বরিশালে গায়ে হলুদে কনেকে চুমু, ভেঙে গেল বিয়ে

বরিশাল অফিস : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গায়ে হলুদে কনেকে চুমু দেওয়ায় বিয়ে ভেঙে যায় কনের। তবে চুমু দেওয়ার অভিযোগে যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

গতকাল রোববার এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত শনিবার রাতে উপজেলার বাগধা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার জিহাদ হাওলাদার (২৪) উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের ছত্তার হাওলাদারের ছেলে।

আগৈলঝাড়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নে স্কুলে পড়াশোনার সময় ভুক্তভোগী এবং পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের বাসিন্দা জিহাদ হাওলাদারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন তাঁদের সম্পর্ক ছিল। তবে পরে জিহাদ হাওলাদার অন্যত্র বিয়ে করেন। সম্প্রতি ওই তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়। গত শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাড়িতে গায়েহলুদ ছিল। বরপক্ষের লোকজনও এসেছিলেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ জিহাদ হাওলাদার সেখানে উপস্থিত হন। তিনি নিমন্ত্রিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। জাহিদ লোকজনের সামনেই কনেকে চুমু দেন। উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে জিহাদকে গণধোলাই দিয়ে রাতেই আগৈলঝাড়া থানা-পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে পুলিশ জিহাদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

এদিকে এ ঘটনার পরে বরের বাবা বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন বলে মেয়ের পরিবারকে জানিয়ে দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গায়েহলুদের আসরে কনেকে চুমু দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ছেলে জিহাদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছি। আমরা বরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’




কলাপাড়ায় বিলুপ্তির পথে মহিষ পালন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): একটা সময় গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে পারিবারিক খামারে মহিষ পালতে দেখা যেত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বিলে দেখা যেত মহিষের পাল। দলবেঁধে খাওয়া আর বিলকে মাতিয়ে রাখাই ছিল মহিষের কাজ। গ্রামের মধ্যে যাদের জমি বেশি থাকত তাদের মহিষও বেশি থাকত। মহিষের দুধ আর মাংসের জন্য লালন-পালন করত তখনকার কৃষকরা। হালচাষের জন্য ছিল মহিষের আলাদা কদর।

সময়ের পরিবর্তনে এখন আর চোখেই পড়ে না মহিষ পালন। দলবেঁধে ঘুরতে দেখা যায় না বিলে। বর্ষা মৌসুমে হালচাষে নেই মহিষের উপস্থিতি। দুধ আর মাংসের জন্য বিখ্যাত হলেও এখন আর নেই এসবের সহজলভ্যতা। হারিয়ে যেতে বসছে ঐতিহ্যের মহিষ পালন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবারে বাবা-দাদার পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। একদিকে মহিষের খাদ্য সংকট অন্যদিকে গ্রামগঞ্জের খাল দখলে পানি না থাকায় একেবারে হারিয়ে যেতে বসেছে মহিষ পালন।

কৃষকরা জানান, একটা সময় আমরা বিলে মহিষ ছেড়ে দিয়ে লালন-পালন করতাম। পুরো খালে বিলে পানি আর ঘাসে পরিপূর্ণ থাকত। রোগ বালাই কম হতো। বিশেষ করে হালচাষ করার প্রধান মাধ্যম ছিল মহিষ। সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা হালচাষ করা যেত। তখনকার সময় পাওয়ার টিলার ছিল না। খরচ লাগত কম হালচাষে। এখন আর মহিষ দিয়ে কেউ হালচাষ করে না। আমরা যারা মহিষ পালন করি তারা খুব কষ্টে আছি। খাবার, পানি, চিকিৎসা সব মিলিয়েই সংকট। হয়তো কয়েক বছর পর কেউ মহিষ পালন করবে না।

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাকির হাওলাদার বলেন, আমাদের একটা সময় ৬০ থেকে ৭০টি মহিষ ছিল। এ গ্রামে অনেকেই মহিষ পালন করত। এখন আমাদের পরিবারে ২০টির মতো মহিষ আছে। খাবার, পানির অভাবের কারণে মহিষ পালন করা যায় না। মহিষের খাবার কিনে খাওয়ানো সম্ভব নয়। প্রতিদিন ২ মণ খাবার ও ১ মণ পানির প্রয়োজন হয়। এখন আর মহিষ দিয়ে হালচাষ হয় না। সব মিলিয়ে বিলুপ্তপ্রায় এ মহিষ জাতটি।

পশু চিকিৎসক আবু সাইদ জানান, নীলগঞ্জ ইউনিয়নে হাতে গোনা ৩-৪টা পরিবারে দেখা যায় মহিষ পালন। তবে খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সহজলভ্য হলে আগ্রহ বাড়ত কৃষকদের।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলুল হক সরদার বলেন, মহিষ পালন একেবারে কমে যাচ্ছে ধারণা ভুল। কলাপাড়া উপজেলায় দুটি উৎপাদন গ্রুপ আছে। প্রত্যেক গ্রুপে ৪০ জন সদস্য আছে। কলাপাড়া উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার মহিষ আছে যা পারিবারিক খামারে বেড়ে উঠছে। তবে খাদ্য সংকট আছে। আমরা মুজিব কিল্লায় ও পরিত্যক্ত জঙ্গলে ঘাস উৎপাদন করা যায় কিনা এটার ব্যপারে পদক্ষেপ নেব।




এমবিবিএস হলেন কুষ্টিয়ার মুফতি হাবিব

অনলাইন ডেস্ক : গণমানুষের সেবার স্বপ্ন থেকে এমবিবিএস হয়েছেন কুষ্টিয়ার মুফতি হাবিবুর রহমান। এখন উত্তম ব্যবহার, আন্তরিকতা ও সঠিক চিকিৎসা দিয়ে গণমানুষের চিকিৎসক হয়ে ওঠতে চান তিনি। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন থেকেই তিনি এই অঙ্গনে অগ্রসর হয়েছেন।

মুফতি হাবিব জানিয়েছেন, মাদরাসায় অধ্যয়নকালে তার উস্তাজ মুফতি হাফিজুর রহমান মেহেরপুরী থেকে চিকিৎসক হওয়ার প্রেরণা লাভ করেন। পরে হাটহাজারী মাদরাসার মুফতি কিফায়াতুল্লাহ এবং মারকাযুদ দাওয়ার মুফতি আব্দুল মালেকের পরামর্শে তিনি এই পথে পা বাড়ান। খেদমতে খালক তথা সৃষ্টির সেবার মানসে তিনি এই পথে যাত্রা শুরু করেন। এরপর দীর্ঘমেয়াদী কঠিন পড়াশোনার চাপ সামলানোর পর অবশেষে লক্ষ্যকে ছোঁয়ার দ্বার প্রান্তে পৌঁছেছেন তিনি।

এ অর্জনকে বাংলাদেশের প্রথম দৃষ্টান্ত দাবি করে তিনি বলেন, আমার জানা মতে বাংলাদেশে এটাই প্রথম দৃষ্টান্ত যে একই ব্যক্তি ভালো আলেম হওয়ার পাশাপাশি এমবিবিএস ডাক্তারও হয়েছেন।

তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে সৃষ্টির সেবায় নিজেকে নিয়োগ করতে পারেন।

উল্লেখ্য, মুফতি হাবিব রাজধানীর বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া দারুল উলূম ফরিদাবাদ থেকে তাকমিল সমাপন করেন। তিনি বোর্ড পরীক্ষায় মুমতাজ মার্ক পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এরপর তার প্রিয় উস্তাজ মুফতি হাফিজুর রহমান মেহেরপুরীর প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া মেহেরপুর থেকে ইসলামী আইনশাস্ত্রে উচ্চতর পড়াশোনা করে মুফতি হন।




পটুয়াখালীতে রাস্তার পাশ থেকে জীবিত নবজাতক উদ্ধার

বরিশাল অফিস : পটুয়াখালীতে রাস্তার পাশের ঝোপ থেকে একটি জীবিত নবজাতক উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুর দেড়টায় পৌর শহরের শেরে বাংলা সড়কের হিমি পলি ক্লিনিকের রাস্তার পাশের ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা রুস্তম আলী জানান, দুপুরে ইয়ামিন (২২) নামে এক যুবক শেরে বাংলা সড়কের হিমি পলি ক্লিনিকের সামনের রাস্তার পাশে ঝোপের মধ্যে বাসার ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য আসে। এসময় একটুকরো লাল ওড়না দিয়ে পাচানো অবস্থায় কান্না করতে একটি জীবিত নবজাতক ছেলেকে দেখতে পান। পরে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলালউদ্দিন আলাল। তবে কে বা কারা নবজাতকটিকে রাস্তার পাশের ঝোপের মধ্যে রেখে গেছে তা জানা যায়নি।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ক্যানো বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স শামীমা নাসরিন জানান, নবজাতকটিকে আমাদের এখানে আনার সাথে সাথে তার হার্ডের পাল্স পরিক্ষা করে দেখা হয় এবং নবজাতকটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছে।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ জসিম জানান, নবজাতকটি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রযেছে এবং সুস্থ আছে। এছাড়া পরবর্তীতে সমাজসেবা অফিস এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।




কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলে যেসব কাজ করবেন না

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): কুয়াকাটায় ঘুরতে এসে রাত যাপনের জন্য আবাসিক হোটেল ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এসব হোটেলগুলো কমদামি বা বেশি দামি হয়ে থাকে। তবে সব হোটেলেই কিছু নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে।

দেখা যায় সেই নিয়মগুলো ঠিকভাবে না বোঝার কারণে এমন কিছু ভুল করে বসেন, যার মাশুল গুনতে হয় বিশাল পরিমাণের। হোটেলে অবস্থানের ক্ষেত্রে এই ভুলগুলো যেন কখনোই না হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কোন ভুলগুলো সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকা জরুরি-

১/ চট করে দরজা খুলবেন না : দরজায় কড়া নাড়া হলো আর কিছু না বুঝেই বললেন, ‘কাম ইন।’ এই বিশাল ভুলটি কখনোই করতে যাবেন না। হোটেল কিন্তু দিন শেষে কখনোই তেমন নিরাপদ জায়গা নয়। সুতরাং পরিচয় জেনে তার পরে দরজা খুলুন।

মনে রাখবেন, অচেনা জায়গায় অচেনা কেউ তো আপনার সঙ্গে দেখা করার কথা নয়। কাজেই সাবধান। আর সব সময় দরজা লাগিয়ে রাখতে ভুলবেন না।

২/ হোটেলের মিনিবারের পানীয় নয় : কোমল কিংবা কঠিন, যেমন পানীয়ই খান না কেন, সেটি হোটেলের মিনিবার থেকে খেতে যাবেন না। কারণ, সাধারণত হোটেলের মিনিবারগুলোতে পাঁচ টাকার খাবারের দাম অন্তত ৫০ টাকা রাখা হয়!

শেষে দেখবেন, আপনার রুম ভাড়ার চেয়ে মিনিবারের বিলই গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ-তিন গুণ!

৩/ ছারপোকায় সাবধান : যত বিলাসবহুল কক্ষই হোক আর সুসসজ্জিত বিছানা হোক, ছারপোকা ঠিকই জানে কীভাবে নিজের জায়গা করে নিতে হয়। কাজেই এ ব্যাপারে ভালোমতো তল্লাশি চালান, ছারপোকার সামান্য আনাগোনা দেখলেই সবকিছু ঠিকঠাক করে দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন। কারণ, এই ছারপোকা কেবল আপনাকে কামড়াবে তা-ই শুধু নয়, আপনার সঙ্গে সওয়ার হয়ে আপনার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে যাবে অবলীলায়।

৪/ কলের পানি খাবেন না : এক ব্রিটিশ দম্পতি লস অ্যাঞ্জেলেসে বেড়াতে এসে ট্যাপ বা কল থেকে পানি পান করেন। সেই পানিতে কেমন যেন বিচিত্র স্বাদ, এমন স্বাদের পানি নাকি তারা কখনোই খাননি। পরে অনুসন্ধানে জানা গেল, হোটেলের জলাধারে একটি মৃতদেহ! কার ভাগ্যে কী থাকে, তা তো আর বলা যায় না। সুতরাং ভুলেও কিছু টাকা বাঁচানোর জন্য হোটেলরুমের কলের পানি খাবেন না। ভরসা রাখুন দোকান থেকে কেনা মিনারেল ওয়াটারের বোতলে।

৫/ রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করবেন না : হোটেলটি সুলভ বা বিলাসবহুল যেমনই হোক না কেন, এতে জীবাণুর উপস্থিতির সম্ভাবনা বেশি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে। আর এসব জীবাণুর একটি বড় অংশ থেকে যায় টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোলে। ঘরদোর যতই ঝেড়ে পরিপাটি করা হোক, রিমোট কিন্তু সেভাবে পরিষ্কার করা হয় না। কাজেই এতে জীবাণু বহাল তবিয়তে রয়ে যায়। সুতরাং সাবধান!

৬/ মূল্যবান জিনিস রুমে রাখবেন না : মূল্যবান জিনিসপত্র অনেকেই হোটেলরুমের গোপনীয় কোনো একটি জায়গায় রেখে দেন। এটি চরম ভুল। হোটেলরুম থেকে চুরি করতে যারা ওস্তাদ, তারা কিন্তু ওই সব ‘গোপন’ জায়গার হদিস আপনার চেয়ে ভালো জানে! সুতরাং একটু পয়সা খরচ করে কর্তৃপক্ষের লকারে নিজের মূল্যবান জিনিস রেখে দিন। নিরাপদ থাকবেন।

৭/ ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ সাইন : দরজা লাগিয়ে দিলেই কিন্তু হলো না। যতক্ষণ না ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ সাইন বাইরে ঝুলিয়ে দিচ্ছেন, ততক্ষণ যে কেউ এসে উটকোভাবে আপনার ব্যক্তিগত সময়ে বাদ সাধতে পারে। আবার ঘর পরিষ্কারের চিন্তা থাকলে সেটি সরিয়ে ফেলুন। কারণ, ওই সাইন ঝোলানো থাকলে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও আপনার ঘরের আশপাশে ঘেঁষবে না।

৮/ রুম নম্বর বলবেন না : যেখানে সেখানে বা চেক-ইনের সময় আপনার হোটেলের রুম নম্বরটি নিজে উচ্চারণ করবেন না। দুষ্কৃতকারীরা এসব তথ্যের জন্যই মুখিয়ে থাকে। এ বিষয়টি যতটা পারেন গোপন রাখুন, নতুন পরিচিত কাউকেই রুম নম্বর জানাতে যাবেন না।




সাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল ৪০ কেজির সেইল ফিশ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলীপুর মৎস্য বন্দরে ৪০ কেজি ওজনের একটি পাখি মাছ (সেইল ফিশ) বিক্রি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছটি নিয়ে আসেন এক জেলে।
পরে বন্দরের জালাল ঘরামি নামে এক পাইকার ১৩ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন।

ওই জেলে বলেন, গত তিনদিন আগে মাছটি আমরা জালে পেয়েছি, আজকে আলীপুর এসে বিক্রি করলাম। সাধারণত বছরে দু-একবার এরকম বড় আকারের পাখি মাছ পাওয়া যায়।

মৎস্য ব্যবসায়ী জয়নাল ঘরামি বলেন, এ মাছগুলো বেশ দ্রুত গতিসম্পন্ন তাই অনেকে পাখি নামেও চিনে থাকে। বছরের এ মৌসুমে মাছগুলো জেলেদের জালে ধরা পরে। বেশ সুস্বাদু হওয়ায় এই মাছের চাহিদা অনেক বাজারে।

পাইকার জালাল ঘরামি বলেন, আজকের মাছটি ১৩ হাজার টাকায় কুয়াকাটার গাজী রেস্তোরাঁ কিনে নিয়েছে। আমি মূলত মাছ কিনে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করি।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, মাছগুলো খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ার দেশের বাইরে বেশ চাহিদা রয়েছে। এর ইংলিশ নাম সেইল ফিশ।




প্রতিবেশীর ‘গাছ খাওয়ায়’ ছাগল আটক, মালিককে বেঁধে নির্যাতন 

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় প্রতিবেশীর মরিচ খেতে গিয়ে ছাগল গাছ খাওয়ার অভিযোগে মালিককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।

উপজেলার আরোজবেগী গ্রামের গুচ্ছগ্রামে আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পরে সকাল ১০টার দিকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দশমিনা সদর ইউনিয়নের আরোজবেগী ৭ নম্বর ওয়ার্ড গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. মোস্তফা ফকির। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে প্রতিবেশী মো. খোকন সরদারের ছাগল তাঁর মরিচ খেতে ঢুকে গাছ খায়। সে কারণে মোস্তফা ছাগল নিয়ে বেঁধে রাখেন।
খোকন আজ শুক্রবার সকালে ছাগল চাইতে গেলে মোস্তাফা, তাঁর স্ত্রী এবং পুত্রবধূ খোকনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করেন। খোকনের স্ত্রী তাঁর স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাঁকেসহ ৮ ও ১০ বছরের দুই শিশু সন্তানকেও মারধর করেন তাঁরা। পরে স্থানীয়রা খোকনকে উদ্ধার করে দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

আহত খোকন সরদার বলেন, ‘মোস্তফা আর আমি গুচ্ছ প্রামের পাশাপাশি ঘরে বাস করি। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাগলে নাকি মোস্তফার খেতের মরিচ চারা খায়। মোস্তফা ছাগল নিয়ে বেঁধে রাখে। আমি সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে গিয়ে বললে, তিনি আমাকে ছাগল চাইতে বলেন। আমি সকালে ছাগল চাইতে গেলে মোস্তফা, তাঁর স্ত্রী ও পুত্রবধূ আমাকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ঘরের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে দশমিনা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করায়। আমি উপজেলা প্রশাসনের কাছে এমন কাজের জন্য বিচার দাবি করি।’

খোকনের স্ত্রী আজকের বলেন, ‘আমাদের ছাগলের বাচ্চা নাকি মোস্তফার খেতের মরিচের চারা খাইছে। আমার স্বামী সকালে ছাগল চাইতে গেলে আমাকে মারধর করে, আমার ছোট শিশু সন্তানকে মারে এবং আমার স্বামীকে মারধর করে টানাহেঁচড়া করে নিয়ে তার ঘরের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। আমি এর বিচার চাই।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য সিকদার দেলোয়ার বলেন, ‘বিষয়টি জানান পর আমি ছাগল আনতে পাঠিয়েছি। কিন্তু তারপর কি হয়েছে জানি না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম হাত–পা বেঁধে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় খোকন। এটা একটি দুঃখজনক ঘটনা।’

এ বিষয়ে জানতে মোস্তফার বাড়ি গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘ঘটনার বিষয় আপনার মাধ্যমে শুনলাম। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’




গলাচিপায় নিখোঁজের ১০ দিনেও সন্ধান মেলেনি স্কুল ছাত্রীর

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার গলাচিপায় নিখোঁজের ১০ দিনেও সন্ধান মেলেনি অপু রানী (১৬) নামের এক স্কুল ছাত্রীর।

অপু রানী হচ্ছেন উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের কেশব চন্দ্র দাসের মেয়ে। তিনি গলাচিপা সরকারি টেক্সটাইল স্কুল এন্ড কলেজের ২০২৩ সেশনের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। তার রোল নম্বর ৫৪। অপু রানীর সন্ধান চেয়ে তার মা মালতী রানী গলাচিপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। যার ডায়েরী নম্বর ৭০৭, তারিখঃ ১৭/০২/২০২৪। নিখোঁজের ১০ দিনেও অপু রানীর সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ ডায়েরি ও অপু রানী মা মালতী রানীর কাছ থেকে জানা যায়, স্বরেস্বতী পূজার দিন সকালে পূজার অঞ্জলী নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। দুপুর পেরিয়ে গেলেও অপু রানী বাড়ি না ফেরায় তার খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সন্ধ্যায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়।
তিনি আরো বলেন, পরে দুলাল দাস নামের একজন লোক একটি বাংলালিংক নম্বর (০১৯৩৬৯৪১২৮১) থেকে ফোন করে বলে অপু পটুয়াখালীর ছোট বিঘাই ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আছে।
অপু রানীর মা মালতী রানী ও বাবা কেশব চন্দ্র দাস পটুয়াখালীর ছোট বিঘাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলতাফ হাওলাদার ও শাহ আলম চৌকিদারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, আপনারা মামলা তুলে নিলে আপনাদের মেয়ে বেরিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে ছোট বিঘাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলতাফ হাওলাদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি ঐ বাড়িতে লোক পাঠিয়েছি এবং দেখব।

এ বিষয়ে গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, আমি ছোট বিঘাই চেয়ারম্যানকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছি।

এ বিষয়ে গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফেরদাউস আলম খান বলেন, অপু রানী নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরী থানায় করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।




জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি আমল

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা উপলব্ধি করতে পার’ (সুরা জুমুআ, আয়াত : ৯)।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘দিবসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো জুমার দিন এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত’ (ইবনে মাজাহ : ১০৮৪)।

হাদিসে জুমার দিনের ১৭টি সুন্নাত পাওয়া উল্লেখ করা হয়েছে। নিম্নে তা তুলে ধরা হলো—
১. গোসল করা, (বুখারি)।
২. মিসওয়াক করা, (ইবনে মাজাহ : ১০৯৮)।
৩. উত্তম পোশাক পরিধান করা, (ইবনে মাজাহ : ১০৯৭,)।
৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা, (বুখারি : ৮৮০)।
৫. মসজিদে প্রবেশের পর অন্য মুসল্লিদের ফাঁক করে বা গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যাওয়া, (বুখারি : ৯১০)।
৬. কাউকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে বসার চেষ্টা না করা, (বুখারি : ৯১১)।
৭. সালাতের জন্য কোনো একটা জায়গাকে নির্দিষ্ট করে না রাখা, যেখানে যখন জায়গা পাওয়া যাবে, সেখানেই সালাত আদায় করা, (আবু দাউদ : ৮৬২)।
৮. নির্ধারিত নামাজ আদায় করা। এমনকি ফরজ সালাতের আগে ও পরে দুই-চার রাকাত করে নফল সালাত আদায় করা, (বুখারি : ৯৩০)।
৯. গায়ে তেল ব্যবহার করা, (বুখারি : ৮৮৩)।
১০. হেঁটে মসজিদে গমন করা, (মুসলিম : ১৪০০)।
১১. মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন না খাওয়া ও ধূমপান না করা (বুখারি : ৮৫৩)।
১২. ঘুমের ভাব বা তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে বসার জায়গা পরিবর্তন করে বসা, (আবু দাউদ : ১১১৯)।
১৩. ইমামের খুতবা দেওয়া অবস্থায় দুই হাঁটু উঠিয়ে না বসা, (আবু দাউদ : ১১১০, ইবনে মাজাহ : ১১৩৪)।
১৪. খুতবার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা, (আবু দাউদ : ১১০৮)।
১৫. এতটুকু জোরে আওয়াজ করে কোনো কিছু না পড়া বা তিলাওয়াত না করা, যাতে অন্যের সালাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে (আবু দাউদ : ১৩৩২)।
১৬. ইমামের খুতবার জন্য বের হওয়া থেকে সালাত শেষ করা পর্যন্ত নীরবতা অবলম্বন করা। তবে কেউ কথা বলতে দেখলে তাকে চুপ করতে বা বারণ করতেও হাদিসে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে (আবু দাউদ : ১১১২)।
১৭. বেশি বেশি প্রার্থনা (দুআ) করা, (বুখারি : ৯৩৫)।




রাঙ্গাবালীর চর হেয়ার পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াবে

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা চরটিতে রয়েছে পাখপাখালির অবাধ বিচরণ আর লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি। সেই সাথে রয়েছে ঝাউবাগান। প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের দেখা মেলে পটুয়াখালীর চর হেয়ার দ্বীপে। এখানে হতে পারে পর্যটনের নতুন আকর্ষণ।

সাদা বক, পানকৌড়ি, বালিহাঁস ও গাংচিলসহ নানা পাখিদের অবাধ বিচরণ এ দ্বীপে। পাখা মেলে মুক্ত আকাশে এদের ওড়াউড়ি আর সমুদ্রের পানিতে খুনসুটি। গর্ত থেকে বের হয়ে আবার ঢুকে পড়া, এমন লুকোচুরিতে ব্যস্ত লাল কাঁকড়া। কখনো আবার দল বেঁধে বালিয়াড়িতে ছুটোছুটি।

প্রকৃতির এমন মনমাতানো রূপের দেখা মিলবে রাঙাবালী উপজেলার চর হেয়ারে।

শত বছর আগে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা ডিম্বাকৃতির এ দ্বীপটির চারদিকে তিন কিলোমিটার বালুকাময় সমুদ্রসৈকত। আর মাঝখানে সারি সারি ঝাউবাগান। সৈকতে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত।

দ্বীপটির পরই বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি। আর পশ্চিম পাশেই রয়েছে জাহাজমারা সমুদ্রসৈকত। দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ সৈকতটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হতে পারে।

এখানে ঘুরতে এসে মুগ্ধ পর্যটকরা বলেন, এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে ভালো লাগছে। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। অতিথি পাখি, লাল কাঁকড়া আমাদের মুগ্ধ করেছে। এখানে কোনো প্লাস্টিক বর্জ্য নেই।

এদিকে চর হেয়ারকে ঘিরে আধুনিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। পটুয়াখালী-৪ সংসদ সদস্য (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী) অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমান মহিব বলেন, জাহাজমারা এবং চর হেয়ার পর্যটন বিকাশের জন্য একটি সুন্দর এলাকা।

জাহাজমারা এমন একটি এলাকা যেখানে সূর্যাস্ত ও সূর্যোয়ের পরিপূর্ণতা একসঙ্গে দেখা যায়। এ ছাড়া চর হেয়ার বনাঞ্চলে ঘেরা খুবই অনিন্দ্য সুন্দর। ভবিষ্যতে জাহাজমারা ও চর হেয়ারকে সংযুক্ত করার আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সাথে পর্যটনের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও। ইতোমধ্যে জাহাজমারা রাস্তা বরাবর উন্নয়ন কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এ দুই অঞ্চলের পর্যটনের বিকাশের স্বার্থে আমরা অবকাঠামো বিকাশের ব্যবস্থা নিয়েছি।

ইতোমধ্যে জাহাজমারা সমুদ্রসৈকতে বিভিন্ন এনজিও ও বেসরকারি সংস্থাগুলো উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দ্বীপটিতে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম রাঙ্গাবালী থেকে ২০ কিলোমিটার নৌপথ। স্পিডবোট বা ট্রলারযোগে এখানে পৌঁছাতে হবে।