হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রভাগের সাহসী নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়ায় তাকে দেখতে উপস্থিত হন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান। বুধবার স্থানীয় সময় হাসপাতালে পৌঁছে তিনি হাদির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

রাতের দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি ফোনযোগে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে হাদির ওপর চলমান চিকিৎসা সম্পর্কে অবহিত করেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ফোনালাপে তিনি জানান—হাদির অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থার উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

হাদির ওপর হামলার ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষত তিনি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায়, তাঁর উপর হামলার প্রতিক্রিয়া দেশ-বিদেশে গভীর আলোচনা তৈরি করেছে। চিকিৎসাধীন হাদিকে দেখতে সিঙ্গাপুর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতার উপস্থিতি বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এনে দিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে হাদির সুস্থতা কামনায় দোয়া ও প্রার্থনায় অংশ নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে—হাদির ওপর হামলার ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে হাদিকে একজন সাহসী ও আপোষহীন চরিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোতে তিনি যেভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন—তা তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরও উজ্জ্বল করেছে। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসার প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ে জনমনে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পুলিশ বাধার মুখে জুলাই ঐক্যের ‘লং মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে জুলাই ঐক্যের ডাকা ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচি পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে। বিকাল ৩টার দিকে রামপুরা ব্রিজ থেকে মিছিল শুরু হলেও উত্তর বাড্ডা (হোসেন মার্কেট) এলাকায় তারা আটকানো হয়।

জুলাই ঐক্য জানায়, এই কর্মসূচি ভারতের প্রক্সি শক্তি এবং জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং চলমান ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আয়োজিত হয়েছে। এতে আন্দোলনে সক্রিয় থাকা বিভিন্ন সংগঠন, ডাকসু ও জাকসুর নেতা, শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।

পুলিশ রামপুরা থেকে ভারতীয় দূতাবাস পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। বাড্ডা–গুলশান লিঙ্ক রোড ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) জুলাই ঐক্যের সংগঠক এবি জুবায়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সেখানে বলা হয়, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতের প্রভাবশালী শক্তিগুলো বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত। কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকবেন জুলাই ঐক্যের সংগঠকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ইউরোলজি বিভাগের দুরবস্থা

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিছু বিভাগের চিকিৎসা উন্নতি পেলেও ইউরোলজি বিভাগে রোগীদের সেবা এখনও বেহাল। রোগীরা তিন থেকে চার মাসেও চিকিৎসা সম্পন্ন করতে না পারায় সুস্থ হওয়ার বদলে অনেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ধীরগতিতে সেবা প্রদানের ফলে রোগীরা বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকের দিকে ঝুঁকছেন।

দক্ষিনাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষের একমাত্র চিকিৎসা ভরসা এই হাসপাতাল। পটুয়াখালী, বরগুনা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের মতো জেলার অনেক রোগী দীর্ঘদিন চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। অনেকেই অপারেশন শিডিউল পান না, কারণ অপারেশন শুধুমাত্র বৃহস্পতিবার সকালে এবং মাসে মাত্র ২–৩টি করা হয়। অথচ সার্জারী বিভাগের চারটি ইউনিটে সহস্রাধিক রোগীর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।

ধীরগতির চিকিৎসা সেবার কারণে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেক রোগী দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে আসার পরও পূর্ণ সুস্থ না হয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন।

হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগে অপারেশন সপ্তাহে একদিন করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, দ্রুত সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নিউরোলজি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন রোগী ভর্তি থাকায় তাদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে আমন ধানের রেকর্ড ফলন, কিন্তু দরপতনে হতাশ কৃষক

বরিশালের মাঠে শেষ অগ্রহায়ণ থেকে শুরু হয়ে এখনো আমন ধান কাটার ধুম লেগে আছে। সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ অতিক্রম করে এবার বরিশালে সর্বকালের সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টন আমন চাল ঘরে তোলার লক্ষ্য অর্জন হতে চলেছে। তবে উচ্চ উৎপাদনের আনন্দ overshadow করছে ধানের কম দাম, যা কৃষকদের হতাশ করছে।

বরিশাল কৃষি অঞ্চলে এখনো প্রায় ৬৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। শীতের সকালে সোনালী সূর্যের আলোয় কৃষকরা মাঠে নামেন ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য।

তবে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ধানের বাজারমূল্য কৃষকদের সন্তুষ্ট করছে না। কৃষকরা জানান, হাজার টাকারও বেশি খরচে উৎপাদিত ধান বিক্রি হচ্ছে ১,১০০ থেকে ১,১৫০ টাকা প্রতি মান, যেখানে সার, কীটনাশক ও শ্রম খরচ বেড়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বরিশাল অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে ৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। এই আবাদ থেকে প্রায় ২৪ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ২৫ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। কাটা ধানের গড় ফলন ৩.০৫ টন প্রতি হেক্টর, যা উৎপাদনে লক্ষ্য অতিক্রমের আশ্বাস দিচ্ছে।

তবে উচ্চ ফলনশীল ও উফশী জাতের ধানের আবাদ এখনও ৬৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। স্থানীয় সনাতন জাতের ধানের আবাদ ৩৫ শতাংশ, হাইব্রিড ধানের আবাদ ১ শতাংশেরও কম। সনাতন ধানের গড় ফলন ১.৬৮ টন/হেক্টর, উফশী ২.৮৯ টন, হাইব্রিড ৩.৯০ টন প্রতি হেক্টর।

কৃষকরা অভিযোগ করছেন, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের বীজ এবং উৎপাদন প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে কম জমিতে বেশি ধান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। কৃষিবিদরা মনে করছেন, যদি আবাদে উফশী ও হাইব্রিডের অনুপাত বৃদ্ধি করা যায়, তবে বরিশালের আমনের উৎপাদন ৩০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব, আর খাদ্য উদ্বৃত্তও বর্তমান ১৪ লাখ টন থেকে ২০ লাখ টনে বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

বরিশাল অঞ্চলের প্রধান কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার জানান, দক্ষিণাঞ্চলে উচ্চ ফলনশীল জাতের আবাদ বৃদ্ধির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া, আসন্ন রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলের ৩.৮৩ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

এদিকে, ধানের আশাতীত সাফল্যের মধ্যেও দরপতনে কৃষকের মুখে হাসি নেই। তবুও মাঠের দৃশ্যকলা ও কৃষকদের পরিশ্রম তাদের উৎসাহ বজায় রাখছে। তারা মনে করেন, “যারা যোগায় ক্ষুধার অন্ন, আমরা আছি তাদের জন্য।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কাশ্মীর কখনো ভারতের ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না: পাকিস্তান জাতিসংঘে

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তান জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর কখনো ভারতের অংশ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে না। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের মিশনের কাউন্সিলর ও রাজনৈতিক সমন্বয়কারী গুল কায়সার সারওয়ানি এ অবস্থান স্পষ্ট করেন।

তিনি বলেন, “কাশ্মীর ভারতের অংশ নয়, ছিলও না এবং হবেও না। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। বিষয়টি শুধু পাকিস্তানের নয়, জাতিসংঘেরও একটি ইস্যু। ভারত নিজে জাতিসংঘে এই বিষয় উত্থাপন করেছিল এবং কাশ্মীরের জনগণকে গণভোটের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে প্রায় আট দশক পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।”

গুল কায়সার আরও উল্লেখ করেন, “ভারত কাশ্মীরে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে, মৌলিক স্বাধীনতা দমন করছে, ভিন্নমতকে স্তব্ধ করছে এবং জনসংখ্যাগত চরিত্র পরিবর্তনের নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এসব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং দখলদার শক্তি হিসেবে ভারতের আইনি দায়বদ্ধতার বিরুদ্ধে।”

সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের কূটনীতিক বলেন, ভারতের মন্তব্য তথ্য বিকৃত ও চুক্তির ভুল ব্যাখ্যা। তিনি বলেন, চুক্তির কোনো ধারা একতরফাভাবে স্থগিত বা পরিবর্তন করার সুযোগ দেয় না। এ ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিক স্বার্থে চুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সমতুল্য।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পহেলগাম হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এরপর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শ্রমশক্তি রফতানিতে বড় বাধা দালাল চক্র: প্রধান উপদেষ্টা

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক অভিবাসী ও প্রবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিদেশে শ্রমশক্তি রফতানিতে সবচেয়ে বড় বাধা দালাল চক্র। তিনি উল্লেখ করেন, “শ্রমশক্তি রফতানি পুরোপুরি দালাল বেষ্টিত। প্রতিটি ধাপে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই খাতকে দালাল মুক্ত না করলে খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “পৃথিবীতে তরুণ প্রজন্মের অভাব, অথচ আমাদের দেশে তারুণ্যের ভান্ডার রয়েছে। এটি সোনার চেয়েও মূল্যবান। সারা পৃথিবীকে আমাদের তরুণদের সুযোগ নিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পরবর্তী সরকার যদি বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সঠিক দৃষ্টি রাখে, ঈমানদার ও কৃতজ্ঞ হয়, তাহলে প্রবাসী কল্যাণে আরও অনেক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা, এয়ারপোর্টে ভিড় না করার আহ্বান

লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি লন্ডনে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, তাকে বিদায় জানাতে কেউ এয়ারপোর্টে যাওয়া উচিত নয়

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আপনাদের সঙ্গে আমি দীর্ঘ ১৮ বছর কাটিয়েছি। আজ যুক্তরাজ্যে যারা আছেন, বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশনের প্রতি আমার অনুরোধ—২৫ তারিখে আমি দেশে চলে যাচ্ছি, দয়া করে কেউ এয়ারপোর্টে যাবেন না।”

তিনি আরও বলেন, এয়ারপোর্টে ভিড় হলে হট্টগোল সৃষ্টি হতে পারে এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। “যারা সেদিন এয়ারপোর্টে যাবেন না, আমি ধরে নেব তারা দল ও দেশের সম্মানের প্রতি মর্যাদা রেখেছেন,” যোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও নিজের জন্য নেতাকর্মীদের দোয়া কামনা করেন। দেশে ফেরার ঘোষণার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সিনে কার্নিভাল ৪.০ অনুষ্ঠিত, আনন্দ-সৃজনশীলতায় ভরপুর তিন দিন

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (ডিআইএমএফএফ) ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এর মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সিনে কার্নিভাল ৪.০ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই উৎসব দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

দর্শনার্থীদের জন্য বেলুন শ্যুটার, নাগরদোলা, ৩৬০° ঘূর্ণায়মান ছবি এবং গানের আসর সহ নানান ইন্টারঅ্যাকটিভ কার্যক্রম আয়োজন করা হয়, যা উৎসবের আনন্দ দ্বিগুণ করে।

প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল এক্সক্লুসিভ ‘সিনেমাঘর’ সেশন, যেখানে বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। শেষ দিনে ‘নূর’ চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণ করেন অভিনেতা আরিফিন শুভ, অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, অ্যাসোসিয়েট প্রডিউসার ও সাউন্ড ডিজাইনার রিপন নাথ এবং অ্যাসোসিয়েট প্রডিউসার রাফায়েল আহসান

প্রথম দুই দিনে ‘দেলুপি’ এবং ‘বাড়ির নাম শাহানা’ চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা তরুণ দর্শক ও উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীলতা ও গল্প বলার দক্ষতা উন্নয়নে অনুপ্রেরণা যোগায়।

কার্নিভালে ৪০টিরও বেশি স্টল ছিল, যেখানে গয়না, সুগন্ধি, খাবার, পোশাক, হোম ডেকর, মেকআপ ও মেহেদি প্রভৃতি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হয়। রঙিন সাজসজ্জা এবং শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে প্রাণচঞ্চল ও আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এই আয়োজনের মাধ্যমে ডিআইএমএফএফ শিক্ষার্থী ও উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে চলচ্চিত্র সংস্কৃতি ও শিল্প-সংক্রান্ত অংশগ্রহণকে আরও উৎসাহিত করেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে

পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেছেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫৪ বছর অতিক্রম হলেও আমরা আজও সেই কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখার আয়োজনে শহরের সিও অফিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাউন ক্লাবে বিজয় র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জাল হোসাইন ফরিদ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।

মাসুদ সাঈদী সমাবেশে বলেন, “১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের স্বপ্ন ছিল একটি মর্যাদাশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ। শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে হলে আমাদের বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দুঃখজনকভাবে যারা শুধু মুখে স্বাধীনতার চেতনাকে বলেছে, তারা তা অন্তরে ধারণ করেনি। অনেকেই দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু জামায়াত ইসলামী স্বাধীনতার চেতনাকে অন্তরে ধারণ করে। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, তবে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”

মাসুদ সাঈদী বলেন, “হাদীর ওপর হামলা কোনো ব্যক্তির নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। আমাদের সবার দায়িত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। প্রকৃত দেশপ্রেম মানে সততা, ন্যায় ও জবাবদিহিতা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির মামলা নেই, যা প্রকৃত স্বাধীনতার চেতনার প্রমাণ।”

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুর রাজ্জাক, পৌর আমীর মো: ইসাহাক আলী খান, ছাত্রশিবির জেলা সভাপতি মো: ইমরান খান ও অন্যান্য পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নানা সংকটে বরগুনার শুঁটকিশিল্প, হুমকিতে উপকূলের ঐতিহ্য

প্রায় আট মাসের নীরবতা কাটিয়ে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে বরগুনার উপকূলীয় শুঁটকিপল্লীগুলোতে। তালতলী উপজেলার আশারচর, নিদ্রারচর, সোনাকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে শুঁটকিপল্লী। মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে পুরোদমে কাজে নেমেছেন জেলেরা। রোদে মাছ শুকাতে ব্যস্ত নারী-পুরুষ ও শিশু শ্রমিকরা। তবে প্রাণচাঞ্চল্যের আড়ালেই জমে উঠেছে নানা সংকট, যা ধীরে ধীরে হুমকির মুখে ফেলছে এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাকৃতিক ও বিষমুক্ত উপায়ে উৎপাদিত বরগুনার শুঁটকির চাহিদা দেশজুড়ে রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ পেলে এ শিল্প আরও বিকশিত হতে পারত। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোর অভাব, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সংকটসহ একাধিক সমস্যায় ঐতিহ্যবাহী শুঁটকিশিল্প আজ ধুঁকছে।

প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে শুঁটকির মূল মৌসুম। তবে প্রস্তুতি শুরু হয় অক্টোবর থেকেই। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জেলে ও শ্রমিকরা তালতলীর আশারচর, নিদ্রারচরসহ উপকূলীয় শুঁটকিপল্লীগুলোতে এসে কাজ শুরু করেন। পুরো মৌসুমজুড়ে দিন-রাত শুঁটকি উৎপাদনেই কাটে তাদের সময়।

এ বছর রাসায়নিক ও অতিরিক্ত লবণ ছাড়াই স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি উৎপাদনের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে শুঁটকির মান ভালো হচ্ছে বলে জানান তারা। মিঠা পানির দেশি মাছের শুঁটকির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত আশারচর ও নিদ্রারচর। এ মৌসুমে এসব পল্লীতে সহস্রাধিক জেলে ও শ্রমিক কাজ করছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, আশারচর ও নিদ্রারচর থেকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ১০০ মণ শুঁটকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। চট্টগ্রাম, খুলনা, জামালপুর, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন বাজারে এসব শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। কিছু শুঁটকি বিদেশেও রপ্তানি হয়। তবে সরকারিভাবে রপ্তানির সুযোগ পেলে আরও বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব বলে দাবি তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুঁটকিপল্লীতে প্রায় ৫০টির মতো অস্থায়ী ঘরে জেলে ও শ্রমিকরা বসবাস করছেন। কেউ মাছ পরিষ্কার করছেন, কেউ মাচায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকনো মাছ সংগ্রহ করে গুদামজাত করছেন। নদী থেকে আনা মাছ নারী ও শিশু শ্রমিকরা পরিষ্কার করে ধুয়ে রোদে শুকান। তিন থেকে চার দিনের রোদে মাছ শক্ত হয়ে শুঁটকিতে পরিণত হয়।

এখানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ প্রজাতির সামুদ্রিক ও মিঠা পানির মাছের শুঁটকি তৈরি হয়। এর মধ্যে রূপচাঁদা, ছুরি, লইট্টা, তপসে, কোরাল, চিংড়ি, ভোল, মেদসহ নানা জাতের মাছ রয়েছে। বর্তমানে ছুরি মাছের শুঁটকি কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, রূপচাঁদা এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা এবং লইট্টা ৬০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে লাভের আশার মধ্যেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রধান সড়ক থেকে শুঁটকিপল্লী পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা অত্যন্ত বেহাল। ট্রাক ঢুকতে না পারায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে লাভ কমে যাচ্ছে।

শুঁটকিপল্লীতে দীর্ঘদিন কাজ করা নারী শ্রমিক কুলসুম বেগম বলেন, “আমরা নারী-পুরুষ সবাই সমানভাবে কাজ করি, কিন্তু এখানে নারীদের জন্য কোনো টয়লেট ব্যবস্থা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থায়ী টয়লেট ও টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করা হলে অনেক উপকার হতো।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শুঁটকিশিল্পের সংকটের কথা তুলে ধরছেন। সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরাজি মো. ইউনুছ বলেন, এক সময় এখানকার শুঁটকিশিল্পের সঙ্গে প্রায় তিন থেকে চার লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমানে অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিক্ষা ও চিকিৎসা সংকটের কারণে শিল্পটি পিছিয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অপরিশোধিত বর্জ্যে সাগরের পানি দূষিত হচ্ছে, এতে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে—যা শুঁটকিশিল্পের জন্য বড় হুমকি।

বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, শুঁটকিশিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত। এখানে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে তালতলীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেবক মণ্ডল জানান, শুঁটকিশিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বরগুনার উপকূলীয় শুঁটকিপল্লী এখন সম্ভাবনা ও সংকট—দুটোরই মুখোমুখি। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫