জনবল সংকটে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ

বরিশাল অফিস :: উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর মানুষের উন্নত চিকিৎসার একমাত্র প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠানটি আগের ২৫০ শয্যা হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল দিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবার কার্যক্রম। অথচ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে মঞ্জুরকৃত পদ রয়েছে, তার অধিকাংশ পদই খালি। আর এর মধ্যে সব থেকে বেশি খালি রয়েছে চিকিৎসকদের পদ। এ ছাড়া তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির পদে জনবল সংকট চরমে। মামলা জটিলতার কারণে মাস্টাররোলেও জনবল নিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসকদের ৫৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ চিকিৎসক, বাকি ৩৫ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন যাবৎ খালি। একই অবস্থা অন্যান্য পদেও।

 

হাসপাতালে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণি মিলিয়ে সর্বমোট ৩৩০টি পদ থাকলেও এর মধ্যে ১০৩টি পদ দীর্ঘদিন যাবৎ খালি রয়েছে।

 

হাসপাতালে চিকিৎসকদের যে সব পদ খালি রয়েছে তার মধ্যে আছে সহকারী পরিচালক, সিনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (ইএনটি), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেস্থেশিয়া), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (চক্ষু), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (চর্ম ও যৌন), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি), সিনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (রেডিওলজি ও ইমেজিং), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (প্যাথলজি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (চর্ম ও যৌন), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন), আবাসিক ফিজিশিয়ান, আবাসিক সার্জন, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, অ্যানেস্থেসিস্ট (তিনজন), প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, মেডিক্যাল অফিসার, সহকারী রেজিস্ট্রার (সাতটি), ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার (চারটি) ও ডেন্টাল সার্জন (একটি)।

এ ছাড়া সেবা তত্ত্বাবধায়কের একটি, উপসেবা তত্ত্বাবধায়কের একটি, পরিসংখ্যান কর্মকর্তার একটি, নার্সিং সুপারভাইজারের দুটি, সিনিয়র স্টাফ নার্স/স্টাফ নার্স চারটি, সহকারী নার্স তিনটি, সহকারী হিসাবরক্ষক একটি, অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর একটি, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ফার্মা) একটি, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) একটি, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিও), মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ফিজিওথেরাপি), মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (বায়োকেমিস্ট), মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইসিজি) তিনটি, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (অ্যানেস্থেসিয়া) তিনটি, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ডায়ালাইসিস) তিনটি, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (বায়োমেডিক্যাল) তিনটি, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইকো) তিনটি এবং কার্ডিওগ্রাফারের দুটি পদ খালি রয়েছে।

 

প্রতিদিন হাজারের অধিক রোগী চিকিৎসা নেয় এখানে। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হলেও ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জনবল দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে। যে কারণে হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পয়োনিষ্কাশনের চিত্র অত্যন্ত ভঙ্গুর। বাথরুমগুলো ব্যবহারের অযোগ্য। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনায় পুরো হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা হুমকিতে ফেলেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগীরা আরও অসুস্থ হচ্ছে।

এরপরও ২৫০ শয্যা হাসপাতালের যে জনবল বরাদ্দ আছে তারও অধিকাংশ পদ খালি। প্রতি মাসে আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করে চিঠি দিয়েছি। ২৫০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসকদের যে পদগুলো আছে, সব পদে চিকিৎসক থাকলে কিছুটা হলেও কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়া সম্ভব হতো। এ ছাড়া হাসপাতালের ক্লিনার, সুইপারের যেসব পদ রয়েছে, সেসব পদেও কর্মচারী না থাকায় হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এমনিতে বিপুলসংখ্যক রোগী, এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রোগীর আত্মীয়-স্বজন। সব মিলিয়ে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের সমাগাম হচ্ছে। ফলে এত মানুষের সৃষ্ট ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করাও এখন বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 




চাচার সঙ্গে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বরিশাল অফিস :: চাচার সঙ্গে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ফাহিম (১৫)

ভোলার বোরহানউদ্দিনে চাচার সঙ্গে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফাহিম (১৫) নামের এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মালামাল জব্দ করে থানায় নিয়ে গেছে। তবে ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীর চাচা শাহীন আত্নগোপনে রয়েছেন।

রোববার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামের শবর উদ্দিন মাল বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন ফকির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফাহিম ওই গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ইউছুফ মিয়ার ছেলে। সে হাকিম উদ্দিন ফাজিল মাদরাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শাহীন এবং ফাহিম একই বাড়ির বাসিন্দা। সে সুবাদে তারা দুজন সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। ঘটনার পর থেকে শাহীন আত্নগোপনে আছেন।

মৃত ফাহিমের পরিবার জানায়, দুপুর ১টার দিকে শাহীন বাড়ির পুকুরে বিদ্যুৎ সংযোগে মাছ ধরতে যায়। সঙ্গে ফাহিমকে নিয়ে পুকুরে থাকা একটি কলাগাছের ভেলার ওপর বসে বিদ্যুৎ সংযোগে তারা দু’জন মাছ ধরছিল। এসময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুকুরেই ফাহিমের মৃত্যু হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে মাছ ধরা অনেক ঝুঁকির। এরপরও শাহীন প্রায়ই এই ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরত। তার দেখাদেখি এখন স্থানীয় অনেক যুবক অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাছ ধরা শিখছে। শাহীনের কারণেই শিক্ষার্থী ফাহিমের এমন মৃত্যু হয়েছে। শাহীন বিত্তশালী লোক। যার কারণে ফাহিমের পরিবার আইনে পদক্ষেপে যেতে ভয় পাচ্ছে।

ওসি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত চলমান রেখেছে। ফাহিমের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে থানায় ডেকে নিয়ে মামলা করার কথা বলা হয়েছে। তবে তারা মামলা করতে ইচ্ছুক নয়।




নবজাতকের পিঠ কাটা প্রসঙ্গে ‘আমি তো বাচ্চা মেরে ফেলি নাই’

বরিশাল অফিস : বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় নবজাতকের পিঠ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে উল্টো ওই চিকিৎসকের তোপের মুখে পড়েন শিশুটির স্বজনরা। এমনকি বাধা দেয়া হয় সংবাদ সংগ্রহেও। এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক বলছেন, ‘আমি তো বাচ্চা মেরে ফেলি নাই, মেরে ফেলেছি? বলেন? এইটুকু কাটলে কি মানুষ মারা যায়?’

শনিবার রাতে তালতলীর দোয়েল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। তালতলী উপজেলার বড় বগী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের তালতলী বাজারের বাসিন্দা মোহাম্মদ সোহাগের স্ত্রী লিপি আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশনের সময় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিশুটির স্বজনরা জানান, প্রসব ব্যথা উঠলে শনিবার দুপুরে লিপি আক্তারকে নিয়ে যাওয়া হয় তালতলীর দোয়েল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। পরে রাতে লিপি আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন করান ক্লিনিকের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রুনা রহমান।

অপারেশনের একপর্যায়ে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনলেও বের করা হচ্ছিলো না অপারেশন থিয়েটার থেকে। দীর্ঘ সময় পর নবজাতককে স্বজনদের কাছে দেয়া হলে তখন নবজাতকের পিঠ কাটা দেখতে পান স্বজনরা। কাটা স্থান থেকে তখনো বের হচ্ছিলো রক্ত। তবে অভিযোগ অস্বীকার না করলেও সিজারিয়ান অপারেশনের সময় শিশুর পিঠ কাটার পক্ষে নানা যুক্তি দেন চিকিৎসক রুনা রহমান।

শিশুটির বাবা মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, অপারেশনের পর অপারেশন থিয়েটারে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনতে পাই আমরা। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর শিশুটিকে আমাদের কাছে দেয়া হয়।

এর কিছুক্ষণ পর আমার স্ত্রী লিপিকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করা হয়। তখন তিনি সিজারিয়ান অপারেশনের সময় নবজাতকের পিঠ কেটে ফেলার কথা আমাদের জানান। তারপর আমরা যাচাই করে এর সত্যতা পাই। তখনো আমার সন্তানের কাটা স্থান থেকে রক্ত পড়ছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে চিকিৎসক রুনা রহমান আমাদের ওপর চড়াও হন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক রুনা রহমান বলেন, আপনি আমার সুবিধা দেখবেন, আমি আপনার সুবিধা দেখবো। আমি তো বাচ্চা মেরে ফেলি নাই, মেরে ফেলেছি? বলেন? এইটুকু কাটলে কি মানুষ মারা যায়? এ বিষয়ে বরগুনার তালতলী থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, এ ঘটনায় আমরা এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগী নবজাতকের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।




বরগুনায় সন্ধ্যা নামতেই নদীতে ড্রেজারের দাপট, ঝুঁকিতে জনপদ

বরিশাল অফিস :: বরগুনার বেতাগীতে বিষখালী নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিষখালী নদীর তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা জনপদ উপজেলার পৌর শহর ও আশপাশের গ্রামের পর গ্রাম নদীতেই ভাঙছে। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে শত শত পরিবার।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনের বেলায় কিছু রাখঢাক থাকলেও তবে সন্ধ্যা নামলেই ড্রেজার নামিয়ে বালু উত্তোলনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এ উপজেলার বিষখালী নদীর মোহনায় ২০-২৫টি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন প্রভাবশালীরা। সম্প্রতি সরেজমিনেও মিলেছে এ চিত্র। এসময় সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে গা-ঢাকা দেয় বালু ব্যবসায়ীরা।

নদী তীরবর্তী একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, চোখের সামনে মানুষের সহায়-সম্পত্তি বিষখালী নদীতে বিলীন হতে দেখেও বালু ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকছে না। ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে এখানকার বাসিন্দারা।

বেতাগী উপজেলা সদরের উত্তর বেতাগী গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বাড়ি-ঘর সব নদীতে বিলীন হয়ে গেছে শুধু ড্রেজার দিয়ে বালু কাটায়। নদীতে তেমন ঢেউ নেই, স্রোতও আগের তুলনায় কম; এরপরও নদী ভাঙছে।

তিনি আরও বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নদীভাঙন রোধে একটি প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ শুরু করলেও এভাবে দিনের পর দিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে তা কোনো কাজে আসবে না। কারণ একমাত্র অবৈধভাবে ভাঙন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করাতেই নদী ভাঙছে।’

সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে রাতে আবু কালাম নামে একজনকে ৫০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফারুক আহমেদ এই অর্থদণ্ড দেন।

এর আগেও বালু ব্যবসায়ী মনির হোসেনকে ৫০ হাজার এবং জাহাঙ্গীর ও রাহাত নামে আরও দুই ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ড্রেজার মালিক সুনীলকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমেদ (ইউএনও) বলেন, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বিষখালী নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়। এ ধরনের আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ ভাঙনকবলিত এ এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ড্রেজার মালিক ও বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং নদী থেকে যাতে কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিপণন করতে না পারে, সেজন্য আগামীতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বরগুনায় দেড় লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, পুড়িয়ে বিনষ্ট

বরিশাল অফিস :: বরগুনা পৌর এলাকায় সাতটি গোডাউন থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও দুটি বেহুন্দি জাল জব্দ করে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে জালগুলো জব্দ ও বিনষ্ট করা হয়েছে।

রোববার (২৮ জানুয়ারি) জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে সরকার।

এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বরগুনা পৌর এলাকায় বিভিন্ন জালের দোকান এবং সাতটি গোপন গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে দুজন অসাধু কারেন্ট জাল বিক্রেতাকে জাল মজুদ এবং বিক্রয়ের দায়ে আটক করা হয়।
সেসময় ৩২ বস্তা কারেন্ট জাল (১ লাখ ৬০ হাজার মিটার) ও দুটি বেহুন্দি জাল জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

মুন্সি এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আব্দুর রবকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া করা হয়। অপর বিক্রেতা মোহাম্মদ মামুনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মাহমুদুল হাসান, মেরিন ফিশারিজ অফিসার মো. নাজমুস সাকিব, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নয়ন চন্দ্র শীল, মৎস্য দপ্তরের সদস্যরা এবং পুলিশ সদস্যরা।




সিজারিয়ান অপারেশনে নবজাতকের পিঠ কেটে ফেললেন ডাক্তার

বরিশাল অফিস :: বরগুনার তালতলী উপজেলায় এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় নবজাতকের পিঠ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকের অবহেলায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করছেন স্বজনেরা।

শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে উপজেলার দোয়েল ক্লিনিক এ- ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘাটে।

প্রসূতির পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলা শহরের হোটেল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিল সোহাগের স্ত্রী লিপি আক্তার প্রসবব্যথা নিয়ে শনিবার দুপুরে হাসপাতাল সড়কের দোয়েল ক্লিনিক এ- ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন।

পরে সন্ধ্যায় ওই ক্লিনিকের স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রুনা রহমান সিজারিয়ান অপারেশন করার সময় নবজাতকের পিঠ কেটে ফেলে।

নবজাতকের বাবা ইব্রাহিম খলিল সোহাগ বলেন, সিজারিয়ান অপারেশন ১ ঘন্টা পরে কন্যা শিশুটির গায়ে কাপড় পেঁচিয়ে আমার হাতে তুলে দেয়। পরবর্তীতে অনবরত কান্না করতে থাকে এ সময় শিশুটির শরীরে রক্ত দেখতে পাই। পরে গায়ের কাপড় খুলে ডানবাহুর নিচে ছুরির আঘাতে কেটে যাওয়ার ক্ষত দেখতে পাই।

বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এ বিষয়ে ডাঃ রুনা রহমানের কাছে জিজ্ঞাসা করলে সে সাংবাদিকদের কাছে কথা বলতে রাজি হয়নি। বরগুনা সিভিল সার্জন ডাঃ ফজলুল হক বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ববির চার সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদন

বরিশাল অফিস :: মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সমাধিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রু.দা.) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে উপাচার্যর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, অফিসার্স এসোসিয়েশন, গ্রেড ১১-১৬ কল্যান পরিষদ এবং গ্রেড ১৭-২০ কল্যান পরিষদের নেতৃবৃন্দ এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসময় শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ড. তারেক মাহমুদ আবীর, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি বাহাউদ্দিন গোলাপ, সাধারণ সম্পাদক নাদিম মল্লিক, গ্রেড ১১-১৬ কল্যান পরিষদের সভাপতি আরিফ হোসেন সুমন, সাধারণ সম্পাদক নূরউদ্দিন, গ্রেড ১৭-২০ কল্যান পরিষদের সভাপতি আরিফ সিকদার এবং সাধারণ সম্পাদক মহিন সরদার কালুসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, ৪টি হলের প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টরসহ অন্যান্যরা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপাচার্য সকলকে সাথে নিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করেন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টে শাহাদাৎ বরণকারী তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। পরে উপাচার্য সমাধি কমপ্লেক্স সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে পরিদর্শক বহিতে স্বাক্ষর করেন।




বরিশালে পাঁচ জাটকা ব্যবসায়ীকে জরিমানা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীতে অভিযান চালিয়ে ৬০ কেজি জাটকা ইলিশ জব্দসহ ৫ খুচরা ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন বিচারক মারজানুর রহমান।

জেলা মৎস্য অধিদফতরের উদ্যোগে রোববার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে জব্দ করা মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন এলাকার কাজল হাওলাদার, একই এলাকার রিয়াজ সরদার, বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গীবাড়িয়া এলাকার মো. শাওন হাওলাদার ও চন্দ্রমোহন এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন ও নগরীর বেলতলা এলাকার মিলন হোসেন।

বরিশাল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস জানান, অভিযানে পাঁচ ভ্রাম্যমাণ খুচরা ব্যবসায়ীকে জাটকা মাছসহ আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৬০ কেজি জাটকা ইলিশ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ, নৌ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার দ্বীন এ আলম ও বরিশাল সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল।




বরিশাল বিশ্ববদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনে পাশে থাকবে আকিজ গ্রুপ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনে পাশে থেকে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপ।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রু.দা.) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার আমন্ত্রণে আকিজ গ্রুপের এজিএম, বিটিএল হেড (ইভেন্ট এন্ড আউটডোর) আজম বিন তারেকের নেতৃত্বে একটি টিম ২৮ জানুয়ারি রবিবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন। এসময় উপাচার্য তাদেরকে সাথে নিয়ে বরিশাল বিশ্বিবদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ড. তারেক মাহমুদ আবীর, রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আব্দুল কাইউম, বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট আরিফ হোসেন, শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট আবু জাফর মিয়া, সহকারী প্রক্টর ড. মোহাম্মদ মাহফুজ আলম, সহকারী প্রক্টর ফরহাদ উদ্দীন, উপ-প্রধান প্রকৌশলী মুরশীদ আবেদীন, অর্থ ও হিসাব শাখার উপ-পরিচালক (গ্রেড-৪) সুব্রত কুমার বাহাদুরসহ অন্যান্যরা।

পরিদর্শন শেষে আকিজ গ্রুপের টিমটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর সংষ্কারসহ নানারূপ সৌন্দর্যবর্ধনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থেকে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 




ইন্দুরকানীতে টগড়া ফেরিঘাটে ৩৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে খাস জমিতে অবৈধ স্থাপনা করায় উচ্ছেদ অভিযান করেন উপজেলা প্রশাসন। দুইদিন ব্যাপি এ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু ব্ক্কর সিদ্দিকী ও সহকারী কমিশনার ভূমি সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম ।

রবিবার সকালে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, উপজেলার টগড়া ফেরিঘাট এলাকায় টগড়া মৌজার ১নং খাস খতিয়ানে রাস্তা শ্রেণির দাগের উপর দুই পাশে থাকা ৩৩টি দোকান উচ্ছেদ ও ৩টি দোকান সম্পূর্ন ভেঙ্গে দেওয়া হয় । এই মহাসড়ক দিয়ে পিরোজপুর পাথরঘাটা হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত শত শত যানবাহন ও পন্যবাহী যান চলাচল করে ।

প্রতিনিয়ত ফেরিঘাটের দুই পাশের দোকানগুলোর কারনে ফেরিতে উঠানামায় চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় । এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, রাস্তা শ্রেনির দাগের নদী শ্রেণি দাগের উপর মোট ০.৬৫০ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে । তারা দীর্গদিন ধরে অবৈধভাবে স্থাপনা করে জনগনের ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে । জনস্বার্থে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে ।