মেঘনায় সরকারি চালবাহী কার্গোতে ডাকাতি

বরিশাল অফিস :: বরিশালের হিজলা উপজেলায় সরকারি চালবাহী কার্গোতে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশের ধারণা, জেলেদের সঙ্গে কোনো ঝামেলা হয়েছে সেটাই ডাকাতি বলে প্রচার করা হচ্ছে।

রোববার ভোর রাতে মেঘনা নদীর তীরে হিজলা উপজেলার বাউশিয়া গ্রামের বোম্বাই শহর এলাকায় এই ডাকাতি হয় বলে জানিয়েছেন এমভি তুষার খান নামের কার্গোটির সুকানী কামাল হোসেন।

কামাল হোসেন বলেন, রোববার খুলনার মানিকতলা থেকে কার্গোতে ৬০০ টন চাল নিয়ে হিজলার গোডাউনে খালাস করার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রোববার ভোরে মেঘনা নদীর তীরে বোম্বাই শহর এলাকায় নোঙর করেন তারা।

সুকানী কামালের অভিযোগ, ফজরের আযানের সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ১০-১৫ জনের একটি দল কার্গোতে আসে। তারা অস্ত্রের মুখে কার্গোতে থাকা ৯ জনকে জিম্মি করে। পরে নগদ ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা, চারটি মোবাইল সেট, জামা-কাপড় ও জুতা নিয়ে গেছে। ঘটনাটি পুলিশকে জানালে তারা কার্গোটি পরিদর্শন করেছে।

হিজলা থানার ওসি মো. জুবাইর আহম্মেদ বলেন, ‘এটা ডাকাতি নয়। আসার সময় হয়ত কোনো জেলেদের জাল কার্গোর ইঞ্জিনের পাখায় বেধে কেটে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ জেলেরা এসে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। এ নিয়ে হয়ত তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। তাই বিষয়টি ডাকাতি হিসেবে প্রচার করছে। ডাকাতির উদ্দেশ্যে থাকলে সরকারি মালামালের ক্ষতি হতো। সেখানে তো ক্ষতি করা হয়নি।

ওসি বলেন, শীতকালীন মৌসুমে মেঘনা নদীতে প্রায়ই নৌযান ও জেলেদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো না কোনো ঘটনা ঘটে। তারপরেও বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

 




মিয়ানমারের ১৪ সীমান্তরক্ষী পালিয়ে বাংলাদেশে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের লড়াইয়ের মধ্যে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির অন্তত ১৪ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের বান্দরবানের তমব্রু বিজিবি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির একজন কর্মকর্তা। তাঁদের অস্ত্র ও গুলি বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) কাছে জমা রাখা আছে।

রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে শূন্যরেখা পেরিয়ে তুমব্রু ক্যাম্পে আশ্রয় নেন তারা।

এর আগে সকালে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের তুমব্রু এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছেন দুই বাংলাদেশি।

ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানিয়েছেন, মিয়ানমারের বিজিপির সদস্যরা তুমব্রু সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আনোয়ার বলেন, গতকাল বিকেলে গোলাগুলি শুরু হলেও চারটার দিকে বন্ধ হয়েছিল। আবার রাত তিনটার দিকে মুহুর্মুহু গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়।

রাতে বাইশফাঁড়ি সীমান্তে একটি গোলা এসে প্রবাসী নুরুল কবীরের বাড়িতে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনায় বাড়ির কেউ হতাহত হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন।

মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে আবারও তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। দায়িত্বশীল কোনো পক্ষ এ বিষয়ে বিস্তারিত না জানালেও বিভিন্ন সূত্র বলেছে, মিয়ানমারের সরকারি সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সঙ্গে সরকারবিরোধী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকান আর্মির (এএ) এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে।




ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৪নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে  হতদরিদ্রদের টাকা ও সদস্যদের সম্মানী আত্মসাৎতের অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন সদস্যরা।

উপজেলার ৪ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ লিটন ও সচিব মো. সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দাখিল করেন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসা. সালমা বেগম, সদস্য মো. সেলিম মোল্লা, মো. হাবিব চৌকিদার, মো. হানিফ মৃধা, মো. অলিউল ইসলাম ও মো. কবির হোসেন।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ইউপি ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্স, পরিষদের স্টল ভাড়াসহ রাজস্ব থেকে বাৎসরিক আয় ১ কোটি টাকা। ২৪ মাস পর্যন্ত ইউপি সদস্যদের সম্মানী ভাতা ৪ হাজার ৬০০ টাকা হারে ছয়জনের পাওনা ৬ লাখ ৬২ হাজার ৪০০। এর মধ্যে ইউপি সদস্যদের ১০ হাজার টাকা করে ৬০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ৬ লাখ ২ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনে ও সার্টিফিকেটে সরকার নির্ধারিত ৫০ টাকা নেওয়ার বিধান থাকলেও ইউপি সচিব সহিদুল ইসলাম ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
বিডব্লিউবি (ভিজিডি) ২০২৩–২৪ সালে নামের তালিকায় ওয়ার্ডভুক্ত সুবিধাভোগীদের তালিকা ইউপি সদস্যদের দিয়ে বাছাই না করিয়ে চেয়ারম্যান ও সচিবের অনুসারীদের দিয়ে করানো হয়েছে। এতে একই পরিবারে একাধিক সদস্য ও ধনাঢ্য পরিবারের নামও এসেছে।
ইউনিয়নে জেলেদের তালিকায় ১ হাজার ৮৩৫ জনের বিপরীতে ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ। সে হিসাবে চার মাসে ১৬০ কেজি চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু বিতরণ করা হয়েছে ১২০ কেজি।
হতদরিদ্রদের কর্মসূচি প্রকল্পের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভিন্ন রাস্তার কাজে চারটি প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৫০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ৩১৬ জন শ্রমিক দৈনিক ৪০০ টাকা হাজিরায় কাজ করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান ও সচিব জনৈক জাকিরের এস্ককাভেটর দিয়ে নামমাত্র কাজ করিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ৩১৬ জন জন ভুয়া লোক দিয়ে সিম সংগ্রহ করে সচিবের কাছে সংরক্ষণ করে কৌশলে টাকা উত্তোলন করা হয়।

গত ২১ জানুয়ারি সকাল ১০টায় পরিষদের সচিব সহিদুল ইসলাম ইউপি সদস্যদের জরুরি সভা ডাকেন। সভার শুরুতে পূর্বে সভার বিবরণ ও বর্তমান সভার বিষয় এবং বকেয়া সম্মানী ভাতা চাইলে চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যদের বরখাস্ত করার হুমকি দেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ লিটন বলেন, ‘ইউনিয়নের ছয়জন সদস্য আমার বিপক্ষের লোকদের দিয়ে প্রভাবিত হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।’

হতদরিদ্রদের দিয়ে ৪০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করে এস্ককাভেটর দিয়ে কাজ করার বিষয় জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রশাসনের সবাই এ বিষয় জানেন। আমি এ কাজ করিনি। সিবিসি যারা ছিল তারা করিয়েছে। সাত ইউনিয়নেই ভেকু দিয়ে কাজ করিয়েছে।’

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে শুনেছি। এ অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মনগড়া।’ হতদরিদ্রের ৩১৬ নামে ভুয়া সিম রেজিস্ট্রেশন এবং ওই সিম সংরক্ষণ ও টাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




শেখ জামাল সেতুতে কার্গোর ধাক্কা, সুরক্ষা দেয়াল ক্ষতিগ্রস্থ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার কলাপাড়া – কুয়াকাটা মহাসড়কের হাজীপুর এলাকায় সোনাতলা নদীর উপর নির্মিত শেখ জামাল সেতুর দুটি গার্ডারে বালুবোঝাই কার্গোর ধাক্কায় এর সুরক্ষা দেয়াল বা ফেন্ডার পাইল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ সময় ওই সুরক্ষা দেয়ালের পাশে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে নুরুল ইসলাম নৌকাসহ পানিতে ডুবে যান ও পরে সাঁতরে তীরে উঠেন।

সেতুর কাছে নিজামপুর এলাকায় কোস্টগার্ডের একটি আউটপোস্ট আছে। ওই আউটপোস্টের কমান্ডিং অফিসার মো. হুমায়ুন কাদির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় ৩২ হাজার ঘনফুট বালুবোঝাই এমভি ফাহিম মোল্লা কার্গোটি কুয়াকাটা সংলগ্ন খাজুরা থেকে পায়রা বন্দর যাচ্ছিল। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শেখ জামাল সেতুর গার্ডারের সুরক্ষা দেয়ালে ধাক্কা দেয়।’

কার্গোটির চালক মো. শফিক বলেন, ‘প্রচণ্ড স্রোতের টানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

জানতে চাইলে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোহাম্মাদ কামরুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা সেতু কর্তৃপক্ষকে জানাবো। সেখানকার টেকনিক্যাল টিম সরেজমিনে পরিদর্শন করে কার্গোর ধাক্কায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করবেন।’
এ ঘটনায় সড়ক ও জনপথ দপ্তরের কার্যসহকারী তারিকুল ইসলাম সৈকত মহিপুর থানায় মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

উল্লেখ্য, সাড়ে ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ দপ্তর নির্মিত ৪৮২ দশমিক ৩৭ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের এ সেতুটি ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন।




দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু: জাহিদ ফারুক

বরিশাল অফিস:: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেছেন, অক্সফোর্ড মিশন হাই স্কুল পুরাতন ১৯’শ সালে স্থাপিত হয়েছে। সেই সময় আগত শিক্ষকবৃন্দরা এখানে এসেছে এই দেশের মানবতার সেবা করার জন্য। একই সাথে আমাদের এই স্কুল স্থাপিত করেছে। তারা যে চিন্তা নিয়ে স্কুল স্থাপিত করেছে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে একটি সোনার বাংলা দেখতে চেয়েছিলেন। তিনি এই বাংলাদেশের দুঃখিত মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য রাত-দিন কাজ করেছেন। তার স্বপ্নের সঙ্গে শিক্ষকদের চিন্তা ধারার মিল আছে।

শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা অক্সফোর্ড মিশন হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রেফারেন্স ফাদার ফ্রান্সিস এস পিস বিপির সভাপতিত্বে বরিশাল অক্সফোর্ড মিশন হাই স্কুলের ১১৭ তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা- ২০২৪ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তারা যেমন মানবতার সেবা করার জন্য এসেছিল, শিক্ষাদান করার জন্য এসেছিল একইভাবে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সংগ্রাম করে বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এক সময় দরিদ্র দেশ ছিল, আজ উন্নয়নশীল দেশে পৌঁছেছে। ২০৪১ সালের ভিতরে আমরা সমৃদ্ধিশালী দেশে পৌঁছতে পারব। সেই লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সমৃদ্ধশালী ও একটি স্মার্ট দেশে পৌঁছতে হলে আমাদের আজকে যারা যুবসমাজকে ভবিষ্যতের জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। তার জন্য একদিকে যেমন তারা লেখাপড়া করতে হবে অন্যদিকে তাদের শারীরিক সুস্থতা ও বজায় রাখতে হবে। এই দুটোই সমন্বয়েই একটি দেশকে সমৃদ্ধশালী লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অতিথিরা। পরে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দরা সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা করেন। পরে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জাহিদ ফারুক শামীম এমপি। উদ্বোধন শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।




ফরচুন বরিশালের শ্বাসরুদ্ধকর জয়, প্রথম বিজিত খুলনা

 

বরিশাল অফিস :: শেষ দুই ওভারে দরকার ৩৭ রান। ফরচুন বরিশালের সমীকরণ অনেক কঠিন মনে হচ্ছিল ১৯তম ওভারের শেষ বল অবধিও। কিন্তু ওই বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণ কিছুটা সহজ করেন শোয়েব মালিক। শেষ ওভারে দরকার ১৮ রান, প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এক বল পর স্ট্রাইক পেয়ে চার ছক্কায় দলকে জিতিয়ে দেন শোয়েব মালিক।

শনিবার সিলেটে বিপিএলের ম্যাচে খুলনা টাইগার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বরিশাল। শুরুতে ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান করে খুলনা। রান তাড়ায় নেমে ২ বল আগেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বরিশাল। এবারের টুর্নামেন্টে পঞ্চম ম্যাচে এসে প্রথমবার হারলো খুলনা। ৫ ম্যাচ খেলে ৪ জয় ও এক হারে শীর্ষে আছে তারা। অন্যদিকে ৬ ম্যাচে ৩ জয়ে পাঁচে বরিশাল।

এদিন ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই সুবিধা করতে পারেনি খুলনা। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে গিয়ে প্রথম উইকেট হারায় তারা। আকিফ জাভেদের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরত যান এনামুল হক বিজয়। ১৩ বলে ১২ রান করেন এই ব্যাটার। এরপর তিনে খেলতে নেমে ৭ বলে ২ রান করে রান আউট হয়ে যান হাবিবুর রহমান সোহান। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ৪২ রান করতে দুই উইকেট হারায় তারা।

এরপর দলকে আস্তে আস্তে সামনে এগিয়ে নিচ্ছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন ও মাহমুদুল হাসান জয়। কিন্তু শোয়েব মালিকের করা নবম ওভারে দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে খুলনা। প্রথমে ২৪ বলে ৩৩ রান করা ইমনকে এলবিডব্লিউ করেন মালিক। পরের বলে নতুন ব্যাটার আফিফ ক্যাচ দেন মিড উইকেটে।

৬১ রানে ৪ উইকেট হারানো খুলনার চাপ আরও বাড়ে তাইজুল ইসলাম মাহমুদুল হাসান জয় ও দাসুন শানাকাকে ফেরালে। অবশ্য শুরু থেকে ভুগতে থাকা খুলনা শেষে এসে রান পেয়ে যায়। শেষ ৪ ওভারে তারা করে ৬৭ রান। ২৪ বল থেকে এই রানের জুটি গড়েন ফাহিম আশরাফ ও মোহাম্মদ নাওয়াজ।

ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ১৩ বলে ৩২ রান করেন ফাহিম। এছাড়া ৪ ছক্কায় ২৩ বলে ৩৮ রান করে অপরাজিত থাকেন নাওয়াজ। বরিশালের পক্ষে ৩ ওভারে স্রেফ ৭ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম। দুই উইকেট নেওয়া শোয়েব মালিক ৪ ওভারে দেন ২৪ রান।

রান তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বরিশালের। দ্বিতীয় ওভারেই আহমেদ শেহজাদ নাহিদুলের বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্পিং হন। তিন বল খেলে তখনও কোনো রান করতে পারেননি তিনি। নাহিদুলের করা পরের ওভারে অবশ্য ১৫ রান নেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার।

তামিম নিজের ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ১৮ বলে ২০ রান করে আউট হন তিনি। ফাহিম আশরাফের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন হাবিবুর রহমান সোহানের হাতে। দারুণ শুরুর পরও ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ বলে ২৬ রান করে আউট হন ফাহিম আশরাফের বলে ক্যাচ দিয়ে।

সময়ের সঙ্গে ম্যাচ কঠিন হতে থাকে বরিশালের জন্য। মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ফিরে গেলে সেটি আরও বেশি হয়। ‍কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ ও শোয়েব মালিক ২৩ বলে অপরাজিত ৫৫ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে দলকে জেতান। ১ চার ও ৩ ছক্কায় মিরাজ ১৫ বলে ৩১ রান এবং ৩ ছক্কা, ১ চারে ২৫ বলে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন শোয়েব মালিক।




পটুয়াখালীতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ

বরিশাল অফিস : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্টার গায়ে লাগিয়ে বাজারে বাজারে ঘুরছেন পটুয়াখালী রূপালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার গোলাম কবির ফরাজী। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, পটুয়াখালী নিউমার্কেটের বাজারের বিভিন্ন জায়গায় হাতে বাজারের ব্যাগ আর বুকে পোস্টার লাগিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সচেতন করছেন গোলাম কবির ফরাজী।

তার পোস্টারে লেখা, ‘ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ জারজরা, চড়া দামে বেশি জিনিস কিনবি না, বেশি কিনে বাজার চড়া করবি না।’ তার বুকের পোস্টার দেখে এই লেখা দেখে বাজারের বিভিন্ন ক্রেতা তাকে ধন্যবাদ জানান ও তার সঙ্গে ছবি তোলেন।জানা যায় যে, পটুয়াখালী সদর রোড গার্লস স্কুল রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন এই ব্যাংক কর্মকর্তা। এক ছেলে ও এক মেয়ের সন্তান নিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের বসবাস। ইংলিশে অনার্স মাস্টার্স শেষে ব্যাংকের চাকরিতে যোগদান করেন।

গোলাম কবির ফরাজী বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই একজন প্রতিবাদী মানুষ, আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের জীবনযাপনে সৎ পথে থাকা অনেক কষ্ট। ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজরা এই সমাজব্যবস্থাকে নষ্ট করে ফেলছে। এজন্য আমি তাদের বিরুদ্ধে আমার জায়গা থেকে যতটুকু পারি ততটুকু প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বাজারের এক ক্রেতার সঙ্গে হলে তিনি জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দুর্নীতি কারণে আজ সাধারণ মানুষের জীবনযাপন খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি এক ভাইকে দেখেছি তার বুকের সঙ্গে পোস্টার লাগিয়ে ঘুরছেন। আমি তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

পটুয়াখালী বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা ও দানবীর মোজাম্মেল নাসরিন এমা বলেন, এরকম প্রতিবাদী মানুষ আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় থাকা খুবই জরুরি। আমি মনে করি তার এই স্লোগানটা অনেক বড় একটি মেসেজ আমাদের সমাজব্যবস্থার জন্য। তার এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই, ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের আওয়াজ আরও জোরদার করতে হবে।

 




কলেজ ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ক্লার্কের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

,বরিশাল অফিস :: জেলার গৌরনদী উপজেলার হোসনাবাদ নিজাম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ক্লার্কের বিরুদ্ধে দ্বাদশ শ্রেনীর এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ক্লার্কের ভয়ে গত ১৫দিন থেকে কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন ওই ছাত্রী।

এ ঘটনায় অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও বিচার মেলেনি। অপরদিকে বিষয়টি ধামাচাঁপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল মরিয়া হয়ে উঠছে। শনিবার দুপুরে ভুক্তভোগী ওই কলেজ ছাত্রী অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক যুবকের কাছ থেকে এক মাস পূর্বে চার হাজার টাকায় তিনি একটি পুরাতন এ্যান্ড্রয়েট মোবাইল ক্রয় করেন।

কয়েকদিন আগে মোবাইল নিয়ে কলেজে যাওয়া হয়। কিন্তু কলেজে মোবাইল ব্যবহার নিষেধ থাকায় মোবাইলটি কলেজের ক্লার্ক জুয়েলের কাছে গচ্ছিত রাখা হয়েছিলো। পরবর্তীতে ওই মোবাইল চোরাই দাবি করে ক্লার্ক জুয়েল ওই ছাত্রীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয় ক্লার্ক জুয়েল। পরে বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।অভিযোগ করে ওই ছাত্রী আরও বলেন, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর জুয়েল তার লোকজন নিয়ে তাদের (ছাত্রীর) বাড়িতে এসে অভিযোগ উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করে।

ক্লার্ক জুয়েলের ভয়ে গত ১৫ দিন যাবত তাই কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন ওই ছাত্রী। অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ক্লার্ক জুয়েল বলেন, মোবাইল চুরির বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কলেজ অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বলেন, এবিষয়ে কলেজ গভর্নিং বডির জরুরি সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভার পর এবিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।




বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নেকে ফুলেল শুভেচ্ছা

বরিশাল অফিস :: মন্ত্রী পদমর্যাদায় থাকা বরিশাল-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে দশটার দিকে আগৈলঝাড়ার সেরালস্থ সংসদ সদস্যর বাসভবনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মাহিলাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু।

এ সময় বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস, উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, পৌর মেয়র গিয়াস উদ্দিন বেপারী, লোকমান হোসেন ডাকুয়া, মাহিলাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মৃধা, ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান, নুর আলম সরদার, সোলায়মান মৃধা ও স্বপন হালদার উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ -প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক

বরিশাল অফিস :: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য জীবন যৌবনের ১৪টি বছর পাকিস্তানীদের জেলে কারাভোগ করেছেন। স্বাধীনতার পর তিনি সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু সে সময় এ দেশের স্বাধীনতা যারা মেনে নিতে পারেনি তারাই বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন নস্যাৎ করে দিয়েছে।

শনিবার দুপুরে সরকারি বরিশাল জিলা স্কুলের পক্ষ থেকে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ে যেতে পারেননি কিন্তু তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন ঠিকই পুরন করার কাজ করে যাচ্ছেন। তাই আমরা এখন একটি উন্নয়নশীল দেশে অবস্থান করে নিয়েছি।

জিলা স্কুলের প্রধানশিক্ষক পাপিয়া জেসমিনের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আঞ্চলিক মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল আলম মজুমদার, জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।