জাহিদ ফারুক নির্বাচিত হওয়ায় ফুলের শুভেচ্ছা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলা অঅওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কলের্ণল (অবঃ) জাহিদ ফারক শামীম এমপি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর (৫) আসন থেতে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় তাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশ আওয়ামী ওলাম লীগ বরিশাল মহানগর শাখা নেতৃবৃন্দ।

আজ সোমবার (৮) জানুয়ারী নভগ্রামরোডস্থ তার বাসভবনে সকালে জাহিদ ফারক
শামীমকে ফুলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।




পিরোজপুর-১, দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী শ ম রেজাউল করিম

বরিশাল অফিস :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে (পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী) ১৬৭টি কেন্দ্রের সবকয়টি ফলাফলে বর্তমান সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম নৌকা প্রতীকে ৮৫ হাজার ৪১০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

রোববার  (০৭ জানুয়ারি) পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী একে এম এ আউয়াল পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৮৭ ভোট পেয়েছেন। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে তৃণমূল বিএনপির মো. ইয়ার হোসেন রিপন ৮৭৪ ভোট, জাপার নজরুল ইসলাম ১ হাজার ২৩৬ ভোট। পিরোজপুর-১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩০৬ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৩২ জন।

প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৬৩ হাজার ০০৭ ভোট। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৪৫.২৮ শতাংশ। জয়ের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, এ জয় অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রার জয়। পিরোজপুরের শান্তিপ্রিয় জনগণ কোন সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজ ও পরিবারতন্ত্রকে চায় না, তা এই ভোটের মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে।

এ বিজয় সাধারণ মানুষের, এ জয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। শ ম রেজাউল করিম বলেন, এর পূর্বেও এ এলকার মানুষ আমাকে বিপুল ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, আমি তাদের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে চেষ্টা করেছি।




পটুয়াখালীতে নৌকার ৭ কর্মীকে কোপাল ঈগলের সমর্থকরা

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিজয়ী প্রার্থীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসার পথে নৌকার ৭ কর্মীকে কুপিয়ে জখম করেছে পরাজিত ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা। সোমবার সকাল দশটার দিকে উপজেলার টিয়াখালী হাটখোলা বাজার সংলগ্ন মুজিব কিল্লার পাশে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে মুমূর্ষু অবস্থায় বশির চৌকিদার (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিয়াখালী হাটখোলা বাজার থেকে এমপির সঙ্গে দেখা করতে উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসের উদ্দেশে রওনা দেয় নৌকার সমর্থকরা। এ সময় ওই বাজার সংলগ্ন মুজিব কিল্লা এলাকায় পৌঁছালে টিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান সুজন মোল্লার নেতৃত্বে ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কলাপাড়া থানার ওসি আলী আহম্মদ জানান, এ ঘটনায় এখনো অভিযোগ পাইনি। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।




পটুয়াখালীর ৪টি আসনে নির্বাচিত হলেন যারা…

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালী জেলার ৪টি আসনে বে-সরকারী ভাবে নির্বাচিত হলেন পটুয়াখালী-১ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, পটুয়াখালী-২ আসনে বে-সরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছে নৌকা প্রতিকের আ স ম ফিরোজ, পটুয়াখালী-৩ আসনের বে-সরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছে নৌকা প্রতিকের এস এম শাহাজাদা, পটুয়াখালী-৪ আসনে বে-সরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছে নৌকা প্রতিকের মহিববুর রহমান।

জানা গেছে পটুয়াখালী-১ আসনে মহাজোটের প্রার্থী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ৫৪৬৩৪ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে তিনি ৮১৫০৮ ভোট পেয়েছেন।

আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী নাসির উদ্দীন তালুকদার ডাব প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৬৮৭৪ ভোট।
রোববার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যালটে ভোটগ্রহণ হয়। এরপর মোট ১৫৯ কেন্দ্রের সবগুলোর ভোট গণনা শেষে রাত পৌনে ৮টার দিকে এ ফলাফল জানা যায়।

অপরদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মো. মহিববুর রহমান (নৌকা) প্রতীক নিয়ে ৫৬২৫৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভোবে বিজয়ী হয়েছেন। রোববার (০৭ জানুয়ারি) স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত ফলাফলে বেসরকারিভাবে মো. মহিববুর রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

আওয়ামী লীগের মো. মহিববুর রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বিন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান (ঈগল) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৫৪২০। এছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু (মশাল) পেয়েছেন শূন্য ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেসের জাহাঙ্গীর হোসাইন (ডাব) নিয়ে শূন্য ভোট পেয়েছেন।

এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম লিটন (ট্রাক) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন শূন্য ভোট ও জাতীয় পার্টির আ. মন্নান হাওলাদার ( লাঙ্গল) নিয়ে শূন্য ভোট পেয়েছেন।

পটুয়াখালী-৪ আসন: নং ১১৪, মোট কেন্দ্র: ১১০

এ আসনে মোট ভোটার ২৯০,৬৮৮, মোট কেন্দ্র ১১০ এবং পুরুষ ভোটার ১৪৬,৮৬১ ও নারী ভোটার ১৪৩,৮২৪।




স্বতন্ত্রের কাছে পরাজয় হলেন যেসব হেভিওয়েট প্রার্থী

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : অনেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্রের কাছে গেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে কম ভোট পেয়েছেন। তবে এর মাঝেও চমক দেখিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। নৌকা প্রতীক না পেয়েও দেশজুড়ে জয় লাভ করেছেন ষাটটিরও বেশি আসনে।

আর পরাজয়ের তালিকায় রয়েছেন হেভিওয়েট বেশ কয়েকজন প্রার্থীও।

যেখানে আলোচিত নাম জাসদের হাসানুল হক ইনু। সাবেক এ তথ্যমন্ত্রী কুষ্টিয়া ২ আসন থেকে এবারও নৌকা প্রতীকে দাঁড়িয়েছিলেন। ট্রাক প্রতীকের কামরুল আরেফিনের কাছে ২৭ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন এ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।

প্রথমবারের মতো আসন হাতছাড়া করেছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জুও। জাতীয় পার্টি জেপির চেয়ারম্যান হওয়া স্বত্তেও নৌকা প্রতীক নিয়ে হেরে গেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামীলীগ নেতা মহিউদ্দীন মহারাজের কাছে।

প্রথমবার হারের মুখ দেখেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। টাঙ্গাইল ৮ আসন থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত অনুপম শাহজাহান।

এদিকে এক বাদশাহ হেরে গেছেন আরেক বাদশাহর কাছে। রাজশাহী ২ সদরে স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান বাদশা কাঁচি প্রতীক নিয়ে জয় পেয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাকে বিরূদ্ধে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ আরেও একবার হেরে গেছেন নিক্সন চৌধুরির কাছে। ফরিদপুর ৪ আসন থেকে ২৩ হাজার ৯৬৯ ভোটের ব্যবধানে ঈগল প্রতীক নিয়ে জয় লাভ করেছেন নিক্সন, টানা তৃতীয়বার।

হবিগঞ্জ ৪ আসনে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন প্রথমবারেই বাজিমাত করেছেন। ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রায় এক এক লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন সাবেক বিমান প্রতীমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ মাহবুব আলীকে

অঘটনের শিকার আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পদক আব্দুস সোবহান গোলাপ। মাদারীপুর তিন আসন থেকে হেরে গেছেন ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়াই করা তাহমিনা বেগমের কাছে।

আওয়ামীলীগের ছেড়ে দেয়া ঢাকা ১৮ আসন থেকে ভরাডুবি হয়েছে জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরীফা কাদেরের। মাত্র ছয় হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন শেরীফা। এই আসন থেকে কেতলির খসরু চৌধুরী নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন।

মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর, হরিরামপুর ও সদরের একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের জাহিদ আহমেদ টুলুর কাছে হেরেছেন তিনি।

এবার নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলো ১১ কোটি ৯৭ লাখ। এর মধ্যে ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন পুরুষ, ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন নারী এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৮৫২। মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ১০৩টি। ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২টি।

ইসির দেওয়া তথ্যমতে, নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ভোট হয়েছে ২৯৯ আসনে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নওগাঁ-২ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। নির্বাচনে ২৮টি দল অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৫৩৪ জন এবং স্বতন্ত্র ৪৩৬ জন। নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ২৬৬ জন প্রার্থী ছিল আওয়ামী লীগের। এ ছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬৫ জন প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৩৫ জন প্রার্থী রয়েছেন ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আসা তৃণমূল বিএনপি।

এদিকে বিএনপিসহ ৬০টি দল নির্বাচন বর্জন করেছে। দলটি সরকার পতনের এক দফা দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে সফলতা না পেয়ে নির্বাচনের দুই মাস আগ থেকে হরতাল-অবরোধের পথ বেছে নেয়। এতে সরকারকে চাপে ফেলতে না পেরে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে গত ২০ ডিসেম্বর ‘অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেয় দলটি। পাশাপাশি সরকারকে সকল প্রকার কর, খাজনা, পানি, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ বিল দেওয়া স্থগিত রাখার অনুরোধ জানায় দলটি।




বরগুনা-২ আসনে সুলতানা নাদিরা নির্বাচিত

বরিশাল অফিস :: বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনে সুলতানা নাদিরা নৌকা প্রতীকে ৪৬ হাজার ৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রার্থী নোঙ্গর প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) মনোনীত প্রার্থী দলের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ড. আব্দুর রহমান খোকন পেয়েছেন ১ হাজার ২৭ ভোট।

তাছাড়া ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান ৫১৫ ভোট, একতারা প্রতীকে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক ২০৮ ভোট, হাতুড়ি প্রতীকে ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন ৯০ ভোট,সোনালী আঁশ প্রতীকে তৃণমূল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান লিটন ৮৪ ভোট ও ফুলের মালা প্রতীক পেয়েছেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম ৭৬ ভোট পান।




বরিশালে ২০৮ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে এবার মোট ভোটার ২১ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৪ জন। রবিবার জেলার ৮২৭টি ভোট কেন্দ্রের ৪ হাজার ৯শ ৪১টি কক্ষে ভোট দেবেন তারা।

বরিশাল জেলার ৬টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক ৪ লাখ ৬৮ হার ৫৬৩ ভোটার এবং সর্বাধিক ১৭৬টি ভোট কেন্দ্র বরিশাল-৫ (সদর) আসনে। সব কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠিয়েছে নির্বাচন কর্মকর্তারা। ব্যালট পেপার যাবে ভোট শুরুর আগে। সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে সবগুলো কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম।

বরিশাল জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান জানান, জেলার ৮২৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০৮টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্রে পুলিশ এবং আনসারসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ১৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৭ জন সদস্য।




বরিশালে নৌকার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-৫ (সদর) আসনের ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপনের সমর্থকদের বিরুদ্ধে শুক্রবার দিবাগত রাতে পরিকল্পিতভাবে নৌকার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় কমপক্ষে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুরুত্বর আহত তিনজনকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অভিযোগ করেন, নৌকার সমর্থকরা তার নিজ বাড়ির সামনের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। এ সময় তার কমপক্ষে ২০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে। এ সময় গ্রামবাসী দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে। তবে ঘটনার পর সরজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরাটি রহস্যজনকভাবে সম্পূর্ন আকাশমুখী অবস্থায় রয়েছে। একই সাথে ট্রাক মার্কার কয়েকজন নারী কর্মীকে অজ্ঞান হবার অভিনয় করতে দেখা যায়। তাদের পাশে বসে অন্যরা সেই নারী কর্মীদের অজ্ঞান হবার অভিনয় চালিয়ে যাবার পরামর্শ দিচ্ছেন।

অপরদিকে নৌকার সমর্থকরা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের কর্মীদের উপর পরিকল্পিভভাবে নৃশংস হামলার পর পুরো ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য ট্রাক মার্কার প্রার্থী নাটক সাজিয়েছেন। ট্রাকের কর্মীদের হামলা ও মারধরে আহত হয়ে নৌকার তিন কর্মী শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি নৌকার কর্মীদের তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।

আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে নৌকার দুই কর্মীকে। হামলায় গুরুত্বর আহতরা হলেন-নৌকার কর্মী মোঃ ফেরদৌস, অভি ও রাফি। মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসীম উদ্দিন জানান, তারা চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম ওরফে ইটালী শহীদের বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে সালাহউদ্দিন রিপনের বাড়ির সামনে দিয়ে আসার সময় ট্রাক মার্কার সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপন অভিযোগ করেন, নৌকার লোকজনে তার নিজ বাড়ির সামনের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। হামলায় তার ২০ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বেলা এগারোটার দিকে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপন। তিনি প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একইসাথে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি করেন।

কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে তিনিসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, দ্বৈত্য নাগরিকত্বের কারণে নিজের প্রার্থীতা হারিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে ট্রাক মার্কার প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপনকে সমর্থন জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহপন্থী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরপর থেকেই উত্যপ্ত হয়ে ওঠে নির্বাচনী মাঠ।




বরিশাল-৬ আসন: নির্বাচনে জয়ী হলে জনগণকে দেয়া ওয়াদা রাখবো- মুক্তিযোদ্ধা চুন্নু

রিশাল অফিস :: জীবনের অস্তিত্ব আর যতদিন আছে, ততোদিন মানুষের সেবা করে যাবো। যেখানেই প্রচার-প্রচারণা করেছিলাম সেখানের জনগণদের এই ওয়াদা দিয়েছি। নির্বাচিত হলে জনগণকে দেয়া ওয়াদা সর্ব প্রথম রক্ষা করবো প্রতিবেদককে এমন কথা বলেছেন বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের ট্রাক মার্কা স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু । তার সাথে থাকা বাকেরগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. লোকমান হোসেন ডাকুয়া বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক উন্নত হয়েছে। শহর ও গ্রামে আগের তুলনায় শিক্ষার হার বেড়েছে। তাছাড়া পাশের ফলাফলে একধিকবার দেশ সেরা হয়েছে বরিশাল। এ সব শিক্ষর্থীরা যখনই শুনে শামসুল আলম চুন্নু একজন বীর-মুক্তিযোদ্ধা, আ.লীগ নেতাসহ তার উপজেলায় উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

এ সব শুনেই অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা সেচ্ছায় চুন্নু ট্রাক প্রতীকের পক্ষ নিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বরিশাল- ৬ আসনে ট্রাক প্রার্থী জনপ্রিয়তায় ও সমর্থন শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। আশা নয় বিশ্বাস করি, বিপুল ভোটে ট্রাক প্রতীকের জয় হবে। একইভাবে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও থানা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান বলেন,বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু ভালো মনের একজন মানুষ।

জনগণ তাকে ভালোবাসে বলেই একই পদে পরপর তিনবার তাকে নির্বাচিত হয়েছিল। তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বাকেরগঞ্জ সদর উপজেলাসহ অধিকাংশ ইউনিয়নের আ.লীগর নেতাকর্মী। তিনি মনে করেন, উপজেলার মতই জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জনগণ ট্রাক প্রতীকে ভোট দিয়ে মুক্তিযোদ্ধ চুন্নুকে জয়ী করবে।

৫ ডিসেম্বর শুক্রবার চরাদি, চরামদ্দি, ফরিদপুর ও নলুয়া সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, চায়ের দোকান ও নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বসতঘরের সামনে ট্রাক মার্কার পোস্টার লাগিয়ে জনগণ প্রার্থীর পক্ষের লোক বলে জনান দিচ্ছে। পাশাপাশি চায়ের দোকানগুলোতে আসা মানুষগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনা ঝড় তুলেছে। তারা প্রার্থীদের বর্তমান ও অতীত কার্যক্রম নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তুলেছেন।

আয়নাল খান, রাজিব হোসেন, রুবেল হাওলাদার ও শহিদুল ইসলামসহ ১০/১২ জনে বলছেন, যুদ্ধ করে এ দেশের মানুষদের স্বাধীনতা অর্জন করে দিয়েছিলেন চুন্নু মত হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা। সেই মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের দল আ.লীগের সমর্থক হয়ে যুগ ধরে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ছিলেন।

আবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে হ্যাট্রিক অর্জন করেছেন চুন্নু। জনপ্রিয়তা না থাকলে তিন এতদূর পর্যন্ত এগিয়ে আসতে পারতেন না। তারা দেশ প্রেমিক চুন্নু সমর্থন বলে প্রকাশ্যে জানান দেয়। আলোচনায় উঠে এসেছে, উপজেলা আ.লীগের সভাপতিসহ পরপর তিনবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু। তিনি রানিং চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে হয়েছেন এমপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী।

সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাও করছেন উপজেলা আ.লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী। জনসমর্থনে ট্রাক মার্কা রয়েছে অনেক এগিয়ে। অনেকেরই ধারণা, এ আসনটিতে বিপুল ভোটে জয় অর্জন করার সম্ভবনা রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা চুন্নুর। কেননা, জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ হয়েছেন তিনি।

 




পিরোজপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ১৩০ ভোটকেন্দ্র

বরিশাল অফিস :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে পিরোজপুর জেলায় তিনটি সংসদীয় আসনে ৪২০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩০টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে জানান জেলা রির্টানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান। এদিকে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি শেষের দিকে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। সুষ্ঠু নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে এবং সহিংসতা ঠেকাতে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ।

জেলায় এক ব্যাটালিয়ান (৪৭০ জন) সেনা সদস্য ও ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল দিচ্ছেন। নির্বাচনকালীন যেকোনো সহিংসতা এড়াতে নিয়মিত টহল দেবে সেনাবাহিনী। ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের তিন দিন পর পর্যন্ত মাঠে থাকবেন তারা।

পিরোজপুর-১ আসনে ১৬৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬১টি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। ১০৬টি ভোটকেন্দ্র স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৩৩ জন আর পুরুষ ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩০৪ জন।

পিরোজপুর-২ আসনে মোট ১৬৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ১৫২টি ভোটকেন্দ্র স্বাভাবিক রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৬ জন আর পুরুষ ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২৫ জন।

পিরোজপুর-৩ আসনে ৮৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪২টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। ৪২টি ভোটকেন্দ্র স্বাভাবিক রয়েছে। পিরোজপুর-৩ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৪২ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ১০ হাজার ৪৭৪ জন আর পুরুষ ১ লাখ ১২ হাজার ৯৬৭ জন।

পিরোজপুরের ৩টি আসনে নির্বাচনে ১২টি দলের ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাঠে রয়েছেন ৭ জন প্রার্থী। জেলায় মোট ভোটার ৯ লাখ ৪ হাজার ৯৭২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৪ লাখ ২ হাজার ৮৭৩ আর পুরুষ ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ২ হাজার ৯৬ জন।

জেলা রির্টানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ’জেলায় তিনটি সংসদীয় আসনে ৪২০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩০টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি পিরোজপুর-১ আসনে ৬১টি, পিরোজপুর-২ আসনে ১৭টি এবং পিরোজপুর-৩ আসনে ৪২টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার বাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা থাকবে। ভোটের দিন এসব কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ ভাবে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’