নকলের দায়ে বরিশাল ল’ কলেজের ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

বরিশাল অফিস :: এলএলবি ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ১ম পর্ব পরীক্ষায় নকল করার দায়ে বরিশাল ল’ কলেজের ৩ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরকারি বরিশাল কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের বহিষ্কার করেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সরকারি বরিশাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্র পরির্দশক অলকা রানী সাহা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বরিশালে সুষ্ঠুভাবে এলএলবি পরীক্ষা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বরিশাল কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাবেদ হোসেন চৌধুরী জানান, পরীক্ষা চলাকালীন সময় নকল করায় ৩ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এলএলবি ১ম বর্ষের আগামী পরীক্ষাগুলোও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের তদারকি অব্যাহত থাকবে।

শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত আইন মহাবিদ্যালয়ের (বরিশাল ল কলেজ) অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামান খোকন জানান, আজ (শুক্রবার) ছিল এলএলবি ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ১ম পর্বের ইউকিইউটি ট্রাষ্ট ও হিন্দু আইন পরীক্ষা। এই পরীক্ষা ৪শ’ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের মধ্যে তিনজন নকলের দায়ে বহিষ্কার হয়েছে।

 




বরিশালে অপরিকল্পিত খাল খননে ভাঙছে সড়ক

বরিশাল অফিস :: অপরিকল্পিত খাল খননে ভাঙছে সড়ক বরিশালে জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর ২৪টি খালের মধ্যে প্রধান সাত খালের প্রাণ ফেরাতে খনন কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কিন্তু অপরিকল্পিত খননের ফলে বিভিন্ন স্থানে সড়কে দেখা দিয়েছে ফাটল। এতে অনেকের বাড়ি ঘর পড়েছে হুমকির মুখে।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সাগরদী এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানের খাল খনন পরিদর্শন করে দেখা গেছে এমন দৃশ্য।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড না হওয়ায় খালপাড়ের বাসিন্দাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিটি করপোরেশন থেকে ভেঙে যাওয়া সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পূর্বে বরিশালে ৪৬ টি খালের অস্তিত্ব ছিলো। তবে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এ সংখ্যা কমে হয় ২৪। বর্তমানে বড়-ছোট মিলিয়ে টিকে থাকা ২৪টি খালও পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে। দখল-দূষণ আর অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে টিকে থাকা খালগুলো মরা খালে পতিত হচ্ছে। আর হারিয়ে গেছে ২২টি খাল। এর মধ্যে এখন প্রাথমিক ভাবে সাতটি প্রধান খালের খনন কাজ শুরু হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বরিশাল নগরীর সাত খাল খননে ছয় কোটি সাত লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকায় পলাশপুর খাল (১৭০০ মিটার), এক কোটি ৯ লাখ টাকায় আমানতগঞ্জ খাল (২০৫০ মিটার), দুই কোটি ৬৭ লাখ টাকায় সাগরদী খাল (৯ কিলোমিটার), ২৮ লাখ টাকায় রুপাতলী খাল (এক কিলোমিটার), ৩২ লাখ টাকায় চাঁদমারি খালের (১৪২১ মিটার), চার লাখ টাকায় ভাটার খাল (১৬০ মিটার) ও ২৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় জেল খালের (২ কিলোমিটার)। সর্বমোট ১৯ কিলোমিটারে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে খননকাজ শেষ হওয়ার কথা।

এরইমধ্যে চাঁদমারি শোভা রাণী খালের খননকাজ প্রায় শেষ। সাগরদী ও পলাশপুর খালের কাজও চলছে।

নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সাগরদী এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খাল খননে করতে এসে এমনভাবে স্কেভেটর চালানো হয় তাতে আশপাশের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের কারণে সাগরদী খালের পাশের রাস্তার ৪-৫ হাত জায়গা ভেঙে খালের মধ্যে পড়ছে। ভেঙে যাওয়া রাস্তা আবার কবে নাগাদ সংস্কার হবে কে জানে।

একই অভিযোগ ২৪ নং ওয়ার্ডের জিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের। তিনি জানান, খ্রিষ্টানপাড়া থেকে আধা কিলোমিটার পাকা ও বাকি প্রায় আধা কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রক্ষায় পাইলিং না দেওয়ায় খাল খনন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভেঙে খালে পড়ে গেছে। অনেক জায়গায় সড়কে বড় ফাটল ধরেছে।

রূপাতলী খাল খননে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল মামুন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন ভুলু বলেন, খননের কারণে কিছু সড়কের ক্ষতি হয়েছে। পাড় বাঁধাই করার সময় সড়ক সংস্কার করা হবে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন, খননকাজের জন্য কিছু কিছু স্থানে সমস্যা হয়েছে বলে জেনেছি। এগুলো নগর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সংস্কার করা হবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন জানান, খনন কাজে সড়ক ভেঙে পড়ার বিষয়টি খোঁজ নিবো। কোথাও সমস্যা হলে তা সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




জুমার দিনে সূরা কাহ্ফ তেলওয়াতের ফজিলত

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : জুমার দিনের বিশেষ আমল সূরা আল কাহ্ফ তেলওয়াতের অসামান্য ফজিলত বর্ণিত হয়েছে একাধিক হাদিসে।

নবী করীম স. বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল কাহাফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমাহ হতে আগামী জুমাহ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। (মিশকাত ২১৭৫)।

যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে। (মুসলিম)(মিশকাত)।

‘যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য এমন একটি নূর হবে, যা তার অবস্থানের জায়গা থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করে দিবে।

আর যে ব্যক্তি উহার শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল বের হলেও সে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। ’ (সিলসিলায়ে সহীহা -২৬৫১)।

যে ব্যক্তি জুমার রাত্রিতে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য স্বীয় অবস্থানের জায়গা হতে পবিত্র মক্কা পর্যন্ত একটি নূর হবে। ’ (সহীহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব – ৭৩৬)।

জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করলে কিয়ামতের দিন তার পায়ের নীচ থেকে আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত নূর আলোকিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ হবে। (আত তারগীব ওয়াল তারহীব- ১/২৯৮)

জনৈক ব্যক্তি সূরা আল কাহফ পড়ছিল। তখন লোকটি তাকিয়ে দেখতে পেল একখণ্ড মেঘ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনু আযিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম এর কাছে বললেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে অমুক তুমি সূরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমাত বা প্রশান্তি যা কোরআন তেলাওয়াতের কারণে বা কোরআন তেলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। (মুসলিম- ১৭৪২)।

অর্থাৎ এটা হলো আল্লাহ  তায়ালার পক্ষ থেকে ওই ‘সাকীনা’ বা প্রশান্তি যা কোরআন পাঠের সময় অবতীর্ণ হয়ে থাকে।

পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআন বা এর যে কোন সূরা যে কোন সময় আমল করা যাবে। তবে আল্লাহ তাআলা কিছু নির্দিষ্ট সময় দিয়েছেন যে সময়গুলোতে কিছু নির্দিষ্ট আমল করলে সওয়াব বেশি হয়।

তেমনি ভাবে সূরা কাহফ বৃহস্পতিবার দিন শেষে সূর্য ডোবার পর থেকে শুক্রবার সূর্য ডোবা পর্যন্ত যে কোনো সময় সূরা কাহাফ পাঠ করলে হাদিস অনুযায়ী আমল করা হবে।

সূরা আল কাহ্ফ পবিত্র কোরআন শরীফের ১৮ নম্বর সূরা। এ সূরার আয়াত সংখ্যা ১১০টি এবং রুকুর সংখ্যা ১১টি। সূরা আল কাহাফ মক্কায় অবতীর্ণ তাই এটি মাক্কী সূরা।




দুমকিতে অজ্ঞাত রোগে ৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর দুমকিতে অজ্ঞাত রোগাক্রান্তে একই শ্রেণির ছয় শিক্ষার্থীর অসুস্থতায় স্কুলজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দুমকি আপ্তুন্নেছা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থী মীম ও বৃষ্টি আক্তার অসুস্থ হলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্বজনরা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর দু’জনকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপর চার শিক্ষার্থীকে উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এতে স্কুলটির অন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ছুটি দিলে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়ি যাওয়ার পথে মাহফুজা, রত্না ও কারিমাসহ একই শ্রেণির ছয়জন শিক্ষার্থী পর পর অসুস্থ হলে স্বজনরা তাদের উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দু’জনকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা (শেবাচিম) ও চারজনকে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেছে।

এ দিকে অসুস্থ ছাত্রীদের চিকিৎসার উদ্যোগ না নিয়ে স্কুল ছুটি দেয়ায় স্কুলকর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার প্রশ্ন তুলেছেন অসুস্থ ছাত্রীদের অভিভাবকরা। এর আগের দিনও ওই স্কুলের দুই শিক্ষার্থী এভাবে অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীন বলেন, এটি গণ হিস্টিরিয়া। কেউ এই গণহিস্টিরিয়া আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ বা কাছাকাছি অবস্থানে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসা পেলে দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে।

দুমকি একে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আক্তার হেপি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি ডিসি স্যারের মিটিংয়ে আছি। স্কুল থেকে আমাকে খবর জানানো হয়েছে। অসুস্থ ছাত্রীদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদরুন্নাহার ইয়াসমিন বলেন, খবর শুনেছি। ছয়ছাত্রী অসুস্থতার কারণে স্কুল ছুটি দেয়া হয়েছে। কিভাবে কেন অসুস্থ হলো তা স্কুল কর্তৃপক্ষ দেখছে। এ বিষয়ে শিক্ষা প্রশাসনের আপাতত: কোনো করণীয় নেই।




পিরোজপুরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহায়তা প্রদান

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঢেউটিন, খাদ্য, আর্থিক সহায়তা ও শীত বস্ত্র প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন। ৭ ফেব্রুয়ারী বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ূম ক্ষতিগ্রস্থ্য অটো চালক নূর আলমের হাতে ২ বান্ডিল ঢেউটিন ও বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করেন।

এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার, সহকারি প্রকৌশলী মোঃ শাহীন খানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি উপজেলার দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামের বাসিন্দা মৃত আঃ কাদের মিয়ার ছেলে অটো চালক নূর আলমের বসত ঘর অগ্নিকান্ডেপুড়ে ছাই হয়ে যায়।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার বলেন, দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় উপজেলার অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামের অটো চালক নূর আলমকে ঢেউটিন, খাদ্য, আর্থিক সহায়তা ও শীত বস্ত্র প্রদান করা হয়েছে। এ ধরনের ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারের পক্ষ থেকে সব সময়ই সহায়তা করা হয়।

 




পটুয়াখালীতে ২২৫ কোটির শুঁটকির বাজার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): সাগরকন্যা কুয়াকাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষতিকর কোনো কেমিক্যাল মিশ্রণ ছাড়াই শুধু লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয় শুঁটকি মাছ।
এখানে আসা পর্যটকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ এলাকার বিষমুক্ত শুঁটকি। গত মৌসুমে ৪৬২ মেট্রিকটন শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করেন শুঁটকি চাষিরা। যা থেকে তাদের আয় হয় ২২৫ কোটি টাকা।কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ও এর আশপাশের এলাকাসহ বিভিন্ন নদীর তীরে কাঁচা মাছ কেবল রোদে শুকিয়ে উৎপাদন করা হয় শুঁটকি।

শুঁটকি চাষিরা জানান, এ এলাকায় শুঁটকি উৎপাদন করার নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। কয়েক বছর ধরে শীত মৌসুমে কুয়াকাটা সৈকত ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অস্থায়ীভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী শুঁটকি সরবরাহ করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষতিকর কোনো কেমিক্যাল মিশ্রণ ছাড়াই শুধু লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে মাছ। লেবুর বন, খাজুরা পয়েন্টসহ সৈকতের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে লবণ মেখে বাঁশের মাচা বানিয়ে রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হচ্ছে শুঁটকি মাছ। এ পল্লীতে দেখা মেলে পোয়া শুঁটকি, সোনাপাতা, মধুফাইস্যা, রূপচাঁদা, শাপলাপাতা, চাপিলা, ফাইস্যা, লইট্রা, চিংড়ি, ছুড়ি, হাঙ্গর, ভোল, কোড়ালসহ অন্তত অর্ধশত প্রজাতির সুস্বাদু শুকনা মাছ। শুঁটকি পল্লীতে পছন্দের শুঁটকি সংগ্রহে ভিড় জমে পর্যটকসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের।

যশোর থেকে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম জানান, শুঁটকি আমাদের পরিবারের সবার খুবই প্রিয়। দেশের বিভিন্ন এলাকার শুঁটকি খেয়েছি। কুয়াকাটার শুঁটকির কথা শুনে এখানে এসেছি। বেশ কিছু শুঁটকি নিয়েছি। মেডিসিন ছাড়াই রোদে শুকানো হয় মাছ। তেমন কোনো গন্ধ নেই।

নড়াইল থেকে আসা মো. রুবেল আহসান- রোমানা ইসলাম বলেন, বহুদিন ধরে অফিস কলিগদের কাছে কুয়াকাটার শুঁটকির কথা শুনেছি। এখানে এসে দেখলাম আসলেই প্রাকৃতিকভাবে শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। লইট্টাসহ কয়েক ধরনের শুঁটকি কিনেছি। আত্মীয়স্বজনদেরও গিফট করব।

লেম্বুর বন এলাকার শুঁটকি উৎপাদনকারী হানিফ মিয়া জানান, সৈকতে প্রায় ৩০ বছর ধরে শুঁটকি মাছের ব্যবসা করছেন তিনি। প্রতি বছর            বিভিন্ন কারণে স্থান পরিবর্তন করতে হয় তাদের। এর ফলে তাদের অনেক সময় লোকসান গুনতে হয়। দোকানিদের চাহিদানুযায়ী মাছ শুকাতে পারছেন না। দোকানিরাও ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারে না। কুয়াকাটার একাধিক শুঁটকি দোকানিও একই কথা জানান।

জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় মাছ শুকিয়ে শুঁটকি উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাত করেন চাষিরা। এসব এলাকায় শুঁটকি উৎপাদনে বা প্রক্রিয়াজাতকরণে মৎস্য অধিদফতরের চিন্তা আছে। প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলগুলোতে আমরা নিয়মিত ভিজিট করি। নিরাপদ মানসম্মত শুঁটকি উৎপাদন করার জন্য ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ৩৫২ শুঁটকি চাষিকে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর আগে বিভিন্ন ধরনের মাছি, পোকামাকড়ের উৎপাত থেকে বাঁচার জন্য চাষিরা কিছু ওষুধ ব্যবহার করতেন। প্রশিক্ষণের পর কোনো ওষুধ ব্যবহার না করে চাষিরা শুঁটকি উৎপাদন করছে। এখানকার শুঁটকি  আসলেই বিষমুক্ত এবং গন্ধ কম, সুস্বাদু ও মানসম্মত। এ অঞ্চলের চাষিরা গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৬২ মেট্রিকটন শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করে। যাতে তাদের আয় হয়েছিল ২২৫ কোটি টাকা।




প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মা-চাচা হত্যা করে শিশু মরিয়মকে

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের রামভল্লবপুরে ৩য় শ্রেণির ছাত্রী শিশু মরিয়মকে (৮)কে হত্যা করে তার গর্ভধারিনী মা রিনা বেগম ও চাচা মো. সেন্টু মৃধা। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর শিশু মরিয়মকে নিয়ে তার মা রিনা বেগম পুলিশের ভয় দেখিয়ে মাঠের ওপারের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে মাঠের মাঝে একটি পরিত্যক্ত ভিটায় নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকেই উপস্থিত ছিল শিশুটি চাচা মো. সেন্টু মৃধা। মা ও চাচা মিলে পরিত্যক্ত বাড়িতে মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে শিশু মরিয়মকে।

পুলিশের তদন্ত সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর পরই রিনা বেগম বাড়িতে এসে মরিয়মকে খুঁজে না পাওয়ার অভিনয় করে চিৎকার চেঁচামেচি ও খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে গ্রামের সকলে জেনে যায় মরিয়মকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরই বাড়ির সকলে মিলে শিশুটিকে খুঁজতে থাকে।

এরই মধ্যে নিহত শিশুটির মা মরিয়মকে খোঁজার নাম করে পুকুরে নেমে হত্যার সময় কাপড়ে লেগে থাকা রক্ত ধুয়ে ফেলে। পরবর্তীতে রিনা বেগম রাত ৯ টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় শিশুটির রক্তমাখা মরদেহ ও গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় শনাক্ত করে কান্নাকাটি করে সকলকে অবহিত করে। ঘটনার পরপরই দশমিনা থানার পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠায়।

পরদিন সকালে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের একাধিক টিম চাঞ্চল্যকর এ হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করে খুঁজতে থাকেন হত্যাকান্ডের ক্লু। তবে খুব দ্রুত পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দেয়া ঘটনার বিবরণে পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই ৫ ফেব্রুয়ারি নিহত শিশু মরিয়মের চাচা সেন্টুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নিহত শিশু মরিয়মের মা রিনা বেগমকেও গ্রেপ্তার করে। উভয়ই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা স্বীকার করে পুলিশ ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

পুলিশের দেয়া তথ্যে আরও জানা যায়, পূর্ব থেকেই প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল শিশু মরিয়মের বাবা ও চাচাদের। মামলায় জর্জারিত হয়ে আসামিদের অনেক টাকা পয়সা খরচ হয়। প্রতিপক্ষদের ঘায়েল করতেই পূর্ব থেকেই রিনা বেগমের তিন মেয়ের এক মেয়েকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে তার মা ও শিশুটির আপন চাচা।

ঘটনার দুইদিন পূর্বে শিশুটি তার ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে আসে স্বপরিবারে। সুযোগ বুঝে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই দিন সন্ধ্যার পর শিশুটিকে নির্জন ও পরিত্যক্ত ভিটায় নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। আসামিদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী চাচা লাঠি দিয়ে শিশুটির মাথায় সজরে পরপর দুইটি আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে শিশু মরিয়মের মা শিশুটির ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে মুখ চেপে ধরে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে দুইজন দুই দিকে চলে যায়।

স্থানীয়রা জানান, শিশুটি অনেক ভালো ছিল সকলের সঙ্গে মিষ্টি করে কথা বলতো । কিভাবে একজন মা তার সন্তানকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করতে পারে। এ কথা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। আমরা এর কঠিন বিচার চাই। কোন মা যেন এমন ঘটনা ঘটানোর চিন্তাও না করে। মায়ের কাছে সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা আর সেই মা যদি প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হত্যা করে নিজের পেটের সন্তানকে তাহলে আমরা কোথায় বসবাস করছি। এমন মায়ের ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ক্লুলেস এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। গর্ভধারিণী মা তার দেবরের সহযোগিতায় সন্তানকে হত্যা করেছে। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মূল পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ডটি শিশুটির মা রিনা বেগম ও চাচা মো. সেন্টু মৃধা ঘটিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সমস্ত আলামত জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




রাঙ্গাবালীতে চেয়ারম্যানের প্রতি ইউপি সদস্যদের অনাস্থা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউপি চেয়ারম্যান এ.কে শামসুদ্দিন আবুকে অনাস্থা দিয়েছে সকল মেম্বাররা।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাঙ্গাবালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অনাস্থার বিষয়টি প্রকাশ করেন ইউপি সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার জালাল ডাক্তার। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের ১২ জন সদস্যের প্রত্যেকেই উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে পরিষদের সকল সদস্যরা স্বাক্ষর করে চেয়ারম্যান আবু শামসুদ্দিনের অনাস্থার জন্য। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

লিখিত বক্তব্য ও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, যে চরমোন্তাজ ইউপি চেয়ারম্যান এ কে শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি অর্থ আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে চরমোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সদস্যাবৃন্দ মোট ১২ জন অনাস্থা প্রকাশ করেন। চরমোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদের সব উন্নয়নমূলক কাজ কাবিখা, কাবিটা, টি আর, এল জি এসপি, এডিপি, মৎস, চল্লিশ দিন এবং উন্নয়নমূলক তহবিলের সকল কাজকর্ম চেয়ারম্যান একা করেন। ইউপি সদস্যদেন নামমাত্র সিপিসি করা হয়। কিন্তু কোনো কিছু আলোচনা না করে আগাম স্বাক্ষর ও রেজুলেশন করেন। ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন কোনো সদস্য বা সদস্যাদেরকে না পড়িয়ে শুধুমাত্র সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। বিগত এক বছর যাবত ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সদস্য বা সদস্যাগণকে সম্মানি ভাতা দেওয়া হয়নি। জন্মনিবন্ধন এবং টেক্সের কোনো হিসাব নিকাশ না দিয়ে নিজে আত্মসাত করেন। ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. বেলায়েত হোসেনের কাছ থেকে সারের ডিলার ও টিউবওয়েল বাবদ দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. বেল্লালের কাছ থেকে টিউবওয়েল বাবদ দুই লাখ টাকা, ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আলী আক্কাসের কাছ থেকে মুজিববর্ষের ঘর ও টিউবওয়েল বাবদ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে মুজিববর্ষের ঘর বাবদ ৬০ হাজার টাকা নেন। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের অনেক অনিয়ম জন সাধারণের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চরমোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. জালাল ডাক্তার, ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মিজু গাজি, ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আলি আক্কাস সরদার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. সুক্কুর বয়াতি, ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মাইনুল, ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. বেল্লাল খান, ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মোসারেফ মাতবর , ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আলমগীর মাল, ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. লোকমান চৌকিদার, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোসা. মোর্সেদা বেগম, মোসা. হেনা বেগম ও মোসা. রুনু খান।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগে চেয়ারম্যানের অনাস্থা চেয়ে সকল ইউপি সদস্যরা স্বাক্ষর করে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয় সিদ্ধান্ত নিবেন।




পটুয়াখালীতে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি,আটক ১

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে লোহালিয়া ইউনিয়নের ইদ্রাকপুর গ্রামে কুয়েত প্রবাসী কামরুল ইসলাম তালুকদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় ডাকাতদের মারধরে সুজন তালুকদার নামে একজন আহত হয়েছে। বর্তমানে তিনি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কুয়েত প্রবাসী কামরুল তালুকদারের আপন ছোট ভাই ফিরোজ তালুকদার জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াই টার দিকে ভাতিজা শুভ ফোন দিয়ে যে বাড়িতে ডাকাত এসে আমার হাত পা বেধে ২১ ভরি স্বর্ন ও নগদ আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে চলে যায়।

পরে সদর থানায় ফোন দিয়ে পুলিশকে জানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ওদের বাড়িতে চলে যাই। গিয়ে আহত সুজনকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

আহত সুজন জানান, রাত আড়াইটার দিকে বাসার জানালার গ্রিল কেটে ১০/১২ জনের মতো ডাকাত দল বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। পরে আমাদের হাত পা বেধে মারধর করে তোষকের ভেতরে আটকিয়ে রাখে। ডাকাতদল প্রায় ঘন্টা খানেক সময় বাসার ভেতরে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন আলমারি, শোকেজ ও ওয়ারড্রব ভেঙ্গে জিনিসপত্র তছনছ করে।

এসময় বাসায় থাকা ২১ ভরি স্বর্নালঙ্কার ও দোকানের বেচাকেনার আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে চলে যায় তারা। পরে ৯৯৯ পুলিশকে কল দিলে পুলিশ এসে তদন্ত করে।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি জসিম জানান, ডাকাতির খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে রাতেই আমরা ঘটনা স্থান পরিদর্শন করেছি। আমাদের কাছে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে।




বরগুনায় কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে

বরিশাল অফিস :: বরগুনার তালতলীতে সরিষা চাষে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে। কম সময়ে, কম খরচে অধিক ফলন পাওয়ায় এই সরিষা আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এ বছরও ভাল ফলনের আশা করছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ভাল ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। কৃষি আবাদ থেকে হারিয়ে যাওয়া সরিষা আবার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে ফিরে এসেছে। সরিষা ফুলের হলুদে হলুদে ছেয়ে গেছে তালতলী উপজেলার মাঠ-প্রান্তর। মাঠভরা হলুদ ফুল দেখে ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক।

কম খরচ ও পরিশ্রমে অধিক ফলন পাওয়া যায় সরিষা চাষে। পাশাপাশি ফসল বিক্রি করে ভালো দামও পাওয়া যায়। তাই সরিষা চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন তালতলীর কৃষকরা। মাত্র তিন মাসে সরিষা ঘরে তুলতে পাড়ায় এখন একই জমিতে সরিষা, ইরি ও আমন চাষ করছেন কৃষকরা। তিনটি ফসল চাষ করতে পেরে বোনাস ফসল হিসেবে সরিষা চাষে বিপ্লব ঘটেছে কৃষকদের মাঝে। সরিষার চাষে উৎপাদন খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা বেশ লাভবানও হচ্ছে।

মোমেশে পাড়া গ্রামের কৃষক চান থান রাখাইন বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমিতে সরিষার ফলন হয় প্রায় ৮ মণ। তাই প্রতি বিঘা সরিষা চাষে সর্বোচ্চ পাচঁ থেকে ছয় হাজার টাকার বেশি খরচ হয় না। বিক্রি করা যায় কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকায়। ফলে প্রতি বিঘা সরিষা আবাদে খরচ বাদে মোট লাভ দাঁড়ায় ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা।’

তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি কৃষক হয়েও প্রণোদনার সার বীজ পাইনি, কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা ও পরামর্শ পেলে আগামীতে আরো ভাল ফসল ফলাতে সক্ষম হবো।’

নলবুনিয়া গ্রামের কৃষক শংকর সিকদার বলেন, ‘আমি কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনার সার ও বীজ পেয়ে ১ বিঘা (৩০শতাংশ) জমিতে সরিষা চাষ করেছি, আমার ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভাল হয়েছে, আশা করি সাত থেকে আট মণ সরিষা হবে।’

কৃষকরা আরো জানান, ‘সরিষার পাতা মাটিতে পড়ে জৈব সার তৈরি হয়। তাই এইসব জমিতে পরে ফসল ইরি-আমন আবাদে নন-ইউরিয়া সার কম লাগে। এতে করে আমন আবাদে খরচ অনেক কমে যায়। এছাড়া সরিষার শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন তারা।’

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরিষার আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনামূল্যে বীজ-সারসহ নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন আশা করছেন তারা।

তালতলী কৃষি বিভাগ জানায়, বারি-১৪, বীনা-৪ ও বীনা-৯ সরিষা আবাদ করা হচ্ছে। সারাদেশের মতো তালতলীতেও ৭০০ কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। গত অর্থ বছরে তালতলীতে সরিষার আবাদ হয়েছিল যেখানে ২৭ হেক্টর, সেখানে চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হেক্টর কিন্তু আবাদ হয়েছে ১০০ হেক্টর। এই বৃদ্ধির ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এই বিভাগ। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাশে থেকে সরিষার আবাদ বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এই বিভাগের কর্মীরা।

তালতলী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মো: রাসেল জানান, ‘সরকার তেল ফসল বৃদ্ধির প্রকল্প হিসেবে সরিষার আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনা দিয়েছে, তাই কৃষি বিভাগ থেকে সরিষা চাষে কৃষকদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সরিষা আবাদের শুরুতে কিছু বৃষ্টি হয়েছে এরপরও ফলন ভাল হবে বলে আশা করছি।’