২২ দিনে সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছে প্রবাসীরা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : চলতি মার্চ মাসের ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছে ১৪১ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪৮৮ কোটি ২২ লাখ টাকা)। এ সময়ে প্রতিদিন দেশে এসেছে ছয় কোটি ৪২ লাখ ৯৩ হাজার ১৮২ মার্কিন ডলার।

যা আগের মাস ফেব্রুয়ারি বা আগের বছর মার্চের একই সময়ের চেয়ে কম।

রোববার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়েছে, আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে (২০২৪) গড়ে প্রতিদিন সাত কোটি ৭৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৩ ডলার দেশে এসেছিল। আর আগের বছরের মার্চ মাসে (২০২৩) প্রতিদিন প্রবাসী আয় এসেছিল ছয় কোটি ৭৬ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৬ ডলার। সে হিসাবে চলতি মার্চের প্রথম ১৫ দিনে প্রবাসী আয়ের গতি কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে আরও জানানো হয়, এ মাসের ২২ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৮ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে দুই কোটি ১৫ লাখ ডলার। একই সময়ে দেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ১২০ কোটি ৪৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে।

তবে রোজার শেষের দিকে ঈদ আগে প্রবাসী আয় বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।




আজ আসছেন ভুটানের রাজা-রানি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ ঢাকায় আসছেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক। সকাল ১০টায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে তার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে। এই সফরে তার সঙ্গে রানি জেতসুন পেমাসহ একটি প্রতিনিধি দল থাকছে। সফরকালে রাজা ও রানি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং একটি নবায়ন হবে। আওয়ামী লীগ সরকার গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর এটি বাংলাদেশে কোনো দেশের শীর্ষ নেতার প্রথম সফর।

রোববার দুপুরে ভুটানের রাজার বাংলাদেশ সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি জানান, বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভুটানের রাজাকে স্বাগত জানাবেন। ভুটানের রাজার সফরে নতুন করে তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। সেগুলো হলো- ভুটানের থিম্পুতে একটি বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশের কুড়িগ্রামে ভুটানের জন্য বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং ভোক্তা সুরক্ষায় প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। এছাড়া সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি চুক্তি আছে- সেটির নবায়ন করা হবে।

রাজার সফরের তাৎপর্য তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলাদেশে প্রথম কোনো উচ্চ পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফর এটি। এ সফরে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে (বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে) ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। থিম্পুতে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট প্রতিষ্ঠা উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের বৃহত্তর কল্যাণ সাধন হবে। ট্রানজিট এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির (পিটিএ) মাধ্যমে ভুটানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ হবে। বিদ্যুৎ খাতে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে বাংলাদেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএস কোর্সে ভুটানের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ আসন সংখ্যা ২২ থেকে বাড়িয়ে ৩০ করা হবে। প্রতি বছর ভুটানের ফরেন সার্ভিস অফিসারদের জন্য বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রশিক্ষণের জন্য দুটি আসন বরাদ্দ করা হবে।

বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমি ভুটানে একটি কূটনৈতিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবে। বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলে ভুটানের কৃষিবিষয়ক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মেয়াদে তিন বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সফর বাংলাদেশ-ভুটানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সুপ্রতিবেশীসুলভ পররাষ্ট্রনীতির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের অবস্থান সুদৃঢ হবে।

বাংলাদেশে মহান স্বাধীনতার প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ ভুটান। মহান স্বাধীনতা মাসে দেশটির রাজার এ সফর এবং স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া ভুটানের রাজার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়। সফরে ঢাকায় রাজাকে ব্যাপক উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হবে। রাজার আগমন উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যে ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কে ভুটানের রাজা এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টানানো হয়েছে।




৯৯৯ নম্বরে ফোনকলে দুর্লভ মেছোবাঘ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার বালিয়াতলী থেকে একজন নারী কলার ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে জানান, তাদের বাড়ির পাশে একটি মেছোবাঘ দেখা গেছে। সেটি লোকজনের তাড়া খেয়ে একটি গাছের ওপর উঠে বসে আছে। মেছোবাঘটিকে উদ্ধার করা না হলে সেটিকে লোকজন পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে।

আজ রবিবার (২৪ মার্চ) এমন তথ্যের ভিত্তিতে ৯৯৯ কলটেকার কনস্টেবল অঞ্জন বড়ুয়া কলাতলী থানায় বিষয়টি দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানান।

আরও পড়ুন : শেখ হাসিনা সেনানিবাসে সমরাস্ত্র প্রদর্শনী

পরবর্তীতে ৯৯৯ ডেসপাচার এসআই সালাউদ্দীন কলার এবং সংশ্লিষ্ট সবার সাথে যোগাযোগ করে পুলিশি তৎপরতার আপডেট নিতে থাকেন।

প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে কলাতলী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মেছোবাঘটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে বন বিভাগের কাছে সেটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

 




শেখ হাসিনা সেনানিবাসে সমরাস্ত্র প্রদর্শনী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পটুয়াখালীর লেবুখালী শেখ হাসিনা সেনানিবাসে সাত দিনব্যাপী সমরাস্ত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

রোববার (২৪ মার্চ) সকালে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল আবদুল কাইয়ুম মোল্লা। পরে তিনি প্রদর্শনীর স্টলগুলো পরিদর্শন করেন।

মেজর জেনারেল আবদুল কাইয়ুম মোল্লা বলেন, ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস বর্তমানে সেনাবাহিনীকে অস্ত্রেসস্ত্রে আরও আধুনিক করেছে।’

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি। এছাড়া বরিশাল ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, র‍্যাব ৮ এর সিইওসহ সামরিক কর্মকর্তা, পটুয়াখালী ও বরিশাল জেলার অসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: গলাচিপায় কলেজছাত্র জিসান হত্যা ঘটনায় ২ জন আটক

পটুয়াখালীর শেখ হাসিনা সেনানিবাসের এই সমরাস্ত্র প্রদর্শনী চলবে আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬ দিন জনসাধারণের জন্য এ প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে।

উল্লেখ্য, প্রথমবারের মতো বরিশাল এরিয়ায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন আর্মস এবং সার্ভিলেনের কার্যক্রম, মহান মুক্তিযুদ্ধ, শেখ হাসিনা সেনানিবাসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, দেশ ও জাতি গঠনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও সাফল্য এবং সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

 




গলাচিপায় কলেজছাত্র জিসান হত্যা ঘটনায় ২ জন আটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর গলাচিপায় কলেজছাত্র জিসান হত্যা মামলার দুই আসামিকে আটক করেছে র‌্যাব সদস্য।

রোববার (২৪ মার্চ) দুপুরে পটুয়াখালী র‌্যাব ক্যাম্পে র‌্যাবের বরিশাল বিভাগীয় অধিনায়ক যোবায়ের আলম শোভন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

আটকরা হলেন প্রধান অভিযুক্ত বাপ্পি চৌকিদার (১৮) এবং তার অন্যতম সহযোগী মাহিন শিয়ালী (১৮)।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, শ্বাসরুদ্ধকর ৬৫ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোলার দক্ষিণ আইচা থানার করিমপাড়ার একটি বিচ্ছিন্ন চর এলাকা হতে পলাতক প্রধান অভিযুক্ত বাপ্পিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৮।

এর আগে শনিবার ভিন্ন একটি অভিযানে র‌্যাব-১৫-এর সহযোগিতায় দ্বিতীয় আসামি মাহিনকে বান্দরবান পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আর্মি পাড়া হতে গ্রেফতার করা হয়।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে মৃত জেলিফিশ

প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব আরো জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা ঘটনার সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে। মামলা হওয়ায় গ্রেফতার থেকে বাঁচতে তারা আত্মগোপন করেছিল। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, ৮ মার্চ গলাচিপা উপজেলার দক্ষিন চর বিশ্বাস গ্রামের বাসিন্দা মশিউর রহমান ডাকের মারধর শিকার হয়। এ ঘটনায় ১১ দিন চিকিৎসার পর গত ১৯ মার্চ জিসানের মৃত্যু হয়। পরে জিসানের বাবা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গালাচিপা থানায় মামলা করেন।




কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে মৃত জেলিফিশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত জেলিফিশ। গত এক সপ্তাহ থেকে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে এসব মরা জেলিফিশ বালুতে আটকে থাকতে দেখা গেছে।

এসব মাছের মধ্যে কোনোটা আকারে ছোট, কোনোটা বড়। দেখতে অনেকটা অক্টোপাসের মতো। তবে এগুলো কী কারণে মারা যাচ্ছে এর সঠিক কারণ কেউ বলতে পারছেন না।

জেলেরা বলছেন সমুদ্রে এত পরিমাণ জেলিফিশ বেড়েছে যে তারা সাগরে জাল দিতে পারছেন না।

 

আব্দুল্লাহ আল নোমান নামের এক পর্যটক বলেন, জেলিফিশের নাম শুনেছি কিন্তু কখনো দেখিনি, এই প্রথম দেখছি। এগুলো দ্রুত সরিয়ে না নিলে পচে সৈকতের পরিবেশ দূষিত হবে। তবে জেলিফিশগুলো দেখতে খুবই সুন্দর।

স্থানীয় জেলে মো. হারিচ জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের জালে বিপুল পরিমাণ জেলিফিশ ধরা পড়েছিল। তারা জাল থেকে সমুদ্রে ফেলে দিয়েছে। শুধু তারাই নয় বর্তমানে জেলিফিশ সমুদ্রে এতটাই বেড়েছে যে, জেলেরা বাধ্য হয়ে সমুদ্র থেকে জাল উঠিয়ে নিয়ে আসছে।

আরো পড়ুন :কলাপাড়া পৌর এলাকায় ময়লা আবর্জনায় অতিষ্ঠ মানুষ

মেরিন ফিশারিজ বিভাগের গবেষকদের মতে, জেলিফিশ গভীর সমুদ্রের মাছ। সমুদ্রের পানিতে কোনো বিপর্যয় বা পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলের কাছাকাছি চলে আসাটাই শঙ্কা। জেলিফিশ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। একটি প্রজাতি মিঠাপানিতে পাওয়া যায়। এরা সাধারণত পানির ওপর ভাগে ভাসমান অবস্থায় থাকে। গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের হরেক রকম জাত রয়েছে। এদের বিশেষ ধরনের দংশন কোষ আছে। যাকে ইরেজিতে- jellyfish (জেলিফিশ) বলে। বহির্বিশ্বে এটার বাজারমূল্য অনেক বেশি। উন্নতমানের হোটেলে উৎকৃষ্টমানের খাবার হিসেবে বিক্রি হয় এই মাছ। তবে এগুলো স্পর্শ করলে শরীর চুলকায়, এমনকি ঘা হয়ে যেতে পারে। বিশেষ কোষের কামড়ে মানুষ মারাও যেতে পারে। কুয়াকাটা সৈকতে আটকে মরে যাওয়া জেলিফিশগুলো পচে গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই কাঠ বা লোহা দিয়ে তুলে এ মাছগুলো বালুতে পুঁতে ফেলা উচিত।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, গত কয়েক দিন থেকে এসব জেলিফিশ উপকূলের কাছাকাছি এসে জেলেদের জালে আটকা পড়েছে। পরে জেলেরা মাছগুলো ফেলে দেওয়ায় মরা মাছ কুয়াকাটা সৈকতের বেলাভূমিতে আসতে শুরু করেছে। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে সবকিছু ঠিক হয় যাবে। জেলিফিশ সমুদ্রে বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্র থেকে বর্তমানে জেলেরা জাল উঠিয়ে রাখছে।




সম্পত্তি লিখে নিয়ে মাকে পিটিয়ে ঘরছাড়া করল ১০ সন্তান

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : সব সম্পত্তি লিখে নিয়ে মাকে মারধরের পর ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সন্তানদের বিরুদ্ধে। ৮২ বছরের হতভাগ্য ১০ সন্তানের মা ফরিদা বেগম এখন ঘুরছেন রাস্তায় রাস্তায়। মাদারীপুর সদর উপজেলার পৌর পেয়ারপুর গ্রামের এ ঘটনায় তোলপাড় এলাকা।

জানা যায়, স্বামী কলম গড়িয়া মারা গেছেন ৩৫ বছর আগে। অনেক কষ্ট করে চার ছেলেকেই করেছেন প্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে বড় ছেলে দেলোয়ার গড়িয়া কাঁচামাল ব্যবসায়ী, মেজ ছেলে কামাল টিটিসিতে চাকরি করেন, এর পর সেজ ছেলে হেমায়েত পল্লী চিকিৎসক, আর ছোট ছেলে কাজল গড়িয়া এলজিইডিতে টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত। এ ছাড়া ৬ মেয়েকে বিয়েও দিয়েছেন সম্ভ্রান্ত পরিবারে।

এই ১০ সন্তানের বিরুদ্ধেই ফরিদার অভিযোগ। তবে এই অভিযোগের তীর সবচেয়ে বেশি বড় ছেলে দেলোয়ার, আর ছোট ছেলে কাজলের ওপর।

ফরিদা বেগম জানান, স্বামীর দান করা ও রেখে যাওয়া ৬৭ শতাংশ ফসলি জমি বিক্রি করে সন্তানদের মানুষ করেছেন। আর বাড়ির ৪৫ শতাংশ জমি বিভিন্ন সময়ে কারণে-অকারণে লিখে নিয়ে গেছে সন্তানরা। দলিলে লাখ লাখ টাকা জমির মূল্য দেখালেও ফরিদাকে দেওয়া হয়নি একটি টাকাও। সম্প্রতি সব কিছু লিখে নেওয়ার পর মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছোট ছেলে কাজল গড়িয়ার বিরুদ্ধে।

এমন অবস্থায় বড় ছেলে দেলোয়ার তার মাকে বিষ খেয়ে মরে যেতে বলেছে। এর পর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন হতভাগ্য এই মা।

ছোট ছেলে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার পর আশ্রয় নিয়েছিলেন বড় মেয়ে সুফিয়া বেগমের বাড়িতে। সম্পত্তির ভাগ কম হওয়ায় বড় মেয়েও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মাকে দেখভাল করবেন না। আর অন্য ছেলেদের মুখেও একই কথা।

তবে মাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়া আর জোর করে সব সম্পত্তি লিখে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। ফরিদার ১০ সন্তানের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীও। দোষীদের বিচারের পাশাপাশি ফরিদার সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তাদের। সরকারিভাবে আইনগত সহায়তার পাশাপাশি ফরিদা বেগমের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ফরিদা বেগমের ছোট ছেলে কাজল গড়িয়া বলেন, আমার মায়ের মাথায় একটু সমস্যা আছে। তাই মাঝে মাঝে উল্টাপাল্টা বলে। আমি মাকে মারধর করিনি আর জোর করে সম্পত্তিও লিখে নিইনি। মা আমার নামে মিথ্যে কথা বলছে। আমার মা, ভাইদের একই সম্পত্তি বারবার লিখে দেওয়ায় সমস্যা হয়েছে। আমাদের ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়েছে।




কলাপাড়া পৌর এলাকায় ময়লা আবর্জনায় অতিষ্ঠ মানুষ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্লাস্টিকের ময়লা ডাস্টবিনের পাশে বাঁশ পুঁতে রশি দিয়ে বেঁধে রেখেও সড়কে ময়লা, আবর্জনা ছিটানো ঠেকানো যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত গরু, ছাগল, ভেড়া এসে ডাস্টবিনে মুখ দিয়ে সড়কের উপর উল্টে ফেলছে ডাষ্টবিন। অতপর ডাস্টবিনে ফেলা গেরস্থালি ময়লা আবর্জনা খাচ্ছে গৃহপালিত পশুর দল। এভাবে সড়কের উপর ছিটিয়ে ফেলা ময়লা আবর্জনা গোটা শহরকে অপরিচ্ছন্ন করে তুলছে। এতে নাক চেপে সড়কে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে পথচারীরা।

এ ছাড়া শহরের মুদি ও কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের দেখা যাচ্ছে কিছুক্ষণ পরপর গরু, ছাগল, ভেড়া তাড়াতে। নতুবা তাদের নিত্যপণ্যসামগ্রী খেয়ে পেট ভরছে গরু, ছাগল, ভেড়ার দল।

এমন চিত্র এখন পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরে। দেশের দক্ষিণ জনপদের প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভাকে নাগরিক সেবায় অনন্য, স্মার্ট পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল মেয়র, কাউন্সিলরদের। অথচ মুষ্টিমেয় ক’জন প্রভাবশালী গরু, ছাগল, ভেড়া মালিকের কাছে জিম্মি হয়ে নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না মেয়র, কাউন্সিলররা।

জানা যায়, পৌর শহরের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ নাগরিকরা গরু, ছাগল, ভেড়ার উপদ্রবে এখন অতিষ্ঠ। ভুক্তভোগীরা পৌরসভায় অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি। বন্দর ব্যবসায়ী সমিতি শহরে কয়েকবার মাইকিং করেও কোনো কাজ হয়নি।

স্থানীয় নজরুল ইসলাম বলেন, আমার বাসার একটু কাছেই পৌরসভার ময়লা ফেলার ডাস্টবিন।
আমরা প্রতিদিনের গেরস্থালি ময়লা, আবর্জনা ডাস্টবিনে ফেলি। অথচ কসাই পট্টি এলাকার রশি ছেড়ে পালা কয়েকটি গরু, ছাগল এসে ডাস্টবিন উল্টে সড়কের উপর ফেলে রাখে।

উম্মে হাফসা বলেন, রাম ছাগলের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। ছাগল ঘরে ঢুকে ধান-চালের ড্রাম ভেঙে ফেলায় ছাগল মালিক কিংবা পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো ফল হয়নি।

আরো পড়ুন : কলাপাড়া ইউএনওর বদলিতে কান্নার রোল

বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, মুদি ও কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা সমিতির উদ্যোগে গরু, ছাগলের উপদ্রব রোধে শহরে কয়েকবার মাইকিং করিয়েছি। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সহায়তা না পাওয়ায় আমাদের উদ্যোগ ফলপ্রসু হয়নি।

পৌর সচিব কাব্য লাল চক্রবর্ত্তী বলেন, নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টিতে এ বিষয়ে আমরা কয়েকবার মাইকিং করিয়েছি। বর্তমানে মেয়র চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরে এলে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।




দুমকিতে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর দুমকিতে বহু দিনের জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শহিদুল আলম হাওলাদারকে সভাপতি ও মো. রাকিব হোসেন মৃধাকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা শাখার আংশিক এই কমিটির অনুমোদন দিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ কমিটি।

আজ শনিবার পটুয়াখালী জেলা শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর হাসান আরিফ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৭ সদস্যের এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। 

আরো পড়ুন :আন্ধারমানিক নদী রক্ষায় প্রতিবন্ধকতা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কমিটির অন্যরা হলেন- সহসভাপতি মাইনুল এইচ সাচ্চু মৃধা, এস.এম প্রিন্স, রাসেল শরীফ, সবুজ উদ্দিন মৃধা, মামুন মোল্লা, আরিফ মুন্সী, রাহাত তালুকদার। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. বায়জিদ খান, সৈয়দ রাব্বি, মোহাম্মদ ইমন হাওলাদার, শফিউল আলম জিসান। সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তফা, মশিউর রহমান, মোহাম্মদ শাহিন, শেখ সোহাগ।

 




আন্ধারমানিক নদী রক্ষায় প্রতিবন্ধকতা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ‘বাংলাদেশের নদ-নদী রক্ষায় প্রতিবন্ধকতা প্রেক্ষিত আন্ধারমানিক’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার মো: তৌহিদুর রহমান সিআইপি মিলনায়তনে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এবং ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ নামের দুটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এ মতবিনিময়সভার আয়োজন করে।

কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা, কলাপাড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. হুমায়ুন কবীর।

আরো পড়ুন :পটুয়াখালীতে পুরুষাঙ্গ কেটে দিল স্ত্রী

মতবিনিময সভার শুরুতে আন্ধারমানিক নদীর উপর গবেষণালব্ধ ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ওয়াটার্স কিপার্স বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ইকবাল ফারুক।

মতবিনিময়সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণমাধ্যমকর্মী নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু, জসীম পারভেজ, মিলন কর্মকার রাজু, সুজন মৃধা, কৃষক ফরিদ তালুকদার প্রমূখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক মেজবাহ উদ্দিন মাননু।

মতবিনিময়সভায় কলাপাড়া উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক, মৎস্য চাষী, ব্যবসায়ী, জেলেসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন।