সাগরে নিখোঁজ ২৫ জেলের সন্ধান আজো মেলেনি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

চার মাস আগের ঝড়ের ঘটনা, পেটের তাগিদে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির ঝড়ের কবলে নিখোঁজ হয় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ২৫ জেলে। যাদের সন্ধান আজো মেলেনি। এখন পরিবারের আকুতি-নিখোঁজ জেলেদের ভাগ্যে কি ঘটেছে? তা জানতে চান তারা।

জানা গেছে, গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে গত বছরের ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কবলে পড়ে নিখোঁজ হয় ২৫ জেলে। ঘটনার চার মাস হয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে তিন বোনের তিন ছেলে রয়েছে।
তারা হলেন- উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের জিসান, নয়াভাঙ্গুনি গ্রামের তামিম ও কামরুল।
ওই ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসান জোমাদ্দারের ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তিন খালাতো ভাই। কিন্তু ঝড়ের পর বাড়ি ফেরা হয়নি তাদের। তাই দিশেহারা তাদের পরিবার।

নিখোঁজ তিন জেলের মামা শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমরা ট্রলার নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। ওরা বেঁচে আছে নাকি নাই তাও জানতে পারছি না।’

শুধু এ তিন জেলে পরিবারের এমন হতাশা নয়-বাকি ২২ জেলে পরিবারের ভাষ্যও এক।

তারা বলছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। সুন্দরবন, মংলায় খোঁজাখুঁজি ছাড়াও ভারতেও খোঁজ নেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির পর থেকে নিখোঁজ হয় উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসান জোমাদ্দারের ট্রলারের জিসান, তামিম, কামরুলসহ আটজন জেলে, মৌডুবী ইউনিয়নের কাজিকান্দা দিদার মৃধার ট্রলারের আটজন জেলে এবং একই এলাকার হিমু হাওলাদারের মালিকানাধীন ট্রলারের ৯ জন জেলে।

উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া মৎস্য সমিতির সভাপতি জহির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘জেলেদের নিখোঁজের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি। সুন্দরবন, মংলা এবং ভারতের বর্ডারেও ট্রলার নিয়ে খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু কোথাও তাদের কোনো সন্ধান পাইনি আমরা।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘নিখোঁজদের বিষয়ে আমরা এখনও কোনো তথ্য পাইনি। তাদের সন্ধানে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কোস্টগার্ড বিষয়টি অবগত রয়েছে।




চীনে ৯ বছরে প্রথমবারের মতো বিয়ের সংখ্যা বেড়েছে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : চীনে ৯ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দম্পতির সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৩ সালে দেশটিতে ৭ দশিক ৬৮ মিলিয়ন নবদম্পতি ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। খবর বিবিসির

বেসামরিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০২২ সালের তুলনায় ৮ লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৩ সালে রেকর্ড ১৩ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে।

সম্প্রতি দেশটির সরকার রেকর্ড নিম্ন জন্মহারকে লক্ষ্য করে সর্বশেষ বিড হিসাবে বিয়ের প্রচার চালানোর সময় এ তথ্য পায়।

অতিরিক্ত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ১৯৮০-এর দশকে বিতর্কিত এক শিশুনীতি আরোপের চীনে কয়েক দশক ধরে জন্মহার কমতে শুরু করে। জনসংখ্যার পরিসংখ্যান বাড়ানোর জন্য ২০১৫ ও ২০২১ সালে সেই নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

চীনের জনসংখ্যা দ্রুত বার্ধক্যের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। আগামী দশকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন চীনা নাগরিক অবসরে যাবে, যা প্রায় পুরো মার্কিন জনসংখ্যার সমতুল্য।




পুতিনের জয়ে পশ্চিমাদের নিন্দা, শুভাকাঙ্ক্ষী কারা?

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিরঙ্কুশ জয়ে সোমবার (১৭ মার্চ) নিন্দার ঝড় তুলেছিলেন পশ্চিমা নেতারা। পুতিনের প্রত্যাশিত এই জয়কে তারা পক্ষপাতমূলক ও অগণতান্ত্রিক বলে সমালোচনা করেছেন। তবে রুশ এই নেতার জয়কে স্বাগত জানিয়েছে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা। সোমবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

পুতিনের জয় নিয়ে এই বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া দুই বছর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর সময় বিস্তৃত হওয়া ভূরাজনৈতিক ফাটলকে নির্দেশ করছে। শীতল যুদ্ধের সমাপ্তির পর থেকে পশ্চিমের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের গভীরতম সংকটের সূত্রপাত করেছে এই যুদ্ধ।

সোমবার ব্রাসেলসে পৌঁছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পুতিনের সমালোচক আলেক্সি নাভালনির সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং তার মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে সম্মত হন। এর আগে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলকে প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা।

বৈঠকের শুরুতে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক বলেছেন, ‘রাশিয়ার নির্বাচন একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন ছিল।’

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর এই আগ্রাসনকে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে দেশটি। এই বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে পুতিনকে খোচা দিয়ে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টেফান সেজর্ন বলেছেন, প্যারিস রাশিয়ার এই ‘বিশেষ নির্বাচনী অভিযান’ নজরে রেখেছে।

পুতিনকে অভিনন্দন জানালেন যারা

রাশিয়ার নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমাদের মধ্যে নিন্দার চর্চা থাকলেও বিপরীত ঘটনা ঘটেছে বিশ্বের অন্য অংশে। পুতিনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন আক্রমণ করার ঠিক আগে, ২০২২ সালে রাশিয়ার সঙ্গে করা ‘সীমাহীন’ অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি প্রচারে দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখবে চীন।

সিনহুয়া নিউজ অনুসারে, শি তার শুভেচ্ছা বার্তায় পুতিনকে বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, আপনার নেতৃত্বে রাশিয়া অবশ্যই জাতীয় উন্নয়ন ও অবকাঠামোতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।’

শি’র বার্তার প্রতিধ্বনি করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ‘কার্যকরী এবং বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ আরও শক্তিশালী করতে উন্মুখ ভারত। বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার লক্ষ্যে গঠিত উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকস। ভারত, চীন এবং রাশিয়া এই জোটের সদস্য।

এদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি পুতিনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এসময় রাশিয়ার সঙ্গে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ইচ্ছার উপর আরও জোর দিয়েছেন তারা। কিম এবং রাইসির বিরুদ্ধে রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগ এনেছিল পশ্চিমারা।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে আফ্রিকায় সমর্থন পেতে এবং এই অঞ্চল থেকে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমারা। দেশটির কিছু সংবাদমাধ্যম বলছে, পুতিনের পুনঃনির্বাচন আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো, মালি এবং নাইজারে তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাহেল অঞ্চলের এই তিনটি রাজ্য তাদের ঐতিহ্যবাহী ফরাসি এবং মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পর রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে।

বুর্কিনা ফাসোর দৈনিক সংবাদমাধ্যম আজুরডহুই অ ফাসো বলেছে, আফ্রিকায় এই পুনঃনির্বাচনটি কোন ঘটনার মধ্যে পড়ে না বলে মনে হতে পারে। তবে সাহেল অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে এটি একটি বিশেষ অর্থ গ্রহণ করে। কেননা, রাশিয়ার একটি ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং প্রভাবের মাধ্যমে এই মহাদেশে ক্ষমতার একটি নতুন ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরী করেছেন পুতিন।




কেজিতে তরমুজ বিক্রি হয় জানে না চাষি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

ঢাকা শহরে তরমুজের কেজি ৭০-৮০ টাকা। রমজানে চাহিদা থাকায় দাম অনেকটা বাড়তি। তবে প্রান্তিক কৃষকের অনেকে জানেনই না, তরমুজ কেজি দরে বিক্রি হয়। তারা পিস হিসেবে বিক্রি করেন। এরপর যতবার তরমুজ হাত বদল হয় ততবারই দাম বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ভোক্তার কাছে এসে ঠেকে কেজিতে। যার দাম কৃষকের কাছে অকল্পনীয়।

দেশে তরমুজ চাষে সুনাম রয়েছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার। দেশের বাজারে সরবরাহকৃত তরমুজের বড় একটি অংশ আসে এই এক উপজেলা থেকে। উপজেলার প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে তরমুজ চাষ, ব্যবসা, বহনের সঙ্গে জড়িত।

উপজেলার কয়েকজন প্রান্তিক তরমুজ চাষিরা জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকাকে তরমুজ কেজিতে বিক্রি হয়—এ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। তারা শুরু থেকেই তরমুজ পিস হিসেবে বেচা-কেনা করে আসছেন। ঢাকায় তরমুজের কেজি কত সে সম্পর্কে কেউ কেউ সংবাদ মাধ্যম থেকে জানলেও অনেকের অজানা।

তরমুজ চাষিরা জানিয়েছেন, দুইভাবে তরমুজ বিক্রি করেন তারা। প্রথমত ক্ষেত চুক্তি, এতে পুরো ক্ষেতের তরমুজ অনুমান করে একসঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের কাছে। এতে মূল চাষির ব্যয়ের সঙ্গে লাভ ধরে দাম নির্ধারণ করে তারা। বিক্রির পর ব্যবসায়ীরা তাদের সময়-সুযোগ অনুযায়ী ক্ষেত থেকে তরমুজ নিয়ে যান।
দ্বিতীয়ত, ক্ষেত থেকে তরমুজ কেটে শ হিসেবে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। এ ক্ষেত্রে ওজন ও আকার অনুযায়ী ক্যটাগরি নির্ধারণ করা হয়।

তরমুজ চাষি শাখাওয়াত, সিরাজসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আনুমানিক পাঁচ কেজি ওজনের একটি তরমুজ তারা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেন। এদিকে ঢাকায় ৮০ টাকা কেজি হলে তরমুজটির দাম হয় ৪০০ টাকা। মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীরাই এই লাভ করছেন। প্রান্তিক চাষিরা সামান্য লাভেই তরমুজ বিক্রি করছেন।
তাদের দাবি, শহরে দাম এতো বেশি হলে তরমুজের বাজারে বিরুপ প্রতিক্রীয়া হবে। যার প্রভাব পড়বে ক্ষেতের তরমুজে। ভোক্তা তরমুজ কেনা বন্ধ বা কমিয়ে দিলে মাঠে অবিক্রিত তরমুজ নষ্ট হবে বলে ধারণা তাদের। অথবা লসে বিক্রি করতে হবে চাষিদের।

উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৭ থেকে ১০ কেজির একটি তরমুজ পিস হিসেবে সর্বোচ্চ ২৭০ টাকা দরে বিক্রি করছেন চাষিরা। আর ছোট তরমুজ (পাঁচ কেজির নিচে) ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে চাষিদের কাছ থেকে কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে কিনছেন ব্যবসায়ীরা।
রাঙ্গাবালী থেকে তরমুজ ট্রলারে নেওয়া হয় গলাচিপা উপজেলায়। এতে প্রতি পিস তরমুজে খরচ হয় পাঁচ টাকা। সেখান থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় নেওয়া হয় তরমুজ।

আড়ৎদার, ব্যবসায়ী, ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি বড় ট্রাকে বড় সাইজের (৭-১০ কেজি) ২৫০০ পিসের মতো তরমুজ ধরে। আর তরমুজ মাঝারি ও ছোট মিলে তিন থেক সাড়ে তিন হাজার তরমুজ নেওয়া যায়। এতে ট্রাক প্রতি খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এতে গড়ে তরমুজ প্রতি প্রায় ১০০ টাকা খরচ হয় বলে জানিয়েছেন তারা।

ট্রাকচালক ইমরান শেখ বলেন, ‘আমাদের তেল এবং টোল খরচেই চলে যায় টাকা। এর বাইরেও টুকটাক খরচ আছে। পথে বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে টাকা তোলা হয়। সব মিলিয়ে মালিকের তেমন কিছু থাকে না।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এই মৌসুমে রাঙ্গাবালী উপজেলায় ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে আট হাজার হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং অনুকূলে পরিবেশ থাকলে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদনের আশা ব্যক্ত করেছিল কৃষি বিভাগ। তবে পোকার আক্রমন এবং রোগের কারণে প্রায় ৩৫ হেক্টরের মত তরমুজের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেক্ষেত্রে উৎপাদন ও আবাদ কম হওয়ায় ৩৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে ধারণা।
উপজেলার কাউখালী এলাকায় প্রায় ১৩ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন ছোট বাইশদিয়ার চাষি মিথেল হাওলাদার। শুরুতেই জমি সমস্যায় তার প্রায় ৩ হেক্টর জমির গাছ মরে গেছে। সব সমস্যার পরেও যা ফলন হয়েছে তাতেও লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মিথেল হাওলাদার বলেন, ‘তরমুজ চাষে কখনও কপাল খোলে কখনও পথে বসতে হয়। তবুও আমরা থেমে থাকি না। এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি তবুও লাভের আশায় আছি। কিন্তু শুনেছি ঢাকায় তরমুজ কেজি হিসেবে বিক্রি হয়, দামও অনেক। তরমুজকে যদি মানুষের সাধ্যের বাইরে নিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা তবে এর ওপর থেকে ভোক্তা মুখ ফিরিয়ে নেবে। এতে বড় ক্ষতি হবে আমাদের। মাঠের তরমুজ নিয়ে পথে বসতে হবে আমাদের।’

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাঙ্গাবালীতে আসা আড়ৎদার ও তাদের প্রতিনিধিদের দাবি, তারা ঠিক দামে বিক্রি করলেও কারসাজি হয় খুচরা বাজারে। এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২৫-৩০ টন তরমুজ হয়ে থাকে। কৃষকরা তরমুজ পিস হিসাবে বা সমগ্র ক্ষেতের তরমুজ একত্রে বিক্রি করে দেয়। সেক্ষেত্রে দেখা যায় প্রতি কেজি তরমুজের দাম ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম কৃষক পায়। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা পিস হিসেবে ক্রয়কৃত তরমুজ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে থাকে। এর চাপ পড়ে ভোক্তাদের ওপর।’




পটুয়াখালীতে পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব

বরিশাল অফিস::  পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, জলাশয়, ডোবা ও বিল-ঝিলে পানি কমে যাওয়ার ফলে পলো দিয়ে মাছ শিকারের মহা উৎসব। বিভিন্ন বয়সের মানুষ এতে অংশ নেয়। চরহোসনাবাদ খালে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় থেকেই পেশাদার ও অপেশাদার জেলেরা মাছ ধরার পলো নিয়ে খালে ঝাপিয়ে পড়েছে।

জানা যায়, উপজেলার মাছের ক্ষেত্র হিসাবে পরিচিত আলীপুরা, বাঁশবাড়িয়া, রনগোপালদী, চরবোরহান, দশমিনা, বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নসহ চরাঞ্চল এখন মাছ শূন্য হয়ে গেছে। উল্লিখিত এলাকায় বোয়াল, মাগুর, শিং, কৈ, টেংরা, শোল, টাকি, পুটি, গজার, চাপিলা, খৈইলশা, পাবদা, আইড়, চিংড়ি, মলা, বাইন, বেলে সহ অর্ধ শতাধিক প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে রয়েছে। বিশেষ করে নদীর মাছ হিসাবে পরিচিত পোয়া, ইলিশ,আইড়, রিটা যার দেখা এখন অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার।

মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সর্বত্র নিষিদ্ধ ঘোষিত জালের অবাধ ব্যবহার, কৃষি জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার, বর্ষাকালে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মা মাছ সহ পোনা নিধন, শুষ্ক মৌসুমে মাছ ধরার প্রবণতা এবং মাছের বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাওয়াসহ প্রভৃতি কারণে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ফসল হিসাবে পরিচিত মৎস্য সম্পদ আজ বিলুপ্ত হতে চলছে।

এছাড়া মাছের প্রজনন মৌসুম ও পোনা মাছের বৃদ্ধিকালীন সময় অবাধে ছোট-বড় মাছ ধরা এবং মৎস্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় মৎস্য সম্পদ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বিগত ২০বছর আগে গ্রামাঞ্চলে সর্বত্র দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও এখন আর সেই অবস্থা নেই। চাষকৃত মাছের কাছে দেশী প্রজাতির মাছ টিকতে না পেরে হারিয়ে যাচ্ছে। মাছ না থাকায় পলো উৎসব এখন আর আগের মত জমছে না।

উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের রাকিব হোসেন ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হারুন, লাল মিয়া এবং সেলিম হোসেন বলেন, তাদের বাড়ির পাশেই বিশাল বড় বিল। বর্ষা মৌসুমে টানাজাল পেতে বিল থেকে মাছ ধরেন। বিলের জল কোমর কিংবা হাঁটু সমান নেমে এলে গ্রামের মানুষ দলবেঁধে পলো নিয়ে মাছ ধরতে নেমে পড়েন। এ সময় আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ আসেন।

তিনি আরও বলেন, সব দেশি প্রজাতির মাছ। অতি সুস্বাদু। পলো বাওয়ার দিন একেক জন গড়ে ৫ থেকে ১০ কেজি মাছ ধরেন। পেশাদার শিকারিরা আধা মণ থেকে এক মণ মাছ শিকার করেন।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো মাছ ধরায় কেউ বাধা দেয় না। গ্রামের মানুষেরা দলে দলে এসে বিলের পারে বসেন। গল্পগুজব করেন। এরপর সবাই একসঙ্গে নেমে পড়েন। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছেন, পলো দিয়ে মাছ ধরার বিরাট এ উৎসব হয়।

উপজেলা সদর ইউনিয়নের এইচ এম ফোরকান বলেন, এক সময় তাদের এলাকার বিলে প্রচুর মাছ ধরা পড়ত। বড় বড় বোয়াল, রুই, কাতলা পলোর নিচে আটকা পড়ত। তখন পাশের পলোওয়ালাও মাছটা তুলতে সহযোগিতায় এগিয়ে আসতেন। মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্যও ছিল অতি চমৎকার। প্রায় সবাই কোনো না কোনো পেয়ে আছি।

এবিষয়ে দশমিনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন, নদীর পানি মিষ্টি। বর্ষা মৌসুমে এই পানি খাল বিলে প্রবেশ করে বিধায় এখানে প্রচুর দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। তবে এক শ্রেণির কৃষক নদীতে পাট পচান এবং ফসলি জমিতে বিষ দেন। এ কারণে প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষমতা কমে গেছে।

দেশি মাছের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতিটি খাল, বিলসহ জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ রক্ষার্থে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে।




পবিপ্রবিতে বঙ্গবন্ধু’র জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২৪’র দিনব্যাপী কর্মসূচি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২৪ পালিত হচ্ছে।

রবিবার(১৭ মার্চ) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টা ৩০মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্ত্বরে বঙ্গবন্ধু’র আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও ট্রেজারার প্রফেসর মোহাম্মদ আলী।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে স্বাধীনতা চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

সকাল ১০টায় কৃষি অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে বঙ্গবন্ধু’র জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২৪ উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রফেসর এ বি এম মাহবুব মোর্শেদ খান’র সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত,বিশেষ অতিথি হিসেবে ট্রেজারার প্রফেসর মোহাম্মদ আলী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালি নয় পুরো বিশ্বে নেতৃত্বের দৃষ্টান্তে অবধারিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময়ই লড়াই-সংগ্রাম, কারাবরণের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠন করে যেতে পারেননি, কিন্তু তাঁরই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বের কাছে উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা- কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

একই সময়ে পবিপ্রবি পরিচালিত সৃজনী বিদ্যানিকেতনে প্রামান্য চিত্র প্রদর্শণী এবং শিশু কিশোরদের জন্য রচনা,উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও যোহরের নামাজের পর পবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া-মোনাজাত এবং দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

 




পটুয়াখালীতে নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

বর্নিল আয়োজনে পটুয়াখালীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত হচ্ছে।

রোববার (১৭ মার্চ) সকাল ৮টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতিত পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদ সদস্য নাজনীন নাহার রশীদ, জেলা প্রশাসক মোঃ নুর কুতুবুল আলম, পুলিশ সুপার মোঃ সাইদুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. হাফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী আলমগীর, পৌর মেয়র মহিদ্দিন আহম্মেদ, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. গোলাম সরোয়ারসহ বিভিন্ন সরকারি বে-সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পটুয়াখালী প্রেসক্লাব, আওয়ামী লীগের সহযোগী সঙ্গঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সঙ্গঠনসমূহ।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় ডিসি স্কয়ার মাঠে “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ধরে, আনব হাসি সবার ঘরে” প্রতিপাদ্যে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

এর আগে সকাল ৬ টায় জেলা আওয়ামী কার্যালয় প্রাঙ্গনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়।

বিভিন্ন মন্দির ও মসজিদে বিশেষ প্রর্থনা করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সন্ধ্যায় শিশু পরিবারে শিশুদের নিয়ে কেক কাটা ও বিভিন্ন স্থাপনায় আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়েছে।




জিম্মি বাংলাদেশি নাবিকদের উদ্ধারে ধোঁয়াশা: ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি সফল দেশটির নৌবাহিনী

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: ভারতের কয়েকটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ‌‌‘‘ছিনতাইকৃত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী’’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে। এসব সংবাদমাধ্যমের তালিকায় আছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে, দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ভারতীয় বার্তা সংস্থা ইন্দো এশিয়া নিউজ সার্ভিস (আইএএনএস), ফার্স্ট পোস্ট, নিউজ ১৮-সহ দেশটির আরও কিছু সংবাদমাধ্যম।

ছিনতাইকৃত বাংলাদেশের-পতাকাবাহী জাহাজ উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী/Navy rescues hijacked Bangladesh-flagged ship’’ শিরোনামে এমভি আব্দুল্লাহকে নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই শিরোনামের দাবির বিষয়ে তাদের প্রতিবেদনে কোনও তথ্যই পাওয়া যায়নি। বরং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত মহাসাগরে ছিনতাইয়ের শিকার বাংলাদেশি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজকে জরুরি সহায়তার অনুরোধে সাড়া দিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। এই অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনীর এই ধরনের ধারাবাহিক অভিযানের সর্বশেষ ঘটনা এটা।

দেশটির সংবাদ প্রতিদিন নামের বাংলা পত্রিকাটি এভাবে উল্লেখ করে যে, “শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে নৌসেনার তরফে জানানো হয়েছে, ‘গত ১২ মার্চ এমভি জাহাজটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় জলদস্যুরা। সেটিকে উদ্ধার করার জন্য ছুটে যায় ভারতীয় রণতরী। প্রথমে জাহাজের নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোনও জাহাজটি থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তার পরই সমুদ্রে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। অবশেষে ১৪ মার্চ সকালে জলদস্যুদের কবল থেকে এমভিকে উদ্ধার করা হয়। সোমালিয়া উপকূলের কাছে সেটিকে আটকে দেওয়া হয়। জলদস্যুদের হাত থেকে সফলভাবে মুক্ত করা পণবন্দিদের। জাহাজের সকল বাংলাদেশি নাবিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে।’ জানা গিয়েছে, জাহাজটি অপহরণ করেছিল ১৫ থেকে ২০ জন জলদস্যু।

কিন্তু ১৪ তারিখ উদ্ধার হলে তা ১৬ তারিখ কেন জানাবে? আর উদ্ধারকৃত নাবিকরা কী এই খবরটা তাদের পরিবারকে দিবে না?

তবে চন্দ্রদীপও আশা করে, ভারতীয় নৌবাহিনী সফল হোক। স্বজনদের কাছে ফিরে আসুক অপহৃত ২৩ বাংলাদেশি নাবিক।




ভাঙন আতঙ্কে আগুনমুখা নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : আগুনমুখা নদীর ভাটা জোয়ারের পানির তোরে দীর্ঘ দিন ধরে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নটি ভাঙন কবলিত।

নদীভাঙনে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের তিনের একাংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙন হতে বিচ্ছিন্ন এ চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন রক্ষায় কার্যত কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নেই। তার পরেও ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে আগুনমুখা নদী হতে প্রভাবশালী চক্রের অব্যাহত অবৈধ বালু উত্তোলন। নদীর যে অংশে সারি সারি ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়, সে পথ ধরে প্রতিনিয়ত উচ্চপদস্ত কর্মকর্তার পদচারণ রয়েছে। তবুও যেন দেখেও দেখছেন না ওই চক্রের কর্মকাণ্ড। এখনই বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে যেকোনো সময় শুরু হতে পারে ভাঙন।

উপজেলা ভূমি অফিস জানায়, রাঙ্গাবালীর ডিগ্রি নদীতে নতুন বালু মহাল ঘোষণা করা হবে। এটি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বালু মহাল নেই। নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে আগুনমুখা নদী পড়েনি।

জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলাধীন গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার মধ্যে প্রবহমান আগুনমুখা নদীতে প্রায় দেড় মাস ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর পেছনে কাজ করছে প্রভাবশালী একটি চক্র। সকালে রাঙ্গাবালীর অংশে তো রাতে গালাচিপার অংশে বালু উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ব্যবহৃত হয় ৫-৮টা ড্রেজার মেশিন।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি এক দিন গিয়েছিলাম। যেয়ে দেখছি রাঙ্গাবালীর সীমানায়। ইউএনও রাঙ্গাবালীকে বলেছি। জানতে পারলাম রাতে নাকি আমার এখানে বসে। অভিযানে যাব। যদি পাই, শাস্তি পেয়ে যাবে।’

স্থানীয়রা বলেছেন, দিন রাত মিলিয়ে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে। এর ফলে কৃষি জমি ও নদী ভাঙনের মাত্রা আরো বেড়ে যাবে। এ ছাড়াও নদীর যে অংশে বালু তোলা হচ্ছে সেখানেও দীর্ঘ একটি চর জেগেছে। যেখানে বন বিভাগের ম্যানগ্রোভ নতুন বাগান করা হয়েছে। অবৈধ এ বালু সিন্ডিকেট বন্ধ করা না হলে আমরা উভয়ই ক্ষতির মধ্যে পড়ব। কিন্তু উপকৃত হচ্ছে অসাধু কিছু প্রভাবশালী মানুষ।

রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কর্মকর্তা অমিতাভ বসু বলেন, বালু উত্তোলন করলে বাগানের ক্ষতি হবে। কিন্তু বালু উত্তোলনে আমরা বাধা দিতে পারব না। এ বিষয়ে ইউএনও স্যারকে জানাব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি, অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিজানুর রহমান বলেন, আমরা ব্যবস্থা নিবো।

 




পটুয়াখালীতে দেশীয় অস্ত্রসহ তিন ডাকাত গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ডাকাতি প্রস্তুতিকালে তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার টিয়াখালী ইউপির নাচনাপাড়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় একটি রামদা, একটি চাপাতি, একটি ড্যাগার, একটি লোহার শাপল, হ্যাসকো ব্লেড সহ ইঞ্জিন চালিত একটি কাঠের নৌকা উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন- মো. জামাল আকন (৪৫), মো. শানু হাওলাদার (৬০) ও মো. হানিফ হাওলাদার (৪৯)।

জানা যায়, তিনজনই পেশাদার ডাকাত দলের সদস্য। এদের মধ্যে জামাল আকনের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের চুঙ্গাপাশা গ্রামে, শানু হাওলাদার ও হানিফ হাওলাদারের বাড়ি পটুয়াখালীর লাউকাঠি গ্রামে।

এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলী আহম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।