রাঙ্গাবালীতে ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির স্বাক্ষরিত নতুন পাঁচ কমিটি প্রকাশ!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

সকালে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। রাতে সেই কমিটির পেছনের তারিখের স্বাক্ষরে অনুমোদিত ইউনিয়ন পর্যায়ের পাঁচটি শাখার নতুন কমিটি প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনাটি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ছাত্রলীগের।

তবে জেলা ছাত্রলীগ বলছে, বিলুপ্ত কমিটির স্বাক্ষরে করা কমিটিগুলোর সাংগঠনিক বৈধতা নেই।

সংগঠনটির সূত্র বলছে, রাঙ্গাবালী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ মৃধার নেতৃত্বাধীন কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর হাসান আরিফের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

২০২৩ সালের ২২ মার্চ এক বছরের জন্য গঠন করা আরিফ-রিয়াদের এ কমিটি মেয়াদ শেষ হওয়ার ১২ দিন আগেই কেন কি কারণে বিলুপ্ত করা হলো, তা ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

তাৎক্ষণিক এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর হাসান আরিফ বলেছিলেন, ‘এটা সংগঠনের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা করেছি।’

এদিকে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সভাপতি আরিফ হোসেন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ মৃধার পেছনের তারিখে স্বাক্ষরিত ইউনিয়ন পর্যায়ের একে একে পাঁচটি নতুন কমিটি প্রকাশ্যে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আরিফ-রিয়াদ নিজেরাই এ কমিটি প্রকাশ করেন। পরে ফেসবুকে সেই কমিটি ছড়িয়ে পড়ে।

আরিফ-রিয়াদের গত ৮ মার্চের যৌথ স্বাক্ষরিত পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, আগামী এক বছরের জন্য ১৭ সদস্য বিশিষ্ট রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন, ৮ সদস্য বিশিষ্ট রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন (দক্ষিণ), ১৩ সদস্য বিশিষ্ট ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন, ৩ সদস্য বিশিষ্ট বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন এবং ৩ সদস্য বিশিষ্ট চরমোন্তাজ ইউনিয়ন শাখার নতুন কমিটি অনুমোদন করা হয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত রাঙ্গাবালী উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি আরিফ হোসেন বলেন, ‘ওই কমিটি আমাদের আগেই করা ছিল। কিন্তু তখন ফেসবুকে দিতে পারিনি। পরে (মঙ্গলবার) ফেসবুকে প্রচার হয়েছে। ওই কমিটির কাগজ আমরা নেতাকর্মীকে দিয়ে দিয়েছিলাম।’

জানা যায়, সকালে বিলুপ্ত ঘোষণা করা কমিটিই রাতে উপজেলাধীন নতুন পাঁচটি কমিটি প্রকাশ করার বিষয়টিকে অবৈধ বলছেন জেলা কমিটি। তাই ওই কমিটি ফেসবুকে প্রকাশ করার পরপরই মঙ্গলবার রাতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ওই কমিটির সাংগঠনিক বৈধতা নেই বলে উল্লেখ করেন।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাঙ্গাবালী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং সাবেক সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত সবগুলো কমিটি অবৈধ। যার সাংগঠনিক কোন বৈধতা নেই। এ বিষয়ে আমার ফেসবুকে স্টাট্যাসও দেওয়া আছে।’

 




আপনার ফোন ট্র্যাকিং হচ্ছে কি না কীভাবে বুঝবেন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : প্রযুক্তির উৎকর্ষতা আজকাল ব্যক্তিগত জীবনকেও নানাভাবে প্রভাবিত করছে। এই যে আপনার প্রিয় স্মার্টফোনের কথাই ধরা যাক। বিভিন্নভাবে জীবনকে সহজ করলও  এই স্মার্টফোন দিয়েই আপনাকে নানা উপায়ে ট্র্যাক করা সম্ভব। তবে আপনি যদি এ বিষয়ে খেয়াল রাখেন তাহলে এর পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারবেন।

ফোন ট্র্যাকিং অনেক অপ্রত্যাশিত উপায়ে হতে পারে। আপনার ব্যবহৃত ডিভাইসটিতে কারও প্রবেশের অধিকার থাকলে সহজেই সেই ব্যক্তি আপনার ফোনে লোকেশন-ট্র্যাকিং ফিচারটি সক্রিয় করতে পারবে।

আর অন্য কোনো ব্যক্তি ট্র্যাকিং চালু করেছেন কি না সেটা ডিভাইসের মালিক বুঝতেও পারবেন না। এতে করে অনেক অ্যাপ এবং ফোন অপারেটিং সিস্টেমের লোকেশন-ট্র্যাকিং ফিচার মানুষের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ ছাড়া আপনার কর্মক্ষেত্র বা নিয়োগকর্তা দ্বারাও আপনার ফোনের ব্যবহার ট্র্যাকড হতে পারে। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে আপনার ডিভাইসটি কোম্পানি থেকে ইস্যু করা থাকে। এমনকি আপনার স্মার্টফোনটি যদি একটি করপোরেট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, সেক্ষেত্রেও আপনাকে ট্র্যাকিং সম্ভব৷

অনেকে ফোন ট্র্যাকিংয়ের কিছু লক্ষণ শনাক্ত করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ তারা লক্ষ্য করতে পারেন, ডিভাইসটি ধীর হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কর্মক্ষমতায় অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যায়। তবে ট্র্যাকিং করা হলে তা সব সময় এত সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় না।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে, আপনি বিভিন্ন কোড ডায়াল করে দেখতে পারেন। যেগুলো ফোন ট্র্যাকিং করা হলে সম্ভাব্য কিছু প্রতিক্রিয়া দেখাবে। যেমন: *#61# লিখে ডায়াল করলে ইনকামিং কলগুলো অন্য কোনো নম্বরে ফরওয়ার্ড করা হয় কি না তা জানাবে।

একইভাবে *#62# ডায়াল করে আপনি দেখতে পারবেন যে, কোনো ডাইভারশন সফ্টওয়্যার বিভিন্ন কল এবং টেক্সটকে আপনার কাছে পৌঁছাতে বাধা দেয় কিনা।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সব সময় লোকেশন বার বন্ধ করে রাখুন। ট্র্যাকিং থেকে বাঁচতে ফোনের জিপিএস অপশনটি বন্ধ করে রাখতে হবে। যদি আসে, তাহলে ফোনে লগইন করা জি-মেইলের পাসওয়ার্ড বদলে ফেলতে হবে। যদি ফাইন্ড গুগল ছাড়া স্ট্যাটাস বারে লোকেশন ইনফরমেশন আইকন দেখা যায়, তাহলে বুঝবেন আপনার মোবাইল ফোনের সেটে স্পাই অ্যাপ আছে।

সমাধান পেতে, ফোনের ডেভেলপার অপশনে চলে যান। সেখান থেকে রানিং সার্ভিস অপশনে গিয়ে সন্দেহজনক কোনো অ্যাপ চোখে পড়লে সোজা আন-ইনস্টল করে দিন।

ট্র্যাকিং হওয়ার বিষয় একবার নিশ্চিত হয়ে গেলে ফোনের সেটিংসে যান এবং ‘লোকেশন’ সেটিংস অফ করে দিন। এটি ফোনকে আপনার অবস্থান সংগ্রহ করা বন্ধ করতে সাহায্য করবে। চাইলে ডিভাইসে একটি ভিপিএন ব্যবহার করুন। এটি আপনার ইন্টারনেট ট্রাফিকটিকে এনক্রিপ্ট করে এবং আপনার অবস্থান গোপন রাখতে সাহায্য করবে।

এ ছাড়া নিরাপদ থাকতে ফোনকে ট্র্যাকিং থেকে রক্ষা করার জন্য একটি লক স্ক্রিন ব্যবহার এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা ফাংশনাল প্যাটার্ন দিয়ে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করতে হবে। ফোন রুট করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ, অনেক সময় রুটের মাধ্যমে ফোনের এক্সেস পেয়ে যায়, এতে ফোনের তথ্যাদি চুরি হতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ, যেমন স্প্যাম বক্সের জমা করা মেসেজ খোলা থেকে বিরত থাকুন।

যারা অ্যাপভিত্তিক ট্র্যাকিং সম্পর্কে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন। তারা অপারেটিং সিস্টেম বা ওএস-ভিত্তিক সেটিংস থেকে এটিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন।

অ্যাপলের আইওএস-এর সাম্প্রতিক সংস্করণগুলো সব ধরনের অ্যাপ কিংবা পৃথক অ্যাপের ক্ষেত্রে ট্র্যাকিং বন্ধ করার সুযোগ দিয়ে থাকে।

গুগলও সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েডের জন্য প্রাইভেসি স্যান্ডবক্স নামে অনুরূপ একটি ফিচারের ঘোষণা করেছে। এটি থার্ড পার্টির কাছে ব্যক্তিগত ডেটা স্থানান্তর সীমিত করে আনে। এ ছাড়া এটি সব অ্যাপে ট্র্যাকিং কার্যক্রম চলার অনুমতি দেয় না।




রোজা কি মস্তিষ্ক ও মানসিক রোগের উপশম করে?

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পবিত্র রোজার মাসে ব্রেইন তথা মানসিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের অভিভাবকরা রোজা নিয়ে প্রায়ই কিছু প্রশ্ন করেন যেমন- রোজা কি মানসিক রোগীর উপসর্গকে বাড়িয়ে দিবে? বা রোজায় মানসিক রোগীরা তাদের ওষুধ বা ইনজেকশন কিভাবে নেবেন?

প্রকৃতপক্ষে রোজা বা Intermittent Fasting মানসিক রোগীদের জন্য উপকারী। রোজা মানসিক রোগীদের আবেগ (Emotion) নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে এবং মনোযোগ (Concentration) ও মেমোরি (Memory) সুগঠিত রাখে।

রোজার সময় দেহে যে কিটোন উৎপন্ন হয়- এর মধ্যে বিএইচবি (BHB- Beta hydroxybutyrate) বিষন্নতা রোগ প্রতিকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ব্রেইনের জটিল রোগ উপশমে রোজা

রোজার সময় দেহ বা ব্রেইন গ্লুকোজের পরিবর্তে শরীরের ক্ষতিকর চর্বিকে শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করে ফলে উৎপন্ন হয় কিটোন বডি। পজিট্রন ইমিশন টোমোগ্রাফিক (PET Scan) করে দেখা গেছে রোজা বা ফাস্টিংয়ে ব্রেইন সেল অন্যান্য সময়ের তুলনায় প্রায় ৭-৮ গুণ বেশি কিটোন বডি ব্যবহার করে থাকে।

রোজার ফলে উৎপন্ন কিটোন বটি অটিজম (Autism), এলজিমার্স  (Alzheimer’s), এডিএইচডি (ADHD), মৃগীরোগ (Epilepsy), পারকিনসন্স ডিজিজ (Perkinsons disease) এবং ডিমেনশিয়া (Dementia) রোগীদের জন্যে উপকারী। ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরির (TBI) পর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা রোজা ব্রেইন কোষের গঠনের জন্য উপকারী।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা রোজা মৃগি রোগের জন্য উপকারী। দুরারোধ্য মৃগি রোগে (Treatment Resistant Epilepsy) আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ফাস্টিং একটি কার্যকরী পদ্ধতি হিসেবে কিছু কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে।

ব্রেইন স্ট্রোক এবং হৃদরোগে রোজা
চিকিৎসা গবেষণায় বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর দ্বিতীয় কারন ব্রেইন স্ট্রোক (Ischemic stroke); কিন্তু রোজা  ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। স্থুলতা কমিয়ে রোজা ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমিয়ে আনে।

রোজায় ব্রেইনের নিউরোপ্লাসটিসিতে প্রক্রিয়া  (Neroplasticity) অধিকতর সক্রিয় হয় এবং এর মাধ্যমে ব্রেইনের কোষগুলোর মধ্যে নতুন নতুন সংযোগ স্থাপন হয়, ব্রেইন কোষ নতুনভাবে বিন্যস্ত হয়।

গবেষণা মতে, হার্ট রেইট বা হৃদ স্পন্দন ও ব্লাড প্রেশার কমানোর মাধ্যমে রোজা হৃদরোগের জটিলতা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

রোজায় (Intermitten Fasting) শরীরের অটোফ্যাগী (Autophagy) প্রক্রিয়া অধিকতর সচল হয় এবং এর মাধ্যমে শরীর থেকে পুরোনো, অকেজো কোষ দেহ থেকে বের হয়ে যায়। এ অটোফ্যাগী প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার জন্য সম্প্রতি একজন জাপানি বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন। রোজার মাধ্যমে শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর চর্বি কমে শরীরের স্থুলতা হ্রাস পায়। ক্লান্তি বোধ কমে আসে।

মানসিক রোগের ওষুধ এবং রোজা:

মানসিক রোগের ওষুধ একবেলা কিংবা দুইবেলা হওয়ার জন্য ওষুধ সেবনে রোজাদারদের জন্যে কোন সমস্যা হয় না। ওষুধ একবেলা হলে ইফতারের পর আর দুইবেলা হলে ইফতার এবং সাহরির সময়ে সেবন করা যায়।

ব্রেইন বা মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়ার জন্য অনেক সময় সাইকিয়াট্রিস্টরা ব্রেইনের ইঞ্জেকশন নিতে পরামর্শ দেন কারণ এটি সহজলভ্য- সাধারণত প্রতি সপ্তাহে বা মাসে প্রতি একবার দিলেই হয়। এতে রোগীকে বা তাদের স্বজনকে আলাদা কোনো দুশ্চিন্তা পোহাতে হয় না।

ইসলাম ও রোজা

রোজা মুসলমানদের একটি ফরজ বিধান। আল্লাহতায়ালা সুরা বাকারায় ১৮৩ নাম্বার আয়াতে বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা পরহেজগারিতা (তাকওয়া) অর্জন করতে পার।’

আরেকটি আয়াতে বলেন, ‘কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে যেন এ মাসের রোজা রাখে’। (সূরা বাকারা: ১৮৫)।

রোজা ও প্রিয় নবী (সা.):

রাসূল সাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম সপ্তাহে দুই দিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা পালন করতেন।

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর কাছে বান্দার আমল পেশ করা হয়। আর আমি পছন্দ করি, আমার আমল এমন সময় পেশ করা হোক, যখন আমি রোজাদার’। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৭৪৭)

আসুন সিয়াম পালনের মাধ্যমে দেহ ও মনে সুস্থতার পাশাপাশি আমরা আজীবন সব ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার আমল করি, মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করি।

লেখক: ডা. সাঈদ এনাম, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।




কুয়াকাটায় খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

কুয়াকাটায় কালভার্ট ও খাল দখল করে বিশালাকৃতির ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধসহ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় ভূমি প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনকে স্থানীয়রা জানালেও বন্ধ হয়নি নির্মাণ কাজ।

কুয়াকাটা পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কম্পিউটার সেন্টার সংলগ্ন আশ্রয়ন প্রকল্পে এ দখল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এমন দখলের কারণে পরিকল্পিত নগরায়ন কতটুকু বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে পৌরবাসীর।

জানা গেছে, কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা জামাল মাঝির ছেলে আলী হায়দার আশ্রয়ন প্রকল্পের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবাহমান খালের উপরে বিশালাকৃতির একটি টং ঘর নির্মাণ করেছে। ওই টং ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে সদ্য নির্মাণ করা একটি বক্স কালভার্ট ঘরের নিচে চাপা পরে গেছে। আশ্রয়নের কোল ঘেষে বয়ে যাওয়া খাল দিয়ে ওই এলাকার ফসলি জমিসহ জমে থাকা অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন হয়ে থাকে। প্রতিনিয়ত খালের দুই দিক দিয়ে দখলে নিচ্ছে সুবিধাভোগীরা। এতে খালটি সরু হতে হতে বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। তদারকির অভাবে খালের পশ্চিম মাথা ভরাট করে দখলে নিয়েছে কতিপয় দখলবাজরা। পূর্ব দিকে করা হয়েছে মাছের ঘের। এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশে চলে আসছে এ দখল প্রক্রিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশ্রয়ন প্রকল্পের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দখল দূষণের কারণে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। যেটুকু বাকি আছে তা ভরাটের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দিন দিন যেভাবে খাল ভরাট ও দখল হয়ে আসছে তাতে আগামীতে খালের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না এমন মন্তব্য সচেতন নাগরিকদের।

খাল ও কালভার্ট দখল করে ঘর নির্মাণ করার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত আলী হায়দার সাংবাদিকদের জানান, খালের উপর টং ঘর নির্মাণ করেছেন তিনি এটা সত্য। তবে ঘরের নিচ দিয়ে পানি চলাচল করতে পারবে। কালভার্ট দিয়ে পানি নিষ্কাশনেও কোনো সমস্যা হবে না।
তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে পৌর কাউন্সিলর, মেয়র ও ভূমি অফিসের লোকজন অবগত রয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ঠ ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, এই খাল দিয়ে এলাকার পানি নিষ্কাশন হয়ে আসছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ঘের নির্মাণসহ নানাভাবে দখল হয়ে গেছে খালটি। খাল রক্ষায় ভূমি কর্মকর্তারা উদ্যোগ না নেওয়ায় দখল রোধ করা যাচ্ছে না।

মহিপুর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আ.ন.ম. মুরাদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তার অফিসের অন্যরা জানতে পারে। কুয়াকাটা গিয়ে বিস্তারিত জানবেন।

কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। কেউ তাকে জানায়নি। কাউন্সিলরের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আশ্বাস করেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তিনি তহসিলদার পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলে দিয়েছেন। 

 




রমজানে ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সিএনজি স্টেশন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রমজান মাস উপলক্ষে ১২ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

গত রাতে (মঙ্গলবার) মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, রমজান মাসে বিদ্যুৎ চাহিদার দৈনিক পিক আওয়ারে গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্কে সম্ভাব্য স্বল্পচাপ নিরসনের লক্ষ্যে ১২ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিকেল ৫টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত অর্থাৎ মোট পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে।

আগে সিএনজি স্টেশন বন্ধের সময়কাল ছিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত।




সিয়ামের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত না হই

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর বান্দার প্রতি যত অনুগ্রহ করেছেন, তার অন্যতম রমজানুল মোবারক। এটা উম্মতের জন্য এক মহাপ্রাপ্তি ও নিয়ামত। রোজাদার আল্লাহর কাছে এত প্রিয় যে, ‘রোজাদারের মুখের গন্ধ মেশকের সুগন্ধির চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয়’ বলে হাদিসে বিবৃত হয়েছে। রোজার মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা মানুষকে ইহ-পারলৌকিক সফলতার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছান। জাগ্রত করেন মনুষ্যত্ববোধ।

সৃষ্টি হয় ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ, প্রেমপ্রীতি ও ভালোবাসা। রমজানের সাধনায় আল্লাহ মানুষের কুপ্রবৃত্তিকে দমন করে, রিপুর তাড়না থেকে তাকে মুক্ত করে তার ভেতর তাকওয়া তথা খোদাভীতি ও আল্লাহপ্রেম জাগ্রত করেন, যা তাকে আজীবন সত্য-সুন্দরের পথে পরিচালিত করতে সহযোগিতা করে। তাই আল্লাহ এ রমজানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে এরশাদ করেছেন, ‘যাতে তোমরা তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করতে পার। (সুরা : বাকারা, আয়াত-১৮৩)।

রমজানে আল্লাহ তাঁর সব দয়া ও করুণার দ্বার খুলে দেন। আল্লাহপাক ঘোষণা করেছেন,‘রোজা আমারই জন্য, আর আমিই এর প্রতিদান দেব’। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আমিই এর প্রতিদান তথা আমার সন্তুষ্টিলাভই হবে এর সত্যিকার প্রতিদান। আবু উবায়দা (রা.) বলেন, ‘রোজাকে বিশেষভাবে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত করার কারণ এই যে, অন্যান্য ইবাদত লোক দেখানোর শঙ্কা থাকে। কিন্তু রোজার ক্ষেত্রে এ শঙ্কা নেই। রোজা শুধু আল্লাহর জন্যই হয়।

রমজানের মতো এত বিরাট নিয়ামত পেয়েও যারা অবহেলায় কাটিয়ে দেন, তাদের জন্য রাসুল (সা.) বলেছেন কঠিন ও কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। নবিজি (সা.) একদিন মসজিদে নববির মিম্বরে আরোহণ করছিলেন; মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা রেখে তিনি বললেন, আমিন! দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রেখে তিনি আবার বললেন, আমিন! তৃতীয় সিঁড়িতে পা রেখে তিনি তৃতীয়বার বললেন, আমিন! যার অর্থ, হে আল্লাহ তুমি কবুল করো! নবিজি (সা.)-এর জীবনে এই প্রথম এমন ঘটনা দেখে সাহাবায়ে কেরাম এ বিষয়ে জানতে চাইলেন। তখন নবিজি (সা.) বলেন, ‘এই মাত্র জিবরাইল (আ.) এলেন- আমি প্রথম সিঁড়িতে পা রাখতেই তিনি আমাকে (কানে কানে) বললেন, ধ্বংস হোক সে ব্যক্তি, যে রমজান মাস পেল অথচ তার পাপমোচন হলো না। আমি বললাম, আমিন। আমি দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখতেই তিনি বললেন, ধ্বংস হোক সে ব্যক্তি, যার সামনে আপনার নাম উচ্চারিত হওয়া সত্ত্বেও সে আপনার ওপর দরুদ পড়েনি। আমি বললাম, আমিন। আমি তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখতেই তিনি বললেন, ধ্বংস হোক সে ব্যক্তি, যে তার পিতামাতা উভয়কে পেল অথবা উভয়ের একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল অথচ সে জান্নাত লাভ করতে পারল না। আমি বললাম, আমিন!’

আমাদের কর্তব্য হলো, এই মোবারক মাসকে যথাযথ সমাদর করা। যথার্থ মূল্যায়ন করা। কারণ, আমরা যদি এর উপযুক্ত মূল্য দিতে না পারি, জান্নাতলাভের এমন সুযোগকেও হাতছাড়া করে ফেলি, তাহলে এ জগতে আমাদের চেয়ে বড় হতভাগা আর কে হতে পারে? আল্লাহ যেন আমাদের অভিশপ্তদের অন্তর্ভুক্ত না করেন। শত বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও আমরা যেন সিয়াম সাধনার নিয়ামত থেকে বঞ্চিত না হই। আমরা হয়তো অনেকেই নবিজি (সা.)-এর সাহাবি ইবনে আহমাসি (রা.)-এর ঘটনা জানি। তিনি একবার সিয়াম অবস্থায় যুদ্ধের ময়দানে লড়ছিলেন। লড়তে লড়তে একসময় আঘাতে আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়লেন। সঙ্গীরা তাকে সংরক্ষিত স্থানে নিয়ে গেলেন। তারপর তাকে পানি পান করতে দিলেন। কিন্তু তিনি তা করলেন না। তিনি বললেন, আমার সিয়াম ভেঙে যাবে। কিছুক্ষণ পরই তিনি দুনিয়া ছেড়ে তার কাছে চলে গেলেন, যার জন্য সিয়াম রেখেছিলেন।

দুনিয়াতে সিয়াম সাধনা করে আখেরাতে মহান প্রভুর কাছে ইফতার করতে গেলেন। ওমর এ ঘটনা শুনে বললেন, এই সাহাবি দুনিয়া দিয়ে আখেরাতকে কিনে নিয়েছেন।

লেখক : মাওলানা তোফায়েল গাজালি, মহাপরিচালক, জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলাম, উত্তরখান, ঢাকা।




মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তির প্রতিবেদন : ‘ক্রমবর্ধমান ভঙ্গুর বিশ্বব্যবস্থার’ মুখে যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ক্রমবর্ধমান ভঙ্গুর বিশ্বব্যবস্থার’ মুখে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিনিয়ই শক্তিশালী প্রতিযোগিতা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে দেশটি। সোমবার কংগ্রেস কমিটিকে দেওয়া মার্কিন গুপ্তচরদের এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের হুমকি পর্যালোচনা করে বার্ষিক প্রতিবেদনে সংস্থাগুলো নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘একটি উচ্চাভিলাষী কিন্তু উদ্বিগ্ন চীন, একটি সংঘাতময় রাশিয়া, কিছু আঞ্চলিক শক্তি যেমন ইরানসহ আরও কিছু সক্ষম নন-স্টেট প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করছে।’ রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিবেদনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী চীন এবং রাশিয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত বেশ কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হচ্ছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ এমনই একটি। প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এ যুদ্ধ চলমান। যেখানে ইউক্রেনকে আর্থিকভাবে সাহায্য করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে চীন রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহায়তা দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চীন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বছরের মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘(চীন) চীনের সমালোচকদের পাশে দাঁড়ানোর এবং মার্কিন সামাজিক বিভাজনকে বড় করার ইচ্ছার কারণে ২০২৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে কিছু স্তরে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে।’ প্রতিবেদনে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এভ্রিল হেইনস ইউক্রেনের জন্য আরও সামরিক সহায়তা অনুমোদনের জন্য আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। বলেন, ওয়াশিংটনের সাহায্য ছাড়া রাশিয়ার কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করা ভূখণ্ড ইউক্রেন কীভাবে ধরে রাখতে পারে তা কল্পনা করা কঠিন ছিল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি ২০২২ সাল থেকে সম্ভাব্য সামরিক ব্যবহারসহ চীনা পণ্যের রপ্তানি তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলি হামলাও চলমান। সেখানেও ইসরাইলকে জোর সমর্থন দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে হেইনসের মন্তব্য, ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে গাজায় সংঘাত বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে দিতে পারে। হেইনস উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, ‘গাজার সংকট কীভাবে আঞ্চলিক উন্নয়নের ব্যাপক এবং এমনকি বৈশ্বিক প্রভাবের সম্ভাবনা রয়েছে তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।’ রিপাবলিকান হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার মাইক জনসন, যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক, এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের জন্য আরও ৬০ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করবে এমন একটি বিলের ওপর ভোট ডাকতে অস্বীকার করেছেন। বিলটি ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত সিনেটে পাশ হয়েছে।




ভিটামিন ডি’র ঘাটতি মেটাবে এই ৫ ফল

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ভিটামিন ডি হলো চর্বিতে দ্রবণীয় একটি সেকোস্টেরয়েড গ্রুপ যা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফেট এর আন্ত্রিক শোষণ এবং মানবদেহে বিভিন্ন জৈবিক প্রভাব সৃষ্টির জন্য দায়ী। আমাদের শরীর নিজে থেকেই এই ভিটামিন সংশ্লেষ করতে পারে। তবে তার জন্য জরুরি পর্যাপ্ত সূর্যালোকের। খুব তীব্র নয় এমন রোদে গিয়ে ১০ থেকে ২০ মিনিট দাঁড়ালেই অনেকটা উপকার মেলে। তবে এই সময় এখনের অভাব। ভিটামিন ডি খাবারের থেকেও সংগ্রহ করা যেতে পারে‌‌। হালকা কিছু ফল ভিটামিন ডি-এর সেরা উৎস।

কিসমিস

কিসমিসের প্রতি ১০০ গ্রামে ৮০ আইইউ-এর (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) বেশি ভিটামিন ডি রয়েছে। এছাড়াও এর মধ্যে ফাইবার ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে।

আলুবোখারা

আলুবোখরার প্রতি ১০০ গ্রামে ভিটামিন ডি ৩ মিলিগ্রামেরও বেশি। তাই ঐই খাবারটাও রাখতে পারেন রোজকার তালিকায়।

আমন্ড 

আমন্ডের মধ্যেও রয়েছে ভিটামিন ডি-এর গুণ। রোজ আমাদের যতটা ভিটামিন ডি জরুরি , তার প্রায় ১০ শতাংশ জোগান দেয় আমন্ড। আমন্ড খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ জলে ভিজিয়ে রেখে দিতে পারেন।

খোবানি 

এতে প্রতি ১০০ গ্রামে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ ১.৫ আইইউ। এছাড়াও এতে পটাশিয়াম, আয়রন ও ভিটামিন এ রয়েছে। তাই রোজকার তালিকায় রাখতেই পারেন।

শুকনা ডুমুর

ডুমুর ফলেও ভিটামিন ডি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে ‌। প্রতি ১০০ গ্রামে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ ৩ আইইউ। পাশাপাশি ডুমুরের মধ্যে ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম ফাইবার ও পটাশিয়ামের পরিমাণ অনেকটাই বেশি।

কতটুুক ফল খাবেন?

রোজ ফল খাওয়া ভালো। বিশেষত এই ফলগুলো শরীরে ভিটামিন ডি-এর চাহিদা মেটায়। কিন্তু রোজ অল্প পরিমাণ যেমন হাফ কাপের বেশি না খাওয়াই ভাল। অতিরিক্ত ভিটামিন ডি থেকে বমি, মাথা ঘোরার সমস্যা হতে পারে।




পটুয়াখালীতে বসেছে ‘ইফতার খানা’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে অসহায় নিম্ন আয়ের রোজাদারদের জন্য ‘ইফতার খানা’ আয়োজন করেছে পটুয়াখালীবাসী নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

শহরের বিত্তবানদের সহযোগিতা নিয়ে পুরো রমজান মাস জুড়ে এই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান সংগঠনের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) প্রথম রমজানে বিকেল ৫টার সময় পটুয়াখালী সার্কিট হাউস সংলগ্ন ঝাউবন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত থেকে ইফতার বিতরণ শুরু করেন। এই ইফতার খানায় যে কেউ চাইলেই ইফতার দিতে পারবেন। আবার সেই ইফতার বিতরণ করবে সংগঠনের সদস্যরা।

জানা যায়, ছোলা, মুড়ি, পিয়াজু, আলুর চপ, জুস, পানি, কলা, খেজুর, জিলাপি দিয়ে প্রতিদিন ৫০ জন রোজাদারকে ইফতার করানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। সে হিসেবে ১ম রোজায় এ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান সংগঠনের সদস্যরা।

রিকশাচালক নজরুল ইসলাম বলেন, এখান দিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি রাস্তার পাশে ইফতার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আমাদেরকে ডাকা হচ্ছে ইফতার করার জন্য। আমি রিকশা পাশে রেখে ইফতার করতে বসলাম। খুব ভালো লেগেছে এই আয়োজন দেখে।

দিনমজুর ইব্রাহিম বলেন,  হোটেল থেকে কিনে ইফতার খেতে হলে আমাকে কমপক্ষে হলেও ৫০ থেকে ৬০ টাকা খরচ হতো। কিন্তু এখানে ইফতার করতে  আমার টাকা খরচ হয়নি। আলহামদুলিল্লাহ যাদের সহযোগিতায় ইফতার করতে পেরেছি আল্লাহ তাদের কবুল করুক। পুরো রমজান মাস জুড়ে এই ইফতার কার্যক্রম চলমান থাকলে আমাদের মত মানুষদের অনেক উপকার হবে।

পটুয়াখালীবাসী সংগঠনের সদস্য বাতেন হাওলাদার বলেন, বিত্তবানদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা এই রমজান মাসে ইফতার খানার আয়োজন করেছি। এখানে দিনমজুর রিক্সাওয়ালা পথচারী ও ছিন্নমূল মানুষরা ইফতার করছে। তাদের ইফতার করাতে পেরে আমাদের খুব ভালো লাগছে। সবার সহযোগিতা পেলে পুরো রমজান মাস জুড়ে আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালীবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রমজানের আগে থেকেই রমজানের বাজার নামে নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে ভর্তুকি দিয়ে পণ্য বিক্রয় করেছে। এছাড়াও দেশের যে কোন ক্লান্তিলগ্নে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি মানবতার সেবক হিসেবে কাজ করে থাকে।

 




গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীতে এক রাতে ৯টি গরু চুরি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীতে এক রাতে ৯টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভিন্ন ভিন্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

গলাচিপা উপজেলার দক্ষিন চরখালী গ্রামে অরুন পালের ৪টি আর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরবেস্টিন গ্রামে রহিম প্যাদার ৫টি গরু সোমবার দিবাগত রাতে সংঘবদ্ধ চোরের দল এ ঘটনা ঘটায়।

জানা গেছে, গলাচিপার দক্ষিন চরখাখালী গ্রামের অরুন পালের ৪টি বলদ গরু সোমবার রাতে গোয়াল ঘরে বাধলে সংঘবদ্ধ চোরের দল গভীর রাতে হানা দিয়ে তার গোয়াল ঘর থেকে গরুগুলো নিয়ে যায় এ ব্যাপারে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: শাহজাহান মিয়া এ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে।

অপর দিকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরবেষ্টিন গ্রামের রহিম প্যাদর ৫টি গরু (গাভী – বলদ)সোমবার দিবাগত রাতে গরুগুলো গোয়াল ঘরে বাধলে সংঘবদ্ধ চোরের দল গভীর রাতে হানা দিয়ে তার গোয়াল ঘর থেকে গরুগুলো নিয়ে যায় এ ব্যাপারে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: জালাল মিয়া এ প্রতিবেদককে জানান।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার চরমোন্তাজ ফারির ইনচার্জ মো: নাজমুল হাসান জানান, তিনি এ ব্যাপারে অবগত নন, তবে কেউ গরু চুরির ঘটনায় অভিযোগ দিলে তা খতিয়ে দেখা হবে।