প্রেমের টানে নবম শ্রেণি পড়ুয়া ভাগ্নিকে নিয়ে পালিয়েছে আপন খালু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে খাজুরা গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস সরদার (৩১) দুই কন্যা সন্তানসহ স্ত্রী রাবেয়াকে রেখে নতুন সংসার গড়তে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া আপন ভাগ্নিকে নিয়ে বাড়ি ছেড়েছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এনজিও থেকে লোন নিয়ে ওই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান খালু ইউনুস। পরবর্তীতে উভয় পরিবার জানতে পারে যে, তারা বিয়ে করেছেন। কিন্তু বাড়ি ছাড়ার ১ মাস পার হলেও কোথায় আছেন সেই হদিস মেলেনি এখনো।

ইউনুস সরদারের দুই সন্তানের একজনের বয়স ৩ মাস। অন্যজনের বয়স ৯ বছর, তবে শিশুটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন।

এদিকে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে ফেলে যাওয়ায় তাঁদের কাটছে দুর্বিষহ জীবন। ইউনুস চলে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার। দুই সন্তানের ক্ষুধার যন্ত্রণা, সামাজিক বঞ্চনা এবং ঋণে জর্জরিত পরিবারটি পাওনাদারদের চাপে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে তাঁরা। ভাগ্নিকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কারণে একদিকে আর্থিক সংকটে একেবারে খারাপ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সামাজিক ভাবে একটি ঘৃণার কাজ করেছে যে কারণে মানুষ নানা কথা বলছে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার পাশাপাশি বসবাস করে আসছে ইউনুস ও ওই মেয়ের পরিবার। দীর্ঘদিন একইস্থানে থাকায় তাঁদের মধ্যে খালু – ভাগ্নি সম্পর্ক হলেও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিকটকে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ হতো। যা নিয়ে দুই পরিবারের মাঝে অনেক সময় কথা কাটাকাটিও হতো।

ইউনুস সরদারের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার জানান, আমার এক মেয়ে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন, আর এক মেয়ের বয়স তিন মাস মাত্র। এনজিও থেকে ২ লক্ষ টাকা ঋণ নেয়া। এনজিওর লোকেরা প্রতিদিন আসে টাকার জন্য, আমার সন্তানদের খাবারের জন্য ঘরে পানি ছাড়া কিছুই নেই। আমার ছোট ভাই দিনমজুরি কাজ করে গত এক মাস যাবত ভাই আমার কাছে থাকে তার ইনকামের টাকায় আমরা খাই। মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকে আশেপাশের লোকজন কিছু খাবার দেয়। আপনারা একটু তাকে খুঁজে বের করে আমার পরিবারটাকে বাঁচান। না হয় আমার আত্মহত্যা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ দেশের যে প্রান্তে হোক ওদেরকে দেখলে ধরিয়ে দেবেন।

পালিয়ে যাওয়া ওই শিক্ষার্থীর মা জানান, আমার মেয়ে দাদাবাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছে। পরে ওর দাদা বাড়িতে না পৌঁছালে আমরা খোঁজাখুজি করে জানতে পারি আমার বোনের স্বামীর সাথে পালিয়েছে। এরপরে আমরা থানায় জানিয়েছি। থানা থেকে পুলিশ এসে উভয় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে গেছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, বিষয়টি আমি অবগত নই, জানার চেষ্টা করছি। তবে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




পটুয়াখালীতে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে পটুয়াখালীতে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৬ মার্চ) বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসন ও শিশু একাডেমীর আয়োজনে শিশু একাডেমী মিলনায়তনে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

ক খ গ তিনটি বিভাগে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় ডিসি স্কয়ারে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হবে।




পটুয়াখালীতে চুরির ১০ দিন পর নিজ সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত মা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীতে কন্যা সন্তানের দ্বায় এড়াতে স্ত্রীর কোল থেকে নবজাতক চুরি করে পাচার করার অভিযোগে স্বামী ও হাসপাতালের নার্সকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নবজাতক কন্যা শিশুটি উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। ১০ দিন পর নিজ সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগ আপ্লুত মা।

৪ কন্যা সন্তানের জননী এই মা জানিয়েছেন, পরপর ৪ কন্যা সন্তান জন্ম নেয়ায় এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন তার স্বামী। তিনি তার স্বামীর শাস্তি দাবি করেছেন।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জসিম জানিয়েছেন , জেলার দশমিনা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ হানিফ মৃধা গত ৩ মার্চ সকালে তার প্রসুতি স্ত্রীকে জেলা শহরের এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করান। ঐ দিন বিকেলে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তার স্ত্রীর কন্যা সন্তান জন্ম হলে হাসপাতালের নার্স লাইজু বেগমের মাধ্যমে শিশুটিকে চুরি করিয়ে বিক্রির জন্য পাচার করেন। সদর থানা পুলিশ খবর পেয়ে বিশেষ অভিযানে বৃহস্পতিবার ভোররাতে পটুয়াখালী সেতুর উপর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত শিশুটির পিতা ও হাসপাতালের নার্স লাইজু বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে সন্ধ্যায় মায়ের কাছে শিশুটি হস্তান্তর করা হয়।

 




পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের লাল বৃত্তের একাংশ ভেঙ্গে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের লাল বৃত্তের একাংশ ভেঙ্গে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীতে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের লাল বৃত্তের একাংশ দুর্বৃত্তরা ভেঙ্গে ফেলেছে। অনুমানিক বৃহস্পতিবার রাতে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থাণীয়রা।

স্থাণীয়রা জানিয়েছেন, পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারটি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আদলে তৈরি করা হয়েছে। এটির সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে সূর্যের মত দেখতে লাল বৃত্ত। রাতে যখন এই এই লাল বৃত্তের মধ্যে আলোকসজ্জা করা হয় তখন দেখতে আকর্ষনীয় হয়ে ওঠে। কিন্তু কিছু মাদকসেবী দুর্বৃত্ত বৃহস্পতিবার রাতে এই লাল বৃত্তের একাংশ পরিকল্পিতভাবে ভেঙ্গে ফেলেছে।

স্থাণীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ী সোহেল জানিয়েছেন, এই ঝাউতলা প্রাঙ্গনে অনেক মানুষ ঘুরতে আসে। তাদের মধ্যে কেউ পরিকল্পিত ভাবে এমন কাজ করতে পারে।

এদিকে অনেকে অভিযোগ করেছেন কিছু মাদবসেবী এমন কাজ করেছেন।

এমন কর্মকান্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিন্দা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালীর সচেতন নাগরিকরা।

ইয়ুথ পাওয়ার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি কে.এম জাহিদ হোসেন বলেন, আমাদের পটুয়াখালীতে এখন মানুষ ঘুরতে আসে। এমন ঘটনা যে বা যারা ঘটিয়েছে তাদেরকে আইনের আওয়াতায় নিয়ে আসা উচিৎ।

তবে এবিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মোঃ জসিম বলেন, আমাদের টহল টিমের সদস্যরা সার্বক্ষনিক ঝাউতলা প্রাঙ্গনে টহলরত অবস্থায় থাকে। শহিদ মিনারের আশপাশে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

 




সড়কের পাশে ‘ইফতার খানা’ প্রতিদিন বাড়ছে রোজাদারদের উপস্থিতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালী শহরের প্রানকেন্দ্র ঝাউতলায় প্রতিদিন আসরের নামাজের পর পরই একদল সেচ্ছাসেবকরা জড়ো হচ্ছেন।

ফোর লেনের প্রশস্ত ওয়াকওয়েতে পলিথিন সিটি(ট্রিপল) বিছিয়ে একে সেখানে দুই সারি করে রাখা হচ্ছে প্লেট, গ্নাস এবং পানির বোতল। একে একে ইফতারীর জন্য সেই প্লেটেরেইরই রাখা হয় ১০ পদের খাবার ঠিক যেন কোন বাড়িতে দাওয়াত করা মেহমা দের জন্য খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। কিন্তু না এগুলো প্রস্তুত হচ্ছে পথচারী ও অসহায় মানুষের ইফতারের জন্য। প্রতিদিন এভাবে কয়েকশ মানুষকে বিনা মূল্য ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রথম রমজান থেকেই শুরু হওয়া এই ইফতার কার্যক্রমের নাম দেয়া হয়েছে ইফতার খানা। পটুয়াখালী জেলার সেচ্ছাসেবী সংগঠন পটুয়াখালী বাসী এই এফতারের আয়োজন করছে। জেলার বিত্তবানদের সহযোগীতায় চলছে এই কার্যক্রম, যা চলছে শেষ রমজান পর্যন্ত। ইফতার করার পাশাপাশি এখানেই ওজু এবং জামাতে নামাজ পরারও ব্যবস্থা করেছে সেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। জামাতে নামাজ আদায় করার জন্য রয়েছেন একজন ইমাম।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পটুয়াখালী বাসী’র সভাপতি মাহমুদ হাসান রায়হান বলেন, গত বছরেও আমরা এই ইফতার কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। গত বছর আমাদের কিছু টাকা বেচে গিয়েছিল সেই টাকা দিয়ে এ বছর প্রথম রোজায় ইফকতার কার্যক্রম শুরু করি। আমাদের এখানে মোট ১০ আইটেম এর খাবার দিয়ে থাকি এর মদ্যে আছে বুট, মুড়ি, পিয়াজু, জিলাপি, আলুর চপ, পেয়ারা, খেজুর, কলা, সরবত এবং মিনারেল ওয়াটার এর পানি।

এক জন মানুষকে ইফতার করাতে ৯০ টাকা করে খরচ হচ্ছে। প্রথম দিনে ৫০ জন দিয়ে ইফতার খানা শুরু করলেও বর্তমানে ১০০ জনকে ইফতার করানো হচ্ছে। সহযোগীতা এবং চাহিদা বৃদ্ধি পেলে সংখ্যা বড়ানো হবে। এছাড়া আগামী ৬ রমজান পর্যন্ত আমাদের অর্থের সংস্থান হয়েছে। বিত্তবানরা সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন, আশা করছি শেষ রমজান পর্যন্ত আমাদের এই নইফতার খানার কার্যক্রম চালাতে পারবো। ইতিমধ্যে আগামী ৬ রোজা পর্যন্ত ইফতারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হয়েছে,পাশপাশি অনেকেই প্রতিশ্রæতি দিয়েছে সহযোগীতা করার।’

শুক্রবার বিকিলে ঝাউতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সড়কের পাশে সারি সাড়ি অটোরিকশা,ভ্যান সহ সাইকেল স্টান্ড করে রাখা হয়েছে। সকলেই ইফতার খানার মেহমান হয়ে ইফতার করছেন। সেখানেই কথা হয় অটোরিকশা চালক আলম গাজীর সাথে। তিনি বলেন, ‘কোন হোটেলে ইফতার করতে গেলে কমপক্ষে ১শ টাকা খরচ হয়। সারা দিন যা আয় করি তাতে ঠিক মতো সংশারের খরচই চালাইতে পারি না। হের পর যদি একলা মানুষ ইফতার করতে ১শ টাহা খরচ করি তয় পোলা পানেরে খাওয়ামু কি? পহেলা রমজান হইতে এই হানে ইফতার করি। রাস্তার পাশেই অটো রাখতে পারি, চোহের সামনে থাহে, চুরি হওয়ার ভয় নাই। হেরপর নামাজটাও এহানে পরতে পারি। আর যে ভাইরা ইফতার আয়োজন করে হেগো ব্যবহার ও অনেক ভালো। মানষেরে (মানুষ) বোলাইয়া বোলাইয় (ডেকে ডেকে) ইফতার করায়।

এদিকে বিগত বছরগুলোর মত এ বছর ও পটুয়াখালী পৌরসভার পক্ষ থেকে এই ইফতার কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করছে পটুয়াখালী পৌরসভা। পৌরসভার পক্ষ থেকে মুসুল্লিদের ওজু করার জন্য বেশ কিছু পানির ট্যাপ স্থাপন করে দেয়া হয়েছে। পাশপাশি বসানো হয়েছে অস্থায়ি ডাস্টবিন।

পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘আমি সহ আমার যত শুভাকাঙ্খি আছে সকলকেই বলেছি এখানে নিয়মিত ইফতার কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগীতা প্রদানের জন্য। গত বছরও আমি বেশ কয়েকদিন ইফতারের ব্যবস্থা করেছি, এ বছরও সার্বিক সহযোগীতা করবো। যেদিন কোন ডোনার থাকবে না সেদিন আমার পক্ষ থেকে ইফতারের অয়োজন করা হবে। আমার বন্ধু জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, তিনিও এই কার্যক্রমে সহযোগীতা করছেন। পাশপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেহেতু ইফতার পার্টি আয়োজন না করার বিষয়ে অনুৎসাহিত করেছেন সে কারনে অসহায় মানুষদের নিয়েই এবার ইফতার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

 




শিশু আবদুল্লাহকে বাঁচাতে সাহায্য প্রয়োজন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর বাউফলে শিশু আবদুল্লাহ (৭) জন্ম থেকেই হৃদরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত। তার হৃৎপিণ্ডে ছিদ্রসহ ব্লাড সার্কুলেশনের ডান পাশের শিরা বা পাশের শিরার সঙ্গে যুক্ত। এরই মধ্যে তার হাত-পায়ের নখ নীল রং ধারণ করেছে। ওজন মাত্র ১১ কেজি। সামান্য হাঁটা চলা বা খেলাধুলা করলেই হাঁপিয়ে ওঠে, শ্বাসকষ্ট হয়।

 

ভারতের প্রখ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠিসহ তার চিকিৎসা করেছেন।

আবদুল্লাহর বাবা আলী আক্কাস পটুয়াখালী শহরের আলাউদ্দিন শিশু পার্ক এলাকায় ছোট খেলনার দোকান দিয়ে সংসার চালান। মা মুসলিমা বেগম গৃহিণী। তাদের বাড়ি উপজেলার নওমালা গ্রামে। দুই সন্তানের মধ্যে আবদুল্লাহ বড়।

দরিদ্র পরিবারটি সম্বল হারিয়ে কয়েক লাখ টাকা দিয়ে এ পর্যন্ত আবদুল্লাহর চিকিৎসা করালেও এখন আর করাতে পারছে না।

চিকিৎসকরা বলেছেন, তার চিকিৎসায় আরও ৬ লাখ টাকা দরকার। কিন্তু এত টাকার জোগাড় না থাকায় মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে শিশুটি।

আবদুল্লাহকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন বাউফল ইউএনও বশির গাজী ও পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা—মো. আলী আক্কাস, ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, পটুয়াখালী শাখা, সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর: ০১৪৪১২২০০০২১৭০৯
(বিকাশ ও নগদ) ০১৮৪২৭৯৯৯৭৯




নির্মাণাধীন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদের একাংশে ধস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

নির্মাণাধীন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দার ছাদ ঢালাইয়ের সময় ধসে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলছে, ঢালাই শ্রমিকদের সেন্টারিং ত্রুটির কারণে ঘটনাটি ঘটেছে।  

প্রত্যক্ষদর্শী নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নির্মাণাধীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে বারান্দা অংশের ছাদ ঢালাই দেওয়া হচ্ছিল। শেষ মুহূর্তে ঢালাই চলাকালীন সময়েই বারান্দার অংশের সেই ছাদ ধসে পড়ে। তবে এতে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ছাদ ঢালাইয়ের শ্রমিকদের মধ্যে তখন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

ওইদিন রাতেই সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বারান্দার অংশের ছাদ ধসে পড়ে আছে। সেখান থেকে রড সরিয়ে নিচ্ছে নির্মাণ শ্রমিকরা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাউকে সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। আর সন্ধ্যায় কেন ঢালাই দেওয়া হচ্ছিল, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা রাহাত হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালের পুরো ছাদটি ১০ হাজার স্কয়ার ফুট। এরমধ্যে বারান্দার অংশটুকু শুধু ২২ ফুট। আমরা সবাই যখন ইফতারি করতে যাই। তখন আমাদের না বলেই বারান্দার সেই অংশটুকু ঢালাই দেওয়া শুরু করে শ্রমিকরা। এ সময় সেন্টারিং ভালভাবে না হওয়ায় এই ঘটনা ঘটে।’

জানা গেছে, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) অধীনে পটুয়াখালীর প্রাইম কনস্ট্রাকশন নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজটি করছিল। প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। গত বছরের জুলাই মাসে কাজটি শুরু করে তারা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘দুর্বল সেন্টারিংয়ের কারণে সামনের বারান্দার অংশটির ছাদ ধসে পড়েছে। তারাহুরো করে কাজটি করতেছিল মিস্ত্রীরা। তাই ঢালাই দেওয়ার পরপরই পড়ে গেছে। আমরা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পর মূল ঘটনাটি সম্পর্কে জানা যাবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১ টাকায় ৭ পদের ইফতারি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১ টাকায় ৭ পদের ইফতারি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য মাত্র এক টাকায় সাত পদের ইফতারি দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’।

সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ইফতারি দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার প্রথম রমজান থেকে শুরু হওয়া এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি চলবে পুরো রমজানজুড়ে। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ জন রোজাদারের মধ্যে এ ইফতারি বিতরণ করা হচ্ছে।

কলাপাড়া শহরের দিন মজুর আবুল হোসেন জানান, মাত্র এক টাকায় ইফতার পেয়ে আমরা ভীষণ খুশি। বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চাল-ডাল কেনাই দুরূহ। সেখানে ইফতারি কিনে খাওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। এ সংগঠনের লোকজন নামমাত্র মূল্যে খাবার দেওয়ায় আমরা কিছুটা হলেও তৃপ্তিসহ ইফতার করতে পারছি।

শহরের অটো রিকশা চালক বাবুল মিয়া বলেন, রমজান মাসের শুরু থেকে সব কিছুর দাম আরও বেড়েছে। দোকান থেকে ইফতারি কিনে খেতে একজনের কমপক্ষে ৫০-৬০ টাকা লাগে। এক টাকায় সাত পদের ইফতারি পেয়ে আনন্দ লাগছে।

সংগঠনের সদস্যরা জানান, সংগঠনের সদস্যরা নিজেরা চাঁদা তুলে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রথম রমজান থেকে ইফতারি বিতরণ করছি। তারা একেক দিন একেক মহল্লায় ঘুরে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন। এক টাকার প্যাকেজে রয়েছে ছোলা, মুড়ি, খেজুর, পিয়াজু, চপ, বেগুনি ও আপেল।

‘আমরা কলাপাড়াবাসী’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব জানান, এক টাকা আসলে মূল বিষয় না। মানুষ যাতে এটাকে ত্রাণ বা দান মনে না করে সেজন্য আমরা এক টাকা নিচ্ছি। করোনা কালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ২০২০ সালের রমজান মাসে এটি শুরু করেছিলাম। সেই থেকে এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ উদ্যোগে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসতে পারেন।




কলাপাড়ায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় আন্ধারমানিক নদীর তীর ঘেসা পৌর শহরের হেলিপ্যাড মাঠে দূষণমুক্ত নদীর প্রতীকি পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়।

পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা কলাপাড়াবাসী এর আয়োজন করে।

এ সময় বক্তব্য রাখেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ উপক‚লীয় সমন্বয়ক সাংবাদিক মেজবাহ উদ্দিন মান্নু, পরিবেশকর্মী কামাল হোসেন রনি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা কলাপাড়াবাসী’র সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।




দশমিনায় ধসে পড়া সেতু সংস্কারের উদ্যোগ নেই

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

নদীর ওপর ঝুলছে সেতু। কিন্তু সেই সেতু কাজে আসছে না। ১৫০ ফুট সেতুর অংশ বিশেষ ধসে পড়ায় তা ব্যবহার হচ্ছে না। তাই খেয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপারে সময়-অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। সেতু ধসের দুই মাস পেরিয়ে গেছে। সংস্কারের উদ্যোগ না নেয়ায় চরম ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছে।

সাত বছর তিন মাস আগে পটুয়াখালীর দশমিনার খারিজা বেতাগি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সুতাবাড়িয়া শাখা নদীর উপর লোহার সেতুটি বিধ্বস্ত হলেও এখনো মেরামত কিংবা নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেই।

জানা যায়, বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সুতাবড়িয়া শাখা নদী। নদীর পূর্ব পাড়ে মরদানা, গরমআলী, জাফরাবাদ গ্রামসহ খারিজাবেতাগী ও তফালবাড়ীয়া গ্রামের একাংশ। আর পশ্চিমপাড়ের গ্রামগুলো হচ্ছে রামবল্লভ, দাবাড়ি, চিংগরীয়া, চন্দ্রাবাজসহ খারিজাবেতাগীর এবং তফালবাড়ীয়ার অপর অংশ। এ অবস্থায় ১১ গ্রামবাসীর সরাসরি উপজেলার সাথে সহজ যোগাযোগ, লেখাপড়া, জরুরি স্বাস্থ্য সেবাসহ সব কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে উপজেলার ঠাকুরের হাট সংলগ্ন পরিত্যাক্ত লোহার সেতুটি সড়িয়ে এনে বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের জমির মৃধা বাজার এলাকায় স্থাপনে ব্যয় হয় ১০ লাখ টাকা।

বদ্যালয়ে পাঠদান নিতে শিক্ষার্থীরা ছোট্ট একটি ডিঙ্গি খেয়া নৌকায় নদী পাড় হচ্ছে।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মনিরা আক্তার বলে, ইউনিয়নের একমাত্র মাধ্যমিক স্কুল। সেতু ভেঙে পরায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড় হয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক হিরন আহমেদ বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। সেতুটি যখন ভেঙে পরেছিল তখন একটি শিশু মারা যায়।

বেতাগিসানকিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মসিউর রহমান ঝন্টু বলেন, নতুন করে একটি সেতুর জন্য দশমিনা উপজেলা পরিষদ ও এলজিইডি কার্যালয়ে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন বলেন, বালু ভর্তি কার্গোর ধাক্কায় লোহার সেতুটি বিধ্বস্ত হয়। স্থান পরিবর্তন করে আরসিসি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু মাটি পরিক্ষা করে দেখা যায় ব্রিজ নির্মানের উপযোগী নয় স্থানটি।