ঠান্ডার কারণে বরিশালের নদীতে কমেছে ইলিশ

বরিশাল অফিস : শীত মৌসুমে বরিশালের নদ-নদীতে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ আহরণ কমেছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ৭০০ টন ইলিশ কম ধরা পড়েছে। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহনীয় মাত্রার চেয়ে তাপমাত্রা কম হওয়ায় নদ-নদীতে ইলিশ কম এসেছে।

আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক বশির আহমেদ বলেন, ২৩ জানুয়ারি বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গোটা মাসে এবার তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রির নিচেই ছিল।

বরিশাল মহানগরের পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে ইলিশের সরবরাহ কম দেখা গেছে। তবে জাটকার ছড়াছড়ি ছিল। গতকাল ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ১০০, ৬০০-৯০০ গ্রামের ১ হাজার ৮৫০ এবং এক কেজির ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। ওই মোকামের লিয়া এন্টারপ্রাইজের আড়তদার নাসির উদ্দিন বলেন, ইলিশ নাই বললেই চলে। গত মাসে আরও কম ছিল। ১৫ দিন ধরে ৪০-৫০ মণের বেশি ইলিশ মোকামে ওঠে না। সাধারণত তিনটিতে এক কেজি এমন ইলিশ বেশি।

জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, তাপমাত্রা কমায় জানুয়ারিতে মাছ ধরা পড়েছে কম। ইলিশ, পোয়া কম আহরিত হয়েছে। তাপমাত্রা যেখানে কম থাকে, সেখান থেকে মাছ সরে অন্যত্র চলে যায়।

মৎস্য কর্মকর্তা জানান, গত জানুয়ারিতে ইলিশ ধরা পড়েছে প্রায় ২ হাজার ৯০০ টন। তবে গত বছরের জানুয়ারিতে ছিল ৩ হাজার ৬০০ টন। অর্থাৎ গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় এ বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ৭০০ টন কম ইলিশ ধরা পড়েছে।

জেলেরাও বলছেন, শীতে ইলিশের দেখা মিলছে না। মেঘনা ঘেরা হিজলার উলানিয়া গ্রামের জেলে তোফায়েল হোসেন বলেন, শীত পড়েছে তীব্র। নদীতে জাল ফেললে ইলিশ মেলেনি তেমন একটা। ঠান্ডায় মাছ হারিয়ে গেছে।

চন্দ্রমোহনের কালাবদর নদীর টুমচরের জেলে নেতা আব্দুস সালাম জানান, নদীতে কেবল জাটকা; ইলিশ মিলছে না। ঠান্ডায় জেলেরা খালি নৌকা নিয়ে ফিরছেন। অথচ গত বছর শীতের মধ্যেও প্রচুর বড় ইলিশ পাওয়া গেছে।

চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা হ্রাসের কারণে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও বরিশালে নদীভিত্তিক ইলিশ আহরণ হ্রাস পাচ্ছে। ২০১৭-১৮ সালে দেশে মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪ লাখ মিলিমিটার; কিন্তু ২০২২-২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ মিলিমিটারে। এ ছাড়া মাছের জন্য সহনীয় তাপমাত্রা আছে। ইলিশের ক্ষেত্রে তা ২৫ ডিগ্রি থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রায় ইলিশের প্রজনন এবং বৃদ্ধি ভালো হয়। অন্যদিকে কার্পজাতীয় রুই, কাতল মাছের ক্ষেত্রে ২৫ ডিগ্রি থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হচ্ছে উত্তম।

মৎস্য বিশেষজ্ঞ ড. আশরাফুল বলেন, ইলিশ, রুই, কাতলের পেটের দিক দিয়ে লম্বা লাইন থাকে। সেখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সেন্সর থাকে। ওই সেন্সর তাপমাত্রা অনুভব করতে পারে। পানির যেখানে অক্সিজেন ও তাপমাত্রা কম, সেখান থেকে মাছ অনুকূল তাপমাত্রাসমৃদ্ধ স্থানে চলে যায়। বরিশাল অঞ্চলেও তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ওই এলাকা থেকে হয়তো সরে গেছে ইলিশসহ অন্য সব মাছ। নদ-নদীতে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমাণও কমেছে। ২০০৬-০৭ সালের তুলনায় ২০২২-২৩ সালে নদ-নদীতে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমাণ কমেছে ৬ ভাগ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব ঘটছে বলে তিনি মনে করেন।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, নদীতে জাটকা বেশি। এটি রক্ষা করতে পারলেই ইলিশ বাড়বে। বিগত কয়েক বছরে জানুয়ারিতে নতুন একটি সিজন শুরু হয়েছিল ইলিশের। কিন্তু এবার কেন কম তা খতিয়ে দেখতে হবে। অত্যধিক শীতের কারণেও ইলিশ কমতে পারে।




যে গ্রামে শুধু পুরুষদের বসবাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  এটি কোনো সিনেমার গল্প নয়, সত্যিই এমন গ্রাম আছে প্রতিবেশী দেশ ভারতেই। যে গ্রামে কোনো নারী নেই, যারা বসবাস করেন সবাই পুরুষ। মিশরে আল-সামাহা নামক গ্রামে কোনো পুরুষ নেই। সেখানে এখন ৩০৩ জন নারী বাস করছেন। ওই গ্রামে পুরুষ প্রবেশ নিষেধ।

অন্যদিকে বিহারের কাইমুর পাহাড়ের অনেকটা উপরের দিকে বারওয়ান কালা নামে একটি গ্রাম রয়েছে। এ গ্রামে শুধু পুরুষদেরই বাস। পুরো গ্রামে শুধু পুরুষররাই থাকেন। এই গ্রামে নেই কোনো নারী। এই গ্রামের পুরুষেরা কখনো বিয়েও করেন না। চিরকুমার থাকেন।

তবে বারওয়ান কালা গ্রামের পুরুষেরা যে বিয়ে করতে চান না, তা নয়। আসলে কোনো নারী এই গ্রামের পুরুষদের বিয়ে করতে চান না। গত ৫০ বছরে কোনো নারী এই গ্রামের কোনো পুরুষকে বিয়ে করতে রাজি হননি। ফলে এ গ্রামের পুরুষরা অবিবাহিতই থেকে যান।

কিন্তু কেন কোনো নারী এ গ্রামের পুরুষদের বিয়ে করতে চান না? আসলে, বিহারের কাইমুর পাহাড়ের অনেকটা উপরের দিকে বারওয়ান কালা গ্রাম। পাহাড়ে চড়াই পথে পাথর কেটে, জঙ্গল কেটে কোনোক্রমে যাতায়াতের একটি পথ বানিয়ে নিয়েছেন গ্রামবাসীরাই।

সেই পথ ধরেই যাতায়াত করতে হয় এই প্রত্যন্ত গ্রামে। সেখানে বসবাসের ন্যূনতম পরিকাঠামোরও অভাব রয়েছে। পুরুষেরা কোনোক্রমে যদি বা থেকে যান, নারীদের পক্ষে এই গ্রামে থাকা এককথায় অসম্বব।

তাই কোনো নারী বা তার পরিবার এই গ্রামের কোনো পুরুষের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চান না। তাই এ গ্রাম বিয়ে হয় না। এর মধ্যে একটি ব্যতিক্রম আছে। ২০১৭ সালে এ গ্রামের এক যুবক বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামে এসেছিলেন। এ গ্রামের গল্পটা বলিউডের সেই সিনেমার মতোই। যেখানে মেয়ে সন্তান হলেই মেরে ফেলা হতো। এক সময় দেখা যায় গ্রামে কোনো মেয়েই নেই। এরপর লুকিয়ে বড় হওয়া এক মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় পাঁচ ভাইয়ের। তারপর নানান ঘটনায় মোড় নেয় ছবি কাহিনি।

সূত্র: নিউজ ১৮




পটুয়াখালীত নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালী জেলার গলাচিপায় আমখোলা ইউনিয়নের ‘মুদিরহাট নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ উদ্বোধন করেন আমখোলা ইউনিয়ন ইউপি সদস্য (চেয়ারম্যান) জনাব কামরুজ্জামান মনির হোসেন।

নাইট টুর্নামেন্টে মোট সাতটি দল অংশগ্রহণ করবে। এ দলগুলো হলো – ব্রাদার্স স্কোয়ার্ড, মা-বাবার দোয়া এন্টারপ্রাইজ, মুদিরহাট কিং একাদশ, হানজালা স্পোর্টিং ক্লাব, টপ এলিবেন, যুব একাদশ, হরিদেবপুর একাদশ।

নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলায় যারা কমিটির দায়িত্ব পালন করবেন তারা হচ্ছেন – রকিবুল ইসলাম রাফি, ইলিয়াস মাহমুদ, মেহেদী হাসান ও মো. রেজাউল।

আমখোলা ইউনিয়ন ইউপি সদস্য (চেয়ারম্যান) জনাব কামরুজ্জামান মনির হোসেন বলেন, আমাদের সবার বাচ্চাদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে করে তারা মাদক থেকে দূরে থাকে। এছাড়া খেলাধুলা হচ্ছে এক ধরনের শারীরিক ব্যায়াম। তাই সব বাবা-মায়ের উচিৎ – লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি বাচ্চাদের আগ্রহ সৃষ্টি করা।

 




ছারছীনায় তিন দিনব্যাপী মাহফিল ও হিজবুল্লাহ সম্মেলন

বরিশাল অফিস :: ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ বলেছেন, ছারছীনা দলীয় রাজনীতিমুক্ত একটি আধ্যাত্মিক হক দরবার। মানুষের আমল আকিদা ও আদর্শ ঠিক রেখে একদল আল্লাহওয়ালা মানুষ তৈরি করার জন্যই এ দরবার কাজ করে থাকে। এ দরবার কখনো শিরক ও বেদায়াতকে প্রশ্রয় দেয় না বরং এর বিরুদ্ধে সব সময় কাজ করে। এই দরবারে বিভিন্ন দল-মত ও মতের লোক আগমন করে থাকেন যারা আসেন মেহমান হয়ে। আমরা প্রিয় নবী (সাঃ) এর নির্দেশ মোতাবেক তাদের সাধ্যমত সম্মান করার জন্য চেষ্টা করি।

ছারছীনা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা কুত্বুল আলম আল্লামা শাহ সুফি নেছারুদ্দীন আহমদ (রহঃ) এর ৭৪ তম ও মাওলানা শাহ সূফি আবু জাফর মোহাম্মদ ছালেহ (রহঃ) এর ৩৪ তম ইন্তেকাল বার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ঈছালে ছওয়াব মাহফিল ও হিজবুল্লাহর সম্মেলন বৃহস্পতিবার দিবাগত জুমার রাত সোয়া দুইটায় মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

মাহফিলে দেশ বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও ছারছীনা মাদ্রাসার ওস্তাদগণ বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।




বরিশাল প্রেসক্লাব সভাপতির সুস্থতা কামনায় দোয়া

বরিশাল অফিস :: শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুলের সুস্থতা কামনায় দোয়া-মোনাজাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ক্লাবের হলরুমে এই দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, জ্যেষ্ঠ সদস্য নুরুল আলম ফরিদ, কাজী মফিজুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুরাদ আহমেদ, বীরেন সমাদ্দার, জিয়া শাহিন, এম মিরাজ হোসাইন, কোষাধ্যক্ষ সুখেন্দু এদবর, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক কেএম নয়ন, নাসির উদ্দিন, মোহন দেওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় চিকিৎসাধীন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুলের সুস্থতা কামনা করে দোয়া করা হয়।

উল্লেখ্য, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল গুরুতর অসুস্থ। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি কিডনি এন্ড কার্ডিয়াক হাসপাতালের আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।




ভোলায় জেলেদের মধ্যে জাল বিতরণ

বরিশাল অফিস :: জেলার সদর উপজেলায় আজ ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’র আওতায় সুফলভোগি জেলেদের মধ্যে বৈধ জাল বিতরণ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলেদের হাতে এসব জাল তুলে দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন।

ভোলার জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. আলমগীর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. হেমায়েত উদ্দিন, মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (বরিশাল বিভাগ) নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহ, ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানে মোট ৯৬ জন জেলের মধ্যে বৈধ জাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি জাল একহাজার ৭০০ ফুট লম্বা।

এর আগে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন ভোলা সার্কিট হাউসের হলরুমে ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে স্টেক হোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় করেন।




পটুয়াখালীর পিরতলা খালটি বিলীনের পথে

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর দুমকিতে উপজেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরকারি রেকর্ডিও খালটি এখন দখল-ভরাট আর ময়লা ফেলায় আর্বজনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ খালটি খনন ও পরিচ্ছন্নতার অভাবে ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে খালের অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।

এ খালটির পাশেই উপজেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী পিরতলা বন্দর, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, সৃজনী বিদ্যানিকেতনের স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

সরেজমিন দেখা যায়, শহরের খালটি আর্বজনায় ভরা। কোথাও পানি জমে আছে আবার কোথাও ময়লার স্তুপ সৃষ্টি হয়েছে এবং কচুরিপানায় ভরে আছে। এ ছাড়া খালের পাড়ে অনেকগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের কারণে মাটি ভরাটের ফলে খালের পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

পুনম কি আসলেই মারা গেছেন, নাকি প্রচারের কুশল?পুনম কি আসলেই মারা গেছেন, নাকি প্রচারের কুশল?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৮ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি পরিচ্ছন্নতার উদ্বোধন করা হয়। সে সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তার কয়েকদিন পরই রহস্যজনভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়।

পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা জানান, খালের দুর্গন্ধের কারণে তাদের যাতায়াতে সমস্যা হয়। সুস্থ পরিবেশের কথা চিন্তা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি তাদের।

সৃজনী বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল কুদ্দুস জানান, বর্ষা মৌসুমে ময়লার দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুমে ঢোকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে গন্ধে টিকতে পারে না।

শ্রীরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজাহার আলী মৃধা জানান, আগা-গোড়ায় স্লুইস গেটের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ক্রমেই খালটি ভরাট হয়ে গেছে। পাশাপাশি অবৈধ দখলদাররাও যে যেমন পারছে ভরাট করে দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয়তন বৃদ্ধি করায় খালটি অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। এ অবস্থার মধ্যে অসচেতন ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষজন খালে নিয়মিত ময়লা আবর্জনা ফেলছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনামিকা নজরুল বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। সবকিছুই আমার অজানা। দ্রুত সময়ের মধ্যে খোঁজ-খবর জানার চেষ্টা করছি। সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




ভোলার গ্যাস ভোলাতেই বিতরণের অগ্রাধিকার: প্রতিমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: ভোলার গ্যাস ভোলাতেই বিতরণের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ভোলা গ্যাসক্ষেত্রে পরিদর্শন করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ভোলার শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আবাসিক এলাকাকে গ্যাস বিতরণে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এখন দিনে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস তোলা সম্ভব হচ্ছে। আরও তিনশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস তোলা সম্ভব হলে সেটি পাইপ লাইনের মাধ্যমে অন্যান্য এলাকায় নেয়া সম্ভব হবে। সেই লক্ষেই পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়ার কথাও জানালেন তিনি।

ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ছয়টি কূপ খনন করা হয়েছে। পাঁচটি কূপ থেকে মিলছে গ্যাসের উৎপাদন। এছাড়াও ভোলা নর্থ গ্যাসক্ষেত্রে দুইটি ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্রে একটি কূপ খনন করা হয়েছে। চাহিদা কম থাকায় সেখানে গ্যাস তোলার প্রসেস প্লান্ট হয়নি।

ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা বাসাবাড়িতে গ্যাস ব্যবহার করা। সম্প্রতি ভোলা গ্যাসক্ষেত্র পরিদর্শনে গিয়ে ভোলাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে ভোলার বাসাবাড়িতে গ্যাস দেয়ার পরিকল্পনা আছে।

ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে অন্যান্য এলাকায় নেয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আছে। তবে তা জেলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র, স্থানীয় শিল্প ও বাসাবাড়ির চাহিদা পূরণের পর। সঞ্চালনের মতো গ্যাস পেলে সেটিও পাইপ লাইনে বিতরণ করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

ভোলার গ্যাস যাবে বরিশাল-পটুয়াখালী: প্রতিমন্ত্রীভোলার গ্যাস যাবে বরিশাল-পটুয়াখালী: প্রতিমন্ত্রী দ্বীপ জেলা ভোলায় বড় ধরনের গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে জরিপ ও অনুসন্ধান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।




কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভীর

বরিশাল অফিস :: সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ভিড় করেছে শত শত পর্যটক। প্রতি সপ্তাহের ন্যায় বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল থেকেই পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় পর্যটকের আগমন ঘটে।আজ শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে আগত পর্যটকরা সৈকতের বালিয়াড়ীতে আনন্দে মেতেছেন। কেউ সৈকতের বেঞ্চে বসে শান্ত সমুদ্রের বিশালতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। কেউ আবার ঘুরে দেখছেন তিন নদীর মোহনা, লেম্বুরবন, শুটকিপল্লী, ঝাউবাগান ও গঙ্গামতিসহ পর্যটন স্পটগুলো।

পুরান ঢাকা থেকে আসা আবু তাহের ইমরান বলেন, সারাদিন কাজ করতে হয়। কাজ করতে করতে বিরক্তি চলে আসে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ার কারণে একঘেয়ামি ও নাগরিক কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে প্রকৃতির কাছে কুয়াকাটা ভ্রমণে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, এখানে আসার পরে খাবার হোটেলের খাবারের মানের চেয়ে দাম বেশি মনে হয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক হোটেলের রুমের ভাড়া অনেক বেশি। এখানে অভিযান পরিচালনা করা উচিৎ।

ঝিনুক ব্যবসায়ী তরিকুল বলেন, দীর্ঘদিন পর পর্যটকদের আগমন ঘটছে। যার ফলে বিক্রি বেড়েছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভ্রমণে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

 




আমতলীতে জমি নিয়ে বিরোধ : সংঘর্ষে আহত ২৫

বরিশাল অফিস : বরগুনার আমতলীতে বিরোধীয় জমিতে ঘর তুলতে গিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ২৫ জন আহত হয়েছে।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে আমতলী উপজেলার ঘটখালী (উতশীতলা) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গুরুতর আহত ১২ জনকে বরিশাল শেবাচিম ও পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও অপর আহতদের আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জানা গেছে, চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী (উতশীতলা) গ্রামের তোতা হাওলাদারের সাথে আমতলী সদর ইউনিয়নের উত্তর টিয়াখালী গ্রামে জামাল বিশ্বাসের সাথে ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলে আসছে। ওই জমি তোতা হাওলাদার ও তার লোকজন ভোগদখল করছে। জামাল বিশ্বাসের দাবি ওই জমি আদালত তার পক্ষে রায় দিয়েছে। শুক্রবার সকালে অর্ধ শতাধিক লোকজন নিয়ে জামাল বিশ্বাস ওই বিরোধীয় জমিতে ঘর তুলতে আসে। এতে তোতা হাওলাদারের লোকজন বাধা দেয়। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়। আহতদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাব্বি গুরুতর আহত আমান হাওলাদার, ইব্রাহিম বিশ্বাস, আইরিন, জসিম হাওলাদার,শহীদুল হাওলাদার, শেফালী, আকলিমা, জামাল বিশ্বাস, পারভেজ, কালাম বিশ্বাস, ছালাম বিশ্বাস, সোহরাফ খাঁনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেছে এবং বাবুল হাওলাদার ও মহসিনকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অপর আহত জান্নাতি, সারমিন, রহিমা, বিউটি, রোজিনা, শামীমা, রাকিব ও রোজিনা আক্তারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। খবর পেয়ে আমতলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, ট্রাকে করে দেশীয় অস্ত্রসহ জামাল বিশ্বাস লোকজন নিয়ে জমিতে ঘর তুলতেছিল। এতে তোতার মিয়ার লোকজন বাঁধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

আহত জামাল বিশ্বাস বলেন, ওই জমি নিয়ে আমার সাথে তোতার দীর্ঘদিন করে মামলা চলে আসছে। আদালত আমার পক্ষে রায় দিয়েছে। ওই জমিতে আমি ঘর তুলতে গেলে আমাকে ও আমার লোকজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। আমি এ ঘটনায় শাস্তি দাবি করছি।

তোতা হাওলাদার বলেন, আমার ভোগদখলীয় জমিতে জোরপুর্বক জামালা বিশ্বাস অর্ধ শতাধিক ভাটারিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে ঘর তুলতে ছিল। আমি এতে বাধা দেয়ায় আমার ছেলেসহ অন্তত ১৫ জনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করছে। আমি এ ঘটনার শাস্তি দাবি করছি।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাব্বি বলেন, গুরুতর আহত ১২ জনকে বরিশাল শেবাচিম ও পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

আমতলী থানার অফিসার আনচার্জ (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।