পিরোজপুরে আগাম শীতে জমে উঠেছে পুরাতন শীতবস্ত্রের বাজার

পিরোজপুরে অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি আগাম শীতের প্রভাবে শহরের পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে প্রাণ ফিরে এসেছে। শহরের অলিগলিতে হালকা কুয়াশা আর ভোরবেলার শিশিরের সঙ্গে শীতের ছোঁয়া থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরাসরি নজরে দেখা যায়, পূর্বের বছরের মতো ছিন্নমূলভাবে ছড়িয়ে থাকা দোকানগুলো এবার শহরের পুরাতন ঈদগাহ ময়দানের সামনে সারি সারি সাজানো। এতে ক্রেতারা সহজে পছন্দমতো কাপড় বাছাই করতে পারছেন।

পুরাতন শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে শুধু নিম্ন আয়ের মানুষ নয়, মধ্যবিত্ত ও কখনো কখনো উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরও ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নিয়াজ মোরশেদ নামের এক ক্রেতা বলেন, “এবার আগে থেকেই শীত অনুভূত হচ্ছে, তাই গরম কাপড় কিনতে এসেছি। এখানে কম দামে ভালো মানের কাপড় পাওয়া যায়। তবে এবছর দাম কিছুটা বেশি।”

মৌসুমী বিক্রেতা মুহিদুল ইসলাম জানান, “চট্টগ্রাম থেকে কাপড়ের লট আনা হয়েছে। দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। শীতের শুরুতে কেনাবেচা ভালোই হচ্ছে।”

অন্য ক্রেতা আব্দুল্লাহ হামিদ বলেন, “রাত ও ভোরে শীত বেশি, তাই হালকা গরম কাপড় কিনতে এসেছি। এখানে মান ভালো আর দামও তুলনামূলক কম।”

পিরোজপুর জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহসানুল কবির বলেন, “আগের বছরগুলোতে ব্যবসায়ীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকলেও এবার সব দোকান পুরাতন ঈদগাহ ময়দানের সামনে বসেছে। ব্যবসা পরিচালনায় নজর রাখা হচ্ছে, আশা করি এবছর ভালো ফলাফল হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বর্গীর লাল চোখের খেলায় পাত্তা দেবে না জনগণ: মাস্টার আঃ মান্নান

বরিশালের উজিরপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মাস্টার আব্দুল মান্নান বলেছেন, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন বর্গীর বড় বড় লাল চোখকে জনগণ পাত্তা দেবে না। যদি কেউ অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তা জনগণ নিজ উদ্যোগে রুখে দেবে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে উজিরপুরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রার্থী এসব কথা বলেন। সভায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মাস্টার আব্দুল মান্নান বলেন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক উন্নয়ন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং নারী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া জনগণের অধিকার আদায়ে জাতীয় সংসদে সক্রিয় ও সোচ্চার ভূমিকা রাখারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় সাংবাদিকরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রশাসনের জবাবদিহিতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনায় প্রার্থী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আশ্বাস দেন। তিনি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিও অঙ্গীকার করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক, উপজেলা সেক্রেটারি মো. খোকন সরদার, অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আজম খান, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক সাইয়েদ আহমেদ খান, জেলা মিডিয়া বিভাগের সভাপতি হাফেজ সাইফুল ইসলাম, জেলা ওলামা ও ধর্ম বিষয়ক সভাপতি হাফেজ মাওলানা কাওসার হোসেন, পৌর আমীর মো. আল আমিন সরদার, বড়াকোঠা ইউনিয়ন আমীর আনোয়ার হোসেনসহ জামায়াতে ইসলামী উজিরপুর উপজেলা শাখার অন্যান্য নেতাকর্মীরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বঙ্গোপাধ্যায়: জামায়াতকে সতর্ক করলেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মোল্লা

বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বরগুনা-১ আসনের দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে যারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তাদের জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জামায়াতকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, ‘আপনারা যদি চরিত্র পরিবর্তন না করেন, তাহলে বাংলাদেশের মাটিতে চিরদিনের জন্য আপনারা কবর পাবেন।’

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় বরগুনা জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাব সংলগ্ন সদর রোডে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নজরুল ইসলাম মোল্লা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের কিছু নেতৃস্থানীয় শিক্ষার্থী নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ দায়ের কোনো উত্তরণ না হওয়ায় তারা আবার শিবির রূপে দেশে ফিরে এসেছে। এছাড়া কিছু ইসলামী মৌলবাদী দলও নির্বাচনের পথ বন্ধের চেষ্টা করছে। বর্তমানে জামায়াত-শিবির ভারতের ‘র’ এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে একত্রিত হয়ে জাতীয় নির্বাচনকে ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

নজরুল ইসলাম মোল্লা আরও বলেন, বিএনপি হিংসায় বিশ্বাস করে না। আমরা শুধু চাই দেশে গণতন্ত্র অক্ষুণ্ণ থাকুক এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হোক। তবে যারা বিএনপির সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে আসবে, তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে। তিনি বিএনপির সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ষড়যন্ত্র মোকাবিলার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা বিএনপির সিনিয়র ও যুগ্ম আহ্বায়করা, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচন অফিসে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, অল্পের জন্য বড় ক্ষতি এড়াল

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। সময়মতো বিষয়টি নজরে আসায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে নির্বাচন অফিসটি। খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুখে মাস্ক পরা এক যুবক ভোরের দিকে উপজেলা নির্বাচন অফিস ভবনের নিচতলার স্টোররুমে প্রবেশ করে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। এতে নিচতলায় থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও আসবাবপত্র আংশিকভাবে পুড়ে যায়। তবে অফিসে থাকা কর্মচারীরা দ্রুত পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিষয়টি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের নৈশপ্রহরী মোস্তফা হাওলাদার জানান, রাত ২টার দিকে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। এ কারণে প্রথমে আগুনের বিষয়টি টের পাননি। পরে ঘটনা জানতে পেরে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বাসুদেব সরকার বলেন, “তফসিল ঘোষণার পর থেকে আমাদের কোনো ছুটি নেই। শুক্রবার রাত প্রায় ১১টার দিকে অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় যাই। গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। নির্বাচনকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই একটি মহল এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।” তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) শেখ হেলাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দুর্বৃত্তরা ভবনের পেছনের থাই গ্লাসের জানালা কৌশলে খুলে ভেতরে ঢুকে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে দ্রুত বিষয়টি নজরে আসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। নির্বাচন অফিস থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন অফিস ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কনসার্ট বন্ধের দাবিতে ববিতে গভীর রাতে ছাত্রদলের মিছিল

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) গভীর রাতে চলমান একটি সাংস্কৃতিক কনসার্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কনসার্টে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত ১২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে চারুকলা সংসদের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১২টার পরেও উচ্চস্বরে গান-বাজনা চলতে থাকায় শেরে বাংলা হল ও বিজয়-২৪ হলের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠান বন্ধের দাবিতে মুক্তমঞ্চের দিকে যান। এ সময় মুক্তমঞ্চ এলাকায় পৌঁছালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে বাক্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

বিতণ্ডার একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি মোশাররফ হোসেন মঞ্চে উঠে মাইকে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, কিছু শিক্ষার্থী আবাসিক শিক্ষার্থীর পরিচয় দিয়ে অনুষ্ঠানে বাধা দিতে এসেছে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চা চলবে, এতে কোনো বাধা মেনে নেওয়া হবে না। তার এই বক্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এরপর ছাত্রদল ও চারুকলা সংসদের পক্ষ থেকে ‘মবের বিরুদ্ধে’ স্লোগান দেওয়া হয়। পরে ছাত্রদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে টিএসসি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তারা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কিছু শিক্ষার্থী হল থেকে এসে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে। তবে তারা কারা, সেটি ক্যাম্পাসের সবাই জানে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন। তার নির্দেশের আধাঘণ্টার মধ্যেই কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অগ্নিনিরাপত্তাহীন ভবনের ঝুঁকিতে বরিশাল নগর

বরিশাল সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরু হয় ২০০২ সালে। বর্তমানে ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস। আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে শহরে ভবনের সংখ্যা প্রায় ৬৩ হাজার হলেও এর বেশির ভাগ ভবনেই নেই আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। অগ্নিনিরাপত্তার এই ঘাটতি নগরবাসীর জন্য ক্রমেই বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও কার্যকর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা চোখে পড়ে না। গত বছর হাসপাতালটির ডায়ালাইসিস ইউনিটের ভাণ্ডার কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে মুহূর্তেই রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হাসপাতালে মায়ের চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন ধরে অবস্থান করা সায়েম নামের এক স্বজন জানান, তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরেও কোথাও দৃশ্যমান অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখতে পাননি।

তবে হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর বলেন, শিগগিরই অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বল চিত্র দেখা গেছে শিল্প এলাকাতেও। গত ৫ ডিসেম্বর বরিশাল বিসিক শিল্প নগরীর খান সন্স টেক্সটাইল মিলের একটি সুতা উৎপাদন কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কারখানার শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রটি অচল ছিল। ফলে আগুন নেভাতে শুরুতেই বেগ পেতে হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

নগরের আদালতপাড়া, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকা, ভেনাস শপিং মল, মোহসীন মার্কেট ও সিটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কার্যকর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। কোনো কোনো স্থানে থাকলেও তা কেবল নামমাত্র এবং ব্যবহার অনুপযোগী।

এ বিষয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন সিকদার বলেন, “প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস এই শহরে। কিন্তু অধিকাংশ ভবনেই আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকি না করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু সাজিদের মৃত্যু

রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু মো. সাজিদকে টানা ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। উদ্ধার শেষে হাসপাতালে নেওয়ার পর শিশুটির ইসিজি করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে চিকিৎসকরা। শিশুটির বাবার নাম রাকিব

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দীর্ঘ সময়ের রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করেন।

এর আগে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে পরিবারের বাড়ির পাশেই বহুদিনের অকেজো ও খোলা থাকা গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায় শিশুটি। নলকূপটির মালিক একই এলাকার বাসিন্দা তাহের

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে উদ্ধারে মূল গর্তের পাশ দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে নিচে নামার চেষ্টা করা হয়। বিকেলে উদ্ধারকারী দল ৪৫ ফুট গভীরেও শিশুটিকে খুঁজে না পেলেও অভিযান চলতে থাকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরামহীন উদ্ধার কাজের পর শিশুটিকে উপরে তোলা সম্ভব হয়, কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পর আর তার জীবন রক্ষা করা যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা গভীর নলকূপের মুখই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। ভবিষ্যতে এ ধরনের অবহেলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৩২ ঘণ্টা পর তানোরে গভীর নলকূপের গর্ত থেকে শিশু স্বাধীন উদ্ধার

রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু স্বাধীনকে দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টা পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। উদ্ধার শেষে শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত রেসকিউ টিম কয়েক দফা জটিল অভিযান শেষে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মঞ্জুর হক

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে। পরিবারের বাড়ির পাশের বহুদিনের অকেজো গভীর নলকূপটির মুখ খোলা ছিল। খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত সেখানে পড়ে যায় শিশু স্বাধীন। তার বাবার নাম রাকিব। নলকূপটির মালিক একই এলাকার বাসিন্দা তাহের

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মূল গর্তের পাশ দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে উদ্ধারকারী দল ৪৫ ফুট পর্যন্ত খনন করেও তাকে খুঁজে না পেলেও অভিযান থামানো হয়নি। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরামহীনভাবে উদ্ধার কাজ চালানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মানবিক এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে, তবে খোলা থাকা গভীর নলকূপের কারণে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মধ্যরাতে সিলেট অঞ্চলে টানা দুই ভূমিকম্প

সিলেটের বিয়ানীবাজার ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা এলাকায় গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে টানা দুই দফায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিট থেকে ২টা ৫৫ মিনিট—মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই বার এই ভূমিকম্পে এলাকার মানুষের মাঝে দুশ্চিন্তা তৈরি হলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্র নিশ্চিত করেছে, এটি হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলে নিয়মিত ঘটে থাকা স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্পের অংশ, যা বড় কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করে না।

রাত ২টা ৫০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৫ এবং উৎস ছিল অঞ্চলটির স্থানীয় ভূ-পৃষ্ঠের নিচে সঞ্চিত চাপ। এরপর মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে রাত ২টা ৫৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে দ্বিতীয় দফায় কম্পন অনুভূত হয় মৌলভীবাজারের বড়লেখায়। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩, যা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও বিস্তৃত এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্র জানিয়েছে, অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং টেকটোনিক প্লেটের গতিশীলতার কারণে সিলেট, আসাম, ত্রিপুরা ও মায়ানমার সীমান্তবর্তী এই এলাকাগুলোতে এমন হালকা ভূমিকম্প প্রায় সময়ই ঘটে থাকে। এসব কম্পন সাধারণত ভূ-চাপ নিরসনে ভূমিকা রাখে এবং বড় কোনো ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, মৃদু ভূমিকম্পের ফলে কোনো ধরনের ঝুঁকি বা ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি স্বাভাবিক ভূ-কম্পন কার্যক্রমেরই অংশ। তবুও ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের ঘরবাড়ি নির্মাণে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

মধ্যরাতে হওয়া এই দুই দফার কম্পনে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তানোরে নলকূপের গর্তে আটকে শিশু, ২২ ঘণ্টা পরও উদ্ধার হয়নি

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু স্বাধীনকে উদ্ধারে দমকল বাহিনীর চেষ্টা টানা ২২ ঘণ্টা পার হলেও এখনও সফলতা আসেনি। বুধবার দুপুরে ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট এলাকাটিতে অবস্থান নিয়ে নিরলসভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিব উদ্দীনের দুই বছরের ছেলে স্বাধীন বাড়ির পাশেই খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত গভীর নলকূপের জন্য খোঁড়া একটি সরু এবং দীর্ঘ গর্তে পড়ে যায়। গর্তটির গভীরতা প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট, যা শিশুটিকে উদ্ধারের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরুর পাশাপাশি এলাকায় তিনটি এস্কেভেটর এনে দ্রুত খনন শুরু করে। এস্কেভেটরের সাহায্যে শিশুটি যেখানে পড়ে গেছে তার কাছাকাছি প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত আলাদা একটি গর্ত খনন করা সম্ভব হয়। ওই খননকৃত স্থান থেকেই উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গ তৈরি করে শিশুটি যে গর্তে আটকে আছে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তবে পানি, কাদা এবং ভেতরের ঘন মাটি পুরো উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, শিশুটি নলকূপের যেকোনো স্তরে আটকে থাকতে পারে। এজন্য প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “গর্তের ভেতর যে কোনো জায়গায় শিশুটি আটকে থাকতে পারে, তাই সুড়ঙ্গ তৈরির সময় পুরো স্থাপনাটি নিরাপদ রাখা হচ্ছে।”

ঘটনার পর বুধবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত নলকূপের ভেতরে ৩০ ফুট গভীরতায় ক্যামেরা নামানো হয়, কিন্তু গর্তে ধসে পড়া মাটি, খড় এবং পানি জমে থাকার কারণে শিশুটিকে দৃশ্যমান পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার প্রথম দিকে শিশুটির কান্নার শব্দ শোনা গিয়েছিল, যা শিশুটি তখনও জীবিত থাকার আশা জাগিয়েছিল।

অন্যদিকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় পরিবার, প্রতিবেশী এবং স্থানীয়রা চরম উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ ঘটনাস্থলে ভিড় করে অপারেশন পরিস্থিতির আপডেট জানার চেষ্টা করছেন। উদ্ধার অভিযানে থাকা সদস্যরা শিশু স্বাধীনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

এ প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে এবং প্রতিটি মিনিটই শিশুটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম