেগমের অনুমতি নিয়ে তার ভাই দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। প্রথম স্ত্রীর সংসারে তার শাহরিয়া (১১), তাইফা (৬) ও সামিয়া (১২ মাস) নামের তিন কন্যাসন্তান রয়েছে। কিন্তু প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সে খুব ভালোবাসতো। পরিবারের সবার সে খেয়াল নিতো। কারো সাথে তার কোন বিরোধ ছিলো না। রাজনীতির সাথেও জড়িত ছিলো না।

দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তাকে কিছু সম্পত্তি লিখে দিয়ে সাইদুল আবার তা ফিরিয়ে নেয়। এ নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজার সাথে প্রায়ই বিরোধ হতো। তার ভাইকে সম্পত্তির জন্যই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এলাকাবাসীরা বলেন,সাইদুলের নির্মম মৃত্যুতে গোটা এলাকার মানুষ কাঁদলেও দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজার ছিলো না কোন শোকের ছায়া।

এমনকি স্বামীর মৃত্যুর খবর সে কাউকে না জানিয়ে মৃতদেহ দোতলায় আটকে রাখে সিড়ির ঝাঁপ দিয়ে। এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে তারা ধারনা করছেন। একই সাথে অবিলম্বে এ হত্যাকারীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করতে না পারলে ছোট ছোট তিন সন্তান নিয়ে তারা রাস্তায় নামবেন বলে আলটিমেটাম দেন।

এদিকে সাইদুল হত্যার জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে শতশত এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা। শনিবার দুপুরে কলাপাড়া শহীদ সুরেন্দ্র মোহন চেীধুরী সড়কে এ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তার পরিবারের লোকজন। ছোট ছোট প্লাকার্ড নিয়ে রাস্তায় বসে পড়ে তিন সন্তান।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী অহমেদ বলেন, তারা মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন। সন্দেহভাজন দ্বিতীয় স্ত্রীকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্ত করে দেখছেন। খুব শীঘ্রই আসামীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান।