বরিশালে গলায় ফাঁস দিয়ে নারীর আত্মহত্যা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বরিশাল নগরীর ২৩ নং ওয়ার্ড ঘরামী বাড়ির পোল এলাকায় গলায় ফাঁস দিয়ে এক নারীর আত্মহত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (১০ জানুয়ারি) রাত দশটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মনোয়ারা বেগম, (৪৫) নগরীর ২৩ নং ওয়ার্ড ঘরামী বাড়ির পোল মৃধা বাড়ীর মসজিদ সংলগ্ন এলাকার আবুল হোসেনের স্ত্রী।

নিহতের মেয়ে আখি আক্তার বলেন, রাত সাড়ে সাতটার সময় নাতিকে বাড়ির সামনে খালের পানিতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আখি তার মেয়েকে ধরে ঘরে উঠায়।

এনিয়ে আখি ও তার মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় অখিকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ায় চেষ্টা করে তার মা। সে ঘর থেকে বের হবে না বলায় তার মা নিজ কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয়। কিছুক্ষণ পড়ে মেয়ে মাকে ডাকলে কোনো উত্তর না দিলে চালের টিন কেটে ভিতরে প্রবেশ করে দেখে আরার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে।

এসময় স্থানীয়রা সরকারি ৯৯৯ নাম্বারে কল করে বিষয়টি জানান।

এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আরিচুল হক বলেন, বিষয়টি শুনে ঘটনা স্থানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




হাঁড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত বরিশালের জনজীবন, রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

বরিশাল অফিস :: হাঁড় কাঁপানো তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে বরিশালের জনজীবন। বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত নানারোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। যারমধ্যে অধিকাংশ শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শিশুদের চিকিৎসায় কর্তৃপক্ষ সর্বাধিক চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এইচএম সাইফুল ইসলাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৩৬ শয্যার বিপরীতে শুক্রবার চিকিৎসাধীন ছিলো আড়াই শতাধিক শিশু। বর্হিবিভাগেও চিকিৎসা নিয়েছে দুইশতাধিক শিশু। যাদের বেশিরভাগই গ্রামের বাসিন্দা। পিরোজপুর থেকে নিজের শিশু সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা তহমিনা বেগম জানান, গ্রামে প্রচুর ঠান্ডায় গত পাঁচদিন আগে তার শিশু সন্তানের ডায়রিয়া হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসায় সুস্থ্য না হওয়ায় গত বুধবার তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ভর্তি করা হয়।

বরিশাল উজিরপুরের রেহানা বেগম জানান, শীতের কারণে তার শিশু সন্তান ডায়রিয়া, জ্বর ও বমিতে আক্রান্ত হয়। উপায় না পেয়ে দুইদিন আগে তাকে শের-ই বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী থাকার পরেও শিশু ওয়ার্ডে সুষ্ঠু চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষায় গরম কাপড়ে শিশুদের আবৃত রাখাসহ অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।

 




গৌরনদীর গরীবের ডাক্তার রনবীরের ম্যুরালে শ্রদ্ধা

বরিশাল অফিস :: বরিশালের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্যা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রয়াত চিকিৎসক

দাস রনবীবের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলার বিল্বগ্রাম বাজারে দাস রনবীরের ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলু।

এসময় প্রয়াত চিকিৎসকের স্ত্রী জয়িতা রায় তমা, ভাই অনুপ কুমার দাস, মুক্তিযোদ্ধা শান্তি রঞ্জন কর, ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান, নুর আলম সরদার সহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, অসহায়-দরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে এলাকায় গরীবের ডাক্তার হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছিলেন চিকিৎসক দাস রনবীর।




বরিশালে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা নিহত ৩

বরিশাল অফিস ::’বরিশাল জেলার উজিরপুর ও আগৈলঝাড়ায় উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন’।

‘বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে সাকরাল মডেল বাজার সংলগ্ন ও একই দিনের দিবাগত রাত ১০ টার দিকে আগৈলঝাড়া সাব রেজিস্টার অফিসের সামনে এক দুর্ঘটনা ঘটে’।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাফর আহম্মেদ তিনি জানান,’ইট ভর্তি ট্রলি বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে ডাবেরকুল বাজারের দিকে যাচ্ছিল সে সময় ওই গ্রামের সোহরাব হাওলাদারের মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত আক্তার (১৩) স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইট বোঝাই ট্রলিটি নুসরাত আক্তারকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়’। ‘এতে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। ‘তবে ট্রলিটিরচালক পালিয়ে যায়’।

এ দিকে,’ এ বিষয়ে বরিশাল আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান,’কোটালিপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ির যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের সাথে ভ্যান চালকের সংঘর্ষ হয়। এ সময়ে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়’।’ভ্যান চালককে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথেই তার মৃত্যু হয়’।

নিহত মোটরসাইকেল চালকের ঠিকানা কাঠিরা গ্রামের শাহীন হাওলাদারের ছেলে মেহেদী হাওলাদার তিনি।’অপরজন ভ্যানচালকের পরিচয় জানা যায়নি।

দুটি ঘটনারই লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন।




বরিশাল ল কলেজে হামলার ঘটনায় ৪৮ জনের নামে মামলা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত আইন মহাবিদ্যালয়ে (ল কলেজ) ঢুকে শিক্ষক ও ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় ছাত্রলীগ কর্মীসহ তিনজনের নাম এবং অজ্ঞাতনামা ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় গতকাল বুধবার রাতে এ মামলাটি দায়ের করেন কলেজ অধ্যক্ষ মোস্তফা জামাল খোকন। আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিচুল হক।

ওসি বলেন, বরিশাল ল কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা জামাল খোকন বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ছাত্রলীগ কর্মী আরিফুর রহমান অপু, আজিমসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৪৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর হাসপাতাল রোডে ল কলেজ ক্যাম্পাসে হামলার ঘটনা ঘটে। তখন ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হোসেন অপুর নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতা আজিমসহ একদল যুবক কলেজে প্রবেশ করে গভর্নিং বডির সভাপতি, অধ্যক্ষ, অধ্যাপকসহ ছয়জনকে আহত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 




গলাচিপায় কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে ৫০০ বছরের পুরনো গুরিন্দা মসজিদ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িঁয়ে আছে ৫০০ বছরেরও বেশী পুরনো মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের অপূর্ব নিদর্শন পটুয়াখালী গলাচিপার এক গম্ভুজ বিশিষ্ট গুরিন্দা জামে মসজিদ। মসজিদটি সাদামাটা নির্মাণ কাজ, মসজিদের আকার-আয়তন এবং ইট সুরকির ধরণ দেখে অনুমান করা হয় বাকলা চন্দ্রদ্বীপে মুসলিম আধিপত্য বিস্তারের প্রথম দিকে এ মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল।

মাটি থেকে প্রায় ৪ ফুট উচু ভিটির উপর মসজিদটি নির্মিত। ৩৬১ বর্গফুট ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট বর্গাকৃতির মূল মসজিদ এবং ভবনের উচ্চতা ১৬ ফুট। মসজিদটি একতলা বিশিষ্ট, উপরে রয়েছে বেশ বড় একটি গম্বুজ। উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে একই মাপের তিনটি খিলান দরজা রয়েছে। মসজিদের ভেতরের দেয়ালের গায়ে রয়েছে ছোট ছোট কুলঙ্গি। এগুলো সম্ভবত প্রদীপ ও ধর্মীয় বই-পুস্তক রাখার কাজে ব্যবহৃত হতো। মসজিদের কয়েক ফুট দক্ষিণে আলাদা ভিটির উপর একটি বৈঠকখানা রয়েছে যার দৈর্ঘ্য সাড়ে ১৬ ফুট ও প্রস্থ ১১ ফুট। দুটি ভবনই চুন ও সুরকি দিয়ে তৈরি।

তবে গঠন কৌশল দেখে এবং ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী ধারনা করা হয়, সুলতান বরবক শাহের রাজত্বকালে এই গুরিন্দা মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। যদিও বরবক শাহের চন্দ্রদ্বীপ বিজয়ের আগে এ অঞ্চলে মুসলমানদের আগমন ঘটে। তবে কেউ কেউ মনে করেন, মসজিদটি নবাবী আমলের।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের কাছে ওয়াজিল খান নামে একজন আরব বণিকের কথা জানা যায়। তিনি বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এখানে আসলেও পরে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। কারো কারো মতে ১৫ শতকের প্রথম দিকে সুন্দরবন অঞ্চলে ধর্ম প্রচার করেন হযরত খানজাহান আলী (র:)। খানজাহান আলীর সঙ্গী ছিলেন ওয়াজিল খান। খানজাহান আলীর নির্দেশে তার সাথে আসা সঙ্গী সাথীরা সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ নির্মাণ করেন এবং জনবসতির বিস্তার ঘটান। ওয়াজিল খান তখন সাগর উপকূলে নির্মাণ করেন এই ঐতিহাসিক গুরিন্দা মসজিদ।

১৫৮৪ সালের ঘূর্ণিঝড়ে বাকলা চন্দ্রদ্বীপ বিশেষ করে পটুয়াখালী জেলার অধিকাংশ এলাকা বিলীন হয়ে যায়। প্রাকৃতিক ধ্বংসলীলার পর এ অঞ্চলে শুরু হয় মগ ও পর্তুগীজ দস্যুদের আক্রমণ। তখন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকা বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল জনশূন্য হয়ে পরে। জনবহুল এলাকা বনভূমিতে পরিণত হয়। তখন গুরিন্দা মসজিদ অরণ্যের আড়ালে ঢাকা পড়ে।

১৯ শতকের মাঝামাঝি বাহাদুরপুরের পীর বাদশাহ মিয়া ওই এলাকায় সফরে গিয়ে গুরিন্দা মসজিদের সন্ধান পায় এবং মসজিদে জুমা আদায় করার জন্য এলাকাবাসীকে নির্দেশ দেন।

গুরিন্দা জামে মসজিদ এখনও অরক্ষিত অবস্থায় পরে আছে। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে সরকারি বা বেসরকারি কোন পদক্ষেপ নেই। সংশ্লিষ্ট বিভাগ নজর দিলে গুরিন্দা মসজিদের স্থাপত্যশৈলী থেকে প্রত্নতত্ত্বের মূল্যবান রহস্য উদঘাটিত হতে পারে।




‘আমরা কলাপাড়াবাসী’র পরিচ্ছন্নতা অভিযান

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার কলাপাড়া উপজেলার আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) উপকূলীয় সদস্য সচিব ও কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন মান্নু।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, কলাপাড়া রিপোটার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হক, গণমাধ্যমকর্মী ছগির হোসেন, আমরা কলাপাড়াবাসীর সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি আল ইমরান, সাবেক সভাপতি নেছার উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক হেমায়েত উদ্দিন প্রমুখ।

অতিথিরা বলেন, পরিষ্কার – পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। পরিবেশ সুরক্ষায় সবার এগিয়ে আসা উচিত। পরিবেশ ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকতে পারব। আজ আমরা কলাপাড়াবাসীর আয়োজনে সদস্যরা হেলিপোর্ট পরিষ্কার করছে, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। আমরা কলাপাড়াবাসীর ভালো কাজগুলো এভাবেই ছড়িয়ে পড়ুক সবার মধ্যে।




পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে বহাল জাহিদ ফারুক

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: বরিশাল-৫ আসন থেকে বিজয়ী জাহিদ ফারুক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে বুধবার (১০ জানুয়ারি) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন : জাহিদ ফারুক শামীমের জন্ম ২৬ নভেম্বর ১৯৫০ সালে বরিশালের নবগ্রাম রোডে। বরিশাল জিলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন তিনি। পাকিস্তানের পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রিধারী অর্জন করেন। তার পিতা খন্দকার মজিবুর রহমান ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। মা আম্বিয়া বেগম ছিলেন গৃহিণী। তার স্ত্রী লায়লা শামীম সম্প্রতি ইন্তেকাল করেছেন। তার এক সন্তান রয়েছে।

কর্মজীবন : জাহিদ ফারুক ছাত্রজীবনই তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কাজ করেন। ২০০৪ সালে তিনি কর্নেল পদে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক জীবন : জাহিদ ফারুক ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে হয়ে বর্তমানে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-৫ আসন থেকে পরাজিত হয়েছিলেন। তিনি প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বরিশাল-৫ আসন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। তিনি শেখ হাসিনার চতুর্থ মন্ত্রিসভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের এ প্রার্থী ৬২ হাজার ৩৩৬ ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের ফলাফলে জাহিদ ফারুক পান ৯৭ হাজার ৭০৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপন পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩৭০ ভোট।

গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২২২টিতে জয় পায় আওয়ামী লীগ। এছাড়া স্বতন্ত্রদের মধ্যে বিজয়ী হন ৬২ জন, যাদের মধ্যে ৫৯ জন আওয়ামী লীগেরই নেতা। আর জাতীয় পার্টি জয় পেয়েছে ১১টি আসনে। দুটিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের শরিক দল জাসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং একটিতে জয় পেয়েছে কল্যাণ পার্টি। একটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।

এস এল টি/ চন্দ্রদ্বীপ নিউজ /




দুমকিতে সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পারাপার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর দুমকিতে শ্রীরামপুর ও মুরাদিয়ার মধ্যবর্তী মুরাদিয়া নদীর উপর মাত্র ৬০ ফুট ব্রিজের অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন পারাপার করেন শিক্ষার্থীসহ দুটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়ন ও মুরাদিয়ার ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে মুরাদিয়া নদী, যা এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। এ খালের এক পাড়ে রয়েছে শ্রীরামপুর ইউনিয় এবং অপর পাড়ে রয়েছে মুরাদিয়া ইউনিয়ন এবং খালের পাড়েই রয়েছে, ২৭ নং পশ্চিম মুরাদিয়া সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ মুরাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা।

প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুরাদিয়া খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো দিয়ে পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে চায় না প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। এছাড়াও প্রায়ই শিক্ষার্থী ও পথচারিরা সাঁকো থেকে পড়ে আহত হচ্ছে।

২৭ নং পশ্চিম মুরাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন নাহার জানান, সাঁকোর অপর পাড়ে রয়েছে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শতাধিক শিক্ষার্থী। এখানে একটি ব্রিজ হলে শিক্ষার্থী সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেত, তেমনি টিফিনের সময় বাড়ি থেকে সহজে খেয়ে আসতে পারতো। অনেক শিশু ছাত্র বড়দের হাত ধরে পার হওয়ার আসায় সাঁকোর কাছে দাঁড়িয়ে থাকে।

শ্রীরামপুর ইউনিয়নের মো. ছত্তার মোল্লাসহ অনেকে ক্ষোভের সঙ্গে জানান, জনপ্রতিনিধিরা আমাদের বার বার ব্রিজের প্রতিশ্রুতি দিলেও কেউ কথা রাখেনি।

এলাকাবাসী চায় সাঁকোর স্থলে একটি মজবুত পুল তৈরী হলে তাঁরা আরো উপকৃত হবে। শংকামুক্ত হবে শিশু-কিাশোর শিক্ষার্থী সন্তানের পারাপার। এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী দিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে আয়রণ ব্রিজের জন্য প্রধান প্রকৌশল অধিদপ্তরে কথা বলবো যাতে করে এখানে একটি ব্রিজের ব্যবস্থা করা হয়।




বরিশালে খাল দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মান

বরিশাল অফিস :: সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারি খাল দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকার।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বাটাজোর-সরিকল প্রবাহমান খালের বাটাজোর বন্দর সংলগ্ন এলাকার খালের একটি অংশ দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে আসছেন প্রবাসী জাকির হোসেন ও করিম তালুকদার নামের দুই ব্যক্তি। সূত্রে আরও জানা গেছে, খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে খাল দখল না করতে ওই দুই দখলকারীকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খালের মধ্যেই স্থাপনা নির্মানের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অচিরেই খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে বলেও স্থানীয় বাসিন্দারা উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, খালের মধ্য থেকে সকল অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরেও দখল কাজ চালিয়ে গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।