পটুয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বন দিবস পালিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

“উদ্ভাবনায় বন, সম্ভাবনায় বন” শ্লোগান নিয়ে পটুয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বন দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও উপকূলীয় বন বিভাগের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও সামাজিক বনায়নে উপকার ভোগীদের মাঝে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয় এবং এর মাধ্যমে দিবসটিকে পালন করা হয়েছে।

উপ বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ ওবায়দুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ তারিকুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি আব্দুল মান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানস কান্তি দত্ত, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হৃদয় প্রমুখ।

আলোচনা শেষে সামাজিক বনায়নে উপকার ভোগীদের মাঝে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয়।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনের প্রয়োজনীয়তা ও উপকারী দিকের কথা তুলে ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে প্রত্যেককে অন্তত একটি করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা রোপণ করার আহবান জানান।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০১৩ সালের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৪ সাল থেকে জাতিসংঘভুক্ত অন্যান্য দেশের ন্যয় বাংলাদেশেও প্রতি বছর ২১ মার্চ আন্তর্জাতিক বন দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।




মির্জাগঞ্জে হনুমানের আক্রমণে ২ স্কুলছাত্রী আহত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জে একটি দলছুট কালোমুখো হনুমানের আক্রমণে দুই স্কুলছাত্র আহত হয়েছে। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন মনোহরখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষার্থী তিশা আক্তার ও আরিফা।

এছাড়া কয়েক দিন আগে মির্জাগঞ্জ বাজারের রিপন চন্দ্র দাস (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে কামড়ে গুরুতর আহত করে হনুমানটি। বর্তমানে ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

মনোহরখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিক বাবু নিখিল চন্দ্র মিত্র বলেন, ‘কালোমুখো হনুমানকে নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি কয়েকজনকে কামড়ে আহত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কয়েক ছাত্রছাত্রী স্কুলে যাচ্ছিল। ঠিক ওই সময় হনুমানটি তাদের দিকে তেড়ে যায় এবং দুজনকে কামড়ে গুরুতর আহত করে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো: আলাউদ্দিন মাসুদ বলেন, দলছুট হনুমান খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে আসে। তারা শুধু প্রাণীদের চিকিৎসার বিষয়টি দেখভাল করেন, প্রাণী সংরক্ষণের দায়িত্ব বন বিভাগের। আর কেউ যেন হনুমানটির আক্রমণের শিকার না হয়, সে জন্য বন বিভাগকে অবহিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং বলেন, ‘হনুমানের আক্রমণের কথা অনেকদিন পর্যন্ত শুনছি। হনুমানের আঁচড় ও কামড়ে জলাতঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গুরুতর হলে ভ্যাকসিন নিতে হবে।’

 




কম দামি সানগ্লাস পরলে কী হয়?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  গরম পড়তে শুরু করেছে। এসময় বাইরে বের হলে সচেতন অনেকেই সানগ্লাস ব্যবহার করেন। এটি নিঃসন্দেহে ভালো অভ্যাস। আবার অনেকে ফ্যাশনের কারণেও সানগ্লাস পরে থাকেন। তবে যে কারণেই ব্যবহার করুন না কেন, সস্তা সানগ্লাস কেনার অভ্যাস আছে কি? চোখে পরলে দেখতে সুন্দর লাগে বলেই যেকোনো সানগ্লাস কিনে ফেলেন? এ ধরনের অভ্যাস থাকলে তা পরিবর্তন করা জরুরি। সস্তার এ ধরনের সানগ্লাস আমাদের চোখ ভালো রাখার বদলে চোখের ক্ষতি ডেকে আনে। চিকিৎসকরাও এই বিষয়ে সতর্কতার বিষয়ে পরামর্শ দেন। সস্তা এবং কম দামি সানগ্লাস পরলে তা বর্ণান্ধতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমনটাই বলছেন তারা।



ক্যান্সারে আক্রান্ত সাইদুল বাঁচতে চান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর দুমকিতে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন মো. সাইদুল (২৫) নামের এক যুবক। তিনি বাঁচতে চান; কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না তার পরিবার। ছেলের এমন অবস্থা দেখে পাগলপ্রায় সাইদুলের বাবা। তিনি বিত্তবানদের সাহায্য চেয়েছেন।

সাইদুল উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মালেক শরীফের ছেলে। তিনি উপজেলার সরকারি জনতা ডিগ্রি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক পাশ করেছেন। বর্তমানে ঢাকা মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

চিকিৎসক জানিয়েছেন, সাইদুল টিউমার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।

সাইদুলের বাবা বলেন, চিকিৎসায় ইতোমধ্যে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আরও চিকিৎসা করাতে প্রায় ৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। আমার পক্ষে এত টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই সমাজে বিত্তশালী, ধনবান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আর্থিক সাহায্য কামনা করছি।

জানা যায়, সাইদুলের পিতা এলাকায় অটো গাড়ি চালাতেন এবং সাইদুল ডিগ্রি পাশ করে চাকরি না পেয়ে বিদ্যুতের ওয়্যারিংয়ের কাজ করতেন। বাবা-ছেলের রোজগার দিয়েই তাদের সংসার চলত। হঠাৎ দুই মাস আগে সাইদুলের শারীরিক অবনতি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। একপর্যায়ে সাইদুলের টিউমার ক্যান্সার ধরা পড়ে। পরবর্তীতে সাইদুলের বাবা অটোরিকশা বিক্রিসহ ধারদেনা করে ৭ লক্ষাধিক টাকা জোগাড় করে ঢাকা ক্যান্সার হাসপাতালে ছেলের অপারেশন করান। এখন সাইদুলকে কেমোথেরাপি দিতে হচ্ছে যার অর্থ পরিবার বহন করতে পারছে না।

প্রতিবেশী মো. জসিম উদ্দিন জানান, সাইদুল অত্যন্ত বিনয়ী, ভালো ছেলে। হঠাৎ করে তার এমন রোগ ধরা পড়ল, যা সত্যিই দুঃখজনক। তার বাবা একজন অটোচালক। তার বাবার সামর্থ্য নাই সাইদুলের চিকিৎসা করার।




কুকুরের কামড়ে বাউফলে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

পটু্য়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফলে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে জালাল সিকদার (৫০) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্য হয়েছে। জালাল সিকদার বাউফল পৌর শহরের শেরেবাংলা সড়কের বাসিন্দা।

বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাসার সামনে মুদি মনোহরীর দোকান আছে জালাল সিকদারের। রমজানের আগে তাকে বাসার সামনেই একটি কুকুরে কামড় দেয়। এরপর বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভ্যাকসিন নেয়ার পরামর্শ দেন। পরে বাইরের একটি ফার্মেসী থেকে তিনি ভ্যাকসিনের সম্পূর্ণ ডোজ ক্রয় করে প্রয়োগ করেন। কিন্তু ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরও জালাল সিকদারের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। বুধবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বাউফল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জালাল সিকদারের স্ত্রী ও ৩ সন্তান রয়েছেন। ঢাকা থেকে এখন পর্যন্ত তার লাশ বাড়িতে এসে পৌঁছেনি। তবে জালাল সিকদারের লাশ সতর্কতার সাথে দাফন করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

যথাযথভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরও জলাতঙ্কে জালাল সিকদারের মৃত্যুর প্রশ্নে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, বাইরের ফার্মেসীগুলোতে ওষুধ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ কোড অনুসরন করা হয় না। হয়তো ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর ফলপ্রসু না হওয়ায় জালাল সিকদারের মৃত্যু হতে পারে বলে তিনি ধারনা করছেন।




হাত ঘুরলেই তরমুজের দাম লাগামহীন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

একজন কৃষক সাত থেকে দশ কেজির একটা তরমুজের দাম পান সর্বোচ্চ ২৭০ টাকা। ঢাকায় আনতে পরিবহন খরচ তরমুজ প্রতি সর্বোচ্চ ত্রিশ টাকা। এরপর তিন দফা হাত বদলে, সেই তরমুজ ক্রেতাদের কিনতে হয় ছয় থেকে সাতশ’ টাকায়।

কৃষকের কাছ থেকে পিস হিসেবে কেনা তরমুজ রাজধানীর বাজারে আসতেই বিক্রি হয় কেজি দরে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলা তরমুজের আগাম ফলন এবার বেশ ভালো।রোজার চাহিদাকে মাথায় রেখে কৃষকরা এই তরমুজ ফলিয়েছেন ।

দেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা রাঙ্গাবালিতে ছয় থেকে দশ কেজির একটি তরমুজে কৃষক দাম পাচ্ছেন সর্বোচ্চ আড়াইশ থেকে ২৭০ টাকা। তিন থেকে পাঁচ কেজির তরমুজে পাচ্ছেন ১৫০ টাকা। ঢাকায় আনতে তরমুজ প্রতি খরচ সর্বোচ্চ ৩০ টাকা। কিন্তু কৃষকের কাছ থেকে শ’ দরে কেনা তরমুজ ঢাকায় বিক্রি হয় কেজি দরে। মূলত কারসাজির উদ্দেশ্যেই কেজিতে বিক্রির ফন্দি।

আড়তগুলোতেও তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজি হিসেবে। ছয় কেজির নিচের তরমুজ আড়তে দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। ছয় কেজির বেশি হলে কেজি প্রতি দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আড়ত আর কুলির খরচ প্রতি পিসে সাত টাকা। লাগামছাড়া এই দাম আবার নিজেরাই ঠিক করেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা ।

আড়ত মালিকদের দাবি, কারসাজি হয় ফুতপাতের দোকানে। ফুটপাতে সেই তরমুজের কেজি হয়ে যাচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি পচে যাওয়া আর চাঁদাবাজির কারনেই দাম বেশি।




শিক্ষা সবার জন্য নমুনা!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : আমেনা ছয় সন্তানের জননী। শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ না পেলেও ছেলে-মেয়েদেরকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন ছিল। গ্রামে স্কুল না থাকায় ছেলে-মেয়েদেরকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। তিন ছেলে আর তিন মেয়ে নিরক্ষর। বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাবালী। রাঙ্গাবালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কাশেম চরের বাসিন্দা আমেনা বেগম। স্বামী আজাদ জেলে। সাগরের মোহনায় জাল ফেলে যা পান, তা দিয়েই চলে সংসার। চরে স্কুল না থাকায় আমেনা সন্তানকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। মেয়ে আইরিন, আলভী ও মনিকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে রাফিক গার্মেন্টসে চাকরি করে। ছেলে শাকিল ও শাহিন বাবার সাথে মাছ ধরায় ব্যস্ত। ‘লেখাপড়া শিখতে পারি নাই, সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর আশা ছিল।’ স্কুল না থাকায় ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে না পারায় আক্ষেপ।

ওই চরের বসবাসকারী সব পরিবারেই এই আক্ষেপ রয়েছে। চরে ৬০০ লোকের বাস থাকলেও প্রাথমিক বিদ্যালয় বা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। ছেলেমেয়েরা নিরক্ষর।

চরের বাসিন্দা রফিক সরদার জানান, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। গ্রামে স্কুল না থাকায় ছেলে-মেয়েকে শিক্ষার সুযোগ দিতে পারেননি। ছেলেরা তার সাথে নদীতে মাছ ধরে আয়ে সহযোগিতা করছে।

রেজাউল হাওলাদারের তিন ছেলে। এদের মধ্যে দুই ছেলেকে শিক্ষিত করতে না পারলেও ছোট ছেলে দ্বীন ইসলামকে অন্য চরের প্রাইমারি স্কুলে পাঠাচ্ছেন। এখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। নদী পার হয়েই পাঁচ কিলোমিটার দূরের স্কুলটিতে যেতে হয় ইসলামকে। তাই নিয়মিত যেতে পারে না। বর্ষা মৌসুম এলে খেয়া চলাচল বন্ধ থাকায় বছরের প্রায় ছয় মাস স্কুলে যাওয়া হয় না দ্বীন ইসলামের। রেজাউলেরও আক্ষেপ চরে স্কুল থাকলে সব ছেলে-মেয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পেত। তিনি জানান, সরকারের প্রকল্পের মাধ্যমে রঙিন টিনের ঘর পেয়েছেন। কিন্তু সন্তানদের লেখাপড়া শিখানোর স্বপ্ন রঙিন হয়নি।

গ্রামের বাসিন্দা নূর হোসেন জানান, এই চরে প্রায় ৭০০ লোকের বসবাস। ৬০ পরিবারকে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের রঙিন টিনের ঘর দেয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘর পেয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। ‘এই চরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হলে সন্তানকে লেখাপড়া শেখাতে পারতাম।’ এই চরের দু’চারজন শিশু অন্য চরে লেখাপড়া করছে। তারা না ফেরা পর্যন্ত দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। তিনি বলেন, এই চরের শতাধিক স্কুলে গমনোপযোগী শিশু রয়েছে। অবিলম্বে এই চরে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষ বলেন, ‘চর কাশেম বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। অফিস থেকে তথ্য পাঠানো হয়েছে। নতুন স্কুল করার ব্যাপারে সরকারের বিধিমালা আছে। পর্যায়ক্রমে কাজটি সম্পন্ন হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন জানান, ‘আমরা উপজেলা থেকে ওই চরে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। উপজেলা থেকে চরটি বিচ্ছিন্ন থাকায় শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সর্বশেষ আপডেট জানাব।’




বিএ পাস করলেন ভ্যান চালক পিরোজপুরের হায়দার আলী

বরিশাল অফিস::  তখনও জানে না; বাচ্চারা কী খেয়ে রাতে ঘুমাতে যাবে? পরদিন পরীক্ষা তাই ভ্যান নিয়ে কাজে যেতে পারেনি। ছয়টা পেট অভুক্ত, ঘরে খাবার নাই। একদিন চাকা না ঘুরলে চুলায় আর ভাত উঠে না- এই হলো হায়দার আলীর অবস্থা! কথাগুলো বলছিলেন হায়দার আলীর পাশের ঘরের বাসিন্দা হাশেম মিয়া।

পেশায় একজন ভ্যানচালক হায়দার আলী। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শেখ মাটিয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা। অভাব অনটন আর নিয়তির সঙ্গে লড়াইটা সেই শৈশব থেকে। তবে পরাজিত সৈনিক নয় বরং অপরাজিত নায়কের মতো বাঁচার প্রত্যয়ে চলছে তার জীবন সংগ্রাম। কখনো ভ্যান চালানো, দিন মজুরের কাজ কিংবা মাছ ধরা এই তার জীবিকার উৎস। এভাবে এসএসসি, এইচএসসি পাশ তার।

এরপর ২০১৮ তে নাজিরপুর কলেজে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বাউবিতে ভর্তি হন তিনি। গতকাল বাউবির বিএ/বিএসএস এর প্রকাশিত ফলাফলে ২.৮৩ (জিপিএ) পেয়ে উত্তীর্ণ হন হায়দার আলী।

জীবনে কোন কিছুই বাঁধা হতে পারেনি হায়দার আলীর শিক্ষা অর্জনের পথে। ভ্যান চালানোর পাশাপাশি লেখাপড়া শেখার অদম্য আগ্রহের কারণে রাতে পরিবারের সকলে ঘুমিয়ে পড়লে এবং দিনে ভ্যান চালানোর ফাঁকে ফাঁকে পড়ালেখা চালিয়ে যেতেন হায়দার। ইংরেজিতে তার বেজায় দখল। কথায় কথায় ইংরেজি বলার প্রাকটিস ও নতুন শব্দ শেখার আগ্রহ তার শব্দ ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে হায়দার আলী ৪ সন্তানের জনক। হায়দার আলী ১৯৯৪ সালে প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক পাস করেন। সংসারের অভাব অনটনের কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে শিক্ষা জীবনের ইতি টানতে হয় তার। দীর্ঘ শিক্ষা বিরতির পর ২০১৩ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এইচএসসি তে ভর্তি হন। পরিবারের ঘানি, স্ত্রী-সন্তানদের ভরণ পোষণের দায়িত্ব পালনের পরেও ৩.৮৩ পেয়ে এইচএসসিতেও এলাকায় চমক দেখান তিনি।

ভ্যান চালিয়ে প্রতিদিন গড়ে তিন/চারশো টাকা আয় হয় তার। পৈতৃক সম্পত্তির মধ্যে তার একটি ঝুপড়ি ঘর আর মাত্র ৩ শতাংশ জমি আছে। হায়দার আলী বলেন, ‘এবার আমার স্বপ্ন উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন। যত বছরই লাগুক আমি এম.এ পাস করবই করব। চাকরি প্রাপ্তির জন্য না, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার বাসনা থেকে এ শিক্ষা অর্জন করছি। তারপরেও যদি একটি অন্য কাজ পেতাম; পরিবার পরিজন নিয়ে একটু ভাল থাকতে পারতাম। বয়স এখন ৪৭। যত বাড়ছে বয়স, ভ্যান টানার শক্তি ততই কমে যাচ্ছে। খুব কষ্টের কাজ চরাঞ্চলে ভ্যান টানা।’

হায়দার আলীর মতো সুযোগ বঞ্চিত, অবহেলিত, বয়স্ক ও অদম্য শিক্ষার্থীর শিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে বাউবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘হায়দার আলী একটি সাহসের নাম। সংগ্রামী, পরিশ্রমী, দৃঢ়, অপরাজিত, স্বপ্নবান একজন। শিক্ষাবঞ্চিত মানুষের আদর্শ তিনি। এই রকম মানুষের পাশে সব সময় রয়েছে বাউবি। প্রযুক্তির কল্যাণে আমাদের শিক্ষাক্রম এখন সারাদেশেই সকল বয়সের, পেশার নাগরিকের ঘরে বসে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, জনকল্যাণের জন্য সম্প্রতি গবেষণার সুযোগকে অবারিত ও বিস্তৃত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাউবি।’




কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এইচএসসি পরিক্ষার্থী নিহত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

গলাচিপায় কিশোর গ্যাংয়ের মারধরে জিসান ডাক(১৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার শেষ বেলায় গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়। জিসান ডাক উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে মশিউর রহমান নান্নু ডাক এর ছোট ছেলে। সে হাজী কেরামত আলী ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বানিজ্য শাখার শিক্ষার্থী বলে অত্র কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৮মার্চ শুক্রবার জিসান বাড়ি থেকে বটতলা বাজারে পায়ে হেটে যাচ্ছিল। এ সময় কিশোর গ্যাং সদস্যরা রাস্তার ধুলাবালি উড়িয়ে অতি দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল। জিসান তাকে মোটরসাইকেল ধীরে চালাতে বলায় কথা কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোটরসাইকেল চালক বাপ্পি কিশোর গ্যাং সদস্যদের বটতলা বাজারে জড় হতে বলে।

জিসান বাজারে পৌছা মাত্র বাপ্পি, মাহিন, মহিবুল,  জহিরুল, বেল্লাল ও ইছা সহ কিশোর গ্যাং সদস্যরা জিসানকে কাঠের গুড়ি(চলা) দিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাথারি আঘাত করে। এ হামলায় জিসান মাথায় মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত হয়।

স্থানীয়রা আহত জিসানকে উদ্ধার করে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা প্রেরণ করে। ঢাকায় প্রায় ১০ দিন চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার বাড়ি আনা হয়। বাড়িতে এনে ৫/৬ঘন্টা অবস্থান করলে জিসান আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।

গলাচিপা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফেরদাউস আলম খান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 




মির্জাগঞ্জে ব্রিজ নির্মাণে ধীরগতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে শ্রীমন্ত নদের ওপর নির্মাণাধীন গার্ডার ব্রিজের নির্মাণ কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কাঠালতলী-রামপুর সংযোগ ব্রিজের এই অবস্থা। ৩ বছরে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এছাড়াও যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। নেই বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থাও। লোকজন বাধ্য হয়ে পাশের ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি দিয়ে চলাচল করছে।

উপজেলা এলজিইডি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে জাপান সরকার (জাইকা) অর্থায়নে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার ৭৬ টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণের কাজটি যৌথভাবে পায় বরিশালের এম এম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লি. ও মেসার্স আমির ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন।

কাজটি তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ। কিন্তু নির্মাণ কাজ শুরুর ৩ বছর পার হলেও এখনও শেষ হয়নি ব্রিজটির কাজ। তবে ব্রিজ নির্মাণের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোসা. রিংকু বেগম বলেন, নতুন ব্রিজের কাজ শুরু করে কয়েক বছর ফেলে রাখা হয়েছে। বিকল্প যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে নদীর দুই পারের মানুষজনকে চলাচল করতে হচ্ছে। কিন্তু কোন গাড়ি পার হতে পারে না। পায়ে হেঁটে পার হতে হয়। ফলে কোন লোক মৃত্যুবরণ করলে ব্রিজের ওপর গাড়ি থামিয়ে স্ট্রেতে করে লাশ বাড়ি নিয়ে যেতে হয়। এটা আমাদের জন্য খুব কষ্টকর।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, ব্রিজটি নিয়ে আমরা অনেক সমস্যা আছি। ৩ বছরের বেশি সময় ধরে পরে আছে। গাড়ি নিয়ে আমরা পারাপার হতে পারিনা। খুবই দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।

গাড়ি চালক আব্দুস সালাম বলেন, নতুন ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করে শেষ করার কোন নামই নাই। অন্যদিকে পুরাতন ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা গাড়ি পার করতে পারছি না। ব্রিজের ঢালে যাত্রী নামিয়ে দিতে হয়। এতে আমাদের অনেক আর্থিক লোকসান হচ্ছে।

ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজ আকন বলেন, আমি এখানে সাত মাস হয়েছে এসেছি। কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সময় বৃদ্ধিকরণের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রিজের কাজ শেষ হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে মেসার্স আমির ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আমির হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন বাদশা বলেন, ব্রিজটি নির্মাণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কিছুটা গাফিলতি রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজ নির্মাণ কাজটি শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।