১ সপ্তাহে পটুয়াখালীর হাসপাতালে ভর্তি ২৬৪ ডায়রিয়া রোগী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে হঠাৎ করে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত এক সপ্তাহে প্রায় তিনশ রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। তবে দিন যত যাচ্ছে গরমের সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গত এক সপ্তাহে ২৬৪ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ডায়রিয়ায় আক্রন্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এমন রোগীর সংখ্যাও কম নয়।

এদিকে ডায়রিয়া রোগীর চাপে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাসপাতালের মেঝে থেকে শুরু করে হাঁটার পথ, বারান্দা সবখানেই অস্থায়ী বিছানা পেতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে মশা-মাছি এবং নোংরা পরিবেশের কারণে ভোগন্তিতে আছেন আগত রোগী এবং তাদের স্বজনরা।

আরো পড়ুন : স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী এলাকার রোগী আয়শা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই পাতলা পায়খানা এবং বমি শুরু হয়। রাতে পাঁচ থেকে ছয়বার টয়লেটে যাওয়ার পর সকালে আর দাঁড়ানোর শক্তি ছিল না। এরপর সরাসরি পটুয়াখালী হাসপাতালে এসে ভর্তি হই। সেই থেকে স্যালাইন চলছে। এখন শরীর কিছুটা ভালো। তবে হাসপাতালে কোনো বেড পাইনি, তাই বারান্দায় ফোম বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমাদের বাড়িতে আরও কয়েকজনের এমন পরিস্থিতি হয়েছে। তবে তারা বাড়িতেই চিকিৎসা করাচ্ছে।

একই কথা জানান কলাপাড়া থেকে আসা রোগী ইসমাইল ফরাজী। তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হইছি, কিন্তু কোনো সিট খালি নেই। রাস্তার পাশে ছিট লাইচ্চা স্যালাইন ফুরতেছি। স্যালাইন-ওষুধ হাসপাতালই দেছে। তয় মশা মাছির কারণে টেকতে পারছি না। চার দিকে গন্ধ আর প্রচণ্ড গরম, ভোগান্তির যেন শেষ নাই।

পটুয়াখালী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত সাত দিনে জেলায় ২৬৪ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন উপজেলায় ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে বাউফল উপজেলায় ২৯ জন, দশমিনা উপজেলায় ২৬ জন, দুমকি উপজেলায় ১৮ জন, মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১২ জন, কলাপাড়া উপজেলায় ৩২ জন, গলাচিপা উপজেলায় ৩৪ জন এবং পটুয়াখালী সদরে ১১৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

আরো পড়ুন : ডাকাতিসহ ১২ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

এছাড়া গত ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলায় ২১০৩ জন রোগী ডায়রিয়া আক্রন্ত হয়ে চিকিৎসা নিলেও কোনো রোগী ডায়রিয়া আক্রন্ত হয়ে মারা যাননি।

পটুয়াখালী সিভিল সার্জন এস এম কবির হাসান বলেন, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিগত বছরগুলোতেও এমন ভাবে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। এসব বিষয় মাথায় রেখে ডায়রিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সকলের খাবার গ্রহণ এবং পানি পানের ক্ষেত্রে এই সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পরিস্তিতি এখনও আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। খাবার স্যালাইনসহ অনান্য ওষুধেরও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

অপরদিকে ডায়রিয়ার পাশাপাশি জেলায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে ১৬২ জন নিউমোনিয়ায় আক্রন্ত হয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। তবে ডায়রিয়া কিংবা নিউমোনিয়ায় এ বছর জেলায় কোনো রোগী এ পর্যন্ত মারা যাননি।




রোলেক্স ঘড়ি ব্যবহার করায় প্রেসিডেন্টের বাড়ি তল্লাশি!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চরম বিপাকে পড়েছেন পেরুর প্রেসিডেন্ট দিনা বালুয়ার্তে (৬১)। রোলেক্স ঘড়ির খোঁজে তার বাসভবনে চলেছে জোর তল্লাশি। বিলাসবহুল ঘড়ির ব্যবহারে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বালুয়ার্তের বিরুদ্ধে।

শনিবার সকালে তার প্রেসিডেন্ট বাসভবনের সামনে জড়ো হয়েছিল ৪০ কর্মকর্তা।অভিযোগ অনুযায়ী, দামি ঘড়ির সংগ্রহ গোপন রেখেছিলেন তিনি। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ল্যাটিনাতে পুলিশ ও প্রসিকিউটর অফিসের যৌথ অভিযানের খবর প্রচার করা হয়।

জানা যায়, ৭ ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি। প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, রাজধানী লিমায় অবস্থিত বাসভবনটি ঘেরাও করে তদন্তকারী দল।খবর আলজাজিরার।
বাসভবনটি ঘেরাও করার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তার ট্রাফিক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় প্রেসিডেন্টকে তার বাসভবনে দেখা যায়নি।

পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিচার বিভাগের অনুমোদন নিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে নানা ধরনের রোলেক্স ঘড়ি ব্যবহার করেছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের পর চলতি মাসে কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তবে পুলিশের এমন কাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান বালুয়ার্তে।

তল্লাশির এই পদক্ষেপকে ‘স্বেচ্ছাচারী, অসামাঞ্জস্যপূর্ণ এবং অপমানজনক’ বলে অভিহিত করেন। এরপর সরকারি বেতনে এমন বিলাসবহুল ঘড়ি কিভাবে ব্যবহার করা সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এগুলো ১৮ বছর থেকে করা পরিশ্রমের ফসল। দুর্নীতির অভিযোগের পর থেকেই বালুয়ার্তের পদত্যাগের দাবি ওঠে। কিন্তু পদত্যাগের বিষয়টিকে নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট নিজেই।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কার হাতে অফিস গ্রহণ করেছি এবং পরিষ্কার হাতেই ২০২৬ সালে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অবসর নেব।’ পেরুর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট দিনা বালুয়ার্তের জনপ্রিয়তা এমনিতেই কমতির দিকে রয়েছে। এরই মধ্যে দুর্নীতির এ তদন্তের কারণে নতুন করে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়লেন তিনি।




রমজানের শেষ দশক নাজাতের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পবিত্র রমজানের শেষভাগে উপনীত আমরা। এই দশককে নাজাত বা মুক্তির দশক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে হাদিসে। রমজানের শেষ ১০ দিনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কারণ এই দশকেই রমজানে প্রকৃত প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। এই দশকের বিজোড় কোনো রাতে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এই দশকের গুরুত্বপূর্ণ আমল ইতেকাফ। আল্লাহকে পাওয়ার জন্য এই আমলের কোনো বিকল্প নেই। এই দশকেই আদায় করা হয় সদকাতুল ফিতর। অনেকে রমজানের শেষ দশকে জাকাতও আদায় করে থাকেন। রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের বার্তা নিয়ে আসা রমজানুল মোবারকের প্রকৃত প্রতিদান এই দশকেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ জন্য আগের দুই দশকের তুলনায় শেষ দশকটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমলের ক্ষেত্রে সারা মাসে যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেটা এই দশকে পূরণ করা সম্ভব।

নবী করিম (সা.) রমজানের শেষ ১০ দিনের ব্যাপারে খুবই গুরুত্ব দিতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি রমজানের তৃতীয় দশকে এমন কঠোর পরিশ্রম করতেন, যা অন্য সময়ে করতেন না, (মুসলিম)।  হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রমজানে ১০ দিন ইতেকাফ করতেন। কিন্তু যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেছেন, সে বছর ২০ দিন ইতেকাফ করেন (বুখারি)। জয়নব বিনতে উম্মে সালমা (রা.) বলেন, রমজানের যখন ১০ দিন বাকি থাকত তখন রাসুলুল্লাহর (সা.) পরিবারের যে কেউ নামাজে দাঁড়াতে সক্ষম হলে তাকে তিনি নামাজে দাঁড় না করিয়ে ছাড়তেন না (তিরমিজি)।  নবীজি রমজানের শেষ দশকে সারাবছরের তুলনায় অনেক বেশি ইবাদত করতেন এবং পরিবারবর্গকেও ইবাদতের প্রতি উৎসাহ দিতেন।

রমজানের শেষ দশকে যথাসম্ভব বেশি ইবাদত করতে হবে। বিশেষত, এই দশকের বিজোড় রাতগুলোতে রমজানের অন্যান্য রাতের তুলনায় বেশি বেশি ইবাদত, নফল নামাজ, তাসবিহ-তাহলিল ও কোরআন তেলাওয়াত করা প্রয়োজন। ২৭ রমজানের রাতকে সম্ভাব্য শবেকদর ধরে ইবাদত-বন্দেগি করা হলেও অন্যান্য বিজোড় রাতে শবেকদর হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এ জন্য অন্তত এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা গেলেও সারারাত নামাজ পড়ার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাতের সঙ্গে পড়ল, সে যেন সারারাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ল (মুসলিম)।
রমজানে জামাতে নামাজ পড়ার ব্যাপারে আন্তরিক হতে হবে। এ ছাড়াও প্রতি রাতে তাহাজ্জুদ পড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমল। আট রাকাত না পারলে চার রাকাত। তাও সম্ভব না হলে অন্তত দুই রাকাত তাহাজ্জুদ যেন বাদ না পড়ে। পাশাপাশি এই দশকে বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এই মাসে প্রতিমুহূর্তে আল্লাহর রহমতের ধারা প্রবাহিত হতে থাকে। কখন যে দোয়া কবুল হবে, কেউ বলতে পারে না। এই দশকে দান-সদকাও বেশি বেশি করতে হবে। কেননা, এই মাসে এক টাকা দান করলে ৭০ টাকা দানের সওয়াব পাওয়া যায়।

পবিত্র রমজানের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকতে হবে। পাশাপাশি নিজের পাপরাশি ক্ষমা করিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে হতে হবে আন্তরিক। তবেই নিশ্চিত হবে রমজানের প্রাপ্তি।




বাংলাদেশে সফল প্লাস্টিক সার্জারি ভুটানের তরুণীর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ভুটানের তরুণী কারমা দেমা (২৩)। ৮/১০ বছর আগে তার নাকে ক্যান্সার হয়েছিল। ভারতের বিখ্যাত টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি ভর্তি হন। সেখানে তার নাকে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। পোস্ট রেডিয়েশনের কারণে তার নাকের ভিতরে পচন ধরে যায়। পরে বাম হাত থেকে মাংস ও বাম পাজরের হাড় নিয়ে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়। দুই বার অস্ত্রোপচার (প্লাস্টিক সার্জারি) করেও সুফল পাননি। এক পর্যায়ে অপারেশনের পর তার নাকের ভিতরে কিছু কিছু জায়গায় পচন ধরে। অর্থাৎ অপারেশন ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে এসে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ নাক ফিরে পেলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভুটান সরকার যৌথভাবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে থিম্পুতে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের মাধ্যমে একটি প্লাস্টিক সার্জারি ক্যাম্পের আয়োজন করেছিলেন। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন ১৪ সদস্যের এই চিকিৎসক দলের নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি বার্ন ইনস্টিটিউটগুলোর জাতীয় সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করছেন। সাত দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে ১৬টি জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছিল। ওই ক্যাম্পে নাকের চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন কারমা দেমা।

প্লাস্টিক সার্জনরা তাকে দেখে বলেন, এখানে চিকিৎসা সেবা দেওয়া এই সময়ের মধ্যে সম্ভব না। দীর্ঘ সময় লাগবে। তবে আমাদের দেশে এটি সম্ভব। তখন ডা. সামন্ত লাল সেনকে অনুরোধ করে তারা। ওই দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও কথা বলেন। দেশে গিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলে জানানোর আশ্বাস দেন ডা. সামন্ত লাল সেন। বিদেশি নাগরিককে জাতীয় প্রতিষ্ঠানে এনে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা আছে। এরপর ভুটান ও বাংলাদেশ সরকার কারমার চিকিৎসা শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে করার বিষয়ে একমত হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি কারমার অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁর শরীরের ডান হাত থেকে মাংস ও ডান পাজরের হাড় নিয়ে নাক পুনর্গঠন করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারে সময় লেগেছিল আট ঘণ্টা। ডা. সামন্ত লাল সেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই অস্ত্রোপচারে নেতৃত্বে ছিলেন ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রদীপ চন্দ্র দাস। নাক সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করতে আরও একবার ছোট অপারেশন করতে হবে। এ জন্য কারমাকে দুই মাস পরে আসতে বলা হয়েছে। নাকের বাকা অংশগুলো সোজা করে দেবে, নাক আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কেউ বুঝতে পারবে না, তার নাকে ক্যান্সার হয়েছিল। কিছু দিন টুকটাক সমস্যা হলেও পরবর্তীতে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন তিনি।

ভুটানি এই রোগীকে দেশে আনা থেকে চিকিৎসা দেওয়া-সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ডা. সামন্ত লাল সেন। মন্ত্রিত্ব গ্রহণের পরদিন মন্ত্রণালয়ের কাজ সেরে দুপুরে তিনি শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে এসেছিলেন কারমাকে দেখতে। সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এই জন্য বড় ঘটনা যে বিদেশি রোগী আমাদের দেশে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। দুই দেশের সরকার এই চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত। আমাদের দেশের চিকিৎসাসেবা নিশ্চয়ই উন্নত হয়েছে।’

কারমা দেমা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ভর্তি হওয়ার পর ডাক্তারদের একটি বোর্ড গঠন করা হয়। অপারেশনে নেতৃত্ব দেন ডা. প্রদীপ চন্দ্র দাস। তার পুরো চিকিৎসা সেবার চিফ কোর্ডিনেটর ছিলেন ডা. সামন্ত লাল সেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ রাখা হয় এই বোর্ডে। তান নাম অধ্যাপক ডা. অনিল রঞ্জন। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অপারেশন হয়েছে। সম্প্রতি ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। তিনি ইনস্টিটিউটে চিকিত্সাধীন কারমা দেমাকে সুস্থ দেখে অভিভূত হন। রাজা বাংলাদেশি চিকিৎসক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, যেটা আশা করতে পারিনি, সেটা আপনারা করে দেখিয়েছেন। আপনাদের ধন্যবাদ। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মডেলে ভুটানে একটি হাসপাতাল করার জন্য অনুরোধ করেন রাজা। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন হাসপাতাল করার জন্য সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

গতকাল কারমা দেমার ছাড়পত্র হাতে নেন তার ভাই। এ সময় ভাই-বোনের মুখে ছিল হাসি। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কারমা দেমা বলেন, এভাবে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাব, কখনো কল্পনাই করিনি।

কারমা দেমার মতো অনেক জটিল রোগীর অপারেশন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বিনামূল্যে করা হয়েছে। এই অপারেশন করতে বিদেশে দুই কোটি টাকার উপরে খরচ হয়। দেশেও ব্যয়বহুল এর চিকিত্সা। বেসরকারি হাসপাতালে এই চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা অনেক মধ্যবিত্তের পক্ষেই সম্ভব হবে না। অথচ এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। কারমা দেমার আগে আরেকটি জটিল রোগীর এখানে সফল অপারেশন হয়েছে। তিনি হলেন সাতক্ষীরার এনামুল হক। ৩৭ বছর যাবত্ তার নাকে-মুখে গর্ত হয়ে বিকৃত চেহারা তৈরি হয়। নাক-মুখ দিয়ে পোকা বের হতো। এর আগে তার ১০ বার অপারেশন হয়েছে। কোন সুফল পাননি। বিএসএমএমইউয়ে ভর্তি হলে, তারা পোকা মারে, কিন্তু অপারেশন করতে পারেনি। তার এক ছেলে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের ছাত্র। বিএসএমএমইউ যখন বললো, অপারেশন করা সম্ভব না, তখন আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ করেন ওই রোগীর ছেলে। তবে রোগীর কেস স্টাডি দেখে তারাও বলে দেয়, সম্ভব না। তবে একটি দেশ বলেছিল, সম্ভব হতে পারে। অপারেশনের জন্য খরচ হবে বাংলাদেশি দুই কোটি টাকা। তবে তার পরিবার এতো টাকা কোথায় পাবে? পরিবারের পক্ষ থেকে অর্থ সহযোগিতার জন্য ডা. সামন্ত লাল সেনের কাছে যান। রোগীর সব কিছু দেখে ডা. সামন্ত লাল সেন তাদের বলেন, রোগীকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করতে। পরে তিনি ভর্তি হলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সফল অপারেশনের মাধ্যমে ওই রোগীকে সুস্থ করে তোলা হয়।

জোড়া শিশু তোফা-তহুরাও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছে। অথচ তাদের সিঙ্গাপুর ফেরত পাঠিয়েছিল। এমন অনেক উদাহরণই আছে। বর্তমান সরকার চিকিৎসা খাতে ব্যাপক অবদান রেখেছে। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়। ৯৮ ভাগেরই প্লাস্টিক সার্জারি করতে হয়। এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা দেশের মধ্যবিত্তের পক্ষেও সম্ভব না। অথচ এখানে বিনামূল্যে হচ্ছে। এটা দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানে বড় সফলতা। এতো বড় ইনস্টিটিউট বিশ্বের কোথাও নেই।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। ব্যয়বহুল চিকিৎসা এদেশের সকল শ্রেণীর মানুষ বিনামূল্যে পাচ্ছে। কারমা দেমার চিকিৎসা সফল হওয়ায় তিনি মেডিক্যাল টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।




গলাচিপায় ৪ দিন ধরে কিশোর নিখোঁজ

পটুয়াখালী সংবাদদাতা :: গলাচিপায় মো: জুনায়েদ (১৫) নামের এক কিশোর ৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) তার বাবা গলাচিপা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নম্বর ১১৭৬

জুনায়েদ কল্যাণ কলস নেছারিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসার অফিস সহকারী মো: রুহুল আমিনের একমাত্র ছেলে ও গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল।

আরো পড়ুন : স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে

সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে গলাচিপা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড রতনদী (রুপনগর) এলাকা থেকে জুনায়েদ নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজির পরও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। জুনায়েদকে খুঁজে পেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে নিখোঁজের বাবা, মা ও আত্মীয়-স্বজন।

আরো পড়ুন : ডাকাতিসহ ১২ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার



ডাকাতিসহ ১২ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন থানায় সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগে মোট ১২টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত দীর্ঘদিন ধরে পলাতক দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার সাইদুর রহমান মানিককে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৩।

শনিবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে র‍্যাব-৩ এর একটি দল নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ইপিজেড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার মানিক পটুয়াখালী সদরের দক্ষিণ বাজারঘোনার আ. সাত্তার মৃধার ছেলে।

র‍্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন জানান, গ্রেপ্তার সাইদুর রহমান মানিক পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার মূর্তমান আতঙ্ক সশস্ত্র আন্তঃজেলা ডাকাত দল মানিক বাহিনীর সর্দার। তার নেতৃত্বে পটুয়াখালীসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলায় প্রায় ২০টিরও বেশি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে বরগুনা জেলার আমতলী বাজার থানায় ৫টি ডাকাতি মামলা ও ২টি অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। এছাড়াও পটুয়াখালী সদর থানায় ৫টি ডাকাতি মামলাসহ তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার মানিক মামলাগুলোর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি।

আরো পড়ুন : স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মানিক জানায়, বহুল আলোচিত ২০১৫ সালে পটুয়াখালী সদর থানাধীন মাদারবুনিয়া ও বোতলবুনিয়া গ্রামে একই রাতে তিনটি বসতবাড়িতে ডাকাতির ঘটনাটি তার নেতৃত্বেই ঘটেছিল। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রেপ্তার মানিকের নেতৃত্বে ডাকাত দলের অপরাপর সদস্য নড়াইল শহীদ, নাদ্রা আল আমিন, রাসেল তালুকদার, জব্বার, রাকিব হাওলাদার, আলামিন মাতুব্বর, কামাল মাতুব্বর, চাঁন হাওলাদার, বশির সরদারসহ ১০/১২ জন সদস্যের একটি ডাকাত দল মানিকের বাড়িতে বসেই ডাকাতির প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। একই রাতে বোতলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মমতাজের বাড়িতে মমতাজের পার্শ্ববর্তী পাড়ার বাসিন্দা আজিজ মাঝির বাড়িতে ও মাদারবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলী চৌধুরীর বসতবাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করে ডাকাতি করে।

আরো পড়ুন : সূর্যমুখী চাষে সফলতার মুখ দেখছেন উপকূলের হাজারও কৃষক

গ্রেপ্তার মানিক সম্পর্কে এএসপি শামীম বলেন, মানিক আলিম পাস। সে চাকরি না পাওয়ায় ২০০৪ সাল হতে ২০১২ সাল পর্যন্ত নিজ এলাকায় রাইড শেয়ার করতো। তখন তার ডাকাতি কার্যক্রমের অন্যতম সহযোগী নড়াইল শহীদের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে ২০১৫ সালে ডাকাতির কাজে জড়িয়ে পড়ে। ২০২০ সালে একাধিক ডাকাতির মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া শুরু হলে সে পালিয়ে নিজ এলাকা ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন চর সুমিলপাড়া এলাকায় আত্মগোপন করে।
আত্মগোপনে থাকাকালে সে একটি সিকিউরিটি কোম্পানিতে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে চাকরি করতো এবং প্রকৃত নাম পরিচয় গোপন করে সে নিজেকে সাঈদ নামে পরিচয় দিত। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।




সেই দুলাল ফকিরের জালে এবার ২৫ লাখ টাকার লাক্ষা মাছ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : মাত্র ১৪ দিনের ব্যবধানে আবারো পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর জেলে সেই দুলাল ফকিরের জালে এবার ধরা পড়েছে ২৫ লাখ টাকার লাক্ষা মাছ। এর আগে শনিবার (১৬ মার্চ) তিনি ২০ লাখ টাকার লাক্ষা মাছ বিক্রি করে আলোচিত হয়েছিলেন।

জানা গেছে, ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের পূর্ব চরবলেশ্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দুলাল ফকিরের এফবি আবদুল্লাহ ও এফবি আল ইমরান নামে মাছ ধরার দুটি ট্রলার ১৪ দিন আগে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যায়। তার দুটি ট্রলারেই এবার অন্যান্য মাছ ছাড়াও ১২০টি লাক্ষা মাছ ধরা পড়েছে।

প্রতিটি লাক্ষার ওজন তিন থেকে সাত কেজি।

ট্রলারের জেলেরা জানান, ১৪ দিন আগে আমরা জাল, বরফ ও রসদ বোঝাই করে সাগরে যাই। আলহামদুলিল্লাহ আমরা অন্যান্য মাছের সঙ্গে আরো ১২০টি লাক্ষা মাছও পেয়েছি। ২৫ লাখ টাকায় মাছ বিক্রি হয়েছে।

ঈদের আগে এত বেশি মাছ পাওয়ায় আমরা খুশি। এবার পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোভাবে ঈদ করতে পারব। 

এফবি আবদুল্লাহ ও এফবি আল ইমরান ট্রলারের মালিক দুলাল ফকির জানান, এর আগে কয়েকবার সাগরে ট্রলার পাঠিয়ে তার লোকসান হলেও আড়ৎদারি বাদ দিয়ে আগেরবার ২০ লাখ এবং এবার ২৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হওয়ায় আগের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন।

পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়ৎদার মহসিন মেম্বার জানান, শনিবার দুলাল ফকিরের এফবি আবদুল্লাহ ও এফবি আল ইমরান নামের দুটি ট্রলার মাছ নিয়ে আমার আড়তে আসে।

পাইকারদের কাছে ২৫ লাখ টাকায় এ মাছ বিক্রি করা হয়েছে। অন্যান্য মাছের তুলনায় লাক্ষা মাছের চাহিদা এবং দাম অনেক বেশি।



আজ মক্কা বিজয় দিবস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আজ রমজানুল মোবারকের বিশ তারিখ। ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যবহ একটি ঘটনার সাক্ষী রমজানের বিশ তারিখ। শুধু ইসলামের ইতিহাসে নয়, বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে অনন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদার অধিকারী এ ঘটনাটি হলো মক্কা বিজয়। ইসলামের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের অষ্টম বছরে ১০ হাজার মুসলিম সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে মক্কা নগরী জয় করেছিলেন এদিনে। এ ঘটনা ছিল মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের, সাফল্যের ও সন্তুষ্টির।

নবুওয়াতের ১৩তম বছরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম মক্কা ছেড়ে ইয়াছরিবে হিজরত করেন। ইয়াছরিবের নাম হয়ে যায় মদিনাতুন নবী বা সংক্ষেপে মদীনা। এখান থেকে ইসলামের প্রসার ঘটে অভাবনীয় গতিতে। মক্কায় কোরাইশ গোত্র আরবে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়ায় তাদের বিরোধিতা ছিল ইসলামের প্রসারে একটি বড় অন্তরায়। তা ছাড়া তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতাও চালায়। বদর, উহুদ,আহযাব ইত্যাদি যুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে মুসলমানদের। তবে এর মধ্যে আল্লাহর মদদের কারিশমাও প্রত্যক্ষ করেছে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় আসে মক্কা বিজয়ের পালা।

তবে মক্কা জয়ের জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের অভিযান পরিচালনার পেছনে কাজ করেছে হুদায়বিয়ার সন্ধি। হিজরী ষষ্ঠ বছরে সম্পাদিত এ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছিল মক্কার কুরাইশরা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিকার চেয়েছিলেন নইলে সন্ধির সমাপ্তি হয়েছে মনে করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কুুরাইশরা কোনো সাড়া না দেয়ায় তিনি অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন।

হুদায়বিয়ার সন্ধির পর এ সন্ধি অনুযায়ী আরবের ‘বনু খুজায়া’ গ্রোত্র মহানবী (সা.)-এর সাথে এবং ‘বনু বকর’ গোত্র কুরাইশদের সাথে মৈত্রী চুক্তি করে। এ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ছিল। বনু বকর কুরাইশদের প্ররোচনায় বনু খুজায়া গোত্রের আবাসভূমি ‘ওয়াতির’-এর নিভৃত পল্লিতে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলা করে অসহায় নারী, শিশুসহ নির্বিচারে হত্যা ও লুণ্ঠন করে। প্রাণের ভয়ে কাবায় আশ্রয় নেওয়া নিরীহ মানুষকেও তারা হত্যা করে। এ ঘটনার প্রতিকারের জন্য খুজায়া গোত্র মহানবী (সা.) এর নিকট আসে। মহানবী সা. প্রতিকারের জন্য দূত মারফত মক্কার কুরাইশ নেতাদের জানালেন, তোমরা বন খুজায়া গোত্রকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাও; নয়তো বনু বকর গোত্রের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি বাতিল করো, না হলে হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে বলে এ চুক্তি বাতিল হয়েছে বলে পরিগণিত হবে। কুরাইশ নেতারা তৃতীয় পন্থাই গ্রহণ করলেন।

মহানবী সা. এর দূত মক্কা থেকে মদিনায় ফিরে এসে জানালেন, কুরাইশরা তৃতীয় প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছেন। এর ফলে মহানবী সা. বহু আকাক্সিক্ষত মক্কা অভিযানের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে, মক্কা বিজয় ব্যতীত আরবে ইসলাম সুদৃঢ়রূপে প্রতিষ্ঠিত হবে না। ইত্যবসরে মক্কাবাসীদের বিভেদ ও বৈষম্যের কথা উপলব্ধি করে আবু সুফিয়ান স্বয়ং মদিনায় গমন করে শান্তি প্রস্তাব করলে হযরত মুহাম্মদ সা. তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ১০ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দের ৬ জানুয়ারি মোতাবেক ১০ই রমজান, অষ্টম হিজরি মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

২০ রমজান মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করেন। প্রায় রক্তপাতহীন সে অভিযানে ইসলামের নবীর পতাকা সেখানে সমুন্নত হয়। আর সত্য ধর্মের গৌরব প্রতিষ্ঠিত হয় আরবের সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরীতে। হযরত ইবরাহিম খলিল আলাইহিস সালাম একক প্রভুর ইবাদতের জন্য যে বায়তুল্লাহ নির্মাণ করেছিলেন, তা ভরে ফেলা হয়েছিল মূর্তি ও বিগ্রহে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর ঘর থেকে ৩৬০টি মূর্তি অপাসরণ করেন। আর এতদিন যারা ইসলামের শত্রুতায় সদাপ্রস্তুত ছিল, তাদের জন্য ঘোষণা করেন সাধারণ ক্ষমা। শান্তি ও মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করলেন ইসলামের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাই মক্কা বিজয়ের ঘটনা বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে এক অনন্য সাধারণ ঘটনা। আর সে কারণেই ২০ রমজান মুসলমানদের জন্য বিপুল গৌরবের স্মারক।




গাজায় আরব বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাখ্যান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : গাজা উপত্যকায় বহুজাতিক আরব বাহিনী মোতায়েনের মার্কিন-সমর্থিত ইসরাইলি প্রস্তাব ফিলিস্তিনি গ্রুপগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। এই বাহিনীকে গাজায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবিক সহায়তা পাহারা দেয়ার দায়িত্ব প্রদানের কথা বলা হয়েছিল।

হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক আলা-মায়াদিন শনিবার জানায় যে সিরিয়ার ফিলিস্তিনি গ্রুপগুলো আরব দেশগুলোর বহুজাতিক সামরিক বাহিনী প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিলে আরব দেশগুলো গাজায় যে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী, তা থেকে তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করছে। ফিলিস্তিনি জনগণ উপত্যকার ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব নেতা ও প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে সক্ষম।’

ইতোপূর্বে খবর প্রকাশিত হয় যে গাজার ত্রাণ সহায়তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাপকভিত্তিক ক্ষুধা দূর করার সমস্যা সমাধানের জন্য একটি আরব বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে আসলে গাজায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের একটি বিকল্প গঠন করা যাবে বলে ইসরাইল আশা করছে।

ইসরাইলের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ওই এলাকায় একটি পরিচালনা সংস্থা গঠন করবে। ফলে হামাস আর থাকবে না।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বহুজাতিক আরব বাহিনী গঠনের বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের সাথে আলোচনা করেছেন। এ নিয়ে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকে এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যঅক সুলিভানের সাথেও কথা বলেছেন।

এদিকে আরেক ঘটনায় জানা গেছে, আরব দেশগুলোর সিনিয়র কর্মকর্তারা কেবল গাজা উপত্যকায় নয়, পশ্চিম তীরেও আরব বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছেন। গত সপ্তাহে কায়রোতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেনের সাথে বৈঠকে তারা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। মিসর, সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পরিকল্পনাটি নিয়ে ব্লিনকেনের সাথে আলোচনা করেন।




স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন পিরোজপুরের পুরাকীর্তি মসজিদ

বরিশাল অফিস :: মোগল আমলের স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন বেড়াচ্ছে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া পৌর শহরের মিয়াবাড়িতে পৌনে ৪শ বছরের একটি প্রাচীন পুরাকীর্তি মসজিদ। উপজেলার পোনানদী পাড় জুড়ে মিয়া বাড়ীর সামনে এ মসজিদটি অবস্থিত। চমৎকার নির্মাণশৈলীর এক গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি মুঘল আমলের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক এই মসজিদটি দেখার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

স্থানীয় আবুল কালাম আজাদ নামের এক মুসল্লি জানান, কয়েক বছর আগে প্রতœতত্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পুরাকীর্তি মসজিদটি সংস্কার করা হয় এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া সংরক্ষিত প্রাচীন এ পুরাকীর্তি মিয়াবাড়ি মসজিদ সংস্কার শেষে উদ্বোধন করেণ। ৩০ ফুট লম্বা এবং ১৭ ফুট চরড়া। এই মসজিদটি ১৬শ খৃষ্টাব্দের শেষের দিকে নির্মাণ করা হয়েছে । এই মসজিদটি ছাড়াও এ উপজেলায় স্থানীয় কাজী বাড়ি,ভান্ডারিয়ায় থানার পিছনে ও ভেলাই চোপদারের বাড়ীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরণের আরও ৬টি মসজিদ রয়েছে। যা এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে এখনো কালের স্বাক্ষি হয়ে পড়ে আছে। মসজিদগুলো সংস্কারের দাবি জানাই ।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, মসজিদ গুলোর দেয়ালে লাল ইট আর চুনা পাথরের মিশ্রণের কাজে দিল্লির লাল ইটের স্থাপত্যরীতির প্রভাব রয়েছে। এর দেয়ালগুলোতে রয়েছে ইটের বিন্যাস, পোড়ামাটির ফলকের কাজ। ছাদের গম্বুজ ও খিলানে এক সময় ছিল সোনালি প্রলেপের কাজ। তবে বর্তমানে তা আর চোখে পড়ে না। রেলিং প্রাচীরে ঘেরা ছোট্ট সুন্দর এই মসজিদগুলোতে মিহরাব এবং এক গম্বুজের ভেতরের অংশ পাথরের ফুল, চমৎকার লতাপাতা ও আরব্য নকশায় খোদাইকৃত। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে পোড়ামাটির নকশার কাজ, যা মোগল ও স্থানীয় শিল্পরীতির নিপুণ সমন্বয়। ভেতরের চমৎকার ফুলেল নকশায় নির্মিত মসজিদটি নামাজের কাজ ছাড়াও বিচারকার্য এবং সভা পরিচালনার কাজেও ব্যবহৃত হতো ।

স্থানীয় মিয়াবাড়ির বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন কাজল জানান, পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামে একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে। ভেলাই চোকদার নামক একজন ধনাট্য জমিদার আনুমানিক পাঁচ একর জমির উপর মুঘল আমলে এ দিঘিটি খনন করেন। ভান্ডারিয়া কৃতি সন্তান, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পারিবারিক উদ্যোগে এ দিঘিটি সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করেন। এ দিঘির পাড়ে ভেলাই চোকদার নির্মিত একটি মসজিদসহ দটি দালান প্রাচীন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এসব মসজিদ জমিদার ভেলাই চোকদারের আমলে তার নির্মিত হয়েছে। যদিও এই মসজিদগুলোর নির্মানকাল বা নির্মাতার নিশ্চিত পরিচয় জানা যায়নি, তারপরেও স্থাপনারীতি এবং এই সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষনে ধারনা করা হয় যে মোগল আমলের শেষদিকে সম্ভবত এই স্থাপনাগুলি নির্মিত হয়ে ছিলো।

উল্লেখ্য: এই মসজিদের চার পাশ ঘিরে রয়েছে ফুল বাগান ও তার সামনে রয়েছে একটি পুকুর। পুকুরটিও বাধিঁয়ে ও লাইটিং দিয়ে দৃষ্টনন্দন করা হয়েছে। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে প্রতœতত্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মিয়াবাড়ি প্রাচীন মসজিদটির সংস্কার পূর্বক সংরক্ষিত পুরাকীর্তি মসজিদ হিসেবে ঘোষনা করা হয়।