পটুয়াখালীতে মহাসড়ক যেন ময়লার ভাগাড়

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালী পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৮৯২ সালে। ১৩১ বছর পার হলেও ময়লা-আবর্জনা ফেলার জায়গা ঠিক করতে পারেনি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। মহাসড়কের পাশে খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। এতে দুর্গন্ধে দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে আসছিল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এসব ময়লা জোয়ারের পানিতে ভেসে যেতো নদীতে। ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর নদীর তীরে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে বাধা দেয় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। এরপর থেকে পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের পাশে পটুয়াখালী টোলপ্লাজার পূর্ব পাশের সড়কের খোলা জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা হলে সেখানে সমস্যা হওয়ার পরে সেখান থেকে সরিয়ে পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গরুর বাধঘাট নামক এলাকায় ফেলা হতো ময়লা।

মাসখানেক ধরে পৌর শহরের সমস্ত ময়লা এনে জমা করা হয় পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের বাধঘাট তেলের পাম্পের পাশেই এতে পুরো সড়ক ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মহাসড়কের পথচারীরা ওই এলাকার মানুষজন।

ময়লার ভাগাড় থেকে বাতাসে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। সড়কটিতে চলাচলকারী সবাই নাক চেপে চলাচল করছে। এক হাতে নাক চেপে আর এক হাত দিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা গেছে। এতে দূর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। সরেজমিনে এ ময়লার ভাগাড় দেখতে গেলে প্রতিবেদকের সামনের এক মোটরসাইকেল চালককে এক্সিডেন্ট করতে দেখা গিয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চান স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে রাতের আঁধারে এসে এখানে ময়লা ফেলে যাচ্ছে পৌর কতৃপক্ষ। ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে এ বিষয়ে অবহিত করলে তিনি দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘শহরের অনেক সড়ক প্রশস্ত ও চার লেনের হয়েছে। দুটি লেক, ওয়াকওয়ে, সাইকেল লেন ও দৃষ্টিনন্দন সড়ক বাতি যে কাউকেই আকৃষ্ট করবে। তবে ময়লার ভাগাড়টি সব উন্নয়নকে ফিকে করে দিচ্ছে।’

রিকশাচালক রাশেদ বলেন, এই রাস্তায় দুর্গন্ধের লইগ্যা চলন যায়না। না ঠ্যাকলে এই দিক আই না।

পথচারী রিয়াজ বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। ময়লার দুর্গন্ধে শ্বাস নিতে পারি না। এভাবে রাস্তার পাশে ময়লা ফেলে রাখা ঠিক না। এতে যেমন আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় তেমনি ক্ষতি হয় পরিবেশের। আমরা দ্রুত এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।

মহাসড়কের পাশের এক দোকানী মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, এখানে ময়লা ফেলতে দেখে জিজ্ঞেস করছিলাম কেনো এখানে ময়লা ফেলছে? তখন পরিচ্ছন্নকর্মীরা বলেছিলো কয়েকদিনের মধ্যে ময়লা সড়ানো হবে। এখানে বালি ফেলা হবে। আর ময়লা ফেলবে না। কিন্তু প্রতিনিয়ত রাতে আঁধারে এসে ময়লা ফেলে যাচ্ছে তারা। প্রতিদিন এই দুর্গন্ধে থাকতে থাকতে মনে হচ্ছে ডোবার মধ্যে বাস করছি।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকেই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আমরা এখানে বালি ফেলে ভরাট করে দেবো। ডাম্পিং স্টেশনে এরপর থেকে ময়লা চলে যাবে। যায়গাটা তৈরী হচ্ছে আর দুই-তিন দিন সময় লাগবে৷ এখন পর্যন্ত এলোমেলো ভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে তবে আর কিছুদিনের মধ্যে সমস্ত যায়গা পরিষ্কার করে আমরা সব ময়লা ডাম্পিং স্টেশনে ফেলার ব্যবস্থা করবো।




বরিশালে ঠান্ডা জনিত রোগে ৫ শিশুর মৃত্যু

বরিশাল অফিস :: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শীতজনিত রোগে গত ছয় দিনে চিকিৎসাধীন পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসময়ে চিকিৎসা নিয়েছে ১৮৩ শিশু।

বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মারা যাওয়া শিশুরা ঠান্ডাজনিত জ্বর ও নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন।

তিন আরও জানান, শিশু ওয়ার্ডে গত ১২ জানুয়ারি থেকে জ্বর-সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু বাড়ছে। এ ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ শিশু ভর্তি হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশু ওয়ার্ডে ৪৫ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে তিনগুণের বেশি। শয্যা সংকটের কারণে শিশুদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্ড ছাড়াও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে শতাধিক শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক রোগী।

শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ রুনা আক্তার বলেন, ১২ জানুয়ারি ৩১ শিশু ভর্তি হয়েছিল, এর মধ্যে একজন মারা যায়। ১৩ জানুয়ারি ভর্তি হয়েছিল ৩০ শিশু, মারা যায় এক শিশু। ১৪ জানুয়ারি ৩১ শিশু ভর্তি হয়েছিল, মারা গেছে এক শিশু। ১৫ জানুয়ারি ৩০ শিশু ভর্তি হয়েছিল। ১৬ জানুয়ারি ৩১ শিশু ভর্তি হয়েছিল, মারা গিয়েছিল এক শিশু। ১৭ জানুয়ারি ৩০ শিশু ভর্তি হয়, মারা গেছে এক শিশু।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বহির্বিভাগে প্রতিদিন চার শতাধিক রোগীকে সেবা দিচ্ছেন চার শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। শিশু ওয়ার্ডে ৪৫ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে তিনগুণের বেশি। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা কমসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া হচ্ছে।

 




শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কাউখালীতে জনজীবন বিপর্যস্ত

বরিশাল অফিস :: মাঘের শীতে বাঘ কাঁপে’ বললেই বোঝা যায় মাঘ মাসে শীতের তীব্রতা কেমন। মাঘ মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে উপকূলীয় এলাকার কাউখালীর মানুষ। মাঘের এই প্রথম সপ্তাহে হাড় কাঁপানো শীতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসময়ের বৃষ্টি। আর এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। অসময়ে আকাশ ভেঙে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি নেমেছে।

কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে বৃষ্টিতে কাউখালী উপজেলার জনজীবন অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে। নানা কাজে বাইরে যারা বের হয়েছেন, তারা শীতল বৃষ্টির ফোঁটায় কাবু হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঘন কুয়াশা ও মেঘে আকাশ ঢেকে থাকায় এখনও সূর্যের দেখা মেলেনি। সপ্তাহব্যাপী তীব্র শীতে নাকাল জনজীবনের পাশাপাশি ফসলের ক্ষতি নিয়েও কিন্তু উদ্বিগ্ন কৃষকরা। এদিকে তীব্র শীতের সঙ্গে বৃষ্টির কারণে ক্ষেতের পাকা আমন কাঁটা নিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলার সয়না রঘুনাথপুরের কৃষক সুজন জানান মাঠে এখন পাকা আমন ধান অসময়ে বৃষ্টির কারণে দানে গজ এসে যেতে পারে এবং বৃষ্টির কারণে দান জমির সাথে মিশে যাবে এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। অন্যদিকে ভোর থেকে বৃষ্টি থাকায় রাস্তাঘাট ছিল ফাঁকা। দু-একজন জরুরি প্রয়োজনে ছাতা মাথায় দিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়েছেন। রিকশাচালক শুক্কুর আলী বলেন, একদিকে হার কাঁপানো শীত অন্যদিকে সকাল থেকে বৃষ্টি রাস্তাঘাটে লোকজন না থাকায় শীতেও কাবু হইতেছি খুদাও কাবু হইতেছি।

 




বরিশাল ল’ কলেজ থেকে ভিপি আনোয়ারের অপসারনের দাবিতে নগরীতে মানববন্ধন

বরিশাল অফিস :: শহীদ এ্যাডভোকেট আবদুর রব সেরনিয়াবাত আইন মহাবিদ্যালয় এর সভাপতি ভিপি আনোয়ারের অপসারনের দাবিতে নগরীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নগরীর অশ্বিনী কুমার (টাউন হল) চত্তরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ভিপি আনোয়ারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দূর্ণীতির তথ্য তুলে ধরে অপসারনের দাবি জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য আবুল ফারুক। মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ (বাকসু) এর সাবেক ক্রিড়া সম্পাদক মো: ফয়সাল বিন ইসলাম, শহীদ এ্যাডভোকেট আবদুর রব সেরনিয়াবাত আইন মহাবিদ্যালয় এর সদ্য বিদায়ী ছাত্র খন্দকার রাকিব, বেল্লাল হোসেন সিকদার, বর্তমান শিক্ষার্থী মো: মেহেদি হাসান হাসিব, জান্নাতুল মাহি, সরজিত রায়, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রুম্মান হোসেন, জামাল সরদারসহ শতাধিক সাবেক বর্তমান শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- সভাপতি ভিপি আনোয়ার ও তার চাচা শশুর ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ মোস্তফা জামান খোকন অবৈধ ভাবে শিক্ষক নিয়োগ ও সভাপতির নিজ নামে টাকা উত্তোলন/আত্মসাৎ, শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে করা অসৌজন্যমূলক আচরণের সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে বিচার ও অপসারনের দাবিসহ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রাধনমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম এমপি এবং আবদুর রব সেরনিয়াবাতের সুযোগ্য পুত্র বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতকে নিয়ে ভিপি আনোয়ার কটুক্তি করায় বহিস্কার ও শ্বাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনের আয়োজকদের দেয়া প্রেস বিজ্ঞপিতর মাধ্যমে জানা যায়, ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে জাতিয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ভুল বুুঝিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে সু-চতুর আনোয়ার সভাপতি হন। সভপতি হওয়ার পর পরই আপন চাচা শশুরকে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ নিয়োগ দেন। এর পর পরই শুরু হয় কলেজ ফান্ড থেকে অর্থ আত্মসাৎ, যার পরিমান প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। তার নিজ নামে চেকের মাধ্যমে উত্তলন করে ৫ লক্ষ টাকা। সদ্য সিটি কর্পোরেশ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে তার স্ত্রীরির নির্বাচনী প্রাচারণার খরচের একাংশ ভাউচারের মাধ্যমে উত্তলন করেন এই অবৈধ সভাপতি ভিপি আনোয়ার। স্টল বরাদ্দের জন্য দুই কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করেন বেআইনি ভাবে। তিনি ফাইনাল পরিক্ষায় নকলের বিশেষ সুবিধা দেয়ার কথা বলে প্রতি বছর প্রায় ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন। ভাইবা পরিক্ষায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে উত্তলন করেন। এছাড়াও শিক্ষক শিক্ষারর্থীদের সাথে খারাপ আচরণ, অবৈধভাবে শিক্ষকদের চাকুরি থেকে বাদ দেয়া এবং অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের শফিক মিজান রহমান এন্ড আগাষ্টিন চাটার্ড একাউন্ট্যান্টস এর তদন্তে ৫০ লক্ষ টাকার অধিক দূর্নীতির প্রামান পাওয়ায় তদন্ত রিপোর্ট গ্রহন করেন নি ভিপি আনোয়ার ও কলেজের অধ্যক্ষ। পরবর্তীতে তারা গোপনে অন্য আরেক অডিটরকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে জাল জালিয়াতি ও ভূয়া তথ্য তুলে ধরে জাতিয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত রিপোর্ট প্রেরন করেন।




তালতলীতে সরিষা চাষে কৃষকদের সাফল্য

বরিশাল অফিস :: বরগুনার তালতলী উপজেলায় সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। গত এক দশক আগেও উপজেলার কৃষকরা সরিষা চাষের সঙ্গে পরিচিত ছিল না। তবে স্বল্প খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকায় অনেক কৃষকই এখন সরিষা চাষে এগিয়ে আসছেন। সাফল্য অর্জন করছে সরিষা চাষিরা এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় গত বছর ৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। এবার সরিষার আবাদ হয়েছে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে।

উপজেলার চরপাড়া গ্রামের কৃষক আল-আমিন বলেন, বীজ বপনের মাত্র দুই মাসের মধ্যে সরিষা ঘরে ওঠে। এ ছাড়া চলতি মৌসুমটা সরিষার জন্য বেশ অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। ফলে এবার সরিষা থেকে ভালো লাভের আশা আছে।

উপজেলার আলীরবন্দর এলাকার মাসুম হাওলাদার বলেন, আমি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় সরিষা চাষ করে আসছি। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী সরিষা চাষে অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ায় যায়। এতে রোগ-বালাই কম এবং উৎপাদন খরচ খুবই কম। তাই চলতি মৌসুমে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছি।

তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন হাওলাদার বলেন, এবছর ভালো ফলনের জন্য বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৮, বিনা সরিষা-৪,বিনা সরিষা-৯, টরি-৭, রকেট জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের কৃষি প্রনোদনা কর্মসূচি ও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সার ও বীজ প্রদান করায় সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরনে আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 




সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল

বরিশাল অফিস :: বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলার উদ্যোগে আজ (১৮ জানুয়ারী) সকাল ১১ টায় মহাত্মা অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল মল্লিক। বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা.মনিষা চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারন সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকন।

এ সময় বক্তারা বলেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে শ্রমিকদের সকল আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। বর্তমানে সময়ে গার্মেন্টস-টেক্সটাইলের মত প্রাতিষ্ঠানিক খাত থেকে শুরু করে ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ইজিবাইকসহ পরিবহন খাতেও শ্রমিক আন্দোলনের লড়াকু সংগঠন হিসেবে সারাদেশে শ্রমিক ফ্রন্ট শ্রমিকদের আস্থা অর্জন করছে।

বক্তারা বলেন, নীতিমালা চূড়ান্ত করে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বরং বিভিন্ন জায়গায় এখনো শ্রমিকদের জিম্মি করে চাঁদা নেয়া হচ্ছে অথবা অযৌক্তিক ভাবে ট্রাফিক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। অবিলম্বে ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে এই খাতভুক্ত লক্ষাধিক শ্রমিকদের ট্রাফিক হয়রানি ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি দিতে হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণ হওয়ার পর থেকে অপ্রশস্ত মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে।

বক্তারা মহাসড়কে সাইড লেন নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পার্কিং স্ট্যান্ড নির্মাণ করতে হবে,এবং শ্রমিক স্বার্থবিরোধী অত্যাবশকীয় পরিসেবা বিল প্রত্যাহার করার দাবি জানান। বক্তারা সোনারগাঁও টেক্সটাইলে গতবছরের বকেয়া বেতন পরিশোধ করাসহ যুগোপযোগী বেতনস্কেল চালু করার দাবি জানান।

এ সময়ে বক্তারা আরো বলেন,গত ৭ জানুয়ারী নির্বাচনের মাধ্যমে গনতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেকঠোকা হয়ে গেছে। যারা জনগণের ভোট ছাড়া ক্ষমতায় আসে তারা শ্রমিকদের কথা কখনোই চিন্তা করে না। এই অবৈধ সরকার শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের কাছে দেশ বর্গা দেয়ার জন্য জনসমর্থনবিহীন একটা পাতানো নির্বাচন করে সংসদ গঠন করেছে। বক্তারা অবিলম্বে এই জনবিচ্ছিন্ন সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন।

 




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান- উদ্বোধন

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি (সেনা ও নৌ শাখা) এবং রোভার স্কাউট গ্ররুপের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার(১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৪ কার্যক্রম কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রু.দা.) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া ।

এ সময় তিনি বলেন, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের এ উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

এখন থেকে প্রতিমাসের প্রথম সপ্তাহে ০১ দিন করে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এভাবে সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণাসহনবিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে দেশ ও বিদেশে পরিচিতি লাভ করবে এবং অচিরেই একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে।

এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অতিদ্রæত একটি কাউন্সিলিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে যেখানে একজন মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ দেয়া হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি সেনা শাখার ২/লেফটেন্যান্ট ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, নৌ শাখার পি.ইউ.ও. হোসনেয়ারা ডালিয়া এবং রোভার স্কাউটের গ্ররুপ সম্পাদক লিডার দিলআফরোজ খানম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রক্টর, বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট গ্ররুপের ক্যাডেটগণসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

 




নেতানিয়াহু নাকি এরদোগান এসময়ের হিটলার?

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : গত বছরের ডিসেম্বরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান নেতানিয়াহুর উদ্দেশে বলেছিলেন,‘হিটলারের সঙ্গে আপনার পার্থক্য কী?…হিটলার যা করেছেন, আপনি কি কোনো অংশে তার কম কিছু করেছেন?’ সূত্র: আলজাজিরা।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি হত্যার বিচারও হবে বলে জানিয়েছিলেন।  ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ কথা শুনে চুপ ছিলেন না। তিনি প্রতিউত্তরে বলেছিলেন, ‘ আপনিও তো কুর্দিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছিলেন? আপনিও তো সেমেটিকবিরোধী।

আপনি কেনিএ যুগের হিটলার নন? সূত্র: হাফিংটনপোস্ট।

এই বাকযুদ্ধের পর কিছুটা পরষ্পরকে আক্রমণ থেমে এলেও মুসলিম বিশ্বের অনেকে মনে করছেন,ইসরায়েল প্রশ্নে তুরস্ক চরম অবস্থান নেবে। ফিলিস্তিনিদের পাশে তুরস্ক দাড়াবে শক্তিশালী ভুমিকায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

১৪ জানুয়ারি ছিল গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ১০০ দিন। এদিনে আঙ্কারা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগে থেকে নির্ধারিত আঙ্কারা সফর বাতিল করেন। তেল আবিবে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ডেকে আনেন। পাইপলাইনের মাধ্যমে ইসরায়েলে গ্যাস সরবরাহের যে আলোচনাটি থেমে আছে, সেটা কীভাবে চালু করা যাবে, তা নিয়ে সলাপরামর্শ করা হয়। এই একটি ঘটনায় বোঝা যায়, বাণিজ্যের প্রশ্নে ইসরায়েলের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্ক ছেদে বিশ্বাসী নয় তুরস্ক ।

এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে তা ফিলিস্তিনিদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এমনকি ২০১০ সালে ইসরায়েলি সেনারা মাভি মারমারা গণহত্যা করার পরও আঙ্কারা তেল আবিবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুরোপুরি ছেদ করেনি।

ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য না করার জন্য অনেকে আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু তুরস্ক সেই আহ্বানে সাড়া দেবে বলে মনে হয় না।

এরদোগান চান যুদ্ধ চলুক, তিনি মুসলিম বিশ্বের পক্ষে কথা বলবেন আবার তুরস্কের ব্যবসাটাও চালিয়ে যাবেন। বড়ো কথা শান্তি স্থাপকের ভুমিকায় তিনি নিজেকে রাখতে চান।

মিডলইস্ট আই’তে তুরস্কের সাংবাদিক রাগিপ সয়লুর লেখা প্রতিবেদন অবলম্বনে




মালদ্বীপের মুইজ্জুর ভারতবিরোধিতার খুঁটির জোর কোথায় ?

চীনপন্থী বলে পরিচিতি আছে মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর। নির্বাচিত হওয়ার পর কয়েক মাসে তাঁর বক্তব্য ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তে এর প্রতিফলন মিলেছে। ভারতের বিরুদ্ধে জোরালো মন্তব্য ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি। মুইজ্জুর খুঁটির জোর কোথায়- এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে ভারত ও চীনের গণমাধ্যমগুলো। ভাষান্তর করেছেন মোহাম্মদ খান

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই মুইজ্জু মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সেনাদের সরিয়ে দুই মাসের সময় বেঁধে দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে হাইড্রোগ্রাফিক চুক্তিও বাতিল করেছে এই দ্বীপদেশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাক্ষা দ্বীপ সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সরকার তো বটেই জনগণের মধ্যেও সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মুইজ্জুর চীন সফরের পর ভারত-মালদ্বীপ সম্পর্ক নিয়ে আরো নতুন করে ভাবছেন বিশ্লেষকরা।

মালদ্বীপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিবেচনায় তাঁদের ধারণা, মুইজ্জু তাঁর পূর্বসূরির ভারতঘেঁষা নীতি থেকে বেরিয়ে আসবেন। অবশ্য এরই মধ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাঁর নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম স্লোগানই ছিল ‘ভারত হটাও’। ভারতীয় বিশ্লেষকদের অনুমান, মালদ্বীপের পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেস ও প্রগ্রেসিভ পার্টির জোট সরকার সামনের দিনগুলোতে চীন ঘেঁষা নীতিই অনুসরণ করবে।

জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে মুইজ্জু চীন সফরে যান। সেখানে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভসহ অবকাঠামো ও পর্যটন খাত নিয়ে সরকার-সরকার সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতিতে চীন-মালদ্বীপ অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার কর্মপরিকল্পনা স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি বেল্ট অ্যান্ড রোড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনগণের জীবিকা, সবুজ উন্নয়ন এবং ব্লু ও ডিজিটাল অর্থনীতি বিষয়ে সহযোগিতার নথিপত্রও স্বাক্ষরিত হয়।

গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রচারের সময় মোহাম্মদ মুইজ্জু অভিযোগ করেন, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ দেশে ভারতের প্রভাব বাড়াচ্ছেন। সে সময় মুইজ্জু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি দেশে ভারতের প্রভাব কমাবেন। তারই ধারাবাহিকতায় মালদ্বীপ থেকে ভারতের সেনা সরিয়ে নেওয়ার আল্টিমেটাম, হাইড্রোগ্রাফিক সমীক্ষা চুক্তি বাতিল এবং মুইজ্জুর চীন সফর।

মালদ্বীপের জনগণের মধ্যেও ভারতবিরোধী মনোভাব বেশ স্পষ্ট। তার একটি উদাহরণ হলো—মালদ্বীপের রাজধানী মালের কাছে উথুরু থাইলাফালহুতে ভারতের সহায়তায় নির্মাণাধীন একটি ডকইয়ার্ড। এই বিষয়ে মালদ্বীপের জনমনে ধারণা, সেখানে ভারত ডকইয়ার্ডের আড়ালে মূলত একটি নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে।

সর্বশেষ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদৌলতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে করা ‘কটূক্তির’ পরিপ্রেক্ষিতে মালদ্বীপের ৩ মন্ত্রীর বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টিও ভালোভাবে নেয়নি মালদ্বীপের জনগণ। বিষয়টি ভারতের বিপরীতে মালদ্বীপের জনগণকে বিরূপ করে তুলেছে। বিপরীতে ভারতীয় সাধারণ জনগণও মালদ্বীপ বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন। স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে, সরকার-সরকার তো বটেই জনগণের পর্যায়েও দুই দেশের সম্পর্ক আর আগের জায়গায় নেই।

ভারতের সঙ্গে যখন মালদ্বীপের বিরোধ তুঙ্গে, ঠিক তখনই চীনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে মসৃণ গতিতে। এ বিষয়ে মুইজ্জুর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, তিনি চীনে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ব্যাপক সম্মানিত হয়েছেন এবং চলতি বছর প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে চীন সফর করার পর বেইজিং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে যে গুরুত্ব দিচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ পেয়েছেন।

বৈঠকে মুইজ্জু চীনা প্রেসিডেন্টকে বলেন, চীন তাঁর দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মূল্যবান সহায়তা প্রদান করেছে। মালদ্বীপের জনগণ বিআরআই থেকে অনেক উপকৃত হয়েছে, মালদ্বীপ-চীন মৈত্রী সেতুকে দুই দেশের মধ্যে বন্ধনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের কথা থেকে স্পষ্ট, ভারতের পরিবর্তে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতেই আগ্রহী দেশটি এবং চীনা সমর্থন তাঁর ভারতবিরোধী মনোভাবের অন্যতম খুঁটি।

চীনের তরফ থেকে মুইজ্জু ও তাঁর সরকারকে চীনের অকুণ্ঠ সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত হয় সির বক্তব্য থেকে। মুইজ্জুর সঙ্গে বৈঠকে সি বলেছিলেন, চীন মালদ্বীপের সঙ্গে সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে, উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় শক্তিশালী করতে, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার এগিয়ে নিতে এবং চীন-মালদ্বীপের বন্ধুত্বের এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে প্রস্তুত। এই নতুন মানদণ্ডের একটি শর্ত যে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে নেওয়া তা সাদা চোখেই বোঝা যায়।

মালদ্বীপে চীনের প্রভাব বাড়ানোর ভূকৌশলগত গুরুত্বও আছে। ভারত মহাসাগরে চীনের জন্য মালদ্বীপ কৌশলগত দিক থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য মহাসড়কের এমন এক অবস্থানে আছে, যেখান দিয়ে চীনের জ্বালানি তেলের ৮০ শতাংশই পরিবাহিত হয়। ফলে চীন এই সরবরাহ লাইনে বরাবর নিজের উপস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করবে তাই স্বাভাবিক।

তবে চীনের জন্য বিষয়টি লাভজনক হলেও এই অবস্থা অবশ্যই ভারতের জন্য উদ্বেগজনক। দলমত-নির্বিশেষে মালদ্বীপ যে ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়টি স্বীকার করবেন। যেমনটা স্বীকার করেছেন, ক্ষমতাসীন বিজেপি প্রধান প্রতিপক্ষ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শশী থারুর।

মালদ্বীপে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক করে শশী থারুর বলেছেন, ‘চীন যে আমাদের চারপাশ ঘিরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রতিবেশী প্রতিটি দেশে সঙ্গে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাব দৃশ্যমান।’

তথ্যসূত্র: গ্লোবাল টাইমস, দ্য ওয়্যার, এনডিটিভি ও চায়না ডেইলি




বরিশালে মাঘের কনকনে শীতের মধ্যে বৃষ্টি, নাকাল জনজীবন

বরিশাল অফিস :: একদিকে অব্যাহত কুয়াসা ও মাঘের হাড় কাঁপানো শীত, অন্যদিকে বৃষ্টি, এ দুইয়ে মিলিয়ে বরিশালের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আজ বরিশাল নগরীতে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এভাবে প্রায় এক ঘণ্টা বেশি ধরে নামে বৃষ্টি পড়ায় সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগে পড়েছে শহরের নিম্ন আয়ের মানুষ ও অনার্সের পরিক্ষার্থী শিক্ষার্থীরা । পরে সকাল থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত বরিশালে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়। এসময় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল আবহাওয়া অফিস।

এদিকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোন সূর্যের দেখা মিলেনি। হিমেল বাতাসের কারণে সূর্যের উত্তাপ ছড়াতে পারছে না। এ কারণে শীত বেশি অনুভ‚ত হচ্ছে। ফলে বেশি কষ্টে রয়েছে নিম্ন আয়ের এবং ছিন্নমূল মানুষ। তীব্র ঠান্ডা দেখা দিচ্ছে শীতজনিত নানা রোগ। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এছাড়াও বরিশালে আবহাওয়া প্রতিদিনই পরিবর্তন হচ্ছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃষ্টি থেমে গেলে তাপমাত্রা আরও কমে আসবে। এছাড়া মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। শীতের কারণে রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল এবং মানুষের অনাগোনা কম। অন্যদিকে হাড় কাঁপানো শীতে মধ্যে নগরীর লঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে অলিগলিতে আগুন জ্বেলে চলে হাত-পা সেঁকেছে মানুষ।