মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক কমেছে ৩৫ লাখ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহক দিন দিন কমেই চলেছে। পাঁচ মাসের ব্যবধানে ৩৫ লাখ গ্রাহক কমেছে। গ্রাহকরা জানান, প্যাকেজ সমন্বয়ের নামে মোবাইল অপারেটরগুলো ইন্টারনেটের দাম বাড়ানোই তারা ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন।

তবে একই সময়ে তুলনামূলক গ্রাহক বেড়েছে আইএসপি ও পিএসটিএন ইন্টারনেটের।

বিটিআরসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী—২০২৩ সালের আগস্টে মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহক বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১১ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার। এরপর সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহক কমতে শুরু করে। সেপ্টেম্বরে ২০ হাজার গ্রাহক কমে ১১ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজারে নেমে যায়।

অক্টোবরে এক লাফে ৩ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহক কমে দাঁড়ায় ১১ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজারে। নভেম্বর প্রায় ৫ লাখ গ্রাহক কমে যায়। ওই মাসে গ্রাহক ছিল ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার। এরপর ডিসেম্বর তা কমে ১১ লাখ ৮৪ লাখ ৯০ হাজারে নেমে যায়। সবশেষ জানুয়ারি মাসে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা কমে ১১ কোটি ৬০ লাখ ৩০ হাজারে নামে।

এদিকে, মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহক কমলেও আইএসপি ও পিএসটিএন ইন্টারনেট গ্রাহক উল্টো বেড়েছে। সেপ্টেম্বর আইএসপি ও পিএসটিএন গ্রাহক ছিল এক কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার। অক্টোবর ও নভেম্বরে এ ইন্টারনেটের গ্রাহকের সংখ্যায় হেরফের হয়নি। ডিসেম্বরে আইএসপি ও পিএসটিএন ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার। সবশেষ জানুয়ারি মাসেও একই গ্রাহক সংখ্যা অটুট রয়েছে।

বিটিআরসির মহাপরিচালক (এসএস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খলিলুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে গ্রাহকরা কী বলেন, সেটা আমরা শুনবো এবং তা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’




কালরাতের স্মরণে এক মিনিট অন্ধকারে ছিল দেশ

চন্দ্রদীপ নিউজ : কালরাতের প্রথম প্রহর স্মরণ করে গণহত্যা দিবসে সোমবার (২৫ মার্চ) এক মিনিট আলোহীন (ব্ল্যাক-আউট) ছিল বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার স্মরণে রাত ১১টা থেকে ১১টা এক মিনিট পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষ আলোহীন (ব্ল্যাক-আউট) কর্মসূচি পালন করেছে।

এসময় লাল সবুজের বাতিতে সাজানো ঝলমলে সরকারি ভবনগুলোতে নেমে আসে অন্ধকার। রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকে।

বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা।

২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। অবশ্য তার আগেই ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় বাঙালির অবিসংবাদিত এই নেতা বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ কার্যত সেটাই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, যার পথ ধরে কালরাতের পর শুরু হয় বাঙালির প্রতিরোধ পর্ব।

নয় মাসের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

২০১৭ সালে জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

 




পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতন সেলে ৩৩ ধরনের নিপীড়নের বিবরণ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পাকিস্তানি ও তাদের সহযোগী রাজাকার-আলবদর বাহিনী বাঙালিদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে তার বর্ণনা এ প্রজন্মের জানা জরুরি বলে মনে করেন গবেষকরা। দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় আটটি নির্যাতন কেন্দ্র শনাক্ত করে সেখানে নির্যাতনের যে ধরনগুলো উঠে আসে, তার ভয়াবহতায় শিউরে উঠতে হয়।

তারা বলছেন, এর বাইরেও নির্যাতনের নানা ধরনের খবর পাওয়া যায় বেঁচে ফেরা মানুষদের মুখে। এর প্রচুর বিবরণ থাকা উচিত ছিল, যাতে ভবিষ্যতে নাগরিকরা বুঝতে পারে বাংলাদেশবিরোধীরা কী রকম প্রতিহিংসাপরায়ণ ছিল।

মুনতাসির মামুন ২০১৯ সালে ড. এ আর মল্লিক মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ড উদ্বোধনী বক্তৃতায় গণহত্যার রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন। পরবর্তী সময়ে সেই বক্তব্যটি বুকলেট হিসেবে প্রকাশ করে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। সেখানে তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলার জরিপ ও বিবরণীতে কিছু নির্যাতনের ধরন উঠে এসেছে। জরিপের বিবরণী থেকে মোটাদাগে ৩৩ রকমের নির্যাতনকে আলাদা করা যায়।

একাত্তরে নির্যাতন সেলের নিপীড়নের ধরন

বেশিরভাগ সেলেই হাত-পা বেঁধে, পা ওপরের দিকে তুলে ঝুলিয়ে রাখা ছিল একটি ‘সাধারণ’ নির্যাতন। খুলনা সার্কিট হাউজ, বিভিন্ন বধ্যভূমিতে গাছের সঙ্গে এভাবে ঝুলিয়ে রাখা হতো, যাতে পথচারীরা তা দেখতে পায়। এসব নির্যাতন সেলে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো, চাকু বা ব্লেড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ কাটা হতো। এমনকি হাত-পা বেঁধে রান্নার বড় পাতিলের মধ্যে করে পানির হাউজে নিক্ষেপ করা হতো। নাটোরের নির্যাতন সেলে এমন ভয়াবহতার চিত্র পাওয়া যায়।

কিছু কিছু নির্যাতন সেলে বিকৃত চিত্রও পাওয়া গেছে। নাটোরের নির্যাতন সেলেই অন্য কারও যৌনাঙ্গে মুখ ঘষে নির্যাতন চালানো হতো। নারীদের বিবস্ত্র করে ফ্যানের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। সেলগুলোতে পুরুষ ও নারীদের বন্দুকের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন করতো। সাতক্ষীরার নির্যাতন সেলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

জুটমিলের বয়লারে আগে মাথা ঢুকিয়ে, পরে পুরো শরীর ঢুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা পাওয়া গেছে। খুলনা ও সৈয়দপুরে এমন ভয়াবহ নির্যাতনের খোঁজ মিলেছে। এছাড়া খুলনায় হাত-পা বেঁধে জীবিত মানুষকে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলা কিংবা কুড়াল দিয়ে বুক চিরে কলিজা বের করার মতো নৃশংস ঘটনার খোঁজ পাওয়া গেছে।

কোথাও ব্লেড বা ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে লবণ ও মরিচের গুঁড়ো মাখিয়ে দেওয়া, পানি চাইলে মুখে প্রস্রাব ঢেলে দেওয়া, শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে রক্ত না বেরোনো পর্যন্ত অশ্রাব্য গালিগালাজ করা, সিগারেটের আগুন দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দেওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়। বিশেষ করে কুমিল্লার লাকসামে বন্দি নারীদের ওপর এমন নির্যাতন চালানো হতো। হাত পায়ের নখে সুচ ঢুকিয়ে দেওয়া এবং হাত পায়ের নখ উপড়ে ফেলার মতো বর্বরতাও চালানো হতো।

দড়িতে পা বেঁধে ঝুলিয়ে গরম পানিতে বারবার ডোবানো, সূর্যের দিকে মুখ করে শুইয়ে রাখাও হতো। আবার মলদ্বারে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, নারীদের স্তন বা যোনি কেটে ফেলা কিংবা পুরুষদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলেও নির্যাতন চালিয়েছে পাকবাহিনী। কোথাও গাড়ির পেছনে বেঁধে গাড়ি চালানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। নীলফামারীতে পাট বেলিং প্রেসারের নিচে রেখে দিয়েও নির্যাতন চালানো হতো। আবার কখনও কখনও কাঁচা বাঁশের মধ্যে রেখে শরীর থেঁতলে দেওয়া হতো। এছাড়া খেজুর বা বরইয়ের কাঁটা রেখে তার ওপর গড়াগড়ি দিতে বাধ্য করা, পিচঢালা রাস্তায় সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড় করিয়ে রাখাও হতো।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলি অঞ্চলে নির্যাতনের চিত্রে উঠে এসেছে। সেখানে বন্দিদের গলা কেটে ফেলা হতো। এছাড়া মাটির মধ্যে গলা পর্যন্ত পুঁতে রাখা, বিষ পিঁপড়া শরীরে লেলিয়ে দেওয়ার (বেলতলি গণহত্যা) ঘটনাও ঘটেছে।

আবার দড়ি দিয়ে বেঁধে নৌকা বা লঞ্চের সঙ্গে বেঁধে টেনে নেওয়া, নগ্ন করে বরফের স্লাবে শুইয়ে রাখা, অন্ধকার ঘরে ২৪ ঘণ্টা আলো জ্বেলে রাখা এবং চোখে এসিড ঢেলে দেওয়ার (নাটোর) তথ্য পাওয়া গেছে।

মুনতাসির মামুন তার বক্তৃতায় বলেছেন, এগুলো কিছু উদাহরণ মাত্র। আরও কত রকমের অত্যাচার করা হতো তা বর্ণনা করা যাবে মুক্তিযুদ্ধের ওপর বিভিন্ন বই পড়লে।

আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা জরুরি কেন এবং করণীয় কী জানতে চাইলে শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের সন্তান তৌহীদ রেজা নূর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালে নির্যাতনের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বারবার তুলে ধরতে হবে। বিশ্বে যত জেনোসাইড হয়েছে, প্রতিটির ক্ষেত্রে প্রজন্ম পর প্রজন্ম ইতিহাসটাকে ধরে রাখার চেষ্টা দেখা গেছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা কাজের সঙ্গে আগ্রহী তরুণদের ব্যাপক হারে যুক্ত করা দরকার। বিশেষত যার যার এলাকার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন সাইট শনাক্ত করা এবং সংরক্ষণ করার কাজে ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে তরুণদের যুক্ত করতে হবে। সঠিক তথ্য ও ইতিহাসের উপাদান নিশ্চিত করতে ওয়াকিবহাল ও যোগ্য একটি টিমের ছায়াতলে সার্বিক কাজ বাস্তবায়ন করা জরুরি।’

মুনতাসির মামুন তার বক্তৃতায় করণীয় উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার-আলবদর বাহিনী বাঙালিদের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছে, তার প্রচুর বিবরণ লিপিবদ্ধ করা উচিত, যাতে তরুণ প্রজন্ম বুঝতে পারে কীভাবে পাকিস্তানবিরোধীরা অত্যাচার করেছিল। এবং তারা যেন প্রশ্ন তুলতে পারে, যারা এসব ঘটিয়েছে এবং যারা এদের সমর্থন করে বাংলাদেশে তাদের রাজনীতির অধিকার থাকতে পারে কিনা?




রোজাদারদের কাছে অর্ধেক ভাড়া নেন পিরোজপুরে রিকশাচালক ইউসুফ

বরিশাল অফিস::  পিরোজপুরে রমজান উপলক্ষে অর্ধেক ভাড়ায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন রিকশাচালক ইউসুফ। এ ছাড়াও প্রতিদিন এলাকার অসহায় রোজাদার ব্যক্তিদের নিজ উদ্যোগে ইফতারি করান তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ গোটা পিরোজপুরে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

সোমবার সরেজমিনে ইউসুফের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, পিরোজপুর পৌরসভার রায়েরকাঠি গ্রামের সালেক দরানীর ছেলে তিনি। বেশ কয়েক বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছে। একমাত্র ছেলে ঢাকায় পোশাক কারখানা কাজ করেন। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন।

ইউসুফ জানান, রমজান মাসে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। এটা জেনে তিনিও সিদ্ধান্ত নেন ২০ রোজা পর্যন্ত রোজাদার যাত্রীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেবেন। এ ছাড়াও তিনি প্রতিদিন ইফতারের আগে দরিদ্র রোজাদার ব্যক্তিদের কাছে ইফতার পৌঁছে দেন।

এর কারণ হিসেবে ইউসুফ বলেন, ‘বিশ্বে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ চলছে, সেখানে শিশুসহ অনেকে খাবার পাচ্ছে না। আমাদের দেশেও অনেক মানুষ রোজাদার অসহায়, তাই তাদের কথা চিন্তা করেই ২০ রোজা পর্যন্ত হাফ ভাড়া নেব এবং পুরো মাস ধরেই অসহায় কিছু মানুষকে ইফতার করাব ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে রিকশা চালালেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও কম ভাড়া নেন। কোনো শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের হলে তার কাছে টাকা নেন না তিনি।

নিজের স্বল্প আয় থেকে কীভাবে এটি করছেন, এ প্রসঙ্গ রিকশাচালক ইউসুফ জানান, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত রিকশা চালান। এরপর বাড়িতে বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যায় ইফতারির পর আবার রাস্তায় বের হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত রিকশা চালান। রমজানের আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় ছিল। রোজা উপলক্ষে ছাড় দেওয়ার পরও আয় কমেনি। কারণ ভাড়া অর্ধেক নেওয়ায় যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে।

রিকশাচালক ইউসুফের প্রসঙ্গে কথা হয় পিরোজপুর শহরের বাসিন্দা গিয়াস আবুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শহরে দেখা হলে আমি ইউসুফের রিকশায় চড়ে বাসায় যাই। রমজান উপলক্ষে অর্ধেক ভাড়া সত্যিই প্রশংসনীয়। এমনটা হয়তো অনেকে চিন্তাও করতে পারে না।’

পিরোজপুর জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি খালিদ আবু  বলেন, ‘ইউসুফকে আমি অনেক বছর ধরে চিনি। রমজানে ওর এই অর্ধেক ভাড়ার বিষয়টি সত্যিই অনেক মহৎ উদ্যোগ। ওর থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত, রমজানে কীভাবে ছাড় দিতে হয়। একজন রিকশাচালকের এমন উদ্যোগ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

পিরোজপুর জেলা শাখায় সুজনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, ‘রিকশাচালক ইউসুফের কাছ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। তার এই রমজানে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। পণ্যের দাম বৃদ্ধি, সড়কপথে ভাড়া বৃদ্ধি, গরিব মানুষের ভোগান্তি কমাতে, আমাদের সকলকে ইউসুফের মতো কিছু কিছু উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’




পটুয়াখালীতে হলি উৎসব উদযাপিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীতে সনাতন ধর্মালম্বীরা উদযাপন করছে হলি উৎসব। ২৪ মার্চ সোমবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন হিন্দুপাড়া এবং মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয় এ উৎসব।

এসময় ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি এবং ধর্মীয় গানে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ।

পরে সনাতনিরা রঙ দিয়ে একে অপরকে রাঙিয়ে তুলেন। রঙ খেলায় মেতে ওঠে শিশুসহ উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরীরা।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কলেজের কর্মচারীকে পেটানোর অভিযোগ

বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির বা গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীগণের সঙ্গে রঙ খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি হয়।

 




চালকের গাফিলতিতে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীতে চালকের দ্বায়িত্বহীনতার কারণে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি আটকে রেখেছে এমন কথা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা কুয়াকাটা মহাসড়কে এসে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

রোববার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর হেতালিয়া বাধঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ঘণ্টাব্যাপী রাস্তায় বিক্ষোভ চলার কারণে সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী থেকে অ্যাম্বুলেন্স চালক ফাঁকা রাস্তায় হুইসেল বাজিয়ে যাচ্ছিলেন।
হেতালিয়া বাধঘাট এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জন মাখন লাল অ্যাম্বুলেন্সে কোনো রোগী না থাকায় তাকে জবাবদিহির আওতায় আনেন। তার  অ্যাম্বুলেন্সের বৈধ কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগ নেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সচালক মুমূর্ষু রোগী আনতে যাওয়ার কথা বললে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স রেখে তাকে ছাড়া হয় এবং রোগী নিয়ে ফেরার পথে লাইসেন্স ফেরত নেওয়ার কথা জানান।

কিছুক্ষণ পরে ড্রাইভার রোগী নিয়ে ফেরার পথে ট্রাফিক বক্সের সামনে দাঁড়ায় এবং ট্রাফিক পুলিশকে খুঁজতে থাকেন। অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষ রোগী থাকা সত্ত্বেও এভাবেই তিনি ২৫-৩০ মিনিট অপেক্ষা করেন। এ সময় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা বেবি বেগম (৫৫) নামের এক মুমূর্ষ রোগী অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত বেবি বেগম পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুইয়া ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামের শাহ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

পরে স্থানীয়রা জানতে চাইলে ড্রাইভার বলেন, ট্রাফিক সার্জন তাকে দাঁড় করিয়ে রাখায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় দায়িত্বরত জাকির ট্রাফিক সদস্যের ওপর হামলা করে। আহত ট্রাফিক সদস্যকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আরো পড়ুন : টকটকে লাল ও সুস্বাদু রাঙ্গাবালীর ‘রাঙা তরমুজ’

অ্যাম্বুলেন্স চালক বিজন হাওলাদার বলেন, আমি রোগী আনতে যাওয়ার সময় হুইসেল বাজিয়ে যাচ্ছিলাম তখন মাখনলাল স্যারে আমার লাইসেন্স রাইখা দেয় আর কয় যে যাওয়ার কালে লাইসেন্স লইয়া যাইতে। আমি লাইসেন্স নেওয়ার জন্য দাঁড়ায়ে ছিলাম। আর তখনই রোগী মারা যায়।

বেবি বেগমের ছেলে মেহেদী বলেন, আমি কলাগাছিয়া থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত আইন্নাও আমার মারে হাসপাতালে নিতে পারিনি। ড্রাইভারকে বার বার অনুরোধ করার পরও তিনি কইছে আমি এহন গেলে পরে লাইসেন্স পামু না। আমি এর বিচার চাই।

হামলার শিকার হওয়া আহত ট্রাফিক সদস্য জাকির বলেন, আজ আমার ও মাখনলাল স্যারের হেতালিয়া বাধঘাট এলাকায় ডিউটি ছিল। আমি মাগরিবের আগ মুহূর্তে বাসায় আসি এবং ইফতার ও মাগরিবের নামাজ শেষ করে আবারও ডিউটিতে যাই। আমি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাবলিক ‘আইছে’ বলে আমার দিকে দৌড়ে আসে এবং মারধর করে। এসময় তারা আমার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করে।




২ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

প্রতিবছরের মতো এবারও রমজান মাসে ২ টাকা লাভে পণ্যসামগ্রী বিক্রি শুরু করেছেন দুমকী উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের হাজির হাট এলাকার আসাদুজ্জামান টিপু ফরাজি। সুলভ মূল্যে পণ্য কিনতে পেরে ক্রেতারও খুশি।

এক শ্রেণীর মুনাফালোভী ব্যবসায়ী যখন রমজানে পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা করছে, সেখানে টিপু ফরাজী সুলভে পণ্য বিক্রি করছেন। রোজার প্রথম দিন থেকেই মুড়ি, ছোলা বুট, খেজুর, খেসারির ডাল, বেসন, সয়াবিন তেল, চিড়াসহ অন্যান্য পণ্য প্রতি কেজিতে মাত্র দুই থেকে তিন টাকা লাভে বিক্রি করছেন।রমজানে মহৎ এ উদ্যোগ গ্রহণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টিপু। তবে শুধু রমজান মাসেই নয়, সারা বছর ব্যবসায়ীরা আসাদুজ্জামান টিপু ফরাজীর মতো ব্যবসা পরিচালনা করবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

জেলা সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে হাজির হাট বাজারে রয়েছে আসাদুজ্জামান টিপু ফরাজীর মালিকানাধীন ‘সততা ভ্যারাইটিজ স্টোর্স’।

এক সময় টিপু সৌদি আরবে প্রবাসী ছিলেন। ২০১০ সালের দেশে ফিরে আসেন। তিন বছর আগে ২০২১ সালের শুরুতে নিজ এলাকা হাজির হাট বাজারে মুদি-মনোহরী ব্যবসা শুরু করেন। সেই থেকে প্রতি বছর রমজানের প্রথম দিন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত প্রতি কেজিতে দুই থেকে তিন টাকার সামান্য লাভে বিক্রি করে আসছেন তিনি। বিশেষ করে মুড়ি, ছোলা বুট, খেজুর, খেসারির ডাল, বেসন, সয়াবিন তেল, চিড়াসহ ইফতারির অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী পণ্যগুলোতে নগদ ক্রেতাদের এ ছাড় দিচ্ছেন তিনি।

দুমকী এবিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন, রমজানে টিপু ফরাজী সুলভ মূল্যে পণ্য বিক্রি করছেন। তাঁর এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই’।

আসাদুজ্জামান টিপু ফরাজী বলেন, রমজান নাজাতের মাস। ১১ মাস তো কম-বেশি লাভ করি, কিন্তু রমজান মাসে ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করব।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো. শাহ শোয়াইব মিয়া জানান, টিপু ফরাজীর মতো অন্য ব্যবসায়ীরা এভাবে এগিয়ে আসলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সাধারণ মানুষও উপকৃত হবে।

আরো পডুন : গলাচিপায় কলেজছাত্র জিসান হত্যা ঘটনায় ২ জন আটক



চশমায় এআই প্রযুক্তি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (এমডব্লিউসি) উৎসবে ‘এয়ার গ্লাস ৩’ উন্মোচন করেছে অপো, যা অ্যাসিস্টেড রিয়েলিটি চশমার নতুন প্রজন্মের প্রটোটাইপ। চশমা দিয়ে কথা বলা, বার্তা পড়া, ছবি তোলা, ভিডিও– সবই করা সম্ভব। স্মার্টফোন দিয়ে অ্যান্ডেসজিপিটি মডেলে প্রবেশ করতে পারবে এয়ার গ্লাস থ্রি, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অভিজ্ঞতা দেবে।

উন্মোচনের আগেই এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে ‘এআই স্মার্টফোন হোয়াইট পেপার’ প্রকাশ করে ব্র্যান্ডটি, যা স্মার্টফোনকে এআই ঘরানার স্মার্টফোনে রূপান্তরের সূচনা করল।

বাইনোকুলার এআর চশমা: ইমেজ, টেক্সট, অডিও-ভিডিও ডেটা বুঝতে চশমাটি চৌকস। যার মাল্টিমোডাল এআই প্রযুক্তি ভয়েস ও ভিজ্যুয়ালের মতো আরও জটিল ইউজার সিনারিওর প্রক্রিয়া করে তা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। এটি যোগাযোগে খুলে দেবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। ফিচার ব্যবহারে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে এক্সআর (এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি) সব ডিভাইস। সত্যিকার অর্থে ব্যক্তিগত, দৈনন্দিন স্মার্ট সহকারীর ভূমিকা নিতে হলে প্রয়োজন মানোন্নত কার্যকারিতা ও লাইটওয়েট ডিজাইন। লক্ষ্য পূরণে একেবারে নতুন এয়ার গ্লাস ৩ প্রটোটাইপ চালু করে ব্র্যান্ডটি।

এআই গবেষণা: সুদীর্ঘ সময় ধরে ব্র্যান্ডটি এআই উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে। ব্র্যান্ডটি এখন এআই প্রযুক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির কৌশল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্র্যান্ডটি ফেব্রুয়ারি মাসে এআই সেন্টার উদ্বোধন করে। ব্র্যান্ডের সক্ষমতাকে এআই রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপ করে যথাযথ কাজে লাগানো হবে। সারাবিশ্বে এআই প্রযুক্তির সুবিধা ছড়িয়ে দিতে অত্যাধুনিক এবং গ্রাহকবান্ধব প্রযুক্তি ও অ্যাপ নিয়ে নিয়মিত গবেষণা সচল থাকবে বলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে বৈশ্বিক বাজারে রেনো-১১ সিরিজ ও ফাইন্ড এনথ্রি সিরিজে এআই সুবিধার জেনারেটিভ এআই ফিচার যুক্ত করা হবে। ভবিষ্যতে ব্র্যান্ডটি ‘জেনারেটিভ এআই’ ফিচারকে বৈশ্বিক বাজারে রেনো সিরিজের নেক্সট জেনারেশন ডিভাইসে যুক্ত করবে। ফলে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্মার্ট, কার্যকর ও সুবিধাজনক জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা পাবে ব্যবহারকারীরা।




ভারতের উত্তর প্রদেশে মাদরাসা শিক্ষা নিষিদ্ধ করে আদালতের রায়

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে মাদরাসা শিক্ষা নিষিদ্ধ করে আদেশ দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাজ্যের এলাহাবাদ হাইকোর্ট এ রায় দেয়।

রায়ে উত্তর প্রদেশের মাদরাসা পরিচালনাকারী আইন-২০০৪ বাতিল করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়, ‘এই আইন ভারতের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী’। রায়ে মাদরাসায় লেখাপড়া করা শিক্ষার্থীদের প্রচলিত স্কুলগুলোতে শিক্ষাগ্রহণের জন্য পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এই রায়ের ফলে আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন হিন্দু-জাতীয়বাদী সরকারের সঙ্গে দেশটির মুসলিমদের দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায় ২৭ লাখ শিক্ষার্থী এবং ২৫ হাজার মাদরাসার প্রায় এক লাখ শিক্ষকের জীবনে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ইফতিখার আহমেদ জাভেদ।

রায়ে বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী এবং বিবেক চৌধুরী বলেন, ‘রাজ্য সরকার এটাও নিশ্চিত করবে যে, রাজ্যের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী কোনো শিশু যেন যথাযথভাবে স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকে বাদ পড়ে না যায়।’

অংশুমান সিং রাঠোর নামে একজন আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট মাদরাসা নিষিদ্ধের এই রায় দেয়।

রাজ্য সরকার মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে নয়, বরং তারা মুসলমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন জানিয়ে উত্তর প্রদেশের ক্ষমতায় থাকা বিজেপির মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠী বলেন, ‘আমরা কোনো মাদরাসার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু আমরা ভেদাভেদের যে অনুশীলন চলে তার বিরুদ্ধে। আমরা অবৈধ অর্থায়নের বিরুদ্ধে এবং আদালতের নির্দেশ অনুসরণ করে রাজ্য সরকার এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ’

আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে ভারতে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ মুসলমান। নির্বাচনী প্রচারের ডামাডোলের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে মাদরাসা নিষিদ্ধ করা হলো।




জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট বেকার থাকছেন!

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : দেশের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ পড়াশোনা করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে। তবে এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করা ২৮ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট তিন বছর পরও বেকার থাকছেন বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এসব কলেজ থেকে পাস করা ৪২ দশমিক ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি করছেন। এছাড়া ১৬ দশমিক ২০ শতাংশ আত্মকর্মসংস্থানে আছেন এবং ১৩ দশমিক ২২ শতাংশের বেশি খণ্ডকালীন কাজ করছেন।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বিআইডিএস এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ফেলো বদরুন নেসা আহমেদ। তিনি জানান, বিআইডিএস সম্প্রতি (২০২৩ সাল) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে। ওই গবেষণায় তিন বছর আগে পাস করা শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। তাতে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার তিন বছর পরও প্রায় ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট চাকরি পাচ্ছেন না।

যে ২৮ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী বেকার, তারা কোন কোন বিষয়ে পড়েছেন, তাও দেখা হয়েছে গবেষণায়। এতে দেখা যায়, যারা বেকার থাকছেন, তাদের মধ্যে বেশির ভাগই বিএ (পাস) ডিগ্রিধারী। এছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা, বাংলা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেকারের হার তুলনামূলক বেশি। বিপুলসংখ্যক নারীও বেকার থাকছেন।

দেশের উচ্চশিক্ষায় যত শিক্ষার্থী আছেন, তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় অংশ কেন এখনো চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না, সেটাও খোঁজা হয়েছিল গবেষণায়।

এ প্রসঙ্গে গবেষণা ফেলো বদরুন নেসা আহমেদ জানান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যেটি জানা গেছে তার মধ্যে একটি হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমে সমসাময়িক জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব রয়েছে। যার কারণে পাস করেও অনেকেই চাকরি পাচ্ছেন না। ইংরেজি ভাষার ক্ষেত্রেও ঘাটতি আছে। বাংলাদেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেসব সুবিধা পায়, তা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে। সেসব সুবিধা দেওয়া গেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেকারত্বের হার কমে আসবে।

‘বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকার’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধে বদরুন নেসা আহমেদ আরও বলেন, সার্বিক বেকারত্বের হার কমিয়ে আনা গেছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেকারত্বের হার এখনো বেশ উচ্চ হারে রয়ে গেছে। যারা বেকার রয়ে গেছেন, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যদি দেখা হয় তাহলে দেখা যাবে, ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা পেয়েছেন। কিন্তু তারা বেকার রয়ে গেছেন। তার মানে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও তারা চাকরির বাজারে নিজেদের সক্ষম করে গড়ে তুলতে পারেননি। যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৮ শতাংশ, যা জাতীয় বেকারত্ব হারের প্রায় দ্বিগুণ।

এই গবেষক বলেন, গত দুই দশকে (২০০৬-২৩) শিক্ষার কলেবর বেড়েছে এবং ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। সাক্ষরতার হার ৪৫ থেকে বেড়ে ৭৬ শতাংশ হয়েছে। বেকারত্বের হারও কমেছে। ঝরে পড়ার হার ৪৯ থেকে কমে ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে। কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যাও ছিল ৯। সেখান থেকে সরকার সারা দেশে ১৬৬টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র করেছে।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক অর্থনীতিবিদ বিনায়ক সেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।