বরিশালে ভেজাল সারে কৃষকের সর্বনাশ!

বরিশাল অফিস :: বরিশাল অঞ্চলে চাষাবাদে ১১ ধরনের সার ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রয়েছে টিএসপি, ডিএপি, জিংক, বোরিক অ্যাসিড, সলুবর, জিপসাম, মিশ্র ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেট। সারগুলোতে মিলেছে ভেজাল উপাদান। যা ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি ক্ষতি করছে কৃষিজমির। কৃষকেরা উদ্বিগ্ন হলেও এসব সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কৃষি বিভাগ।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বলছে, গত তিন বছরে প্রায় ১ হাজার নমুনা পরীক্ষায় ভেজাল মিলেছে ২০০ ধরনের সারে। গত বছরও ৩৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতেও ভেজাল পাওয়া যায় ৬০টিতে।

ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বছরে ১ হাজার সারের নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে। গত বছর আমরা ৩৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করেছি, গত ৭ মাসে আমরা মাত্র ৩০টি নমুনা পেয়েছি। অথচ এই সময়ে অন্তত ২৫০টি নমুনা আসার কথা ছিল। বাজেট স্বল্পতার কারণে এমনটা হয়েছে।’

কৃষকেরা বলছেন, সপ্তাহে একাধিকবার সার কিনতে হয়। এর মধ্যে একটি চালানের সার ভেজাল হলে ফলন, ফসল, মাটি ও টাকা সব শেষ হয়ে যায়। যেহেতু সার নকল বের হয়েছে, সেহেতু সরকারের উচিত দ্রুত ভেজাল সার বিরোধী অভিযান শুরু করা।

সার বিক্রেতারা বলছেন, ভালো সার না পেলে কৃষকেরা সার কিনবে না। আগে ভেজাল সারের বিরুদ্ধে অভিযান চলত, এখন চলে না। বাজারে ভেজাল সার ভরে গেছে। সরকার বাজার মনিটরিং করলে আমাদের সবার লাভ।

ভেজাল সার নিয়ে কৃষক-ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হলেও বরাদ্দের অভাবে পর্যাপ্ত নমুনা পরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক শওকত ওসমান বলেন, সার পরীক্ষা একটি চলমান প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট পরিমাণে বাজেট পেতে দেরি হয়েছে, এজন্য নমুনা পরীক্ষা পিছিয়েছে। এই সুযোগে বাজারে যদি ভেজাল সার ঢুকে থাকে, তবে তা দ্রুত সংগ্রহ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভেজাল প্রমাণিত সারের নিবন্ধন বাতিলসহ কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশালে প্রতি বছর ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন সারের ব্যবহার হয়। ৩৬২ জন সার ডিলার ও ২ হাজার ৫০৫ জন খুচরা সার বিক্রি করছেন।

 




বিনাচিকিৎসায় ২ বছর ধরে শিকল বন্দি মানুষিক ভারসাম্যহীন নাজমা

বরিশাল অফিস :: ‘সাত-আট বছর থেকে মানষিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পরেন গৃহবধু নাজমা আক্তার (৩৫)।’তবে তিন বছর পূর্বে স্বামী রহিম হাওলাদারের মৃত্যুর পরপরই পুরো মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি।’পরিবারের অস্বচ্ছলতার কারনে সুচিকিৎসা করাতে পারেনি বৃদ্ধ বাবা’।

তবে স্থানীয় বিভিন্ন কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করিয়েছেন,’তাতে লাভ হয়নি। ফলে গত দুই বছর যাবত শিকল বন্দি হয়েই মানববেতর জীবনযাপন করে আসছেন তিন মেয়ে ও এক ছেলের জননী নাজমা। এ মর্মান্তিক ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের সালতা গ্রামের। মানসিক ভারসাম্যহীন নাজমা সালতা গ্রামের বৃদ্ধ উমর আলী হাওলাদারের মেয়ে।

রোববার সকালে সরেজমিন নাজমার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে,’ছোট্ট একটি টিনের চালাঘরের খুঁটির সঙ্গে শিকল দিয়ে এক পা বেঁধে রাখা হয়েছে নাজমাকে। ঝড়-বৃষ্টি, শীত-গ্রীষ্মে ওই চালাঘরের মেঝেতে খরের ওপর শুয়ে কিংবা ঘরের দরজার সামনে বসে সারাদিন শিকলে বন্দি হয়েই দিন কাটে তার। নাজমার বৃদ্ধ মা মনোয়ারা বেগম জানান,’তিন বছর আগে মারা যায় নাজমার স্বামী রহিম হাওলাদার। এরপর পুরো মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে সে। অন্যত্র যাতে চলে যেতে না পারে সেজন্য গত দুই বছর যাবত তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান,’যেখানে আমাদের তিন বেলা খাবার জুটেনা সেখানে মেয়েকে সুচিকিৎসা করাই কিভাবে? তাই বাধ্য হয়েই মেয়েকে শিকল দিয়ে বেধে রেখেছি।

স্থানীয় বাসিন্দা রিফাত সরদার,’মাসুম ফকির জানান, পরিবারটি এতটাই অস্বচ্ছল যে মানসিক ভারসাম্যহীন গৃহবধুকে সুচিকিৎসা করানোর মত সক্ষমতা তাদের নেই।

এছাড়াও পরিবারের একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনিও ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক। তার ওপরই সাত সদস্যের ভরনপোষনের দায়িত্ব।’পরিবারটি প্রকৃতপক্ষেই মানববেতর জীবনযাপন করে আসছে। রাষ্ট্রীয় ও সমাজের বৃত্তবানদের সহযোগিতায় সুচিকিৎসা পেয়ে শিকল বন্দি নাজমা আবার স্বাভাবিক
জীবনে ফিরে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা পরিবার ও স্থানীয়দের’।

‘বরিশাল গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু আবদুল্লাহ খান জানান,’বিষয়টি কেবলই গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। এবিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে আশ্বাস দেন।




কলাপাড়ায় প্রতিবন্ধী জুয়েলের বাঁচার আকুতি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের মম্বীপাড়া গ্রামের বধির প্রতিবন্ধী মো. ইউসুফের পুত্র জুয়েল (১৮)। ইচ্ছা ছিল সমাজের আরও পাঁচজন সুস্থ মানুষের মতো জীবনযাপন করা। কিন্তু গত দু’বছর ধরে অজানা এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দিনদিন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, চার ভাইবোনের মধ্যে জুয়েল দ্বিতীয় সন্তান। ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে তার  পেটে ব্যাথা, বমি থেকে শুরু হয় জুয়েলের অসুস্থতা। অক্ষর জ্ঞানহীন বাবা-মা একদিকে সংসারের খরচ মিটানো, অন্য দিকে ছেলের চিকিৎসা নিয়ে খুবই চিন্তিত। এলাকার তরুণদের সহযোগিতা এবং পরিবারের প্রচেষ্টায় নামে মাত্র টাকা দিয়ে চলছে জুয়েলের চিকিৎসা। এখন বাড়ির শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে নিঃস্ব জুয়েলের পরিবার। তাই সমাজের বিত্তবানদের কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন করেছেন জুয়েলের পিতা-মাতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকজন যুবক জুয়েলকে বাঁচাতে বিভিন্ন দোকান হাট-বাজার এবং মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে চিকিৎসকরা বলছেন অজানা  কোনো বড় ধরনের রোগে ভুগছে জুয়েল। যে কারণে প্রয়োজন  মোটা অংকের টাকা।

জুয়েলের বাবা ইউসুফ বলেন, আমি কানে শুনি না তাই আমাকে অনেকে কাজে নিতে চায় না। ছেলেটি যখন কাজ করতো তখন আমি দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতাম। অসুস্থ হওয়ার পর আমি মানুষের কাছে গিয়ে হাত পাতি ওর চিকিৎসার জন্য। যখন যে কাজ পাই তা করি। কিন্তু আমার পক্ষে এখন মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

মা লাইলী বেগম জানান, আমার সন্তানের চিকিৎসার জন্য এলাকার সকলের কাছে সহযোগিতা চাই। পরিবারের তিনবেলা খাবার মেটানোর জন্য আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সকলের কাছে হাত পেতে সংসার চালাই।

কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ আশিকুর রহমান আশিক বলেন, জুয়েলের শারীরিক অবস্থা প্রাথমিক ভাবে দেখে মনে হচ্ছে তার খাদ্যনালীতে বড় ধরনের সমস্যা। অথবা ক্যান্সারজনিত সমস্যায় সে ভুগতে পারে। উন্নত পরীক্ষা- নিরীক্ষা ছাড়া কোন কিছু বলা যাচ্ছে না। সে কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে  প্রেরণ করা হয়েছে।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শিলা রানী দাস জানান, এসব অসুস্থ রোগীর চিকিৎসার  ক্ষেত্রে উপজেলা কার্যালয় অথবা  জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করলে আমরা বিষয়টি  দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।




গলাচিপায় পাবলিক পরিক্ষার ভীতি দূর করবে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): এসএসসি ও দাখিল পাবলিক পরীক্ষার ভীতি দূর করতে গলাচিপা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শনিবার  এসএসসি ও দাখিল শিক্ষার্থীর জন্য প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। পরীক্ষা ভীতি কাটাতে শহরের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মডেল টেস্ট দেন। কিন্তু মফস্বল ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের তেমন কোন পরীক্ষা সাধারণত নেয়া হয় না।

এবার এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা কেমন হবে, পরীক্ষা হলের পরিবেশ কেমন থাকবে, সে সম্পর্কে ধারনা দিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলাব্যাপী প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। যাতে উপজেলার ১৪টি কেন্দ্রে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

গলাচিপা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘এই্ আয়োজন শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষার ভীতি অনেক কমিয়ে দিয়েছে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার আবুল কালাম সাঈদ জানান, এরকম পরীক্ষা তারা এই প্রথম নিলেন। উপজেলা প্রশাসনের এমন আয়োজনে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, এই পরীক্ষায় যারা ভাল করবে তারা পুরস্কার পাবে আর যারা খারাপ করবে তাদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে। এরকম উদ্যোগ বাস্তবায়নের কারণে শিক্ষার্থীরা মূল পরীক্ষায় প্রস্তুতি আরো ভালোভাবে নিতে পারবে।’




কলাপাড়ায় বিয়ের প্রলোভনে ‘ধর্ষণ’, অতঃপর অন্তঃসত্ত্বা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার কলাপাড়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে (৩৩) টানা ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সোহাগ হাওলাদার (৩৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন।

শুক্রবার রাতে ওই নারী সোহাগসহ দুইজনের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোহাগ এবং এক সন্তানের জননী ওই নারীর বাড়ি বালিয়াতলী ইউপির পক্ষিয়াপাড়া গ্রামে। ২০১৯ সালে তার স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর থেকেই পূর্ব পরিচিত হওয়ায় বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল সোহাগ। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর ঢাকায় নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে সোহাগ তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

পরে ওই নারী বিষয়টি সোহাগের পরিবারকে জানালে তার সন্তান নষ্ট করতে বলে তারা। অবশেষে সোহাগসহ দুই জনের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করছেন।

কলাপাড়া থানার ওসি আলী আহম্মদ জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।




শরীর উষ্ণ রাখবে যেসব খাবার

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : প্রচণ্ড শীতে কাবু দেশ। শীতের আমেজের বদলে হু হু করে কাঁপার মধ্যেই যেন সবাই। তবে এই হি হি করে কাঁপার সঙ্গে রয়েছে উত্তাপ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। শীতে সামান্য উত্তাপের আশায় থাকে অনেকে। এক্ষেত্রে শরীর গরম করে এমন খাবারও খোঁজেন অনেকে। তবে সহজপাচ্য ও দ্রুত শরীর গরম করে এমন খাবার খুঁজে বের করা কঠিন কি? আদতে নয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে থার্মোজেনেসিস নামে কিছু খাবার আছে যা শরীরকে দ্রুত গরম করে। হেলদি ফ্যাট বা স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও জটিল কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার অল্প পরিমাণে খেলেও শরীর গরম থাকে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে চারটি হলো:

ঘি

ঘি আমাদের জন্য এক ঐতিহ্যবাহী খাবার। শুধু সুনামে নয়, পুষ্টিমান থেকেও অন্যান্য চর্বির তুলনায় এটি ভালো। ঘিয়ের মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড উপাদান সরাসরি লিভার শোষণ করে নেয় এবং শরীরে শক্তি জোগানোর স্বার্থে দ্রুত পুড়ে যায়। তাছাড়া ঘিতে বিউটারিক অ্যাসিড আছে যা একটি শর্ট চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড। এই শর্ট ফ্যাটি অ্যাসিড হজম সহজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

তিল
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে তিলের জুড়ি নেই। পাশাপাশি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে তিল বীজ। শীতকালে ব্যথা এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে তিলের বীজে থাকা বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ।

ভেষজ চা
শীতে ঘরেই ভেষজ চা বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে। চিনি ছাড়া আদা, যষ্টিমধু ও তুলসী দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন চা। আদা হজমের জন্য ভালো যা থার্মোজেনেসিসকে উদ্দীপিত করতে পারে। এটি একটি ডায়াফোরটিক, যা আপনার শরীরকে ভেতর থেকে গরম রাখতে সাহায্য করে। যষ্টিমধুতে গ্লাইসিরিজিন নামক একটি রাসায়নিক রয়েছে— যা ভেষজটিকে এর মিষ্টি স্বাদের পাশাপাশি প্রদাহরোধী, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য দেয়। তুলসী শীতকালীন রোগ নিরাময়ে সহায়তা করে।

রাগি
ফিঙ্গার মিলেট আমাদের কাছে এত পরিচিত না। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর রাগি বা ফিঙ্গার মিলেটে ফ্লাভোনয়েড, লিগনিন এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। এটি আমাদের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে, ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করে এবং শীতকালে উষ্ণ থাকতে সাহায্য করে।




দক্ষিণাঞ্চলে ঠান্ডাজনিত রোগ ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

বরিশাল অফিস :: বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলে গত কয়েকদিনের শীতের দাপটে ঠান্ডাজনিত নানা সংক্রমক রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। বছরজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে ডেঙ্গু অনেকটা নিয়ন্ত্রনে এলেও মৃত্যুর মিছিল থামছে না। শনিবার দুপুরেও বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

এনিয়ে শুধু সরকারি হাপসাতালে ২১৪ জনের মৃতুর সাথে আক্রান্তের সংখ্যাও সাড়ে ৩৮ হাজারে পৌঁছল। নতুন করে করোনার চোখ রাঙানি উদ্বেগ তৈরী করলেও টেষ্ট কিটের অভাবে এ অঞ্চলের কোথাও কোভিড পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও ভোলা জেনারেল হাসপাতালে দুটি পূর্ণাঙ্গ ‘করোনা টেষ্ট ল্যাব’ থাকলেও জনবল প্রায় শূনের কোটায়। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা সদরেও কোভিড-১৯’এর প্রাথমিক শনাক্তের সুবিধা থাকলেও কীটের অভাবে দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও এখন আর করোনা শনাক্তের ব্যবস্থা নেই। এমনকি এ অঞ্চলে করোনা প্রতিরোধি ভ্যাকসিন এর ৩ ডোজ গ্রহণের হার এখনো ৬০ ভাগের নিচে। গত প্রায় ৬মাস ধরে ভ্যাকসিন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

তবে খুব দ্রুত টেষ্টকীট সরবরাহ সহ জনবল নিয়োগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জরুরী বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানিয়েছেন। বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডলের মতে ‘টেষ্ট কীট পাওয়া গেলে আমরা প্রতিটি উপজেলা পর্যায়েও কোভিড রোগী শনাক্তে পরীক্ষা কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

২০২৩ সালে দক্ষিণাঞ্চলে করোনা প্রায় নিয়ন্ত্রনেই ছিল। ২০২২ এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ অঞ্চলে শনাক্ত ৫৫ হাজার করোনা রোগীর মধ্যে ৬৯৩ জনের মৃত্যু হয়। যারমধ্যে বরিশাল মহানগরীতেই দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। পুরো করোনাকালীন সময়ে এ নগরী ছিল কোভিডের আতুর ঘর। আক্রান্তের শীর্ষেও ছিল এ মহানগরী।

করোনার মত ডায়রিয়া সহ ঠান্ডাজনিত সব রোগীর শীর্ষে বরিশাল মহানগরী। এরপরেই দ্বীপজেলা ভোলার অবস্থান।

গত বছর প্রায় ৭২ হাজার ডায়রিয়া আক্রান্ত নারী-পুরুষ ও শিশু দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা গ্রহণের পরে নতুন বছরের প্রথম ২০ দিনেও আরো প্রায় আড়াই হাজার এ রোগ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। প্রতিদিনই গড়ে শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু ডায়রিয়া নিয়ে সরকারি হাসপাতালে এলেও বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা এর তিনগুনেরও বেশী। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসদের মতে, এখন মুমূর্ষু অবস্থায় না পৌঁছলে কেউ সরকারি হাসপাতালের স্মরণাপন্ন হয়না। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, গত বছর দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি হাসপাতাল সমূহে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭২ হাজার। যা ২০২২ সালে ছিল ৭৮ হাজারের মত এবং ২০২১ সালে ৭৭ হাজারের কিছু বেশী।

এদিকে শীতের শুরু থেকেই এ অঞ্চলে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগের প্রকোপও ক্রমশ বাড়ছে। সদ্য সমাপ্ত বছরে এ ধরনের ৭৭ হাজারেরও বেশী রোগী বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এলেও নতুন বছরের গত ২০ দিনে আরো প্রায় আড়াই হাজার রোগী ঠান্ডাজনিত নানা উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালে এসেছেন। এদের মধ্যে মৃত্যুও হয়েছে ১ জনের। গত বছর সরকারি হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে ১৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর। আর গত ১ মাসে শুধু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত প্রায় দেড় হাজার রোগী সরকারি হাসপাতালে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে এসব ক্ষেত্রে আরো অন্তত তিনগুন রোগী বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিক ও চিকিৎকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়েছে।

বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো সরকারি হাসপাতালের শিশু এবং মেডিসিন ওয়ার্ডগুলো নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের ভীড়ে ঠাসা। দক্ষিণাঞ্চঞ্চেলের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান, শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মাত্র ৩৬ শয্যার শিশু বিভাগে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগী সহ পৌনে ৩শ শিশু চিকিৎসাধীন থাকছে। অনুমোদিত ১ হাজার শয্যার এ হাসপাতালে শিশু বিভাগের জন্য বরাদ্দকৃত বেড সংখ্যা এখনো মাত্র ৩৬। যার মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে। ১ হাজার শয্যার বিশাল এ হাসপাতালে শিশু বিভাগের জন্য স্বল্পসংখ্যক বেড নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

এদিকে শনিবার শেষরাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মেঘনা অববাহিকা সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল ঘন কুয়শায় ঢেকে ছিল। সকালে তাপমাত্রার পারদ ১৩ থেকে ১৪ ডিগ্রীর মধ্যে থাকলেও আগামী তিনদিনে শীতের তীব্রতা আবারো বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।




বরিশালে কালোমুখো হনুমানের কামড়ে আহত ৫

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের জনপদ বাইশারী ইউনিয়ন ও তার আশপাশ এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে একটি কালোমুখো হনুমান। পথেঘাটে, বাসাবাড়িতে আকস্মিক হানা দিয়ে মানুষজনকে কামড়ে আহত করছে হনুমানটি।

দলছুট পাগলাটে কালোমুখো হনুমানের আক্রমনে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছে। ভয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। গত পাঁচদিনে এ হনুমানটির কামড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শনিবার হনুমানটি উত্তর নাজিরপুর গ্রামে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের গাড়ির চালক মেহেদী হাসানের ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করে।

দরজা-জানালা বন্ধ করে দেওয়ায় হনুমানটি ওই ঘরে প্রবেশ করতে না পেরে প্রতিবেশী শাহজাহানের ওপর আক্রমণ করে তাকে কামড়ে আহত করে।

এর আগে গত কয়েকদিনে হনুমানটি উত্তর নাজিরপুর গ্রামের মাদ্রাসা ছাত্র রানাকে পথের মধ্যে ও বাজারের এক ব্যবসায়ীসহ পাঁচজনকে কামড়ে আহত করে। আহতদের প্রথমে বানারীপাড়া ও পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

বানারীপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা তাহেরুল ইসলাম জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ইউনিট বরিশালে নেই, খুলনায় রয়েছে। এলাকাবাসী বেপরোয়া যে হনুমানটির আক্রমণের শিকার হচ্ছেন সেটিকে আটক করে গভীর অরণ্যে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল বলেন, হনুমানের আঁচড় ও কামড়ে জলাতঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আহতদেরকে ভ্যাকসিন নিতে হবে।




প্রেমের কারণে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছে ববির ছাত্রী বৃষ্টি: পুলিশ

বরিশাল অফিস :: বিগত ১১ বছর আগে সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ছাত্রী সাওদাকে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। দেশব্যাপী ওই ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর বিদায় নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন উপাঁচার্য।

অথচ এ ধরনের খুন খারাবি কিংবা অপমৃত্যুর ঘটনা আজও বন্ধ হয়নি। যে কারণে ঝড়ে গেছে একাধিক শিক্ষার্থীর প্রাণ। পঙ্গু হয়েছে অনেকে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক যুগেও নির্মম এসব মৃত্যুরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমশ হতাশা বেড়েই চলেছে।

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল ববি শাখার আহ্বায়ক সিফাত আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বৃষ্টি সরকারের আত্মহত্যার ঘটনায় চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, প্রাণের এই অপচয় সুহৃদণ্ডস্বজন এবং পরিবারের জন্য প্রচন্ড যন্ত্রণার। আমরা দীর্ঘদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন মনোচিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসলেও প্রশাসন তা আমলে নেয়নি।
তিনি বলেন, গত ১৭ জানুয়ারি রাতে ববি ক্যাম্পাস সংলগ্ন মেসে ববি ছাত্রী বৃষ্টি সরকারের গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। বৃষ্টির প্রেমিক একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তন্ময় অসুস্থ হয়ে শেবাচিম হাসপাতালের মানসিক ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছেন, প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছে ছাত্রী বৃষ্টি সরকার। একইভাবে গত বছরের ১৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনন্দবাজার এলাকার মোল্লা ছাত্রী নিবাস থেকে শাহরিন রিভানা নামের বোটানি বিভাগের এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের সামনে এক ছাত্র আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ২০২০ সালের ১ আগস্ট সুপ্রিয়া দাস নামের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস সংলগ্ন সাওদা নামের এক ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে সহপাঠী রাসেল মাতুব্বর। পাশাপাশি গত দুই বছরে সহপাঠীদের হামলায় পঙ্গুত্ববরণ করেছেন ববি ছাত্র মুকুল ও আয়াতুল্লাহ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ওবায়দুর রহমান বলেন, গত ছয়বছর এ প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করতে গিয়ে দেখেছি শিক্ষার্থীরা হত্যা কিংবা অপমৃত্যুর শিকার হলেও নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করেননি। যেকারণে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা। এ ক্ষেত্রে দরকার কাজের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের কঠোরতা। অথচ আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং এবং মনিটরিং নেই। শিক্ষকরা হলে থাকেন না। প্রতি বিভাগে ছাত্র উপদেষ্টা থাকলেও তারা সচেতনতায় কিছুই করেন না।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাঁচার্য প্রফেসর ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, অনাকাঙ্খিত এসব ঘটনায় কাউন্সেলিং সেক্টর গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনারোধে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে ছাত্র উপদেষ্টা এবং আবাসিক শিক্ষকদের ইতোমধ্যে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।




বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন : জাহিদ ফারুক

বরিশাল অফিস :: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি বলেছেন,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশকে একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ এখন আর অবহেলিত দেশ নয় বাংলাদেশ এখন একটি উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশ ২ হাজার ৪১ সালের ভিতরে স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন।

নৌর্কা মার্কা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আয়োজনে শনিবার (২০ জানুয়ারি) বিকালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের সভাপতিত্বে বরিশাল নগরীর শহীদ মিনারে প্রঙ্গনে জনসাধারণের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন,আমরা বরিশালবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকবো যতদিন পদ্মা নদীর উপরে থাকবে সেতু থাকবে। আজ আমরা দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ বরিশাল থেকে তিন ঘন্টায় ঢাকা যেতে পারছি। বরিশালের মানুষ কখনো ভাবি নাই যে বরিশালে পায়রা বন্দর হবে।এই পায়রা বন্দর বাংলাদেশের সাথে বিশ্ববাসীর সংযুক্ত করেছে। এখানে বিদেশি জাহাজ পায়রা বন্ধরে আসা শুরু করেছে। এই পায়রা বন্ধরের কারণে বরিশালে বিভাগীয় শহরে বিভিন্ন বিদেশীরা এসে অফিস করবেন। বরিশালের বিভিন্ন যুবকের কর্মসংস্থান হবে।

তিনি আরো বলেন, আগামী ছয় মাসের ভিতরেই ভোলা থেকে বরিশালে গ্যাস আসবে। আমরা আশা করতে পারি এই গ্যাসের কাজ সম্পূর্ণ হলে বরিশালের শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। অনেক বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে। দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের কথা চিন্তা করেন। আমাদের নতুন প্রজন্মের কথা চিন্তা করেন।

বরিশাল একটি বিভাগীয় শহর হলেও পাশের জেলা পটুয়াখালী থেকে আমরা উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছনে রয়েছি। আমরা আর পিছিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। আমরা বরিশালকে একটি আধুনিক শহর হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা বরিশাল সদরের গ্রাম গুলোকে শহরের রূপন্তিত করতে চাই।

ইতিমধ্যে বরিশাল শহরের জন্য ৫শত কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই কাজ শুরু হয়ে গেছে। আগামী ২ এক বছরের মধ্যে উন্নয়ন দৃশ্যমান দেখতে পারবেন। বর্তমান অবহেলিত বরিশালের ছবি তুলে আপনাদের ফোরে রেখে দেন। উন্নয়নের ফলে ২ বছর পড়ে আপনার এমন বরিশাল দেখতে পারবেন না। বরিশাল হবে একটি আধুনিক শহর।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন দেখছেন সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ আর এই সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের সকলকে একাবদ্ধতা হয় মিলে মিশে কাজ করতে হবে। আমরা সকলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মী কেউ যদি মনে করে আমরা নেতা হয়ে গেছি আপনারা ভুল করছেন তা কেউ হয়নি। নেতা হলো একজন বঙ্গবন্ধুর পরে সেটা দ্বিতীয় নেতা হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরে আর কোন নেতা নাই।

আমরা সকলেই কর্মী। কেউ যদি নিজেকে নেতা না মনে করে। আমরা কেউ সিংহ পুরুষ না আমরা কেউ দক্ষিণাঞ্চলের নেতা না সবাইনপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মী। এই দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সকলকে একসাথে মিলেমিশে থাকতে হবে। বিএনপি জামাত যদি কখনো কিছু করে সেই আগুন লাগানো তাদের যে কর্মকাণ্ড আমাদের সকলকে একসাথে প্রতিহত করতে হবে।

এ সম তিনি বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দেশকে যেভাবে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আজকে সরকারি দল বিরোধী দল সবাই চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অন্য সরকার তো এভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমেই তা সম্ভব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার ওমহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, স্থানীয় ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।