বরিশালে হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

বরিশাল অফিস :: উজ্জ্বল অধিকারী (২২) হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানাধীন পাখিমারা এলাকায় ওই আসামি র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন।

সোমবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র‌্যাব-৮ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতার হওয়া আসামির নাম উত্তম অধিকারী (৩৫)। তিনি উপজেলার বেতমোড় ইউনিয়নের রাজপাড়া গ্রামের অনীল অধিকারীর ছেলে। এর আগে গত রোববার (০৪ ফেব্রুয়ারি) নিহতের বড় ভাই সজল অধিকারী (২৫) বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে প্রধান আসামি ছিলেন উত্তম।

স্থানীয়রা বলেন, নিহত উজ্জ্বল অধিকারী (২২) উপজেলার বেতমোড় ইউনিয়নের রাজপাড়া গ্রামের গৌতম অধিকারীর ছেলে। উপজেলার বেতমোড় রাজপাড়া গ্রামের কৃষক সুধীর অধিকারীর সঙ্গে প্রতিবেশী ননী গোপাল অধিকারীর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে হওয়া হামলায় উজ্জ্বল অধিকারী নিহত হন।

এ বিষয়ে র‌্যাব-৮ জানায়, গতকাল রোববার (০৪ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি উত্তম অধিকারীকে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানাধীন পাখিমারা এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।

দায়ের হওয়া মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (০১ ফ্রেব্রুয়ারি) দুপুরে নিহতের পিতা তাদের নিজ বসতঘরের পাশের ভোগদখলীয় জমিতে থাকা একটি তেতুল গাছ থেকে কিছু পাকা তেতুল পাড়া শুরু করেন। এ সময় প্রতিপক্ষ উত্তম অধিকারীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়ে। এক পর্যায়ে উত্তম অধিকারী ও তার লোকজন মিলে নিহতের পিতাকে মারধর করেন। এ ঘটনার বিষয়ে তার দুই ছেলে জানতে গেলে তাদের ওপরও প্রতিপক্ষের লোকেরা হামলা করে। এ সময় উজ্জ্বল অধিকারী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহত তিন পিতা-পুত্রকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উজ্জ্বলকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

বরিশাল মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের ভাই মামলা করেছেন। এরপর পুলিশ ননী গোপাল অধিকারী ও তার ছেলে নিরব অধিকারীকে গ্রেফতার করেছে। তবে র‌্যাবের হাতে একজন আটক হয়েছেন বলে শুনেছি।




বরিশালে কমেছে আলুর দাম

বরিশাল অফিস :: দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বর্তমান বাজারে ভারত থেকে আলু আমদানীর খবরে বরিশালের বাজারে কমেছে অতিপ্রয়োজনীয় সারাবছরের সবজি আলু দাম। দেশের উৎপাদিত নতুন আলুর দামও ভারত থেকে আমদানির খবরের দাপটে কমেছে। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ভারতের আমদানিকৃত আলু এখনও বরিশালের বাজারে না আসলেও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৭/৮ টাকা কমেছে পাইকারী বাজারে। খুচরা বাজারে যে আলু গত সপ্তাহে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে তা সোমবার তিন কেজি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এতে করে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অনেকটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সোমবার নগরীর একাধিক আড়তদার জানিয়েছেন, বিগত কয়েক মাস থেকেই অন্যান্য পণ্যের ন্যায় একবারেই নিয়ন্ত্রনের বাহিরে ছিল অতি প্রয়োজনীয় পণ্য আলু। অবস্থা এতোটাই খারাপ ছিল যে, নতুন আলুর কেজি পাইকারী বাজারে বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। যা খুচরা মূল্য ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। এরপর কিছুটা দাম কমলেও তা খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকার নিচে নামতে দেখা যায়নি। এরপর দেশের উৎপাদিত আলুর যোগান বাজারে আসলে ১৫/২০ দিন আগে এই দর পাইকারীতে ৩২ থেকে ৩৩ টাকায় আসে এবং খুচরা বাজারে চলে আসে ৪২ থেকে ৪৫ টাকায়।

পাইকারী ব্যবসায়ীরা আরো জানান, দেশের বগুড়া ও জয়পুরহাটের আলু গত সপ্তাহে প্রতি কেজি সর্বশেষ ৩২/৩৩ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। এরমধ্যে ভারত থেকে আলু আমদানির পূর্বাভাসে ক্রমেই এই দাম কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের ৩২ থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরের পাইকারী আলু সোমবার এসে দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ২৬ টাকায়। এই আলু খুচরা বিক্রেতারা সর্বোচ্চ ৩২ থেকে ৩৩ টাকা দরে বিক্রি করতে পারবেন।

সোমবার সকালে নগরীর নতুন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, রোববার থেকে আলুর বাজার নিয়ন্ত্রনে এসেছে। এ বছরের নতুন আলু ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও রোববার থেকে সেই আলু বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা কেজি দরে। এতে সাধারণ ক্রেতারা বেজায় খুশি। সোমবার সকালে ক্রেতা মিরাজ হোসাইন বলেন, দীর্ঘদিন পর অতিপ্রয়োজনীয় আলুর দাম কমেছে। তিন কেজি আলু একশ’ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি। তিনি আরও বলেন, হঠাত করে দাম কমলেই হবেনা, আলুর দাম যেন পুনরায় আর না বাড়ে সেদিকে সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য রাখতে হবে।




বরিশালে আদালতের রায়ে ২৭ মাস পর ইউপি সদস্য নির্বাচিত

বরিশাল অফিস :: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রায় ২৭ মাস পর পুর্নগণনায় ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য আসাদুজ্জামান খলিফা। সোমবার দুপুরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খলিফা বলেন, বরিশাল সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক হাসিবুল হাসানের নির্দেশে ভোট পুর্নগণনা করা হয়। এতে দেখা যায়, ফুটবল প্রতীকে আমি (আসাদুজ্জামান) পেয়েছি ১ হাজার ১৭২ ভোট। আমার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী মামুন পাইক মোরগ প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১৩৫ ভোট। পরে আদালতের বিচারক আমাকে বিজয়ী ঘোষণা করে রায় প্রদান করেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, মামুন পাইক কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামানকে প্রভাবিত করে আমাকে হারিয়ে দেন। আমি আদালতের কাছে প্রতিকার চেয়ে ন্যায়বিচার পেয়েছি। জনগণের রায় সফল হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর বাকাল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে মামুন, আসাদুজ্জামান ছাড়াও লাল মিয়া পাইক প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। ওয়ার্ডের বিএইচপি একাডেমির কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান ১ হাজার ২৮০ ভোট পাওয়ায় মামুনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

ওইসময় আসাদুজ্জামান ১ হাজার ১৮৯ ভোট পেয়েছেন বলে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ভোট পুর্নগণনা চেয়ে ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি আদালতে আবেদন করেন আসাদুজ্জামান। এরপর বিচারক হাসিবুল হাসান, প্রার্থী মামুন পাইক, তার আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম পান্না, প্রার্থী আসাদুজ্জামান ও তার আইনজীবী আজাদ রহমানের উপস্থিতিতে ভোট পুর্নগণনা করা হয়।




বরিশালে নাসারী স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বরিশাল অফিস :: বরিশাল ওয়াইডব্লিউসিএ নাসারী স্কুলের ৫২তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সোমবার( ৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

বরিশাল অ্যাঞ্জেলা বারুই প্রধান শিক্ষক ওয়াইডব্লিউসিএ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম।

এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন,বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সহকারী কমিশনার মোঃ রবিউল হাসান ভূঁইয়া। অঞ্জু রানী বৈদ্য, সভানেত্রী,ওয়াইডব্লিউসিএসহ শিক্ষক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে, প্রথমে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি। জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অতিথিরা সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা করেন। পরে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। উদ্বোধন শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

 




বরিশালে ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতমের আবিস্কৃত রোবটিক আর্ম

বরিশাল অফিস :: রোবটিক আর্ম বা মানব দেহে সংযোজনের জন্য কৃত্তিম হাত তৈরী করে ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ মেলায় বরিশালে হৈ-চৈ ফেলে দিয়েছে আগৈলঝাড়ার ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতম পাল। এই ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতম বরিশাল অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রীতম আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা ও রাজিহার ইউপি সচিব গৌতম পাল ও গৃহীনি কাজলী পাল এর বড় সন্তান। প্রীতম গৈলা মডেল সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী।

২৯ জানুয়ারি বরিশাল সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ মেলায় রোবটিক আর্ম বা মানব দেহের জন্য কৃত্তিম হাত তৈরী করে তা প্রদর্শন করে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে প্রীতম। প্রীতমের এই এই সাফল্যর জন্য বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিথীকা সরকার এর স্বাক্ষরিত সনদপত্র তার হাতে তুলে দেন অতিথীরা।


ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতম তার এই সাফল্যের জন্য দেখা স্বপ্নর পরিকল্পনা নিয়ে জানায়, একদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে একটি ভিডিও ক্লিপে দেখতে পায়যে, রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে একটি হাত হারিয়েছেন একজন সৈনিক। ওই সৈনিক একদিন ফিরলেন নিজের স্বজনদের কাছে বাড়িতে। বাড়ি ফেরার পূর্ব অপেক্ষায় স্ত্রী ও শিশু সন্তানেরা। দীর্ঘ দিন পরে বাবা বাড়ি আসছে তাই অধীর আগ্রহে তার অপেক্ষা করে পথ চেয়ে বসে আছে সন্তানেরা। কলিং বেল চাপতেই সন্তানেরা দরজা খুলে দিল। বাবা দাড়িয়ে রয়েছেন দরজার সামনে। সন্তানেরা অপেক্ষ করছে বাবা তাদের জড়িয়ে ধরে কোলে তুলে নিয়ে আদর করবে। আবার সন্তানদের ভাবনা এলো বাবা ফুল দিয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানাতে একটি হাত হয়তো তার পিছনে রেখেছে সাপ্ররাইজ দেয়ার জন্য। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটলো না।

কিন্তু হতভাগ্য বাবা এর কোনটাই যখন করলেন না তখন সন্তানেরা দেখতে পেল যে তাদের বাবার একটি হাতই নেই। কাটা গেছে। হৃদয় বিদারক দৃশ্যর এমন একটি ভিডিও চিত্র দেখে এমন হতভাগ্য বাবাদের কৃত্তিম হাত তৈরীর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তাদের জন্য কিছু করার। স্বপ্ন দেখা থেকে মানব কল্যানে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে একাগ্র চিত্তে মনোযোগী হলো ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতম পাল। অধ্যাবসায়রে কারণে প্রীতমের সেই স্বপ্ন বাস্তবে ডানা মেলেছে।

প্রীতম আরও জানায়- হোস্টেলে থেকে তার বাবার কাছ থেকে আনা পড়া লেখার খরচ থেকে কিছু অর্থর সঞ্চয় করে প্রথমে এই উদ্ভাবনী কাজে মনোযোগ দেয় সে। কালক্রমে উদ্ভাবনী বিষয়টি তার সহপাঠী ও বাবাও জানতে পারে। বাবা তাকে উৎসাহিত করায় মাঝেমধ্যে বাবার কাছ থেকেও চেয়ে নিত অর্থ। নিজের সঞ্চয় ও পরিবারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় শুরু করে এই রোবটিক আর্ম এর পিছনে। নিরলস পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ের কারণে প্রীতমের দেখা স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দেয় তার মানব কল্যাণের উদ্ভাবনীতে।

শিক্ষার্থী প্রীতম জানায়- বিভিন্ন দূর্ঘটনায় সারাদেশসহ সারা বিশ্বে অনেক লোকদের তাদের হাত হারাতে হয়। বেঁচে থাকার জন্য বাকী জীবন তারা কর্মহীন হয়ে পরে। গলগ্রহ হয় অন্যর উপর। এমন মানুষের জন্যই তার আবিস্কৃত রোবটিক আর্ম বা কৃত্তিম হাত মানবদেহে সংযোজন করা যেতে পারে। মানবদেহে এই কৃত্তিম হাত সংযোজন করলে যেখানে মানুষের হাত পৌঁছানো সম্ভব নয় এমন ভারী যান্ত্রিক স্থানেও এই কৃত্তিম হাত অনায়াসে কাজ করতে পারবে। স্বাভাবিক ভাবেই এই হাত দুই থেকে ছয় কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে সক্ষম। হেভিওয়েট হাত হিসেবে এর স্থায়ীত্বও অনেক বেশী।
দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনেক ধন্যাঢ্য ব্যক্তিরা বিদেশ থেকে ৫ থেকে ২০ লাখ টাকা খরচ করে কৃত্তিম হাত আমদানী করে তার সংযোজন করে আসছেন। তবে ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতমের উদ্ভাবিত কৃত্তিম হাত তৈরীতে খরচ হয়েছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়ন তথা মানব দেহে কৃত্তিম হাত সংযোজনের মাধ্যমে একজন মানুষকে স্বাবলম্বী হয়ে বেঁচে থাকার জন্য কৃত্তিম হাত বা রোবটিক আর্ম এর যুযোপযোগী উন্নয়ন ও সাশ্রয়ী মূল্যৈ বাজারজাত করতে সরকারী ও বেসরকারী পৃষ্টপোষকতার জন্য তাঁর উদ্ভাবন নিয়ে আরও কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতম।

প্রীতমের বাবা ইউপি সচিব গৌতম পাল জানান, তার ছেলের উদ্ভাবন নিয়ে তিনি আনন্দিত। মানব কল্যানে কাজ করায় ছেলের আর্থিক চাহিদা পুরণ করে আসছেন তিনি। তবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা পেলে পড়া শুনার পাশাপাশি প্রীতম তার উদ্ভাবনীতে আরও সাফল্য পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করে সকলের সাহায়-সহযোগীতা প্রার্থনা করেন তিনি।

 




বরিশালে আইএইচটি ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার,পরিবারের দাবি হত্যা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণির কোয়ার্টার থেকে অন্তরা পানুয়া (২২) নামে আইএইচটির দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। তিনি আইএইচটির ডেন্টাল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পানুয়ার সহপাঠী সুরাইয়া আক্তার বলেন, সোমবার সকালে দরজার ফাঁক দিয়ে অন্তরাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেই। এরপর পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে অন্তরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন। সুরাইয়া আরও বলেন, গতকাল
আইএইচটির ইন্সট্রাকশন শিক্ষক তাহের সুমনের মাধ্যমে অন্তরা এই রুমে ওঠেন। সকালে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই। মৃত্যুর ঘটনা অন্তরার স্বামী তাপসকে জানানো হয়েছেন বলে জানান তিনি।

অন্তরা পটুয়াখালী জেলার খলিসাখালি উপজেলার অনুক‚ল চন্দ্র পানুয়ার মেয়ে। কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক(এসআই) রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মহত্যা বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে।

তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে। এদিকে পরিবারের দাবি অন্তরাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে শেবাচিম হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের কোয়ার্টারে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক তাহের সুমনের পরিবার কীভাবে থাকেন, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইএইচটির ইন্সট্রাকশন শিক্ষক তাহের সুমন কোনো সঠিক জবাব দিতে পারেননি। তবে নিহত অন্তরার সঙ্গে শিক্ষক তাহের সুমনের অবৈধ সম্পর্ক ছিল এমন গুঞ্জন উঠেছে আইএইচটি জুড়ে। একাধিক সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক
তাহের সুমন কোয়ার্টার ভাড়া নিয়ে সেখানে তার পরিচিত ও ব্যক্তি স্বার্থের জন্য কিছু মেয়েদের রাখেন। এর আগেও শিক্ষক
তাহের সুমনের বিরুদ্ধে নারীঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগ

উঠেছে। কিন্তু প্রতিবারই অদৃশ্য কারণে বেঁচে যায় শিক্ষক তাহের সুমন এমনটাই অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এ বিষয়ে আইএইচটির

অধ্যক্ষ মানষ কৃষ্ণ কুন্ড বলেন, শেবাচিম হাসপাতালের কোয়ার্টারে আমাদের শিক্ষার্থী থাকার কথা নয়। কি কারণে ওখানে শিক্ষার্থী থাকেন এটি আমরা খতিয়ে দেখবো। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার(দক্ষিণ) ফজলুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি এটি আত্মহত্যা। আর শিক্ষক তাহের সুমনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলোও তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।

 

 




বাউফলে চিতাবাঘ সদৃশ প্রাণি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভার দরবেশ আলী সড়কের পাশের একটি পুরোনো পরিত্যক্ত দেয়াল ঘেরা ঝোপে চিতাবাঘ সাদৃশ একটি প্রাণি দেখা গিয়েছে।

শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রাণিটিকে ঝোপের ভেতরে একটা ফাঁকা জায়গায় বসা অবস্থায় দেখতে পায় এলাকাবাসী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাউফল উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বদিউজ্জামান খান।

পুরোনো দেয়ালের ওপরে প্রাণির নখের আচঁড়ের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। ওই প্রাণির শারীরিক গঠন দেখে স্থানীয়রা মনে করছে এটি চিতা বাঘ। ঝোপের খুব কাছেই বাউফল আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। তাই পথ দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করে বহু শিক্ষার্থী। এতে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের গৃহপালিত পশু ও নিজেদের জান মাল নিয়ে বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

সন্ধ্যায় যখন স্থানীয়রা প্রাণিটি দেখতে পান তখন অনেকে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বন বিভাগের কাছে চিতা বাঘ সাদৃশ্য প্রাণিটি উদ্ধার করার দাবি স্থানীদের।

বাউফলের বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বদিউজ্জামান খান বলেন, রেস্কিউ টিমকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




বরিশালে মাংস বিক্রির দোকানে কুকুর জবাই

বরিশাল অফিস :: বরিশালে মাংস বিক্রির দোকানে কুকুর জবাই করার অভিযোগ উঠেছে। নগরীর বটতলা বাজারে একটি মাংস বিক্রির দোকানে এ ঘটনা ঘটে। তবে জবাইকৃত কুকুর মাংস হিসাবে বিক্রির আগেই স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ায় ভয়ে পালিয়েছেন রায়হান মোল্লা নামের অভিযুক্ত যুবক। তিনি বটতলা এলাকার বাসিন্দা। সে বাজারের মাংস বিক্রেতাদের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

বটতলার আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বটতলা বাজারের মাংস বিক্রির দোকানের পেছনে নিয়ে মাংস কাটার রামদা দিয়ে কুকুরটিকে জবাইয়ের চেষ্টা চালায় রায়হান। একপর্যায়ে কুকুরটি তার হাত থেকে রক্ষা পেতে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় কুকুরটির গলা থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। বটতলা এলাকার অলিগলি দৌড়ে হালিমা খাতুন স্কুল সংলগ্ন এলাকার গলিতে গিয়ে কুকুরটি পড়ে যায়। এরপর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ারের সদস্যরা এসে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু তার আগে কুকুরটি মারা যায়।

বরিশাল বটতলা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সাবু বিন ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় অভিযুক্ত রায়হানের বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 




ভোলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

বরিশাল অফিস :: র‌্যাব-৮ ও ৭ এর যৌথ একটি অভিযানে মো. নিরব ড্রাইভার (৩৯) নামের এক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোলা র‌্যাব-৮ এর ক্যাম্প কমান্ডার এএসপি মো. জামাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিরব ভোলার লালমোহন উপজেলার ভেদুরিয়া গ্রামের মো. সামছুল হকের ছেলে।

এএসপি জামাল উদ্দিন জানান, নিরবের বিরুদ্ধে লালমোহন থানায় ২০১৪ সালে একটি মাদক মামলা হয়। সেই মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায় ঘোষণা হওয়ার পর থেকে নিরব পলাতক থাকে। চট্টগ্রামে সে ছন্দনামে বসবাস করত। এরপর র‌্যাব-৮ ও ৭ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে যৌথ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আজ রোববার আদালত সোর্পদ করে।

 




দশমিনায় জমির বিরোধে শিশুকে কুপিয়ে হত্যা

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মরিয়ম (৮) নামে এক শিশুকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাতে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের রামবল্লভ এলাকায় পরিত্যক্ত ভিটা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মরিয়ম ওই এলাকার মকবুল মৃধা ও রিনা বেগম দম্পতির মেয়ে। সে রামবল্লভ অগ্রণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে বাড়ির পাশে চাচা আলম মৃধার বাড়িতে খেলতে যায় মরিয়ম। সন্ধ্যার পরও না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত ৮টায় বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত ভিটায় মরিয়মকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তার বাবা। এ সময় শিশুটির মাথা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ রাত ১২টার দিকে লাশ উদ্ধার করে।
মরিয়মের বাবা মকবুল মৃধা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী রাজ্জাক মৃধা, বারেক মৃধা, হারুন মৃধা, শাজাহান মৃধা ও জাকির হোসেনের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে আমাদের বিরোধ চলছে। এর জেরে তারা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

রিনা বেগম বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের কয়েকজনকে আমাদের বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছি। তারাই আমার মেয়েকে হত্যা করেছে।’

বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান ঝন্টু জানান, শিশু হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি। ঘটনার পর থেকে রাজ্জাক, বারেক, হারুন, শাজাহান, জাকিরসহ কয়েকজন পলাতক।

দশমিনা থানার ওসি নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির মাথায় আঘাত ও গলায় ফাঁস দেওয়া দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।