ভোলায় ট্রলার ডুবির পর একজনের লাশ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: ভোলায় ট্রলার ডুবির ৮ দিন পর ছেলে পারভেক সরদারের লাশ পাওয়া গেছে। আজ দুপুর ১২টার দিকে পারভেজের লাশ নদীতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা এসে লাশ উদ্ধার করেছে। তবে বাবা আব্দুর রাজ্জাক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

উল্লেখ, গত রবিবার দিনগত মধ্যরাতে মনপুরা থেকে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে যাওয়ার পথে ট্রলারটি ইলিশা ফেরিঘাট এলাকায় প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারটিতে সাতজন শ্রমিক ছিলেন। পাঁচজন শ্রমিক উদ্ধার হন এবং আব্দুল রাজ্জাক সরদার ও তার ছেলে পারভেজ সরদার নিখোঁজ থাকেন।

পরদিন সোমবার সকাল থেকে কোস্টগার্ড, ফায়ারসার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএর যৌথ ডুবুরি টিম উদ্ধার অভিযানে নামে। দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ট্রলারটি উদ্ধার করে। তবে নিখোঁজ পিতা-পুত্রের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ট্রলার ডুবির ৮ দিন পর আজ একই এলাকায় পুত্রের লাশ ভেসে ওঠে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ইলিশা নৌ-থানার ইন্সপেক্টর বিদ্যুৎ বড়ুয়া।




কুয়াকাটা সৈকতে মদ খেয়ে মাতলামি, গ্রেফতার নেতা

বরিশাল অফিস :: কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে মদ খেয়ে মাতলামি করে পর্যটকদের শান্তি বিনষ্ট করার কারণে গ্রেফতার হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা এবিএম মুশফিকুর রহমান সজলসহ তিন জন।

শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বিকাল ৫টায় কুয়াকাটা জিরোপয়েন্টের পশ্চিম পাশে আবাসিক হোটেল সাউথ বীচের সামনের সমুদ্র সৈকত থেকে গ্রেফতার করেছে টুরিস্ট পুলিশ। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আবু সাহদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ।

তিনি বলেন, সমুদ্র সৈকত এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কতিপয় ব্যক্তি নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য সেবন করে প্রকাশ্যে মাতলামি করে পর্যটকদের এবং স্থানীয় জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট ও বিরক্তিকর আচরণ করছে। আসামিরা মাতাল হয়ে পর্যটকদের এবং স্থানীয় জনসাধারণকে মারতে উদ্ধত হয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে তিন জন যুবককে আটক করা হয়।

মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মহিপুর থানার মামলা নং ১১ তাং ২৮-০১-২৪ ধারা- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(৫)/৪১ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি ট্যুরিস্ট পুলিশ তদন্ত করছেন। আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, এবিএম মুশফিকুর রহমান(২৭) সজল থানা- মোহাম্মাদপুর, জেলা- মাগুরা৷ আমিনুল ইসলাম মুন্না(২৭) থানা-কোতয়ালী, জেলা-বরিশাল৷ ফাহিম হোসেন (২৪) কোতোয়ালি, জেলা- বরিশাল।

গ্রেফতারকৃত দুইজন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এবিএম মুশফিকুর রহমান সজল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী ও স্বঘোষিত ছাত্রনেতা। তার নামে এর আগে দুটি মামলা রয়েছে। ফাহিম হোসেন একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।




বরিশালে ঘরের কাছে স্মার্ট স্বাস্থ্য সেবা

এস এল টি তুহিন, বরিশাল:: যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন সন্তানসম্ভবা শাবনুর আক্তার। তার স্বামী হৃদয় মিয়া কী করবেন, বুঝতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে শাবনুরের শাশুড়ি খোদেজা বেগম তার পুত্রবধূকে নিকটস্থ পশ্চিম বেজহার কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) গায়ত্রী রানী পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, শাবনুরের এটি প্রসবব্যাথা নয়; এটি গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা। এরপর তিনি শাবনুরকে কিছু ওষুধ দিয়ে বাড়ি যেতে বলেন। সেই ওষুধ খাওয়ার পরেই শাবনুরের ব্যাথা কমে আসে।

ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পশ্চিম বেজহার গ্রামের। গ্রামের অসংখ্য নারী গর্ভকালীন বিভিন্ন ধরনের ব্যাথাকে প্রসবব্যাথা বলে মনে করলেও আসলে তা প্রসবব্যাথা নয়। তা ফল্স পেইন। যেমনটি শাবনুরের বেলায় ঘটেছে। এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকেও স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টিসেবা দেওয়া হচ্ছে। সেইদিনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে শাবনুর আক্তার বলেন, সাধারণত কোন হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে যেকোন সমস্যা নিয়ে গেলে প্রথমেই চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষার করাতে দিয়ে থাকেন। ওই পরীক্ষা করাতে গিয়েই রোগী প্রথমপর্যায়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এরপর চিকিৎসকদের ভিজিট দেওয়ার পরে দেখা যায় সাধারণ রোগীরা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধই ক্রয় করতে পারছেন না। সেখানে পুরোটাই উল্টোচিত্র কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে। এখান থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আমরা যেকোন ধরনের সাধারণ রোগের চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ পাচ্ছি। অথচ কিছুদিন পূর্বেও ছোটখাটো রোগের চিকিৎসা নিতে উপজেলা সদরের সরকারি হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি ক্লিনিককে যেতে হতো। যা এখন আর লাগে না। বর্তমানে হাতের কাছে ও ঘরের পাশে স্মার্ট কমিউনিটি ক্লিনিক বদলে দিয়েছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠির স্বাস্থসেবার মান। প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপথে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে অসহায় সাধারণ মানুষের জীবনে এনে দিয়েছে স্বস্তি। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় যে উন্নতি সাধন করেছে, তাতে কমিউনিটি ক্লিনিকের বড় ভূমিকা রয়েছে।

ভীমেরপাড় কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা অন্তঃসত্ত্বা মাসুদা বেগম বলেন, এ ক্লিনিকটি থাকায় আমরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাচ্ছি। একইসাথে আমাদের বেশ কয়েক ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। যারমধ্যে রয়েছে ৩০টি আয়রন ট্যাবলেট, ৩০টি ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ট্যাবলেট ও ৩০টি ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট। মাসুদা বেগম আরও বলেন, আমার স্বামী দিনমজুর। সংসারে অর্থ কষ্ট রয়েছে। সন্তান প্রসব নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। বিনামূল্যে ওষুধ ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়ে বর্তমানে আমরা অনেকটা চিন্তা মুক্ত হয়েছি।

পশ্চিম বেজহার কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি গায়ত্রী রানী ও ভীমেরপাড় কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আশীষ কুমার বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মাতৃত্বকালীন পাঁচটি বিপদের আশঙ্কা, গর্ভবর্তী মায়ের স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি মায়ের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা এবং মা ও শিশুর শারীরিক যত্নসহ স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন সুবিধা পাচ্ছেন গ্রামীণ জনপথের নারীরা। সিএইচসিপি গায়ত্রী রানী বলেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ জন করে রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।

এরমধ্যে সাধারণ রোগী সেবা, বাচ্চাদের শুন্য থেকে পাঁচবছর পর্যন্ত সেবা, গর্ভবতী মায়েদের ডেলিভারী সেবাসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সেবা রয়েছে। সিএইচসিপি আশীষ কুমার বলেন, বর্তমানে বিনামূল্যে ২৭ প্রকারের ওষুধ বিতরণ করা হয়। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত এসব স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। আর রোগীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সবধরনের পরামর্শমুলক স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারী প্রত্যেকে ন্যূনতম তিন দিন কমিউনিটি ক্লিনিকে উপস্থিত থেকে সেবাদান করেন। তিনি আরও বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকে গ্রামীণ মানুষের চাহিদা অনুযায়ী বিনামূল্যে স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টিসেবা দেওয়া হয়। ক্লিনিকের নারীরা প্রসবপূর্ব (গর্ভকালীন), প্রসবকালীন ও প্রসব-উত্তর (প্রসবের পরবর্তী ৪২ দিন) অত্যাবশ্যকীয় সেবা প্রদান করেন। সদ্য প্রসূতি মা (ছয় সপ্তাহের মধ্যে) এবং শিশুদের (বিশেষত মারাত্মক পুষ্টিহীন, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া ও হামে আক্রান্ত) ভিটামিন-‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হয়। এছাড়াও নারী ও কিশোরীদের রক্তশূন্যতা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ দেওয়া হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকে শিশুদের প্রতিষেধক এবং ১৫-৪০ বছর বয়সী নারীদের ধনুষ্টংকারের টিকা দেওয়াসহ ১৫ বছরের কম বয়সের শিশুদের মধ্যে সন্দেহজনক এএফপি (হাত-পা বা যেকোনো অঙ্গ হঠাৎ অবশ হওয়া বা দুর্বল হওয়া) শনাক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

নবজাতকের অত্যাবশ্যকীয় সেবাদানসহ আগ্রহী নারীদের আই.ইউ.ডি স্থাপন, প্রথম ডোজ গর্ভনিরোধক ইনজেকশন প্রদান এবং জন্মনিরোধকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সংকট, বেতন বন্ধসহ প্রজেক্টের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে কাজ করা সিএইচসিপিসহ অন্যান্যরা প্রতিনিয়ত চাকরির অনিশ্চয়তার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক কাজ করছে। বিশেষ করে প্রত্যন্তগ্রামাঞ্চলের সবার কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রধান ভূমিকা রাখছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম এই উদ্যোগ গ্রামাঞ্চলে এখন ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। ক্লিনিকগুলোতে আন্তরিক পরিবেশে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সম্পূর্ণ সরকারিভাবে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্রমতে, সম্প্রতি সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও কমিউনিটি ক্লিনিক সহায়তা ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বরিশালের বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করেছেন। ওইসময় তিনি কমিউনিটি গ্রুপ ও কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপের নিয়মিত সভা আয়োজন বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কর্মীদের নানা দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

পরবর্তীতে তিনি বরিশাল বিভাগের সকল সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেছিলেন, স্মার্ট কমিউনিটি ক্লিনিক হচ্ছে প্রান্তিক জনগণকে স্মার্ট করা। আমাদের মূল পিলার হচ্ছে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। যিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পর এবার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ব্রত গ্রহণ করেছেন।

সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী আরও বলেছেন, বিশ্বের অনেক দেশই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখানো পথে কমিউনিটি ক্লিনিকের আদলে তাদের নিজ নিজ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্টির জন্য স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীদের ক্ষমাতয়ন করেছেন উল্লেখ করে ডাঃ মোদাচ্ছের আলী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীদেরও কমিউনিটি ক্লিনিকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এতে করে নারীরা একদিকে যেমন অর্থ উর্পাজন করতে সক্ষম হয়েছেন, তেমনি ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলার ২৭৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সর্বমোট প্রায় ৩ লাখ ৬৩ হাজার পুরুষ, ৮ লাখ ৫ হাজার নারী এবং ৯০ হাজার ৩শ’ শিশুকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানসহ বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পরিবার-পরিকল্পনা ও পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দেশে অন্তঃস্বত্ত্বা মা ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস পেয়ে মানুষের গড় আয়ুবৃদ্ধি পেয়েছে। সচেতন নাগরিক কমিটির বরিশাল জেলার সদ্য সাবেক সভাপতি প্রফেসর শাহ্ সাজেদা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের সুফল প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় ঝাড়-ফোক-তাবিজ-কবিরাজি ইত্যাদি অপচিকিৎসা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামের মানুষ এখন বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে অবহেলিত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।

বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মারিয়া হাসান বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা নারী ও শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। এসব রোগীরা মুলত গর্ভবর্তী মায়ের স্বাস্থ্যসেবা, শিশু স্বাস্থ্য ও সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন। বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ পেয়ে সাধারণ মানুষ খুব খুশি। গ্রামীণ জনপদের দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ছয়টি জেলার ৪২টি উপজেলার ৩৫২টি ইউনিয়নের পল্লী অঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক। বরিশাল, ঝালকাঠী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শতভাগ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করেছে এক হাজারেরও বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের এখন আর অপচিকিৎসার শিকার হয়ে অকালে প্রাণ দিতে হচ্ছেনা। তাই এ অঞ্চলের প্রায় এক কোটি বাসিন্দাদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রথমস্থান হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক।

সূত্রে আরও জানা গেছে, বিভাগের ছয় জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৩১টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। এরমধ্যে বরিশালে ২৭৫টি, ভোলায় ২১১টি, পটুয়াখালীতে ১৮৪টি, পিরোজপুরে ১৫৪টি, বরগুনায় ১২০টি ও ঝালকাঠীতে ৮৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এ ছাড়া বিভাগের জন্য আরো ১২৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হবে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন।




প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সোনার বাংলা গড়ার। সেই স্বপ্ন তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। কিন্তু একটি স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভিত তিনি রচনা করে গিয়েছেন যে ভিতের উপরে ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

রবিবার(২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে ৯৯ তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর কোন দরিদ্র তম জনগোষ্ঠী দেশ না,বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ, ২০৩০ সালে আমরা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ ও ৪১ সালের ভিতরে সমৃদ্ধশালী ও স্মার্ট বাংলাদেশ লক্ষে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তার সাথে যুক্ত হয়ে বাংলার ১৭ কোটি মানুষকে আপামর জনগণকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে আমার আশা এই কার্যক্রমে বরিশালের মেয়েরাও এগিয়ে থাকবে। তোমাদের উপরে নির্ভর করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে তোমাদের মত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী প্রয়োজন।

 

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আঞ্চলিক উপ-পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন, বরিশাল শিক্ষা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মহবুবা হোসেনসহ অন্য অন্যরা।

শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অতিথিরা। জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দরা সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা করেন।

পরে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জাহিদ ফারুক শামীম এমপি। উদ্বোধন শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।




বরিশালে কম্বিং অপারেশন

বরিশাল অফিস ‘: বরিশালের নদ-নদীতে অবাধে শিকার হচ্ছে ইলিশের পোনা” শিরোনামে গত ২৭ জানুয়ারি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারই ধারাবাহিকতায় মৎস্য অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার আড়িয়াল খাঁ, সন্ধ্যা ও সুগন্ধা নদীতে বিশেষ কম্বিং অপারেশন চালিয়ে ৩৮টি বেহুন্দী, ২০ হাজার মিটার কারেন্ট এবং একটি মশারি জালসহ মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করেছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত বিশ্বাস দাস, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইলিশ বিমল চন্দ্র দাস ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমের নেতৃত্বে রোববার  সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কম্বিং অপারেশনে র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাবুগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, যৌথভাবে কম্বিং অপারেশনে জব্দ করা নিষিদ্ধ জালসহ মাছ ধরার অন্যান্য সরঞ্জামাদি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




মহৎ কাজের জন্য নিজেকে করেছেন উৎস্বর্গ, মৃত্যুর পর পেয়েছেন খেতাব

বরিশাল অফিস :: নির্যাতিত-নিপীরিত, শোষিত-অনুন্নত, শিক্ষা-দীক্ষায় পশ্চাদপদ, সামাজিকভাবে অবহেলিত, দরিদ্র-অর্থক্লিষ্ট ও রাজনৈতিক অধিকার বঞ্চিত মানুষের সার্বিক উন্নয়ন এবং অধিকার আদায়ের জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল।

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর সাথে তার ছিলো গভীর সম্পর্ক। অবিভক্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রী সভার সমবায় ও ঋণদান মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী সোহয়ারর্দীর মন্ত্রী সভার বিচার ও পূর্ত মন্ত্রী, ভারতের অন্তবর্তী কেন্দ্রীয় সরকারের আইনমন্ত্রী এবং পাকিস্তান সরকারের আইন ও শ্রম মন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল।

তিনিই প্রথম সাশনতান্ত্রিক সভার সভাপতিত্ব করেছেন। এছাড়াও অবিভক্ত ভারত বাংলা প্রদেশের সাধারণ আসন বরিশালের বৃহত্তর বাকেরগঞ্জের পূর্ব-উত্তর এলাকায় ভোটের মাধ্যমে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল নির্বাচিত প্রথম এমএলএ। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মৈস্তারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল আজীবন লড়াই সংগ্রাম করে নিজেকে উৎস্বর্গ করে দিয়েছেন। যেকারণে তার মৃত্যুর পর ভারত সরকার তাকে “মহাপ্রান”র খেতাবে ভূষিত করেছেন। এ মহাপ্রান ব্যক্তির ১২০তম জন্মজয়ন্তী উৎসব সোমবার (২৯ জানুয়ারি)। এ উপলক্ষে গৌরনদীর মৈস্তারকান্দি গ্রামের “মহাপ্রান যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল স্মৃতি পরিষদ”র উদ্যোগে ব্যাপক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

স্মৃতি পরিষদের সংগঠক ডাঃ মনতোষ সরকার জানান, মহৎ কাজের জন্য যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল আজীবন লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন। তাইতো তিনি তার একটি বাণীতে লিখেছিলেন- “যদি আজ কেহ নিশ্চিত করিয়া বলিতে পারে যে, আমার জীবনের বিনিময়ে আট কোটি তফসিলীর সার্বভৌম মুক্তি আসিবে। তবে আমি সে মৃত্যুকে তিলে তিলে বরণ করিতে পারিবো। যদি সমুদ্রে ঝাঁপ দিলে অথবা জলন্ত অগ্নিকুন্ডে আমাকে নিক্ষেপ করিলে সে মুক্তি মেলে, তবে আমি দুর্বার আকাক্সক্ষা লইয়া তাহাতেই ঝাঁপাইয়া পড়িব।

মহাপ্রান যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল স্মৃতি পরিষদের ইতিহাস ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মজিদ জানান, ১৯০৪ সালের ২৯ জানুয়ারি মৈস্তারকান্দি গ্রামের কৃষক রাম দয়াল মন্ডল ও সন্ধ্যা দেবীর ঘর আলোকিত করে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল জন্মগ্রহন করেন। ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। স্থানীয় বালাবাড়িতে গ্রাম্য পাঠশালার মাধ্যমে তার বাল্য শিক্ষার জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে চতুর্থ শ্রেনীতে বার্থী তাঁরা ইনষ্টিটিউশনে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯২৪ সালে প্রবেশিকা (মেট্রিকুলেশন) পাশ করেন। ওই বছরেই বরিশাল বিএম কলেজে আইএ ভর্তি হন। ১৯২৬ সালে আইএ ও ১৯২৯ সালে বিএ পাশ করেন। ১৯৩৪ সালের জুলাই মাসে কোলকাতা আইন কলেজ থেকে এলএলবি পাশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৩৬ সালে প্রথমে কোলকাতায় ও একই বছরে বরিশালে আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত ভারতের আইনসভার একটি মাত্র সাধারণ আসনে তফসিলী জাতির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল এমএলএ নির্বাচিত হন। এরপর তিনি নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রী সভার সমবায় ও ঋণদান মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে পূর্ণরায় এমএলএ নির্বাচিত হয়ে সোহয়ারর্দীর মন্ত্রী সভার বিচার ও পূর্ত মন্ত্রীর গুরু দায়িত্ব পালন করেন। শেষভাগে অবিভক্ত ভারতের অন্তবর্তী কেন্দ্রীয় সরকারের আইনমন্ত্রী হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর সাথে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছিলো গভীর সম্পর্ক।

সবশেষে সোহয়ারর্দীর অনেক অনুরোধের পর ১৯৪৭ সালে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী সভার আইন ও শ্রম মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই (যোগেন্দ্রনাথ) প্রথম সাশনতান্ত্রিক সভার সভাপতিত্ব করেছেন। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫০ সালে দেশের রায়ট শেষে তিনি (যোগেন্দ্রনাথ) রায়ট উপদ্রত্য অঞ্চল পরিদর্শন করেন। একপর্যায়ে তিনি তার স্ব-জাতি, অনুন্নত জনসাধারনের জানমাল ও অধিকার রক্ষায় ব্যর্থতা প্রকাশ করে রাজধানী করাচীতে ফিরে মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। কিন্তু তার এ পদত্যাগের বিষয়টি কোন ভাবেই মেনে নিতে রাজি হননি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান। একপর্যায়ে বীরের বেশে পাকিস্তান থেকে ট্রেনযোগে ভারতে প্রত্যাবর্তন করেন মন্ত্রী যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল। ভারতে ফিরে তিনি আট পৃষ্টায় কারণ উল্লেখ করে মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করে পাকিস্তান সরকারের কাছে পদত্যাগপত্র প্রেরন করেন। তৎকালীন সময়ে ভারতের বিভিন্ন পত্রিকায় এ রির্পোটটি ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছিলো। পরবর্তী সময়ে শরনার্থীদের কল্যাণেবিভিন্ন সংগঠন তৈরি করে তার পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল। ১৯৬৮ সালে ভারতের চব্বিশ পরগনার স্ব-জাতি বন্ধুর বাড়িতে খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পরেন তিনি। তড়িঘড়ি করে ভারতে ফেরার পথিমধ্যে মহাপ্রনয়ন ঘটে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের। চব্বিশ পরগনার গোবরডাঙ্গা এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়েছে। তার মৃত্যুর পর ভারত সরকার তাকে (যোগেন্দ্রনাথ) মহাপ্রানের খেতাবে ভূষিত করেন। সূত্রমতে, মহাপ্রান যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের একমাত্র ছেলে জগদ্বীশ মন্ডল (৮৮) পরিবার-পরিজন নিয়ে ভারতেই বসবাস করছেন। মহাপ্রান যোগেন্দ্রনাথের জন্মভূমিতে এখন তার পৌত্রদ্বয় (নাতীরা) বসবাস করন।

যোগেন্দ্রনাথের বড়ভাই মহানন্দ মন্ডলের ছেলে দেবেন্দ্রনাথ, তার ছেলে দ্বিজেন্দ্রনাথ মন্ডল ওরফে ঝন্টু ও প্রদ্বীপ কুমার মন্ডল ওরফে মন্টু তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মৈস্তারকান্দি গ্রামে বসবাস করছেন। দিনমজুরের কাজ করেই চলছে ঝন্টু ও মন্টুর সংসার।

জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে মহাপ্রান যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে স্থানীয় সেবা আশ্রম প্রাঙ্গনে সোমবার সকালে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ, মহাপ্রান যোগেন্দ্র নাথ মন্ডলের প্রতিকৃতিতে পূস্পার্ঘ অর্পন ও মাল্যদান, শ্রীমদভগবত গীতা পাঠ, দুপুরে ভক্তি গীতির অনুষ্ঠান, মহাপ্রান যোগেন্দ্র নাথ মন্ডলের জিবনী ও সংগ্রামী কার্যক্রমের ওপর আলোচনা সভা এবং কবি গানের আয়োজন করা হয়েছে।

 




দশমিনায় গরীবের সরকারি চালে উকিল, ব্যবসায়ী, চালের ডিলারের ভাগ!

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলার দশমিনায় গ্রামীণ নারীদের চরম দরিদ্র অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অসচ্ছল, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তদের দুই বছর মেয়াদে মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার চূড়ান্ত তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভিডব্লিউবি চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন আটকে দিয়েছেন।

বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব ফেজবুক পেজে ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ নামের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত নামের তালিকা ধরে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অসচ্ছলদের পরিবর্তে উকিল, ব্যবসায়ী, চালের ডিলার, সাংবাদিক এবং স্বচ্ছল পরিবারসহ প্রভাবশালীদের নাম ভিডব্লিউবি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, প্রতি বছরের মতো ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) কর্মসূচি ১ জানুয়ারি থেকে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ। এ বছর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভিজিডি কার্যক্রমের নাম পরিবর্তন করে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) করেছে। দশমিনা উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার ৮৭২টি ভিডব্লিউবি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ ৩ হাজার ৮৭২টি নাম যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা করেন। পরে তা অনুমোদনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়।

নিয়ম অনুযায়ী আগের বছর কোনো ব্যক্তি সুবিধা নিলে ও সচ্ছল কোনো পরিবার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন না। কিন্তু দশমিনায় বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। ওই তালিকায় উকিল, সাংবাদিক, জুয়েলারি ব্যবসায়ী এবং চালের ডিলারসহ প্রভাবশালী ও অধিকাংশ ধনী পরিবারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত অসচ্ছল এবং দুঃস্থ নারীরা।

ভিডব্লিউবি তালিকায় অনিয়ম থাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনুমোদন না দিয়ে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আটকে দেয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া হলে এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে।

সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিপন কর্মকার বলেন, ‘কেউ মারা গেলে বা এলাকা ছেড়ে চলে গেলে তখন আমরা কী করবো। এ কারণে আমাদের অতিরিক্ত কিছু নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। তাই আমার ভাই এবং নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছি।’

দশমিনা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ইকবাল মাহামুদ লিটন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য উপজেলায় পাঠিয়েছি। এ তালিকায় এদের নাম আসলো কীভাবে, তা আমার বোধগম্য নয়।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, ‘পরিপত্র মেনে যাচাই-বাছাই করার বিষয়ে আমি জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের বলেছি। টাকা লেনদেনের বিষয়ে সতর্ক করেছি বিভিন্ন উঠান বৈঠকে ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপরও অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি বঞ্চিতদের নেওয়া ও অযোগ্যদের বাদ দিতে। যারা অনিয়ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




পটুয়াখালীতে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে হচ্ছে শহীদ মিনার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী পৌরসভায় ভাষা শহীদদের স্মরণে ও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নির্মিত হচ্ছে শহীদ মিনার। ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৭ টাকা ব্যয়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে নির্মিত এটি।

জানা যায়, পটুয়াখালী পৌরসভার মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্তকরণসহ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শেখ রাসেল শিশু পার্কের পশ্চিম পাশে এটি নির্মিত হচ্ছে। পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে একটি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ মিনারটি নির্মিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ।

আসছে একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মুক্ত মঞ্চ ও উদ্যানসহ শহীদ মিনার উন্মুক্ত করা হবে জানিয়ে মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, প্রায় ১০ একর জমি জুড়ে জেলা উদ্যানলী, মুক্ত মঞ্চ এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে নকশা প্রণয়নে কাজের ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন আরজু জানান, সরকারের উল্লেখিত অর্থায়নে পটুয়াখালী পৌরসভার বাস্তবায়নাধীন শহীদ মিনারটি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে করা হলেও এটি হবে আরো উন্নত ও দৃষ্টিনন্দন। এটি হবে দেশের অদ্বিতীয় শহীদ মিনার। এটি দেখতে দেশ-বিদেশের লোকজন আসবে বলে বিশ্বাস করেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন আরজু।




যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বাড়ছে পটুয়াখালীর মৃৎ শিল্পের বাজার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): দেশের সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পের একটি মৃৎ শিল্প। এক সময় রাজশাহী, ফরিদপুর, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর কারিগরদের রাজত্ব ছিল একচেটিয়া। তাদের তৈরি নানা তৈজসপত্র ছিল বাংলার সংস্কৃতির অংশ, যা আজ মৃতপ্রায়। তবে কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী সে শিল্পকে বংশপরম্পরায় এখনো আঁকড়ে রেখেছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মৃৎশিল্পীরা। তাদের তৈরি পণ্য দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রফতানিও হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোয় বাড়ছে এর বাজার।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন অসংখ্য মৃৎশিল্পী। এলাকাগুলো পরিচিত পালপাড়া নামে। এর মধ্যে মদনপুরা ইউনিয়নের পালপাড়ায় গিয়ে জানা যায়, মৃৎ শিল্পের জন্য প্রায় শতবছর ধরে এলাকাটি সর্বত্র পরিচিত। একসময় এখানকার তৈরি মাটির খেলনা ও তৈজসপত্র বিক্রি হতো গ্রামীণ বৈশাখী মেলায়। প্রযুক্তির উৎকর্ষ আর নকশার আধুনিকতায় পরে এর বাজার ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকায়ও। এখন আর শুধু খেলনা নয়, মাটির তৈরি ফুলদানি, ডিনার সেট, কাপ-পিরিচ, মগসহ বিভিন্ন শো-পিস তৈরি হয় পালপাড়ায়; যার বাজার রয়েছে দেশের বৃহৎ হস্ত ও কারুশিল্প ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আড়ংসহ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে বিদেশের বাজারেও।

বাউফল পৌর শহরের বলরাম পালের ছেলে কমল পাল। বংশপরম্পরায় বাপ-দাদার পেশা মৃৎ শিল্পের হাল ধরেছেন। তার অধীনে কাজ করছেন অনেক কারিগর। প্রতিদিন সকাল থেকেই নানা মৃৎপণ্য তৈরির কাজে লেগে পড়েন তারা।

মাটি মোল্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কার্যক্রম। পরে মাটির পরিমাপ, পণ্যের রূপ, নকশা, পলিশ ও রোদে শুকানোর পর তুলির আঁচড়ে রাঙিয়ে তোলা হয়। বাজারজাত করতে সবশেষ চলে প্যাকেজিং। শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি মৃৎপণ্য এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জাপানসহ মোট ২৪টি দেশেও রফতানি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী কমল পাল জানান, তিনি প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকার পণ্যসামগ্রী বিক্রি করেন। বাজারে পুরনো জিনিসের কদর না থাকায় এখন তৈরি করেন সব আধুনিক সামগ্রী, যার বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তিনি ব্যবসার পরিধি বড় করতে পারছেন না বলে জানান।

জানা যায়, বাউফলে চার শতাধিক মৃৎ শিল্প পণ্যের দোকান বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব মিলে প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকার সামগ্রী বিক্রি করা হয়। আর কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচ হাজার নারী-পুরুষের। তবে পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকই বেশি। বর্তমানে বিভিন্ন উপকরণের দাম, পুঁজি সংকট, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অভাব-অনটনের মধ্যে দিনযাপন করছে মৃৎ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক পরিবার। অনেকেই এ পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়।

এছাড়া কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করায় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। অনেক ব্যবসায়ী আবার ঋণের বোঝা বইতে না পেরে ব্যবসাই গুটিয়ে নিচ্ছেন। তাই মৃতপ্রায় এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন কারিগররা। সহজ শর্তে ঋণ বা প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন আগের মতো মাটি সংগ্রহ করতে পারছেন না মৃৎ শিল্প ব্যবসায়ীরা। ফলে বেশি টাকা খরচ করে মাটি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মাঝে মাঝে উৎপাদিত জিনিসপত্র বিক্রি করতে গিয়ে তাদের লোকসান গুনতে হয়। আবার বর্তমান বাজারে মাটির জিনিসপত্রের স্থান দখল করে নিয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিক পণ্য। তাই ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক আলমগীর সিকদার।

তিনি বলেন, ‘কালের আবর্তনে বাজারে পুরনো জিনিসের কদর না থাকায় কারিগররা এখন আধুনিক সব সামগ্রী তৈরি করায় বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। বিদেশেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই ব্যবসার পরিধি বাড়াতে মৃৎ শিল্প ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় উদ্যোগ নেয়া হবে।’




জেসিআই ঢাকা সেন্ট্রালের উদ্যোক্তা তৈরীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

চন্দ্রদীপ নিউজ :: বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে জেসিআই ঢাকা সেন্ট্রাল আয়োজন করতে চলেছে একটি ব্যতিক্রমী ও অনন্য উদ্যোগ University Entrepreneur Award & Expo-2024. এই উদ্যোমী উদ্যোগটি গ্রহন করেন জেসিআই ঢাকা সেন্ট্রালের ভাইস প্রেসিডেন্ট 2023 সাদাত শাহ আল মুইজ।

এই বিশেষ আয়োজনে সংস্থাটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোক্তা হিসেবে উৎসাহিত করতে, তাদের পাশে থাকতে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করেছে।

আয়োজন সম্পর্কে জেসিআই ঢাকা সেন্ট্রালের ভাইস প্রেসিডেন্ট 2023 সাদাত শাহ আল মুইজ বলেন, “দেশে প্রতিবছর প্রায় ২২ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করেন। বিদেশে পাঠিয়ে, সরকারি-বেসরকারি চাকরি দিয়ে এবং নানা অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার পরও প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ তরুন প্রজন্ম নিজেদের জন্য একটি শোভনীয় কাজের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খান। বলা বাহুল্য, এই ২২ লাখ তরুণের ১০ শতাংশকেও যদি উদ্যোক্তাতে পরিণত করা যায়, তাহলে তাঁরাই বাকিদের কর্মসংস্থান করতে পারবেন।”

আগামী মাসের ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই প্রোগ্রামের আওতায় ১০ জন ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোক্তা নির্বাচন এবং তাদের উদ্যোগগুলোর সমৃদ্ধি অর্জনে তাদের পাশে দাড়াবে সংস্থাটি।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের কর্পোরেট গভর্নেন্স এবং প্রসেস ডিজিটালাইজেসন ডিপার্টমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আহমাদ জাওয়াদ বলেন, “বর্তমানে তরুণদের মধ্যে যে প্রবণতা দেখা যায় তাতে তরুণরা পূর্ববর্তী প্রজন্মের কর্মীদের মত সীমাবদ্ধ পরিসরে কাজ করতে চায় না। তারা নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপান্তরিত করতে চায় দেশ বা গন্ডির সীমানা ছাড়িয়ে। সে লক্ষ্যে University Entrepreneur Award & Expo 2024 হবে তাদের স্বপ্নকে বাস্তবতা দেওয়ার প্রয়াস।

উদ্যোগটির এনগেজম্যন্ট পার্টনার হিসেবে থাকছে উদ্যোক্তা-মেলা ফেইসবুক কমিউনিটি। প্রায় ৬ হাজার মেম্বার বিশিষ্ট কমিউনিটি গ্রুপটি তাদের পাশে কাধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার বিষয়ে ইতিমধ্যেই একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এই কমিউনিটির এডমিন সামী মাহমুদ খান বলেন, “দেশের অর্থনীতিকে সচল এবং সতেজ রাখতে রাখতে উদ্যোমী আত্মবিশ্বাসী উদ্যোক্তার প্রয়োজন। আর এই উদ্যোমী উদ্যোক্তা তৈরীই হবে এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য।”

প্রাথমিকভাবে ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়কে এই কর্মসূচির আওতায় আনতে কাজ করছে তারুন্য নির্ভর এই সংস্থাটি। ধীরে ধীরে এর পরিধি বৃদ্ধি করা হবে।

ইভেন্ট কোর কমিটি এর তত্ত্বাবধানে ৪ মাস ব্যাপি সম্পাদন করা হবে যাদের মধ্যে অন্যতম জেসিআই ঢাকা সেন্ট্রালের ভাইস প্রেসিডেন্ট 2023 এবং ইভেন্ট ডিরেক্টর সাদাত শাহ আল মুইজ, এক্সিকিউটিভ এ্যাসিস্টেন টু লোকাল প্রেসিডেন্ট এবং ইভেন্ট কোনভেনর নায়না ইসলাম অরনি, ভাইস প্রেসিডেন্ট ২০২৪ এবং কো-কনভেনার মোস্তফা কামাল কনক,ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর আব্দুর রাহমান সাজিদ,ইভেন্ট উপদেষ্টা মন্ডলির মধে্ অন্যতম জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) এর লোকাল চ্যাপ্টার ঢাকা সেন্ট্রালের লোকাল প্রেসিডেন্ট ২০২৪ খসরু আহমেদ রনি, রবি আজিয়াটা লিমিটেডের কর্পোরেট গভর্নেন্স এবং প্রসেস ডিজিটালাইজেসন ডিপার্টমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আহমাদ জাওয়াদ সহ অনেকেই প্রশাসনিক দক্ষতা সহ উদ্যোগের সফল পরিচালনায় নিরবত যোগ দিয়েছেন।

ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে থাকছে ইভেন্টর বাংলাদেশ এন্ড পাওয়ার্ড বাই সেলস মেশিন এছাড়াও ইউ এস বাংলা গ্রুপ, পোলার আইসক্রিম সহ স্বনামধন্য বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।

পুরো আয়োজনটির আইটি সাপোর্টের জন্য আয়োজনের সাথে থাকবে ই-লার্নিং প্লাটফর্ম EX-3 একাডেমি।

উল্লেখ্য, জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী উদ্যমী তরুণদের একটি সংগঠন। জেসিআই সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির সেন্ট লুইসে অবস্থিত। ১২০টিরও বেশি দেশে এর কার্যক্রম রয়েছে এবং সারা বিশ্বে এর সদস্য সংখ্যা দুই লাখের বেশি। বাংলাদেশে জেসিআইয়ের প্রায় ৪০টি লোকাল চ্যাপ্টার কাজ করছে যার মধ্যে জেসিআই ঢাকা সেন্ট্রাল অন্যতম।