পটুয়াখালীতে বাড়ছে গোলপাতার গুড়ের কদর

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে দেখা মিলল ৯৪ বছর বয়সি হোসেন আলী মুন্সির। তার বাড়ি সংলগ্ন বেড়িবাঁধের বাইরে গোল গাছের সারি।

জানালেন ব্রিটিশ আমল থেকেই গোল চাষের সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। গাছ থেকে আহরণ করেন গোলের রস। সে রস থেকে তৈরি হয় সুস্বাদু গুড়। খেজুর রস বা আখের রস থেকে গুড় উৎপাদনের খবর সবার জানা থাকলেও গোলের গুড় সম্পর্কে অনেকেরই জানা নেই। কিন্তু সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে গোল পাতার গাছ থেকে গুড় তৈরি হওয়ার ব্যাপারটি বেশ পুরোনো। পটুয়াখালী বা এর আশপাশের অঞ্চলে এই গুড় বহুল পরিচিত।

গোল গুড় তৈরির প্রক্রিয়া অনেকটা খেজুর গুড় তৈরির মতোই। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে গোল গাছ পরিষ্কার করে ছড়া (গাছের যে অংশে ফল ধরে) নিচু করে বেঁধে দিতে হয়। এরপর আরও দেড় মাস ছড়া প্রতিদিন ঘষে ঘষে আরও নিচু করে দিতে হয়। কারণ ছড়া যত নিচু হবে রস আহরণে তত সুবিধা। অগ্রহায়ণ মাসের শেষের দিকে রস আহরণের সুবিধার্থে টানা ৭-৮ দিন দিনে দুই বেলা করে ছড়া কেটে দিতে হয়। এরপর ছড়ায় রস আসতে শুরু করে। কেটে দেওয়া প্রতিটি ছড়ায় পাত্র বেঁধে দেওয়া হয়। এক-একটি ছড়া থেকে আধা কেজি থেকে এক কেজি পর্যন্ত রস পাওয়া যায়। লবণাক্ত মাটিতে জন্মানো সত্ত্বেও গোল গাছের রস অন্য যেকোনো রসের চেয়ে বেশি ঘন আর মিষ্টি। রোজ সকালে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন চাষিরা। বাড়িতে রস জ্বাল দেওয়া হয়। রস জ্বাল দেওয়া বিশেষ পাত্রের নাম ডোঙ্গা। সেই ডোঙ্গায় ৪-৫ কেজি রস জ্বাল দিলে এক কেজি গুড় পাওয়া যায়।

এই এলাকায় বর্ষীয়ান গুড় চাষিদের একজন হোসেন আলী মুন্সি। তিনি নামেও মুন্সি আর কাজেও রেখেছেন মুন্সিয়ানার ছাপ। তার কাছ থেকে জানা গেল, গোল চাষ করতে প্রচুর লবণাক্ত পানি লাগে। পানি বেশি পেলে রস ভালো হয়। তার মতো অনেক বর্ষীয়ান গুড় চাষির হাত ধরেই গোল গুড়ের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। গুড় বিক্রি করে চলে তাদের সংসার। তার দেখাদেখি তার ভাই, তার ছেলে-মেয়েরাসহ আশপাশের অনেকেই গুড় চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

নিজের তৈরি করা গুড় নিয়ে কারিগর হোসেন আলী মুন্সি বলেন, ‘আমাগো গুড়ে কোনো ভেজাল নাই। আগে বাজারে লইয়া যাইতাম, এহন বাড়ি আইয়া মাইনসে গুড় কিন্যা লইয়া যায়। এ বছর ১৮০-২০০ টাকা দরে গুড় বেচতাছি। আমার ২০ কানি বাগান, যে রস পাই হেয়াতে প্রতিদিন ৫-৬ কেজি গুড় হয়। এইয়া দিয়াই সংসার চলে।’

গোল চাষের সীমাবদ্ধতা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে হোসেন আলী মুন্সি বলেন, ‘আগে খালগুলা ছাড়া আছেলে এহন জায়গায় জায়গায় বান দিয়া পানি চলাচল বন্ধ কইরা ফালাইছে। অনেক জায়গায় খাল ভরাট হইয়া গেছে। ক্ষেতে ঠিকমতো পানি আয়ে না। হের লইগ্যা সেচ দেওয়া লাগে। সেচ দেতে অনেক খরচ হইয়া যায়। সরকার যদি এদিক নজর দেতে হেইলে আমাগো অনেক সুবিধা হইতো।’

জানা যায়, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী ও গলাচিপা উপজেলার প্রায় ১০টি ইউনিয়নে হয় গোলের চাষ। বর্তমানে মিঠাগঞ্জে শতাধিক পরিবার গোল চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গোল গাছ থেকে শুধু রস বা গুড়ই নয়, গোলপাতা ঘরের ছাউনি বা বেড়া তৈরিতে লাগে। গোলপাতা বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন চাষিরা। এ ছাড়া গোল ফল বা গাবনা তালের শাঁসের মতো খাওয়া যায় এবং এর অবশিষ্টাংশ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পানি প্রবাহ ঠিক রাখাসহ সরকারের তরফ থেকে বীজের সুবিধা পেলে এসব এলাকায় গোল চাষ আরও ত্বরান্বিত হবে।

একই এলাকার গোল গুড় উৎপাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যে গুড় বানাই তাতে কোনো ভেজাল নাই। গুড় বানাইতে কোনো কেমিক্যাল দেই না। এই গুড়ের স্বাদ অন্য গুড়ের চেয়ে ভিন্ন। এই গুড়ের কারণে আমাগো এলাকায় অনেক মানুষ আসে। খাঁটি গুড়, এহন অনলাইনেই কাস্টমার বেশি।’

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গোল গাছ লবণাক্ত পানিতে হয়। তাই এই গুড় কিছুটা নোনা এবং খনিজ উপাদানে ভরপুর। গোল চাষ সম্প্রসারণে উপকূলীয় অঞ্চলে নদী তীরে ১০ লাখ চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।




পথ ভুলে কুয়াকাটায় তরুণী, পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলো ট্যুরিস্ট পুলিশ

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌসী (২৬)। তিনি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। চাকরি করেন ঢাকায়। ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার উদ্দেশ্যে বাসযোগে রওয়ানা দেন। তবে স্মৃতি হারিয়ে নেমে পড়েন কুয়াকাটায়। পরে তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে কুয়াকাটা সৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল টিম সৈকতের পূর্বপাশে ওই তরুণীকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বোঝা যায় মানসিকভাবে অসুস্থ ফেরদৌসী। পরে তার কাছ থেকে পরিবারের ঠিকানা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। রাত ২টার দিকে পরিবারের লোকজন পুলিশের কাছ থেকে ওই তরুণীকে গ্রহণ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌসী পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা এলাকার মৃত কানুগাজীর মেয়ে। তিনি ঢাকায় একটি পোশাককারখানায় চাকরি করেন। মানসিক সমস্যার কারণে মাঝে মধ্যে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন।

ফেরদৌসীর মা কুলসুম বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে ঢাকা থেকে ফেরার পথে বাড়ি চিনতে না পেরে কুয়াকাটায় চলে আসে। কীভাবে আসে তা আমরা জানি না। ট্যুরিস্ট পুলিশ ফোন করে বিষয়টি জানায়। আমরা এসে মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছি।’

এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাহাত গাওহারী বলেন, ওই তরুণীর চালচলন সন্দেহজনক মনে হলে আমাদের টহল টিম তাকে হেফাজতে নিয়ে আসে। পরবর্তী সময়ে আমরা তার পরিবারকে খবর দিয়ে তার মায়ের কাছে তুলে দেই। ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে।




পটুয়াখালীতে গলায় ছাই আটকে প্রাণ গেল শিশুর

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর বাউফলে গলায় ছাই আটকে মো. সোলাইমান (৩) নামের তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের ঝিলনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, গত সপ্তাহে ঝিলনা গ্রামের নানা বাড়িতে মায়ের সঙ্গে বেড়াতে যায় সোলাইমান। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির উঠানে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল সে। এ সময় খেলার ছলে ধান সিদ্ধ করার মাটির চুলা থেকে ছাই তুলে গিলে ফেলে সোলাইমান। এরপর সে অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যান্য শিশুদের চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন সোলাইমানকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বাউফল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বাউফল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, শিশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি শ্বাসনালীতে ছাই আটকে যাওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




পদ্মা সেতুর সুফল: স্বপ্ন পূরণের স্বপ্নে বিভোর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ

এস এল টি তুহিন,বরিশাল:: বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা সহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটার সমূহ সম্ভাবনা নিয়ে গর্বিত পথচলার দেড় বছর অতিক্রম করেছে বাংলাদেশের নিজ অর্থায়নে তৈরি ঐতিহ্যের পদ্মা সেতু।

খুলনা ও বেনাপোল অংশের বাণিজ্যিক সুবিধা এতে বহুগুণ বৃদ্ধি পেলেও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো এখনো এড়িয়ে চলছে এই পদ্মাসেতু। তারা আরিচা হয়ে ফেরী পারাপারকে সহজ ও সাশ্রয়ী মনে করছে পদ্মা সেতুর তুলনায়।

এদিকে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলাসহ ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর এবং গোপালগঞ্জ এলাকার মানুষের চোখেমুখে এখনো স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা ঝুলছে এই সেতুকে ঘীরে। এজন্য প্রয়োজন বরিশাল বিভাগীয় শহরের বাণিজ্যিক অবয়ব তৈরি বলে দাবী সুশীল সমাজের।

২০২২ সালের ২৫ জুন বহুল কাঙ্খিত এই পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলাকে সরাসরি এশীয় সড়কে সম্পৃক্ত করতে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি। পদ্মা সেতু হয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হবার পর গত বছর ১ নভেম্বর খুলনা থেকে ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ ও পরদিন ২ নভেম্বর বেনাপোল থেকে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় চলাচল শুরু করে। এরমধ্য দিয়ে খুলে যায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ভাগ্যের চাকা। ট্রেনে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ। কিন্তু এখানেও বঞ্চিত থেকে যায় বরিশাল। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর গত দেড় বছরে মোট টোল আদায় হয়েছে ১ হাজার ১৮৬ কোটি ৮২ লাখ টাকারও বেশি। গত ১৮ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর অতিরিক্ত পরিচালক আমিরুল হায়দার চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, যান চলাচলের দিন থেকে ১৬ ডিসেম্বর শনিবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মাওয়া ও জাজিরার দুই টোল প্লাজা মিলে ১ হাজার ১৮৬ কোটি ৮২ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর সেতু উদ্বোধনের এক বছর দুই মাস ২৫ দিনের মাথায় সেতুর টোল আদায় এক হাজার কোটি টাকা ছাড়ায় বলে জানান তিনি।

এটা স্বপ্নের বাস্তবায়নের স্বার্থকতা এবং সেতুর বাণিজ্য ভালো হয়েছে দাবী করে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান বলেন, পরিবহন চালকদের মাথায় টোলের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে দেড়বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আয় দেখাচ্ছে সরকার। কিন্তু ব্যয়টা কি দেখাচ্ছে।

অপরদিকে পণ্যবাহী বেশিরভাগ ট্রাকই কিন্তু অতিরিক্ত টোলের ভয়ে এখনো আরিচা ফেরী নির্ভর বলে দাবী বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের। তিনি বলেন, বিএনপি বরিশালকে বিভাগ করেছে। এরপর যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে তার সবটাই বিএনপির পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়েছে।

তবে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোঃ ইউনুস বলেন, স্বপ্নের পথে হাঁটতে একটু সময় লাগে। পদ্মা সেতুর সুফল পেতে আমাদের সবার আগে গ্যাস প্রয়োজন। সরকার ভোলা থেকে গ্যাস আনার বিষয়ে অলরেডি কাজ শুরু করেছে।

বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম তার প্রতিটি জনসভায় বরিশালবাসীকে গ্যাস ও ইপিজেডসহ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। নির্বাচনে দ্বিতীয়বারও জয় লাভ করার আনন্দ নিয়ে তিনি বলেছেন, মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতকে সাথে নিয়ে এই বরিশালকে অনন্য উদাহরণ হিসেবে তৈরি করবেন এবং তিনি নিজে এখানে গার্মেন্টস শিল্প স্থাপনের অঙ্গিকার করেছেন।

জাতীয় পার্টির নেতা প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি শাহ সাজেদা, এনায়েত হোসেন শিবলু, কাজী মিজানুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দের দাবী পদ্মা সেতুর সুফল পেতে বরিশাল বিভাগের পাশাপাশি ছয় জেলায় অবকাঠামো ও শিল্পায়ন ঘটাতে হবে।

শাহ সাজেদা এবং কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ভোলার গ্যাস দ্রুত বরিশালে আসতে হবে এবং ঢাকার উপর থেকে চাপ কমাতে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের গুরুত্ব বাড়াতে হবে। এখানের ১১ জেলাতেই রয়েছে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা।

তবে এ বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দিহান সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর টোল আদায় দেড় বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি হলেও এর রক্ষণাবেক্ষণে ইতিমধ্যেই খরচ হয়েছে ১৪২ কোটি ১২ লাখ ৮৩ হাজার ২৫ টাকা। এটা সেতু বিভাগের হিসাব। এদিকে ঢাকার উপর চাপ কিন্তু আগের তুলনায় তিনগুণ বেড়েছে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমি বলবো সরকারের উচিত ঢাকামুখী জনস্রোত থামানো। বরিশাল আর খুলনাই নয়, প্রতিটি জেলা শহরে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ নেয়া।




পটুয়াখালীতে পাঠ্য বইয়ের ভেতরে গাঁজা

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীতে পাঠ্য বইয়ের ভেতরে গাঁজা বহন করার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পটুয়াখালী গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে পৌর শহরের কলাতলা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর বল্লভপুরের মৃত আজিজ তালুকদারের ছেলে মো. জালাল তালুকদার (৫৫), চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা গ্রামের মৃত হরে কৃষ্ণ পালের ছেলে শ্রী ধ্রুব পাল (৫৬) এবং সদর উপজেলার বদরপুরের মৃত আসমত আলী ফরাজীর ছেলে মো. আলম ফরাজী (৫২)।

আটক ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন পটুয়াখালী ডিবির ইনচার্জ একেএম আজমল হুদা।

ঘটনার বরাত দিয়ে ওসি আজমল হুদা বলেন-দীর্ঘ দিন থেকে চট্টগ্রামের ধ্রুব পাল পটুয়াখালীর জালাল ও আলম ফরাজীকে গাঁজা সরবরাহ করতেন। এমন খবরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির এসআই সঞ্জীব কুমার সরকারের নেতৃত্বে ওত পাতেন ডিবি পুলিশ।

 

তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখিত তিনজনকে আটক করেন ডিবি। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের একটি বস্তা জব্দ করেন তারা। বস্তা খুলে দেখতে পান বইয়ের পাতার ভেতরের অংশ কেটে গাঁজা সংরক্ষণের স্থান তৈরি করে দুই কেজি বহন করছেন তারা। এ সময় ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানান- চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছে।

 




জাহাজ নির্মাণ শিল্পে তিনশ’ কোটি টাকার বিনিয়োগে ধস

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: জাহাজ নির্মাণ শিল্পে হঠাৎ করে শুন্যতা দেখা দিয়েছে। তালা ঝুলছে বরিশালের প্রায় সবগুলো ডকইয়ার্ডে।

অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে তিনশ’ কোটি টাকার বিনিয়োগ। এমনকি মেরামত করারও কোনো গ্রাহক পাচ্ছেন না ডকইয়ার্ডের মালিকরা। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পায়রা বন্দর পুরোপুরি চালু হলে আবারও এ শিল্প চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রমতে, একসময় জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতে কর্মব্যস্ত থাকা বরিশালের সুন্দরবন শিপইয়ার্ডে এখন সুনশান নীরবতা। আগে এ সময় তিন থেকে চারটি জাহাজ নির্মাণের কাজ চললেও এখন নেই একটিও। ফলে অলস সময় পার করছেন কর্মীরা। একই অবস্থা কীর্তনখোলার তীরে গড়ে ওঠা ১২টি শিপইয়ার্ডের। অথচ কয়েক বছর আগে সাড়া জাগিয়েছিল বরিশালের জাহাজ নির্মাণ শিল্প। বিনিয়োগ ছাড়িয়ে গিয়েছিলো প্রায় তিনশ’ কোটি টাকা। ওইসময় প্রতিবছর কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয়টি জাহাজ নির্মাণ করা হতো বরিশালের ডকইয়ার্ডে। যা এখন নেমে এসেছে শুন্যের কোঠায়। ডকইয়ার্ডের শ্রমিকরা জানিয়েছেন, আগে কাজের চাপে ছুটি না পেলেও এখন অলস সময় পার করছেন শ্রমিকরা। অনেকে আবার জাহাজের কাজ না থাকায় দিনমজুরের কাজ করছেন। গত একবছর ধরে তাদের কোনো কাজ নেই। এতে করে তাদের সংসার চালাতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।


সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু উদ্বোধণের পর সড়ক পথে দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে ব্যাপক পরিবর্তন আসায় নৌরুটে যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে। এরপর থেকেই জাহাজ নির্মাণে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন উদ্যোক্তারা। এমনকি প্রতিনিয়ত লোকসানের কারণে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ঋণদানকারী ব্যাংকগুলো। সুন্দরবন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক সোহাগ হাওলাদার বলেন, আগে বরিশালে প্রচুর জাহাজ নির্মাণ করা হতো। কিন্তু পদ্মা সেতুর বদৌলতে সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে ভাঁটা লেগেছে। যার প্রভাব পড়েছে ডকইয়ার্ডের ব্যবসায়। সরকার এবং ব্যাংকগুলো যদি পাশে না দাঁড়ায় তাহলে এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যাবেনা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের বরিশাল ব্রাঞ্চের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন বলেন, ব্যাংকগুলো সব সময় লাভ চায়। বর্তমানে শিপইয়ার্ড ব্যবসায় লোকসানে চলছে। তবে সরকার যদি আশ্বাস দেয় তাহলে আমরা পাশে দাঁড়াবো।


স্থানীয় নৌ-যান ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পায়রা বন্দর পুরোপুরি চালু হলে আবারও সুদিন আসতে পারে বরিশালের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে। আর এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সবধরনের সহায়তার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক এসএম জাকির হোসেন বলেন, বর্তমানে ব্যবসায় ভাঁটা চললেও পায়রা বন্দর পুরোপুরি চালু হলে জাহাজ নির্মান শিল্পে সুদিন ফিরে আসবে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, শিপইয়ার্ডগুলোতে এখন কিছুটা মন্দা চলছে। ব্যবসায়ীরা যদি আমাদের কাছে সহযোগিতা চায় আমরা সব সময় তাদের পাশে আছি।

উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালে বরিশালে প্রথম খাজা ডকইয়ার্ড নামের প্রতিষ্ঠান নৌযান নির্মাণ কাজ শুরু করে। ২০০০ সালের পর থেকে নগরীর বেলতলায় শুরু হয় আধুনিক ও বিলাসবহুল জাহাজ নির্মাণ। এরপর থেকেই ক্রমান্বয়ে বরিশালে আধুনিক শিপইয়ার্ড গড়ে ওঠে।




বরিশালে উচ্ছেদের পর ফের দখল

বরিশাল অফিস :: উচ্ছেদের বছর পেরোতে না পেরোতেই ফের রাস্তার পাশের জমিতে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। এতে যানজটের ভোগান্তি বেড়েছে বরিশালে শহরে।

প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব জমি ফের দখলদারদের হাতে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সূত্রমতে, যানজটের ভোগান্তি কমাতে গত বছরের অক্টোবর মাসে বরিশাল নগরীর সাগরদী, রূপাতলী ও দপদপিয়া এলাকায় রাস্তার পাশের প্রায় সাতশ’ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিলো প্রশাসন। এতে প্রায় ৩০ একর জমি উদ্ধার হয়েছিলো। তবে বছর না গড়াতেই অধিকাংশ জমিতে আবারও গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। সাধে ফিরেছে যানজটের ভোগান্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় উচ্ছেদের কিছুদিনের মধ্যেই সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ট্রাফিক বিভাগের মূল কাজ হলো যানজট নিরসন করা। অথচ রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনার জন্য যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। বাস চালক যারা রয়েছেন তারা সময় মেনে চলতে পারছেন না। মারাত্মক যানজটের কারণে গাড়ি নিয়ে সামনে এগোনোর কোনো উপায় থাকে না। উচ্ছেদের পর পরই আবার দখল হয়ে গেছে রাস্তার পাশের জমি।

বরিশাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বলেন, আমরা বাস মালিক সমিতি থেকে বার বার উচ্ছেদের ব্যবস্থা করি। কিন্তু স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ও তাদের সহযোগিরা উচ্ছেদ হওয়া জমি আবার দখল করে নেয়। এরা দখল করা জমিতে দোকান নির্মান করার সুযোগ করে দিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছেন। যেকারণে যাত্রী সেবা দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদ পরবর্তী জমি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সড়ক বিভাগের। আর সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেছেন, সবার সহযোগিতা ছাড়া অবৈধ দখলদারদের ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

সার্বিক বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, সরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা বিভাগের জমি অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধারে জেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করছে। তবে যাদের জমি উদ্ধার করে দেওয়া হয় তাদেরকেও পরবর্তী করণীয়গুলো করতে হবে যাতে পুনরায় জমি অবৈধ দখল হয়ে না যায়।

বরিশাল সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ মাসুদ খান বলেন, বরিশালের ১৬শ’ কিলোমিটার সড়ক একা আমাদের পক্ষে তদারকি করা সম্ভব নয়। এরজন্য সবার সহায়তা দরকার। তবে উচ্ছেদের পর আবার দখলের নেপথ্যে সড়ক বিভাগের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 




বরিশালে অসহায় মানুষের ভরসা “আশা মনি”

বরিশাল অফিস :: কারো কাছে তিনি আশা আপু, কারো কাছে আশা দিদিমনি, আবার কারো কাছে শুধুই আশা মনি। তবে যে নামেই তাকে ডাকা হোক না কেন, তিনি তাতেই সারা দিচ্ছেন। সদা হাস্যোজ্জল সাদামনের এ মানুষটি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সবার পরিচিত একটি মুখ। জনপ্রতিনিধি না হয়েও শুধু নিজের ইচ্ছে শক্তি আর স্বামীর অকুন্ঠ সমর্থনে টানা ১৮ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। প্রতিমাসে একবার নিজ বাড়িতে সভা করে এলাকাবাসীর সমস্যার কথাশুনে তা লিখে রাখেন আশা মনি। পরবর্তী একমাস ওইসব সমস্যা সমাধানে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে এলাকাবাসীর কাছে মুজিব প্রেমিক সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী মৌরিন আক্তার আশা মনি আজ একমাত্র আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের আগরপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিয়াবাড়ির সন্তান মরহুম আনাম মিয়ার একমাত্র মেয়ে আশা মনি।

উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত করোনাকালীন সময়ে ব্যবসায়ী স্বামী কামরুজ্জামান স্বজলের দেয়া অর্থ, নিজের স্বর্ণলংকার বিক্রি এবং সঞ্চয় করা অর্থ দিয়ে তিনি উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে প্রায় ২৬ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন। চলতি শীত মৌসুমের শুরুতেই তিনি উপজেলার অসহায় ও দুঃস্থ শীতার্তদের মাঝে পাঁচ হাজার কম্বল বিতরণ করেছেন।

বিগত শারদীয় দুর্গা উৎসবের সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই হাজার নারীদের মাঝে নতুন শাড়ী ও বিভিন্ন মন্দিরে সাধ্যমতো অর্থ বিতরণ করেছেন। স্কুল জীবন পেরিয়ে কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে আশা মনি ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। সেই থেকে অগণিত কর্মী সমর্থক নিয়ে রাজপথের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শুরু করে দলীয় কর্মসূচীতে রয়েছে তার সক্রিয় অংশগ্রহন।

মাত্র ২১দিন বয়সে বাবাকে ও সাড়ে তিনবছর বয়সে মাকে হারানো আশামনি বড় হয়েছেন তার চাচাদের সংসারে। ২০০৯ সালে একই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড রমজানকাঠী গ্রামে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর ব্যবসার সুবাধে শহরের পরিবেশে আয়েশি জীবনযাপন করার সুযোগ হলেও শুধুমাত্র তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ শুন্য আগরপুরে দলকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবা এবং মরহুমর বাবার স্মৃতি রক্ষায় আশা মনি থেকে যান গ্রামে। এতেই তার জীবনে নেমে আসে লোমহর্ষক ঘটনা।

আশা মনির চাচা ও স্বামীর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে (আশা) আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে সরে আসার জন্য চাঁপ প্রয়োগ করতে থাকেন। কারণ তারা সবাই অন্যদলের সমর্থক। কিন্তু আশা মনিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে সরাতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে আশা মনি’র চাচাদের ইন্ধনে তার স্বামীর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য আশা মনিকে হুমকি প্রদান করতে থাকেন।

পরবর্তীতে পাশ্ববর্তী ভরসাকাঠী গ্রামে বসতি স্থাপন করেন আশা মনি’র স্বামী। সেখানে বসেই দীর্ঘদিন থেকে স্বামী কামরুজ্জামান স্বজলের অকুন্ঠ সমর্থনে দলীয় কর্মকা- পরিচালনা করে আসছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী মৌরিন আক্তার আশা। একজন জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিঃস্বার্থ ও পরোপকারী মৌরিন আক্তার আশা দীর্ঘদিন থেকে ব্যবসায়ী স্বামীর অকুন্ঠ সমর্থনে সমাজ সেবায় বিভিন্নক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। তিনি মানুষকে সহজেই আপন করে নিতে পারেন। যুক্ত রয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে। শিক্ষা, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় তিনি একাধিক পদকে ভূষিত হয়েছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে তিনি গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত প্রায় তিন শতাধিক পরিবারের সদস্যদের সরকারি বিভিন্ন ভাতার আওতায় নিয়ে এসেছেন। পাশাপাশি অসংখ্য পরিবারকে গভীর নলকূপ পাইয়ে দিয়েছেন। গ্রামের অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারগুলোর একমাত্র আশার আলো আশা মনিকে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিদ্বন্ধীতা করতে উপজেলাবাসী মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবে প্রচার বিমুখ আওয়ামী লীগ নেত্রী মৌরিন আক্তার আশা মনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করতে হলে জনপ্রতিনিধি হতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। শুধু নিজের ইচ্ছে শক্তি আর ভাল একটা মন থাকতে হয়। তিনি আরও বলেন, আমি সর্বদা মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুসরণ করছি। তার দেখানো পথেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্ঠা করছি।

গ্রামের অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের কেউ যেন বলতে না পারেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে না খেয়ে আছি, সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের কল্যাণে কাজ করছি। বিগত ১৫ বছর ধরে আশা মনি প্রতিটি রমজান মাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার শহীদ পরিবারের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনার জন্য আশা মনি প্রতিদিন ৫০ জন ব্যক্তির জন্য সেহরি এবং ৫০ জনের ইফতারীর আয়োজন করে সর্বদা প্রশংসা কুড়িয়েছেন। নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও তিনি কাজ করছেন। বাল্য-বিয়ের কুফল সম্পর্কে গ্রামের নারীদের তিনি সচেতন করছেন।

বঙ্গবন্ধু প্রেমিক ও বাবুগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক মৌরিন আক্তার আশা বলেন, আসলে কোনো সম্মাননার জন্য আমি কাজ করিনা। সমাজের অবহেলিত ও দুঃস্থ মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন সামান্য কর্মী হিসেবে যখন ওইসব মানুষের হাতে প্রধানমন্ত্রীর নাম বলে তার পক্ষ থেকে কিছু তুলে দিতে পারছি, তখনই নিজের কাছে খুব ভালো লাগে।

জনপ্রতিনিধি হওয়া প্রসঙ্গে মৌরিন আক্তার আশা বলেন, বর্তমানে পুরো উপজেলাবাসী চাচ্ছেন আমি যেন আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করি। তবে আমি বলতে চাই, কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় আমি ইতিহাস থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালবেসেছি।

তারপর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুসরণ করে রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছি। দলের নীতিনির্ধারকরা যদি মনে করেন, আমি জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। নতুবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন সামান্য কর্মী হিসেবে সমাজের অবহেলিত ও দুঃস্থদের জন্য আমৃত্যু কাজ করে যাবো।




বরিশালে ধানের চারা রোপনের উদ্বোধণ

বরিশাল অফিস :: চলতি অর্থবছরে রবি মৌসুমে বোরো ধানের হাইব্রীড জাত বীজ সমলয়ে চাষাবাদ ব্লক প্রদর্শনী স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপনের উদ্বোধণ করা হয়েছে।

বুধবার সকালে জেলার গৌরনদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে খাঞ্জাপুর এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে ধানের চারা রোপনের উদ্বোধণ করেছেন জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম।

এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি অধিদপ্তর বরিশালের উপ-পরিচালক মোঃ মুরাদুল হাসান, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম।

বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সেকেন্দার শেখ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপংকর বাড়ৈ, ইউপি সদস্য হেলেনা বেগম, কৃষক সবুজ হাওলাদার প্রমুখ।

 




১ বছরের সাজা এড়াতে ২৭ বছর পলাতক, তবুও হলো না রক্ষা

বরিশাল অফিস :: ১ বছরের সাজা এড়াতে ২৭ বছর পলাতক, তবুও হলো না রক্ষা

ঝালকাঠির নলছিটিতে ২৭ বছর পর যৌতুক মামলায় ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি আলমগীর হোসেনকে (৫৯) গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৮)।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সিপিএসসি কোম্পানির অধিনায়ক (উপ-পরিচালক) মেজর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতার হওয়া আলমগীর হোসেন নলছিটি উপজেলার রাজাবাড়িয়া এলাকার মৃত হাজী মানিক শাহ শরীফের ছেলে।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে ঝালকাঠি আদালতে আলমগীরের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনের একটি মামলা হয়। যার মামলা নম্বর- সিআর-৬৬১/৯৬ (নলছিটি)। পরে ১৯৯৯ সালে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরে তিনি প্রবাসে গিয়ে ২৭ বছর পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি ওয়ারেন্ট জারি করেন। ২৭ বছর পলাতক থাকার পর ৯ মাস আগে দেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে র‌্যাব-৮ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে নলছিটি থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।