পিরোজপুরে স্বরুপকাঠির বাবোরিয়া মসজিদ ভগ্নদশায়

বরিশাল অফিস :: সম্রাট বাবরের আমলের তৈরি স্বরুপকাঠির (নেছারাবাদ) চারটি প্রাচীন মসজিদ ভগ্নদশায়। পিরোজপুরের স্বরুপকাঠি উপজেলার  ইন্দেুর হাট বেপারী বাড়ি সংলগ্ন একটি, এর দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে সোগদল বরছাকাঠির সরদার বাড়ি ও মৃধা বাড়ি দুইটি ও ছারছীনা দরবার শরীফ সংলগ্ন একটি,এ চারটি মসজিদই ঝরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে  ১৫২৮ সালে বাবরি মসজিদ তৈরির আগে ১৫২৬ সালের দিকে প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের শাসনামলে এ মসজিদ চারটি একই ডিজানে তৈরি হরা হয়।

প্রতিটি মসজিদের দৈর্ঘ্য ২২ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট ও ভিতরের মেঝে ৮ ফুট প্রস্থর রয়েছে। মসজিদগুলোর তিনটি দরজা ও ওপরে কারুকার্যের গোলাকার ছোট-ছোট তিনটি গম্বুজ রয়েছে যা লতা-পাতায় আগাছাপূর্ণ। তবে মসজিদের ভিতরে তিনটি মিহরাবসহ চার কোণে রয়েছে চারটি কর্নার মিনার যা সম্রাট বাবর আমলকেই স্বাক্ষ্য প্রমান করে। এসব স্থাপনাগুলো মাটিতে দেবে যাওয়ার কারণে মসজিদগুলোর উচ্ছতার সঠিক তথ্য পাওয়া যায় নি। প্রায় পাঁচ শ” বছর আগে মসজিদগুলোর অলঙ্কৃত দেয়ালের ফলক খষে পড়ে গেছে শত বছর আগেই।

যার কারণে খোঁদাই করা নামের কোনো চিহ্নি না থাকলেও স্থানীয়রা অনেকে এসব মসজিদকে “বাবোরিয়া মসজিদ” নামেও বলেন। প্রাচীন এসব মসজিদে নামাজ পড়ার উপযোগী না থাকলেও সৃষ্টিকর্তা সন্তুষ্টির জন্য স্থানীয়রা প্রতিবছর পৌষ- মাঘে সিন্নী-পায়েসর আয়োজন করেন। অযতেœ আর অবহেলা মসজিদগুলো তিন থেকে চার স্তার মাটির নিচে দেবে গেলেও গম্বুজগুলো স্মৃতিচরণে ভগ্নদশায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে মসজিদে কোনো নির্দেশক শিলালিপি পাওয়া না গেলেও মুঘল আমলের প্রথম সম্রাট বাবরের বহু স্থাপণার গঠনরীতির সাথে এর মিল রয়েছে।

যা সম্রাট বাবরের শাসণামলের স্বাক্ষ্যদেয়। মসজিদের পাশে বাঁধাই করা একটি কবর রয়েছে। ধারনা করা হয় মসজিদটি যিনি রক্ষণা-বেক্ষণ করতেন তারই এ কবরটি। অযতেœ-অবহেলা মাটির নিচে সেটিও দেবে গিয়ে একফুটের মত উঁকি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এ কবরটি। প্রাচীন এ নিদর্শনগুলো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় রক্ষা করা গেলে অঞ্চলটি পর্যটক আকর্ষণের পাশাপাশি ইতিহাসসমৃন্ধ হওয়ার সম্ববনা রয়েছে।

সরকারিভাবে স্থাপণাগুলো টিকিয়ে রাখলে ভবিষাৎ প্রজম্ম এ থেকে উপকৃত হবে এবং প্রাচীন ইতিহাস সর্ম্পকে জ্ঞান অর্জনের সম্ববনা রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।




বরিশালে নৌকা নিয়ে কটূক্তি করায় ক্ষিপ্ত হয়েছেন প্রার্থী

বরিশাল অফিস :: ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক নৌকা প্রতীক নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে বক্তব্য দেওয়ায় চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। এবার উল্টো ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে স্ব-পরিবারকে আগামী ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্যত্র বেড়াতে যাওয়ার বক্তব্য দিয়েছেন নৌকার প্রার্থী। এনিয়ে চলছে নানা আলোচনা। ঘটনাটি বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের।

সোমবার সকালে ওই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, গত ২৩ ডিসেম্বর উপজেলার দূর্গাপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হানিফ তালুকদার স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষালম্বন করে উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ তালুকদার উন্নয়নের প্রতীক নৌকাকে ‘উলঙ্গ নৌকা’ আখ্যায়িত করে আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন।

আবদুল হাফিজ মল্লিক আরও বলেন, ওই বক্তব্যের পাল্টা বক্তব্য হিসেবে হানিফ তালুকদারকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তিনি যদি শেখ হাসিনার নৌকাকে সহ্য করতে না পারেন তাহলে আগামী ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত স্ব-পরিবারে তিনি যেন অন্যত্র বেড়াতে যান। তবুও বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নৌকা নিয়ে যেন তিনি আপত্তিকর বক্তব্য থেকে বিরত থাকেন। এই বক্তব্যকে কলুষিত করে এলাকা ছাড়ার হুমকির অভিযোগ এনে নানা অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে বলেও নৌকার প্রার্থী অভিযোগ করেন।

অপরদিকে নৌকা প্রতীক নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদে ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে সেনেরহাট বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।




মানবতার ঠিকানা চায় রাঙ্গাবালীর নিঃসন্তান সুরমা দম্পত্তি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পরিত্যক্ত একটা ভাঙা দোচালা টিনের ঘর। ছেঁড়া পলিথিন, প্লাটিকের বস্তা ও ভাঙা টিনের আদলে ঘরের চারপাশের বেড়া দেওয়া। একটা ছেড়া লুঙ্গি দিয়ে ঘরের দরজা। রান্না ঘর না থাকলেও ঘরের সমনেই রয়েছে মাটির চুলা। দিন মজুর ষাটোর্ধ্ব স্বামীর সামান্য আয়ের উৎস থেকেই জ্বলে এই চুলা। চাল না থাকলে কোনো কোনো দিন চুলায় জ্বলে না আগুনের শিখা। এমনটাই দিনাতিপাত করছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচরের এই নিঃসন্তান বৃদ্ধ ও সহজ সরল অসহায় সুরমা দম্পত্তি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ষাটোর্ধ্ব সুরমার স্বামী তালেব একজন দিনমজুর। যখন যেমন তখন তেমন ভাবেই আয়রোজগার করে চলছে দুজনার সুখী সংসার। এই জরাজীর্ণ ঘরে দারিদ্রতাকে মেনেই খেয়ে না খেয়ে চলছে তাদের জীবন সংসার। নিঃসন্তান হলেও এক যুগের সংসার জীবন ছেড়ে যায়নি স্বামী তালেব। শত অভাব অনটনেও এই জরাজীর্ণ ঘরে ভালোবাসায় পরিপূর্ণতা রয়েছে তাদের দুজনার মধ্যে।

সুরমার প্রতিবেশীরা জানান, যাদের জমি আছে কিন্তু ঘর তৈরির সামর্থ নাই এমন সবপরিবারকে সরকার নিজ জমিতে ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। এ অবস্থায় অসহায় সুরমা দম্পত্তিকে সরকারের এই মহৎ প্রকল্পের আওতায় আনার জন্য স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তাদের নিজ জমিতে একটা ঘর থাকলে নিশ্চই তারা মানবতার ঠিকানায় আশ্রিত হবে। বিভিন্ন সময়ে আমরা যে যতটুকু পারি তাদের সহযোগিতা করে আসছি। তাদের জন্য আমরা একটা সরকারি ঘর বরাদ্দের অনুরোধ করছি। কিংবা সমাজের বিত্তবানদের হাত বাড়ালেও তাদের একটা মানবতার ঠিকানা হতে পারে।

সুরমা দম্পত্তি বলেন, বাপের কাইল্লা (সময়) এই জমিটুকু আমাগো আর এই ঘরডাও আমাগো। বৃষ্টির সময় ঘরের মধ্যে ঝর ঝর কইরা পানি পরে। শীতের সময় লাগে শীত। ঘর উডানের (উঠানো) টাহা পয়সা আমাগো নাই। এউক্কা সরকারি ঘর পাইলে হ্যালে আর কষ্টো থাকতে না। যে ঘরডায় থাহি হেও মানষের টাহায় উডাইছি। সরকারি ঘর পামু কই! দেবে কেডা। মেম্বার চেয়ারম্যানের দুয়ারে দুয়ারে বহুত ঘুরছি। মানষের কাম কাইজ কইরা যা জোডে হেই দিয়াই চলি। ইউএনও সাইবে দুই বান্ডিল টিন আর ছয় হাজার টাহা দেছে। এ দিয়া তো ঘর অয়না। আরো টাহা পয়সার দরকার। আমরা একটু সরকারি সুযোগ সুবিধা পাইলেই ভালো থাকতে পারতাম। আল্লায় আমাগো কোনো গুরাগারা (সন্তান) দেয় নাই।

তারা আরও জানান, সুরমা একজন প্রতিবন্ধি হয়েও পাচ্ছেন না কোনো সরকারি সহায়তা। অন্যদিকে ষাটোর্ধ তালেবের নেই একটা বয়স্ক ভাতার নাম।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, সুরমা দম্পত্তির অসহায়ত্তের কথা জানতে পেরে তাদেরকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন ও ছয় হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্যতা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তাদেরকে সকল সরকারি সহযোগিতার আওতায় আনা হবে। তাদের ঘর নেই তবে নিজস্ব জমি থাকলে ‘খ’ শ্রেণির অর্থাৎ যার জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পের আওতায় ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।




নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দাপুটে জয়ে ইতিহাস বাংলাদেশের

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জিতল বাংলাদেশ। আগের আঠারো বারের দেখায় কোনোটিতেই জয় পায়নি বাংলাদেশ। অবশেষে শনিবার নেপিয়ারে দাপুটে জয়ে নতুন করে ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ।

যেমন বোলিং, তেমন ব্যাটিং। প্রভাব বিস্তারকারী পারফরম্যান্স যাকে বলে, তেমন কিছুর দেখা মিলল নেপিয়ারের সবুজ ঘাসে। বোলিংয়ে অপ্রতিরোধ্য, ব্যাটিংয়ে আক্রমণাত্মক। তাতে জয় চলে আসে সহজে।
টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে মাত্র ৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় বোলাররা।

পেসার তানজিম হাসান তামিম, শরিফুল ইসলাম ও সৌম্য সরকার ৩টি করে উইকেট নেন। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শান্তর অপরাজিত ৫১ ও এনামুলের ৩৭ রানে বাংলাদেশ জয় পেয়ে যায় অতি সহজে। তাতে ৯ উইকেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের মাটিতে রঙিণ পোশাকে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।




পটুয়াখালীতে ২১টি সুন্ধী কাছিম উদ্ধার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ২১পিচ সুন্ধী কাছিম উদ্ধারের পর অবমুক্ত করেছে অ্যানিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালীর সদস্যরা।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সহায়তায় পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকার মানিক ফকিরের মৎস্য আড়ত থেকে এসব কাছিম উদ্ধার করা হয়।

এসময় কাছিম সংরক্ষণের দায়ে মানিক ফকির ও ফারুক নামের দুই মৎস্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ হাজার করে ৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের উপস্থিতিতে এসব কাছিম উপজেলা পরিষদের পুকুরে অবমুক্ত করা হয়।

অ্যানিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার টিম লিডার রাকায়েত আহসান জানান, এসব কাছিম স্থানীয় শিকারীদের কাছ থেকে ক্রয় করে ঢাকায় পাচার করতে চেয়েছিল ওই ব্যবসায়ী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব কাছিম উদ্ধার করা হয়।




বরিশালে তিনটি আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

এস এল টি তুহিন, বরিশাল : জেলার ছয়টি আসনের ৩৫ জন প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারনার দেখা গেছে নৌকা, ট্রাক ও ঈগল মার্কার জয়জয়কার। ছয়টি আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও নির্বাচনের মাঠে এখনও তারা জোরালো কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। অন্যান্য প্রার্থীদের পক্ষে এখনও শুরু হয়নি কোন প্রচার-প্রচারনা। ছয়টি আসনের মধ্যে বরিশাল-১ ও ৫ আসনে আওয়ামী লীগ ও নৌকা বিহীন বরিশাল-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অনেকটা বিজয়ের পথে। বাকি তিনটি আসনে ত্রিমুখী লড়াই বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। এসব আসনের প্রবীণ প্রার্থীদের সাথে পাল্লাদিয়ে বেশ এগিয়ে গেছেন নবীন প্রার্থীরা।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) : এ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার হেভিওয়েট প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে ও বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। এখানে নেই কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে তার (হাসানাত) বিজয় অনেকটা সু-নিশ্চিত। কারণ ওই আসনে জাতীয় পার্টির সেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী লাঙ্গল ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মোঃ তুহিন আম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও দুই উপজেলার নির্বাচনী এলাকাতো দূরের কথা নিজ ভোট কেন্দ্রেও ওই দুই প্রার্থীর এজেন্ট দেওয়ার মতো কোন কর্মী-সমর্থক নেই।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) : এ আসনে প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিলো জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ক্লিন ইমেজের দুইবারের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুসকে। শেষপর্যন্ত মহাজোটের সাথে আসন ভাগাভাগির কারণে ১৪ দলের শরীক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে ওই আসনটি ছেড়ে দিতে হয়েছে। যদিও রাশেদ খান মেনন নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন। তালুকদার ইউনুস সভা করে নৌকার প্রার্থী রাশেদ খান মেননের পক্ষে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার জন্য অনুরোধ করলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিষয়টি এখনও মেনে নিতে পারেননি। ওই আসনের হতাশ আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, যাকে এ আসনে নৌকা প্রতীক ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তিনি হলেন বরিশাল-৩ আসনের বাসিন্দা। তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে এখানে নৌকা প্রতীক না দেয়ায় সবার মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পাশাপাশি এ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিতের পর ঢেঁকি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মনিরুল ইসলাম এবং ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন শেরে বাংলার দৌহিত্র একে ফাইয়াজুল হক। ইতোমধ্যে বানারীপাড়ায় রাশেদ খান মেননের সভা চলাকালীন সময় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সূত্রমতে, ওই আসনের আওয়ামী লীগের বৃহত অংশের নেতাকর্মীরা নৌকা ছেড়ে ঈগল মার্কার পক্ষে কাজ শুরু করছেন। এই আসনে অপর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা হলেন-কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী নকুল কুমার বিশ্বাস গামছা, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস লাঙ্গল, তৃণমূল বিএনপির আলহাজ¦ মোঃ শাহজাহান সিরাজ সোনালী আঁশ ও এনপিপি’র সাহেব আলী আম।

বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) : এখানে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে অনেকটা নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে নিয়েছিলেন নৌকার প্রার্থী সরদার মোঃ খালেদ হোসেন স্বপন। কিন্তু তা বেশিদিন টিকেনি। শেষপর্যন্ত তিনিও (স্বপন) মহাজোটের সাথে আসন ভাগাভাগির কবলে পরে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন। এখানে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপুকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি (টিপু) লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন। আওয়ামী লীগের বৃহত অংশের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, এখনো মহাজোটের প্রার্থী তাদের কাউকে ডাকেনি। বিগতদিনের ন্যায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তিনি কোণঠাসা করে রাখতে চাচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে তারা এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে নৌকা মার্কার প্রার্থী না থাকায় ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য মোঃ আতিকুর রহমানের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছেন। বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাসুম মাঝি বলেন, এ আসনে নৌকা প্রতীক না থাকায় নেতাকর্মীরা হতাশ। তাই এখানকার উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য আতিকুর রহমানের সাথে মাঠে নেমেছেন।
তবে নদীর কারণে বিচ্ছিন্ন এ আসনের মুলাদী উপজেলার অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, উন্নয়নের স্বার্থে দীর্ঘদিন থেকে তারা মুলাদী উপজেলার কোন বাসিন্দাকে দলীয় এমপি বানাতে চেয়েছেন। কিন্তু বরাবরেই বাবুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দাদের প্রার্থী দেয়ায় তারা হতাশ হয়েছেন। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মুলাদীর বাটামারা ইউনিয়নের বাসিন্দা ড. মোহাম্মদ আমিনুল হক কবির ঈগল মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তাই তারা একজোট হয়ে ঈগল মার্কার পক্ষে মাঠে নেমেছেন। আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ঈগল মার্কার বিজয় নিশ্চিত করে তারা সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রায় বরিশাল-৩ আসনকে সম্পৃক্ত করবেন। তবে ভোটের মাঠে এর কোনো প্রভাব পড়বে না দাবি করে জাতীয় পার্টির বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, গোলাম কিবরিয়া টিপু এর আগেও এ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এখানে জাতীয় পার্টির একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীই জয়লাভ করবে। এই আসনে অপর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা হলেন-ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট শেখ মোঃ টিপু সুলতান হাতুড়ি, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আজমুল হাসান জিহাদ ছড়ি ও তৃণমূল বিএনপির শাহানাজ হোসেন সোনালী আঁশ।
বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) ॥ একসময়ের বিএনপি ও জামায়াত অধ্যুষিত এ আসনটি নানা কৌশলে বাগিয়ে আনেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ। টানা দুইবারের এমপি পঙ্কজ দেবনাথ ওই আসনে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিনত করেছেন। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের সাথে তার বিরোধের সূত্রধরে নানা অপপ্রচারের কারণে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয় দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মি আহমেদকে। শুরু থেকেই বর্তমান সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ বলে আসছিলেন, তিনি নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করবেন না। কিন্তু শাম্মি আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়ার পর পরই পঙ্কজ অনুসারীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা। ফলে উপায়অন্তুর না পেয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অনুরোধে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন শেষসময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অনলাইনের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন পঙ্কজ দেবনাথ। এরপরই ভাগ্য খুলতে শুরু করে পঙ্কজ দেবনাথের। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় তিনি (পঙ্কজ) নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত্য নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ এনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। যার প্রমান পাওয়ায় নৌকার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার এ রায়ের বিরুদ্ধে নৌকার প্রার্থী ইসির কাছে আপিল করেও কোন সুফল না পেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। সেখানেও নৌকার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। ফলে ভাগ্য খুলতে শুরু করেছে ঈগল মার্কা নিয়ে নির্বাচনী মাঠের পাকা খেলোয়াড় বর্তমান সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের। ওই আসনে জাতীয় পার্টির মিজানুর রহমান লাঙ্গল, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের হৃদয় ইসলাম চুন্নু ছড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও তাদের তেমন কোন কর্মী সমর্থক নেই।

বরিশাল-৫ (সদর) : নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ১৯ ডিসেম্বরের এ রায়ের কারণে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন না। যেকারণে এ আসনে অনেকটা বিজয়ে পথে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচরনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুরো নির্বাচনী এলাকা সরগরম করে রেখেছেন। নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের পাশাপাশি এ আসনে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া ট্রাক মার্কার প্রার্থী আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন রিপন। তার (রিপন) প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী এস.আর সমাজ কল্যাণ সংস্থা বিগত ২০ বছর ধরে বরিশাল সদর আসনের অসহায় ও দরিদ্র প্রায় দশ হাজার পরিবারকে পুরোপুরি স্বাবলম্ভী করেছে। সালাহউদ্দিন রিপন আরো ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। অতীত কর্মকান্ডের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ট্রাক মার্কার প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপন। নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ আসনে নৌকার প্রার্থীর সাথে ট্রাক মার্কার প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্ধিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ আসনের অপর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা হলেন-জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস লাঙ্গল, এনপিপি’র আবদুল হান্নান সিকদার আম, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মোঃ আসাদুজ্জামান ছড়ি ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহাতাব হোসেন ডাব।

তবে বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা ফিরে পেতে আবারও আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবীর মাধ্যমে সাদিক আব্দুল্লাহ হাইকোর্টের আদেশের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদনটি দাখিল করেছেন। শেষপর্যন্ত সাদিক আব্দুল্লাহ তার প্রার্থীতা ফিরে পেলে পাল্টে যেতে পারে বর্তমানের নির্বাচনী মাঠের হিসেব নিকেশ।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) : টানা ২২ বছর পর দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক প্রচারণার মাঠে ভোট চাচ্ছেন। তবে জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনার পাশাপাশি বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম চুন্নু স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় এ আসনে নৌকার প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার পথটা মসৃণ হবেনা। সূত্রমতে, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এরপর টানা ২৩ বছর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মাঝের ২২ বছরে চারবার বিএনপি ও একবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী এ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। আর ১৯৯৬ সালের পর ২০০১ সালেও বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হন। এরপর টানা তিনবার এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচবার বিএনপি, চারবার জাতীয় পার্টি ও দুইবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসনটি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগে ভর করেই জাতীয় পার্টিকে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে হয়েছে। তবে টানা তিন বার জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার স্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রেসিডয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতনা এই আসনের সংসদ সদস্য থাকায় তাদের অবস্থানের সাথে দলেরও অবস্থান বেশ জোরালো হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতারা। হিসেব বলছে, ভোটের দিনের আগে মাত্র একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনে নিজ দলের কোন্দল মেটাতে হবে নৌকার প্রার্থীকে। তা না হলে সদ্য অব্যাহতির পর ট্রাক মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল আলম চুন্নু নৌকার প্রার্থীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। কারণ ২০০৯ ও ২০১৪ সালে বাকেরগঞ্জ উপজেলায় তিনি (চুন্নু) বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। এরপর ২০১৯ সালে এক যুগের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম চুন্নু বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশ বলছেন, ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫১২ ভোটের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সংসদীয় আসনের যে সীমানা, উপজেলা নির্বাচনেও একই সীমানা। তাই সেই হিসেবে শামসুল আলম চুন্নু এখন ভোটের মাঠের পাকা খেলোয়াড়। নৌকাকে জিততে হলে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল আলম চুন্নুর সাথেও হিসেবটা চুকিয়ে নিতে হবে। বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শামসুল আলম চুন্নু বলেন, দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ আমাকে সাপোর্ট দিচ্ছেন এবং দেবেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্ধিতামূলক করতে চাই। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে আমি বিজয়ী হবো। জাতীয় পার্টির প্রার্থী এখনই কিছু বলতে নারাজ হলেও তার সমর্থকরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। অপরদিকে নৌকা মার্কার প্রার্থী আবদুল হাফিজ মল্লিক বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার সাথে আছেন এবং যারা নেই তারাও অচিরে নৌকার পক্ষে কাজ শুরু করবেন। এ আসনের অপর প্রার্থীরা হলেন-তৃণমুল বিএনপির টিএম জহিরুল হক সোনালী আঁশ, এনপিপি’র মোঃ মোশারফ হোসেন আম, জাসদের মোহাম্মদ মোহসীন মশাল, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোঃ মাইনুল ইসলাম ডাব, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শাহবাজ মিঞা ঈগল, কামরুল ইসলাম খান তরমুজ ও জাকির খান সাগর রকেট।

 

 

 




বরিশালের দখিণের ভোটের মাঠে মাতাল হাওয়া

এল টি তুহিন,বরিশাল : দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটের বাকিমাত্র কয়েকদিন। দখিণাঞ্চলে ইতিমধ্যে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। ভোটে অংশ নিতে এখনও আইনি লড়াই চলিয়ে যাচ্ছেন অনেক প্রার্থী। বরিশাল- ৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন না বলেই এক প্রকার ধরে নেওয়া যায়। যদিও তিনি এর বিরুদ্ধে আবার আপিল

করছেন। অপরদিকে দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদের রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও সুযোগ নেই।

 

এদিকে ১৮ই ডিসেম্বর থেকেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সহ দলীয় সমর্থক সদস্যরা ও প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই নির্বাচন প্রচারে নেমে পড়েছেন। অনেকে নির্বাচনি পোস্টার আগেই ছেপে রেখেছিলেন, নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় তা টানানো শুরু হয়েছে। বরিশালের অধিকাংশ আসনেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। প্রচারণার শুরুতে বরিশালে সংঘাত-সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

ফারুক ও সাদিক কর্মীদের সংঘাত-রক্তপাত :
প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীমের কর্মীরা শহরের পলাশপুরে প্রচারণা চালাতে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহ’র অনুসারীদের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয়প্রার্থীর প্রায় ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে জাহিদ ফারুক অনুসারী হালিম, রবিউল, মেহেদী, রফিকুল এবং সাদিক আব্দুল্লাহ’র কর্মী রাব্বি, আমিন ও আসিফকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যার দিকে কাউনিয়া থানাধীন এলাকার পলাশপুরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বরিশাল সদর ৫ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জাহিদ ফারুক সোমবার নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরে হালিম এবং আরও কয়েকজন প্রচারণা চালান। এবং তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকের অনুসারীদের উদ্দেশে তীর্যক মন্তব্য করেন। বিপরিতে সাদিক অনুসারীরা রাব্বিও পাল্টা অবস্থান নিয়ে নেতার পক্ষে প্রচারণা চালান এবং জাহিদ ফারুকের কর্মীদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেন। এনিয়ে উভয় প্রার্থীর কর্মীরা পলাশপুরে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে কোপাকুপিতে দু’গ্ররুপের অন্তত ১০ কর্মী রক্তাক্ত হন। তাদের মধ্যে সাতজনকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনার পরপরই পুলিশ গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে সংঘাতের কারণ হিসেবে পুলিশ প্রাথমিক কিছু বলতে না পারলেও জাহিদ ফারুক এবং সাদিক আব্দুল্লাহ’র কর্মীরা পরস্পরবিরোধী পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম জানিয়েছেন, ‘দুটি পক্ষের সাতজন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে পলাশপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ব্যবস্থাগ্রহণ করেছে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এবং ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নৌকার ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে অলিগলি : প্রতিটি মহল্লার চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে অফিস সবখানেই আলোচনা
আসন্ন নির্বাচনের ভোট নিয়ে। এর মধ্যে শুরু হয়ে গেছে প্রচারণা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই বরিশাল নগরীর প্রতিটি অলিগলি ছেয়ে গেছে বরিশাল-৫ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীমের পোস্টারে। এমন চিত্র দেখা গেছে দখিণের প্রতিটি জেলা-উপজেলা ও পাড়া- মহল্লায়। প্রতীক নিশ্চিত হওয়ায় অনেকে আগেই পোস্টার ছাপানোর কাজ শেষ করে রেখেছেন। সরজমিনে দেখা গেছে বিভিন্ন বয়সের কর্মীরা ব্যানার- পোস্টার টাঙ্গানোয় ব্যস্ত।

প্রচরণার আগে মুজিব কোট জড়িয়ে ওমর গেলেন বঙ্গবন্ধুর মাজারে :

এই প্রথম বার মুজিব কোট গায়ে জড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতের মধ্যেদিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে মাঠে নামলেন সাবেক বিএনপি নেতা সদ্য আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী ব্যারিস্টার এম শাহজাহান ওমর বীর উত্তম। মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করেন ঝালকাঠি ১ (রাজাপুর- কাঠালিয়া) আসনের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত এই প্রার্থী। পরে রাজাপুর বাইপাস মোড়ে দলিও কার্যালয় এসে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এসময় কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদার, কাঠালিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল বাশার বাদশাহ, রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম খলিফা, চন্দ্র শেখর হালদার সহ নেতাকর্মী গন উপস্থিত ছিলেন ।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম ঝালকাঠি-১ আসন থেকে ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ২৯ নভেম্বর জেল থেকে জামিনে বের হয়ে ৩০ ডিসেম্বর দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এরপর এই আসনে নৌকা মার্কার মনোনয়ন দেওয়া হয় তাকে। ওইদিন অনলাইনে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরে এ আসনে নৌকা প্রতীক পাওয়া গত তিনবারের এমপি বজলুল হক হারুন নৌকা মার্কার প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজের প্রার্থিতা করবেন না বলে জানিয়ে দেন। এ আসনে নৌকার সাথে মূল লড়াই হবে ঈগল প্রতীকের। ঈগল প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ উপকমিটির সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুজ্জামান মনির। ঝালকাঠি এক আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

মোট ভোটার দুই লাখ ১২ হাজার আটজন। জয়ের জন্য মেননের ভরসা আ.লীগ : আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে নৌকা প্রতীকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। এ আসনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম তেমন একটা না থাকলেও নৌকার ওপর ভরসা করে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী মেনন অনুসারীরা। এদিকে সূত্রও বলছে, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ঘনিষ্টজন খ্যাত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসের মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রত্যাশায় আগে থেকেই বরিশাল-২ আসনের দুটি উপজেলাতেই আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বেশ সু-সংগঠিত। সেই হিসেবে আওয়ামী লীগের সমর্থনের কারণেই মেননই জয় ছিনিয়ে আনবেন।

আর বানারীপাড়া ও উজিরপুরের আওয়ামী লীগ নেতারাও বলছেন, নেত্রীর নির্দেশ শিরোধার্য। এর ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ নেই। আর জেলা থেকেও পৌর এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নৌকার পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এরইমধ্যে।

যদিও বানারীপাড়া-উজিরপুর উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মো. মনিরুল ইসলাম, শেরে বাংলা এ.কে.এম. ফজলুল হকের দৌহিত্র বানারীপাড়া উপজেলা
আওয়ামী লীগের সদস্য এ.কে ফাইয়াজুল হক, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেনের মতো প্রার্থীসহ আরও ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন নির্বাচনের মাঠে। ফলে কাউকে অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই এ আসনে। তবে নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্ব›দ্বী সব প্রার্থীকে সমান ভেবেই কাজ করার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বরিশাল জেলা কমিটির নেতারা।


বরিশাল জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জাম্মেল হক ফিরোজ বলেন, আমরা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের উপস্থিতিতে বরিশাল-২ আসনের আওয়ামী লীগের বন্ধুদের (নেতাদের) সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট এবং আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার আশাও করছি।

এদিকে উজিরপুরে সাংগঠনিক অবস্থা ভালো থাকলেও বানারীপাড়ায় নাজুক বললেই চলে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান।

বাকেরগঞ্জ জাপার সঙ্গে নৌকার আরেক উদ্বেগ দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী : টানা ২২ বছর পর দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রচারণার মাঠে ভোট চাচ্ছেন। তবে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনার পাশাপাশি বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় এ আসনে জয়ী হওয়ার পথটা মসৃণ হবে না নৌকার প্রার্থীর।

হিসাব বলছে, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এরপর টানা ২৩ বছর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত সংসদ সদস্য হন। মাঝের ২২ বছরে ৪ বার বিএনপি ও একবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী এ আসনে নির্বাচিত হন। আর ১৯৯৬ সালের পর ২০০১ সালেও বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হন, এরপর টানা তিনবার এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ বার বিএনপি, এরপর ৪ বার জাতীয় পার্টি ও দুই বার আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসনটি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনী ফলাফলের হিসাবে, এক সময়ের বিএনপির ঘাঁটি খ্যাত
বাকেরগঞ্জ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পার্টির হাতে চলে যায়। যদিও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সংসদ নির্বাচনে জোটের স্বার্থে আসনটি গত তিন বার জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগকেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগে ভর করেই জাতীয় পার্টিকে বিগত তিন সংসদ নির্বাচনে জয়ী হতে হয়েছে। বাকেরগঞ্জ জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হলে, উপজেলা কিংবা পৌর নির্বাচনে জোটের সহযোগিতা ছাড়াই
নৌকার প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে পারতেন না। তবে টানা তিন বার জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল
আমিন হাওলাদার ও তার স্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রেসিডয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতনা এই আসনের সংসদ সদস্য থাকায় তাদের অবস্থানের সঙ্গে দলেরও অবস্থান বেশ জোরালো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতাদের। হিসাব বলছে, ভোটের দিনের আগে মাত্র একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনে নিজ দলের কোন্দল মেটাতে হবে নৌকার প্রার্থীকে।

 

তা না হলে সংসদ নির্বাচনের জন্য সদ্য অব্যাহতি নেওয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল আলম গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। কারণ ২০০৯ ও ২০১৪ সালে সালে বাকেরগঞ্জ উপজেলায় তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন, আর ২০১৯ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের একযুগের এই সভাপতি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশ বলছেন, ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫১২ ভোটের আসন বাকেরগঞ্জ উপজেলার সংসদীয় আসনের যে সীমানা, উপজেলা নির্বাচনেরও সমীনা তাই, আর এ হিসেবে মোহাম্মদ শামসুল আলম ভোটের মাঠের পাকা খেলোয়াড় এখন। নৌকাকে জিততে হলে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শামসুল আলমের সঙ্গেও হিসাবটা চুকিয়ে নিতে হবে। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শামসুল আলম বলছেন, দলের নেতাকর্মীরা তাকে সাপোর্ট দিচ্ছেন এবং দেবেন। নেত্রীর
নির্দেশ অনুযায়ী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলক করতে চান তিনি। আর নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে তিনি। যদিও জাতীয় পার্টির প্রার্থী এখনই কিছু বলতে নারাজ, তবে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী তার কর্মী-সমর্থকরা।

 




কীভাবে জনপ্রিয় সংবাদ উপস্থাপক হয়ে উঠলেন গোলাম রাব্বী

নিউজ ডেস্ক :: গোলাম রাব্বী। কাছের মানুষদের কাছে তিনি রাব্বী হিসেবে পরিচিত। এই মুহূর্তে যে কজন সংবাদ উপস্থাপক জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, তাঁদের মধ্যে তিনি একজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াকালীন টেলিভিশনে কাজ করতে শুরু করেন। সেটা ২০১০ সাল। সেই থেকে প্রায় এক যুগ ধরে দেশের জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক টিভি চ্যানেল সময় টিভিতে নিয়মিত সংবাদ দেশের জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক করছেন। এ বিষয়ে দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। সংবাদ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স-ভিত্তিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় নিত্যনতুন নান্দনিকতা যুক্ত করায় তাঁর সংবাদপাঠ উপভোগের এক অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমাদের নিউজ রুমের সঙ্গে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে গোলাম রাব্বী জানিয়েছেন তাঁর কাজের কথা, স্বপ্নের কথা।

নিউজ রুম : আপনি সংবাদের কঠিন সব বিষয়কেও সহজ ও বৈচিত্র্যময় করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। কীভাবে সম্ভব হলো কঠিন কাজটিকে এমন মজার ছলে তুলে ধরা?

গোলাম রাব্বী: আমি আসলে প্যাশনেটলি নিউজ অ্যাংকর। পেশাটা আমার ভালো লাগে। ধরুন আমি কোনো কারণে ভালো বোধ করছি না, কিন্তু আমি নিউজে বসলেই দেখি আমার ভালো লাগা শুরু হয়ে গেছে। তার মানে, নিউজ আমার কাছে একটা হিলিং ম্যাটেরিয়ালস। এতেই কারও বুঝতে বাকি থাকবে না যে, আমি নিউজের সময়টুকু কতটা উপভোগ করি। নিউজের সঙ্গে কতটা এনগেইজড থাকি। দেখা যায়, কখনো নিউজ দেখছি তো কখনো নিউজ নিয়ে ভাবছি। পাশাপাশি সব সময় নিউজের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করি। নিউজের টপিক নিয়ে একপ্রকার গবেষণা করি—কেন এই শব্দটি হলো, কেন এই শব্দটি হলো না? এই শব্দটা এভাবে না বলে এভাবে বললে কেমন হয়? একই সঙ্গে আমি যেহেতু মানুষকে সংবাদ জানাই, তাই চিন্তা থাকে কীভাবে তথ্যটি সবাই ধরতে ও বুঝতে পারবে। বলতে পারেন, ঘটনাটি সহজ করে বোঝাতে গিয়েই হয়তো আজকের এই অবস্থান তৈরি হয়ে যাওয়া।

নিউজ রুম : ছোটবেলা থেকেই কি ভাবনা ছিল একদিন সংবাদপাঠক হবেন টেলিভিশনে?

গোলাম রাব্বী: ব্যাপারটা একদমই ওরকম নয়। তবে ছোটবেলার একটা ঘটনা প্রায়ই মনে পড়ে—দেখতাম, বাবা খুব খবর শুনতেন। এমনকি তখন বাসায় টেলিভিশনও ছিল না। রেডিও ছিল। নানা সময়ে যখন ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতো, বিশেষ করে ওই দিনগুলোতে বাবা মনোযোগ দিয়ে খবর শুনতেন। আশপাশের সবাইকে জানাতেন। একদিন বাবার সঙ্গে খবর শুনছি; হঠাৎ বাবা বলে উঠলেন, ‘এমন খবরপাঠক হতে পারবা?’ বাবা তখন ওরকম গুরুত্ব দিয়ে বলেননি। আর আমিও সিরিয়াসলি নিইনি কথাটাকে। কিন্তু কেন জানি আমার মনের গহিনে কথাটা আজও বাজে। কীভাবে যে বিষয়টা সত্যি হয়ে উঠল, মিলে গেল; তা ভাবনায় এলেই খুব ভালো লাগে।
ওই যে বাবার সঙ্গে রেডিও শোনা। পাশাপাশি পছন্দের খেলা ক্রিকেটের ধারাভাষ্য শোনার পাগল ছিলাম। যেহেতু বাসায় টেলিভিশন ছিল না, রেডিওতেই নানা কিছু শুনতাম। তখন থেকেই উচ্চারণের কৌশল, কথা বলা ও ভয়েসের নানা রূপ-ঢং খুব টানত আমায়। সেটা হোক আবৃত্তি, গুণী মানুষের কথা বলা কিংবা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা। তত দিনে বুঝতে পারলাম, গলার স্বরের এই খেলাটা আমায় বেঁধে ফেলছে। শেখা বলতে গেলে, ওই থেকেই শুরু; যা আজও চলছে। এটা ঠিক যে, তখন ভাবনায়ও ছিল না এত বড় পরিসরে কখনো কাজ করা হবে। আর একদিন সবার পছন্দের তালিকায় উঠে আসব। এখনো সবকিছু স্বপ্নের মতোই লাগে।

নিউজ রুম : দেশে তো অনেকেই খবর পড়েন। অনেক দিন ধরে ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে। সে ক্ষেত্রে আপনার মতো প্রতিদিনকার ভিন্নতা অন্যদের মধ্যে কমই দেখা যায়। এই যে বিশেষ কিছু আয়ত্ত করার ব্যাপারটা নিজের মধ্যে এল কীভাবে?

গোলাম রাব্বী: একেবারেই নিজে নিজে। যেকোনো আলোচনা, টকশো, কথিকা, গানের কথা বা যেকোনো ধরনের সাউন্ড থেকে আমি শিখি। যেমন ধরেন, আমি মুভি দেখলেও মুভির কাহিনি বা অভিনয়ের চেয়ে ভয়েসের থ্রোয়িংটা বা প্রেজেন্টেশনের ঢংটা আমায় বেশি টানে। সেখান থেকেই শব্দ ও প্রেজেন্টেশনকে প্রতিদিন নিত্যনতুন স্টাইল দেওয়ার চেষ্টা করি। এমনও হয়েছে, গল্প-কবিতা বা যেকোনো কিছু পড়তে পড়তে গলা ব্যথা করে ফেলতাম। রেডিওতে বাংলা হোক, ইংরেজি হোক, শুনতে শুনতে কান ব্যথা করে ফেলতাম। তা হোক দেশীয় বা বিদেশি। এমনকি বিশ্বের প্রতিটি দেশের নেতৃত্বস্থানীয় রেডিও-টিভি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমি শুনেছি বা দেখেছি। সব জায়গা থেকেই কোনটি ভালো, কোনটি গ্রহণ করব তা নিয়ে ভাবতাম। এভাবেই আসলে একসময় নিজস্ব একটা স্বকীয়তা তৈরি হয়ে গেল।

নিউজ রুম : পরপর দুই দিন খবর দেখলেও এক দিন থেকে অন্য দিন ভিন্নতা পাওয়া যায়। কীভাবে সম্ভব?

গোলাম রাব্বী: এর জন্য সংবাদের ভেতরে ঢুকতে হবে। দেখুন, প্রতিদিনই কিন্তু নতুন ঘটনা, নতুন তথ্য। মানে নতুন কিছু। তাই আমার চিন্তায় এল, যদি আমি প্রতিদিন নতুন রূপে-ছন্দে না আসি, তাহলে আবেদনটা কমে যাবে। যেমন—আমরা কিন্তু ম্যাড়মেড়ে বা একঘেয়ে টাইপের কিছু বেশিক্ষণ ধরে রাখি না। সব সময় আমি নিজে শ্রোতা হিসেবে চিন্তা করি। বের করে আনি, কোন সংবাদ আমি কীভাবে শুনতে চাই। এমনকি খবর পড়ার সময়ও কান খাঁড়া করে শুনি। আর সেটা করতে গিয়ে ভিউয়ার্সের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠা। আরেকটি কথা, আগে বলা হতো দুঃখের খবর দুঃখ-দুঃখ ভাব আর আনন্দের খবরে হাসির ভাব আনতে হবে। এই দুটি স্টাইল দিয়ে এখন আর চলে না। এখন হচ্ছে ন্যানো সেকেন্ডের যুগ, সবাই বেশ আপডেট। প্রতিমুহূর্তে বিশ্ব পরিবর্তন হচ্ছে। আমি তো মনে করি, প্রতিটা শব্দের মধ্যে আলাদা কথা আছে, আলাদা ব্যঞ্জনা আছে। এই নতুনত্ব ও বাস্তবতানির্ভর ভয়েস বা ফিল আনাটাতেই হয়তো মানুষের কাছে আপন লাগছে।

নিউজ রুম : যারা আপনার মতো এই পেশায় আসতে চায়, তাদের জন্য পরামর্শ কী?

গোলাম রাব্বী: প্রথমত বলব, প্যাশন থাকতে হবে। পেশাটা চ্যালেঞ্জিং। আপনাকে যেকোনো সময় ডাকতে পারে, যেকোনো সময় খবর পড়তে হতে পারে। একটানা ৮ ঘণ্টা, ১২ ঘণ্টা নিউজ পড়া বা কাজ করতে হতে পারে। আরেটা জিনিস, শুদ্ধ ও সুন্দর করে পাঠ করার পাশাপাশি নিউজে বুদ্ধি, বিবেচনা, সাধারণ জ্ঞান অনেক কিছু নির্ভর করে। ইন্টারনেটে সার্চ করলে নিউজ ও অ্যাংকরিং নিয়ে ডকুমেন্টস পাবেন; সেগুলো দেখতে পারেন। তারপর নিউজ পড়তে হবে, দেখতে হবে, শিখতে হবে। সময়-সুযোগ থাকলে উপস্থাপনা ও নিউজ নিয়ে কোর্সও করা যেতে পারে।

নিউজ রুম : নিউজ প্রেজেন্টার হতে গেলে চর্চা বা প্র্যাকটিস কীভাবে করবে? আবার অনেকে নতুন মানুষ নিলেও কেউ আবার অভিজ্ঞতা চায়। সে ক্ষেত্রে কী করা যায়?

গোলাম রাব্বী: আসলে এখন চর্চার সুযোগও কিন্তু অনেক। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় থাকলে ক্রিয়েটিভ, ভলান্টিয়ার ও কালচারাল বিভিন্ন ক্লাবে যুক্ত হতে পারেন। ডিবেট করতে পারেন, লেখালিখি করতে পারেন। প্রিন্ট, অনলাইনসহ বহু গণমাধ্যমে কলাম, ফিচার লিখতে পারেন। ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল খুলেও কিছু করা যেতে পারে। মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে করে নিজেকে ডেভেলপ করা যায়।

নিউজ রুম : এই ক্যারিয়ারে আপনি অনেক বছর আছেন। মজার অভিজ্ঞতাও নিশ্চয়ই অনেক আছে?


গোলাম রাব্বী: এটা একটা চ্যালেঞ্জিং জব সত্যি। দায়িত্বশীলও বটে। তবে পেশাটাই এমন মজার যে রাজনীতি-অর্থনীতি ও সমাজের নানা দুঃখ-দুর্দশার গুরুগম্ভীর বিষয়ের সঙ্গে যেমন থাকতে হয়; তেমনি মজার, বৈচিত্র্যময়, খেলা-সাংস্কৃতিক নানা অর্জন-গর্জনের খবরও পড়তে হয়। নোরা ফাতেহির খবর যেমন পড়তে হয়, তেমনি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল; ভারত-পাকিস্তানের দ্বৈরথ নিয়েও পড়তে হয়। এই যে ক্ষণে ক্ষণে হাজারো খবর ও তথ্যের ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য, সেটা আমাকে খুব মজা দেয়।  পাশাপাশি প্রতিদিনই মজার অভিজ্ঞতা আছে। সেটা যেমন পড়তে গিয়ে হয় আবার নিউজের বাইরেও হয়। কেউ দেখলে বলে, আপনাকে চেনা চেনা লাগে। অনেকে হাত ধরে বুঝতে চায়, অনুভব করতে চায় আমি স্বাভাবিক মানুষ কী না! আবার ধরুন সিএনজি অটোরিকশা বা রিকশায় উঠছি; হয়তো কারও সঙ্গে কথা বলছি, বারবার পেছনে তাকাচ্ছে। তার মানে, ভয়েস শুনে চিনতে পারছে। একপর্যায়ে বলে ফেলে, নিউজে আপনাকে দেখছি। এ রকম হাজারো অভিজ্ঞতা আছে। এমনও হয়, অনেক সময় পাঠাও বা উবারে যাচ্ছি। কিন্তু ড্রাইভারের পছন্দের উপস্থাপক চেনার পর আর ভাড়াই নিতে চাইছে না। এ রকম অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে।

নিউজ রুম : সংবাদ উপস্থাপনায় নতুন আর কী করা যায় বা অ্যাংকরিং নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী আপনার?

গোলাম রাব্বী: সংবাদ উপস্থাপনা নিয়ে প্রতিদিন নতুন ও নান্দনিক যা করি, তা তো সবাই স্ক্রিনে দেখবে। প্রতিক্ষণে তা ফিল করবে। আর নিউ মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার এই পরিবর্তনের যুগে নিউজের ডিজিটালাইজেশন নিয়ে বহু কিছু করার স্বপ্ন আছে।




বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নের নেতৃত্বে বরিশালে বিজয় র‌্যালি

বরিশাল অফিস ;: কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশহিসেবে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদীতে বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনের নৌকার প্রার্থী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি বের করা হয়।

বরিশাল গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি। গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচএম জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ হারিছুর রহমানসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

বিজয় র‌্যালিতে গৌরনদীর সাতটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার কয়েক হাজার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। একইদিন বিকেলে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সেরনিয়াবাত আশিক আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে আগৈলঝাড়া উপজেলায় স্মরনাতীত কালের সর্ববৃহত বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।




পটুয়াখালীতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শ্রমিকের মৃত্যু

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সহকর্মী মো. জহিরুলকে (২৭) ধারোলো দা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে  শ্রমিক মো. কাওসার (২৫)।

এসময় বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর জখম হয়েছে একই পিকআপে থাকা অপর দুই সহকর্মী শ্রমিক সাইফুল (২৩) ও সাকিব (২০)। তাদেরকে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘাতক কাওসারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের বসাক বাজার কহিনুর অটো রাইসমিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জহিরুল পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের শারিকখালী গ্রামের জাকির আকনের ছেলে।

নিহতের স্বজন হাসপাতাল ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত জহিরুল, আহত দুজন ও ঘাতক কাওসারসহ ৭ জন পল্লী বিদ্যুৎ-এর পিকআপ ভ্যানে করে সকালে গলাচিপার বদুরা বাজারে দিকে যাচ্ছিলো লাইনের উপর ঝুলে পড়া গাছের ডালপালা কাটতে। পথে জহিরুলের সাথে তর্ক-বিতর্ক হয় কাওসারের। এক পর্যায়ে গাছের ডাল কাটার জন্য আনা দা দিয়ে জহিরুলের বামপাশের কানের নীচে ঘাঢ়ে আঘাত করে কাওসার। এসময় থামাতে গিয়ে কাওসারের হাতে থাকা দায়ের আঘাতে গুরুতর জখম হন অপর দুই সহকর্মী সাইফুল ও সাকিব।
তাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সকাল নয়টায় চিকিৎসার জন্য আনা হয়। জরুরী বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে নেয়ার পথে জহিরুলের মৃত্যু হয়। অপর দুই আহতকে তাৎক্ষনিক ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল রেফার করা হয়।

গ্রেপ্তার ঘাতক কাওসারের দাবি নিহত জহিরুল প্রায়ই তাকে বিরক্ত করতো। হামলার কথাও স্বীকার করেন কওসার।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার জানান, ঘাড়ের বাম পাশে গুরুতর জখম নিয়ে আসার পর ওয়ার্ডে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় জহিরুলের।

এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানায়, পল্লী বিদ্যুতের লাইন পরিস্কার রাখার জন্য গাছের ডাল কাটার শ্রমিক হিসাবে কাজ করা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা। পিকাপে বসে তর্কের এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার তুষার কান্তি মন্ডল জানান, নিহত জহিরুলসহ পিকাপে থাকা ৭ জন গাছের ডাল কাটার জন্য বাদুরার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে তাদের মধ্যে তর্কের জেরে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনকে অবিহিত করা হয়। এরা দৈনিক মজুরিতে পল্লী বিদ্যুতের লাইনের গাছ অপসারণের কাজে নিয়েজিত ছিল।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম জানান, নিজেদের মধ্যে তর্কের জেরে এ হত্যাকান্ড ঘটে। ঘাতক কাওসারকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।