বরিশালে দুই দিনব্যাপী অশ্বিনী মেলা

বরিশাল অফিস :: সত্য, প্রেম ও পবিত্রতার ধারক মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের ১৬৯তম জন্মদিন উপলক্ষে বরিশালে দুই দিনব্যাপী অশ্বিনী মেলার উদ্বোধণ করা হবে বৃহস্পতিবার। বিকেল সাড়ে চারটায় নগরীর সরকারি বরিশাল কলেজ প্রাঙ্গণে প্রদীপ প্রজ্জলনের মধ্যদিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধণ করবেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীম এমপি।

দুইদিনের মেলায় শ্রদ্ধা নিবেদন, প্রদীপ প্রজ্জলন, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় বাঙালি সংস্কৃতির নানা রকম উপকরণ নিয়ে থাকবে স্টল। মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের স্মৃতির সম্মানে জন্মদিন উপলক্ষে চর্তুথবারের মতো দুই দিনব্যাপী অশ্বিনী মেলার আয়োজন করেছে অশ্বিনী কুমার স্মৃতি সংসদ জেলা কমিটি। কমিটির সভাপতি স্নেহাংশু কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিভিন্ন সমাজহিতৈষী ও কল্যাণমূলক রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে অশ্বিনী কুমার দত্ত সুপরিচিত ছিলেন।

জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, জনকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কাজকর্মের জন্য তাকে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার বা আধুনিক বরিশালের রূপকার বলে অভিহিত করা হয়। তিনি ছিলেন দুর্নীতি, সামাজিক গোঁড়ামি, কুসংস্কার ইত্যাদির বিরুদ্ধে ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিবেদিতপ্রাণ। তিনি বরিশাল পৌরসভার কমিশনার, ভাইস চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

প্রকৃত অর্থে তিনি ছিলেন আধুনিক বরিশালের নির্মাতা এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব।

সত্য-প্রেম-পবিত্রতার প্রতীক অশ্বিনী কুমার দত্ত অবিভক্ত ভারতবর্ষে বরিশালকে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনীতির অন্যতম প্রধান পীঠস্থানে পরিণত করেছেন। তার জন্যই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বরিশাল ব্রিটিশ সরকারের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিলো। অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী মানুষটি বরিশালবাসীর কাছে ছিলেন মুকুটহীন সম্রাট। বরিশাল শহরে তার নিজের দান করা জমিতে তিনি তার বাবার নামে ব্রজমোহন বিদ্যালয় ও ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার বাসস্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সরকারি বরিশাল কলেজ। ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক শতবর্ষী অশ্বিনী কুমার হল এবং গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর অশ্বিনী কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয় তার নামে প্রতিষ্ঠিত।

মেলার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত সভায় স্মৃতি সংসদের সহ-সভাপতি দেবাশীষ কুন্ডুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম।




বরিশালে দালাল নির্ভর অবৈধ হাসপাতাল

বরিশাল অফিস :: ভুয়া ডাক্তার, টেকনোলজিস্ট, মানহীন মেশিন সংবলিত ল্যাব, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই প্যাথলজির ভুয়া রিপোর্ট প্রদানসহ দালাল নির্ভর ব্যক্তি মালিকানাধীন ক্লিনিক-হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি বরিশালে। এসব প্রতিষ্ঠানের খপ্পরে পরে গ্রামাঞ্চল ও শহরতলী থেকে আসা রোগীরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।

সূত্রমতে, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২৯টি ও জেলার দশ উপজেলায় ১৩৩টি বৈধ ক্লিনিক-হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর বাইরে শত শত বেসরকারি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বাণিজ্য করে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে অভিযান চললেও স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ম্যানেজ করে রমরমা ব্যবসা চলছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর সদর রোড, গির্জা মহল্লা মোড়, আগরপুর রোড, কাকলির মোড়, বাটারগলি, বিবির পুকুর পাড়, অশ্বিনী কুমার হল চত্বর, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের সামনে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য। তাদের মধ্যে নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজের বিনিময়ে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার তুমুল প্রতিযোগিতা চলছে। দালালরা ওৎপেতে থাকে নগরীর রূপাতলী, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ টার্মিনালে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা রোগীদের জন্য। দালালরা তাদের পছন্দের ডাক্তার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

সূত্রমতে, নগরীতে সব থেকে বেশি ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে। এখানে ৩০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ক্লিনিক রয়েছে। প্রতিটিতেই জড়িত রয়েছেন হাসপাতালের কোনো না কোনো চিকিৎসক কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ ছাড়া কিছু চিকিৎসক প্রতি রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর পাচ্ছেন সর্বনিন্ম ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কমিশন। এসব চিকিৎসকের কাছ থেকে রোগী নিজেদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসতে রয়েছেন মার্কেটিং কর্মী নামধারী দালাল। ঠিক একই অবস্থা বরিশাল সদর হাসপাতালের সামনেও। এ হাসপাতালের সীমানা থেকে প্রায় ৫০ গজের মধ্যেই রয়েছে একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ক্লিনিক। এসব প্রতিষ্ঠানের নেপথ্যেও রয়েছেন ওই হাসপাতালের চিকিৎসক এবং কর্মচারী। অভিযোগ রয়েছে, শুধু ডাক্তার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীই নন; একের পর এক গড়ে ওঠা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা। তাদের নেতৃত্বেই এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত রোগীদের জিম্মি করে গলাকাটা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী রোগীর স্বজন ঝালকাঠির সদর উপজেলার বিনয়কাঠি এলাকার বাসিন্দা হাকিম হাওলাদার বলেন, মাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য নগরীর বাটার গলিতে এসে দালালের খপ্পরে পরেছি। প্রথমে দালালরা ভুল বুঝিয়ে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে ভুয়া ডাক্তার দেখানো শেষে প্রেসক্রিপশনের প্যাডে আটটি পরীক্ষা করতে বলে ৬ হাজার ৩০০ টাকা ও ডাক্তার ফি আরও ৮০০ টাকা নিয়েছে। কিন্তু তার মায়ের রোগ ভালো হয়নি।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বরিশাল জেলার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, নগরীতে কত ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে তার সংখ্যা জানার জন্য আমরা সিভিল সার্জনের কাছে আবেদন করেছিলাম। তবে সিভিল সার্জন থেকে আমাদের বলা হয় স্বাস্থ্য বিভাগে যেতে। সেখানে আবেদন করার পর তারা বলছে, হালনাগদ নেই। তারা মাঠেনেমে এর একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন। কিন্তু আজও আমরা তালিকা পাইনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার পর সারাদেশে অভিযান হলেও বরিশালে কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। এতে করে সচেতন মানুষ মনে করছেন কোনো সমঝোতার কারণে এমনটা হয়েছে। এ ছাড়া সির্ভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন সুফল মিলছেনা।

বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক, ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রায়ই আমরা অভিযান পরিচালনা করি। বর্তমানেও অভিযান চলমান রয়েছে।




বরিশালে জেলা পর্যায়ে শীতকালীন খেলাধুলা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠিত

বরিশাল অফিস :: শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ এই স্লোগান নিয়ে বুধবার( ২৪ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি বরিশাল জেলার আয়োজনে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে ৫২ তম জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা জেলা পর্যায়ে শীতকালীন খেলাধুলা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল পুলিশ কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশ জিহাদুল কবির,

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোঃ ইউনুস,বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন সহ ১০ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দরা জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অতিথিরা বক্তব্য প্রদান করেন। পরে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার বরিশাল। উদ্বোধন শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

 




ফুলের স্বর্গ রাজ্য পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি

এস এল টি তুহিন,: ফুল সৌন্দর্য ও পবিত্রতার প্রতীক। ফুলকে কে না ভালোবাসে। আর সেই ফুলের চাদরে সন্ধ্যা নদীর তীর ঘেঁষে দক্ষিণাঞ্চলের সব চেয়ে বড় ফুল ও ফলের চারার বাজার এখন সর্গ রাজ্যে পরিনত। হয়েছে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির অলঙ্কারকাঠি গ্রাম।

এ যেন রঙ বেরঙের ফুলে ফুলে মাখা সুশোভিত এক গ্রাম। চোখ ধাঁধিয়ে দেয় নানা রং-বেরংয়ের ফুল। আর এটাই এখন শুধু অলঙ্কারকাঠীর অলঙ্কার নয়, সারা দেশের অলঙ্কারে রূপ নিয়েছে। দেখে মনে হবে যেন। ফুলের রাজ্যে পরিনত পড়েছে এই গ্রামটি। সারি সারি হলুদ, টকটকে লাল, কমলা ও সাদা – রং-বেরংয়ের ফুলে ফুলে ভরে গেছে স্বরূপকাঠীর নার্সারিগুলো। যার আনন্দ অন্য কিছুর সঙ্গে মেলা ভার।

নয়নাভিরামএ ফুল দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি তার মন মাতানো সুবাস দেহমন জুড়িয়ে দেয়। শীতের মৌসুমে ফুলের চাদরে ঢাকা পড়েছে গ্রামটি। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই ফুল ও ছোট ছোট ফুল চারার সমারোহ। উপজেলার আকলম, কুনিয়ারী, সুলতানপুর, পানাউল্লাপুর, সংগীতকাঠি ও আরামকাঠিসহ ১০ থেকে ১২ টি গ্রামে বানিজ্যিকভাবে নানা প্রজাতির ফুলের চাষ হয়। অন্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভের আশায় প্রতিদিন বাড়ছে ফুলের কৃষি বাড়ছে ফুলচাষী, গ্রামের পর গ্রাম ছড়িয়ে পড়ছে ফুলের আবাদ। তবে এই অলংকারকাঠীর নার্সারিগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে আশেপাশের ইটের ভাটাগুলো সরিয়ে অন্যত্র নিতে হবে। না হলে পরিবেশ নষ্টের কারণে নার্সারির অনেক বড় তি হবে বলে মনে করেন ফুল উৎপাদন ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।

বরিশাল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে বরিশাল-বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠি সড়কের পাশেই সন্ধ্যা নদীর তীর জুড়ে অলংকারকাঠি গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চোখ ধাঁধানো এই ফুলের নার্সারিগুলো। এই অঞ্চল জুড়ে প্রায় ৩০০টির মত নার্সারি গড়ে উঠেছে। এসব নার্সারিগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ফুল এবং ফল গাছের চারা পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের চারার কলম উৎপাদন করে আসছেন নার্সারি ব্যবসায়ীরা। প্রায় দুই হাজারের মতো নারী-পুরুষ জীবিকার পথ খুঁজে পেয়েছেন এখানে। পুরুষের প্রতিদিন পারিশ্রমিক ৫০০ টাকা এবং নারীদের ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়। এছাড়া নার্সারিগুলোতে মাসব্যাপীও কাজ করেন অনেক কর্মচারী।

সরেজমিনে দেখা যায়, অলংকারকাঠী ব্রিজ থেকে উত্তর শর্ষিনা পর্যন্ত সড়কের দুইধারে সন্ধ্যা নদীর কোল ঘেঁষে কোহিনুর নার্সারি, বৈশাখী নার্সারি, আশা নার্সারি, নিরব নার্সারি, রুবেল নার্সারি, নেছারাবাদ নার্সারি, আদর্শ নার্সারি, ফারিয়া নার্সারিসহ বিভিন্ন নামের নার্সারি রয়েছে। জমে ওঠেছে ফুলের চারা বেচা-কেনা। এ অঞ্চলের তিনটি গ্রাম নিয়ে এ ফুলের বানিজ্য গড়ে উঠলেও অলংকারকাঠী নামেই বেশি পরিচিতি লাভ করেছে। এখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুল ও প্রকৃতিপ্রেমীদেরও উপচেপড়া ভীড় দেখা যায়। সামনে (১৪ফ্রেব্রুয়ারী) ভালোবাসা দিবস এবং বসন্ত উৎসবকে ঘিরে নার্সারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দ উচ্ছাস লক্ষ্য করা গেছে।

তারা আগাম ফুল সংরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নার্সারি ম্যানেজার মো.সজিব জানান, এ সকল নার্সারি থেকে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকার ফুলের চারা ও নানা প্রজাতির গাছ-গাছালির চারা দেশের বিভিন্ন স্পনে বিক্রি করা হয়। এ অঞ্চলের শত শত মানুষ তার নিজের বা সরকারি ঠিকাদারী কাজে সরবরাহের জন্য চারা কলম এবং কিনে নেন এখন থেকে। তবে শীত মৌসুমে শুধুই ফুলের চারা কলম ফুল বেচা-কেনা চলে।




সুইজারল্যান্ডের এম্বাসেডর প্রতিনিধির বরিশালে পরিদর্শন

বরিশাল অফিস :: সুইজারল্যান্ডের এম্বাসেডর প্রতিনিধি সাবিনা ইয়াসমিন লুবনা মঙ্গলবার সকালে জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি পরিষদের কার্যক্রম দেখে ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর ভূয়শী প্রশংসা করে মাহিলাড়াকে স্মার্ট ইউনিয়ন হিসেবে অভিহিত করেছেন। সকাল দশটায় প্রতিনিধিদল পরিদর্শনে আসলে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে পরিষদের হলরুমে ইউনিয়নের বিভিন্নস্তরের নেতৃবৃন্দ, জনসাধারণ ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে অপরাজিতা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন শীর্ষক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।

রূপান্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সুইজারল্যান্ডের এম্বাসেডর প্রতিনিধি সাবিনা ইয়াসমিন লুবনা, হেলবেটাস প্রতিনিধি ও অপরাজিতা প্রকল্পের পরিচালক প্রশান্ত ত্রিপুরা,

ডেমোক্রেসি ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ওয়াজেদ ফিরোজ, প্রিপ ট্রাস্টের প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী শেফালী বেগম, খান ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী ওমর খৈয়ম প্রমুখ।

 




বরিশালে ৩টি অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ৩ টি ইটভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি ২টি ইটভাটা থেকে ৭০ জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা ১০টা থেকে বিকাল ৪ পর্যন্ত এ অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী বিচারক সুলতানা সালেহা সুমী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এএইচএম রাশেদ।

তিনি জানান,‘বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ”ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন । (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯) অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

তিনি জানান, আউলিয়াপুর গ্রামে ফিক্সড চিমনির এমআরবি নামের অবৈধ ইটভাটা ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় ভাটা মালিক মো. মশিউর রহমানের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ ছাড়া কলসকাঠি ইউনিয়নের সাদিস গ্রামে অভিযান চালানো হয়। ওই গ্রামের অবৈধ যমুনা ব্রিকস এস্ককাভেটর দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইটভাটা মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই উপজেলায় মেসার্স ২ স্টার ব্রিকসে অভিযান করে অবৈধ এ ইটভাটাও গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইট ভাটার মালিকসহ সকলে পালিয়ে যাওয়ায় জরিমানা করা সম্ভব হয়নি। অভিযানে সকলে ইট ভাটার কাঁচা ইটও ধ্বংস করা হয়েছে।

এ অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, বরিশাল জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, বরিশাল ও ফায়ার সার্ভিস সহযোগিতা করেন।




চন্দ্রদীপ নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর শিকল বন্দি সেই গৃহবধুকে সুচিকিৎসার প্রতিশ্রুতি

বরিশাল অফিস :: দেশের জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল চন্দ্রদীপ নিউজ সহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দুই বছর যাবত শিকল বন্দি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের সালতা গ্রামের চার সন্তানের জননী নাজমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে সুচিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু আবদুল্লাহ খান। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারী) বিকেলে গৃহবধুর বাড়িতে গিয়ে শিকল বন্দি গৃহবধুর অবস্থা পর্যবেক্ষন করেন ইউএনও।

এসময় গৃহবধুর পরিবারের সদস্যদের তিনি (ইউএনও) বলেন, সরকারি কিংবা যেকোন উপায়ে মানসিক ভারসাম্যহীন নাজমাকে সুচিকিৎসা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে। উল্লেখ্য তিন বছর পূর্বে স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পরেন গৃহবধু নাজমা। অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় গত দুই বছর যাবত শিকল বন্দি হয়েই দিন কাটছে তার।




বরিশালে অবৈধ ইটভাটা পুড়ছে কাঠ,উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল

বরিশাল অফিস :: পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বরিশালে বাড়ছে একের পড় এক অবৈধ ইটভাটা। এমনকি কয়লা ব্যবহার করে ইট পোড়ানোর কথা থাকলেও নামেমাত্র কয়লা রেখে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ । যাতে উজাড় হচ্ছে বরিশালের বনাঞ্চল। এতে যেমন ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের, তেমনি প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্যে উপর। অভিযোগ উঠেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসব ইটভাটা চলছে। তবে তাদের দাবী জনবসংকট ও ম্যাজিস্ট্রেট সংকটে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, বরিশাল বিভাগে বৈধ ইটভাটার সংখ্যা ৪৯৫টি। আর অনিবন্ধিত ইটভাটা রয়েছে ২৩০টি। এই তথ্য নিবন্ধনের আবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তবে যারা আবেদন করেনি তারা অবৈধভাবে ইটভাটা চালালেও অবৈধ তালিকায়ও তাদের নাম নেই।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে আগে ১২টি ইটভাটা থাকলেও ২০২৪ সালে তা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে। খান ব্রিকসে সেখানে প্রকাশ্যেই পোড়ানো হয় কাঠ ও ড্রাম চুঙ্গির মাধ্যমে ইট পুরানো হচ্ছে যা পরিবেশে জন্য মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

ইটভাটা মালিক কবির হাওলাদার জানান ,পরিবেশ অধিদপ্তরকে টাকা দিলে বৈধ এবং অবৈধর পার্থক্য থাকে না। যারা ঠিকভাবে টাকা দেয় না, তাদেরকে ইটভাটা বন্ধের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু পরে যোগাযোগ করলেই আবার সব ঠিক হয়ে যায়।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) বরিশাল জেলার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট লিংকন বাইন বলেন, ‘কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরির কারণে বন উজাড় হচ্ছে। ফসলি জমি, গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশ মারাত্মভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। কিন্তু ছাড়াপত্র দেওয়ার পরে তদারকির যে দায়িত্ব রয়েছে সেটা সঠিকভাবে পালন করছে না পরিবেশ দপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এ, এইচ, এম, রাসেদ বলেন,’ আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট সংকটে কারণে অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। জেলা প্রশাসনের কাছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে পাওয়া যায় না। তাই আমরা বিভিন্ন সময় হেড অফিস থেকে ম্যাজিস্ট্রেট এনে অভিযান পরিচালনা করছি। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার।

 




এইচএসসিতে বরিশাল বোর্ডের বৃত্তি পেয়েছে ৬৬৩ শিক্ষার্থী

বরিশাল অফিস :: এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬৬৩ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হয়েছে।

সোমবার ( ২২ জানুয়ারী) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আফম বাহারুল আলম তিনি জানান, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬৬৩ জনকে বৃত্তি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ জনকে মেধা বৃত্তি ও ৬০৬ জনকে সাধারন বৃত্তি দেয়া হয়েছে। মেধা বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ২৯ জন, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৪ জন করে পেয়েছেন। সাধারন কোঠার মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৩০৩, মানবিকের ১৫২ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ১৫১ জন বৃত্তি পেয়েছেন।

তিনি জানান, বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাব খুলে জমা দিতে হবে। মেধা বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা মাসিক ৮২৫ ও এককালীন বছরে একহাজার ৮০০ টাকা কোর্সের মেয়াদ অনুযায়ী পাবেন।

তিনি আরও বলেন,সাধারন কোঠায় বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা কোর্সের মেয়াদ অনুযায়ী মাসিক ৩৭৫ টাকা ও বছরে এককালীন ৭৫০ টাকা করে পাবেন। এর মধ্যে মেডিকেল কোর্সে অধ্যয়নরতরা পাবেন ৫ বছর। কারিগরি ও কৃষি, আইন ও বিবিএ এবং ডিগ্রি সম্মান কোর্সের শিক্ষার্থীরা পাবে ৪ বছর। ডিগ্রি পাস কোর্সের শিক্ষার্থীরা পাবে ৩ বছর। একইভাবে পাবে সাধারন কোঠায় বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ওয়েব সাইটে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকা দেয়া হয়েছে।




জেলের জালে ১৪০ কেজির পাখি মাছ, ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার কলাপাড়ায় আলীপুর মৎস্য বন্দরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ৪টি পাখি মাছ (সেইল ফিশ)। পরে মাছগুলো ডাকের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

সোমবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এই মাছ চারটি নিয়ে আসেন ফারুক আকন নামের এক জেলে। পরে বন্দরের নাঈম নামের এক আড়তদার মাছগুলো ২৫ হাজার টাকায় কিনে নেন। এ সময় মাছগুলো দেখতে অনেকেই ভিড় জমান।

জেলে ফারুক বলেন, গত তিনদিন আগে মাছগুলো আমার জালে উঠে। এরপর আজকে আলীপুর এসে বিক্রি করেছি। বছরে দুই একবার এ ধরনের বড় মাছ জালে উঠে।

আড়তদার নাইম বলেন, এই মাছগুলো বেশ দ্রুত গতিসম্পন্ন তাই অনেকে পাখি নামেও চিনে। বেশ সুস্বাদু হওয়ায় এই মাছের চাহিদা অনেক। আজকের মাছ চারটির ওজন ১৪০ কেজি। ২৫ হাজার টাকায় কিনে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। আশা করছি, ভালো দাম পাব।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, মাছগুলো খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ার দেশের বাইরে এর বেশ চাহিদা রয়েছে। এর ইংরেজি নাম সেইল ফিস ও বৈজ্ঞানিক নাম Istiophorus platypterus।