জমি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাতের আধারে এক অসহায় পরিবারের জমিতে ঘর তুলে বেড়া দিয়ে কলাগাছ লাগিয়ে জবর দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

টিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কাছেম আলী স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। এমনকি গভীর রাতে বালু দিয়ে ওই জমি ভরাট করা হয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে কলাপাড়া প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার তৈহিদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য দুলাল চন্দ্র হালদার।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২ নং টিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নং নাচনাপাড়া ওয়ার্ডের খেপুপাড়া মৌজার ৬ নং জেল এল এসএ খতিয়ানের দাগ নম্বও ৫৩৭এর ১৯৮৩ ও ৮৪ সালে এক একর ৩২ শতাংশ জমি হাল বিএস করিয়ে আমরা দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে পৈত্রিক সূত্রে ভোগদখল করে আসছি। গত ১৮ মার্চ স্থানীয় ভূমিদস্যু রুহুল আমিন, ইব্রাহিম, রাসেল, আলামিনসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী রাতের আধারে সেই জমিতে ঘর তুলে কলা গাছ লাগিয়ে বেড়া দিয়ে দখল নেয়ার চেষ্টা চালায়। বাধা দিতে গেলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হত্যা ও জখমের ভয় দেখায়। পরবর্তীতে কলাপাড়া থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। তারা সম্পূর্ণ জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে জমিটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে।

অভিযুক্ত রুহুল আমিন বলেন, ক্রয় সূত্রে আমি এই জমির মালিক। প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র আছে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলি আহম্মেদ বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন : চর বিজয় যেন লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখির নির্ভরযোগ্য সাম্রাজ্য



স্থাপত্যশৈলীর প্রাচীন নিদর্শন বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ি মসজিদ

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: বরিশালের স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ি মসজিদ । দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদ শুধু বরিশালের নয়, বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম। বরিশাল সদর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার উত্তর কড়াপুর গ্রামে অবস্থিত দ্বিতল এ মসজিদটি মিয়া বাড়িতে এটি নির্মিত হয় ব্রিটিশ আমলে। মনে করা হয়ে থাকে ১৮শ শতকে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। এখনো নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয় মসজিদটি,বর্তমানে প্রতিনিয়ত ভ্রমণ পিপাসু দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর পর্যটক ঘুরতে আসে মুঘল আমলে নির্মিত বরিশালের এ ঐতিহ্য দেখতে।

ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তৎকালীন হায়াত মাহামুদ এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। মসজিদের সাথে দুটি বিশালাকার দীঘিও খনন করেন। যা মসজিদটির সৌন্দর্যকে আরো নয়নাভিরাম করে তুলেছে। মসজিদটি লম্বায় প্রায় ৭০ ফুট এবং প্রস্থে ৪০ ফুট। বলা হয় চুন, সুরকির সঙ্গে মাষকলাই ও চিটাগুড় পচিয়ে এর নির্মাণসামগ্রী তৈরি করা হয়েছিল। এর অন্যতম নির্মাণবৈশিষ্ট্য হলো, ছাদে কোনো ধরনের রড কিংবা লোহার ব্যবহার হয়নি। ইট, সুরকি ও চুনের মিশ্রণ দিয়ে তৈরি ছাদের পুরুত্ব প্রায় এক ফুট । মসজিদটি দ্বিতলবিশিষ্ট ও সম্পূর্ণ কারু কার্যমণ্ডিত। মূল মসজিদের সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে দ্বিতীয় তলায়। নিচ তলায় রয়েছে ছয়টি দরজা বিশিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা। যেখানে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য করা হয়েছে থাকার ব্যবস্থা। মসজিদের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে তিনটি দরজা।

ছাদের মাঝখানে রয়েছে বড় তিনটি গম্বুজ। মাঝেরটি সবচেয়ে বড়। ভিতরের অংশেও রয়েছে কারুকার্যময় সুন্দর নকশার সমাহার। চারপাশে পিলারের ওপর নির্মিত হয়েছে আটটি বড় মিনার। বড় মিনারগুলোর মাঝে রয়েছে ১২টি ছোট ছোট মিনার। ছোট মিনারগুলোর মাঝের স্থানকে সুন্দর কারুকার্যময় নকশা দ্বারা অলঙ্কৃত করা হয়েছে। মসজিদের দ্বিতীয় তলায় উঠার জন্য প্রশস্ত সিঁড়ি রয়েছে। সিঁড়ির নিচে দুটি বাঁধানো কবর রয়েছে। কিন্তু ওই কবর কাদের সেটা জানেন না এলাকার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হায়াত মাহমুদ সম্ভবত মালদার খাঁর ছেলে, যিনি চন্দ্রদ্বীপের রাজার সামরিক ফৌজে নিযুক্ত ছিলেন। মাহমুদও চন্দ্রদ্বীপ সামরিক ফৌজে ভর্তি হন। একবার, নিকটবর্তী চাখার এলাকার মীর ও মজুমদার জমিদার খান্দানদ্বয় চন্দ্রদ্বীপের রাজাকে অপহরণ করে। গভীর রাতে রাজাকে আজাদ করে মাহমুদ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাজা দুটি তালুক প্রদান করেন মালদার খাঁ এবং হায়াত মাহমুদকে, যা পরবর্তীতে কড়াপুরের মিঞা খান্দান (মাহমুদের বংশধরদের) দ্বারা ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া যায়। বুজুর্গ-উমেদপুর পরগণাও হায়াত মাহমুদের তালুকগুলির মধ্যে একটি ছিল ।

আরও জানা গেছে, দক্ষিণ বাংলার একজন মজবূৎ জমিদার হয়ে উঠলে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মাহমুদের মর্যাদার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। মাহমুদ বাংলায় কোম্পানির শাসন মেনে-চলতে এবং বুজুর্গ-উম্পেদপুর পরগণা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করেন। ফলস্বরূপ, ইংরেজ কোম্পানি বরিশালের সমস্ত জলপথ বন্ধ করার নির্দেশ দিলো। মাহমুদকে ডাকাত সরদার হিসাবে এলান করা হয়। কোম্পানির সিপাহীরা ১৭৮৯ খ্রীষ্টাব্দে তাঁকে বন্দী করতে সক্ষম হয় এবং তাঁকে জাহাঙ্গীরনগরের তৎকালীন নায়েব নাজিম ইংরেজপন্থী নুসরত জং-এর কাছে নিয়ে যায়। ১৭৯০ খ্রীষ্টাব্দে নায়েব নাজিম মাহমুদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পরামর্শ দেন। লর্ড কর্নওয়ালিস মাহমুদকে ব্রিটিশ মালয় প্রিন্স অফ ওয়েলস দ্বীপে নির্বাসিত করেন এবং বুজুর্গ-উমেদপুরের জমিদারি কেড়ে নেন। মাহমুদ ১৮০৬ খ্রীষ্টাব্দে আজাদী পান এবং তারপরে শান্ত জীবনযাপন শুরু করেন। কড়াপুরে ৩০ একর জমিতে বাড়ি তৈরি করেন তিনি। মাহমুদকে ১৮০৭ খ্রীষ্টাব্দে মিয়া বাড়ি মসজিদ প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব দেওয়া হয়,যদিও অল্প কয়েকজন দাবি করেছে যে মসজিদটি তাঁর ছেলে মাহমুদ জাহিদ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মাহমুদ জাকির নামে তার আরেকটি ছেলেও ছিল ।

স্থানীয় আবুল কালাম আজাদ নামের এক মসজিদের মুসল্লি চন্দ্রদীপ নিউজকে জানান, হায়াত মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি মিয়াবাড়ি মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা করেন বলে আমরা জানি । মোগল আমলের এ স্থাপনাটি দেখতে অনেক মানুষই ছুটে আসেন। কিন্তু যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সড়কটি সংস্কার না করায় যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তৎকালীন ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে নির্বাসিত হন তিনি। এ সময় তার জমিদারিও কেড়ে নেয়া হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে ফিরে তিনি এলাকায় দু’টি দীঘি ও দ্বিতল এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।

কড়াপুর মিয়াবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মো: জামাল উদ্দিন চন্দ্রদীপ নিউজকে জানান, আমি প্রায় ৩৩ বছর ধরে এই মসজিদে ইমামতী করে আছি। আমাদের পূর্বপুরুষ ও মুরুব্বিগণ বলে থাকেন এটি মোগল সম্রাটের সময় এটি নির্মাণ করা হয়েছে। আনুমানিক ৭শত বছরের আগে এটা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানেও মিয়া বাড়ির যে বংশধর তারাই এই মসজিদটি এখনো পরিচালনা করে থাকেন। এই মসজিদটি সিঁড়ির নিচে দুইটি কবর রয়েছে। তবে কেউ জানেন না এ কবর দুটি কাদের। তবে ধারণা করা হচ্ছে যারা এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা তাদের স্বামী-স্ত্রীদের দুই জনের এ কবর আবার বলে হয়ে থাকে মাহমুদ হায়াতও মাহমুদ জাহিদ তাদের দুই ভাইয়ের কবর । যারা এই মসজিদটি তৈরি করেছে তারা খুব ভালো মানুষ ছিল সেই সময় তারা মনে করছিল এই মসজিদের দোতলায় উঠতে হলে সিড়ির নিচে তাদের কবর থাকলে অনেক আল্লাহর ওলী বুজুর্গ এখানে পর্দচারণা করার কারণে আল্লাহ তাদের গুনার্হ মাফ করে দিবেন এমন অনুমাণ করে মানুষ । এ মসজিদটিতে এক সাথে ১শত মানুষের অধিক নামাজ আদায় করতে পারে। ২০১৩ সালে এটা কিছু সংস্কার করা হয়েছিল । এখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ মসজিদটি দেখতে আসেন ও অনেকেই নামাজ আদায় করেন ।

মসজিদটি দেখতে আসা রাহাত রাব্বি নামের এক দর্শনার্থী চন্দ্রদীপ নিউজকে জানান,আমার জীবনের প্রথম কোন পুরানো দিনের জিনিস দেখলাম সেটা এত কারুকার্য নকশা করা যা যত দেখি আরো বেশি ভালো লাগে । এখানে এসে জামাতে নামাজ আদায় করলাম বাহিরে গরম থাকলেও মসজিদটির ভিতরে অনেক ঠান্ডা । এটাই আমার কাছে আরো ভালো লাগলো ।

জমিদারী মিয়া বাড়ির বংশধর মো: মিজানুর রহমান চন্দ্রদীপ নিউজকে জানান, ইসলাম প্রচারের জন‌্য পারর্শ দিয়ে এসে মাহমুদ হায়াতও মাহমুদ জাহিদ এই মসজিদ নিমাণ করেছেন তাদেরও পৃর্ব পুরুষ এই জায়গায় এসে বসবাস শুরু করতেন । এখানেই ২ টা বাড়ি আমারা তাদের এই ১৩ তম বংশধর । তারা এই দেশের শাসন করে ছিল ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে কিছু নির্যাতিত হয়েছিল। অমিতপুরে তাদের আরও একটি জমিদারি ছিল সেটিও তারা নিয়ে নিয়েছিল দীপান্তরে অনেক মানুষকে তারা যাবজ্জীবন দিয়ে হত্যা করেছিল। আমাদের পূর্বপুরুষ থেকে শুনেছি পরবর্তীতে তাদের এক শাষক মাহমুদ জাহিদ উনার মুক্তির জন্য বাঁশি বাজিয়ে আন্দোলন করা হয়েছিল তখন। তারপর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এই মিয়া উপাধি এটা ব্রিটিশ রায়াই দিয়েছেন। আমাদের পূর্বের বংশ পুরুষ আসলে আগে ছিল তারা মালদার খান। ব্রিটিশদের দেওয়া নামেই থেকেই মিয়া উপাধি আমাদের বংশধররা ব্যবহার করে আছে। আমার আপন বড় চাচাও আব্দুল মান্নান মিয়াও জমিদারি করেছেন। তারপর শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের সময় জমিদারি প্রথা স্থগিত হয়। আমাদের জমিদারী চলে যায় ।

তিনি জানান, ১৯৯০ সালে আমাদের কিছুটা সমস্যা হয়েছিল তখন আমার বড় চাচা আব্দুল মান্নান মিয়া প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে এটি কিছুটা সংস্কার করেন । তারপর আমার ভাই আবার হাইকোর্টের রিট করে এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এনে ২০১৩ সালে আমারা এককভাবে সংস্কার করি । এখানে প্রতিনিয়ত দেশ ‍বিদেশ থেকে হাজাও মানুষ এই ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন নিদর্শন দেখতে আসেন বেশ কয়েক বছর আগে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ও ভারতের রাষ্ট্রদূত এই মসজিদটি পরিদর্শন করেছিলেন এছাড়াও দেশের বেশ কয়েকটি দেশের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা এখানে এসেছিলেন।




দুমকিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এনজিও কর্মকর্তা নিহত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর দুমকি- বাউফল সড়কের চরগরবদি ভাঙ্গাব্রিজ এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বিকাশ চন্দ্র রায় (৪০) নামের এনজিও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। নিহত বিকাশ চন্দ্র রায় ব্যুরো বাংলাদেশ দশমিনা ব্রাঞ্চ ব্যবস্থাপক পদে সদ্য যোগদানকারী কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) বিকেলে নিজ মোটরসাইকেলে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে উপজেলার চরগরবদি ভাঙ্গাব্রিজ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাত ইউপি সদস্যদের লিখিত অভিযোগ

খবর পেয়ে থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে তার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাত ১০ টায় দিকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের কালিকাবাড়ী এলাকায়। তার পিতার নাম বিমল চন্দ্র রায়।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ তারেক মো. আবদুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে।




পটুয়াখালীতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাত ইউপি সদস্যদের লিখিত অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড়বিঘাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আবু জাফর হাওলাদারের বিরুদ্ধে নানান দূর্নীতির অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন সাতজন ইউপি সদস্য।

সোমবার (২৫ মার্চ) দুপুর দেড়টায় এ অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানান ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ কায়সার আকন।

অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক, দূর্নীতি দমন কমিশনসহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পটুয়াখালী বরাবর দেয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ বলা হয়েছে, ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে হোল্ডিং ট্যাক্স চেয়ারম্যান তার নিজের একটি এনজিও দিয়ে আদায় করিয়ে নিজে হাতিয়ে নেন এবং ব্যাংকে জমা দেননি। ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসের মৎস ভিজিএফ এর চাল চেয়ারম্যান কম দিতে চাইলে ইউপি সদস্যরা বারণ করেন আর চাল আনতে ক্যারিং খরচ হয়েছে বলে ইউপি সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করেন চেয়ারম্যান। ৩ ও ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের থেকে টিউবওয়েল বাবদ ১৬ হাজার টাকা নেন যার টিউবওয়েল বা টাকা আজ পর্যন্ত কোনটাই ফেরত দেননি। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে আজ পর্যন্ত প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন করা হয়নি। পরিষদের আয় ও ব্যয়ের হিসাব নিকাশ আজ পর্যন্ত ইউপি সদস্যদের না দেয়া। সুবিধা ভূগীদের দেয়া সরকারি চাল ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে না রেখে চেয়ারম্যান তার বাসার সামনে নিজস্ব অফিস করে সেখানে রাখেন। গত ১ বছরেও ইউপি সদস্যদের নিয়ে পরিষদের মাসিক সভা না করা। সদস্যদের হাজিরা খাতা ও রেজুলেশন খাতা চেয়ারম্যান তার বাসায় নিয়ে রাখেন, যখন তার প্রয়োজন হয় তার পচ্ছন্দের সদস্যদের সাক্ষর নেন এবং বাকীদের সাক্ষর নেন না। বয়ষ্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার কোন তথ্যই দেন না চেয়ারম্যান, মৃত বয়ষ্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার নাম পরিবর্তন করে নিজে টাকা নেন। এছাড়াও গ্রাম্ আদালতের লোক কার্যক্রম এখন পর্যন্ত হয়নি, যাতে করে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়নের সুবিধা বঞ্চিত জনগণ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত

বড়বিঘাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবু জাফর হাওলাদার বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আসলে টিসিবির মালামাল প্রকৃত কার্ড ধারিরা পেতো না কারন ইউপি সদস্যরা বিভিন্ন লোকের ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে ছাড়িয়ে নিতো। যা তারা বাহিরে বিক্রি করত। আর এসবে বাঁধা দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনেন তারা।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা ক্ষমার অযোগ্য হবে: জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ভোটদান থেকে বিরত থাকার পর, জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ সোমবার ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। কাউন্সিলের বাকি ১৪ সদস্যই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বলেছেন, ‘এই প্রস্তাবটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ক্ষমার অযোগ্য হবে।’

অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, প্রস্তাবে ভেটো দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা দেশটির আগের অবস্থান থেকে ‘স্পষ্ট পশ্চাদপসরণ’ এবং তা ইসরাইলের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে আঘাত করবে। একই সাথে হামাসের হাতে এখনো আটক ১৩০ জনেরও বেশি বন্দীর মুক্তির বিষয়টি এটি প্রভাবিত করবে। জাতিসঙ্ঘের ভোটের পরে, নেতানিয়াহু একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ওয়াশিংটন সফর বাতিল করেছেন। দক্ষিণ গাজার রাফা শহরে পরিকল্পিত ইসরাইলি সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনার জন্য এই দলটির যাওয়ার কথা ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরাইলের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র বিভ্রান্ত হয়েছে এবং এটিকে দেশটির অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া বলে মনে করছে।

যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব কি বাধ্যতামূলক?
নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব কার্যকর করা বাধ্যতামূলক বলে জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এটিকে বাধ্যতামূলক নয় বলে দাবি করছে।
জাতিসঙ্ঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘এই অ-বাধ্যতামূলক রেজুলিউশনের কিছু জটিল উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করেছে।’ কিন্তু তিনি উল্লেখ করেন যে, ওয়াশিংটন ভাষ্যের সব কিছুর সাথে একমত নয়, যাতে হামলার জন্য হামাসেরও নিন্দা করা হয়নি।

থমাস-গ্রিনফিল্ড নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, কাউন্সিলের পরিষ্কার করা উচিত, যেকোনো যুদ্ধবিরতি অবশ্যই সব বন্দীর মুক্তির সাথে আসতে হবে। প্রথম বন্দীদের মুক্তির সাথে সাথে একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হতে পারে এবং এ জন্য অবশ্যই হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।’
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাটজ প্রস্তাব পাসের পর বলেছেন, তার দেশ এটি মেনে চলবে না। ইসরাইল হামাসকে ধ্বংস করবে এবং শেষ ইসরাইলি বন্দী দেশে ফিরে না আসা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।

গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ‘অ-বাধ্যতামূলক’ বলে মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসঙ্ঘ। জাতিসঙ্ঘের প্রধান গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সব রেজুলিউশনই আন্তর্জাতিক আইন। সুতরাং এগুলো আন্তর্জাতিক আইনের মতোই বাধ্যতামূলক।’

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেছেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলিউশন বাধ্যতামূলক। আর যদি ইসরাইল এটি বাস্তবায়ন না করতে চায়, তাহলে নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্ব হলো অধ্যায় ৭ ব্যবহার করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া।’
ভোটের পর রিয়াদ মনসুর আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, ‘এটি অবশ্যই একটি টার্নিং পয়েন্ট হবে। এটি অবশ্যই পৃথিবীতে জীবন বাঁচানোর পথে নিয়ে যাবে।’

ওয়াশিংটন-তেলআবিব দূরত্ব
গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ভোট থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরত থাকার পরে, ইসরাইল ও বাইডেন প্রশাসনের মধ্যে সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগে থেকেই দুই দেশের যুদ্ধবিরতি ও অন্যান্য বিষয়ে মতের ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট এক প্রতিবেদনে শিরোনাম করে, ‘ইসরাইল অ্যালোন’। ক্রমবর্ধমান ইসরাইলি গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইউরোপের অনেক দেশ আগে থেকে ইসরাইলকে নিঃশর্ত সমর্থন দেয়া থেকে সরে আসতে শুরু করে। সবশেষে ওয়াশিংটনও তার নিজস্ব একটি ভাবনা স্পষ্ট করতে থাকে। এটি প্রেসিডেন্ট বাইডেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন আমেরিকান সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের বক্তব্যে স্পষ্ট।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসঙ্ঘে একটি অ-বাধ্যতামূলক রেজুলিউশনকে সমর্থন করবে বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, যাতে মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাসে ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি’ করার আহ্বান থাকবে। ভোটের ঠিক আগে নেতানিয়াহুর কার্যালয় ওয়াশিংটনে একটি সিনিয়র ইসরাইলি প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল করার হুমকি দেয়। আর প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পরপরই ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাচি হ্যানেগবি এবং কৌশলগতবিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমারের সফর বাতিল করা হয়। নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে শক্তিশালী করতে এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানে আলোচনা আবার শুরু করার ভিত্তি স্থাপনের জন্য মার্কিন আহ্বানেও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

হামাসের বক্তব্য
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংস্থা হামাস জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। হামাসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিই, গাজা থেকে সব ইহুদিবাদী বাহিনী প্রত্যাহার এবং বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পদক্ষেপ দাবি করি।’

হামাস উল্লেখ করে, তারা অবিলম্বে একটি বন্দিবিনিময় প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার জন্য প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করে, যা উভয়পক্ষের দ্বারা বন্দীদের মুক্তির দিকে নিয়ে যাবে। হামাস প্রস্তাবে, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের চলাফেরার স্বাধীনতা এবং গাজা উপত্যকার সব এলাকায় ধ্বংসস্তূপ অপসারণের জন্য ভারী সরঞ্জামসহ সব বাসিন্দার সব মানবিক প্রয়োজন পূরণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে, যাতে তারা কয়েক মাস ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকা শহীদদের দাফন করতে পারে।

হামাস নিরাপত্তা পরিষদকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার জন্য এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা, যুদ্ধ ও জাতিগত নিধন বন্ধ করতে দখলদারিত্বের ওপর চাপ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। হামাস তাদের বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য আল-কুদসকে রাজধানী করে স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

কী হতে পারে?
ইসরাইলের পক্ষে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণের পর রাফায় পরিকল্পিত স্থল অভিযান চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে তেলআবিব এখনই যুদ্ধ বন্ধ করবে বলে মনে হয় না। তবে নেতানিয়াহু কোনোভাবেই তার তিন লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন না। এমনিতেই ইসরাইলের নিরাপত্তাব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দেশটির তিন স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে ইয়েমেন ও ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধারা দেশটির হাইভ্যালুড টার্গেট বেনগুরিয়ান বিমানবন্দর, হাইফা ও ইলাত বন্দর, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আঘাত করেছে। গাজায় কোনোভাবেই ইসরাইলের যুদ্ধ জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।




কদরের রাতের তালাশে মহানবী (সা.)-এর ইতিকাফ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মহিমান্বিত রমজানের এক দশক গত হয়ে দ্বিতীয় দশক চলছে। যেন রমজান মুমিনদের তার বিদায়ের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করছে। সে বলছে, আমি বিদায়ের পথে বহুদূর অগ্রসর হয়েছি। তোমার কি এখনো ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হওয়ার সময় আসেনি? অথচ প্রিয় নবী (সা.) পুরো রমজানেই ইবাদতে আত্মমগ্ন হয়ে থাকতেন।

আর দ্বিতীয় দশক এলে তিনি তাতে আরো বেশি মনোযোগী হতেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের মধ্যবর্তী ১০ দিন ইতিকাফ করেছেন। (মুয়াত্তায়ে মালিক, হাদিস : ৯)

বেশির ভাগ হাদিসের বর্ণনা মতে, নবীজি (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তবে মধ্যবর্তী দশকের মর্যাদা প্রমাণের জন্য উল্লিখিত হাদিসটি যথেষ্ট।

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করেছেন। অতঃপর মধ্যবর্তী ১০ দিন ইতিকাফ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি লাইলাতুল কদরের তালাশে ইতিকাফ করেছি। আমাকে বলা হলো, লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ দশকে।

অতএব, কেউ ইতিকাফ করতে চাইলে সে ইতিকাফ (শেষ দশকে) করতে পারে। ফলে লোকজন তাঁর সঙ্গে ইতিকাফ করল। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১১৭০৪)

আবদুল্লাহ বিন উনাইস (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, আমি লাইলাতুল কদর দেখেছি, অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব, তোমরা রমজানের শেষ অর্ধেকে তালাশ কোরো। (শরহু মাআনিল আসার : ৩/৮৮)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের ১৭ তারিখ রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৩৮৪)

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, লাইলাতুল কদরের দিনের সকাল বদরের দিনের সকালের মতোই। আর সিরাত ও মাগাজি বিশেষজ্ঞদের প্রসিদ্ধ মতানুসারে বদরের রাত ছিল ১৭ রমজান এবং দিনটি জুমার দিন ছিল। জায়িদ বিন সাবিত (রা.) ১৭ রমজানের মতো অন্য রাতে এত বেশি জেগে থাকতেন না। তিনি বলতেন, আল্লাহ বদরের দিন সকালে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন এবং কাফির নেতাদেরকে সেদিন সকালে চরমভাবে লাঞ্ছিত করেছেন।

উল্লিখিত হাদিস ও বর্ণনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত রমজানের মধ্যবর্তী দশকও ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব রাখে।




দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারী কমেছে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে পরিকল্পিত পরিবার গঠনে এক সময় দেশে সাফল্য ছিল বেশ। তবে সেই সাফল্যে যেন ছেদ পড়েছে। কমেছে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিত পরিবার গঠনের দিকে আর সরকারের দৃষ্টি নেই। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর দামও অনেক বেড়েছে। প্রচার-প্রচারণায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক ঘাটতি। আর এসব কারণে কমছে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৩ সালের ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকসে’র তথ্য বলছে, ২০২২ সালে দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ছিল ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যা পরের বছরে কমে গেছে। ২০২৩ সালে ওই হার হয়েছে ৬২ দশমিক ১ শতাংশ। বিবিএস গত রোববার এই ফল প্রকাশ করে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, শহর-গ্রাম উভয় এলাকাতেই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহাকারী কমেছে। তবে শহরের চেয়ে গ্রামে কমেছে বেশি (১ দশমিক ৩ শতাংশ)। গ্রামের ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ ২০২২ সালে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করলেও ২০২৩ সালে তা কমে হয়েছে ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ। বিবিএসের স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ফল বলছে, ২০২২ সালে শহরের ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতেন, যা ২০২৩ সালে হয়েছে ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে শহরাঞ্চলে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কমার হার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

চিকিৎসকরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ মেয়ের কিশোরী বয়সে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। তারা জানেই না, আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কী। আরেকটি বড় সমস্যা হলো, বিরাট সংখ্যক নারী মনে করে– দরকার হলে ইমার্জেন্সি পিল খেয়ে নেব। তারা জানেন না, এটি কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নয়। ইমার্জেন্সি পিল বারবার খেলে নানা সমস্যায় পড়তে হয়– তাও তারা জানেন না।’ দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারী বাড়াতে প্রচার-প্রচারণায় জোর দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।




পটুয়াখালীতে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: 

পটুয়াখালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস।

২৬ মার্চ মঙ্গলবার সকালে ডিসি স্কয়ারে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসটির শুভ সূচনা করা হয়।

সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও ‍বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কলেজের কর্মচারীকে পেটানোর অভিযোগ

ভোর ৫ টা ৫৬ মিনিটে কলাপাড়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিব্বুর রহমান মহিব।

এদিকে একই সময় শহীদদের স্মরণে জেলা কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ ও জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সসদ্য নাজনিন নাহার লাইজু ও  জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম।
এরপর জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনে নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

 




স্বাধীনতা দিবসে জনসাধারণের জন্য জাহাজ উন্মুক্ত করেছে কোস্টগার্ড

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

মহান স্বাধীনতা দিবসে সাধারণ মানুষের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পায়রা বন্দর স্টেশনের জাহাজ বিসিজিএস বগুড়া।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) বেলা বারোটায় প্রবেশাধিকার দেয়া হলে ঢল নামে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশা-বয়সের মানুষ।

এসময় কোস্টগার্ড সদস্যরা বেশ আন্তরিকতার সাথে আগত দর্শনার্থীদের কাছে জাহাজ পরিচালনা ও ব্যবহৃত অস্ত্র বিষয়ে ধারনা প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় মৎস্য সম্পদ ও নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের কাজের ধরন সম্পর্কে অবহিত করেন। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান।

আরো পড়ুন : আইসক্রিম চুরির অপবাদে ৩ শিশুকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

এসময় জাহাজে আগত দর্শনার্থীদের রকমারী খাবার দিয়ে অপ্যায়িত করে কোস্টগার্ড বিসিজিএস বগুড়া’র সদস্যরা। বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাহাজটি সবার জন্য উম্মুক্ত থাকে।

 




নতুন কারিকুলামে প্রতি বিষয়ে পাঁচ ঘণ্টার পরীক্ষা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : অভিভাবকদের দাবি মেনে নিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন কারিকুলামে মূল্যায়নের খসড়া প্রস্তুত করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি। জুন থেকেই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে বোর্ড।

খসড়া অনুযায়ী, প্রতিটি মিড টার্ম ও চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে পাঁচ ঘণ্টার। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে অন্য কেন্দ্রে। আর চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষা হবে নিজ স্কুলে। এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলবে। এতে ছয়টি সেশন থাকবে। চার ঘণ্টা থাকবে ব্যবহারিক। মিডটার্ম ও বার্ষিক চূড়ান্ত পরীক্ষায় সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে। ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে নতুন কারিকুলামের আলোকে।

জানা গেছে, রোববার (২৪ মার্চ) শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে খসড়াটি করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগের পদ্ধতিতে আর পরীক্ষা হবে না। এটিকে মূল্যায়ন বলা হচ্ছে।

এ তথ্য জানিয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: ফরহাদুল ইসলাম বলেছেন, রোববার (২৪ মার্চ) মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সভা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সভায় পরীক্ষা পদ্ধতি ফেরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আরেকটি সভা করে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

জানা গেছে, নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির পরীক্ষায় মার্কিং (চিহ্নিত) করার নিয়ম থাকবে না। রিপোর্টিং ভালো, অর্জনের পথে এবং প্রাথমিক পর্যায় এমন তিনভাগে ফলাফল হবে। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মিডটার্ম ও ফাইনাল পরীক্ষা হবে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন হবে চূড়ান্ত পরীক্ষার মাধ্যমে।

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০টি সাধারণ বিষয় পড়তে হবে। এসএসসি পরীক্ষা হবে দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রমের ওপর। আর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রতি বছর দু’টি পাবলিক পরীক্ষা হবে। গত বছর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। চলতি বছর দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে এবং আগামী বছর চতুর্থ, পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে চালু হবে এ নিয়ম। এর আলোকে ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা হবে।