কোনো কালেই কপালে সুখ জুটলো নায় পটুয়াখালীর আদুরীর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘কোনো কালেই আমার কপালে সুখ জুটলো না! ছোটবেলায় বাবাকে হারালাম। ঢাকায় পরের বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলাম। ইচ্ছে ছিল পড়ালেখা শিখে মানুষের মতো মানুষ হবো। কিন্তু অভাবের কারণে তা আর হলো না। মা-ভাই দেখেশুনে বিয়ে দিলো। সেখানেও শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতন। এখন স্বামী-সন্তান নিয়ে ভাইয়ের ঘরে থাকি। ঠিকমতো খাবারও পাই না। নিজেদের মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই আর ছেলেটাকে যদি মানুষ করতে পারতাম, তাহলে জীবনে আর কিছু চাইতাম না।’

এ ভাবেই নিজের দুঃখের কথা বলছিলেন আদুরী বেগম।

২০১৩ সালে ঢাকার পল্লবীতে গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সংবাদপত্রের শিরোনাম হন আদুরী বেগম। এ ঘটনায় সে বছর ২৬ সেপ্টেম্বর পল্লবী থানায় গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদী, তার স্বামী সাইফুল ইসলাম মাসুদ, মাসুদের ভগ্নিপতি চুন্নু মিয়া ও তাদের আত্মীয় রনিকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন নওরীন।

আরো পড়ুন : সুলতান আহমেদ হাওলাদারের দাফন সম্পন্ন 

আদুরীর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের জৈনকাঠি গ্রামে। তারা নয় ভাই-বোন। তার বয়স যখন ছয় বছর, তখন বাবা খালেক মৃধা মারা যান। অভাবের সংসারে দু’মুঠো ভাতের জন্য গ্রামের চুন্নু মিয়ার কাছে আদুরীকে কাজের কথা বলেন তার মা। চুন্নু মিয়া প্রথমে বরিশালের শায়েস্তাবাজার এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে কাজ দেন আদুরীকে। সেখানে এক বছর কাজ করার পর তিনি ঢাকার পল্লবীতে তার শ্যালক সাইফুল ইসলাম মাসুদের বাসায় আদুরীকে কাজ দেন।

আদুরী বলেন, ‘তখন আমি খুব ছোট ছিলাম। ঠিক মতো কাজ করতে পারতাম না। সবসময় কারণে-অকারণে আমাকে মারধর করতো। ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাঁকা দিত, আগুন দিয়ে জিহ্বা পুড়িয়ে দিয়েছে। ব্লেড দিয়ে হাত-পা কেটে দিয়েছে। আমাকে বাসি, পচা ভাত দিত। তার মধ্যে অনেক লবণ দিয়ে রাখতো যাতে আমি খেতে না পারি। আদা বাটা, রসুন বাটা জোর করে খাওয়ানো হতো। এখনও সারা শরীরে মাঝে মাঝে ব্যথা করে। ভাত খেতে পারি না, গলা ও পেট জ্বলে। জিহ্বা পুড়িয়ে দেওয়ার কারণে স্পষ্ট করে কথা বলতেও কষ্ট হয়।’

আদুরীর পরিবারের লোকজন জানান, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে থাকাকালীন আদুরীর ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এ সময় গৃহকর্তী নওরীন জাহানের তীব্র রোষের শিকার হয় সে। খাবার এবং পুষ্টির অভাবে কঙ্কালসার হয়ে পড়ে ছোট্ট আদুরী। ওই বছর ২৩ সেপ্টেম্বর নির্যাতনের পর মারা গেছে ভেবে আদুরীর ক্ষত-বিক্ষত দেহ রাতের অন্ধকারে পল্লবী এলাকার একটি ডাস্টবিনে ফেলে রেখে যায় নওরীন। পরদিন সকালে ডাস্টবিন থেকে আদুরীকে উদ্ধার করেন লিলি আক্তার নামে এক পথচারী। পরে খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ আদুরীকে নিয়ে যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে তার চিকিৎসা চলে। গঠন করা হয় মেডিক্যাল বোর্ড। এক মাস চিকিৎসা শেষে আদুরী বাড়ি ফিরে আসে।

আরো পড়ুন : ছুটিতে হল বন্ধ করায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

আদুরী বর্তমানে স্বামী ও দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে তার ভাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। ২০২২ সালে পার্শ্ববর্তী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মো. ইমরানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতেও সুখ জোটেনি আদুরীর কপালে।

আদুরী বলেন, ‘শ্বশুর-শাশুড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে এক বছর আগে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছি বড় ভাই জুয়েলের ঘরে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরটি ছোট। এখানে-ওখানে ভাঙা। এই ভাঙা ঘরেই নয়জন মানুষকে থাকতে হচ্ছে। করতে হচ্ছে মানবেতর জীবনযাপন।

আদুরী জানান, তার স্বামী জেলে। এখন সাগর ও নদীতে মাছ কম পাওয়ায় আরো অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তার।
তিনি ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার কপালে আল্লাহ সুখ রাখেননি। সেদিন ডাস্টবিনে যখন পড়ে ছিলাম, একেবারে মরে গেলেই হয়তো ভালো হতো। এখনও অশান্তির শেষ নাই। স্বামীর জালে মাছ উঠলে কপালে ভাত জোটে, না হলে না খেয়ে থাকতে হয়।’

আদুরীর প্রতিবেশী রহমান খা বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসীরা টাকা তুলে আদুরীকে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতেও তার সুখ হয়নি। মেয়েটা জনমদুঃখী।’

হোসনেয়ারা নামে আরেক প্রতিবেশী বলেন, ‘ওর (আদুরীর) স্বামী সাগরে মাছ না পেলে এখনও অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। আমারা প্রায়ই সহযোগিতা করি। তার একটা থাকার ঘর খুব দরকার। সমাজের বিত্তবানরা আদুরীর পাশে দাঁড়ালে তার সন্তানের লেখাপড়াও হতো, পরিবারও ভালোভাবে চলতে পারতো।’

পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব দাশ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।’

আরো পড়ুন : কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে মৃত জোড়া কচ্ছপ

মামলার রায় : আদুরীকে নির্যাতনের মামলার রায়ে গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা আনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমদ্দার এ রায় ঘোষণা করেন। তবে বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির জন্য রয়েছে।




কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে মৃত জোড়া কচ্ছপ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে এবার পাওয়া গেল দু’টি মৃত কচ্ছপ। যার একটির ওজন প্রায় ৪০ কেজি অন্যটির ওজন ৩৫ কেজি।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা সৈকতের পশ্চিম দিকে কচ্ছপ দু’টিকে দেখতে পান কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য কেএম বাচ্চু। কচ্ছপ উদ্ধারের পরে কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি, বনবিভাগ ও ইকোফিশের সমন্বয়ে মাটিচাপা দেয়া হয় কচ্ছপ দুটিকে।

উপকূলের পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ-২ বাংলাদেশ প্রকল্পের সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, মূলত কদিন আগে জেলিফিশের আদিক্যটা বেড়ে যাওয়া কারনে ওরা তীরে আসতে পারে কারন এই কাছিমগুলোতে জেলিফিশ খেতে পছন্দ করে। আজকে যে কাছিম দুটি আসছে তার বৈজ্ঞানিক নাম লেপিডোসেলিম ওলিভাসিয়া (Lepidochelys olivacea) এরা সাধারণত ৫০ বছরের অধিক সময় বেঁচে থাকে। আমাদের কর্মীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কচ্ছপগুলোর পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে কেউ আঘাত করেছে তাতে ওদের মৃত্যু হচ্ছে।

আরো পড়ুন : ছুটিতে হল বন্ধ করায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য আবুল হোসেন রাজু জানান, একটি কচ্ছপের লেজে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং রক্তক্ষরণ হচ্ছে, মনে হচ্ছে কোনকিছুর সাথে আটকে মারা গেছে। সামুদ্রিক প্রাণীর এই মৃত্যুগুলো আমাদের সমুদ্র পরিবেশের জন্য বেশ হুমকি।

বনবিভাগ মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্যদের কাছে তথ্য পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে আমার ফোর্সসহ দ্রুত চলে আসি। একটি কচ্ছপ একটু দূর্ঘন্ধ ছড়াচ্ছে তাই তাঁদের সহযোগীতায় মাটি চাপা দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।




বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন নষ্ট হয় ১০০ কোটি টনের বেশি খাবার : জাতিসংঘের প্রতিবেদন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্বের ৮০ কোটি মানুষ যখন না খেয়ে আছে, তখন বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন ১ বিলিয়নেরও (১০০ কোটি টন) বেশি খাবার নষ্ট হচ্ছে। জাতিসংঘের প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর সিএনএন।

জাতিসংঘের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে ২০২২ সালে ১০০ কোটি টনের বেশি খাবার নষ্ট হয়েছে। বেশির ভাগ খাবার অপচয় হয়েছে বাসাবাড়িতে। খাবার অপচয়ের এ ঘটনাকে উল্লেখ করা হয়েছে ‘বৈশ্বিক ট্র্যাজেডি’ হিসেবে। অপচয় হওয়া খাবার বিশ্ববাজারে আসা উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

ডব্লিউআরএপির কর্মকর্তা রিচার্ড সোয়ানেল বলেন, এটা আমাকে হতভম্ব করে দিয়েছে। আসলে প্রতিবছর দিনে একবেলায় যত খাবার নষ্ট হয়, শুধু তা দিয়েই বর্তমানে অনাহারে থাকা প্রায় ৮০ কোটি মানুষের সবাইকে খাওয়ানো সম্ভব। অথচ লাখ কোটি ডলার মূল্যের খাবার প্রতিদিন ময়লার ঝুড়িতে ফেলা হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ইনগার অ্যান্ডারসন বলেন, খাবার অপচয় বৈশ্বিক ট্র্যাজেডি। এ ধরনের অপচয় হওয়ার বড় কারণ, মানুষ তাদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার কিনছে। এ ছাড়া তারা কতটুকু খেতে পারবে, তার আন্দাজ করতে পারছে না। এতে খাবার উচ্ছিষ্ট থেকে যাচ্ছে।




এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী হামাস

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের যুদ্ধ করার সক্ষমতা এখনো অটুট রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব দ্য ওয়ার (আইএসডব্লিউ)।

সংস্থাটি বলেছে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছাকাছি অবস্থানরত ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে অন্তত ৭০ বার হামলা চালিয়েছেন হামাসের যোদ্ধারা। গত বছর আল-শিফায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর মার্চের শুরুতে আবারও সেখানে ফিরে আসে ইসরাইলের দখলদার সেনারা। এসব হামলার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে হামাসের সক্ষমতা এখনো কমেনি।

এ ব্যাপারে এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, হামলার তীব্রতা ইঙ্গিত করছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীটির যুদ্ধ করার সক্ষমতা অটুট রয়েছে, যদিও ওই স্থানে ইসরাইলি সেনারা অব্যাহত অভিযান চালিয়েছে।

বর্তমানে আল-শিফার আশপাশে হামাসের অন্তত ছয়টি দল ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।

এর আগে গত ৩ মার্চ গাজার জেইতুন নামক একটি অঞ্চল থেকে হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল করার দাবি করেছিল ইসরাইল। তবে গতকাল বুধবার সেখানে আবারও ইসরাইলি সেনারা ফিরে আসে। যার অর্থ গাজা সিটির অন্যান্য অঞ্চলে যেভাবে হামাসের যোদ্ধারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঠিক একইভাবে জেইতুনেও তাদের কার্যক্রম চলছে।

গত ৭ অক্টোবর হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রায় ৩৩ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

গাজা থেকে হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল করার ঘোষণা দিয়ে ছোট্ট এ উপত্যকায় ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি সেনারা। তবে তারা এই ক্ষেত্রে এখনো সফল হতে পারেনি।




খালের পানিতে ডুবে প্রতিবন্ধি যুবকের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে গোসল করতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে জহিরুল ইসলাম(২১) নামের এক প্রতিবন্ধি যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ময়দা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত জহিরুল ওই গ্রামের ইউনুস হাওলাদারের ছেলে ও সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক পাইলট বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রত্যাশী ছিলেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতির ইন্তেকাল

পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, জন্ম থেকেই জহিরুল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও বায়ুরোগ আক্রান্ত ছিলেন। ঘটনার সময় সে ঘরের দক্ষিণ পাশে খালে গোসল করতে যায়। কিছুক্ষণ পর চাচাতো নানা শাহজাহান মৃধা গোসল করতে গিয়ে জহিরুলের জুতা লুঙ্গি ঘাটের উপরে দেখে তাকে ডাকাডাকি করে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে তার মাকে জানায়। জহিরুলের মা, মামাতো ভাই নান্টুকে নিয়া খালে খোঁজাখুজি করে ডুবন্ত অবস্থায় তার মৃত দেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।




পটুয়াখালী জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতির ইন্তেকাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান ও পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম রুহুল আামীন হাওলাদারের বড়ভাই জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ্জ সুলতান আহম্মেদ হাওলাদার ইন্তেকাল করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুকালে সুলতান আহম্মেদের বয়স হয়েছিল ৭৭বছর। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ঢাকার গুলশান আজাদ মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের ১ম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় দুমকি সরকারি জনতা কলেজ মাঠ ও বিকেল ৪টায় নিজ গ্রামের বাড়ি আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচরে ২য় ও তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

মরহুমের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি, বেগম রওশন এরশাদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আফজাল হোসেন, জেলা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাফর উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক খান, পটুয়াখালী জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শ্রমিক লীগ সভাপতির সংবাদ সম্মেলন



পটুয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শ্রমিক লীগ সভাপতির সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলার মহিপুর থানা শ্রমিকলীগের সভাপতি আবুল কালাম ফরাজী।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মো. আবুল কালাম ফরাজী লিখিত বক্তব্য বলেন, আমি জাতীয় শ্রমিক লীগ মহিপুর থানা শাখার সভাপতি হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছি। আমার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোন অপরাধনীতি করি নাই। কিন্তু আপনারা জানেন, লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক বহিষ্কারের সুপারিশ প্রাপ্ত এবং লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আনসার উদ্দিন মোল্লা গত ২৫ মার্চ আলিপুরস্থ বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করেছেন। ২৪ মার্চ গভীর রাতে তার বাসভবনে হামলা হয়েছে এমন দাবি করে আমি ও আমার লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। আমি যতটুকু খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি যে তার বাসভবনের হামলার ঘটনা সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। আমি ও আমার লোকজনকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চক্রান্তে এমন নাটক সাজানো হয়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীর বাউফলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ, বিপাকে যাত্রীরা 

তিনি আরো বলেন, গত ২৭ মার্চ মহিপুর থানায় জিআর ৩৪/২৪ নং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার বাদী জোলেখা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা যারা আনছার উদ্দিন মোল্লা সকল অপকর্মের সহযোগী ও অনুসারী। দায়েরকৃত মামলায় আমাকে সহ আমার রাজনৈতিক সহকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেছে। দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের মধ্য দিয়ে প্রত্যাহারের দাবি করছি।

আবুল কালাম ফরাজী বলেন, মামলার এজাহারে উল্লিখিত ঘটনার সাথে আমিও আমার লোকজনের কোন সম্পৃক্ততা নাই। আমি ও আমার লোকজন প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল না মর্মে দূঢ়ভাবে আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই। আনসার উদ্দিন মোল্লা ইউনিয়নের অপরাধনীতির মূল হোতা এবং মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করতে পারদর্শী বলেও মন্তব্য করেন।




পটুয়াখালীতে সাশ্রয়ী মূল্যে দুধ, ডিম, মাংস বিক্রয় শুরু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পবিত্র রমজান উপলক্ষে প্রাণিজ আমিষ নিম্ন আয়ের জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ন্যায্যমূল্যে গরুর মাংস, দুধ ও ডিম বিক্রি কার্যক্রম শুরু  হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো: নূর কুতুবুল আলম।

এখান থেকে গ্রাহক প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ টাকা, ১ লিটার দুধ ৬৫ টাকা ও এক ডজন ডিম ১১০ টাকা হারে ক্রয় করতে পারবে।

এদিকে সুলভ মূল্যে মাংস, দুধ ও ডিম কিনতে পেরে সাধারাণ মানুষ তাদের স্বস্তির কথা জানিয়েছে।

অটোচালক আবুল বাশার জানান, ৬৫০ টাকা করে ২ কেজি গরুর মাংস কিনতে পেরে আমি খুবই খুশি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, ডেকে নিয়ে প্রেমিককে খুন করেন স্বামী

ন্যায্যমূল্যে দুধ, ডিম এবং গরুর মাংস কিনতে আসা আমান উল্লাহ জানান, রমজান ছাড়াও মাসে কমপক্ষে দুইবারও যদি এই কার্যক্রম চালু রাখে তাহলে আমরা একটু হলেও স্বস্তি পেতাম।

গৃহীনি বুশরা বেগম জানান, প্রতিটি ডিমের দাম ৯ টাকা শুনে নিতে এলাম। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের কম দামে দুধ, ডিম দেওয়ার জন্য।

পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: ফজলুল হক সরদার জানান, সরাসরি স্থানীয় খামারিদের সম্পৃক্ততায় এই কার্যক্রম। আমাদের দেশে রমজান আসলেই দ্রব্যমূল্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ অসুবিধায় পড়েন। রমজানে আমিষের ঘাটতি পূরণ করতে পারেন না। সেই বিবেচনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসক এবং জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

আরো পড়ুন : ১৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে পবিপ্রবি



স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, স্বামীর হাতে বৃদ্ধ প্রেমিক খুন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

র্দীঘদিন থেকেই ফয়জর মোল্লা ওরফে হুমায়ন কবিরের স্ত্রী মোসা. রুনা বেগমের সঙ্গে অবৈধ সর্ম্পকে লিপ্ত ছিলেন ৬৫ বছরের আবু জাফর মোল্লা। একাধিকবার বাধা দেওয়া সত্ত্বেও স্ত্রীর প্রেমিক জাফরকে ফেরাতে পারেননি হুমায়ন কবির। যা নিয়ে হুমায়ন কবির ও রুনার সঙ্গে কলহ চলছিল।

তাই জাফরকে মারধরের সিদ্ধান্ত নেন হুমায়ন কবির। এতে স্ত্রী রুনা বেগম প্রথম দিকে রাজী না হলে তাকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে বশে আনেন।

পরিকল্পনামতে গত ১১ মার্চ সন্ধ্যায় জাফরকে ফোনকলে বাড়ির পেছনে দেখা করতে বলেন রুনা। প্রেমিকার ফোনকলে নির্ধারিত সময়ে হাজির হন জাফর।

এ সময় জাফর-রুনার মাঝে নানান কথার এক পর্যায়ে রুনা কৌশলে প্রেমিককে মাঠের মাঝে নিয়ে যান। এ সময় হুমায়ন কবির উপস্থিত হয়ে জাফরকে মাটিতে শুয়ে হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। আদালতে এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন হুমায়ন কবির ও রুনা বেগম।

আরো পড়ুন : গাজায় নিহত আরও ৭৬, প্রাণহানি বেড়ে প্রায় ৩২৫০০

ঘটনার বরাত দিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. জসীম বলেন-স্থানীয় গ্রাম পুলিশের দেওয়া সংবাদে গত ১২ মার্চ সদর উপজেলার জৈনকাঠি ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রাম থেকে আবু জাফরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাফর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এমন ধারণা করে পোষ্টমর্টেম করাতে অনিচ্ছুক ছিল পরিবার। কিন্তু মৃত্যুর বিষয়টি সন্দেহজনক হলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করলে অ্যাডিশনাল এসপি সাজেদুল ইসলাম সজল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ পোষ্ট মর্টেমের সিদ্ধান্ত দেন। পোস্টমর্টেম শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে এবং নিহতর ছেলে কবির মোল্লা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা করে মামলা করেন।

এরপর বিষয়টি উদঘাটন করতে অ্যাডিশনাল এসপি সাজেদুল ইসলাম সজল নির্দেশনায় এলাকায় নিবিড়ভাবে খোঁজখবর নিলে জাফর-রুনার অবৈধ সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় খুনের ঘটনায় ফয়জর-রুনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ২৭ মার্চ দিবাগত রাতে অভিযুক্তদের বসতবাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেন এসআই দিপায়ন বড়াল।

আটকের পর বুধবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সমীর মল্লিকের আদালতে হাজির করলে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার স্বীকার করেন স্বামী-স্ত্রী।

আদালতে স্বামী-স্ত্রী স্বীকারোক্তিতে বলেন, জাফরকে খুন করার উদ্দেশ্য ছিল না তাদের। কিন্তু ঘটনাক্রমে খুন করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

এসআই দিপায়ন বড়াল জানান, নিহত জাফর মোল্লা চার মেয়ে ও এক ছেলের বাবা এবং রুনা বেগম এক ছেলে ও দুই মেয়ের জননী ছিলেন।

আরো পড়ুন : বাবা-মায়ের যে ৫ ভুলে শিশু হয়ে ওঠে জেদি



আইপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হায়দরাবাদের

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : চার-ছক্কার বৃষ্টিতে আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড গড়ল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। বুধবার রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭৭ রান তুলেছে প্যাট কামিন্সের দল।

এর আগে আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ১০ ওভারে সর্বোচ্চ রানের ইতিহাসও গড়ে হায়দরাবাদ। হার্দিক পান্ডিয়াদের বিপক্ষে প্রথম ১০ ওভারে ১৪৮ রান তোলেন হেড-অভিষেকরা। এতদিন সেই রেকর্ড ছিল মুম্বইয়ের দখলে। ২০২১ সালে সানরাইজার্সের বিপক্ষে ১০ ওভারে ১৩১ রান তুলেছিল মুম্বাই। তালিকার যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছে পাঞ্জাব কিংস। ২০১৪ সালে হায়দরাবাদের বিপক্ষেই ১৩১ রান তুলেছিল তারা।

এদিকে পুরো ইনিংসের হিসেব করলে সানরাইজার্সের আগে সর্বোচ্চ রান ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দখলে। ২০১৩ সালে পুনে ওয়ারির্সের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ২৬৩ রান তুলেছিল বেঙ্গালুরু। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লখনৌ সুপার জায়ান্টস। ২০২৩ সালে পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ২৫৭ রান তুলেছিল লোকেশ রাহুবের দল। পরের অবস্থানটিও বেঙ্গালুরুর। ২০১৬ সালে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে ৩ উইকেটে ২৪৮ রান করেছিলেন বিরাট কোহলিরা।