মৃত স্বামীর শুক্রাণু ব্যবহার করে মা হলেন ৪৮ বছর বয়সী নারী

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মৃত স্বামীর সংরক্ষিত শুক্রাণু ব্যবহার করে ‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ (আইভিএফ) পদ্ধতিতে ৪৮ বছর বয়সে সন্তানের মা হয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের মুরারইয়ের প্রত্যন্ত এলাকার এক নারী। সন্তান সুস্থ থাকলেও ওই নারী এখনও হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে রয়েছেন। ১১ ডিসেম্বর মা হয়েছেন তিনি।

তবে এই মা হওয়ার লড়াইয়ে ওই নারী পাশে পাননি পরিবারের কাউকে। দু’বছর আগে কোভিডে স্বামীকে হারিয়েছিলেন তিনি। স্বামীর রেখে যাওয়া মুদি দোকানের কর্মচারী আর তার মা খেয়াল রাখছেন ওই নারীর।

ওই নারীর আইনজীবী বলেন, স্বামী বেঁচে থাকাকালীন ওই ভদ্রমহিলার সন্তান ধারণ নিয়ে সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিন আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তান লাভের চেষ্টা চালান তারা। তখনই কলকাতার একটি পরীক্ষাগারে স্বামীর শুক্রাণু সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে কোভিডে তার স্বামী মারা যান। সন্তান কামনায় মৃত স্বামীর শুক্রাণু ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন আমার মক্কেল। এ ক্ষেত্রে আইনগত দিক খতিয়ে দেখতে হয়েছিল।

যে হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ওই নারী সেই হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, ৪৮ বছর বয়সে সাধারণত নারীদের মেনোপজ শুরু হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে মা হওয়া যায় না। এই নারীর রক্তচাপও বেশি ছিল। উনি ডায়াবেটিকও। সব মিলিয়ে তার গর্ভবতী হওয়া যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আইভিএফ পদ্ধতিতে ওর পেটে যমজ সন্তান এসেছিল। একটি ছ’সপ্তাহে মারা যায়। যে বেঁচে ছিল, তার সংক্রমণ হতে পারতো। বয়সের কারণেও স্বাভাবিক প্রসব মুশকিল ছিল। ১১ তারিখ অস্ত্রোপচার করে আড়াই কেজি ওজনের পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।




ভোক্তা না কেনায় গুদামে নষ্ট হচ্ছে পেঁয়াজ

চন্দ্রদীপ নিউজ : এবার পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে সেই শক্তিশালী আড়তদার সিন্ডিকেট। তাদের কারসাজিতে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২০০-২৪০ টাকা ঠেকানো হয়, যা ১১০-১৩০ টাকা ছিল। এবারই প্রথম নীরব প্রতিবাদ হিসাবে বাড়তি দাম দিয়ে পেঁয়াজ কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন ভোক্তা। ফলে পণ্যটি না কেনায় আড়ত থেকে সরবরাহ কমে যায়।অনেক গুদামেই নষ্ট হচ্ছে পেঁয়াজ। বস্তাবন্দি থাকায় পচন ধরেছে পেঁয়াজে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর থেকেই বাজারে নৈরাজ্য চলছে। তবে এবারই প্রথম ভোক্তারা এক হয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেঁয়াজ কেনা থেকে বিরত থাকতে প্রচারণা চালানো হয়েছে। একই সাথে সরকারের পক্ষ থেকেও নেয়া হয় নানা উদ্যোগ। ফলে ক্রেতারা বাড়তি দরে পেঁয়াজ কেনা থেকে বিরত ছিলেন। অতিপ্রয়োজন না হলে কেউ পেঁয়াজ কেনেননি। পাশাপাশি দেশি নতুন পেঁয়াজ পুরোদমে বাজারে আসতে শুরু করেছে। ফলে দিশেহারা হয়ে সেই শক্তিশালী সিন্ডিকেট পেঁয়াজের দাম কমাতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৮০-২০০ টাকা। একদিন আগে ২২০-২৪০ টাকা ছিল। তবে বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ১৩০ টাকা। পাশাপাশি আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বাজার খুব কম। তবে যেসব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা, যা একদিন আগে ২০০ টাকা ছিল। আর বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছিল ১১০ টাকা। এছাড়া রাজধানীর খুচরা বাজারে পাতাসহ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি। মুড়ি কাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৩০-১৪০ টাকা।




খেজুরের কাঁচা রস পানে হতে পারে স্থায়ী পঙ্গুত্ব

অনলাইন ডেস্ক : শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে হিমশীতল কাঁচা খেজুরের রস পান বাংলার চিরচেনা একটি ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য ধারণ করে গ্রামের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড়বড় শহরগুলোতেও নানা আয়োজনে পান করা হয় খেজুরের রস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও আয়োজন করা হয় রস উৎসব। তবে খেজুরের কাঁচা রস পান করাকে অত্যন্ত বিপদজনক বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এতে মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকিসহ স্থায়ী পঙ্গুত্বের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে খেজুরের কাঁচা রস পান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এমন পরামর্শের কারণ নিপাহ ভাইরাস। এ ভাইরাসের বাহক টেরোপাস (ফল আহারি) গোত্রের বাদুড়। বাদুড় থেকে মানুষের দেহে এই রোগের সংক্রমণ হয়। মানুষের মধ্যে এ সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয় মালয়েশিয়ায় ১৯৯৮ সালে, যা শূকর থেকে মানুষের সংক্রমিত হয়েছিল। তবে শূকরের দেহে এ রোগের সংক্রমণ হয়েছিল বাদুড় থেকে। বাংলাদেশে ২০০১ সালে মেহেরপুর জেলায় নিপাহ ভাইরাসের প্রথম প্রাদুর্ভাব চিহ্নিত হয়। এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই বাংলাদেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশে পাওয়া সংক্রমণের সব ঘটনায় রোগীদের খেজুরের কাঁচা রস পানের ইতিহাস ছিল। এই রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুহার প্রায় ৭০ শতাংশ। আর প্রাণে বেঁচে গেলেও দীর্ঘমেয়াদী স্নায়বিক রোগে ভুগতে হয়।

বাংলাদেশে শীত মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সাধারণত খেজুরের কাঁচা রস পানের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়। চলতি বছর (২০২৩) এ পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১০ জন। রোগী অনুপাতে মৃত্যুহার ৭১ দশমিক ৪২ শতাংশ। যা গত সাত বছরে সর্বোচ্চ। নতুন করে মারা যাওয়ার মধ্যে একজন নবজাতকও রয়েছেন। গর্ভাবস্থায় নবজাতকের মা নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। জন্মের পর শিশুটিরও নিপাহ শনাক্ত হয়। এতে মায়ের জীবন রক্ষা পেলেও বাঁচানো যায়নি নবজাতককে। আর আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৫ জন পাওয়া গেছে নওগাঁ জেলায়। এরপরই রয়েছে রাজবাড়ী জেলা, সেখানে ৪ জনের দেহে নিপাহ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া চলতি বছর প্রথমবারের মতো নরসিংদীতে নিপাহ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) দেওয়া তথ্য মতে, দেশে নিপাহর সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে ২০০৪ সালে। ওই বছর মোট ৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছিল, মারা যান ৫০ জন। ২০১১ সালে আক্রান্ত হয় ৪৫ জন, যার মধ্যে ৩৭ জন মারা যান। ২০০২, ২০০৬ ও ২০১৬ সালে আক্রান্ত ও মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বাংলাদেশের বাইরে সাম্প্রতিককালে ভারতের কেরালাতে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। ২০০১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভারতে ১০১ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৪ জন। রোগী অনুপাতে মৃত্যুহার প্রায় ৭০ শতাংশ।




বরিশালে জেঁকে বসেছে শীত

বরিশাল অফিস:: সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবে দেশে বৃষ্টিপাত হয়। এই ঘূর্ণিঝড়টি চলে যাওয়ার পর সারা দেশে শীত শীত অনুভব শুরু হয়েছে।

দু-য়েক দিনের মধ্যে আরও কমে যেতে পারে রাতের তাপমাত্রাও। তবে এরইমধ্যে উত্তরে জেঁকে বসেছে শীত। গতকাল সোমবার (১১ ডিসেম্বর) বরিশালে ভোর থেকে ঘন কুয়াশার পাশাপাশি ছিলো হিমেল হাওয়া।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শুরুতেই শীত নামার কথা থাকলেও ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবে তা দেরি হয়েছে। মেঘ পুরোপুরি কেটে যাওয়ার পর বেড়েছে শীতের তীব্রতা।

দু-য়েক দিনের মধ্যেই তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এ ছাড়া ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে দেশের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বর্ধিত ৫ দিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের দক্ষিনাঞ্চলে ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। শীত ও ঘন কুয়াশায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি কম দেখা গেছে।

একই সাথে কন কনে শীতে দুর্ভোগে পড়েছেন এ জেলার নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষেরা।বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক বশির আহমেদ জানান, সোমবার সকাল ৬টায় বরিশাল জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে সকাল ৯টায় একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে রাতে ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রির মধ্যে তাপমাত্রা উঠানামা করতে পারে। ফলে এসময় শীতের দাপট আরও বেড়ে যাবে।

আগামীতে তাপমাত্রা আরও কমে আসবে বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের দক্ষিনাঞ্চলে ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং জেলার অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। আর দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।




বরিশাল নগরীতে ৬৯ হাজার শিশুদের ভিটামিন “এ” ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

বরিশাল অফিস:: জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যম্পেইন উপলক্ষে আজ দুপুরে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে সভা কক্ষে সাংবাদিকদের অবহিতকরন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিসিসি’র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: খন্দকার মনজুরুল ইসলাম (শুভ্র), মেডিকেল অফিসার ডা: সজল পান্ডে, জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান আল রোমেল।

১২ ডিসেম্বর দেশেব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্যাপিত হবে। আগামীকাল সকাল ১০ টায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ নগরীর আলেকান্দায় এলাকায় কিশোর মজলিস ক্লাবে উদ্বোধন করবেন।

২২০ টি কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের ভিটামিন “এ” ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তাছাড়া ভ্রাম্যমান জনগোষ্ঠির জন্য বাসষ্টান্ড, লঞ্চঘাট এবং ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে কেন্দ্র থাকবে। এছাড়াও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ, আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসে ডেলিভারী প্রকল্প, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এফপিএবি, সূর্যের হাসি ক্লিনিক, ব্র্যাক, চন্দ্র দ্বীপ, উদয়ন পাঠাগার, সিডিসি, গার্লস গাইড, ওআরডিপি,

সদর হাসপাতাল, শের-ই-বাংল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ওডিপি, মেরি স্টোপস ক্লিনিক, সেন্ট এ্যানেস মেডিকেল সেন্টার সহ মোট ১৬ টি প্রতিষ্ঠানের ৫০০ জন কর্মী উক্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্র সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন এ বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সের ৯০০০ জন শিশুকে এবং ১২ মাস থেকে থেকে ৫৯ মাস বয়সের ৬০,০০০ জন শিশুকে ভিটামিন “এ” ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।

এই ক্যাম্পেইনে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বাড়ী-বাড়ী পরিদর্শনের মাধ্যমে ভিটামিন “এ” এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে না। ভিটামিন এ ক্যাপসুল শিশুর জন্য সম্পূর্ন নিরাপদ। তবে ভরা পেটে খাওয়া ভাল।

যদি কোন শিশু গত ৪ মাসের মধ্যে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খেয়ে থাকে সেই শিশুকে ক্যাম্পেইনে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। প্রতিটি কেন্দ্রে ২ জন করে কর্মী থাকবেন। ক্যাম্পেইন কার্যক্রম অনলাইনে সুপারভিশন হবে।




পটুয়াখালীর ৩ বন্ধু বানালেন হেলিকপ্টার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): আরিফ, মেহেদী ও আল-আমিন সম্পর্কে এরা বন্ধু। এদের মধ্যে মেহেদী ও আরিফ মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন গ্রামের একটি ওয়ার্কশপে। আর আল-আমিন ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় কিচেন শেফ হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই তিন বন্ধু দীর্ঘ চার বছর ধরে দেশে ব্যতিক্রমী কিছু করার চিন্তা করছে। প্রথমে এরা এরোপ্লেন তৈরির কথা ভাবলেও অর্থ সঙ্কট থাকায় সেটি আর করা হয়নি। তবে এরা থেমে থাকেনি। নিয়েছে একটি হেলিকপ্টার তৈরির উদ্যোগ।

শুরুর দিকে তাদের এই কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়রা হাস্যরস করলেও পরে পেয়েছে বাহবা। আর পরিবারের পক্ষ থেকে ছিল দ্বিমত। কিন্তু এখন উদ্যোক্তা তিন বন্ধুর এই হেলিকপ্টারটি দর্শনার্থীদের কাছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের কাজীর হাট বাজারে ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি মেহেদী হাসান ও তার দুই বন্ধু মিলে নিজ মেধা ও উদ্যোগে তৈরি করেছেন একটি হেলিকপ্টার। ছোট বেলা থেকে দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া করতে না পারা মেহেদী কাজ শুরু করেন ওয়ার্কশপে। তখন থেকেই ভিন্ন কিছু করার চিন্তা আসে মাথায়। আর ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা ও বন্ধুদের সহযোগিতায় বানিয়ে ফেলেন হেলিকপ্টারটি। আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়া অজোপাড়া গায়ে লেখাপড়া না জানা ছেলেরা কিভাবে এমন কাজটি করলেন এ নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই সাধারণ মানুষের।

হেলিকপ্টার বানানোর খবর চার দিকে ছড়িয়ে পাড়লে প্রতিদিন দূর-দূরন্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসেন হেলিকপ্টারটি এক নজর দেখার জন্য। এবং সবার আগে চেষ্টা করেন ফ্রেমে বন্দী করে রাখতে।

জানা গেছে, হেলিকপ্টার তৈরিতে প্রায় সাত মাস সময় লেগেছে। পুরো কাজটি শেষ করতে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রথমে শখের জন্য বানালেও এখন বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত করতে চান। তিন বন্ধু মিলে হেলিকপ্টারটিতে ভ্রাম্যমাণ রেস্তোরাঁ চালু করবেন বলে জানান তারা।

কাজীরহাট বাজারের জব্বার প্যাদা বলেন, প্রথমে আমরা সবাই বলেছি ও এত কষ্ট করে টাকা উপার্জন করছে আর সেই টাকা দিয়ে কি তৈরি করছে এটি। টাকাগুলো তো নষ্ট করছে। পরে দেখি তিন বন্ধু একটি আসল হেলিকপ্টার বানিয়ে ফেলল।

দর্শনার্থীরা বলেন, দেশের সর্বদক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীতেও হেলিকপ্টার বানানো হচ্ছে এটা অনেকটা অবিশ্বাসযোগ্য। দেখতে এসে বাস্তব চিত্র দেখলাম। তবে আশ্চর্য লাগল তিন বন্ধুর কেউ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোয়নি। অথচ তারা হুবহু হেলিকপ্টার তৈরি করে সাড়া ফেলেছে।

উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান বলেন, ছোট বেলা থেকেই ভিন্ন কিছু করার চিন্তা মাথায় আসে। আর তা থেকেই উদ্যোগ নেই হেলিকপ্টার বানানোর। প্রথমে দেখে অনেকেই হাসাহাসি ও ঠাট্টা করত যে আমি পাগল হয়ে গেছি টাকা নষ্ট করে কি তৈরি করছি। এরপর অর্থের অভাবে বেশকিছু দিন কাজ বন্ধ ছিল। পরে আমার দুই বন্ধু আরিফ ও আল আমিনের সহায়তা নিয়ে তিন বন্ধু বানিয়ে ফেললাম এই হেলিকপ্টার। তবে প্রথমে বানাতে চেয়েছিলাম প্লেন। পরে খরচ বেশি হবে ভেবে হেলিকপ্টার বানানো শুরু করলাম। বর্তমানে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। মেহেদী আরো জানান, এটি তৈরিতে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তাই হেলিকপ্টারে রেস্তোরাঁ দিয়ে ৬৪ জেলায় ঘুরতে চান তারা।

তিন বন্ধু আরো জানান, সব কিছুর ঊর্ধ্বে হচ্ছে ইচ্ছা শক্তি। যদি কারও সৎ ইচ্ছা থাকে তাহলে সব কিছু করা সম্ভব। তার এই প্রচেষ্টা দেখে বর্তমান সমাজের যুবকেরা আরো উদ্যোগী হয়ে নতুন কিছু করার উৎসাহী হবে- এমনটাই আশা করছেন।




বরিশালে আন্তর্জাতিক দূর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত

বরিশাল অফিস :: “উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তার লক্ষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ” এই স্লোগান কে সামনে রেখে বরিশালে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস।

বরিশাল জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা দুর্নীতি কমিটি ও সনাকের আয়োজনে শনিবার সকালে নগরীর সার্কিট হাউজের সামনে মানববন্ধন শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বরিশাল বিভাগীয় দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ আব্দুল গাফফার এর সভাপতিত্বে উক্ত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ জামিল হাসান, জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর শাহ্ সাজেদা, সনাকের সভাপতি অধ্যক্ষ গাজী জাহিদ হোসেন সহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে কর্মকর্তাবৃন্দ।




পটুয়াখালী থেকে লঞ্চযোগে পালিয়েছিলো পাকবাহিনী

 বরিশাল অফিস :: একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনে কোণঠাসা হয়ে লঞ্চযোগে পালিয়ে যায় পাকবাহিনী। হানাদার মুক্ত হয় পটুয়াখালী। পৌর শহরে শহীদ আলাউদ্দিন শিশুপার্কে পতাকা উড়িয়ে বিজয় উল্লাস করে মুুক্তিযোদ্ধারা। সে দিনটি ছিলো ৮ ডিসেম্বর।

মুক্তিযুদ্ধের সে দিনগুলোতে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় পাকহানাদার বাহিনীর অতর্কিত বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয় পটুয়াখালী। নির্বিচারে চলে গণহত্যা ও ধ্বংষযজ্ঞ। এদিকে মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়ে চোরাগুপ্তা হামলা চালাতে থাকে। পরে ১৮ নভেম্বর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টিতে পাকহানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এতে ৭ জন পাক সেনা নিহত হয়, আহত হয় আরও বেশ কয়েকজন। পরাজয় নিশ্চিত ভেবে সেখান থেকে পালিয়ে যায় পাকসেনারা। এই বিজয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল আরও বেড়ে যায়। তারা বিভিন্নস্থানে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করে। ৭ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনে কোনঠাসা হয়ে পড়ে হানাদার বাহিনী। অবস্থা বেগতিক দেখে ওই রাতেই লঞ্চযোগে পটুয়াখালী থেকে পালিয়ে যায় হানাদাররা। ৮ ডিসেম্বর মুক্ত হয় পটুয়াখালী।

পটুয়াখালী পৌর শহরের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানস কান্তি দত্ত বলেন, এখনো শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল অরক্ষিত অবস্থায় আছে। এখন লাল সবুজের কাছে প্রশ্ন এগুলো কি এভাবেই থাকবে! অপর বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ বলেন, পটুয়াখালী পৌর শহরসহ যে সকল স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান ও গণকবর আছে সেগুলো নিয়ে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। নাহলে নতুন প্রজন্মরা কিছুই জানতে পারবে না। এ সরকার মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার। আমরা আশা করছি পুরনো কবরস্থানগুলো সরক্ষিত করা হবে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে বরাদ্ধ পেলে কাজ শুরু করা যাবে।

চন্দ্রদীপ নিউজ/এসএলটি




দুমকীতে মায়ের মামলায় ছেলে কারাগারে

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): দুমকীতে নিজ মাকে অমানবিক নির্যাতনের দায়ে বয়োবৃদ্ধ মা মোসা. সমের্তবান এর দায়ের করা মামলায় ছেলে সেলিম সিকদারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার পটুয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ আলী’র আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে জামিন না মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী আল আমিন।

জানা যায়, উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটরা গ্রামের বাসিন্দা মৃত. আঃ বারেক সিকদারের স্ত্রী সমের্তবান এক সময় বড় ছেলে সেলিম সিকদারের নতুন বাড়িতে থাকতেন। জমিজমা কে কেন্দ্র করে তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হলে ছোট ছেলে আশিকুর রুম্মান ও সুমন সিকদারের কাছে পুরান বাড়িতে চলে যান। নির্যাতনের কথা এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারকে জানালেও কোন বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেন মা। তাঁর বড় ছেলে কোনো খোঁজ-খবর নেয় না, টাকা পয়সা দেয় না। উল্টো এ বছরের ২১ নভেম্বর বেলা ১২ টার দিকে তার স্ত্রী নাসিমা বেগম ও ছেলে নূরে আলম সিকদারসহ এক দল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী পুরান বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়।
এতে তিনি ও তাঁর ছোট ছেলে রুম্মান আহত হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ ঘটনায় গত ২৯ নভেম্বর মা মোসা. সমের্তবান বাদী হয়ে চীফ জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মায়ের দায়ের করা মামলায় বড় ছেলে সেলিম সিকদার আত্মসমপর্ণ করলে তার জামিন না মঞ্জুর করে মো. ইউসুফ আলী’র আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।




উন্নয়নে বদলে গেছে পার্বত্য জনপদ

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক:  বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সরকারের একটানা ১৫ বছরের মেয়াদকালীন সময়ে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে এলজিইডি বাস্তবায়ন করেছে ১৩৬৪ কোটি টাকার প্রকল্প। পাহাড়ে বর্তমান সরকারের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে বদলে গেছে এখানকার মানুষের জনজীবন। বদলে গেছে পার্বত্য জনপদ। এক সময়কার পিছিয়ে পড়া পার্বত্য জনপদ এখন উন্নয়নের দিকে অনেকটা এগিয়ে গেছে।

রাঙ্গামাটি জেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডির) অর্থায়নে ২০০৯- ২০২৩ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ১০২৬.৭৭ কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। এরমধ্যে সড়ক উন্নয়ন ও পুনর্বাসন, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, গ্রামীণ হাট বাজার/উন্নয়ন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ (কাপ্তাই), উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি যাদুঘর নির্মাণ, ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন প্রকল্প, সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্প, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের আওতায় রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলাকে সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনয়নের লক্ষ্যে ২০২১ সালে একনেক সভায় ৩৩৮ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে কাপ্তাই উপজেলা থেকে বিলাইছড়ি উপজেলা পর্যন্ত ৪০ কি.মি. সড়ক ও ১৬টি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে এই মেগা প্রকল্পটির কাজ চলমান রয়েছে। সর্বমোট ১৫ বছরে ১৩৬৪.৭৭ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এদিকে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত গত ১৫ বছরে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে এলজিইডির অর্থায়নে সড়ক যোগাযোগসহ বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এতে সড়ক উন্নয়নে ও পুনর্বাসনে ৫৮৫ কোটি ব্যয়ে ২২৫ কিমি. দৈর্ঘ্য রাস্তা নির্মাণ হয়েছে। ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে ৩৬ টি ব্রিজ/কালভার্ট (২৫২২ মিটার)। ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাঙ্গামাটি জেলার ৫টি গ্রামীণ হাট/বাজারের উন্নয়ন করা হয়েছে। ২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বরকল উপজেলায় উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি যাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পাহাড়ের অসচ্ছল ও ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৫টি ঘর। সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রাঙ্গামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১০৩টি (মসিজদ, মন্দির, বৌদ্ধ মন্দির, কবরস্থান ও শ্মশান) প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে । ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে ৩ টি। ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মিত হয়েছে ২২ টি। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটি জেলায় ৩৬০ টি বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে।

রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে-

১. জুরাছড়ি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর, বাঘাইছড়ি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর, বরকল মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর, কাপ্তাই মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর।

২. রেশম প্রযুক্তি উন্নয়ন, বিস্তার ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদনশীল বৃদ্ধিকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় এলজিইডির অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে আঞ্চলিক রেশম গবেষণা কেন্দ্র।

৩. রাঙ্গামাটির প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের হাট-বাজারের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয়েছে কিচেন মার্কেট। এই কিচেন মার্কেটগুলো হওয়ার ফলে দুর্গম এলাকার মানুষেরা সাপ্তাহিক বাজারে এসে তাদের কেনাকাটা করতে পারছেন। রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলায় নির্মিত কিচেন মার্কেটগুলো হচ্ছে- নানিয়ারচরের ঘিলাছড়ি বাজার কিচেন মার্কেট, লংগদু উপজেলার কালপাকুজ্যা বাজারে কিচেন মার্কেট, রাজস্থলী উপজেলা সদরে কিচেন মার্কেট, বাঘাইছড়ি উপজেলার মাহিল্যা বাজার কিচেন মার্কেট, কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়ার চায়েরী বাজারে কিচেন মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে।

৪. রাঙ্গামাটি সদরের আসামবস্তী-কাপ্তাই সড়ক।

রাঙ্গামাটির সদর এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে প্রায় ১২৫ কোটি উন্নয়ন হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে ৩৫টি। এরমধ্যে বিদ্যালয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ১৭টি। এরমধ্যে ১৮টি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ সম্পন্ন করতে ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৬ লাখ ২১ হাজার টাকা। এদিকে, বাকি ১৮টি বিদ্যালয়ের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭২ লাখ ৪৫ হাজার ৭০ টাকা।

অপরদিকে, ৬ কোটি ২০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন। রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় ২টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ ও মেরামত করা হয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৯৯ টাকা ব্যয়ে। রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ৮টি সড়ক উন্নয়ন ও মেরামতে ব্যয় হয়েছে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এরমধ্যে আরো ৪টি সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ৫টি সেতু নির্মাণ ও মেরামতে ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। রাঙ্গামাটি সদররের ৩টি বাসাবাড়ি মেরামত ব্যয় হয়েছে ১৫ লাখ টাকা।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা প্রকৌশলী প্রনব রায় চৌধুরী জানান, সদর উপজেলার গ্রামীণ সড়ক, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণে এলজিইডি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার কাপ্তাই-আসামবস্তী সড়কে নতুনত্বের ছোঁয়ায় এরমধ্যে পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর রাঙ্গামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ শফি জানান, বিগত ১৫ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অর্থায়নে রাঙ্গামাটির দুর্গম অঞ্চলগুলোতে রাস্তা-ঘাট, বিদ্যালয়, ব্রিজ, গ্রামীণ সড়ক, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন করেছে এলজিইডি। পার্বত্য রাঙ্গামাটি অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে পাহাড়ের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে অনেক সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে।

চন্দ্রদীপ নিউজ/এসএলটি