জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: পটুয়াখালীতে ১০ বছরে কৃষিকাজ ছেড়েছে ৪০ হাজার পরিবার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): বাপ-দাদার পেশা কৃষিকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন ছিল নুরুল ইসলামের (৪০)। কিন্তু উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে আবাদি জমিতে বছরের পর বছর ধরে ফলন কমে আসায় যে লোকসানের চক্রে পড়ে যান এক সময়ের স্বচ্ছল কৃষক নুরুল ইসলাম, তা থেকে আর বের হতে পারেননি তিনি। এক পর্যায়ে দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে ভিটেমাটি রেখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় এই কৃষক পরিবারটি।

নুরুল ইসলামের ভিটে ছিল পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পশ্চিম সোনাতলা গ্রামে। সেখানে নিজের আড়াই একর জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করতেন তিনি। এখন তিনি স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রামে থাকেন। স্যানিটারি মিস্ত্রির কাজ করেন।

নুরুল ইসলামের মতো পাশের আদমপুর গ্রামের খলিলুর রহমানও চার বছর আগে কৃষিকাজ ছেড়েছেন।
খলিলুরের ভাষ্য, তার খেতে যে ধান হতো, তার অর্ধেকটাই চিটা হয়ে যেত। অধিক তাপমাত্রার কারণে ধান পরিপক্ব হতো না। এখন তিনি কৃষিকাজ বাদ দিয়ে কলাপাড়া উপজেলা শহরে স্যানিটারি মিস্ত্রির কাজসহ দিনমজুরি করে সংসার চালান।

একই এলাকার আরেক কৃষক সেলিম খান বলেন, ‘আগের তুলনায় তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছেই। এ কারণে বেশির ভাগ ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। চিটা ধান থেকে পাওয়া চাল ভালো দামে বিক্রি করা যায় না। আবার এ চালের ভাতে স্বাদ কম। তিতা লাগে। বাধ্য হয়ে তা হাঁস-মুরগিকে খাওয়াতে হয়।’
সেলিম আরও বলেন, ‘বেশি তাপমাত্রার কারণে এখন উৎপাদিত ধানের এক-তৃতীয়াংশ চিটা হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে আগের তুলনায় এখন ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের এ অঞ্চলের কৃষিকাজ এখনো বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। এখন আর সময়মতো বৃষ্টি হয় না। তাই ধানসহ অন্যান্য ফসলের স্বাভাবিক চাষাবাদ প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

কৃষক নুরুল ইসলাম, খলিল ও সেলিম খানদের এমন সব ভাষ্যের সত্যতা মিলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে। পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা জানান, গত ছয় বছরে পটুয়াখালী জেলার গড় তাপমাত্রা বেড়েছে অন্তত সাড়ে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৭ সালে এখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এখানকার গড় তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পটুয়াখালীর মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সহিদুল ইসলাম খানও তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়ে সহমত পোষণ করেন।
সহিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার আবাদযোগ্য কৃষি জমিতে আগের তুলনায় লবণাক্ততা অনেকটাই বেড়েছে। ফলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফসল পাচ্ছেন না।’

এসব কারণে এ অঞ্চলে কৃষিকে এখন আর লাভজনক পেশা বলা যাচ্ছে না। অনেকেই পেশা বদল করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানেও মিলেছে এর সত্যতা। গত বছর পটুয়াখালী জেলায় কৃষক পরিবারের সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৬৬ হাজার ৬৩০। ১০ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল তিন লাখ ছয় হাজার। অর্থাৎ এ সময়ে কৃষক পরিবারের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪০ হাজার বা ১৫ শতাংশ।




নবীজির (সা.) মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন যাঁরা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : আইয়ামে জাহেলিয়াতে আরবরা ছিল প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত : মরুবাসী বেদুইন যাযাবর ও আরব উপদ্বীপের শহরবাসী। শহরবাসীর নগররাষ্ট্র, সরকার ও সংস্কৃতির অস্তিত্ব ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, মক্কাবাসীদের ‘দারুণ নদওয়া’ নামক City Hall (সম্মেলনকেন্দ্র) ছিল।

আরো ২১টি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেছেন ড. হামিদুল্লাহ।

যথা : ১) নদওয়া, ২) মশওরা, ৩) কিয়াদাহ, ৪) সেদানা, ৫) হিজাবা, ৬) সেকায়া, ৭) ইমারাতুল বাইত, ৮) ইফাদা, ৯) ইজাজাহ, ১০) নসি, ১১) কুব্বা, ১২) আন্নাহ, ১৩) রিফাদাহ, ১৪) আমওয়ালে মাহজরা, ১৫) ইসার, ১৬) এশনাক, ১৭) হুকুমাহ, ১৮) সেফারা, ১৯) ইকাব, ২০) বুয়া এবং ২১) হিলওয়া নুন নফর।

মদিনা সনদের গুরুত্ব : অন্যদিকে জনমত ও ন্যূনতম মানবিক মূল্যবোধে শান্তির লক্ষ্যে ৪৭টি শর্ত সংবলিত মদিনা সনদের ভিত্তিতে প্রিয় নবী (সা.) ‘ইসলামী রাষ্ট্রদর্শন’-এর  সূত্রপাত করেন। ‘মদিনা সনদ’ হলো সংস্কৃতির Social contract, মানব-ইতিহাসের প্রথম Written  constitution। মদিনা সনদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ‘Peace & Submission’ (শান্তি ও আনুগত্য-আত্মসমর্পণ)।

ফলে প্রিয় নবী (সা.) গোত্রপ্রধান শাসিত ১০/১১ লাখ বর্গমাইলের বেশি এলাকার ২৭৬টি দেশীয় রাজ্যকে একত্র করেন। তাঁর জীবদ্দশায়ই এ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রায় ১৯ লাখ বর্গমাইল এলাকায় বিস্তৃত হয়।

প্রিয় নবী (সা.) তাঁর শাসনব্যবস্থা ১০টি প্রদেশে বিভক্ত করে নিয়োগ করেন : আল-ওয়ালি (গভর্নর), আল-আমিল (কর আদায়কারী), আল-কাজি (বিচারক)। কেন্দ্রীয় প্রশাসনে প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন আবু বকর, ওমর, ওসমান ও আলী (রা.)।

খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) ছিলেন স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান। স্বভাব কবি জায়েদ বিন সাবিত (রা.) ছিলেন প্রিয় নবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত সচিব, প্রধান ওহি লেখক, রাষ্ট্রীয় পত্রলেখক, সভাকবি ও দোভাষী। হানজালা বিন আল রাবি ছিলেন প্রিয় নবী (সা.)-এর সিলমোহর ও প্রশাসনিক গোপন তথ্যাদির সংরক্ষক।

মহানবী (সা.)-এর মন্ত্রিসভার সদস্য : 

প্রিয় নবী (সা.)-এর মন্ত্রিসভায় অন্যতম সদস্যরা ছিলেন—

১. জাকাত ও সদকার সংরক্ষণ : জুবায়ের বিন আল আওয়াম এবং জুহায়ির বিন আল সালত (রা.)।

২. খেজুর বৃক্ষের কর : হুজায়ফা বিন আল ইয়ামান (রা.)।

৩. রাষ্ট্রীয় হিসাব সংরক্ষণ : মুয়ান কিব বিন আবী ফাতিমা (রা.)।

৪. বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসূত্র রক্ষা : মুগিরা বিন শুবা ও হুসায়েন বিন নুমির (রা.)।

৫. সেচ ও আনসারদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় : আবদুল্লাহ বিন আকরাম এবং আল বিন উকবা (রা.)।

প্রিয় নবী (সা.)-এর গভর্নরবৃন্দ

১. হাজরামাউত : জিয়াদ বিন লাবিদ। ২. নাজরান : আলী বিন আবু তালিব। ৩. ইয়েমেন : মুয়াজ বিন জাবাল। ৪. আল জানাদ : ইয়ালা বিন উমাইয়া। ৫. বাহরাইন : আলবিন হাজরানি।

অন্যান্য প্রদেশ হলো : মক্কা, তায়মা, বনুকিন্দা অঞ্চল, ওমান প্রভৃতি। (সূত্র : মুসলিম প্রশাসন ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ, অধ্যাপক ড. আলী আসগর খান প্রমুখ)।




৫ম দেশ হিসেবে চাঁদের মাটিতে জাপান

চন্দ্রদীপ ডেস্ক:  বিশ্বের পঞ্চম দেশ হিসেবে চাঁদের মাটি ছুঁয়ে ইতিহাস গড়ল জাপান। দেশটির মনুষ্যহীন চন্দ্রযান ল্যান্ডার স্লিম (মুন স্নাইপার নামেও পরিচিত) চাঁদে অবতরণ করেছে। খবর- বিবিসি ও রয়টার্স।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের মহাকাশ সংস্থার একটি রোবট সফলভাবে চাঁদে নেমেছে। তবে মহাকাশযানটির সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। এখন ব্যাটারির ওপর নির্ভর করছে যানটি। ফলে এই মিশন হুমকির মুখে পড়তে পারে। ব্যাটারির শক্তি থাকবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা।

জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সা জানিয়েছে, চন্দ্রযানটি ল্যান্ড করার পরক্ষণেই জাক্সার প্রকৌশলীরা বুঝতে পারেন যে, কিছু সমস্যা হয়েছে। ব্যাটারি শেষ হওয়ার আগেই সোলার জেনারেটর ঠিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে জাক্সা।

গত বছর ৭ সেপ্টেম্বর মুন স্নাইপারের সফল উৎক্ষেপণ করে জাপান। ২৫ ডিসেম্বর চাঁদের কক্ষপথে যানটি প্রবেশের কথা জানিয়েছিল জাক্সা।

অবতরণের পরে চাঁদের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা চালানোর কথা ছিল স্নাইপারের। লক্ষ্য ছিল চাঁদের জন্ম, বিবর্তন নিয়ে তথ্য সংগ্রহের।

জাপানের ল্যান্ডার স্লিম (স্মার্ট ল্যান্ডার ফর ইনভেস্টিগেশন মুন) থেকে চাঁদের বুকে নামা রোভারটির এক্স-রে ছবি তোলার কথা রয়েছে। কৃষ্ণগহ্বর, নিউট্রন স্টার এবং সুপারনোভার উচ্চ মানের এক্স-রে তুলে জাপানের মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্রে পাঠাতে পারলে সেগুলোর গঠন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন বিজ্ঞানীরা।

চাঁদে সফলভাবে অবতরণের কৃতিত্ব অর্জন করা বাকি চারটি দেশ হলো- যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ভারত।




বরগুনায় নোনাজলে জন্ম তার ডগায় মিষ্টি রস

বরিশাল অফিস :: নোনাজলে জন্ম তার। সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নোনা। অথচ এর ডগা থেকে বেরিয়ে আসছে সুমিষ্ট রস। সেই রস দিয়ে তৈরি হচ্ছে গুড়। সুস্বাদু এই গুড়ের চাহিদাও ব্যাপক। বলা হচ্ছে গোলের গুড়ের কথা। এতে রয়েছে পুষ্টিসমৃদ্ধ উপাদান, বিশেষ করে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের খনিজ লবণ পাওয়া যায় গোলের গুড়ে, যা স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। স্থানীয়ভাবে প্রচলন আছে, গোলের রস খেলে পেটের কৃমি যেমন দমন হয়, তেমনি কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

বরগুনার তালতলী উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে গোলগাছের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। সবচেয়ে বেশি গুড় আসে বেহালা গ্রাম থেকে। এক মৌসুমে প্রায় ১২ হাজার টন গুড় উৎপাদন হয়। গোলগাছের রস সংগ্রহ করে বড় একটি পাত্রে রেখে দীর্ঘ সময় চুলায় সিদ্ধ করে তৈরি হয় গুড়। এই গুড় এতটাই জনপ্রিয় যে, ভারতের কলকাতাসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। প্রতিদিন রস থেকে মিষ্টি গুড় তৈরি করে বিক্রি করেন প্রান্তিক গ্রামের গোলচাষি নির্মল হাওলাদার। এ কাজে তার মা ও স্ত্রী সাহায্য করেন। শীতের মৌসুমে কয়েক মাস গোলগাছের রস ও গুড় বিক্রি করে চলে তাদের সংসার।

তালতলী উপজেলার করইবাড়িয়া ইউনিয়নের বেহেলা গ্রামের গোলচাষি নির্মল হাওলাদারের আট সদস্যের পরিবার। জীবিকার তাগিদে গোলগাছের রস দিয়ে গুড় তৈরি করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। নিজের কোনো জমিজমা না থাকায় অন্যের গোলগাছ চুক্তি নিয়ে প্রতিবছর শীত মৌসুমে এ কাজ করেন তিনি। নির্মল হাওলাদারের মতো ওই এলাকায় ১৫০ জনের বেশি গোলচাষির সংসার চলছে গোলের রস ও গুড় বিক্রি করে। এতে বেহেলা গ্রাম থেকে বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকার গুড় বিক্রি হচ্ছে বলে তারা জানান।

প্রতিটি ডগা থেকে ২৫০-৫০০ গ্রাম পর্যন্ত রস পাওয়া যায়। নির্মল হালদার এ বছর এক একর জমির ১৫০টি ডগা থেকে প্রতিদিন রস সংগ্রহ করছেন চার কলস। প্রতি কলসে রস ধারণক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ লিটার। প্রতিদিন ১০০ লিটার রস সংগ্রহ করেন। তরল রস আগুনে জ্বাল দিয়ে প্রতি কলসে প্রায় সাড়ে তিন কেজি গুড় পাওয়া যায়। এছাড়া গাছের তিন-চার ফুট লম্বা পাতা দিয়ে তৈরি হয় ঘরের ছাউনি। ১০০ পিস ছাউনি বিক্রি করা হয় ৬০০ টাকায়। প্রায় ১০ থেকে ২০ ফুট লম্বা ডগাসহ গোলপাতা ৮০টি বিক্রি করা হয় ৪০০ টাকায়।

আরেকজন গাছি রমনি হালদার। তিনি বলেন, ভোর ৪টায় রস সংগ্রহ করা শুরু করি। তারপর মহিলারা রস চুলায় বসিয়ে তাপ দেওয়া শুরু করে। পরে রস থেকে তৈরি হয় গুড়। প্রথমে গোলের রসের চাহিদা কম থাকলেও এখন চাহিদা বেড়েছে। দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, প্রথমে ভারতের কলকাতায় থাকা তাদের কিছু স্বজনের উপহার হিসেবে পাঠান গোলের গুড়। এরপর সেখানে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই গুড়। সেই স্বজনরা তাদের কাছে গুড় কেনার কথা জানালে তারা বিক্রি শুরু করেন। প্রথমে প্রতি কেজি ২৫০ টাকা বিক্রি করলেও এখন ২৮০ টাকা। রমনি হালদারের স্ত্রী প্রিয় বালা রানী বলেন, এক থেকে দুই ঘণ্টা তাপ দেওয়ার পর তরল রস গুড়ে পরিণত হয়। বেহালা গ্রামের কৃষ্ণকান্ত মিস্ত্রি বলেন, গোলের গুড় সুনাম কুড়িয়েছে। বেহালা গ্রামের ঐতিহ্য এখন ক্ষুদ্র শিল্পে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন হাওলাদার বলেন, উপজেলার বেহলা গ্রামের গোল চাষের ইতিহাস শত বছরের। এখানকার গোলের গুড় খুব সুস্বাদু। স্থানীয় গোলচাষিরা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এই গুড়ে কোনো ধরনের ভেজাল নেই। আমরা আশা করছি, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ নিয়ে এই শিল্প বাঁচিয়ে রাখতে হবে।




কলাপাড়ায় পরিচয়হীন পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিকে নিয়ে কৌতূহল 

­মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): প্রায় এক সপ্তাহ আগে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকার সড়কের পাশে অবস্থান নেন নাম পরিচয়হীন পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি।

নাম পরিচয় জানতে চাইলে ‘ভারত’ ছাড়া কিছুই বলতে পারছেন না। তাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

লঞ্চঘাট এলাকার শ্রমিক সোবাহান মিয়া জানান, এই ব্যক্তি ৫ থেকে ৬ দিন আগে এখানে আসেন। তবে কীভাবে এসেছেন সেটা জানতে পারিনি।

একই এলাকার অপর শ্রমিক ইদ্রিস জানান, তার কথা বার্তায় আমাদের দেশের মানুষ বলে মনে হচ্ছে না। তিনি অনেক সময় হিন্দি ভাষায়ও কথা বলেন। এই ব্যক্তি এখানে অসহায় জীবন যাপন করছেন। তার পরিচয় বের করে পরিবারের কাছে তুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

মানসিক ভারসাম্যহীনদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন অন্নদান ওয়েলফেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা মোজাম্মেল হক মিন্টু জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। এই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। তিনি কিছুই ঠিকভাবে বলতে পারেন না। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন নাকি ছিন্নমূল মানুষ সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। তবে তিনি এখানে যতদিন অবস্থান করবেন ততদিন আমরা তাকে সহযোগিতা করবো এবং তার পরিবার খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো।




সরিষা ক্ষেতে হলুদ ফুলে দশমিনায় কৃষকের মুখে হাসি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে আবাদি ও অনাবাদি জমিতে সরিষা ক্ষেতে হলুদ ফুলের হাসি শোভা পাচ্ছে। আর সে হাসিতে যেন কৃষকের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি। ব্যাপক চাহিদার বিপরীতে কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় দিন দিন এই উপজেলার কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলার দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে যতদূর চোখ যায়, শুধু সবুজ আর হলুদ ফুলের সমারোহ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ জুড়ে চোখ জুড়ানো মনোমুগ্ধকর এ হলুদের দৃশ্য। সবুজ গাছের মাথায় থাকা সরিষার হলুদ ফুলগুলো বাতাসে দুলছে। ফুলে ফুলে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে মৌমাছি আর প্রজাপতি। সেই দৃষ্টিকাড়া ফুলের সৌন্দর্য্য দেখতে সকাল ও বিকালে ছবি তুলতে ভিড় করছে সব বয়সের নারী-পুরুষ। সরিষার ক্ষেত দেখতে ভ্রমন পিপাসুরা এবং সরকারি কর্মকর্তারাও পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটির দিনে ছুটে যাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের কৃষকেরা বারি-১৪ সরিষা চাষ করেছেন। এ ফসলের তদারকি করছেন কৃষি কর্মকর্তা নিজেই। এবছর উচ্চফলনশীল বারি-১৪ সরিষা চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে বীজ ও সারসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়।

কৃষি অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, গত বছর উপজেলায় ২০হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়ে ছিল। আর চলতি বছর ৩০হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। চাহিদা এবং ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা সরিষার চাষের দিকে দিন দিন ঝুঁকছেন। অনেক জমিতে এই ফসল চাষের আওতায় আনার লক্ষ্যে কৃষকদের বাড়তি প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।




বরিশালের গৌরনদীতে একক ফল বাগান (পেয়ারা) প্রদর্শণী পরিদর্শন

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ব্লকের একক ফল বাগান (পেয়ারা) প্রদর্শণী পরিদর্শন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জানুয়ারী) সকালে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ব্লকের বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, মাদারিপুর ও শরিয়তপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের একক ফল বাগান ( পেয়ারা) প্রদর্শণী পরিদর্শন করেন পরিকল্পনা অনুবিভাগ, কৃষি মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব, জনাব মাহবুবুল হক পাটওয়ারী। এসময়ে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

এ সময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন,প্রকল্প পরিচালক সুলতান আহম্মেদ , ডিপিডি সাবিনা ইয়াসমিন ও মনিটরিং কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সেকান্দার শেখ, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত জেলার দু’বারের শেষ্ঠ, মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মিঠুন বনিক, কৃষক জনাব মজিবুর রহমান বিপ্লব প্রমুখ।




বরিশালে বিএম কলেজের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিএম কলেজের ব্যবস্থাপনা ভিভাগের ১ম পূর্ণমিলনী ও আলোচনা সভা সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯জানুয়ারী) সকাল ১১টায় বিএম কলেজ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যবস্থাপনা বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সরকারী ব্রজমোহন কলেজের আয়োজনে সরকারী ব্রজমোহন কলেজ (বিএম কলেজ) ব্যবস্থাপনা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এর
আহবায়ক প্রফেসর শাহ্ সাজেদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পাণিসম্পদ মন্ত্রালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সদর (৫) আসনের সংসদ সদস্য কর্ণেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি।

এ সময় সম্মানিত অতিথি হিসাবে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন সরকারী ব্রজমোহন কলেজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড.এ.এস কাইয়ুম উদ্দীন, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র ও বরিশাল মহানগর যুবলীগ যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব মাহমুদুল হক খান মামুন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র ও বরগুনা পুলিশ সুপার আব্দুস ছালাম।

এরপূর্বে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে দিনব্যাপি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন করেন পাণিসম্পদ মন্ত্রালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম সহ বিভিন্ন অতিথি বৃন্দ। পরে প্রধান অতিথিকে ক্রেস্ট
প্রধান করা সহ ফুলের শুভেচ্ছা দিয়ে বরন করে নেয় আয়োজক কমিটি নেতৃবৃন্দ।

 




পাটুরিয়ায় ফেরিডুবিতে নিখোঁজ হুমায়ুনের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় ফেরিডুবির ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন হুমায়ুন কবির নামের এক ইঞ্জিনচালক। তার বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার মাটিভাঙ্গায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী রজি আক্তার।

হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী রজি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে চন্দ্রদীপ নিউজকে বলেন, আমাকে ফোন দিয়ে তিনি (হুমায়ন) বলেন, আগামী শুক্রবার বাড়িতে আসব, পাঞ্জাবি ধুয়ে রেখো ছেলেকে নিয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে যাবে। এ কথাই যে শেষ কথা হবে তা বুঝতে পারিনি। স্কুল পড়ুয়া দুই মেয়ে ও একমাত্র ছেলের পড়ালেখার খরচ কে বহন করবে।

১০ বছর বয়সী ছেলে ইয়াসিন চন্দ্রদীপ নিউজকে জানায়, শুক্রবার সকালে বাবা বাড়িতে এসে আমার মার্কসিট দেখার কথা ছিল। মার্কসিট দেখে আমাকে নিয়ে দুপুরে নামাজ পড়তে যাবে মসজিদে এ কথাই ছিল বাবার সঙ্গে শেষ কথা।

একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে কামুন্নাহার চন্দ্রদীপ নিউজকে বলেন, আমার বাবা গত মঙ্গলবার রাতে মাকে শেষবারের মত কল দেয়। কল দিয়ে বলে শীতে মেয়েদের যেন কষ্ট না হয়। কষ্ট হলে তার ব্যবহৃত পোশাক ব্যবহার করতে বলে। বাবা আমাদের প্রতিদিন ১০-১২ বার কল দিত। এখন আমাদের খোঁজ নিবে কে। আমাদের পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম হল বাবা। আমাদের লেখাপড়া কিভাবে চলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা পড়ে গেছি।

এ সময় নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট মেয়ে নূরি জান্নাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, আজ দুই দিন হলেও আমার বাবার কোন খোঁজ জানি না। এটা কেমন কথা। আমরা সরকারের কাছে আমার বাবার লাশটা অন্তত ফেরত চাই।

সাবেক ইউপি সদস্য মো. মনসুর আলী বলেন , হুমায়ন ছোট থেকে অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছে। সে অনেক ভাল মনের মানুষ ছিল। আমরা স্থানীয়রা তাকে আমাদের মসজিদের সভাপতি করেছি। এই শুক্রবার বাড়িতে আসার কথা।

ঘন কুয়াশার কারণে বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে পাটুরিয়া ঘাটে রজনীগন্ধা নামে একটি ফেরি ডুবে যায়। এ ফেরির মাস্টার ছিল হুমায়ুন কবির। তিনি ২০১১ সালে বিআইডব্লিইটিএ তে যোগদান করে।

হুমায়নের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম শাওন জানান, আমরা দুর্ঘটনার খবর শোনার পরে ঘাটে চলে আসি। পরে ট্রলার নিয়ে নদীতে ভাইয়ের লাশ খুঁজছি।ভাইয়ের লাশ উদ্ধারে কোন পদক্ষেপ দেখছি না সরকারের। বৃহস্পতিবার মাত্র একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে কিন্তু ভাইয়ের লাশ উদ্ধারে কোন গতি নেই।

ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী আফিসার মো. ইয়াসিন আরাফাত রানা চন্দ্রদীপ নিউজকে জানান, হুমায়ন কবির একজন সরকারি চাকরিজীবী। সরকারি বিধি মোতাবেক তার জন্য সকল ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




মুলাদীতে রুবেল শাহ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস :: মুলাদী উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা রুবেল শাহ হত্যা মামলার পলাতক আসামি আরিফ আকনকে গ্রেপ্তার করছেন পুলিশ ও র‌্যাব। গত ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরিফ আকন (৩০) মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের টুমচর গ্রামের মৃত মন্নান আকনের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ আকন হত্যাকা-ের সঙ্গে সরাসরি থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তাকে মুলাদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া।

পুলিশ জানায়, গত ৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে বাটামারা ইউনিয়নের টুমচর গ্রামের সেকান্দার শাহের ছেলে ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল শাহকে কুপিয়ে হত্যা করেন প্রতিপক্ষরা। ওই ঘটনায় গত ৯ জানুয়ারি রাতে নিহতের স্ত্রী নারগিস বেগম বাদী হয়ে ফারুক হাওলাদার, লোকমান সরদারসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় আরিফ আকন ১১ নম্বর আসামি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মুলাদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে.এম মফিজুর রহমান বলেন, হত্যার ঘটনার পরে আরিফ আকন ঢাকার যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০ এর নেতৃত্বে যাত্রাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া জানান, গ্রেপ্তার আরিফ আকনকে বৃহস্পতিবার সকালে থানায় হস্তান্তর করেছেন  র‌্যাব। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।