কলাপাড়ায় মাশরুম চাষে যুবকের ভাগ্য বদল

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে প্রথমবারের মতো বানিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষে ভাগ্য ফিরেছে এক যুবকের। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ১ হাজার খড়ের স্পন প্যাকেট। আর এ স্পন থেকে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো মাশরুম বিক্রি করে মাসে আয় করছেন প্রায় লাখ টাকা। বর্তমানে এ যুবকের সাফল্য পুরো এলাকাজুড়ে সাড়া ফেলেছে।

পটুয়াখালী পৌর শহরের দক্ষিন কালিকাপুর এলাকার সুশান্ত মজুমদারের ছেলে সৌমিত্র মজুমদার শুভ। ২০১৭ সালে এলএলবি পাশ করে ঢাকায় এক আইনজীবির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৯ সালের করোনাকালীন সময়ে তেমন একটা আয় না থাকায় এলাকায় ফিরে আসেন তিনি। বেশ কিছুদিন বেকার থাকার পর জামার্নি খালাতো বোনের পরামর্শে আগ্রহী হন মাশরুম চাষে। পরে সাভারের জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন সেন্টারে দুই মাসের প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ গ্রামের খালার বাড়িতে ৫০ টি স্পন প্যাকেট দিয়ে শুরু করেন মাশরুম চাষ। ফলন ভালো হওয়ায় ওই বাড়ির ২০ শতাংশ জমিতে দুটি সেডের মাধ্যমে বানিজ্যিকভাবে গড়ে তোলেন মাশরুম খামার। বর্তমানে তার খামার থেকে প্রতিনিয়ত ১৫ কেজি করে মাশরুম পাচ্ছেন তিনি। তাতেও মেটাতে পারছেননা স্থানীয় চাহিদা।

সৌমিত্র মজুমদার শুভ (মাশরুম চাষী) বলেন, সরকারী সহায়তা ও স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা পেলে এ খামার বৃদ্ধির মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন বলে দাবি।

খামার পরিচর্যাকারী কর্মীরা বলেন, এ কাজে তেমন একটা পরিশ্রম নেই বললেই চলে ।

ভাই জীবন বিশ্বাস ও জামার্নি প্রবাসী খালাতো বোন রত্না বিশ্বাস বলেন, শুভর এ সাফল্য দেখে আমরা স্বজনরা গর্বিত ।

কৃষিবিদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের মানুষ মাশরুমের গুণ সম্পর্কে তেমন একটা জানেন না। মাসরুম সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা রয়েছে। অনেকেই মনে করে এটা একটা ব্যাঙের ছাতা বিষাক্ত জাতীয় কিছু কিন্তু এটা পুষ্টিকর খাবার এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি জানালেন জেলার এই কৃষিবিদ ।




পটুয়াখালীর চারটি আসনে প্রার্থী ২২, জামানত নেই ১৫ জনের

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী):  জেলার চারটি আসনের তিনটিতে আওয়ামী লীগ ও অপরটিতে মহাজোটের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন।

এসব আসনে ২২ জন প্রার্থীর মধ্যে পরাজিত ১৫ প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

এর মধ্যে পটুয়াখালী সদরে চারজন, বাউফলে তিনজন, গলাচিপায় চারজন, কলাপাড়ায় চারজন।

পটুয়াখালী জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা ফলাফলে বিশ্লেষণে এসব তথ্য দেখা গেছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী-১, পটুয়াখালী-২ ও পটুয়াখালী-৩ আসনেই ছিল হেভিওয়েট প্রার্থীরা। জামানত হারানোদের প্রাপ্ত ভোটের চিত্র অত্যান্ত করুন। নির্বাচনী আইন অনুসারে প্রদত্ত ভোটের ৮ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। প্রার্থীরা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় এই জামানত জমা দেন।




কোলকাতা থেকে ফিরতিযাত্রা শুরু করল ‘এমভি রাজারহাট-সি’

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃদেশীয় নৌপথে বেসরকারী প্রমোদতরী ‘এমভি ভি রাজারহাট-সি’ দ্বিতীয় যাত্রায় ফিরতি ট্রিপে অর্ধ শতাধিক যাত্রী নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোলকাতা ত্যাগ করেছে।

‘কার্নিভাল ক্রুজ শিপিং লাইন্স’র পরিচালক ইমরান খান রাসেল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইনকিলাবকে জানান, গত ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে যাত্রা করে বরিশাল হয়ে ৩০ ডিসেম্বর সকালে কোলকাতার বাবু ঘাটে পৌছে তাদের নৌযানটি। সুন্দরবনের গহীন এলাকা হয়ে ২৮ ডিসেম্বর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অংটিহারাতে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ঐদিন দুপুরে ভারতে প্রবেস করে কোলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পরদিন ভোরে সেখানের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে যাত্রীরা অবতরন করেন।

নৌযানটি ফিরতি যাত্রায় ৩ জানুয়ারী কোলাকাতা থেকে রওয়ানা হবার কথা থাকলেও ননা কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক। ১১ জানুয়ারী সন্ধ্যা নাগাদ এমভি রাজারহাট-সি ঢাকা পৌছতে পারে বলে জানা গেছে। চলতি মাসেই নৌযানটির কোলকাতার উদ্দেশ্যে তৃতীয় যাত্রার আয়োজন করা হবে বলেও জানা গেছে।

এরআগে গত ২৯ নভেম্বর ঢাকা থেকে এবং ৪ ডিসেম্বর কোলকাতা থেকে বিপুল সংখ্যক যাত্রী নিয়ে ২১০ ফুট দীর্ঘ বিলাসবহুল বেসরকারী নৌযান ‘এমভি রাজারহাট-সি’ প্রায় ১শ যাত্রী নিয়ে তার প্রথম অঅন্তঃদেশীয় যাত্রী পরিবহন সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করে।

বিলাসবহুল এ নৌযানটিতে ঢাকা থেকে কোলকাতার একক পথে ৪০% রেয়াত দিয়ে ভ্রমন কর সমেত সিঙ্গেল স্লিপারের ভাড়া ৬ হাজার ও ডবল স্লিপার ১০ হাজার ২শ’ টা। এছাড়া একক শয্যার কক্ষ ১২ হাজার, দ্বৈত শয্যার কক্ষ ২০ হাজার ৪শ’, ফ্যামিলি কেবিন ২৫ হাজার ২শ, ভিআইপি কেবিন ৩০ হাজার ও প্রিমিয়াম ভিআইপি কেবিন ৫০ হাজার ৪শ’ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। রিটার্ন টিকেটধারীদের জন্য নৌযানটিতেই থাকার সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য ক্যাফেটরিয়া থেকে নির্ধারিত মূল্যে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

পরিবার নিয়ে ভ্রমণ কারীদের সাথে থাকা অনুর্ধ্ব ১০ বছরের দুই বাচ্চার জন্য ভ্রমন কর পরিশোধ সাপেক্ষে বিনা মাসুলে ভ্রমনেরও সুযোগ রয়েছে।

১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাক-ভারত যুদ্ধের দিন বন্ধ হয়ে যাবার প্রায় ৭০ বছর পরে দুই দেশের সরকার প্রধানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের নৌ প্রটোকল অনুযায়ী ২০১৯-এর মার্চে রাষ্ট্রীয় বিআইডিব্লউটিসি তার ‘এমভি মধুমতি’ যাত্রীবাহী নৌযানের সাহায্যে ঢাকা-কোলকাতা-ঢাকা রুটে একটি পরিক্ষামূলক যাত্রী পরিচালন সম্পন্ন করলেও পরে বিষয়টি নিয়ে আর কোন অগ্রগতি হয়নি।

এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারী ‘কার্ণিভাল ক্রুজ’ তাদের বিলাসবহুল নৌযানটির সাহায্যে গত নভেম্বরে ঢাকা-বরিশাল-কোলকাতা রুটে বানিজ্যিক ভিত্তিতে যাত্রী পরিবহন শুরু করে।




মা-বাবার কোলেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো ফ্রান্স ফেরত ভোলার ইব্রাহিম

বরিশাল অফিস :: ক্যান্সার আক্রান্ত ফ্রান্স প্রবাসী ইব্রাহিমের ইচ্ছা ছিল ফ্রান্সে উচ্চ শিক্ষা শেষ করে অর্থ উপার্জন করে পরিবারের পাশে দাড়াবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে মরণব্যাধি ক্যানসার। ইব্রাহিম ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর বাবা—মায়ের কোলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে ২০ ডিসেম্বর ভোলার চরফ্যাসন নিজ বাড়িতে আসেন।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ির নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইব্রাহিমের বাবা কান হাওলাদার। ক্যানসারে আক্রান্ত ফ্রান্স প্রবাসী ইব্রাহিম উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ির মোঃ কা ন হাওলাদারের ছেলে।

জানা গেছে, ২০২২ সালের প্রথম দিকে উচ্চ শিক্ষার জন্য ফ্রান্সে পাড়ি জামান ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার হাজারীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা কা ন হাওলাদারের ছেলে মোঃ ইব্রাহিম। ফ্রান্সে যাওয়ার ৭ মাসের মধ্যেই তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। ফ্রান্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজ মাটিতে বাবা—মায়ের কোলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবেন, এমন ইচ্ছা থাকলেও তাকে দেশে নিয়ে আসার মতো ছিল না কেউ। তার এ ইচ্ছা পূরণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তাকে দেশে নিয়ে আসেন ফ্রান্সের চিকিৎসক ড. ম্যাথিউ জামেলট। প্রবাসে চিকিৎসাসেবা শেষে বাবা—মায়ের কাছে ফেরেন ২০ ডিসেম্বর। বাংলাদেশে এসেও দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন। সোমবার ভোরে মারা যান তিনি। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুড়ো এলাকায়।

ইব্রাহিমের বাবা মো. কান হাওলাদার বলেন, ছেলের ইচ্ছা পূরণে ধারদেনা করে তাকে ফ্রান্সে পাঠাই। ইব্রাহিম আর বেঁচে নেই। সোমবার ভোরবেলায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। ধারদেনা কীভাবে পরিশোধ করব তা জানি না। যদি সরকার আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারব।




নিজের প্রতীকে ভোট না দিয়ে নৌকায় সিল মারলেন প্রার্থী,পটুয়াখালীতে সমর্থকদের ক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালী-২ আসনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন জোবায়ের হোসেন ওরফে রাসেল। প্রতীক ছিলো টেলিভিশন। তবে নিজের প্রতীকে ভোট না দিয়ে নৌকায় সিল মেরে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এই প্রার্থী।

নৌকা প্রতীকে সিল মারা একটি ব্যালট পেপার হাতে নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন টেলিভিশন প্রতীকের প্রার্থী রাসেল। এ ঘটনায় হাস্যরসের পাশাপাশি ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন কয়েকজন ভোটার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটার ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘ভাবতে পারেন, টেলিভিশন মার্কায় ভোট দিলাম আমি, কিন্তু যাকে দেখে ভোট দিলাম সে কিনা ভোট দেয় নৌকায়। একে কি বলা যায়?’

এর আগে জোবায়ের রাসেল প্রচার-প্রচারণার জন্য নিজেকে অনিরাপদ ভেবে প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা দাবি করেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে পুলিশ নিয়ে প্রচারণাও চালিয়েছেন তিনি।

নৌকায় ভোট দিলেন কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে জোবায়ের হোসেন রাসেল বলেন, ‘আমি তো নৌকার লোক। আমার রক্তে আওয়ামী লীগ। আমি নির্বাচন করেছি দেশের স্বার্থে।’

জানা গেছে, আসনটিতে প্রার্থী হয়েছিলেন চারজন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত আ স ম ফিরোজ (নৌকা প্রতীক), জাতীয় পার্টি মনোনীত মো. মহসিন হাওলাদার (লাঙ্গল প্রতীক), তৃনমূল বিএনপি মনোনীত মাহবুবুল আলম (সোনালী আঁশ), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট জোবায়ের হোসেন রাসেল (টেলিভিশন প্রতীক)।

নৌকার প্রার্থী আ সম ফিরোজ ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। টেলিভিশন প্রতীক পায় ২ হাজার ২৩১ ভোট।

 




পটুয়াখালীতে গোলের গুড় বানিয়ে জীবন চলে অনেকের

বরিশাল অফিস :: কৃষি কাজের পাশাপাশি গোল গাছের রস থেকে গুড় উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করে পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরা। প্রতি বছর শীত মৌসুমে গোল গাছের রস সংগ্রহ করে বড় চুলায় জ্বাল দিয়ে গুড় উৎপাদন করে তারা। এছাড়া গোল গাছের পাতা দিয়ে ঘরের ছাউনি তৈরি ও ডাল জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

গোল গাছ উপকূলীয় অঞ্চলে লোনা পানিতে জন্ম নেয়া একটি বিশেষ প্রজাতির গাছ। এ গাছের নাম গোলগাছ হলেও দেখতে কিছুটা নারিকেল পাতার মত। এর ডগা থেকে বেরিয়ে আসে মিষ্টি রস। সেই রস দিয়ে তৈরি হয় গুড়। সুস্বাদু এই গুড়ের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় শতাধিক কৃষক এই গুড় তৈরির কাজে জড়িত।

প্রতি বছরই শীত মৌসুমে সূর্য ওঠার সাথে সাথে কৃষক বেড়িয়ে পড়েন এ গাছের রস সংগ্রহ করতে। এরপর বাড়ির উঠানে বসে শুরু হয় রস দিয়ে গুড় তৈরির কাজ। আর সেই গুড় স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন তারা।

গোল গাছের রস থেকে উৎপাদিত গুড়ের অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চিন্ময় হাওলাদার।

সরকারিভাবে গোল গাছ রোপনের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় বন বিভাগ।

গোল গাছের ঐতিহ্য রক্ষা ও উপকূলীয় গুড় উৎপাদনকারীদের সহায়তার করার কথাও জানিয়েছে বন বিভাগ।

 




বরিশালে বাম জোটের বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নতুন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে আজ (৯ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় মহাত্মা অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে বাম গনতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময়ে বক্তারা বলেন,গত ৭ জানুয়ারি এক তরফা নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় আর একটি কলঙ্ক রচিত হয়েছে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ বরিশাল জেলা সম্পাদক অধ্যাপক নৃপেন্দ্র নাথ বাঢ়ৈ,সদস্য বীরেন রায়, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ দুলাল মজুমদার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল -বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী।




ছুটি শেষে একাডেমিক কার্যক্রমে আজ ফিরছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বরিশাল অফিস :: শীতকালীন, বড়দিন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ভাইস-চ্যান্সেলরের নির্বাহী ক্ষমতাবলে প্রায় ১৪ দিনের ছুটি শেষে মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)।

এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে শীতকালীন ও বড়দিন উপলক্ষে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৪ সাল পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম ও ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ৩ জানুয়ারির অন্য আরেকটি নোটিশে অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ভাইস-চ্যান্সেলরের নির্বাহী ক্ষমতাবলে ৭ ও ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলো খোলা এবং সিকিউরিটিসহ অন্যান্য জরুরি সেবাসমূহ বলবৎ ছিল।




বরিশালের ২১ আসনে ৮ নতুন মুখ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিভাগের ৪২টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ২১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষে বেসরকারিভাবে নির্বাচিতদের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। স্ব স্ব আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে ৮টি আসনে নতুন মুখ বিজয়ী হয়েছেন। আর ১৩টি আসনে বর্তমান সংসদ সদস্যরাই রয়েছেন।

এরমধ্যে বরিশাল-৪ আসনে পঙ্কজ নাথ এবার নৌকা প্রতীকে নয়, তিনি স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া বাকি ১২টি আসনের মধ্যে ১১টিতে নৌকা ও একটিতে লাঙ্গল প্রতীকের বর্তমান সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছেন।
৮ নতুন মুখের মধ্যে নৌকা প্রতীকের ৪ জন, লাঙ্গল প্রতীকের একজন এবং স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকে ১ ও কলার ছড়ি প্রতীকে ১ জন বিজয়ী হয়েছেন। যদিও এদের মধ্যে বরিশাল-২ আসনে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর-বীর বিক্রম জাতীয় রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে বিগত দিনেও সংসদ সদস্য ছিলেন।

ঘোষিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিজয়ের মধ্য দিয়ে একই আসনে টানা চারবার ধরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন ৪ জন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও ভোলা-৪ আসনের আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, পটুয়াখালী-২ আসনের আ স ম ফিরোজ এবং ঝালকাঠি-২ আসনের আমির হোসেন আমু।

অপরদিকে ভোলা ১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ভোলা-১ ও ২ মিলিয়ে টানা ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন তিনি। এছাড়া বরিশাল-১ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও বরিশাল-৪ আসনে পঙ্কজ নাথ টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।

এছাড়া বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু, বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগের জাহিদ ফারুক, ভোলা-২ আসনে আওয়ামী লীগের আলী আজম মুকুল, পটুয়াখালী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের এস এম শাহজাদা, পটুয়াখালী-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মহিব্বুর রহমান মহিব, পিরোজপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের শ ম রেজাউল করিম দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

নৌকা প্রতীক নিয়ে মহাজোটের প্রার্থী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বরিশাল-২ আসনে এবারে নতুন মুখ। যদিও ১৯৯১ সালে এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। এরপর টানা ৬ বার এ আসনে অন্যরা প্রার্থী হয়েছিলেন। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মেনন।

অপরদিকে বরিশাল-৬ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী আব্দুল হাফিজ মল্লিক প্রথমবার বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রভাবাধীন এই আসনে টানা ২২ বছর পর ভিন্ন কেউ বিজয়ী হলেন। ১২টি নির্বাচনের মধ্যে এ আসনে আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছিল মাত্র দুই বার। এবার নিয়ে তৃতীয়বার এ আসনে বিজয়ী হলো আওয়ামী লীগ।

বরগুনা-১ আসনে টানা তিনবারের ক্ষমতাসীন সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে হারিয়ে স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থী গোলাম সরোয়ার টুকু এবং বরগুনা-২ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সুলতানা নাদিরা প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সুলতানা নাদিরা বরিশাল বিভাগের ২১টি সাধারণ আসনের মধ্যে একমাত্র নারী সংসদ সদস্য।

এছাড়া পটুয়াখালী-১ আসন থেকে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বিজয়ী হয়েছেন। এ আসন থেকে তিনি ২০১৪ সালেও একবার বিজয়ী হয়েছিলেন।

ঝালকাঠি-১ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর প্রথমবার নির্বাচিত হলেন। এর আগে বিএনপির রাজনীতিতে থাকাকালীন সময়ে এ আসন থেকে আরও তিনবার বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি।

অপরদিকে পিরোজপুর-২ আসনের ৬ বারের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে হারিয়ে স্বতন্ত্রী ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন মহারাজ প্রথমবার এবং পিরোজপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কলার ছড়ি প্রতীকে মো. শামীম শাহনেওয়াজ প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।

 




দেশি-বিদেশি চক্রান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জিং এই নির্বাচনকে সম্পন্ন করায় জনগণকে প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন: মেনন

এস এল টি তুহিন, বরিশাল : : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে নৌকার প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন।

বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণার পর সোমবার (০৮ জানুয়ারি) এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, সব বিভ্রান্তি-নাশকতাসহ বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারের পরেও দেশি-বিদেশি চক্রান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জিং এই নির্বাচনকে সম্পন্ন করার জন্য আমরা জনগণকে আহ্বান জানিয়েছিলাম।

তারা তাদের সায় দিয়েছেন এবং তারা একটি সফল নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সহায়তা করেছেন। তাই সবার প্রথমে আমি দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, আমি ১৯৭৩ সাল থেকে নির্বাচন করি, আমি আমার এই নির্বাচনী জীবনের অভিজ্ঞায় বলতে পারি এবারের নির্বাচন সত্যিকার অর্থেই নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। আমাদের মধ্যে অনেক উত্তেজনামূলক কথা ছড়ানো হয়েছে, পত্র-পত্রিকায় নানান কথাও এসেছে।

কিন্তু নির্বাচন যখন হয়েছে, আর মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশেই নির্বাচন করেছে তখন সবকিছু চাপা পড়ে গেছে। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে কি বলব জানিনা, তবে যারা নির্বাচন কমিশনের হয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন হিসেবে কাজ করেছেন, তারা একটু বেশিই নিরপেক্ষ হতে চেষ্টা করেছন।

হঠাৎ এত বেশি নিরপেক্ষতা হওয়ায় ভোটাররা অনেক সময় নিরুৎসাহিত হয়েছে। তবুও সবমিলিয়ে একটা সুন্দর নির্বাচন আমরা পেলাম, যা আগামী দিনে চলার পথে আমাদের সাহায্য করবে।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের মধ্যেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের পথে, অসাম্প্রদায়িকতার পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে জনগণ বিশেষ করে তরুণ ও নারী সমাজকে বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে।

এরআগে, রোববার সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণার পর উজিরপুর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাকে বলেছি, এই অঞ্চলে পাঠিয়ে আমাকে তিনি সম্মানিত করেছেন। আমি উজিরপুর-বানারীপাড়া মানুষের মধ্যে থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখব।

এ সময় তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ নিরলসভাবে কাজ করে নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।