বরিশাল বিভাগে ২১ আসনে ভোটগ্রহণে প্রস্তুত ২৮১৮ কেন্দ্র

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিভাগে ৬ জেলা ও ৪২টি উপজেলা মিলিয়ে ২১টি আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন শুধু অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণের অপেক্ষায় আছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ভোটগ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

বিভাগে ২ হাজার ৮১৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫০ কেন্দ্রে (দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত) ব্যালট আগে সরবরাহ করা হবে। বাকিগুলোতে নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের দিন অর্থাৎ ৭ জানুয়ারি সকালে পাঠানো হবে।

আলাউদ্দীন বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন জনগণকে উপহার দিতে বদ্ধ পরিকর। সে লক্ষ্যে ভোটের দিন পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।

পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘিরে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কার্যক্রমও চলমান রেখেছে।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগে ২১টি আসনে ভোটার সংখ্যা ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ৫২২। যার মধ্যে ৩৭ লাখ ৭৪ হাজার ১৪৮ জন পুরুষ ও ৩৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৭ নারী। হিজড়া ভোটার রয়েছে ৫৭ জন।

আর এ ভোটারদের জন্য ২ হাজার ৮১৮টি ভোটকেন্দ্রে পুরুষদের জন্য ৮ হাজার ১১৬ ও নারীদের জন্য ৯ হাজার ১৮০টিসহ ১৭ হাজার ২৯৬টি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া অস্থায়ী ভোট কক্ষের সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ৩২০টি।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ৬ জেলার ৬ জন জেলা প্রশাসককে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় অতিরিক্ত ৩ জনসহ ৪৫ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সেই সঙ্গে বরিশাল জেলায় ১৬ জনসহ গোটা বিভাগে ৬১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্বাচনী এলাকায় আসনভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২১ জন বিভিন্ন পদমর্যাদার বিচারকের সমন্বয়ে ইলেক্টোরাল ইনকুয়ারি কমিটি গঠন করা হয়।

উল্লেখ্য, গোটা বিভাগে ২১টি বিভিন্ন দলের ৯৫ প্রার্থী ও স্বতন্ত্র ২৫ জন প্রার্থীসহ ১২০ জন প্রার্থী নির্বাচনের ভোটের মাঠে রয়েছেন। তবে মৌখিকভাবে জাতীয় পার্টির দুজন ও স্বতন্ত্র একজন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।




বরিশালের সড়ক দুর্ঘটনা নিহত ২, চালাকসহ আটক ২

বরিশাল অফিস:: বরিশাল জেলার গৌরনদীতে ঢাকা- বরিশাল মহাসড়কে বাসচাপায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ বিজয়পুরে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বরিশাল গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল মোল্লা বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন তিনি জানান, গৌরনদী থেকে করে তারা মুলাদীর উপজেলার দিকে রওয়ানা দেয়। পথে মোটরসাইকলের সঙ্গে ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে মোটরসাইকলে থাকা ২ আরোহী নিহত।

এ ঘটনায় বাসচালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ১ জন বরিশালের মুলাদী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আবুল কাসেম ফরাজীর ছেলে শেখ ইয়াদ উদ্দিন কামাল (৪০)। অপরজনের নাম জানা যায়নি এখনো।




বাকেরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা চুন্নুর জনপ্রিয়তা হিংসায় জ্বলছে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের ট্রাক মার্কা স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নুর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়ন ইউনিয়নের ‘কামারখালী কেএসইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ মাঠে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উঠান বৈঠকে জনগনকে উদ্দেশ্য করে বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু বলেছেন, আমি নির্বাচিত হলে এ আসনে উন্নয়নমূলক কাজ করব। এবং জনসেবায় নিয়োজিত থাকবো।

সকল জনগণের জন্য আমার দরজা খোলা। আপনাদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে আগামী সাত তারিখে আপনারা ট্রাক প্রতীককে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন। আপনারা আমার পাশে থাকেন আমিও আপনাদের পাশে আমৃত্যু পর্যন্ত থাকবো। এটাই আমার ওয়াদা। আমার জনপিয়তা দেখে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা হিংসায় জ্বলছে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. লোকমান হোসেন ডাকুয়া বলেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনে জয়ের হ্যাটট্রিক অর্জন করেছেন। জন সেবামূলক কাজ করায় তাকে ২০২২ সালে বিভাগের উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছিল।

এখন তিনি জনসেবার কেন্দ্র পরিধি বাড়াতে ওই চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে বরিশাল-৬ আসনে উন্নয়নের পাশাপাশি নিজেকে জন সেবামূলক কাজ করতে চায়। তাই সকল জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপনার সাত তারিখ ট্রাক প্রতীকে ভোট দিয়ে চুন্নু ভাইকে নির্বাচিত করবেন। দিনে দিনে ট্রাক সমর্থক বেড়েই চলেছে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও থানা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ৭১ এর বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু। দেশ স্বাধীনের পরও তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে সমাজে উন্নয়নমূলক কাজসহ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা থাকায় তিনি তিনবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ভাল একজন মানুষ না হলে সে কখনই একই পদে পরপর তিনবার নির্বাচিত হতে পারে না। কেননা, জনগনই ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছিল।স্বদেশ প্রেম ভুক্ত মানুষকে আপনারা ভোট দিয়ে জয়ী করবেন।

এটাই আপনাদের কাছে চাওয়া। দাড়িয়াল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি সহিদুল ইসলাম হাওলাদারের সভাপতিত্বে আরো রাখেন, বরিশাল জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইরিন রেজা,

বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন, বাবু অমল চন্দ্র দাস শিবু, নেয়ামত আব্দুল্লাহ পলাশ, দপ্তর সম্পাদক আবু হোসেন খলিফা প্রমুখ।

 




আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা: র‌্যাব-৮

বরিশাল অফিস ::

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে টহল বাড়িয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৮)।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় নগরের সিএন্ডবি রোডসহ বিভিন্ন জায়গায় টহল শেষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী যুবায়ের আলম বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলিট ফোর্স র‌্যাব সর্বত্র কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৮ বরিশালে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের স্বাভাবিক টহল ও অভিযানিক কর্যক্রমগুলোর পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা রোবাস্ট পেট্রোলিং করছে। গত কয়েকদিন ধরে আমরা এটি করে আসছি।

তিনি বলেন, এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমাদের তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় সহিংসতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সে তথ্য পাওয়া মাত্রই আমরা সেখানে ফোর্স মোতায়েন করছি এবং দ্রুততার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পেরেছি।

কাজী যুবায়ের আলম বলেন, নির্বাচন ঘিরে বরিশাল বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব-৮ অনেক আগে থেকেই নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে এবং সুষ্ঠু ও পরিবেশবান্ধব পরিবেশে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে টহল কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে র‌্যাব-৮।

নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্বাচনবিরোধী অপপ্রচারণা প্রতিরোধ, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি কার্যক্রমসহ সার্বক্ষণিক র‌্যাবের ৫৪টি টহল দল দিবা-রাত্রি টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। র‌্যাব-৮ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতকল্পে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটাকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা।

তিনি বলেন, এলিট ফোর্স নির্বাচনকালীন যেকোনো সহিংসতা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও বরিশাল বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব-৮ এর সতর্কতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




মাঠে নেই সাদিক, ‘নির্ভার’ জাহিদের দুশ্চিন্তা বাড়াতে পারেন ‘অচেনা’ সালাহউদ্দিন

বরিশাল অফিস :: বরিশালের রূপাতলী এলাকার একটি চায়ের দোকানে চা পান করছিলেন কয়েকজন ব্যক্তি। শীতের সকালে চায়ের আড্ডায় তাঁদের আলোচ্য বিষয় ছিল নির্বাচন। পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি বলছিলেন, ‘মনে অইলহে ভোটে কনটেস্ট না অইলেও এইবারের প্রচারে মাঠ খুব গরম থাকপে। কিন্তু আচুক্কা মাঠটা ক্যামন ঠান্ডা অইয়্যা গ্যালো।’ তাঁর কথার জবাবে চায়ের কাপ থেকে মুখ তুলে আরেকজন বললেন, ‘এহন ক্যামন কি অইবে আনে? গরম প্রার্থীই তো মাঠে নাই।’ তখন ওই ব্যক্তি বললেন, ‘অইবে আনে, রাহ (রাখ)। ট্রাক আছে না!’

বরিশাল-৫ (সদর-মহানগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর প্রার্থিতা হারানোর পর সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সর্বত্র এমন আলোচনা চলছে। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করার পরপরই সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় মহানগর আওয়ামী লীগ। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় প্রার্থী পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ও সাদিক আবদুল্লাহর মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশা করেছিলেন নগরবাসী। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন অনেকটাই ‘নির্ভার’ জাহিদ ফারুক।

সাদিকের প্রার্থিতা বাতিলের পর আলোচনায় উঠে আসছে সালাহউদ্দিন রিপনের নাম। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। বরিশালের রাজনীতিতে সক্রিয় না হলেও সাদিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। ঢাকায় ব্যবসা করেন। সাদিকের প্রার্থিতা বাতিলের পর প্রচার-প্রচারণার গতি বাড়িয়েছেন সালাহউদ্দিন। এমনকি প্রার্থিতা ফিরে পেতে সাদিক যখন আইনি লড়াই করছিলেন, তখন সালাহউদ্দিনকেও তাঁর পাশে দেখা গিয়েছিল। আপিল বিভাগে সাদিকের প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল হওয়ার পর সালাহউদ্দিন আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, সালাহউদ্দিন হয়তো সাদিকের প্রচ্ছন্ন সমর্থন পাবেন। তাঁদের ভাষ্য, বিএনপি এবার নির্বাচনের মাঠে নেই। সাদিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে ছিটকে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের সহানুভূতি সালাহউদ্দিন টানতে চাইবেন। তা পেলে জাহিদ ফারুকের সঙ্গে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠলেও উঠতে পারেন।

বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন সাদিক আবদুল্লাহ। কিন্তু দল বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুককে দলীয় মনোনয়ন দেয়। গত সিটি নির্বাচন ঘিরে বরিশালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিভেদ দানা বেঁধেছিল। সেই বিভেদে ঘি ঢালে মহানগর আওয়ামী লীগের সমর্থনে সাদিক আবদুল্লাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে। কিন্তু সাদিকের প্রার্থিতায় বাদ সাধেন জাহিদ ফারুক। তিনি নির্বাচন কমিশনে সাদিকের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ করলে সাদিকের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। উচ্চ আদালতে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি সাদিক। এরপর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার সেই আপিলও খারিজ হয়ে যায়।

সাদিকের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পর হতাশ ও ক্ষুব্ধ হন তাঁর সমর্থকেরা। এখন নগরের ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা একটাই—সাদিক আবদুল্লাহ ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এখন কার পক্ষে নির্বাচন করবেন। সাদিক আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এই ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না, প্লিজ।’ দলীয় প্রার্থীর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘এ ব্যাপারেও কোনো কথা বলতে চাই না।’

জাহিদ ফারুকের ঘনিষ্ঠ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর আমিন উদ্দীন বলেন, বরিশাল-৫ আসনে জাহিদ ফারুক আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী। সে ক্ষেত্রে দলের নীতি-আদর্শ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি যাঁরা আস্থাশীল, দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন ও জয়ী করতে কাজ করা তাঁদের সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতার মধ্যেই পড়ে। এটা না করলে তিনি দলীয় পরিচয় দেওয়ার নৈতিক অধিকার রাখেন না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপন দুজনই বিএনপির ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। দুই প্রার্থীর পক্ষে ভোটের প্রচারে নামায় মঙ্গলবার সদর উপজেলার একজন ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পর্যায়ের চার নেতাকে আজীবন বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

জাহিদ ফারুকের ঘনিষ্ঠ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, জাহিদ ফারুক সজ্জন ব্যক্তি। এলাকার উন্নয়নে গত পাঁচ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছেন। দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির অভিযোগ না থাকায় মানুষ তাঁর প্রতি আস্থাশীল। এ ছাড়া প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না বলে মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আছে। অন্যদিকে সালাহউদ্দিনের এলাকায় পরিচিতি নেই। টাকা দিয়ে কিছুটা মাঠ গরম করা সম্ভব হলেও ভোট নেওয়া যায় না। তাঁর (সালাহউদ্দিন) পেছনে যারাই থাকুক, জাহিদ ফারুক বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

তবে সালাহউদ্দিনের সমর্থকেরা বলছেন, সালাহউদ্দিন দীর্ঘদিন সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নারী-পুরুষকে তাঁর বেসরকারি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নানা সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর বড় একটি ভোটব্যাংক তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সাদিক আবদুল্লাহ ও বিএনপির সমর্থক ভোটারদেরও তিনি সমর্থন পাবেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, এবারের নির্বাচনে বরিশালের সাধারণ ভোটাররা তাঁকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন বলে তিনি আশা করছেন। এটা বুঝতে পেরে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজন তাঁর প্রচারে বাধা দিচ্ছে। কর্মী-সমর্থকদের হুমকি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সুষ্ঠু ভোট হলে তিনি জয়ী হবেন। অভিযোগের বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর আমিন উদ্দীন বলেন, এলাকায় তাঁর (সালাহউদ্দিন) গ্রহণযোগ্যতা একেবারেই নেই। নিজের গুরুত্ব বাড়াতে উল্টাপাল্টা অভিযোগ করে ভোটের মাঠে তিনি নিজের গুরুত্ব বাড়াতে চাইছেন।

 




‘বরিশাল-৬ আসনে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী চুন্নুর ট্রাক’

বরিশাল অফিস :: “সুখে দুঃখে যাকে পাই, সে আমাদের চুন্নু ভাই’ ‘চুন্নু ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’ ‘সাত তারিখে কেন্দ্রে যান, ট্রাক মার্কায় ভোট দেন’ ‘ উন্নয়নের সুযোগ দিন, ট্রাক মার্কায় ভোট দিন” সহস্রাধিক জনগণের হর্ষধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১২ নং রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ‘আউলিয়ারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ’ সংলগ্ন এলাকার আকাশ-বাতাস। ৩ জানুয়ারী বুধবার বিকেলে বরিশাল-৬ আসনের ট্রাক মার্কা স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নুর উঠান বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন বাসিন্দাদের আয়োজিত এ উঠান বৈঠকে চারদিক থেকে প্রায় দু’ ডজন মিছিল নিয়ে আসে স্থানীয় জনগণ।

উঠান বৈঠকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু বলেন, যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন আমি জনগনের সেবা করে যাবো। এখানে এসে আমার আশা নয়, বিশ্বাস হল- আগামী সাত তারিখে আপনার ট্রাক প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন। আমি সব-সময় আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জনগণের কাছে এটা আমার ওয়াদা। জনগণের সেবার মধ্যেই নিজের অস্তিত্ব বিলীন করতে চাই।

বাকেরগঞ্জ পৌর মেয়র ও উপজেলা আ.লীগের সম্পাদক মো. লোকমান হোনে ডাকুয়া বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৬ আসনে প্রার্থী হবার পূর্বে বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু বাকেরগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সভাপতিসহ টানা তিনবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২২ সালে বরিশাল বিভাগের উপজেলা পর্যায় শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৯ সালে তিনি বিনাপ্রতিদ্বদ্বিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। রানিং ওই চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জনগন সব-সময়ই তার পাশে আছে এবং থাকবে। সে জন্যই ৭ তারিখ ট্রাক মার্কার জয় হবে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও থানা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান বলেন, শামসুল আলম চুন্নু একজন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবক মানুষ। তার জনপ্রিয়তার জন্যই তিনি বারবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। জনগণের পাশাপশি অনেক নেতাও তার সাথে আছে।

এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন, আ. কুদ্দুস মন্টু, শওকত হোসেন, মজিবুর রহমান, আবুল হোসেন ও আনোয়ারুল হক ভূইয়া প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও ইউনিয়নের আ.লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীরা।

 




রাঙ্গাবালীর নিখোঁজ জেলের ভাগ্যে কী ঘটেছে স্বজনরা জানতে চান

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): সুখ-দুঃখ আর হাঁসি-কান্নায় বছর ঘুরে এসেছে নতুন বছর। কিন্তু রয়ে গেছে ২০২৩ সালের দুঃখ গাঁথা একটি ঘটনা।

পেটের তাগিদে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে নিখোঁজ হন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর ২৫ জেলে। যাদের সন্ধান এখনো মেলেনি। তাই নতুন বছরে আনন্দ নেই ওইসব পরিবারের।

বরং তাদের প্রশ্ন-নিখোঁজ জেলেদের ভাগ্যে কী ঘটেছে? জানতে চান তারা।

জানা গেছে, গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলির ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হন এই ২৫ জেলে। ঘটনার দেড় মাস হয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে তিন বোনের তিন ছেলেও রয়েছে। তারা হলেন-উপজেলার ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের জিসান, নয়াভাঙ্গুনী গ্রামের তামিম ও কামরুল। ওই ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসান জোমাদ্দারের ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তিন খালাতো ভাই। কিন্তু ঝড়ের পর বাড়ি ফেরা হয়নি তাদের। পরিবারের সঙ্গেও হয়নি কোনো যোগাযোগ। তাই দিশেহারা তাদের পরিবার।

নিখোঁজ তিন জেলের মামা শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমরা ট্রলার নিয়ে অনেক খোঁজা খুঁজি করেছি। এখনো খোঁজ খবর নিচ্ছি। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। ওরা বেঁচে আছে নাকি নাই, তা-ও জানতে পারছি না।’ শুধু এই তিন জেলে পরিবারের এমন হতাশা নয়-বাকি ২২ জেলে পরিবারের ভাষ্যও একই।

তারা বলছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। সুন্দরবন ও মোংলা গিয়েও অনেক খোঁজা খুঁজি করা হয়েছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির পর থেকে নিখোঁজ হয় উপজেলার ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসান জোমাদ্দারের ট্রলারের জিসান, তামিম, কামরুলসহ ৮ জন জেলে, মৌডুবী ইউনিয়নের কাজিকান্দা দিদার মৃধার ট্রলারের ৮ জেলে এবং একই এলাকার হিমু হাওলাদারের মালিকানাধীন ট্রলারের ৯ জেলে।




পরিকল্পিতভাবে পুরাতন মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়: আ.লীগ

বরিশাল অফিস :: পরিকল্পিতভাবে কিছু পুরাতন মোটরসাইকেল আগে থেকে এনে রেখে, তাতে অগ্নিসংযোগ করেছে স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা; এমনটাই দাবি করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক।

মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বানারীপাড়া পৌর খেয়াঘাট এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা তুলে ধরেন তিনি।

গোলাম ফারুক বলেন, চারদিকে নৌকার জোয়ার দেখে আওয়ামী লীগকে দায়ী করার জন্যই এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বরিশাল-২ আসনে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে সভা করেছেন এবং জোড়ালোভাবে কাজ করার জন্য বলেছেন।

যার প্রেক্ষিতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে এবং ফলশ্রুতিতে বানারীপাড়া পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নৌকার গণজোয়ার উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, এটা টের পেয়ে স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা মঙ্গলবার ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে মহড়া দেয়। মহড়ার সময় তারা রামদা, হাতুড়িসহ দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত ছিল।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বেলা ১২টার দিকে বিশারকান্দির চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা সাইফুল ইসলাম শান্তসহ ১০-১২ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে বটতলা এলাকায় নৌকার পক্ষে গণসংযোগ চালানো হয়।

ওই সময় স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলা চালিয়ে তারা বাইশারিতে এসে আমার এলাকায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কিছু পুরাতন মোটরসাইকেল রেখে, তাতে অগ্নিসংযোগ করে।

চারদিকে নৌকার জোয়ার দেখে আওয়ামী লীগকে দায়ী করার জন্যই এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা হয়েছে।

বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানা বলেন, বিশারকান্দিতে আমাদের আহত ৯ নেতাকর্মীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু তাদের ওপর যদি হামলা হতো, তাহলে সেই আহতরা কোথায়? তাদের আহত একজনও দেখলাম না হাসপাতালে।

তিনি বলেন, যখন মানুষ দুপুরের খাবার খাবে নয়তো খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিতে নিজ নিজ বাড়িতে ব্যস্ত ছিল, তখন একটি নাটক সাজিয়ে এখন দায় আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর চাপাচ্ছে। কিছু পুরনো গাড়ি জমায়েত করে ওখানে আগুন দিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এর সঠিক তদন্ত করা হোক।

যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাইয়াজুল হক রাজু জানান, ঈগল প্রতীকের পক্ষে মোটরসাইকেলে মিছিল নিয়ে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার মরিচবুনিয়া থেকে বানারীপাড়া পৌর শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়। বাইশারি কলেজের উত্তর পাশে পৌঁছালে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানাসহ লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং গুলি ছুঁড়ে। এতে তাদের অন্তত ৪০ জন কর্মী আহত হন। এছাড়া হামলাকারীরা ১২টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং চারটি মোটরসাইকেলে পিটিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছে।

এদিকে ঘটনার পরপরই ওই এলাকায় র‌্যাব-পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শক করেছেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পৌর শহরে পাল্টাপাল্টি মিছিল করেছে দুই পক্ষ। এদিকে উভয় পক্ষই মামলা দায়েরের কথা জানিয়েছেন।

 




ভোলার মনপুরা দ্বীপ থেকে রাসেল ভাইপার উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: এবার ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক এলাকার কামাল হুজুরের বাড়ি এলাকার মেঘনা নদী পাড়ে পরিত্যক্ত জালে আটকা পরে সাপটি। পরে স্থানীয়দের খবরে উদ্ধারের পর বনবিভাগের সংরক্ষিত গহীন অরণ্যে সাপটি অবমুক্ত করা হয়। এ নিয়ে ভোলায় ২০টি রাসেল ভাইপার সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

ভোলা বন বিভাগের বণ্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মনপুরা উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, মনপুরা উপজেলার ১নম্বর মনপুরা কাউয়ারটেগ এলাকা সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে জেলেদের পরিতক্ত একটি জালে রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপটি দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে তারা বন বিভাগে খবর দেয়। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন বিষধর সাপটি উদ্ধার করে বনবিভাগের রামনেওয়াজ বিটের গহীন অরণ্যে অবমুক্ত করে।

তিনি আরও জানান, অনেকটা অজগরের মতো দেখতে রাসেল ভাইপার সাপটি ৩ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা এবং ওজন প্রায় ৬০০ গ্রাম। ওই এলাকাটি মেঘনা নদী তীরবর্তী হওয়ায় সাপটি জোয়ারের পানিতে ভেসে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ভোলা বন বিভাগের বণ্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, সাপটি অনেকটা অজগরের মতো দেখতে হলেও এটি আসলে পৃথিবীর অন্যতম বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার। ভোলা থেকে এনিয়ে গত ৫ বছরে ২০টির বেশি রাসেল ভাইপার সাপ উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ। বিষধর হলেও সাপটি শান্ত প্রকৃতির। এ প্রজাতির সাপ দেখলে না মেরে বন বিভাগে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।




জাতীয় সমাজসেবা দিবস উপলক্ষে কাউখালীতে শোভাযাত্রা

বরিশাল অফিস ::  পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে, মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় সমাজ সেবায় গড়বো দেশ, স্মার্ট হবে বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় সমাজসেবা দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।

পরে উপজেলা হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল মোল্লার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মহাসিন কবির, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান, সমাজসেবক আবদুল লতিফ খসরু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাউখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বশির আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচনা শেষে সমাজ সেবা দিবস উপলক্ষে উপজেলার ৬৪ জন ঋণ গৃহীতাকে ২১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা সুদ মুক্ত ঋণ বিতরণ করা হয়। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মহাসিন কবির জানান, কাউখালীতে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা সহ ৮ হাজার একশত ৩৩ জন ব্যক্তি বিভিন্ন প্রকার ভাতা পাচ্ছে।