বেতন বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবিতে সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক-কর্মচারীদের মানববন্ধন

বরিশাল অফিস :: ১০% বেতন বৃদ্ধিসহ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, ওভারটাইমে বেসিকের দ্বিগুণ মজুরি পরিশোধসহ ৬ দফা দাবিতে সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার (৩১ জানুয়ারী) সকাল ১১টায় সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলগেটে শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা বাসদ বরিশাল জেলার সমন্বয়কারী ডাঃ মনীষা চক্রবর্ত্তী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খুকুমনি, ক্রীড়া সম্পাদক হারুন শিকদার প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, ২০২১ সালে আন্দোলনের মুখে মালিক কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ২৫% বেতনবৃদ্ধি করার ঘোষণা দিলে ও সেই বেতন ১৫% বৃদ্ধি করা হয়েছে, বাকি ১০% বেতন আজ ও বৃদ্ধি করা হয়নি। ৩ বছরে শ্রমিকদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও দেয়া হয়নি। বক্তারা প্রতিশ্রুত ১০% বেতন বৃদ্ধিসহ ৩ বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ মোট ২৫% বেতন বৃদ্ধি করার জোর দাবি জানান।

একইসাথে ছুটি দেয়া নিয়ে শ্রমিক হয়রানি বন্ধ করে অর্জিত ছুটির মজুরি পরিশোধ, ওভারটাইমে মূল বেতনের দ্বিগুণ মজুরি পরিশোধ করাসহ বক্তারা ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন- ১। অবিলম্বে শ্রমিকের সাথে প্রতিশ্রুত ১০% বেতন বৃদ্ধি করতে হবে।

২। যুগোপযোগী বেতনস্কেল চালু কর, অবিলম্বে ৩ বছরের বকেয়া বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দাও।

৩। ছুটি দেয়া নিয়ে অনিয়ম দূর কর, অর্জিত ছুটির মজুরির হিসাব বছরান্তে পরিশোধ কর।
৪। কোম্পানির লভ্যাংশে শ্রমিকের অংশ বেতনের সাথে পরিশোধ কর।

৫। প্রতি শিফটে ৮ ঘন্টা ডিউটি, ওভারটাইমে মূল বেতনের দ্বিগুণ মজুরি প্রদান কর। সব শিফটে নাস্তার ব্যবস্থা কর।

৬। অব্যাহতি প্রদান করলে বা স্বেচ্ছায় অবসরে গেলে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিক কর্মচারীদের সমুদয় পাওনাদি পরিশোধ করতে হবে।

বক্তারা ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এই ৬ দফা দাবি মানার ঘোষণা না আসলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

 




বাবুগঞ্জে উপকরণ বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভা

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বাবুগঞ্জে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপকরণ বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বেলা ১২ টায় উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরের আয়োজনে বাবুগঞ্জ উপজেলা চত্তরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা রহমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সুব্রত বিশ্বাস দাস এর সঞ্চালনায় উপকরণ বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ,বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কাজী ইমদাদুল হক দুলাল, বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম খালেদ হোসেন স্বপন, বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৃধা মুহাম্মদ আক্তার উজ জামান মিলন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল আহমেদ আজাদ, বাবুগঞ্জ উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মোঃ গোলাম হোসেন, মাধবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল আহসান খান হিমু।

বাবুগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আলম প্রমূখ। এছাড়াও আলোচনা সভায় বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সচেতনামূলক সভা শেষে ৩২ টি ছাগল ও ২০টি বকনা বাছুর সহ মোট ৫২ জন উপকারভোগীদের মাঝে উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম।




বরিশালে জনপ্রিয় শরবত মলিদা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে জনপ্রিয় পানীয় মলিদা’র নামটি সর্বাঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। যদিও আধুনিকতার ছোঁয়ায় বড় কোনো উৎসব ছাড়া মলিদা’র আয়োজন এখন আর চোখে পরেনা।

তবে একসময় ছিল, যখন ছোট-বড় সব আয়োজনে বিশেষ করে গ্রামগুলোতে নতুন ধান ওঠা থেকে শুরু করে গোটা গরমের সময়ে বেশ জাঁকজমকভাবে মলিদা’র আয়োজন হতো। সূত্রমতে, বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন উৎসব পার্বণে মলিদা’র চলন অনেক পুরোনো হলেও বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই এর সাথে পরিচিত নন। তবে কেউ কেউ এখনও সংস্কৃতি বা ঐতিহ্য ধরে রাখতে ছোট পরিসরে মলিদা খাওয়ানোর আয়োজন করে চলছেন।

মলিদা তৈরিতে মূলত নতুন পোলাওয়ের চাল, নারিকেল, আদা, লবণ, খাঁটি আঁখের গুড়, খই কিংবা মুড়ির প্রয়োজন হয়। পরিমাণের হিসেব কষলে বড় এক কাপ বাটা পোলাওয়ের চালের সাথে, কিছুটা মুড়ি কিংবা খই বাটা, বড় টেবিল চামচ নারিকেল বাটা, চা চামচ আদা বাটার সাথে পরিমাণ মতো আঁখের গুড়, লবণ মিশিয়ে ৩/৪ কাপ পানির সাথে মিশ্রণ করতে হয়। একটি পাত্রে প্রথমে পরিমাণ মতো পোলাওয়ের চাল বাটা, মুড়ি বা খই বাটা, নারিকেল বাটা ও খাঁটি আঁখের গুড় মিশিয়ে হাত দিয়ে কচলে সবগুলো উপাদান একসাথে মিশিয়ে নিতে হয়। আরেকটি পাত্রে পানি দিয়ে তাতে আগের মিশ্রণগুলো অল্প অল্প করে মিশিয়ে নাড়তে হয়।

এ মিশ্রণে পানির পাশাপাশি তরল দুধ বা ডাবের পানিও ব্যবহার করেন অনেকে। সবগুলো মিশ্রণ ঢালার পর পরিমাণ মতো লবণ ও আদা বাটা দিয়ে ভালো করে নেড়ে পছন্দমতো গ্লাসে ঢেলে তার ওপর মুড়ি বা খই ছিটিয়ে অল্প নারিকেল বাটা ছিটিয়ে দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করা হয় সুস্বাদু মলিদা।

মলিদাকে আরও সুস্বাদু করতে অনেকে চিড়া ভিজাও মিশিয়ে থাকেন। আগে মিশ্রণ ও বাটার কাজ শীলপাটা ও ঘুঁটনি দিয়ে করা হলেও এখন বেশিরভাগ জায়গায় ব্লেন্ডার করে তৈরি করা হয়। যদিও চাল বাটার কাজটি শীলপাটায় করলে স্বাদটা অনেক ভালো হয়ে থাকে। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মৌরিন আক্তার আশা মনি বলেন, মলিদা বরিশাল অঞ্চলের মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি পানীয়। যা শরীরকে খুবই শীতল করে এবং একটি আরামদায়ক ভাব তৈরি করে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি এ খাবারটি সাধারণত নতুন ধান উঠলে কিংবা রমজান ও ঈদ কোরবানিতে খাওয়া হতো। এখন বড় উৎসব ছাড়া আর মলিদা’র আয়োজন করা হয়না।

তিনি বলেন, আমার মা তার নানি-দাদির কাছ থেকে মলিদা বানানো শিখেছেন। আমি শিখেছি মায়ের কাছ থেকে। আর সেই হিসেবেই তো এটি (মলিদা) শত বছরের পুরোনো একটি খাবার। কালের বিবর্তনে অনেকটা হারিয়ে যেতে বসা এসব খাবার নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বেশি বেশি গ্রামীণ ও উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করা উচিত জানিয়ে নারী উদ্যোক্তা ডাঃ শাহনাজ রুবী বলেন, মলিদা এমন একটি জিনিস, যা তৈরির পর নবান্নের মতো আলাদা একটি স্মেল বা ঘ্রাণ আশপাশে ছড়িয়ে পরে।

এটি স্বাস্থ্যসম্মত, কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। খাওয়ার পর শরীরে অনেকটাই সতেজতা ভাব চলে আসে। তিনি আরও বলেন, কোমল পানির আড়ালে এই ঐতিহ্যবাহী পানি যাতে হারিয়ে না যায় সেজন্য তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।

নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিষয়গুলো জানতে হবে, ধারণ করতে হবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।




শেকল বন্দি সেই গৃহবধুর চিকিৎসা জন্য প্রবাশিদের সহায়তা প্রদান

বরিশাল অফিস :: বরিশালের গৌরনদীতে “শেকলে বাঁধা স্বামীহারা নাজমার জীবন” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর অর্থাভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের সালতা গ্রামের গৃহবধু নাজমার চিকিৎসা সহায়তায় প্রবাশিরা এগিয়ে আসায় অর্ধলাখ নগদ টাকা প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে নাজমার বাড়িতে গিয়ে তার বাবার হাতে সহায়তার অর্থ প্রদানকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু আবদুল্লাহ খান বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন শিকল বন্দি নাজমার সংবাদ দেখে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবাসীরা ৪৭ হাজার পাঁচশ’ এবং এক জনপ্রতিনিধি দুই হাজার পাঁচশ’ টাকা তার সুচিকিৎসার জন্য আমার কাছে পাঠিয়েছেন। যা তার বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি (ইউএনও) আরও বলেন, ওই গৃহবধুকে সুচিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রফিকুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান নুর আলম সেরনিয়াবাত, প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল আলিম, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট আব্দুস সালাম
প্রমূখ।

উল্লেখ্য গত তিনবছর পূর্বে স্বামীর মৃত্যুর পরপরই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে চার সন্তানের জননী নাজমা। এরপর দুই বছর যাবত নিজ বাড়িতে অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় শিকল বন্দি হয়ে জীবন কাটছে গৃহবধু নাজমার।




বরিশালে শিক্ষাকারিকুলাম পরিবর্তন ও ট্রান্সজেন্ডারকে প্রমোট করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: একতরফা প্রহসনের নির্বাচন বাতিল, বিতর্কিত শিক্ষাকারিকুলাম পরিবর্তন ও ট্রান্সজেন্ডারকে প্রমোট করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর শাখা।

বুধবার (৩১) জানুয়ারী নগরীর
সদররোডে সমাবেশ করে। আলহাজ সৈয়দ মাওলানা মোঃ নাসির আহমেদ কাউসারের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তরা বলেন,বর্তমান শেখ হাসিনার ডামি নির্বাচনকে আমেরিকা সহ ইউরোপিয়ার ইউনিয়নগুলো সমর্থন না দেওয়ার কারনে তাদেরকে খুশি করার জন্য এই নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশে সমকামিতা ঢুকিয়েছে। বক্তারা আরো বলেন এই সমকামিতা এদেশের কোন ধর্মের লোকজন মেনে নেবে না।

তারা আরো বলেন, গত ৭ই জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে লাল কার্ড দেখিয়েছে তাই সংসদকে বহাল রাখার জন্য সরকার দেশের মানুষকে ভিন্নখাতে প্রাবাহিত করার জন্য শিক্ষানীতির একটি ইস্যু তৈরী করেছে যাতে করে মানুষ আর নির্বাচন নিয়ে কোন ধরনের কথা না বলে। শেখ হাসিনা এখন সেই ফেরায়ূনের মত নিজেকে খোদা মনে করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংশ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে ইসলামী আন্দোলন চরমোনাই পিস সাহেব তা কোনদিন সফল হতে দেবে না।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন মাওঃ আব্দুর রহমান,মাওঃ মোঃ আরিফুর রহমান,হাফেজ মাওঃ নাসির উদ্দিন নাঈম,মাওঃ মোঃ আজিজুল হক,মাওঃ মোঃ রেজাউল করীম,মাওঃ মুহাম্মদ ইব্রাহিম প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে নগরীতে এক বিক্ষোভ মিছিল বেড় করে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে এসে শেষ হয়।




পিরোজপুরের সাবেক চেয়ারম্যান হত্যা মামলার প্রধান বর্তমান চেয়ারম্যান মিঠুন হালদার’সহ র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার ৪

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের চাঞ্চল্যকর সাবেক চেয়ারম্যান কে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামী বর্তমান চেয়ারম্যান মিঠুন হালদার’সহ তার সহযোগী আসামীদের গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৮)।

বুধবার (৩১ জানুয়ারী) দুপুরে বরিশাল র‌্যাব ৮-এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন,বরিশাল র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী যুবায়ের আলম তিনি জানান,বরিশাল এবং র‍্যাব-৬ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল বুধবার ( ৩১ জানুয়ারী) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানাধীন এলাকা হতে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখর কুমার শিকদার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামী ও তার সহযোগী আসামী আটকে করেছে র‍্যাবের সদস্যরা।

আসামিরা হলেন,ফণি ভূষণ হালদারের ছেলে মিঠুন হালদার (৪৪),কুরিয়ানা গ্রামের সমীরণ হালদারের ছেলে সুষময় হালদার (১৮), একই গ্রামের মোঃ ফারুক হোসেন ছেলে
জালিস মাহমুদ (২৪),সংগীতকাঠি গ্রামের
দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ আমিনুল ইসলাম (২৩)। সকলেই পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বাসিন্দা।

তিনি জানান, সোমবার ( ৩০ জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ১০ টায় পিরোজপুর জেলার কুড়িয়ানা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখর কুমার শিকদার ৪২ নং কুড়িয়ানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রিয়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে যোগদানের জন্য নিজ বাড়ি থেকে রওয়ানা করেন।

তিনি আরও জানান,এ সময় কুড়িয়ানা বাজারের পশ্চিম প্রান্তে পৌছা মাত্রই পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আসামী মিঠুন হালদার (৪৪) এর নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন সাবেক চেয়ারম্যান শেখর কুমার শিকদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে পথরোধ করে লাঠি, ইট দিয়ে এলোপাথারি মারধর করতে থাকে। মারধরের এক পর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে মাটিতে পড়ে থাকলে আসামীরা মৃত মনে করে চলে যায়।

তিনি জানান,পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরামর্শ দিয়ে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত সাবেক চেয়ারম্যান শেখর কুমার শিকদারের স্ত্রী মালা মন্ডল (৪৫)

বুধবার( ৩১ জানুয়ারী) রাতে বাদী হয়ে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও জানান,হত্যার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে নিজ এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আত্মগোপন করে। তাদের জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‍্যাব-৮ এর গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে এবং ছায়াতদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আসামীদের অবস্থান সনাক্ত করে র‍্যাব-৬ এর সহায়তায় বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে আসামীদেরকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

 

 




মালয়েশিয়ার নতুন রাজার যত সম্পদ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মালয়েশিয়ার নতুন রাজা হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুলতান ইব্রাহিম। বুধবার কুয়ালালামপুরের জাতীয় প্রাসাদে তিনি শপথ নেন। খবর রয়টার্সের।

গেল বছরের ২৭ অক্টোবর দেশটির রয়্যাল কাউন্সিল নতুন রাজা হিসেবে সুলতান ইব্রাহিমের নাম ঘোষণা করে। আজ শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি মালয়েশিয়ার সদ্যবিদায়ী রাজা আল সুলতান আবদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হলেন।

তেরোটি রাজ্য ও তিনটি ঐক্যবদ্ধ প্রদেশ নিয়ে গঠিত মালয়েশিয়ায় বর্তমানে ৯টি রাজপরিবার রয়েছে। চক্রাকারে প্রতি পাঁচ বছর পর পর প্রত্যেক রাজপরিবারের প্রধান ব্যক্তিকে রাজা হিসেবে মনোনীত করা হয়। দেশটির রয়্যাল কাউন্সিল এই কাজ পরিচালনা করে। দেশটির সদ্যবিদায়ী রাজা আল সুলতান আবদুল্লাহ ২০১৮ সালে সিংহাসনে বসেছিলেন।

সাংবিধানিকভাবে মালয়েশিয়ার রাজার মেয়াদ ৫ বছর এবং তার ক্ষমতা বেশ সীমিত। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ, পার্লামেন্টের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর তা ভেঙে দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদকে শাসনসংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া, সর্বোচ্চ আদালতে দোষী অপরাধীকে ক্ষমা করা— প্রভৃতির মধ্যেই তার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ।

তবে ২০২০ সালের পর দেশটির পার্লামেন্ট ও রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে তৎকালীন রাজাকে রাজনীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে তৎপর দেখা গেছে। সদ্যবিদায়ী রাজা আল সুলতান আবদুল্লাহ তার মেয়াদে ৩ জন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছেন।

নতুন রাজা সুলতান ইব্রাহিম বিলাসবহুল গাড়ি ও মোটরবাইকের বিশাল সংগ্রহের জন্যও পরিচিত। তার রিয়েল এস্টেট থেকে শুরু করে খনিরও ব্যবসা রয়েছে। এ ছাড়া জোহর রাজ্যে একটি উন্নয়ন প্রকল্পে তার অংশীদারত্ব রয়েছে; যেখানে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন। তার মোট সম্পদ ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

সুলতান ইব্রাহিমের রাজত্ব রিয়েল এস্টেট এবং খনির থেকে টেলিযোগাযোগ ও পাম তেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন। ঐশ্বর্যশালী ইস্তানা বুকিত সেরিন, তার সরকারি বাসভবন, তার পরিবারের সম্পদের একটি প্রমাণ। ৩০০টিরও বেশি বিলাসবহুল গাড়ির শাসকের সংগ্রহ রয়েছে, যার মধ্যে একটি কথিতভাবে অ্যাডলফ হিটলারের দেওয়া উপহার গাড়ি আছে। যখন একটি সোনার-নীল বোয়িং৭৩৭ সহ ব্যক্তিগত জেটের একটি বহর রয়েছে।




ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সোমবার লন্ডনে ব্রিটেনের মন্ত্রিসভার এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন। এদিকে পশ্চিম তীরে তিন ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে ছদ্মবেশী ইসরাইলি সেনারা।

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া প্রশ্নে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সোমবারের বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতমুখর পরিস্থিতি, ফিলিস্তিনিদের নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির ন্যায্যতা, নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ইসরাইলের ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। মন্ত্রী জানান, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ে জাতিসংঘেও ভূমিকা রাখবে ব্রিটেন ও তার মিত্ররা। অনুষ্ঠানে ক্যামেরন বলেন, আমরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেব এবং এ ইস্যুকে আরও গতিশীল করতে জাতিসংঘেও কাজ করব। আমাদের মিত্ররা এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে বলে আশা করছি। কারণ, যদি জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতিকে নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাহলে গত কয়েক দশকের অপেক্ষা শেষ হওয়ার পথ সুগম হবে। প্রসঙ্গত, ১৯৭৪ সালে আরব লীগের সম্মেলনে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং সেই রাষ্ট্রের একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে স্বীকৃতি দেয় আরব লীগ। ১৯৬৬ সাল থেকে স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিতে আন্দোলন করে আসা গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর সম্মিলিত জোট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) শুরুর দিকে ইসরাইল রাষ্ট্রের বিপক্ষে অবস্থান নেয়; তবে ১৯৮২ সালে ‘দ্বিরাষ্ট্র সমাধান’ বা ইসরাইলের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও মেনে নেয় পিএ। এই প্রক্রিয়া অবশ্য শুরু হয় গত শতকের ষাটের দশক থেকেই। ১৯৬৭ সালে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল দুই রাষ্ট্রের সীমানাও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ইসরাইল কখনো দ্বিরাষ্ট্র সমাধানকে পুরোপুরি স্বীকৃতি দেয়নি, উপরন্তু প্রায় নিয়মিত প্রস্তাবিত সীমানা লঙ্ঘন করে নিজেদের রাষ্ট্রের সীমানা বৃদ্ধি করে চলেছে।

ক্যামেরন বলেন, নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ফিলিস্তিনের জনগণ যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তা ইতিমধ্যে পরিণত হয়েছে। এখন একে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া তাদের এই আন্দোলন ন্যায্য এবং ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য আন্দোলনকে সমর্থন দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর দীর্ঘ ঐতিহ্য আমাদের রয়েছে। তাছাড়া আরও কারণ রয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা কেবল একটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সন্ত্রাসবাদেরও বিদায় ঘণ্টা বাজাবে। আমাদের স্বীকৃতি দেওয়ার একটি কারণ হলো আমরা ঐ অঞ্চল থেকে সন্ত্রাসবাদ স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে চাই। এই অঞ্চলটিকে আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা প্রয়োজন এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ব্যাপারটি সহজ করবে। বর্তমানে সেখানে যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, অস্থায়ী বিরতি তার কোনো সমাধান নয়। সেখানে প্রয়োজন স্থায়ী যুদ্ধবিরতি। বক্তব্যে ইসরাইলেরও কঠোর সমালোচনা করেন ক্যামেরন। তিনি বলেন, ‘ইসরাইল হয়তো তার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে পেরেছে, নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পেরেছে, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনীও গড়ে তুলেছে; কিন্তু নাগরিকদের নিরাপত্তা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি। এটা তাদের ব্যর্থতা এবং ইসরাইলের গত কয়েক দশকের ইতিহাস মূলত এই ব্যর্থতার ইতিহাস। বর্তমানে গাজায় মানবিক বিরতির আলোচনা চলছে। আমরা মনে করি, এই আলোচনা সফল হওয়ার ওপর আসলে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের বাস্তবায়ন অনেকাংশ নির্ভর করছে।

এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ছদ্মবেশে তিন ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। মঙ্গলবার পশ্চিম তীরের একটি হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর দাবি, নিহতদের একজন একটি আসন্ন হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত এবং অপর দুজন ইসরাইলে সাম্প্রতিক সহিংসতায় জড়িত ছিল।




মরিচ চাষে ব্যস্ত পটুয়াখালীর উপকূলের কৃষকরা

বরিশাল অফিস :: চলতি মৌসুমে ব্যাপক হারে মরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কৃষকরা। জমি তৈরি এবং চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা। ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ায় মরিচ চাষে আগ্রহ বাড়ছে তাদের। মরিচ চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় ধান চাষের পাশাপাশি মরিচ চাষেও আগ্রহী হচ্ছেন।

মরিচের বীজ বপণের ৩০-৪০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে এবং ৬০-৭০ দিনের মধ্যে কৃষক গাছ থেকে মরিচ উত্তোলন শুরু হয়। এটি একটি অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল। জমিতে বিঘা প্রতি ১৫/২০ মণ মরিচ উৎপন্ন হয়। প্রতিমণ কাচা মরিচ হাটবাজারে ২৫শ’ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রয় করতে পারে কৃষক।

সরজমিনে কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার মরিচ চাষে ভালো লাভ হবে। বর্তমান বাজারে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অজ্ঞাত রোগে মরিচ গাছের পাতা শুকিয়ে অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

লতাচাপলী ইউনিয়নের কৃষক মাসুম জানান, গত বছর ১ একর জায়গায় মরিচ দিয়েছিলেন। খরচ শেষে তার এক লাখ টাকা লাভ হয়েছে। তাই এবারও তিনি ১.৫ একর জায়গায় মরিচ দিয়েছেন। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এ বছরও ভালো ফলন পাবার আশা তার।

কুয়াকাটার কৃষক জাহাঙ্গীর জানান, এবার তিনি ২ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। প্রতি বছরের চেয়ে এবার বেশি পরিমাণ জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। মরিচ চাষে লাভ ভালো হয়। এবার তিনি বেশি ফলনের আশা করছেন।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার কে আর এম সাইফুল্লাহ জানান, এ বছর ৬৮০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। ফল বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রোগবালাই ও সার ব্যবস্থাপনা মাঠপর্যায়ে প্রত্যক্ষ করছে। আরও সহনশীল জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গিয়ে মরিচ চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করি, কৃষক এবার মরিচের ভালো দাম পাবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মরিচ চাষে কৃষকরা লাভবান হবেন।




পিরোজপুরে ভ্যান চালক হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদন্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন

বরিশাল অফিস ::পিরোজপুরে এক ভ্যানচালককে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এতে মামলার প্রধান আসামি সাইদুল ইসলাম মোল্লাকে (২৫) মৃত্যুদন্ড এবং সঞ্জয় চন্দ্র দেবনাথ (৪৮) ও পল্টু কুমার দাস (২৭) নামে দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) পিরোজপুর জেলা অতিরিক্ত দায়েরা জজ আদালতের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম এ রায় দেন। নিহত ভ্যানচালকের নাম মিজানুর শেখ মানিক (২৫)। তিনি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের ছোট বুইচাকাঠী গ্রামের মো. আবুল শেখের ছেলে।

আর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সাইদুল উপজেলার সদর ইউনিয়নের বুইচাকাঠী গ্রামের আকরাম মোল্লার ছেলে। এছাড়া যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত সঞ্জয় দেবনাথ জেলার কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের মনরঞ্জন দেবনাথের ও পল্টু একই গ্রামের মৃত সুনিল চন্দ্র দাসের ছেলে। আদালত এ সময় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত সাইদুলকে ৫০ হাজার টাকা এবং অন্য দুজনের  প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ছয় মাসের কারাদন্ড ঘোষণা করেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাজিপুরের ছোট আমতলার আকরাম মোল্লার ছেলে সাইদুল ইসলাম তার শ্বশুরবাড়ি কাউখালী যাওয়ার কথা বলে ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালক মিজানুর শেখ মানিককে ভাড়া করে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তাকে হত্যা করে তার ভ্যানটি ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করে আসামিরা টাকা ভাগ করে নেন।
নিহতের মা মঞ্জুয়ারা বেগম জানান, তার ছেলের খোঁজ না পাওয়ায় তিনি নাজিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তার পরেরদিন তার ছেলের মরদেহ জেলার কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া ইউনিয়নে একটি পানের বরজে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশকে জানান, ওই এলাকার চৌকিদার জাকির হোসেন।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসআই) দীপক কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে কাউখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।