কুয়াকাটায় সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশাল অফিস :: কুয়াকাটায় কর্মরত মানবজমিন ও বিজয় টিভির প্রতিনিধি এবং কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক হোসাইন আমিরকে মহিপুর থানা পুলিশ কর্তৃক মারধরের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ পাঠাবেন। পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইদুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শেষে এমনটি আশ্বস্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জুবায়ের আহমেদের নেতৃত্বে এতদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। পুলিশ সুপারের সাথে কুয়াকাটা, মহিপুর ও পটুয়াখালী জেলায় কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিকদের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ছবি এবং ভিডিও চিত্র ধারণ করার সময় মহিপুর থানা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর আবদুর রব, কনস্টেবল আজিজ ও আল আমিন কর্তব্যরত সাংবাদিক হোসাইন আমিরকে মারধর ও টানাহেঁচড়া করে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে যায়। সেখানে দ্বিতীয় দফায় ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার কর্তৃক হেনস্তার শিকার হয়।

এ সময় সাংবাদিক হোসাইন আমিরকে পুলিশ ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক এ ঘটনা জানাজানি হলে কুয়াকাটা মহিপুর এলাকায় কর্মরত সংবাদ কর্মীরা থানায় ছুটে যায়। সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আলোচনায় হোসাইন আমিরকে অহেতুক মারধর ও হেনস্তার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে উঠে আসে। মহিপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার নানা কৌশলে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানিয়েন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মহিপুর থানার ওসির অপসারণ এবং দোষীদের বিচার দাবী করে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করে কুয়াকাটা প্রেসক্লাব। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

পরে বৃহস্পতিবার সকালে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার জেলার সিনিয়র সাংবাদিকদের সমন্বয়ে বেলা ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হৃদয়, পটুয়াখালী টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি কাজল বরণ দাস ও সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম আরিফসহ নেতৃবৃন্দ, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লব ও সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন, কুয়াকাটা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলামসহ কুয়াকাটা, মহিপুর ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় পুলিশ সুপার মোঃ সাইদুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম বার, সাংবাদিকদের অভিযোগ শুনেন এবং গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপক গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।




পায়রায় বদলে দিচ্ছে দেশের অর্থনীতি গতিপথ

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: পায়রায় আয় ছাড়িয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা পায়রা বন্দর এখন দৃশ্যমান এগিয়ে চলার বাংলাদেশ, এই স্লোগান নিয়ে পায়রা বন্দর এখন দৃশ্যমানভাবে পাকাপোক্ত হয়ে দেশের অর্থনীতির জোগান দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক এ যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট। ওই দিন থেকে ফরচুন বার্ড নামের মাদার ভেসেল এই বন্দরের ইতিহাসে নাম লিখেছে প্রথম পণ্যবাহী জাহাজ হিসেবে। আর এই শুভক্ষণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তখন থেকে অর্থনীতির তৃতীয় করিডর পায়রার দ্বার উন্মোচিত হয়।

শুরু হয় পণ্য আমদানি এবং খালাসের কার্যক্রম। সেই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে এক হাজার ১০৪ কোটি চার লাখ ৪৩ হাজার ১৯৩ টাকা। এ পর্যন্ত এ বন্দরে মোট দুই হাজার ৩১০টি পণ্যবাহী জাহাজ পণ্যখালাস করেছে। এর মধ্যে ৩৮৬টি বিদেশী জাহাজ পণ্য নিয়ে এ বন্দরে ভিড়েছে। ২০২৩ সালে পায়রায় ৯৮টি বিদেশী এবং ৯২৩টি দেশী জাহাজ পণ্য খালাস করেছে। এখন রাবনাবাদ চ্যানেলে প্রতিনিয়ত মাদার ও লাইটার জাহাজ পণ্য আনা-নেওয়ার কাজ করছে। রয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।

বর্তমানে পণ্য খালাসের পাশাপাশি রাবনাবাদ চ্যানেলের পারিপাড়ায় দিনরাত প্রথম টার্মিনাল কেন্দ্রিক উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত রয়েছেন শত শত শ্রমিকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির লোকবল। এক সময়ের ভাঙনকবলিত রাবনাবাদপাড়ে পায়রা বন্দরের কর্মযজ্ঞের কারণে বিরাজ করছে কোলাহলমুখর পরিবেশ। পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল, ছয় লেন সড়ক ও ফোর লেন সেতুর নির্মাণসহ এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। এখন শেষের পথে দেশের তৃতীয় পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ কাজ।

এ বছরই সড়কপথে পণ্য খালাসের জন্য টার্মিনালে সরাসরি ২০০ মিটার দীর্ঘ পণ্যবাহী জাহাজ ভেড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ। রাবনাবাদ চ্যানেলের চারিপাড়ায় নির্মিত এ টার্মিনালে একই সঙ্গে ২০০ মিটারের তিনটি মাদার ভেসেল ভেড়ানোর সক্ষমতা থাকছে। ৬৫০ মিটার দীর্ঘ মূল টার্মিনাল এবং তিন লাখ ২৫ হাজার বর্গমিটার ব্যাকআপইয়ার্ড, ১০ হাজার বর্গমিটার সিএফএস সুবিধা থাকছে। এ বন্দরে পণ্য খালাসে সকল ধরনের অত্যাধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের মধ্য দিয়ে বার্থিং সুবিধা পাবেন আমদানিকারকরা। পায়রা বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) আজিজুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পায়রা সমুদ্রবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই থেকে শুরু হওয়া বিস্ময়কর উন্নয়ন কর্মের কারণে এক সময়ের অবহেলিত সাগরপাড়ের এই জনপদের দৃশ্যপট আজ বদলে গেছে।




পটুয়াখালীতে এক টানে জালে উঠল ৯২ মণ ইলিশ!

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর শেষ বয়া থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে এক টানে জেলের জালে ধরা পড়েছে ৩ হাজার ৬৮০ কেজি (৯২ মণ) ইলিশ।

বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে এসব মাছ মহিপুর মৎস্য বন্দরের ঝুমুর অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি আড়তে নিয়ে আসা হয়।

পরে মাছগুলো নিলামের মাধ্যমে ২০ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে পায়রা বন্দরের শেষ বয়া থেকে ১০০ কিলোমিটার অদূরে ইলিশের জালের এক টানে ৯৩ মণ মাছ ধরা পড়ে।

শীত মৌসুমে দীর্ঘদিন পরে এই জেলের জালে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ায় খুশি জেলেসহ ব্যবসায়ীরা।

জেলে ফরিদ মাঝি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে এক সপ্তাহ আগে ১৭ জন জেলে নিয়ে এফবি মা জননী নামে ট্রলার নিয়ে আমরা সাগরে যাই।

প্রথমদিকে মাছ না পাওয়ায় অনেকটা হতাশ হয়ে যাই। পরে আরও গভীর সাগরে পায়রা বন্দর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে যাই।

গত সোমবার (৮ জানুয়ারি) আমাদের জালে কিছু পরিমাণ ইলিশ ধরা পরে। পরদিন মঙ্গলবার আরও একটু গভীরে গিয়ে জাল ফেলার পর এক টানে অনেক বেশি মাছ ইলিশ ওঠে। ট্রলার বোঝাই হওয়ার পর আমরা তীরে ফিরে আসি।

এফবি মা জননী ট্রলারের মাঝি শহীদ কোম্পানি বলেন, অনেকদিন ধরে সাগরে খুব কম মাছ ধরা পড়ছে। আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তার মধ্যে এই শীত মৌসুমে এত বেশি পরিমাণ মাছ ধরা পড়বে সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। এই মাছ বিক্রি করে পিছনের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারব।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, গভীর মাছ জেলেরা জাল ফেললে আরও বেশি মাছ ধরা পড়বে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে জেলের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়তে পারে।




বরিশালে ১৮ প্রার্থীর ১৬টিতে জামানত হারালেন জাপা প্রার্থী

বরিশাল অফিস :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ১৮ আসনে নির্বাচন করে ১৬টিতে জামানত হারিয়েছেন।

বরিশাল-২,বরিশাল-৫ ও বরগুনা-১ আসনে অবশ্য মনোনয়পত্র দাখিলকারী দুজন প্রার্থী নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে নির্বাচন বর্জন করেন। পিরোজপুর-৩ আসনে মহাজোট সমর্থিত জাপা প্রার্থী ভোটের মাঠে ছিলেন না। ফলে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবেও তাকে জামানত হারাতে হয়েছে। ওই আসনটিতে ৭ বারের এমপি ডা. রুস্তম আলী ফরাজীকে বাদ দিয়ে এবার মোঃ মাসরেকুল আজম রবি’কে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিলো।

বরিশাল-২ ও বরিশাল-৫ সংসদীয় আসন দুটিতে প্রার্থী হয়েছিলেন ইকবাল হোসেন তাপস। কিন্তু ৩১ আগষ্ট ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। একই দিন সংবাদ সম্মেলন করে বরগুনা-১ আসনের জাপা প্রার্থীও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বরিশাল বিভাগের ২১ আসনে জাতীয় পার্টি যে ১৮টিতে প্রার্থী দিয়েছিলেন তার ৩টিতে মহাজোট তাদের পক্ষে নিজেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেও দলটির প্রার্থীদের পক্ষে ভোটের মাঠে ছিলোনা আওয়ামী লীগ। অবশিষ্ট ১৫টি আসনের ৩টির প্রার্থীরা ভোটের মাঠে ছিলেন না। ১২টি আসনের প্রার্থীদেরও ভোটের মাঠে দেখা যায়নি।

বরিশাল-৩ আসনে গোলাম কিবরিয়া টিপু ও পটুয়াখালী-১ আসনে রুহুল আমীন হাওলাদার নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকলে রুহুল আমীন হাওলাদারকেও হয়তো একই পরিনতি বরণ করতে হত। তার স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্মা বরিশাল-৬ আসনে মহাজোটের সমর্থন নিয়ে দুবার এমপি হলেও এবার তিনি জামানত হারিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইকবাল হোসেন তাপস চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে  জানান, ‘দক্ষিণাঞ্চল কেন সারা দেশেই দলটি ক্রমশ অস্তিত্ব হারাতে বসেছে’। তিনি এজন্য কতিপয় নেতার ব্যক্তিগত সাময়িক সুবিধা লাভের প্রবনতাকে দায়ী করে বলেন, ‘এসব নেতা শুধু জাতীয় পার্টিকেই ধ্বংস করলেন না দেশেরও ভয়াবহ ক্ষতি করেছেন’। তার মতে,‘ ঐসব নেতা যে দলের লেজুরবৃত্তি করছেন, সে দলটি জাতীয় পার্টিকে বারবার ব্যবহার করে ক্ষমতার আসনে আরোহণ করলেও অদূর ভবিষ্যতে তাদের জন্যও করুণ পরিনতি অপেক্ষা করছে’।




জেলের জালে ৯২ মণ ইলিশ, ২০ লাখে বিক্রি 

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ফরিদ মাঝি (৫০) নামের এক জেলের জালে ধড়া পড়েছে ৯২ মণ ইলিশ।

বুধবার (১০ জানুয়ারি) বিকালে এসব মাছ মহিপুরের ‘ঝুমুর অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের একটি মৎস্য আড়তে নিয়ে আসা হয়। পরে মাছগুলো নিলামের মাধ্যমে ২০ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে পায়রা বন্দরের শেষ বয়া থেকে ১০০ কিলোমিটার অদূরে মাছগুলো জালের একটানে ধরা পড়ে। শীত মৌসুমে দীর্ঘদিন পর এই জেলের জালে ইলিশ ধরা পড়ায় খুশি জেলেসহ ব্যবসায়ীরা।

জেলে ফরিদ মাঝি জানান, চট্টগ্রাম থেকে এক সপ্তাহ আগে ১৭ জন জেলে নিয়ে ‘এফবি মা জননী’ নামের ট্রলার নিয়ে আমরা সাগরে যাই। প্রথম দিকে মাছ না পাওয়ায় অনেকটা হতাশ হয়ে পড়ি। পরে আরও গভীর সাগরে পায়রা বন্দর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে যাই। সোমবার আমাদের জালে কিছু ইলিশ ধরা পরে। মঙ্গলবার আরও একটু গভীরে গিয়ে জাল ফেলার পর একটানে অনেক বেশি ইলিশ ওঠে।

এফবি মা জননী ট্রলারের মাঝি শহীদ কোম্পানী জানান, অনেক দিন ধরে সাগরে খুব কম মাছ ধরা পড়ছে। আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তার মধ্যে এই শীত মৌসুমে এত বেশি পরিমাণ মাছ ধরা পড়বে সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। এই মাছ বিক্রি করে পেছনের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারব।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, গভীরে জেলেরা জাল ফেললে আরও বেশি মাছ ধরা পড়বে। এছাড়া ফেরুয়ারি এবং মার্চ মাসে জেলের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়তে পারে।




এমপি-মেয়রের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায় বরিশালবাসী

বরিশাল অফিস :: বরিশাল সদর উপজেলার উন্নয়ন করার সুযোগ দিন, এ উপজেলাকে শহরের আদলে নিয়ে আসতে চাই, অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে চাই, বরিশাল হবে একটি আধুনিক শহর, ভোলা থেকে আসবে গ্যাস, হবে শিল্প কারখানা, বরিশাল হবে একটি অর্থনৈতিক জোন। এমন সব প্রতিশ্রুতির প্রতিদানও দিয়েছে বরিশাল সদর উপজেলা তথা বরিশাল বাসী।

সদ্য সমাপ্ত হওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনপূর্ব আশ্বাসে এ উপজেলার জনগন ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীমকে এ আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেন।

প্রতিশ্রুতির পালা শেষ, এখন রক্ষা ও বাস্তবায়নের পালা। আজ বুধবার নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী সভা গঠিত হবে। অনেক কিছুই নির্ভর করে তার উপর।

কারণ এসকল উন্নয়ন কার্য বাস্তবায়নে শুধু এমপি হিসেবে নয়, এখানে মন্ত্রীত্ব বা প্রতিমন্ত্রীত্ব পাওয়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য বরিশালের মানুষ তা বিশ্বাস এবং আশাও করে যে, তিনিই পাবেন মন্ত্রীত্ব বা তার আগের প্রতিমন্ত্রীত্ব।

কারণ বরিশালে এসে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীমের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে যে প্রসংশা করে গেছেন তাতে অনুমেয় যে, হয়ত তিনি আরেকবার এই পদেরই যোগ্য দাবিদার। বিগত বছরে বরিশালের উন্নয়নের যে গতি ছিলো এবার হয়ত তাতে যোগ হবে আরও বাড়তি মাত্রা।

কারণ সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র থাকাকালীন প্রতিমন্ত্রীর সাথে সুসম্পর্ক না থাকা, রাজনৈতিক বিভক্ত সহ নানা কারণে তাদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করা হয়ে ওঠেনি। ফলে সিটি ও উপজেলায় একসাথে উন্নয়ন কাজের চিত্র ছিলো এক তরফা।

যেটি ঠিকঠাকভাবে করে গেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী একাই। সাদিক আব্দুল্লাহ বিসিসির মেয়র থাকাকালীন সিটিতে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন বরাদ্দও আসেনি। তবে জাহিদ ফারুক শামীম ও বর্তমান মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের সু-সম্পর্কের কারণে বরিশালবাসীর মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

দুজনের বোঝাপড়া, সুসংগঠিত নেতৃত্ব ও একে অপরের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি এখানকার জনগনকে আশার আলো দেখিয়েছে। খোকন সেরনিয়াবাত এ সিটির মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার প্রতি আস্থা রেখে নগর উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৮শ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। যা সিটি কর্পোরেশনের ইসিহাসে সর্বাধিক।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত) বলেন, জাহিদ ফারুক শামীম ভাই ও আমি দুজনে মিলে এই বরিশালের উন্নয়ন করবো। আর তাতে এগিয়ে যাবে বরিশাল।

কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম এ বিষয়ে বলেন, বরিশাল-৫ (সদর) আসনের জনগন আমাকে তাদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করিয়েছে এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। যে কারণে তাদের প্রতি আমার দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেছে। আমি আশাকরি বরিশালবাসীকে আমি যে কথা দিয়েছি আমি তা বাস্তবায়ন করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে দায়িত্বে থাকাকালীন আমি সদর উপজেলার নদী ভাঙ্গন এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ দিয়েছি। নদী ভাঙ্গন থেকে বাসিন্দারা রক্ষা পেয়েছে। সে এলাকাগুলো এখন পর্যটনকেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। কীর্তনখোলা তীরবর্তী চরকাউয়ায় নদী রক্ষা বাধ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনী ক্যাম্প তৈরী করেছে। তারা শীগ্রই কাজ শুরু করবে।




ব‌রিশালে সাগরদী খালের দুই পাড়ে নির্মাণ করা হবে সাইকেলিং ওয়ে

বরিশাল অফিস :: ব‌রিশাল নগরের সাগরদী খা‌লের দুই পাড়ে সোয়া চার কো‌টি টাকা ব‌্যয়ে ওয়াকওয়ে ও সাই‌কেল ওয়ে নির্মাণ কাজ শুরু ক‌রে‌ছে ব‌রিশাল সি‌টি কর‌পো‌রেশন।

বুধবার (১০ জানুয়ারি)দুপু‌রে মেয়র আবুল খা‌য়ের আব্দুল্লাহ খোকন সের‌নিয়াব‌াত এই কা‌জের উদ্বোধন ক‌রেন।

এসময় বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাসুমা আক্তার, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আনোয়ার হোসেন রয়েল, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব, ২৩নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার, ২৫নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ, ৩নম্বর সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর কোহিনুর বেগম, ৪নম্বর সংরক্ষিত আসনের আয়শা তৌহিদ লুনা, ৫নম্বর সংরক্ষিত আসনের ইসরাত জাহান লাভলী, ৮নম্বর সংরক্ষিত আসনের রেশমী বেগমসহ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

জানা গে‌ছে, ১২৪০ মিটার ওয়াক ও সাই‌কে‌লিং ও‌য়ে, এর পা‌শেই ৮৬‌টি বসার কন‌ক্রিট বেঞ্চ, ১৫০‌টি স্টিল ডাস্ট‌বিন, ৬৮‌টি ফ্লাড লাইট, এপ্রোচ র‌্যাম্প ৪‌টি এবং প‌রিবেশ, স্বাস্থ‌্য ও সামা‌জিক নিরাপত্তা বাবদ প্রকল্প‌টি‌তে খরচ হ‌বে ৪ কো‌টি ২৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৮৪০ টাকা। ওয়াক ও‌য়ের প্রস্থ হ‌বে ৫ দশ‌মিক ৫ মিটার ও সাই‌কে‌লিং ও‌য়ের প্রস্থ হ‌বে ৪ দশ‌মিক ৫ মিটার।

মেয়র জানান, ব‌রিশা‌ল নগরীর খালগু‌লো খনন ও উদ্ধা‌রের কাজ চল‌ছে। সাগরদী খাল ঘি‌রে সাধারণ মানু‌ষের বি‌নোদ‌নের ব‌্যবস্থা করা হ‌চ্ছে। কাজ শেষ হ‌লে সাধারণ মানুষ এখা‌নে হাট‌তে পার‌বে, সাই‌কে‌লিং কর‌তে পার‌বে, ঘুর‌তে আস‌তে পার‌বে।

এ সময় তিনি জনগনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের জনগণ নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন এজন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বরিশাল সদরে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন জনগণ। এখন আমরা যে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সে লক্ষ্যে কাজ করে যাব। আমি অগ্রিম কোন কিছু বলতে চাইনা, তবে বরিশালের উন্নয়ন হবে এটা নিশ্চিত। আমাদের মন্ত্রাণলয়সহ বিদেশিরাও বরিশালের উন্নয়নের স্বার্থে সহায়তা করছে এবং করবে।




রাশেদ খানকে এমপি নির্বাচিত করায় ওয়ার্কার্স পার্টি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

বরিশাল অফিস :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল ২ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ায় উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলা ওয়ার্কাস পার্টি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

১০ জানুয়ারী বুধবার সকাল ১০.৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে শপথ গ্রহণ করেন, গত ৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২০,বরিশাল -২ (উজিরপুর -বানারীপাড়া) আসনে জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত ১৪ দলের নৌকা মার্কার প্রার্থী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি

রাশেদ খান মেনন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা তালুকদার মোঃ ইউনুস এবং সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনির সহ উজিরপুর।

বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামিলীগ, অংঙ্গ সহযোগী সংগঠন এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি উজিরপুর- বানারীপাড়া উপজেলা কমিটি ও সকল গণ-সংগঠন সমুহের নেতৃবৃন্দ, কর্মী, সকল ভোটার ও সর্বস্তরের জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি উজিরপুর – বানারীপাড়া উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

 




নলছিটিতে স্বেচ্ছা.লীগ নেতাকে হত্যার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কাজী জিয়াউল ইসলাম ফুয়াদকে (৪০) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।

বুধবার (১০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চৌদ্দবুড়িয়া মসজিদ বাড়ি এলাকায় ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নিহত ফুয়াদ কাজীর বড় ছেলে সাফিন কাজী, বড় ভাই ফয়সাল কাজী, পিতা মকবুল হোসেন কাজী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারেক মাস্টার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পান্নু, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম রাজীব প্রমুখ। বক্তারা ফুয়াদ কাজীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

 

মিছিলটি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। মিছিলে ফুয়াদ কাজীর খুনীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের মসজিদ বাড়ি এলাকায় আওয়ামী লীগের বিজয় মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে ফুয়াদ কাজীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় ৮ জানুয়ারি রাতে নিহত ফুয়াদ কাজীর বড় ভাই ফয়সাল কাজী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ আলী বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। জড়িতদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 




বরিশালে আ.লীগ সভাপতিকে বিবস্ত্র করে পেটালেন ছাত্রলীগ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর রাজনীতি করায় মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিকে বিবস্ত্র করে পেটালেন ছাত্রলীগ। এসম তাদের হামলায় পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বরিশাল ল’কলেজের অধ্যক্ষ এ্যাড: মোস্তফা জামাল খোকন বলেন, মঙ্গলবার(৯জানুয়ারি) সন্ধ্যায় স্থানীয় অপু মোল্লা,আজিম ও তাদের সাথে ২৫/৩০ জন ছেলেরা এসে আমাদের অতর্কিত ভাবে হামলা করেন। এরা সকলেই কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য অসিম দেওয়ানের অনুসারী। অসিম দেওয়ান কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ও বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে বিসিসি মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী।

কি কারনে এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে জানতে চাইলে বলে, কলেজে কোনো সাদেক আবদুল্লাহর রাজনীতি চলবেনা। কলেজে সাদেকের ছবি টানানো কেন? আমরা সাদেকের দালাল তাই বলেই আমি ও আমার পাশে থাকা কলেজের সভাপতি ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ভিপি আনোয়ারকে বেধড়ক মারধর করেন। শুধু মারধর করেই ক্ষ্যন্ত হয়নি। কলেজের সভাপতি ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে জামাপ্যান্ট ছিঁড়ে বিবস্ত্র করেন।

এসম শিক্ষার্থীরা টের পেয়ে তাদের বাঁধা দিতে আসলে তাদেরকেও মারধর করেন।
আহত তিন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতরা হলেন, জহিরুল ইসলাম, মো: জসিম ও ইব্রাহিম সুমন।
এঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীরসহ তাদের অনুসারীরা। এসময় সাদেক আবদুল্লাহ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে গালাগাল মারধর করেছে বিষয়টি আমি মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নিবো। এছাড়াও পুলিশ কমিশনারকে বলেছি তিনি বিষয়টির সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবেন বলে আশাকরি।

এবিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম আরিচুল হক বলেন, মারামারি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এঘটনায় এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি এবং কেউ আটকও নেই।