বরিশালে নৌকার প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সিটি মেয়র

বরিশাল অফিস :: বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতকে প্রধান উপদেষ্টা করে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠণ করা হয়েছে। এছাড়াও নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠণ করা হয়েছে।

কমিটির নেতৃবৃন্দরা ইতোমধ্যে নৌকার প্রচার-প্রচরনায় মাঠে নেমেছেন। মঙ্গলবার সকালে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন বলেন, প্রতীক পেয়েই বরিশাল-৫ আসনের নৌকার প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নৌকার পোস্টার সাটানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে নৌকার প্রার্থী নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগে নেমেছেন। ৩০টি ওয়ার্ডে একযোগে মিছিল

মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, সোমবার প্রতীক বরাদ্দের পর ওইদিন সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একযোগে নৌকার পক্ষে মিছিল করেছেন। একইসাথে ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দরা নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে উৎসবমুখর পরিবেশে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারনা শুরু করেছেন।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য অসীম দেওয়ান বলেন, প্রত্যেক ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ তুলে ধরে আবারও নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য গঠিত ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক কমিটির নেতৃবৃন্দরা কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি সবাইকে নির্বাচনী আচারনবিধি মেনে চলার জন্যও বলা হয়েছে।




প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৯ ডিসেম্বর বরিশালে আসছেন

বরিশাল অফিস :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশহিসেবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশাল যাচ্ছেন। ওইদিন বিকেল তিনটায় বরিশাল নগরীর ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু উদ্যানের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ভাষন প্রদান করবেন।

মঙ্গলবার দুপুরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার বলেন, দ্বাদশ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের উন্নয়নের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরিশাল সফরকে ঘিরে ভিন্নরকম এক উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পরেছে গোটা বিভাগজুড়ে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন বানচালের জন্য বিএনপি-জামায়াত বিশ্বমোড়লদের দাঁড় করিয়েছিলো। কিন্তু বিশ্ব মোড়লদের রক্ষচক্ষুকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জানান দিয়েছেন-বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। তাই সকল বাঁধা উপেক্ষা করে দেশ আজ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত বিশ্ব মোড়লদের কাছে ধর্ণা দিয়েও কিছু করতে না পেরে হরতাল-অবরোধের নামে গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে। এসব মানুষ পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিশ্বমোড়লরা কথা বলে না। ওইসব বিশ্ব মোড়লরা একাত্তরে বাঙালির স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলো। মানুষ পুড়িয়ে হত্যাকারী বিএনপি ও জামায়াতকে এ দেশের শান্তি প্রিয় মানুষ ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান করেছে।

বলরাম পোদ্দার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। তৃণমূল ভোটারের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোট ভিক্ষা করে আনতে হবে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে কমিটি গঠণ করতে হবে। কমিটির সবাইকে ভোটারদের হাতে পায়ে ধরে ভোট কেন্দ্রে আনতে হবে। বিশ্বমোড়লদের দেখিয়ে দিতে হবে-শেখ হাসিনার দ্বারাই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। এই নির্বাচনী সফরের খরচ আওয়ামী লীগের দলীয় তহবিল থেকে বহন করা হবে বলেও বলরাম পোদ্দার উল্লেখ করেছেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আগমনের খবরে উজ্জীবিত বরিশালের নেতাকর্মীরা। তার এ আগমনের মধ্যদিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে নৌকার পক্ষে ভোট বিপ্লব ঘটবে দাবি করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত বলেন, প্রাণের নেত্রীকে বরিশালবাসী নির্বাচনের আগ মুহুর্তে সামনে থেকে দেখবে। এর চেয়ে সুখের খবর আর কিছু হতে পারেনা। ওইদিন বঙ্গবন্ধু উদ্যানের সমাবেশে দক্ষিণাঞ্চলের লাখো লোকের সমাগম ঘটবে।

সিটি মেয়র আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বরিশালের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির সব কাজ শেষ হয়েছে। এবারে তার আগমনের মধ্যদিয়ে ভোলার গ্যাস বরিশালে আনার বিষয়ের কাজটি আরও তরান্বিত হবে। নির্বাচনের আগে তার এই আগমন দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আরও সু-সংগঠিত করবে।




প্রধানমন্ত্রীর উপহারে বদলে গেছে মানতা সম্প্রদায়ের জীবন

মো: আল আমিন পটুয়াখালী ও এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: অবশেষে নাগরিক অধিকারসহ স্থায়ী বাসস্থান পেল পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন নদীতে নৌকায় ভাসমান জনগোষ্ঠী মানতা সম্প্রদায়। মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমিসহ ঘর পেয়ে উচ্ছ্বসিত এ সম্প্রদায়ের মানুষ। মিশে যেতে চান সমাজের মুলধারায়। শিক্ষায় আলোয় আলোকিত করতে চায় নতুন প্রজন্মকে।

এ যেন এক আজব জীবনের গল্প। জলেই জন্ম-জলেই বসবাস। মৃত্যুর পর লাশ ভাসিয়ে দেয়া হয় নদী কিংবা সাগরের জলে। নিজ দেশে পরবাসী এমন এক গোষ্ঠীর নাম ‘মানতা সম্প্রদায়থ। তারপরও বেঁচে থাকার লড়াই তাদের। জন্মের পর থেকেই নৌকায় বেড়ে ওঠা। নৌকাতেই হয় বিয়ে এবং সংসার। তাদের জীবন চলে জোয়ার আর ভাটার ছন্দে। ছইওয়ালা ছোট্ট একটি ডিঙ্গি নৌকা। যে নৌকায় রয়েছে কয়েক প্রজন্মের জীবনের হাজারো গল্প। যাদের জন্ম, শৈশব, কৈশোর, যৌবন সবই নৌকাতেই।নৌকাকে নির্ভর করে নদীই জীবিকার উৎস। আবার মৃত্যু এবং সমাধি এ নদীতেই।এই হল পটুয়াখালীর নদীতে ভাসমান মানতা সম্প্রদায়। মুল ভূখন্ডে কোন স্থায়ী জমি না থাকায় নৌকা ইহল এদের মূল আবাস। মাছ শিকারের জন্য নদী থেকে নদীতে ছুটে চলা এ জন গোষ্ঠীর ছিলনা ভোটাধিকার। বঞ্চিত ছিল শিক্ষা, চিকিৎসা, সামাজিক নিরপত্তা কর্মসূচীসহ সকল নাগরিক সুবিধা থেকে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে এরই মধ্যে অনেকেই জল থেকে উঠে সুযোগ পেয়েছে ডাঙ্গায়। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তাদেরকে দেয়া হবে সব ধরনের সুযোগ। পাল্টে যাবে তাদের জীবনধারা। এ জনগোষ্ঠী পেয়েছে ভোটাধিকার। সরকারি খাসজমিতে নির্মান করে দেয়া হয়েছে মুজিবশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দৃস্টিনন্দন ঘর। পাচ্ছে চিকিৎসাসহ সামাজিক নিরপত্তা কর্মসূচীর সুবিধা।

তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছের। এরই মধ্যে মন্ত্রী পরিষদের সচিব মাহবুব হোসেন মানতা পল্লী পরিদর্শনকালে মানতা শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন করার কথা জানান, ইতিমধ্যে এই সম্প্রদায়ের ঝড়ে পড়া শিশুদের জন্য বেসরকারী একটি বোডস্কুলে শিক্ষা গ্রহণ শুরু করছে মানতা সম্প্রদায়ের শিশুরা। এতে পাল্টে যাবে তাদের জীবনধারা।

পটুয়াখালী রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য যে গৃহায়ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তার দ্বারাবাহিকতায় আমরা রাঙ্গাবালী উপজেলায় চর মোন্তাজ ইউনিয়নের মানতা সম্প্রদায়ের মধ্যে ৩০ টি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি। এবং আরো ৩০ টি ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। মোট ৬০ টি পরিবারের ঠিকানা নির্মিত হয়েছে এই প্রকল্পটির অধিনে। এবং এখনো মানতা সম্প্রদায়ের অনেক পরিাবার নদীতে বসবাস করেন। এবং আমরা তাদেরও বিষয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এবিষয়টা আমরা নিশ্চিত করবো।

অন্যদিকে পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে ঘড় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের যেসব মানুষের স্বপ্ন ছিল নদীতে সীমবদ্ধ, মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে আজ তারা স্বপ্ন বুনছেন নতুন করে। নতুন ঘরে শুরু হবে তাদের নতুন জীবনের পথ চলা।




আগৈলঝাড়ার কচুরিপানায় আয় হবে ২৫ লাখ মার্কিন ডলার

বরিশাল অফিস ::  বরিশালের আগৈলঝাড়ার দুস্থ নারীদের সু-নিপুন হাতে তৈরী বড় দিনের শৌখিন খেলনা, উপহার সামগ্রী ও শান্তা ক্লজে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে পালন করা হবে যীশু খ্রিষ্টের আবির্ভাব দিবস শুভ বড় দিন।

বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা “প্রকৃতি’র” উদ্যোগে আগৈলঝাড়া উপজেলার পাঁচটি কারখানায় প্রায় দু’হাজার দুঃস্থ ও বিধবা নারীদের শ্রমে স্থানীয় পরিত্যক্ত ডোবা ও পুকুরের কচুরিপানা সংগ্রহ করে বিশেষভাবে নির্মিত কাগজ তৈরী করে ওই কাগজ দিয়ে তৈরি করছেন যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে সান্তা ক্লজ, ক্রিসমাস ট্রি, গীর্জা ও বাড়ি সাজানোর পন্যসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য নানা উপহার সামগ্রী।

উপজেলার জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজে কর্মরত ওই গ্রামের বাসিন্দা মনি বালা (৫০) কচুরিপানার কাগজ দিয়ে তৈরি করা বড় দিনের সান্তা ক্লজসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তৈরির সু-নিপুন কারিগরদের একজন। তিনি জানান, কচুরিপানা আর বড়দিন তার জীবনে আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। মনি বালার মত ওই এলাকার দু’হাজার অসহায় দুস্থ নারীরা আগৈলঝাড়ার ৫টি কারখানায় কাজ করে অর্থনৈতিকভাবে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘অভাবের সংসারে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে থেকেছে। এখন এখানে কাজের মাধ্যমে তিনি ও তার সহকর্মীরা তিনবেলা ভাত খেয়ে সন্তানদের নিয়ে স্বাবলম্বী অবস্থায় আছেন এবং সংসারে ফিরেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা।

মনি বালার আরেক সহকর্মী বিধবা বীণা হালদার (৫৫) ও বিধবা শিউলী বেগম (৪৭) বলেন, ‘আমরা যেসব জিনিস তৈরি করছি, সেগুলো দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দেশ-বিদেশের খ্রীস্টিয় সম্প্রদায়ের অধিবাসীরা শুভ বড় দিন পালন করে আসছেন। প্রতিদিন একজন নারী শ্রমিক উৎপাদিত কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে চার থেকে সাড়ে চারশ টাকা আয় করছেন।

জোবারপাড় এন্টার প্রাইজের ম্যানেজার পাপড়ী মন্ডল জানান, বর্তমানে প্রকল্পের ৫টি কেন্দ্রের প্রায় দুই হাজার নারী শ্রমিক কাজ করছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশ হচ্ছেন স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবা কিংবা অসহায় ও দুস্থ। প্রোডাক্ট ডিজাইনার খোকন সমদ্দার জানান, উপজেলার জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ, কালুরপাড়ের বির্বতন হ্যান্ডমেইড পেপার প্রজেক্ট, বড়মগরার কেয়া পাম হ্যান্ডিক্রাফট নগরবাড়ির চ্যারিটি ফাউন্ডেশন ও বাগধা এন্টার প্রাইজে প্রতিবছরই নতুন নতুন গিফ্ট আইটেমের কাজ করা হয়। এখানে চার হাজারের বেশি আইটেমের পণ্য তৈরী করা হয়।

সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে কচুরিপানাকে ঘিরে এমসিসি (মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিউনিটি) আওতায় এলাকায় গড়ে ওঠে জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় এলাকার ডোবা ও মজাপুকুর থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করে তার সঙ্গে পাট, পরিত্যাক্ত কাগজ ও সিল্ক কাপড় দিয়ে মন্ড তৈরি করা হয়। এরপর তাতে রং দিয়ে রোদে শুকানোর পর তৈরি হয় কাগজ। এভাবে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে ৩ হাজার পিস কচুরিপানার কাগজ। সেই কাগজ দিয়ে তৈরি করা হয় হস্তজাত উপহার সামগ্রী। ওই উপহার সামগ্রীতে বিভিন্ন ধরনের কাঁচা ফুলও ব্যবহার করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে অসহায় নারীদের হাতে তৈরি পণ্য বিদেশের বাজার দখল করে নিয়েছে।

একই বছর উপজেলার বাগধা এলাকায় বাগধা এন্টারপ্রাইজ নামে আরো একটি প্রকল্প চালু করা হয়। এ দুটি প্রকল্পের সাফল্যের পর ১৯৮৭ সালে গড়ে ওঠে কেয়াপাম হ্যান্ডিক্রাফট নামের আরো একটি প্রকল্প। এরপর ১৯৯৩ সালে বিবর্তন নামের আরো একটি প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে।

তিনি জানান, কচুরিপানার কাগজ দিয়ে তৈরি তাদের উপহার সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে কানাডা, ডেনমার্ক, ইতালী, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, হল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। প্রতিবছরই ঐ সব দেশে এ উপহার সামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে বড়দিনের উৎসব থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এর চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলছে।

ওই সংস্থার মাধ্যমে শৌখিন এসব খেলনা ও উপহার সামগ্রী ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে রফতানির মাধ্যমে আসছে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা। দুস্থ নারীদের তৈরি করা কচুরিপানার শৌখিন উপহার সামগ্রী সর্বত্র প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফলে বিধবা ও দুস্থ নারীরা খুঁজে পেয়েছেন বেঁচে থেকে স্বাবলম্বী হওয়ায় সুযোগ।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রকৃতি বাংলাদেশ’ এর মাদার প্রকল্প ‘এমসিসি আমেরিকা’র কান্ট্রি প্রতিনিধি মি. জর্জ জানিয়েছেন, ১৯৮৭ সালে আগৈলঝাড়ায় কেয়াপাম হ্যান্ডিক্রাফট মাত্র ৭ জন নারী কর্মী নিয়ে ৬ লাখ ডলার মূল্যের রপ্তানি বাজারে প্রবেশ করে। বর্তমানে এখানকার হস্তজাত শিল্প এখন ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ২৫ লাখেরও বেশী মার্কিন ডলার আয় করছে।




শীতে বেড়ে যাওয়া ব্যাথা কিংবা এলার্জি রোধে মাত্র একটা লেবু

শীত এসে গেছে, নানান ব্যাথা দেখা দিচ্ছে,  পুরনো ব্যথা হলে তো কথাই নেই। এলার্জির সাথে হরহামেশা গ্যাসের সমস্যাও কাবু করে ফেলছে!  ভয় নেই,  সমাধানও আছে আর তা জানতে পড়ে ফেলুন বাকীটা। লিখেছেন মো. লতিফুর রহমান।

এছাড়াও যদি কারো বাতের ব্যাথা, দাতঁ দিয়ে রক্ত এমনকী কিডনিতে পাথরজনিত তীব্র ব্যাথাও থাকে তাহলে ঝটপট সমাধান হচ্ছে- প্রতিদিন কুসুম গরম পানিতে পুরো একটা লেবু খাওয়া। এটা ভোরে ঘুম থেকে উঠে খাওয়া ভালো। অথবা খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে খাবেন। তবে

👉 শুধু লেবু না খেয়ে এক গ্লাস পানির সাথে খেতে হবে।
👉 পানিটা কুসুম গরম হলে খেতে ভালো লাগবে।
👉 কিন্তু ভুলেও লেবুর সাথে চিনি বা লবণ খাবেন না।

লেবু পানি খাওয়ার কারণে ব্যাথা চলে গেলে তখন মাঝে মাঝে খাবেন।

লেবু যেভাবে উপকার করে:

লেবুতে রয়েছে ভিটামিন-সি ও সাইট্রিক এসিড।

লেবু দুইধারী তলোয়ারের মতো। এটা পেটের পরিবেশ এসিডিক করে ফলে হজম ভালো হয়।

আর হজম হওয়ার পর ব্লাডের বেড়ে যাওয়া এসিডিটি নিউট্রাল করে দেয়। মূলত ব্লাডের এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে শরীরে বিভিন্ন রকমের ব্যাথা হয়। তাই লেবু খেলে শরীরের ব্যাথা কমে যায়।

যারা নানাবিধ ব্যাথা, এলার্জি ও ক্লান্তিজনিত সমস্যায় ভুগছেন আজ থেকেই শুরু করতে পারেন। উপকার পেলে কমেন্টে জানাবেন প্লিজ।




পটুয়াখালীতে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে বসতঘরের দরজা ভেঙ্গে ছয় ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ সাত লক্ষ আটাশ হাজার দুইশত চল্লিশ টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ইমরান আকন (৩৮) এর বিরুদ্ধে।

১৪ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পৌর শহরের পটুয়াখালী ব্রীজের নিচে এ ঘটনা ঘটে। ইমরান আকন বরিশালের ১০ নং ওয়ার্ডের ক্লাব রোড এলাকার মোজাম্মেল আকনের ছেলে।

এ ঘটনায় বসতঘরে থাকা সাবিকুন্নাহার তন্নি জানান, ইমরান আকন সম্পর্কে আমার ননদের স্বামী। দীর্ঘদিন আমার ননদ ইসরাত জাহান রস্নির সাথে তার পারিবারিক সমস্যা চলে আসছিলো। গত ১৪ ডিসেম্বর রাত দেড়টার দিকে আমার ননদের স্বামী ইমরান আকন, তার ভাই জামান সায়েম তার মামা আবুল তালুকদারসহ ১০/২০ জন লোক বাসার দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। ইমরান আকন ও তার মামা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে আমার সন্তানদের ধরে বলে বাসায় টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার যা আছে তা দিয়ে দাও। আমি দিতে রাজি না হলে আমার সাথে থাকা আলমারির চাবি নিয়ে নগদ সাত লক্ষ আটাশ হাজার দুইশত চল্লিশ টাকা, ছয় ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং দোকানের মালামাল নিয়ে যায় তারা। পরবর্তীতে আমার চিৎকারে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আমাকে প্রাননাশের হুমকি দিয়ে চলে যায় ইমরান আকন ও তার সাথে থাকা লোকজন। এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন সাবিকুন্নাহার তন্নি।

তবে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান আকন বলেন, বরিশালের পুলিশ গিয়ে আমার চুরির মালামাল উদ্ধার করে। পুলিশ যাওয়ার পর আপনি ও আপনার আত্মীয় স্বজনরা আপনার শশুড়ের বাসায় গিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে আসেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, না আমি নিজে কোন নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নেইনি। এটা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ।

পটুয়াখালী সদর থানার এএসআই হুমায়ুন কবির বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।




বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য ও দলিলপত্রের ২১ তম প্রদর্শনী অুনষ্ঠিত

বরিশাল অফিস ::  বরিশাল রিপোটার্স ইউনিটি (বিআরইউ) এর আয়োজনে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য ও দলিলপত্রের ২১ তম প্রদর্শনীর অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জননী সাহান আরা বেগম স্মৃতি মিলনায়তনে আজ শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহেল মারুফ। এসময় তিনি বলেন
মুক্তিযুদ্ধের তথ্য ও দলিলপত্র সংগ্রহ ও প্রদর্শনের দিক থেকে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি তীর্থস্থান।

দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল বিশ্বাস, সাবেক সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান খান স্বপন, সুশান্ত ঘোষ সাধারন সম্পাদক মিথুন সাহা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাপ্পী মজুমদার, কামরুল আহসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুশফিক সৌরভসহ সদস্যরা। এছাড়া মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে সকাল ৮ টায় পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি।

প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধের বই-পত্র ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত নানা উপকরণ, চিঠি, ডায়েরী, নির্দেশনা সহ বহু দুর্লভ জিনিস প্রদর্শিত হচ্ছে । প্রায় ৪’শত মুক্তিযুদ্ধের বই, ৩’শ ছবি, মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত গানবোটের কামানের গোলা, রেডিও, শত্রুপক্ষের নৌযান ডুবিয়ে ফেলার কাজে ব্যবহৃত মাইনের খন্ডাংশ, মুক্তিযুদ্ধে বরিশাল সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে স্থাপিত দক্ষিনাঞ্চলীয় সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা, মুদ্রণে ব্যবহৃত সাইক্লোস্টাইল মেশিন, বেশ কয়েকটি বন্দুক, মুক্তিযুদ্ধেও পর বরিশালে প্রথম ভাস্কর্য বিজয় বিহঙ্গের ডিজাইন, ১৯৭১ সালে নৌ কমান্ডারদের ব্যবহৃত
কস্টিউম এবং বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান (যা সম্পূর্ণ হাতে লেখা) নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন পত্রিকা এবং শান্তি কমিটির একটি চিঠিও রয়েছে প্রদর্শনীতে।




চীনে বিরল তুষারপাত : দুটি পাতালরেলের সংঘর্ষে আহত ৫১৫

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : চীনের বেইজিংয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুটি পাতাল রেলের সংঘর্ষে ৫১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১০২ জনের শরীরের বিভিন্ন অংশের হাঁড় ভেঙে গেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় পাহাড়ি অঞ্চলের বিস্তীর্ণ পাতাল রেল ব্যবস্থার চাংপিং লাইনে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে শহর পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারী তুষারপাতের কারণে পিচ্ছিল ট্র্যাকগুলোতে সামনের রেলটির স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং সিস্টেম কাজ করছিল না। পেছন থেকে আসা অপর রেলটি অবতরণ বিভাগে ছিল। সময়মতো সেটি ব্রেক করতে না পারায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে জরুরি চিকিত্সা কর্মী, পুলিশ এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষ ছুটে আসেন। ঐ দিন রাত ১১টার মধ্যে সব যাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আহতদের মধ্যে ২৫ যাত্রীকে পর্যবেক্ষণে এবং ৬৭ জনকে তখনো হাসপাতালে ভর্তি করে রাখা হয়।

বুধবার থেকে শুরু হওয়া অস্বাভাবিক ভারী তুষারপাতের কারণে শহরটিতে কয়েকটি ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেখানে রাতারাতি তাপমাত্রা মাইনাস ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ায় সড়ক চলাচলে, তীব্র শীত ও আরো তুষারপাতের সতর্কতা জারি অব্যাহত রয়েছে। বেইজিংয়ে শীতকালে প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকলেও ভারী তুষারপাতের ঘটনা বিরল।




ভারতের মহারাষ্ট্রে ১০ মাসে ২৩০০ কৃষকের আত্মহত্যা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ভারতের মহারাষ্ট্রে ২ হাজার ৩৬৬ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিধানসভা অধিবেশনে এ তথ্য জানান রাজ্যের ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী অনিল পাতিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডেকান ক্রনিকেলের প্রতিবেদন অনুসারে, মহারাষ্ট্রে প্রতি মাসে গড়ে ২৪০ কৃষক আত্মহত্যা করেন। এ হিসেবে প্রতিদিন আত্মহত্যাকারী কৃষকের সংখ্যা ৭।

রাজ্য বিধানসভার সদস্য কুনাল পাতিলের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ অঞ্চলে, বিশেষ করে, অমরাবতী জেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। সেখানে ৯৫১টি আত্মহত্যার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব কৃষকের স্বজনদের এক লাখ রুপি করে সহায়তা দিয়েছে রাজ্য সরকার।

অমরাবতীর পাশাপাশি অন্যান্য অঞ্চলেও এ ধরনের ঘটনা দেখা গেছে। রাজ্যের ছত্রপতি সাম্ভাজিনগর বিভাগে প্রায় ৮৭৭ কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া নাশিক বিভাগে ২৫৪টি ও পুনে বিভাগে ২৭টি আত্মহত্যার ঘটনার ঘটেছে।

বিরোধী দলের নেতা বিজয় ওয়াদেত্তিওয়ার মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগ্রামের প্রতি উদাসীনতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যটিতে ৩ হাজারেরও বেশি কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। এর পেছনের মূল কারণ ছিল অনাবাদ ও ঋণের বোঝা।

ওয়াদেত্তিওয়ার রাজ্য সরকারকে কৃষকদের সম্পূর্ণ ঋণ মওকুফ করার দাবি জানান। এছাড়া তিনি অসময়ে বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

২০২০ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিরোধীদের দাবি, মোদী তার দেওয়া সেই কথা রাখতে পারেননি।

২০২১ সালের সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে প্রতি দিন অন্তত ১৫ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। কৃষিক্ষেত্রে আত্মহত্যার সংখ্যার সঙ্গেই পাল্লা দিচ্ছে আত্মঘাতী কৃষকের সংখ্যা।

মোদী সরকারের প্রকাশিত ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে ভারতে ১০ হাজার ৮৮১ জন কৃষক ও ক্ষেতমজুর আত্মহত্যা করেছেন। অর্থাৎ, প্রতি দিন গড়ে ৩০টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বছরে মোট আত্মহত্যা করা কৃষকের সংখ্যা ৫ হাজার ৩১৮ জন ও ক্ষেতমজুরের সংখ্যা ৫ হাজার ৫৬৩ জন।

সূত্র: ডেকান ক্রনিকেল।




১৯৭১-এর ভারতীয় বীর যোদ্ধা আত্মসমর্পণ আলোচনার পূর্বকথা জানালেন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পাকিস্তানি সৈন্যরা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর ভারত ও বাংলাদেশের মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। সম্প্্রতি ভারতীয় সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক ক্যাপ্টেন বিজয়ীর সাথে পরাজয়ের আলাপচারিতার প্রাথমিক মুহূর্তগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরে প্রথমবারের মত এর পূর্বকথা সামনে এনেছেন।

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নির্ভয় শর্মা বলেছেন, একজন তরুণ ভারতীয় ক্যাপ্টেন হিসেবে তিনি অগ্রসর মিত্র বাহিনীর অংশ হিসেবে ঢাকা শহরে পা রাখা ভারতীয় সৈন্যদের প্রথম দলে ছিলেন।
সম্প্রতি তিনি একটি স্বনামে লেখা স্মৃতিকথায় সেদিনের প্রথম ঘন্টার ঘটনাগুলোর স্বল্প পরিচিত কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সিদ্দিকীও এ পর্বের অংশ ছিলেন।
পরে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও মিজোরামের গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী শর্মা বলেন, তারা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সদর দফতরে যাওয়ার জন্য মিরপুর ব্রিজ দিয়ে ‘ঢাকা’ প্রবেশ করেন।

কিন্তু কিছু ঘটনার কারণে পাকিস্তানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজীর কাছে পৌঁছানোর তাদের প্রথম প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়। অবশ্য পরে তারা ভারতের ১০১০ অঞ্চলের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল গান্ধর্ব নাগরার একটি বার্তা নিয়ে তার কাছে পৌঁছেন।

শর্মা বলেন, তাদের দ্বিতীয় যাত্রায়, ভারতের ২ প্যারা ব্যাটালিয়নের তার কমান্ডিং অফিসার কর্নেল পান্নু এবং আরও কয়েকজনের সাথে এবার তারা ‘প্রথম সৈন্য’ হিসাবে শত্রু-অধিকৃত ঢাকা সেনানিবাসে প্রবেশ এবং বার্তা পৌঁছাতে সফল হন।

ভারতের ‘দ্য প্রিন্ট’ পত্রিকায় প্রকাশিত শর্মার নিবন্ধে বলা হয়, ‘ব্যাটালিয়নটি সফলভাবে প্রবেশ করতে সক্ষম হওয়ার পর কর্নেল পান্নু, আরও কয়েকজন ও আমি অফিসারের সাথে দ্রুত সদর দফতরে জেনারেল নিয়াজীর কাছে যাই।’
তিনি লিখেছেন, ‘যখন আমরা পাকিস্তানের ইস্টার্ন কমান্ড হেডকোয়ার্টারে প্রবেশ করে জেনারেল নিয়াজীর অফিসের পাশে আমাদের জিপ দাঁড় করাই তখন একজন স্মার্ট পোশাকপরা, দীর্ঘকায় ও সুঠামদেহী সৈনিক আমাদের সামনে এসে দাঁড়ান।’
শর্মা আরো বলেন, কড়া শৃঙ্খলাবদ্ধ স্ট্যান্ডিং গার্ড ভারতীয়দের অফিসে প্রবেশে বাধা দেয়। সৈন্যটি ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে একেবারেই অবহিত ছিলেন না এবং ‘কী করবেন বা বলবেন’ বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
শর্মা লিখেছেন, ‘তিনি আমাদেরকে তার জেনারেলের জন্য সংরক্ষিত জায়গায় আমাদের জিপ পার্ক করতে নিষেধ করেন। আমরা তাকে একপাশে ঠেলে জেনারেলের ঘরে ঢুকে পড়ি।’
তিনি স্মরণ করেন, কর্নেল পান্নু ‘নিয়াজীর দিকে কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন এবং নিয়াজী তার চোখের দিকে তাকাতে পারছিলেন না। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি নিয়ে শীর্ষ পাকিস্তানি জেনারেল হতাশায় দু’হাত দিয়ে তার মাথা চেপে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমার তার বিড়বিড় করা স্পষ্ট মনে আছে- ‘পিন্ডি মে বৈঠে হারামজাদন নে মারওয়া দিয়া (রাওয়ালপিন্ডিতে যারা বসে আছে তারা আমাদের হতাশ করেছে)।’
তিনি বলেন, রাওয়ালপিন্ডি সেই সকাল পর্যন্ত তাকে বোকা বানিয়েছিল, যা আমাদের ‘পথে সহায়ক হয়েছিল।’
ঢাকার দোরগোড়ায় ভারতীয় ব্যাটালিয়নের অ্যাডজুট্যান্ট শর্মা স্মরণ করেন, তাদের সৈন্যরা ১৫-১৬ ডিসেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর ব্রিজ পয়েন্টে ঢাকার দরজায় টোকা মেরে শত্রুকে হতচকিত করে তুলেছিল। আর ১৬ ডিসেম্বর সকাল পর্যন্ত গোলাবর্ষণ এবং বিক্ষিপ্ত গুলিবর্ষণ অব্যাহত ছিল।
তিনি বলেন, নাগরা সকালে ঘটনাস্থলে আসেন এবং ‘আমাদের জানান যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়েছে এবং আমরা লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজীর কাছে একটি বার্তা নিয়ে যাচ্ছি।’
বার্তাটি ছিল: ‘প্রিয় আব্দুল্লাহ, আমি এখানে। খেলা শেষ, আমি আপনাকে আমার কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি এবং আমি আপনার দায়িত্ব নেব।’
শর্মার মতে, নাগরার সহযোগী ডি ক্যাম্প ক্যাপ্টেন হিতেশ মেহতাকে তার সাথে যেতে বলা হল। এসময় পাকিস্তানি সৈন্যরা সেতুর অপর পাশে অবস্থান করছিল।
প্রাথমিকভাবে দুইজন ক্যাপ্টেন নিয়াজীর জন্য নাগরার হাতের লেখা বার্তা নিয়ে একটি জিপে উঠেন। নিয়াজী ছোটবেলা থেকেই নাগরার সাথে পরিচিত ছিলেন এবং তারা একে-অপরকে ‘নাম ধরে ডাকতেন।’
শর্মা বলেন, তারা দুজন জিপের দিকে যাওয়ার সাথে সাথে অন্য দুই অফিসার, মেজর জেএস শেঠি ও লেফটেন্যান্ট তেজিন্দর সিং লাফ দিয়ে গাড়িতে ওঠেন।
শর্মা লিখেছেন, ‘আমরা সবাই আসন্ন বিপদ বিস্মৃত হয়ে আত্মসমর্পণের বার্তা নিয়ে ঢাকা প্রবেশ ও ইতিহাস সৃষ্টির চিন্তায় উত্তেজিত ছিলাম।’
কিন্তু, তিনি স্মরণ করেন, ‘তারা তরুণ অফিসাররা সে সময় খুব কমই জানতেন যে ওপারে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণের নির্দেশ পায়নি এবং ‘তাই আমরা সেতু পার হওয়ার সাথে সাথে তারা গুলি চালালো। আমরা থামলাম।’
তিনি লেখেন, সমস্ত সাহস সঞ্চয় করে আমি চিৎকার করে তাদের গুলি চালানো বন্ধ করতে বললাম। গুলিবর্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু অবিলম্বে শত্রু সৈন্যরা ছোট ভারতীয় সৈন্য দলটিকে ঘিরে ফেলে এবং নিরস্ত্র করে ফেলে।
ভারতীয় অফিসাররা তখন একজন পাকিস্তানি জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারকে (জেসিও) একজন সিনিয়র অফিসারকে ফোন করতে বলেন। আর একই সঙ্গে শর্মা তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে ভয়ানক পরিণতির হুমকি দিয়ে বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী ঢাকাকে ঘিরে রেখেছে এবং তাদের জেনারেলরা আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়ে গেছে।
শর্মা বলেন, সৌভাগ্যক্রমে অচিরেই একজন পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন এসে দলটিকে মিরপুর গ্যারিসনে নিয়ে যান, সেখানে গ্যারিসনের কমান্ডার তাদের অপেক্ষা করতে বলেন। প্রায় এক ঘন্টা পর ঢাকা গ্যারিসনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ জামশেদ সেখানে আসেন।
জামশেদের সঙ্গে তারা তাদের ভারতীয় সেনাবাহিনীর জিপে মিরপুর ব্রিজে ফিরে আসেন। তখন একটি পাকিস্তানি জিপ তাদের অনুসরণ করে। ফেরার পথে ‘আমাদের ওপর আবার গুলি চালানো হয়। আমরা কারা তা কোন পক্ষই জানত না।’
তিনি বলেন, মেজর শেঠি তার বাম পায়ে একটি মাঝারি মেশিনগানের গুলি লাগে এবং আরেকটি বুলেট সিংয়ের হেলমেটের ঠিক মাঝখানে বিদ্ধ করে, যদিও ভাগ্যক্রমে তা লক্ষ্যচ্যুত হয়। কিন্তু পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হয় এবং আমরা সেতুর অপর পাশে পৌঁছি।
বাসস’র সঙ্গে আলাপকালে কাদের সিদ্দিকী স্মরণ করেন,তাৎক্ষণিকভাবে কোন সাদা পতাকা পাওয়া না যাওয়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর জুনিয়র অফিসারদের জিপের ওপরে একটি সাদা শার্ট উড়ানো হয়। মিরপুর ব্রিজে ফেরার পথে শার্টটি কোথাও পড়ে যায়। এতে তারা অরক্ষিত হয়ে পড়েন এবং গাড়ি লক্ষ্য করে শত্রুপক্ষ গুলি চালায়।
শর্মা লিখেছেন, এর কিছুক্ষণ পরে সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে, পাকিস্তানি অফিসারদের সাথে ভারতীয় অফিসারদের দলটি নিয়াজীকে নাগরার চিরকুটটি হস্তান্তর করতে ঢাকায় পুনঃপ্রবেশ করে।
পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর সিদ্দিক সালিক তার ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’-এ বলেছেন নাগরার বার্তা পেয়ে নিয়াজী পূর্ব পাকিস্তানে নৌবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শরিফ এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীসহ উপস্থিত সিনিয়র জেনারেলদের সাথে পরিস্থিতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, তারা উভয়েই নিয়াজীকে হাল ছেড়ে দেওয়ার এবং নাগরার আহ্বানে সাড়া দেয়ার পরামর্শ দেন কারণ, পাকিস্তানি পক্ষের ‘ঢাকা’ রক্ষা করার মতো যথেষ্ট শক্তি ছিল না।
সালিক লিখেছেন, ‘জেনারেল নিয়াজী মেজর জেনারেল জামশেদকে নাগরাকে অভ্যর্থনা জানাতে পাঠান।’
কাদের সিদ্দিকীর বর্ণনা
বাসস’র সাথে আলাপকালে কাদের সিদ্দিকী বলেন, জামশেদ একটি মার্সিডিজ গাড়িতে ঘটনাস্থলে আসেন। এরপরে আসে বেশ কয়েকটি পাকিস্তানি সামরিক যান। নাগরা ও আরও দুই ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার, সান সিং ও ক্লেয়ার এবং তিনি নিজে গাড়ির পিছনের সিটে উঠে বসেন।
তিনি বলেন, জামশেদ ঢাকা সেনানিবাসে যাওয়ার পথে চালকের পাশে সামনের সিটে বসেন এবং ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে জামশেদের অস্থায়ী অফিসে কিছুক্ষণ থামেন। সেখান থেকে তারা নিয়াজীকে ফোন করার চেষ্টা করেন কিন্তু লাইনটি বিকল দেখতে পান।
প্রতিনিধি দলটি সরাসরি ঢাকা সেনানিবাসে নিয়াজীর অফিসে চলে যায়। সেখানে একজন পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন তাদের অভ্যর্থনা জানায়। তিনি তাদের বলেন, জেনারেল খুব শিগগির সেখানে আসবেন। কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘৪/৫ মিনিট পর নিয়াজী এলেন এবং উভয় পক্ষ সালাম বিনিময় এবং করমর্দন করল। আমি তার (নিয়াজীর) সাথে করমর্দনের জন্য আমার হাত বাড়াতে পারলাম না।’
১৯৭১ সালের যুদ্ধের নথি থেকে জানা যায় প্রায় এক ঘণ্টা পরে ভারতীয় ইস্টার্ন ফ্রন্টের জেনারেল চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জেএফআর জ্যাকব নিয়াজীর সদর দফতরে আসেন। এরপর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ আলোচনা শুরু হয়।