আরব বিশ্বে বয়কটের মুখে পশ্চিমা প্রতিষ্ঠান, বিক্রিতে ধস

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পশ্চিমা পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে মিশর, জর্ডান, কুয়েত ও মরক্কোর সাধারণ জনগণ। ফলে এসব দেশে ব্যবসা করা কেএফসি ও ম্যাকডোনাল্ডসের মতো বেশ কয়েকটি পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানের বিক্রিতে ধস নেমেছে।

কয়েকদিন আগে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিনিধি মিশরের রাজধানী কায়রোর ম্যাকডোনাল্ডসে যান। সেখানে তিনি দেখতে পান, একজন কর্মী ক্রেতাশূন্য রেস্টুরেন্টটি পরিষ্কার করছেন। ম্যাকডোনাল্ডস ছাড়াও কায়রোর অন্যান্য পশ্চিমা ফাস্টফুড চেইনের শাখাগুলোও এখন খালি পড়ে থাকছে বলে জানান এই প্রতিনিধি।

রয়টার্স বলছে, বড় পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলো এখন আপাতত মিশর ও জর্ডানে বয়কটের বড় প্রভাব টের পাচ্ছে। ধীরে ধীরে বয়কটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কুয়েত এবং মরক্কোতেও। তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

যেসব ব্র্যান্ডের পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়েছে, সেগুলো মূলত ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাছাড়া কয়েকটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে ইসরায়েলের অর্থনৈতিক সম্পর্কও রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি পণ্যের তালিকা প্রকাশ করে সেগুলো পুরোপুরি বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে সাড়া দিয়ে দোকানদাররাও সেসব পণ্য সরিয়ে স্থানীয় পণ্য বিক্রি করছেন।

রিহাম হামেদ (৩১) নামে কায়রোর এক বাসিন্দা বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রের ফাস্টফুড চেইন শপ ও কিছু পণ্যকে বয়কট করছি। যদিও যুদ্ধে এটি বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না, কিন্তু অন্য দেশের মানুষ হিসেবে গাজাবাসীর জন্য আমরা এটি করতেই পারি।

জানা গেছে, জর্ডানে বয়কটে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ম্যাকডোনাল্ডস ও স্টারবাকসের শাখাগুলোতে প্রবেশ করছেন। সেখানে তারা যেসব ক্রেতাদের পাচ্ছেন, তাদেরকে বয়কটে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বিশ্বের জনপ্রিয় একটি ডিটারজেন্ট দিয়ে কাপড় পরিষ্কার করছেন ইসরায়েলি সেনারা। সেই ডিজারজেন্টও বয়কটের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জর্ডানের রাজধানী আম্মানের একটি বড় সুপারশপের ক্যাশিয়ার আহমাদ আল-জারো বলেছেন, কেউ এখন পশ্চিমা পণ্য কিনছেন না। এগুলোর বদলে সবাই স্থানীয় পণ্য কিনছেন।

কুয়েতে মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় স্টারবাকস, ম্যাকডোনাল্ডস ও কেএফসির সাতটি শাখায় গিয়েছিলেন রয়টার্সের প্রতিনিধি। তিনি সবগুলো শাখাই প্রায় খালি পেয়েছেন। মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অবস্থিত স্টারবাকসের এক কর্মী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এ সপ্তাহে তাদের কাস্টমারের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।

তবে গতমাসে ম্যাকডোনাল্ডস এক বিবৃতিতে দাবি করেছিল, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের অবস্থান নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে, স্টারবাকস তাদের ওয়েবসাইটে দাবি করেছে, ইসরায়েলি সরকার ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের বিশেষ কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে একটি পোস্ট দেওয়া কেন্দ্র করে স্টারবাকস তাদের ইউনিয়ন কর্মীদের শোকজ করেছিল। অন্যদিকে, ম্যাকডোনাল্ডসের ইসরায়েলি শাখা ইসরায়েলি সেনাদের বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এ দুটি বিষয়ই মূলত সবার চোখে পড়েছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মিশরে ম্যাকডোনাল্ডসের করপোরেট অফিসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে তাদের বিক্রির পরিমাণ ৭০ শতাংশ কমেছে। এখন নিজেদের খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, আরব বিশ্বের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে এ বয়টক। মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুর্তোজায়ায় ম্যাকডোনাল্ডসের বিক্রি ২০ শতাংশ কমেছে বলে জানা গেছে। তবে এ তথ্যর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

মালেয়েশিয়ার রাইড শেয়ারিং অ্যাপ গ্র্যাবের প্রধান নির্বাহীর স্ত্রীর এক বক্তব্যর পর বয়কটের মুখে পড়েছে এই অ্যাপটিও। নির্বাহীর স্ত্রী বলেছিলেন, ইসরায়েল ভ্রমণে গিয়ে তিনি দেশটির প্রেমে পড়ে গেছেন। পরে অবশ্য তিনি দাবি করেছেন, তার কথাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার গ্র্যাব ও ম্যাকডোনাল্ডস বলেছে, তারা ফিলিস্তিনিদের জন্য সাহায্য পাঠাবে।

সূত্র: রয়টার্স




গাজায় ৭২ ঘণ্টায় ৬০ ইসরায়েলি সামরিক যান ধ্বংস

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় স্থল অভিযান পরিচালনা করছে ইসরায়েল। তবে সেখানে হামাসের সঙ্গে পেরে উঠছে না দখলদার বাহিনী। হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম বিগ্রেড জানিয়েছে যে, স্থল অভিযানের সময় গত ৭২ ঘণ্টায় ইসরায়েলি ৬০টি সামরিক যান ধ্বংস করেছে তারা।

একটি রেকর্ড করা বার্তায় আল-কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবায়দা বলেছেন যে, টার্গেট করা ইসরায়েলি সামরিক যানগুলোকে ধ্বংসের জন্য গত তিন দিনে দশটি সেনাবাহী যান হামলায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, গাজা উপত্যকার বেশ কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। খবর আনাদুলু এজেন্সির।

ইসরায়েলি মিডিয়া অনুসারে, ২৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি স্থল অভিযান শুরুর পর থেকে অন্তত ৬৬ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসের আন্তঃসীমান্ত আক্রমণের পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় হাসপাতাল, বাসস্থান, মসজিদ এবং গির্জাসহ বিভিন্ন স্থানে অবিরাম বিমান ও স্থল আক্রমণ শুরু করেছে।

ইসরায়েলের নির্বিচারে হামলায় গাজায় সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি শিশু এবং সাড়ে তিন হাজারের বেশি নারী।

এদিকে জানা গেছে, দীর্ঘ দেড় মাস ধরে গাজায় হামলা চালানোর পর হামাসের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল।




চুরি যাওয়া ৪২ রাউন্ড গুলিসহ দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে চাঞ্চল্যকর চুরি হওয়া অস্ত্র ও গুলিসহ বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম পিপিএম- বিপিএম জানান, গত ৫ নভেম্বর হতে ১৯ নভেম্বর এ সময়ের মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা চোরদল শহরের আরামবাগ এলাকায় অব. কাস্টমস অফিসার এ.কে এম কবির উদ্দিনের (৭২) বসত ঘরের পেছনের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে এবং স্টিলের আলমারি ভেঙে লাইসেন্সকৃত পিস্তল ও শর্টগানসহ ঘরে রক্ষিত বিপুল পরিমানে মালামাল চুরি করে। যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত, আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের তৎপর হয়।

পরে পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনা ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ নভেম্বর রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সাজেদুল ইসলাম সজলের নেতৃত্বে পুলিশের একট দল রাতব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে আরামবাগ এলাকা হতে চুরি হওয়া অস্ত্র ও মালামালসহ মো. মনিরুজ্জামানকে (৪২) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

উল্লেখ্য, বাদী অবসরপ্রাপ্ত কাস্টমস অফিসার এ.কে এম কবির উদ্দিন ৫ নভেম্বর বিকেল ৪ টায় ডাক্তার দেখানোর জন্য তার স্ত্রী নাসরীন সুলতানাকে নিয়ে ঢাকাতে যায়। বাসায় কেউ না থাকায় তিনি তার বাসা তালাবদ্ধ করে রেখে যায়। এ সুযোগে একই এলাকার চোর মুন্না ১৮ নভেম্বর রাতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।




মাছের গায়ে ‘আল্লাহু’ লেখা দেখতে জনতার ভিড়

অনলাইন ডেস্ক : কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার একটি পুকুর থেকে তোলা মাছের মধ্যে একটি মাছের গায়ে ‘আল্লাহু’ লেখা দেখা গেছে। মাছটি দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করছে সেখানে।

রোববার (১৯ নভেম্বর) সকালে মাছের গায়ে ‘আল্লাহু’ লেখা কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে রোববার সকালে উপজেলার চাকিরপশা ইউনিয়নের তালুক নাগকাটি গ্রামের রফিকুল ইসলাম নামের একজনের পুকুরে মাছটি ধরা পরে।

স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ইসলাম বিজিবিতে চাকরি করেন। সকালে তার স্ত্রীকে মাছ দিয়ে যান তার ভাই। মাছ কাটতে গিয়ে দেখেন মাছের গায়ে ‘আল্লাহু’ লেখা। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্যন্য এলাকার মানুষজন ভিড় করছে মাছটি এক নজর দেখার জন্যে।

রফিকুল ইসলামের স্ত্রী নুরেজা বেগম বলেন, আমাদের পুকুরে আমার জ্যাটাতো ভাই মাছ চাষ করতো। সে মাছ তুলে সকালে বাড়িতে দিয়ে গেছে। আমি মাছ কাটতে গিয়ে দেখি মাছের গায়ে ‘আল্লাহু’ লেখা। পরে আর মাছটি কাটিনি। মাছটি মাদরাসার হুজুর নিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ইসলাম বিজিবিতে চাকরি করেন। সকালে তার স্ত্রীকে মাছ দিয়ে যান তার ভাই। মাছ কাটতে গিয়ে দেখেন মাছের গায়ে ‘আল্লাহু’ লেখা। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্যন্য এলাকার মানুষজন ভিড় করছে মাছটি এক নজর দেখার জন্যে।

রফিকুল ইসলামের স্ত্রী নুরেজা বেগম বলেন, আমাদের পুকুরে আমার জ্যাটাতো ভাই মাছ চাষ করতো। সে মাছ তুলে সকালে বাড়িতে দিয়ে গেছে। আমি মাছ কাটতে গিয়ে দেখি মাছের গায়ে ‘আল্লাহু’ লেখা। পরে আর মাছটি কাটিনি। মাছটি মাদরাসার হুজুর নিয়ে গেছে।

কুড়িগ্রামের আল্লামা ফজলুল করীম (রহ:) জামিয়া ইসলামীয়া মাদরাসার মুফতি মো. আল আমিন বলেন, দেখেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অনেক কিছু সৃষ্টি করেছেন। দেখবেন মাঝেমধ্যেই গাছের মধ্যেও আল্লাহু লেখা দেখা যায়। আজ যেমন মাছের গায়ে আল্লাহু লেখা দেখা গেলো সবই আল্লাহ পাকের নিদর্শন।




চার মাসেই কোরআনে হাফেজ ৯ বছরের সাইফ

অনলাইন ডেস্ক : মাত্র ১২৮ দিনে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে তাঁক লাগিয়ে দিয়েছে সাইফ মাহমুদ নামে ৯ বছর বয়সী এক শিশু। সবাই তাকে এখন হাফেজ সাইফ বলেই ডাকে।

সাইফ কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলাল সাতবাড়িয়ার মাদরাসা দারুল উলূম আল ইসলামিয়ার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। সে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের প্রবাসী আব্দুল্লাহ মাহমুদের ছেলে।

৯ বছর বয়সে চার মাস ৮ দিনে পবিত্র কোরআন শরীফ মুখস্থ করার এই কৃতিত্বে খুশি বাবা-মা, শিক্ষক ও স্বজনরা। তাদের আশা, সাইফ ইসলামী ব্যক্তিত্ব হয়ে দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবে।

তার ওস্তাদ (শিক্ষক) হাফেজ মাসুদুর রহমান বলেন, এমন ছাত্র আমি এর আগে পাইনি। সে প্রতিদিন এসে জিজ্ঞেস করতো কত পৃষ্ঠা পড়বে।

আমি বলে দিতাম। একটা সময় বাড়াতে বাড়াতে ৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়তে বলেছি সে তাও শেষ করতে সক্ষম হয়েছে। এমন অসাধারণ মেধাবী ছাত্র পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।
এ সময় হাফেজ মাসুদুর রহমান আরো বলেন, তার খেলাধুলা ও দুষ্টামিতে তেমন মন ছিল না।

দুপুরে সকল শিক্ষার্থীরা যখন ঘুমাতো সেও ঘুমাতো। কিন্তু সবার আড়ালে কখন সে ঘুম থেকে উঠে আবার পড়া শুরু করতো তা বুঝতাম না। এভাবে সে অন্যসব ছাত্রের চেয়ে অনেক এগিয়ে যায়।

মাদরাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) হাফেজ মাওলানা মুফতি এনামুল হক বলেন, প্রথমে যখন তাকে নিয়ে এসেছিল তার পরিবার আমি সোজা নিষেধ করেছি। কারণ এত ছোট বাচ্চা একা থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু তখনই এই বাচ্চার আগ্রহ ছিল। সে ভর্তি হয়ে এখানে থাকবে বলে জানায়। এরপর আমিও সম্মতি দেই। সে তার গ্রুপের অন্য সবার চেয়ে ছোট। সাধারণত তিন বছর লাগে হাফেজ হতে। মেধাবী কিছু ছাত্র এক বছর বা তার কম সময়ে শেষ করে ফেলে।

কিন্তু হাফেজ সাইফ মাহমুদ মাত্র ১২৮ দিনে (৪ মাস ৮ দিন) হিফজুল কোরআন সম্পন্ন করেছে। তার মতো ছোট্ট একটি শিশু এত অল্প সময়ে কোরআনের হাফেজ হওয়ায় আমরা বিস্মিত ও উচ্ছ্বসিত। আমরা শুধু তার কৃতিত্বের জন্য আলাদা সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করব। যাতে অন্য শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত হয়।

সাইফের বাবা আরব আমিরাত প্রবাসী আব্দুল্লাহ মাহমুদ বলেন, আমার এক ছেলে এক মেয়ে। সাইফ আমাদের বড় সন্তান। মাত্র ৯ বছর বয়সে অল্প সময়ে পূর্ণ কোরআন মুখস্থের বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেছে। এজন্য আল্লাহর নিকট শুকরিয়া জানাই। আমি আবেগাপ্লুত। পাশাপাশি মাদরাসার কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সাইফ যেন ইসলাম সম্পর্কে জেনে আলোকিত মানুষ হতে পারে সেজন্য জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।




আজ পুরুষ দিবস

১৯ নভেম্বর বিশ্ব পুরুষ দিবস। বিশ্বব্যাপী লিঙ্গভিত্তিক সমতা, বালক ও পুরুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রধান উপলক্ষ হিসেবে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। যদিও শুরুতে পুরুষ দিবস পালনে ২৩ ফেব্রুয়ারি দিনটি ঠিক হয়েছিল। কিন্তু আগে থেকে এ দিনটি ‘রেড আর্মি ও নেভি ডে’র জন্য নির্ধারণ করা ফেলেছিল রাশিয়া। তাই পরে ১৯ নভেম্বর পুরুষ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১৯২২ সাল। এর কয়েক বছর আগেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে। সেই যুদ্ধে নিহত সেনাদের শ্রদ্ধা জানাতে এবং পুরুষ জাতিকে উদ্বুদ্ধ করতে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে ‘রেড আর্মি অ্যান্ড নেভি ডে’ পালন করা হতো। সমাজে পুরুষদের বীরত্ব আর ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়েই মূলত দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

দিবসটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। বালক, কিশোর ও পুরুষদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক প্রচারণা, নারী-পুরুষ সমতার প্রচার, পুরুষদের মধ্যে ইতিবাচক আদর্শ চরিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরা, পুরুষ ও বালকদের নিয়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সংস্কার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা, পুরুষ ও বালকদের অর্জন ও অবদানকে উদযাপন করা। সমাজ, পরিবার, বিবাহ ও শিশু যত্নের ক্ষেত্রে পুরুষদের অবদানকে তুলে ধরাও এই দিবসের আরেকটি লক্ষ্য।

বিশ্বজুড়ে নানাভাবে পুরুষ দিবস পালনের রেওয়াজ রয়েছে। প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে দিবসটি পালন করা হয়। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কানাডা, ভারত, পাকিস্তান, ক্রোয়েশিয়া, জ্যামাইকা, কিউবা, স্কটল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মাল্টা, কানাডা, ডেনমার্ক, নরওয়ে, অস্ট্রিয়া, ইউক্রেন ইত্যাদি।

এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি আনার পেছনে যার সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে তিনি ক্রিনিদাদ ও টোবাগোর বাসিন্দা জেরোমি টিলুকসিংহ। তিনি দিবসটির স্বীকৃতির জন্য তার পিতার জন্মদিন ১৯ নভেম্বরকে বেছে নেন। আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবসের পেছনে ইউনেসকোরও পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। দিনটির কারণে নভেম্বর মাসকে ‘পুরুষদের মাস’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়।

সূত্র: ন্যাশনাল টুডে




কালাজ্বর নির্মূলে বিশ্বে প্রথম স্বীকৃতি পেলো বাংলাদেশ

বরিশাল অফিস: সিভিল সার্জন ডাঃ মারিয়া হাসান জানান, কালাজ্বর নির্মূলে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশই বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা প্রথম কালাজ্বর নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি আজ জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ের  সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় তিনি একথা জানান।

এসময় সকল অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি অফিসের আশেপাশে সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে পুলিশকে খবর দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। তার সাথে নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচনের দায়িত্ব পালনসহ অন্যান্য কাজে সহযোগিতা করবেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ খালেদ বিন অলীদ জানান, বরিশাল নগরের সাতটি খালের খননসহ উন্নয়ন কাজ আগামী সপ্তাহে শুরু হবে।

সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানান, আগামী শিক্ষাবছরের জন্য সন্তোষজনক বই পাওয়া গেছে যা চাহিদার প্রায় ৯৪ শতাংশ।

এসময় পুলিশ কমিশনার মোঃ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনদীপ ঘরাই ও ইউএনওসহ বিভিন্ন দপ্তর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।




দশমিনায় ঝড়ে পড়া গাছ কাটতে গিয়ে চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে হেলে পড়া গাছ কাটতে গিয়ে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ সড়কের সোনালী ব্যাংকের পেছনে মুসলিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দশমিনা থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার।

নিহত নাসির হাওলাদার (৪৫) উপজেলা সদরের বেগম আরেফাতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার ঝড়ে মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা ভ্যানচালক মো. হাদি প্যাদার বসতঘরের উপর তার প্রতিবেশীর একটি রেইনট্রি গাছ হেলে পড়ে। সকালে গাছটি কাটতে ওঠেন নাসির। কাটার এক পর্যায়ে রেইনট্রি গাছটি সরে দিয়ে পাশের নারিকেল গাছের উপর পড়লে মাঝে চাপা পড়েন তিনি।

খবর পেয়ে দশমিনা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ থেকে নাসিরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

গাছ থেকে উদ্ধারের আগেই ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান দশমিনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে জানান ওসি আনোয়ার।




বাউফলে জমি বিক্রি না করায় ৩ মাস ধরে ঘর ছাড়া জেলে দম্পতি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে নান্নু প্যাদা (৪২) ও ইয়ানুর বেগম (৩৫) দম্পতির সাথে। নান্নু প্যাদা পেশায় একজন জেলে।

জানা গেছে, নান্নু ও ইয়ানুর দম্পতি প্রায় ১২ বছর আছে ২৬ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছে। তার আশে পাশের জমির মালিক হল এলাকার প্রভাবশালী দিদারুল আলম টুকু। দিদারুল অনেক বছর যাবত জেলে দম্পতিকে ভয় দেখিয়ে আসছে তার কাছে জমি বিক্রি করার জন্য। কিন্তু নান্নু ও ইয়ানুর জমি বিক্রি করতে রাজি না। এর ফলে দিদারুল আলম তার নিজ জমির চার পাশে তার কাঁটার বেড়া দিলে জেলে দম্পতির হাটার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। তার পরেও জেলে দম্পতি জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়াতে তাদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়।

সেই থেকে প্রাণের ভয়ে ৩ মাসের বেশি সময় ধরে নিজ বাড়িতে না গিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে নান্নু ও ইয়ানুর দম্পতি। শেষে নান্নু শশুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে ।

ভুক্তভোগি নান্নু প্যাদা বলেন, তাদের ক্ষমতা আছে দেইখা মোগো মতো গরিবের কথা কেউ শুনে না। অনেক বার ইউএন, চেয়ারম্যান, মেম্বার এর কাছে বিচার এর জন্য গেলেও তারা কোন বিচার করে নাই। এ জন্য মাইর খাইয়া প্রাণে বাচঁতে নিজের ঘর থুইয়া শশুরের বাড়ি আশ্রয় নিছি।

ভুক্তভোগি ইয়ানুর বেগম বলেন, খাইয়া না খাইয়া মাছ ধরে বেইচ্চা টাকা দিয়া জমি কিন্না বাড়ি করছি। সেই জমি জোর করে কিন্না নিতে চায়। মোরা জমি বেচতে রাজি না হওয়াতে দিদারুল আলম তার জমির চাইর পাশে তারকাটাঁর বেড়া দিয়া মোগো হাটাঁর রাস্তা বন্ধ কইরা দেয়। এতেও মোরা জমি বেচতে রাজি হই নাই। হের জন্য উনি আমাগো মাইরা বাড়ি থেকে বাইর কইরা দিছে।

অভিযুক্ত দিদারুল আলম টুকু বলেন, তাদের মার-ধর করার যে অভিযোগ সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের পাশের জমিগুলো আমার হওয়াতে আমার জমিতে বেড়া দিয়েছি।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: বশির গাজী বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েই সাথে সাথে এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। এসিল্যান্ড নিজে গিয়ে ঘটনা তদন্ত করেছে। খুব শীগ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।




হাসপাতাল মর্গের একমাত্র ফ্রিজ বিকল, বিপাকে মৃতদের স্বজনেরা

বরিশাল অফিস: দেড় মাসের বেশি সময় ধরে বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের একমাত্র ফ্রিজটি বিকল। এতে মরদেহ নিয়ে বিপাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মৃতদের স্বজনেরা। ফ্রিজ নষ্ট, তাই মরদেহ সংরক্ষণ করা হচ্ছে কেনা বরফ দিয়ে। মাস দেড়েক ধরে এই অবস্থা বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল মর্গে। বরফের খরচ টানতে হচ্ছে স্বজনদের। আর অজ্ঞাতপরিচয়দের মরদেহ পাঠানো হচ্ছে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামে।

নিহতের এক স্বজন বলেন, ‘আত্মীয়া আত্মহত্যা করার পর এই মর্গে মরদেহ আনার পর দেখা যায় মরচ্যুয়ারির ফ্রিজ নষ্ট। গাটের পয়শা খরচ করে মরদেহ টিকিয়ে রাখছি। ২৪ ঘণ্টায়ও মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এখন মরদেহে পচন ধরলে আমরা কোথায় যাব। কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখা।

২০০৭ সালে হাসপাতাল মর্গে সংযোজন করা হয় দুটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ফ্রিজ। সে সময়ই একটি ফ্রিজ অচল হয়ে যায়। তখন থেকে একটা ফ্রিজই ভরসা, যেখানে একসঙ্গে ছয়টি মরদেহ সংরক্ষণ করা যায়। বেশ কয়েকবার এ ফ্রিজটি বিকল হয়। সবশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে অচল একমাত্র ফ্রিজটিও।

শের-ই মেডিকেল মর্গ তত্ত্বাবধায়ক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ফ্রিজটির কম্প্রেসার গ্যাসসহ নানা সমস্যা হয়েছে। এ ছাড়া পুরনো বৈদ্যুতিক লাইনেও সমস্যা রয়েছে। এ জন্য বার বার এটি নষ্ট হয়ে যায়। ফ্রিজ এবং বৈদ্যুতিক লাইন দুটোই পুরনো হওয়াতে মাঝে মধ্যেই এমন সমস্যা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শের-ই বাংলা মেডিকেলের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আবুল কালাম বলেন, ‘আমি মরচ্যুয়ারির দায়িত্ব নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। মরদেহের স্বজনদের নানা কথা শুনতে হয়। বর্তমান মেশিনটি দিয়ে কোনোভাবেই সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। কেননা এই ফ্রিজটি বছরে তিন থেকে চার বার অচল হয়ে যাচ্ছে। এটির তাপমাত্রা ধারণক্ষমতা একেবারেই নড়বড়ে। বেশিক্ষণ মরদেহে সংরক্ষণ করতে গেলেই তাতে পচন ধরছে।’

সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই মর্গের দুটি ফ্রিজে ১২টি মরদেহ সংরক্ষণের কথা ছিল। কিন্তু একটি ফ্রিজ সচল থাকায় এতদিন আমরা ছয়টি মরদেহ সংরক্ষণ করতে পারতাম। আমরা নতুন দুটি ফ্রিজ চেয়ে চিঠি দিয়েছি। এটি পাওয়া গেলে মরদেহ সংরক্ষণ সেবা আরও ভালো হবে। বর্তমানে অচল ফ্রিজ সচল করতে ঢাকা থেকে লোক আসছে।’