বরিশালে আগাম ইরি-বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার অন্যতম শষ্য উৎপাদনকারী উপজেলা হিসেবে পরিচিত আগৈলঝাড়া উপজেলা। এই উপজেলায় আগাম ইরি-বোরো চাষে নেমেছে কৃষক-কৃষানিরা। চলতি বোরো মৌসুমের শুরুতেই শীত উপেক্ষা করে জমিচাষদিয়ে ধানগাছের চারা রোপন করার জন্য এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

 

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার সুভাষ চন্দ্র মন্ডল জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ১০হাজার ৪শ ১০ হেক্টর জমিতে উপশি ও হাইব্রিড ইরি-বোরো চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে আগাম চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪০ হেক্টর জমি। তবে আগাম চাষ বেড়েছে অনেক বেশী। বাকী ১০হাজার ২শ ৩০ হেক্টর জমিতে চাষ হবে হাইব্রীড ধান।

 

উপজেলার বাকাল গ্রামে কৃষক রিপন বলেন, জমিতে বলদ (গরু) দিয়ে মইদিতে টাকার দরকার আমরা গরিব মানুষ টাকা নাই। আমার দিনমজুর, মানুষের জমিতে কাজকরে রোজগা করে পরিবার চালাই। আমাদের কাছে টাক না থাকায় নিজেরা মইদিয়ে জমি সমান করে ধানবিজ লাগানোর জন্য জমি তৈরিকরছি। পেটেরদায়ে কাজ করছি। কাজের সময় শীত মনে হয়না।

কৃষক জাহিদুল হক স্যানামত বলেন, এবছর আমরা পুরাতন পানিতে ধানচারা রোপন করছি। পুরাতন পানিতে ধানচারা রোপন করাতে আমাদেও পানি সেচ ও চাষ খরচ লাগেনা। আমারে অনেক খরচ বেচেযায়। আমরা প্রায়জমিতে চারারোপনের কাজ শেষ করে ফেলেছি। সরকার আমাদের সার ও ধানবীজ দিয়েছে। আমরা আসাক ত রি চলতি বছর আমাদেও ধানের ফলন ভালো হবে।

বরিশাল আগৈলঝাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার পিযূষ রায় বলেনছেন,’আমারা চলতি বছর উপজেলার ১ হাজার কৃষককে ধানবীজ ও সারদিয়েছি এবং ৫ হাজার কৃষককে ধানবীজ দিয়েছি।’চলতি বছর ঘন কুয়াশার কারণে ধানেরবীজ তলায় কিছুটা ক্ষতির প্রভাব পরেছে।’যে ক্ষতি হয়েছে তা বড় ধরনের কোন ক্ষতিনা। জমিতে আগাম যে বীজরোপন করা হয়েছে তাতে কো ক্ষতির প্রভাব ফেলতে পারেনাই’।’চলতি বছর প্রকৃতির কোন দূর্যোগ বা বৈরীআবহাওয়া না হলে এবছরও বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা আছে।’এবছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রার ছাড়িয়ে যাবার সম্ভবনা রয়েছে’।

 




বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে : পিটার হাস

চন্দ্রদীপ নিউজ : আগামী মাসগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য, জলবায়ু ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এই কথা জানান পিটার হাস।

নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে পিটার হাস বলেন, ‘দুই প‌ক্ষের ম‌ধ্যে ব‌্যবসা-বা‌ণিজ‌্য, জলবায়ু ও রো‌হিঙ্গা সংক‌টে এ‌ক অপর‌কে কিভা‌বে সহ‌যো‌গিতা কর‌তে পা‌রি, সেটা নি‌য়ে আলোচনা ক‌রে‌ছি। আগামী মাসগু‌লো‌তে আমা‌দের পারস্প‌রিক স্বার্থ এগি‌য়ে নি‌য়ে যাওয়ার জন‌্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে।

পিটার হাস আরো বলেন, ‘নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স‌ঙ্গে আজ দেখা করার সু‌যোগ হ‌য়ে‌ছে। ভ‌বিষ‌্যতে আমা‌দের দুই প‌ক্ষের সম্প‌র্কের কার্যক্রম নি‌য়ে আমরা কথা ব‌লে‌ছি। আমরা দুই পক্ষের স্বার্থ সং‌শ্লিষ্ট বিষয়গুলো কিভা‌বে এগিয়ে নেব তা নি‌য়ে আলোচনা ক‌রে‌ছি।’

দুই দেশের ভবিষ্যত সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পিটার হাস বলেন, ‘বাংলা‌দেশ-মা‌র্কিন যুক্তরা‌ষ্ট্রের ম‌ধ্যে সম্পর্ক কিভা‌বে এগিয়ে নেওয়া যায় সে বিষ‌য়ে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স‌ঙ্গে আলোচনা হয়েছে।




কুয়াকাটায় বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের মুসুল্লীয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্কুল নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) স্কুল কর্তৃপক্ষ কাজ পরিদর্শনের সময় অনিয়ম দেখে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানা গেছে, ঢালাইয়ের কাজে পরিমাণের কম সিমেন্ট ব্যবহার, উন্নতমানের খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ ব্যবহার করা,মাটি-বালির উপরে বেইজ ঢালাই, বেশ কিছু স্থানে পরিমাণের কম রড ব্যবহার করেছে নির্মাণাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল-মদিনা মটরস। তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।

কাজ বন্ধের খবর শুনে ঘটনাস্থলে আসেন  জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো. সোহেল।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি মো. হযরত আলী বলেন, এই ওয়াশ ব্লকের নির্মাণ কাজের শুরু থেকে তারা অনিয়ম করে আসছে। আমরা যখন আসি তখন ভালো করে কাজ করে। চলে গেলেই অনিয়ম শুরু করে। তারা দিনের পরিবর্তে রাতে ঢালাই করে। এসব করে মূলত অনিয়ম করার জন্য।

মুসুল্লীয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউনুস হাসান জানান, সিডিউল অনুযায়ী কাজ করছে না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের জন্য নির্মিত ভবন তৈরীতে অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না।

এ কাজের দায়িত্বে থাকা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো. সোহেল জানায়, স্কুল কর্তৃপক্ষ যে অভিযোগ করেছে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। আমি বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল-মদিনা মটরসের দায়িত্বে থাকা মো.আজিজ জানান, এই উপজেলায় আমার অনেকগুলো কাজ চলমান। তাই বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। রড কম দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের  বিষয়গুলো আমার অজান্তে ঘটেছে। আমরা এটা সংশোধন করে নিব।

কলাপাড়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জিহাদ হোসাইন জানান, আমি একটু অসুস্থ তাই ডাক্তার দেখাতে এসেছি। সে কারণে এই সমস্যাটা হয়েছে। আমি থাকলে এরকম ভুল হতো না। আমি জানার পর সংশোধন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।




বাউফলে শাশুড়িকে মারধরের ঘটনায় জামাই গ্রেপ্তার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফলে মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় শাশুড়িকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে জামাই ফয়সাল।

এ ঘটনায় শ্বশুরের দায়ের করা মামলায় জামাই মো. ফয়সাল হোসেন (২৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল সকালে তাকে পটুয়াখালী আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফয়সাল কাগুজিরপুর এলাকার জয়নাল আবেদিনের ছেলে।

জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে ফয়সাল। এ নিয়ে প্রায়ই ফয়সাল ও তার স্ত্রী আঁখি বেগমের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হতো। ফয়সালের এই মাদকসেবনে প্রতিবাদ করে শাশুড়ি নাসিমা বেগম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শাশুড়িকে মারধর করেন ফয়সাল। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে শ্বশুর রফিক হাওলাদার বাদী ফয়সালসহ চার ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে গত সোমবার রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা ফয়সালকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে গতকাল সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




জাপানের ভূমিকম্পে ৮০০ ফুট পিছিয়েছে সমুদ্র

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ২০২৪ সালের প্রথম দিনটিতেই কেঁপে উঠেছিল জাপানের নোটো উপদ্বীপ অঞ্চল। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৭.৫। ২১৩ জন প্রাণ হারায় সেই বিপর্যয়ে। ২৬ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছিল।

কমপক্ষে ৬০ হাজার বাড়িতে ছিল না পানি। ১৫ হাজার পরিবার ছিল বিদ্যুত্হীন। তবে এখানেই শেষ নয়, ভয়াবহ এই ভূমিকম্প প্রকৃতির ওপরও ছাপ ফেলে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ওই ভূমিকম্পের কম্পন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে সমুদ্র পিছিয়ে গেছে আর সমুদ্র ঘেঁষে জেগে উঠেছে প্রায় ৮০০ ফুট (২৫০ মিটার) জমি।

নতুন সৈকতে অনায়াসে ধরে যেতে পারে দু-দুটি ফুটবল মাঠ। শুধু তা-ই নয়, এর ফলে সমুদ্রবন্দরও পরিণত হয়েছে পানিহীন শুকনা খটখটে মাঠে। ভূমিকম্পের সপ্তাহ দুয়েক পর উপগ্রহের চিত্রে এই অবস্থা উঠে এসেছে।বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভূমিকম্পের জেরে উপকূল থেকে সমুদ্র সরে গেছে।

ফ্রান্সের এক ইলেকট্রনিক টেকনিশিয়ান ও ভূ-পর্যবেক্ষক (পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিপর্যয় পর্যবেক্ষণ করেন) নাহেল বেলগোরজে প্রথম গত ৪ জানুয়ারি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছিলেন, ‘জাপানের নোটো উপদ্বীপে ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে উপকূলবর্তী অঞ্চলে ২৫০ মিটার জমি জেগে উঠেছে।’ তিনি নোটো উপদ্বীপের ভূমিকম্পের আগে ও পরের ছবিও শেয়ার করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নোটো উপদ্বীপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অনুসন্ধানে নেমে অন্তত ১০টি স্থানে তাঁরা জমি জেগে ওঠার (কোস্টাল আপলিফট) প্রমাণ পেয়েছেন। ‘জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি’র বিশেষ কৃত্রিম উপগ্রহ ‘অ্যাডভান্সড ল্যান্ড অবজারভিং স্যাটেলাইট-২’-এর পাঠানো ছবিতেও বিষয়টি ধরা পড়েছে।

জাপান প্রতিবছর শত শত ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়।

তবে দেশটিতে চার দশকের বেশি সময় ধরে কঠোর ভবন নির্মাণবিধি কার্যকর থাকায় বেশির ভাগ ভূমিকম্পে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয় না। সূত্র : এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা।



চীনের জিনজিয়াংয়ে তুষারধসে আটকা ১০০০ পর্যটক

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : চীনের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চলে টানা তুষারপাতের পর তুষারধসে মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রায় এক হাজার পর্যটক কয়েকদিন ধরে একটি প্রত্যন্ত পর্যটন গ্রামে আটকা পড়ে আছেন।

মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন জানিয়েছে, কয়েক মিটার উঁচু তুষার ও অশান্ত আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের সরিয়ে আনার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কাজাখস্তান, রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়ার সীমান্তবর্তী মনোরম পর্যটন গন্তব্য হেমু গ্রামে পর্যটকরা আটকা পড়েছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কয়েক দিন ধরে এখানেই আটকা পড়ে আছেন তারা। গ্রামটি জিনজিয়াংয়ের আলতাই প্রিফেকচারে অবস্থিত, এখানে কিছু এলাকায় টানা ১০ দিন ধরে অনবরত তুষারপাত হচ্ছে বলে খবরে বলা হয়েছে।

ভারি তুষারপাতের কারণে আলতাই পর্বতের ভেতর দিয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য কানাসের দিকে যাওয়া মহাসড়কগুলোতে বহু তুষারধস হয়েছে। এতে মহাসড়কগুলোর বিশাল অংশ তুষারের নিচে চাপা পড়ে আছে।

রোববার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছিল, কিছু পর্যটককে হেলিকপ্টারযোগে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এ প্রক্রিয়ায়ও বিঘ্ন ঘটছে।

সিসিটিভি জানিয়েছে, কিছু অংশে তুষারধসের কারণে সাত মিটারের মতো উঁচু হয়ে তুষার জমে আছে আর অনেক জায়গায় তুষার পরিষ্কার করার যন্ত্রের চেয়ে উঁচু হয়ে আছে তুষার।

একটি মহাসড়কের ৫০ কিলোমিটার অংশ তুষারধসে চাপা পড়ে আছে। এটি পরিষ্কার করার কাজ এক সপ্তাহ আগে শুরু হলেও এখনও শেষ করা যায়নি।




পাতলা একখান কম্বল দিয়া শীত আটকান যায় না

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): ‘এই খোলা যাগায় এত ঠান্ডার মইধ্যে রাইতে ঘুম তো দূরের কথা, বইয়াও থাকতে পারি না বাবা। খালি বাতাস আর বাতাস, হাত-পা সব ঠান্ডা হইয়া যায়। পাতলা একখান কম্বল দিয়া এই শীত আটকান যায় না।’

তীব্র শীতে কাঁপতে কাঁপতে এমনটাই বলছিলেন পটুয়াখালীর লঞ্চ টার্মিনালের থাকা ছিন্নমূল আলেয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধা।

ঘন কুয়াশায় রাতের পটুয়াখালী শহরে ফুটপাতে, বন্ধ চায়ের দোকানের বেঞ্চে কিংবা শহরের লঞ্চ টার্মিনালের ভেতরে দেখা মেলে গৃহহীন ছিন্নমূল মানুষগুলোর। যাদের কাছে শীত মানে অভিশাপ। এদের কাছে নেই মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই, পেটে নেই অন্ন, শরীরে নেই শীত নিবারণের মতো কোনো পোশাক।

প্রতিবছর সরকারি – বেসরকারি ভাবে এই অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত মানুষ গুলোকে শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করা হলেও এ বছর এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সহযোগিতা করা হয়নি।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই হাঁড় কাঁপানো তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত। দক্ষিণবঙ্গ পটুয়াখালী জেলায় ঘন কুয়াশার কারণে রোদের দেখা মিলছে না বেশ কয়েকদিন। ফলে দিন ও রাতে প্রায় একই রকম শীত পড়ছে।

পটুয়াখালী জেলার আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এই তীব্র শীত আরও বেশ কিছুদিন থাকতে পারে এবং চলতি মাসের ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি আকাশ মেঘলা থাকবে সেইসঙ্গে হতে পারে বৃষ্টি। বৃষ্টির পর আবার তীব্র শীতের প্রভাব থাকতে পারে। এ সময়ে দেশের দক্ষিণবঙ্গে বয়ে যেতে পারে শৈত্যপ্রবাহ।




পটুয়াখালীতে অবাধে চিংড়ি শিকার, মরছে অন্য পোনাও

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর সাগর উপকূলে অবাধে ছোট ছোট চিংড়ি শিকার করা হচ্ছে। ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে এই চিংড়ি ধরতে গিয়ে অনান্য মাছের পোনাও মারা যাচ্ছে। সেই সাথে ধ্বংস হচ্ছে জলজ অন্যান্য প্রাণ-প্রকৃতি।

এই জালের অবাধ ব্যবহার মৎস্য খাতের জন্য হুমকি মনে করেন এই খাতের গবেষকরা।

হাজার হাজার ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগর উপকূলে ছোট জাতের চিংড়ি শিকার করতে যাচ্ছে পটুয়াখালীর জেলেরা। ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করে অবাধে শিকার করা হয় স্থানীয়ভাবে ভুলা চিংড়ি নামে পরিচিত ছোট জাতের এই চিংড়ি। যা সাধানত শুটকি তৈরি করা হয়। তবে এই মাছ শিকার করতে যে জাল ব্যবহার করা হয় তাতে অনান্য মাছের পোনা ও জালজ প্রকৃতিও নষ্ট হচ্ছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, কুয়াকাটাসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায় জেলেরা সাগর থেকে যে চিংড়ি শিকার করে নিয়ে আসছেন তার সাথে ইলিশ, পোয়া, ছুড়ি, বাইলা, লইট্যাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ও প্রানীর পোনাও মারা গেছে।

মৎস্য খাতের গবেষকরা বলছেন, এভাবে অবাধে মাছ শিকারের ফলে মাছের খাদ্য শৃঙ্খলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেবার কথা জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।




নকল করায় ৪১ পরীক্ষার্থীকে শাস্তি দিলো বরিশাল শিক্ষাবোর্ড

বরিশাল অফিস :: নকলের দায়ে বরিশালে ৪১ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। এরা সবাই ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছিলো। বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন ধাপে এই সাজা প্রদান করা হয়েছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ও চন্দ্রদীপ নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ‘পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে শৃঙ্খলা কমিটির ৪০ তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অপরাধের ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে ক খ ও গ শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।ক শ্রেণিভুক্ত দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ৩৩ জন। এদের ২০২৩ সালের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। রেজিষ্ট্রেশনের মেয়াদ থাকলে তারা ২০২৪ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

খ শ্রেণিভুক্ত দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ৭ জন। এদের ২০২৩ সালের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে এবং ২০২৪ সালের পরীক্ষায়ও অংশ গ্রহণ করতে পারবে না। রেজিষ্ট্রেশনের মেয়াদ থাকলে তারা ২০২৫ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

গ শ্রেণিভুক্ত দোষী সাব্যস্ত হয়েছে একজন। এই পরীক্ষার্থীর ২০২৩ সালের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারবে না সে। রেজিষ্ট্রেশনের মেয়াদ থাকলে তারা ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।




পটুয়াখালীতে ১৩৬ হেক্টর জমিতে শসা চাষ

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালী, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ পটুয়াখালীতে ১৩৬ হেক্টর জমিতে শসা চাষ। পটুয়াখালী জেলায় বাড়ছে শসার চাষ। কৃষকেরা সারাবছরই শসা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ায় অনেক কৃষক শসা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে এলাকার কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার যেমন উন্নতি হচ্ছে; পাশপাশি জেলার বাইরেও পটুয়াখালীর উৎপাদিত শসা সরবরাহ করা হচ্ছে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী আঞ্চলিক সড়কের পাশে ১১ একর জমি ইজারা নিয়ে শসা চাষ করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা সীরাজ মীর। বাড়ি ভোলা জেলার নীলকমল ইউনিয়নে হলেও এবার তিনি এ এলাকায় শসা চাষ করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের কারণে এবার ফলনও হয়েছে বেশ ভালো।

কৃষি উদ্যোক্তা সীরাজ মীর বলেন, ‘আমাদের এলাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ ভালো না। তাই এই এলাকায় শসা আবাদ করছি। এখানে বিকেলে শসা তুলে তা রাতের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো যায়। বিশেষ করে ঢাকার বাজার ধরতেই বেশি চেষ্টা করি। এখানে নারী-পুরুষসহ অনেক কৃষিশ্রমিক পাওয়া যায়। যে কারণে কৃষিকাজের পরিবেশ ভালো।’

এবার এলাকায় ১১ একর জমিতে শসা আবাদে প্রায় ২৩-২৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। যদি প্রতি কেজি শসা ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে বিক্রি করা যায়, তবে অর্ধকোটি টাকার শসা বিক্রি করা সম্ভব। যদি শসার কেজি ১২ থেকে ১৩ টাকায় নেমে আসে, তবে চালান টাকা আসবে। ১০ টাকার নিচে দাম এলে লস হবে বলে জানান এ কৃষি উদ্যোক্তা।

শুধু সীরাজ মীর নন, এলাকার অনেকেই তার দেখাদেখি শসা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। অনেকেই আধুনিক কৃষিতে নিজেদের নিয়োজিত করছেন। এছাড়া বাণিজ্যিক ভাবে শসা চাষের কারণে কৃষি ক্ষেত্রে অনেকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষকেরা গার্হস্থ বাড়িতে শসা চাষ করলে সেটা মাচা পদ্বতিতে করে থাকেন। তবে সীরাজ মীর সরাসরি জমিতেই শসার লতা বিছিয়ে দিচ্ছেন। সেখান থেকেই শসা সংগ্রহ করছেন। এ কারণে কৃষকদের কাছে পদ্ধতিটি বেশ জনপ্রিয় এবং লাভজনক।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় শীতকালীন তরমুজের পাশাপাশি কৃষক হাইব্রিড জাতের ডেইজি, ময়নামতি, সুপ্রিম প্লাস ও সুমাইয়া জাতের শসা চাষ করছেন। গত বছর জেলায় ৮ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হলেও চলতি বছর ১৬৩ হেক্টর জমিতে শসা চাষ করা হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় তা এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।’

পটুয়াখালীর বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। তবে কৃষকেরা মাঠপর্যায়ে এখন ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে শসা বিক্রি করছেন। আগামী রমজান মাসকে উদ্দেশ্য করে অনেকেই নতুন করে শসা চাষ করছেন।