পটুয়াখালীতে মাটিচাপা দেয়া নববধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে চম্পা বেগম (৩২) নামের এক নববধূকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মাটিতে পুঁতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্বামী বাবুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে।

বর্তমানে বাবুল হাওলাদার এবং তার প্রথম স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।

আজ (২২ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামরবুনিয়া বিলে মাটিচাপা দেয়া ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

কলাপাড়া থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ১ জানুয়ারি চম্পা বেগমকে বিয়ে করেন কৃষক বাবুল হাওলাদার। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। বাবুল হাওলাদার এবং তার প্রথম স্ত্রী পলাতক থাকায় ধারণা করা হচ্ছে দাম্পত্য কলহের জেরে চম্পাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। হত্যার পর মৃতদেহ মাটি চাপা দেয়া হয়।

মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই সবকিছু জানা যাবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।




বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ এর মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

বরিশাল অফিস :: বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপির) রুপাতলিস্থ পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ সোমবার (২২) জানুয়ারী পুলিশ এর মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মাস্টার প্যারেড পরিদর্শন করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার জিহাদুল কবির, বিপিএম-সেবা, পিপিএম ।

প্যারেড পরিদর্শন কালে তিনি অফিসার-ফোর্সদের সার্বিক শৃঙ্খলা ও ড্রেসরুলস এর বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি অফিসার-ফোর্স এর পেশাদারিত্ব, উত্তম ব্যবহার, নিয়মিত খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও প্যারেড অনুশীলন এর উপর গুরুত্ব আরোপ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় মাস্টার প্যারেড গ্রাউন্ডে আরো উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (সিএসবি) অ্যাডিশনাল ডিআইজি (পদোন্নতি প্রাপ্ত) মোহাম্মদ জাকির হােসেন মজুমদার, পিপিএম-সেবা সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন পদ-পদবীর পুলিশ সদস্যগণ।

 




পুরুষের পোশাকের রঙ নিয়ে যা বলেছেন মহানবী সা.

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে আদাম সন্তান! আমরা তোমাদেরকে পোশাক-পরিচ্ছদ দিয়েছি তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য এবং শোভা বর্ধনের জন্য।

আর তাক্বওয়ার পোশাক হচ্ছে সর্বোত্তম। ওটা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে একটি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। ’ ( সুরা আরাফ, আয়াত,২৬)

পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে হাদিসে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। পুরুষদের পোশাক বিষয়েও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট বিধান দিয়েছেন।

এক সাহাবি মহানবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাকে জিজ্ঞাসা করেন, আমার শখ হলো, আমার কাপড় উন্নতমানের হোক, আমার জুতা জোড়া অভিজাত হোক—এটা কি অহংকারপ্রসূত? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা বললেন, ‘নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ সৌন্দর্য পছন্দ করেন (সৌন্দর্যের প্রকাশ অহংকার নয়)। ওই ব্যক্তি অহংকারী, যে সত্যের সামনে ঔদ্ধত্য দেখায় আর মানুষদের তুচ্ছজ্ঞান করে, অবজ্ঞা করে। ’ (মুসলিম, হাদিস, ১৪৭)

পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য অবলম্বনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বিষয়গুলো হলো:

১. কাফির-মুশরিকদের পোশাক গ্রহণ করা যাবে না।

২. ফাসেক-পাপাচারীদের মতো পোশাক পরিধান করা যাবে না।

৩. বিপরীত লিঙ্গের মতো পোশাক ধারণ করা যাবে না। অর্থাৎ পুরুষের জন্য নারীদের ন্যায় আর নারীদের জন্য পুরুষের মতো পোশাক পরিধান করা জায়েজ নয়।

৪. পোশাক হতে হবে ঢিলেঢালা। আরামদায়ক।

পুরুষদের জন্য রেশমি কাপড় পরিধানও বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে পুরুষদের জন্য রেশমি কাপড় এবং স্বর্ণ ব্যবহার করা হারাম; কিন্তু নারীদের জন্য তা হালাল। ’ (তিরমিজি, হাদিস, ১৭২০)

পুরুষদের জন্য একেবারে লাল ও হলুদ রঙের পোশাক না পরা কথা বলা হয়েছে। তাদের জন্য একেবারে গাঢ় লাল রঙের পোশাক পরিধান করা মাকরুহ। তবে হালকা লাল রঙের পোশাক পরিধান করা বৈধ। (রদ্দুল মুহতার : ৬/৩৫৮, কাশফুল বারি : কিতাবুল লেবাস : ২০৯)

আর পোশাকের ক্ষেত্রে বিশেষ লক্ষণীয় হলো- বিলাসিতা প্রকাশ পায় এমন পোশাক পরিহার করা। কারণ, সীমাতিরিক্ত বিলাসিতার গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেওয়া কাফিরদের অভ্যাস।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘বিলাসিতা পরিহার করো। আল্লাহর নেক বান্দারা বিলাসী জীবনযাপন করে না। ’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২২১০৫)




পটুয়াখালী-৪: নির্বাচনের পরও থামছে না সহিংসতা, আত্মগোপনে অনেক নেতাকর্মী

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অুনষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের আগে থেকেই পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া – রাঙ্গাবালী) আসনের মহিপুরের কয়েকটি ইউনিয়নে ছড়িয়ে পরে উত্তেজনা। নির্বাচনের ১৫ দিন পার হলেও থামছে না সহিংসতা। এখন পর্যন্ত অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন। মারধরের ভয়ে এখনও বাজার ঘাটে উঠতে পারছেন না অনেকে। আত্মগোপনে চলে গেছেন বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতা। মামলা করতেও সাহস পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। যার ফলে কোণঠাসা হয়ে পরেছে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত আওয়ামী লীগের নেতারা। এতে ঝিমিয়ে পড়েছেন মাঠ পর্যায়ের সাধারণ কর্মীরা।

সর্বশেষ গত শুক্রবার সন্ধ্যায় লতাচাপলী ইউনিয়নের ডংকুপাড়া গ্রামের বটতলা নামক স্থানে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন বরিশাল বিএম কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র আসাদ মোল্লা। নৌকার প্রতীকের কর্মী আব্দুর রহিম মুসুল্লী ও তার ছেলে রাব্বী মুসুল্লী কুপিয়ে আসাদ মোল্লাকে রক্তাক্ত জখম করেছেন। তার মাথায় ছয়টি ও হাতে একটি কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত আসাদ বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আসাদ মোল্লা লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনছার উদ্দিন মোল্লা এবং কুয়াকাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লার ভাতিজা। তার বাবার নাম ফারুক মোল্লা। এ ঘটনায় আসাদ মোল্লার মামা নাসির গাজী বাদী হয়ে মহিপুর থানায় চারজনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছে।

এ প্রসঙ্গে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, শুক্রবার রাতেই থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার একই সময় আলীপুর থ্রিপয়েন্ট এলাকায় হামলার শিকার হন ইসমাইল ফরাজী নামের এক যুবক। নৌকার কর্মীরা হাতুরি দ্বারা পিটিয়ে ইসমাইল ফরাজীর দুই পায়ের হাটু পর্যন্ত থেতলে দিয়েছেন। ইসমাইল ফরাজী বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সে লতাচাপলী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের পান্না মিয়া ফরাজীর ছেলে।

এর আগে নির্বাচনের পরদিন আলীপুর চৌরাস্তায় নৌকার কর্মীদের হামলার শিকার হন মোশাররফ মোল্লা। তাকেও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুই পায়ের হাটু পর্যন্ত থেতলে দেয়া হয়েছে। সপ্তাহখানেক বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় আনা হয়েছে। হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানের ক্ষত ভালো হলে দু’পায়ের অপারেশনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন চিকিৎসক। মোশাররফ মোল্লা লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো.আনছার উদ্দিন মোল্লা এবং কুয়াকাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লার ছোট ভাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি (রোববার) রাতে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে আজ সোমবার (২২ জানুয়ারি) এখন পর্যন্ত পটুয়াখালী-৪ আসনের মহিপুরের লতাচাপলী, মহিপুর, ধুলাসার, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন ও কুয়াকাটা পৌর এলাকায় অন্ততপক্ষে অর্ধশত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের সমর্থক বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারছেন না। এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া পরিবহন কাউন্টার ও শ্রমিক সংগঠনগুলোতে এসেছে নতুন নেতৃত্ব।

লতাচাপলী ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান তালুকদারের আলীপুরস্থ নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর, প্রদীপ ও স্বপন নামের ২ জন সংখ্যালঘুর বাড়িতে হামলা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়ছে।

এছাড়া আলীপুরের বাজার পাহারাদার আব্দুর রহিম, ভ্যানচালক হাচান প্যাদা, মুরগী ব্যবসায়ী আলী হোসেন, মাছ ব্যবসায়ী সোহাগ, ইউপি সদস্য মিজান মুসুল্লী হামলার শিকার হয়েছেন। এখনো দোকান খুলতে পারছেন না অপু গাজী, আবু বক্কর মল্লিক। এমন অভিযোগ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লাসহ অনেক নেতারা।

এ বিষয়ে লতাচাপলী ইউনিয়ন আ. লীগ সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, প্রতিনিয়ত আমার হাত, পা কেটে ফেলার বিভিন্ন হুমকি ধামকি আসছে। আমি চাই এই প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করা হোক। সুষ্ঠু ধারায় রাজনীতি চলুক।

লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. সিদ্দিকুর রহমান বিশ্বাস বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বিষয়গুলো উপজেলা নেতাদের অবহিত করা হচ্ছে। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

এদিকে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থাকা নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিস পৌর আ’লীগের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টানিয়েছেন পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার। তবে কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ লাভ করতে পারেন নি। কুয়াকাটা পৌরসভায় দু’টি দলীয় কার্যালয় হওয়ায় বিভ্রান্তিতে পরেছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লা বলেন, পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করার জন্য বর্তমান মেয়র নির্বাচনী অফিস দলীয় কার্যালয় বানিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি। তিনি জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দলীয় সদস্য পদ পাননি। বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীরকে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেছেন।

এ প্রসঙ্গে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব তালুকদার বলেন, কুয়াকাটায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় একটি। মেয়র আনোয়ার হাওলাদার যেটি করেছেন ওটি নির্বাচনী অফিস।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরবর্তী যারা সহিংসতা করছে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনী পরবর্তী কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে স্বীকার করে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, নির্বাচনী পরবর্তী সহিংসতা রোধে মহিপুর থানা পুলিশ সবসময় সতর্ক আছে। যারা সহিংসতা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৪ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়ে টানা দ্বিতীয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মহিববুর রহমান মহিব। তিনি বর্তমানে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থী সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান তালুকদার। হেভিওয়েট এ দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা জড়িয়ে পরেছেন নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায়।




পটুয়াখালীতে বাড়ছে শসার বাণিজ্যিক চাষ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে বাণিজ্যিকভাবে শসার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদন খরচ কম ও অল্প সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় শসা চাষে ঝুঁকছেন উপকূলের কৃষকরা।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, সারা বছর শসার চাহিদা থাকে। অন্য সবজির তুলনায় শসার সরবরাহ বেশি। তাই বাজারে শসার দামও অন্য সবজির থেকে কম।

পটুয়াখালীর গলাচিপা এলাকার শসা চাষি আমানুল্লাহ বলেন, ‘শসার বীজ রোপণের আড়াই মাস পরেই ফলন দিতে শুরু করে। পরিকল্পিতভাবে চাষ ও খেতের পরিচর্যা করায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচও কম হয়।’

শ্রমিক আনছার মিয়া বলেন, ‘আগে ধান ওঠার পরে অলস সময় পার করতে হতো। তবে শসা চাষের কারণে বর্তমানে প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। শসা চাষের কারণে আমার মতো স্থানীয় অনেক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

অপর শ্রমিক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘জমিতে যদি বারো মাস বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি চাষাবাদ করা যায় তাহলে আমিও সারা বছর কাজের মধ্য থাকতে পারব। এতে আমাকে আর বেকার বসে থাকতে হবে না।’

কৃষক আনিস মিয়া বলেন, ‘আমাদের এখানে শসার ভালো ফলন হয়ে থাকে। গলাচিপা উপজেলার আমখোলায় ৫ হেক্টর জমিতে শসা চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত ৪০ লাখ টাকার শসা বিক্রি করেছি। জমিতে এখন যে পরিমাণ শসা আছে তাতে আরও ৬০ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারব।’

পটুয়াখালীর নিউ মার্কেটের পাইকারি ব্যবসায়ী সোবাহান মোল্লা বলেন, ‘বাজারে চাহিদার চেয়ে শসার সরবরাহ বেশি রয়েছে। আমরা নিয়মিত শসা সরবরাহ করতে পারছি। তবে শসার দাম কিছুটা কম রয়েছে। শসার যোগান বেশি থাকায় সামনে বাজার দর কিছুটা কম। তবে শসার বাজার দর সামনে বাড়বে।

নিউ মার্কেট এলাকার সবজি বিক্রেতা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সারা বছর শসার চাহিদা রয়েছে। তবে শীতের সময় শসার চাহিদা বেশি থাকে। বর্তমান বাজারে শসার সরবরাহ বেশি তাই দাম কিছুটা কম। সরবরাহ কম থাকলে দাম বেশি থাকে। এতে কৃষক ও বিক্রেতা উভয় লাভবান হয়।’

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় দিন দিন শসা চাষ বাড়ছে। কয়েক বছর আগেও জেলায় ১০ হেক্টর জমিতে শসা আবাদ হতো, চলতি বছর জেলায় ১৬৩ হেক্টর জমিতে শসা আবাদ হয়েছে। জেলায় শসার বাম্পার ফলন হওয়ায় ও বাজারে দাম ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা শসা চাষে ঝুঁকছেন। আগামী মৌসুমে শসার আবাদ আরও বাড়বে।




পটুয়াখালীতে গোলের রসে তৈরি হচ্ছে গুড়

এস এল টি তুহিন,বরিশাল;: পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ লোনাজল ভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে গোল গাছের বাগান।’গুড়ের তৈরি পায়েস কিংবা মুখরোচক খাবার পছন্দ করেন না এমন মানুষ কমই আছে।

কিন্তু মিষ্টিতে সুগার থাকায় সুস্বাদু বাহারি রকম খাবার খেতে পারেন না অনেকেই।’তবে প্রকৃতির সৃষ্ট গোল গাছের বাগান থেকে আহরিত রস কিংবা গুড়ে সুগার কম থাকায় দিনে দিনে ক্রেতাদের কাছে এর কদর বেড়েছে কয়েকগুন।

 

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় বিস্তীর্ণ এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল থাকায় প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিচ্ছে গোলগাছ। কিন্তু চাহিদা বাড়লেও ক্রমশই ধ্বংস করা হচ্ছে বাগান।’ফলে বাগানের পাশাপাশি কমছে গাছিদের সংখ্যাও।’গোল বাগান বিনষ্টের ফলে গুড় উৎপাদন কমে যাওয়ায় এখন অনেক গাছিরও পেশার পরিবর্তন হয়েছে।

শীতের শুরুতেই বিকালে গাছের ডগা কেটে হাড়ি পাতেন গাছিরা। রাতভর হাড়িতে জমা রস কাকডাকা ভোরে সংগ্রহ করেন তারা। পরে চাতালে জাল দিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে তৈরী করা হয় গুড়।’আর এসব গুড় গাছিরা বিক্রি করছেন ১৭০ থেকে দুই’শ টাকা কেজি দরে। বিশেষ করে রোগাক্রান্ত মানুষের কাছে লবনাক্ত এই গুড়ের চাহিদা অনেক।

কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউপির নবীপুর গ্রামের গাছি জীবন হাওলাদার জানান, উপজেলার নীলগঞ্জ, তেগাছিয়া, নবীপুর গ্রামের ২৫ জন কৃষক এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত। ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা বাড়িতে গিয়ে অগ্রিম টাকা দিয়ে আসেন গুড়ের জন্য। কিন্তু ক্রমাগত বাগান ধংসের ফলে এখন ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারছেন না।

একই গ্রামের রিতা রাণী জানান,৬০ বছর ধরে এই কাজ করছি। শুরুতে প্রতি ১৫ থেকে ২০ কলস রস পেতাম। এখন ৫ থেকে ৬ কলস রস পাই। এর আগে আমার ছেলে মেয়ে ও পুত্রবধুও এই কাজে করতেন তারা এখন পেশার পরিবর্তন করে ভিন্ন পেশায় যোগ দিয়েছেন।

বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,’গোলগাছ মানুষের ঘর নির্মাণসহ প্রকৃতি রক্ষায় একটি বড় ভূমিকা পালন করে। গুড় থেকে বিশাল একটা অর্থ আয়ের পাশাপাশি হাজারো মানুষ এর উপর নিভর্রশীল হয়ে জীবীকা নির্বাহ করে।

তিনি বলেন,’গোলবন সংরক্ষনসহ বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আন্ধারমানিক নদী তীরসহ লোনাজল ভূমিতে গোলচারা রোপন করা হবে।এই গোল গাছ রক্ষা করাসহ সব ধরনের ব্যাবস্থা গ্রহণের আশ্বাস করা হবে।




ইউটিউব দেখে বরই চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন বরগুনার রাসেল মিয়া

বরিশাল অফিস :: বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অংকুজান পাড়া গ্রামের কৃষক রাসেল মিয়া দুই বছর আগে তার বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত প্রায় ১০০শতাংশ জায়গায় ১০০ টি কুল বরই ও আপেল কুল বরই,বলসুন্দরী তিনটি জাতের বরই চারা রপন করেন। এ বছর তার প্রতিটি গাছে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কেজি করে বরই ধরেছে। তার গাছ থেকে বিক্রেতারা ৬০ টাকা কেজি ধরে বরই কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

কৃষক রাসেল জানান, তার বাড়ির ঐ জায়গাটুকু পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। একদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউবে বিভিন্ন সফল মানুষের সফল হয়া দেখে আর ভাবে তিনি তাদের মতো কিভাবে সফল হতে পারেন। আর এই বিষয়টি তাকে খুবই উদ্ধুদ্ধ করে। বরই চাষের উদ্যোগ নিয়ে এই বাগান করেছেন। তিনি আরো বলেন, কৃষিতে সবচেয়ে লাভজনক চাষাবাদ হলো ফল বাগান করা। কিন্তু এই এলাকা তুলনামূলক নিচু হওয়ায় সেভাবে ফল বাগান করা যায় না। তবে এই ব্যাবসায়ী রাসেল মিয়ার বাড়িটি তুলনামূলক বড় হওয়ায় তিনিএই ফল বাগান করার উদ্যোগ নেন। ব্যাবসার পাশাপাশি বরই বিক্রি করে তিনি এখন ভালো অবস্থায় আছেন।

পশ্চিম অংকুজান পাড়া গ্রামের মোঃ হাসিব বলেন, অনেকদিন ধরেই শুনছি এই এলাকাতে বরইয়ের (কুল) চাষ হচ্ছে। ফলনও নাকি খুব ভালো হয়েছে। যে গাছগুলোতে ফল ধরেছে, সেই গাছগুলো নাকি অনেক ছোট। তাই আগ্রহ থেকে দেখতে চলে আসলাম। তবে আসার পর আমি অবাক হয়েছি। বরই (কুল) গাছ অনেক ছোট, কিন্তু বরইয়ের (কুল) ভারে গাছের ডাল মাটিতে নুয়ে পড়েছে। বরইগুলোও (কুল) হয়েছে বেশ বড় বড়। এর আগে এমন গাছ দেখিনি। তা ছাড়া, বরইগুলোও (কুল) খেতে খুব সুস্বাদু।

স্থানীয়রা বলেন, ছোটবেলা থেকে খুবই কর্মঠ ছিলেন। চাষাবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করতেন। যতদূর জানি, তিনি ইউটিউব দেখে রইয়ের বাগান করেছেন। আমার বাড়ির খুব কাছে, তাই এই বাগানের পাশ দিয়ে আমাকে যাতায়াত করতে হয়। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে তার বাগান দেখতে। বরইর (কুল) জাত ও ফলন ভালো হওয়ায় আশা করা যায় তিনি বেশ লাভবান হবেন।

কৃষক রাসেল মিয়ার বাবা বলেন, আমার ছেলে পরিকল্পনা নিয়েছে বরই গাছ লাগাবেন আমি নিষেধ করেছি আমি এতে রাজি ছিলাম না আমি বলেছিলাম এই ছোট্ট ছোট্ট চারা দিয়ে কি হবে,চারা লাগানোর প্রথম বছরেই সুন্দর বরই হয়েছে এবং অনেক মিষ্টি এলাকার মানুষ বরই খেয়ে অনেক প্রশংসা করেন। আমার ছেলে চারা লাগিয়ে ভালো ফল পেয়েছেন এতে আয় বাণিজ্য ভালো হয় আমি এখন খুশি ।বরই চাষ সুন্দর হয়েছে ছেলে এখন অনেক বড়ো বাগান করেছেন আমার দেখে ভালো লাগছে ব্যাবসার পাশাপাশি বরই চাষ করে লাভবান হয়েছে এখন পর্যন্ত ৫০হাজার টাকার বরই বিক্রি করেছেন এখনো গাছে দের লাখ টাকা বিক্রি করা মতন বরই রয়েছে।

তিনি আরো বলেন,ইউটিউবে ভিডিও দেখে নিজের বুদ্ধি দিয়ে এই বরই বাগান করেন সরকারের কাছ থেকে যদি কোনো ধরনের সহযোগিতা পেতো তাহলে আমার ছেলে আরো ভালো কৃষি চাষ করতে পারতো।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন হাওলাদার বলেন, কৃষক রাসেল মিয়া একজন সফল উদ্যোক্তা। তিনি কোনো পরামর্শের জন্য কৃষি অফিসে আসেনি । তিনি প্রয়োজন মনে করলে স্থানীয় কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।




বরগুনায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু: ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

বরিশাল অফিস :: বরগুনার বামনায় সুন্দরবন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু মামলার অন্যতম আসামি ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানকে (৪০) কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

রোববার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বামনা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মিজানুর রহমান হলেন- বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান। তিনি সুন্দরবন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকানার অংশীদার।

বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তুষার কান্তি মণ্ডল বলেন, গত ১৫ জানুয়ারি বামনায় একটি প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্রে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় ১৬ জানুয়ারি প্রসূতি মেঘনার বাবা ছগির হোসেন বাদী হয়ে থানায় ওই ডাক্তার সবুজ কুমার দাসকে প্রধান আসামি করে হাসপাতালের তিন মালিক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, রেজাউল ইসলাম এবং মাঈনউদ্দীন মঈনসহ আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে শনিবার (২০ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে র‍্যাব-২ গ্রেপ্তার করে রোববার (২১ জানুয়ারি) বামনা থানায় হস্তান্তর করে।

পরে আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।




ভোলার বোরহানউদ্দিনে ব্রিজ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

বরিশাল অফিস :: জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নে আজ একটি ব্রিজ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে খায়ের হাট জয়ার হাট আলিমুদ্দিন বাংলাবাজার সড়কে ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল। সাপোর্টিং ফর রুর‌্যাল ব্রিজের প্রকল্পের আওতায় এর কাজটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

এসময় সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এই ব্রিজটি নির্মিত হচ্ছে। গঙ্গাপুর এবং কুতবা ইউনিয়নকে যুক্ত করেছে এই ব্রিজটি। এই সড়কে দৈনিক হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে এখানে একটি পুরানো আয়রন ব্রিজ রয়েছে। যেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সরকার জনদূর্ভোগ লাঘবে নতুন সেতু তৈরির কাজ শুরু করছে। ব্রিজটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে যান চলাচল সহজসহ স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধিত হবে।

এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম খান জানান, এটি মূলত একটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। যার দৈর্ঘ ২৫ মিটার ও প্রস্ত নয় পয়েন্ট আট মিটার। যা বর্তমান ব্রিজের তুলনায় অনেক বেশি চওড়া। খুব শিগগিরর কাজ শুরু করা হবে। এই সেতুটি এখানকার আগামী ৫০ বছরের চাহিদা পুরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এসময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, বোরহানউদ্দিন পৌর মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম, এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।




বরিশালে পাইকারি বাজারে চালের দাম ২ টাকা কমেছে

বরিশাল অফিস :: বরিশালের পাইকারি বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ টাকা কমেছে। তবে খুচরা দোকানে এখনও চড়া দামে চাল বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রচুর সরবরাহ থাকার পরও ক্রেতা কম থাকায় চালের দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন আড়তদাররা। আগামী কয়েক দিনে চালের দাম আরও কমতে পারে বলে ধারনা করছেন তারা।

গত শনিবার বরিশালের পাইকারি আড়ত ফরিয়াপট্টিতে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৬৬ টাকা, ২৮ বালাম ৫৪ টাকা এবং বুলেট চাল মোটা) বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা কেজি দরে। মোকামে দাম না কমলেও রবিবার ফরিয়াপট্টিতে মিনিকেট ৬৪ টাকা, ২৮ বালাম ৫২ টাকা এবং বুলেট চাল (মোটা) বিক্রি হয়েছে ৪৮ টাকা কেজি দরে।

ফরিয়াপট্টির আড়তদার বিজয় সরকার বলেন, মিলাররা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়ায়। মোকামে এখন পর্যন্ত চালের দাম কমেনি। বিক্রি কম থাকায় স্থানীয় আড়তদারা কেজিতে ২ টাকা করে কমিয়ে চাল বিক্রি করছেন। সরকার মিলারদের উপর চাপ সৃস্টি করলে চালের দাম আরও কমতে পারে বলে জানান তিনি।

ফরিয়াপট্টির ব্যবসায়ী কালু সাহা জানান, প্রতি বছর আমাদের ৭ লাখ মেট্রিক চন চালের চাহিদা। প্রয়োজন ১৪ লাখ মেট্রিক টন। যতদিন বাজারে সরবরাহ দ্বিগুণ না হবে ততদিনে চালের দাম কমবে না। তিনি বলেন, এবার বন্যায় ধানের উৎপাদন কম হয়েছে। মিলাররা সব ধান কিনে মজুত করে রেখেছেন। তারা ইচ্ছেমত দাম বাড়ায়। আমদানি না করা পর্যন্ত বাজারে চালের দাম কমবে না বলে মনে করেন তিনি।

ফরিয়াপট্টির আরেক ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, প্রতিদিন মোকাম থেকে বরিশালের আড়তে অন্তত ২০ ট্রাক চাল আসে। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় চালের বিক্রি কমে গেছে। এ কারনে আড়তদাররা মোকাম থেকে চাল আনেন না। আজ মোকাম থেকে কোন চালের ট্রাক বরিশাল আসেনি।

এদিকে আড়তে চালের দাম কেজি প্রতি ২ টাকা কমলেও খুচরা পর্যায়ে এখনও আগের মতো বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বাজার নিয়ন্ত্রণে বরিশালে গত কয়েকদিনে দেখা যায়নি কোন প্রশাসনিক অভিযান।