চিড়িয়াখানায় হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জাতীয় চিড়িয়াখানায় হাতির পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) চিড়িয়াখানায় হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঈদের দিনে চিড়িয়াখানায় মানুষের ঢল নেমেছে। প্রতিদিনের মতোই হাতি দিয়ে ফুটবল খেলা দেখানো হচ্ছিল। কিছু সময় খেলাধুলার পর হঠাৎ করে হাতিটি বিগড়ে যায়। বিগড়ে গিয়ে সামনে একটি কিশোরকে শুঁড় দিয়ে ধরে আছাড় মারে। এতে ঘটনাস্থলেই ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।

নিহত ওই কিশোরের নাম জাহিদ (১৭)। তার গ্রামের বাড়ি কুলাউড়ায়। তার বাবার নাম আজাদ আলী। জাহিদের বাবা আক্রমণকারী হাতির মাহুত।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার। তিনি বলেন, সকালের দিকে হাতির মাহুত আজাদ আলী তার ছেলে জাহিদকে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় পাঁচটি হাতির একটি জাহিদকে আক্রমণ করে এবং পায়ের নিচে পিষ্ট করলে জাহিদ গুরুতর আহত হন। কিন্তু হাতির মাহুত আজাদ আলী বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নিয়ে কুলাউড়া চলে যায়।




দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঈদের প্রধান জামাত ষাটগম্বুজ মসজিদে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগুম্বুজ মসজিদে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারও ষাটগুম্বুজ মসজিদে তিনটি জামাতে প্রায় অর্ধলাখ দেশি-বিদেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সকাল সাড়ে ৭টায় প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বাগেরহাট কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কালাম শেখ।

ষাটগুম্বুজ মসজিদে ঈদুল ফিতরের প্রথম জামায়াতে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালিদ হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এরপর সকাল ৮টায় দ্বিতীয় ও সাড়ে ৮টায় ঈদের তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

হযরত খানজাহান (রহ:)-এর অমর সৃষ্টি সাড়ে ৬০০ বছরের পূর্বে নির্মিত ষাটগুম্বুজ মসজিদে এবারের তিনটি ঈদের জামাতে মসজিদের ভেতর ছাড়াও বাইরের দুটি প্যান্ডেলে প্রায় অর্ধলাখ দেশি-বিদেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। ঈদের নামাজ শেষে দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মার শান্তি-অগ্রগতি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা এক অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।




আওয়ামী লীগ জনগণের সম্পদ খায় না: প্রধানমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নেতাকর্মীরা আবারও প্রমাণ করেছে আওয়ামী লীগ জনগণের দল। এই রমজানে দলের নেতাকর্মীরা দুস্থ মানুষের সেবা করেছে। কারণ আওয়ামী লীগ জনগণের সম্পদ খায় না; বরং জনগণকে কিছু দেয়।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) গণভবনে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় ঈদের আনন্দ ভাগ করতে সব শ্রেণি পেশার মানুষ হাজির হয়েছিলেন গণভবনে। দলের কেন্দ্রীয় নেতা পরিবারের সদস্য এবং ছোটবোন শেখ রেহানাকে নিয়ে মঞ্চে উঠে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

এবারের ঈদ সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে— এ প্রত্যাশার কথা জানান সরকার প্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। নেতাকর্মীরা যেকোনো দুর্বিপাকে জনগণের পাশে দাঁড়ায়।

পরে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং মিশন প্রধানরা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে। এছাড়া উচ্চ আদালতের বিচারপতি এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক এবং অসামরিক কর্মকর্তারাও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।




সেই বৃদ্ধার ঘরে ঈদ উপহার পাঠালেন ইউপি চেয়ারম্যান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় এক অসহায় বৃদ্ধার ঘরে ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন। ওই বৃদ্ধার নাম আয়শা বিবি (৭০)। তিনি উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের হরিদ্রাখালী গ্রামের বাসিন্দা।

বুধবার দুপুরে ঈদসামগ্রীর প্যাকেজ বৃদ্ধার বাড়িতে পাঠানো হয়। এতে ছিল ১০ কেজি চাল, এব কেজির মশুর ডাল, চিনি, হলুদ,মরিচ, ধনিয়া গুড়া, সেমাই, দুধ ও নতুন কাপড়।

এর আগে ‘পচা নাড়ার ঘরে বসবাস বৃদ্ধা আয়শা বিবির’ শিরোনামে চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডক কম অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

পটুয়াখালীতে পচা নাড়ার ঘরে বসবাস বৃদ্ধা আয়েশা বিবির  শিরোনামে

সংবাদটি নজরে পড়লে বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহিব্বুর রহমান মহিবের নির্দেশনায় ওই বৃদ্ধার ঘরে ঈদ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

ঈদ উপহার পেয়ে আপ্লুত আয়শা বিবি বলেন, ‘স্বামী মারা গেছে প্রায় ২০ বছর হয়েছে। দুই মেয়ে ও এক ছেলে আছে। ওরা কেউ আমার খোঁজখবর নেয় না। আমি মানুষের বাসায় কাজ করে জীবনযাপন করি। এত ঈদ গেল কেউ খোঁজ নিলো না। এ বছর আমার কষ্টের কথা শুনে যে ঈদ বাজার পাঠিয়েছে তার জন্য আল্লাহ কাছে দোয়া করি। স্বামীর ভিটেতে নাড়ার ছাপড়া দেয়া ঘরে বসবাস করি। অনেক কষ্ট হয় ভাঙা ঘরটিতে। তবুও ঝুঁকি নিয়ে থাকতে হচ্ছে। আমারে ঘর করে দিলে ভালো হতো।’

আরো পড়ুন : বর্ষবরণ ও ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত পটুয়াখালীর মৃৎশিল্পীরা

সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন বলেন, আয়শা বিবির বাসস্থান নিশ্চিতে সরকারি ঘর দেয়ার ব্যবস্থা করবো।




শেষ দিকে কুয়াকাটা সৈকত জুড়ে জমেছে ইফতার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটায় রমজানের শেষ সময়ে ইফতারকে কেন্দ্র্র করে সৈকতে পশ্চিম দিগন্তজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। বিকেল হতেই কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে দেখা যায় দলে দলে ইফতারের প্রস্তুতির দৃশ্য।

পড়ন্ত বিকেলে সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে, ঠিক এমন গোধূলি বেলায় দেখা যায় রোজাদাররা ইফতার সামগ্রী নিয়ে রং তুলিতে সাজানো ব্লোকের উপরে বসে ইফতার সামগ্রী তৈরিতে কেউ কেউ ব্যস্ত, কেউ ব্যস্ত প্রার্থনায়, কেউ কেউ মনের সুখে গুনগুনিয়ে হামদ-গজল গাইছে, কারও হাতে ছোলা, মুড়ি, চপ মাখানোর ব্যস্ততা, কেউ বানায় শরবত, কেউ কেউ ফল বা তরমুজ কাটে, কেউ আবার খাবার পানি সহ সাজাচ্ছে প্লেট-গ্লাস। সৈকতের তীরে মুক্ত বাসাতে এ যেন এক অন্য রকম প্রশান্তি। সেখানেই সবার অপেক্ষা মাগরিবের আজানের।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীর ২১ গ্রামে ঈদ উদযাপন

মো. মারুফ হোসেন বলেন, সবদিনই তো পরিবারের সঙ্গে ইফতার করি। আজকে সবাই মিলে কুয়াকাটা সৈকতে ইফতার করতে এসেছি। মুক্ত বাতাস অনেক ভালো লাগতেছে। মনটা ভরে গেছে এই পরিবেশে এসে।

হোটেল মিয়াদ ইন্টারন্যাশনাল এর জিএম ইব্রাহীম ওয়াহিদ বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশে বিশাল সমুদ্রের বুকে মুক্ত বাতাসে ইফতার করার অন্য রকম এক অনুভূতি। ইফতারের আগের সময়টুকু সবচেয়ে ভালো লাগার। সারাদিন রোজা রেখে আল্লাহর এই বিশাল সৃষ্টির বুকে ইফতার আসলেই অন্তরকে তৃপ্তি দেয়, আলহামদুলিল্লাহ।

কুয়াকাটা বাইতুল আরজ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মান্নান বলেন, আল্লাহর রাসূল বলছেন রমজানের শেষ দিকে সাওয়াল মাসের চাঁদ খুছতে। তাই একত্রে সৈকতের পাসে ইফতার করতে এসেছি। বিশাল সাগরের গর্জন, মুক্ত বাতাস মনোরম পরিবেশ, আল্লাহর মহান এক হুকুম রোজা রেখে ইফতারের অপেক্ষায় আছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে কবুল করুক, আগামী রমজান পর্যন্ত সবাইকে সুস্থ, সুন্দর রাখুক সেই প্রত্যাশা করছি।




হেপাটাইটিসে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ: ডব্লিউএইচও

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ক্রমশই আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে ভাইরাসজনিত রোগ হেপাটাইটিস। এই রোগের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। এমনটিই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এমন অবস্থায় দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সংক্রামক প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি। বার্তাসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে বুধবার (১০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেপাটাইটিস ভাইরাসে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি লোক মারা যাচ্ছে এবং বিশ্বব্যাপী এই সংখ্যা বাড়ছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মঙ্গলবার সতর্ক করেছে। হেপাটাইটিস রিপোর্ট প্রকাশ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতি বছর ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এই রোগে। যা যক্ষ্মায় মৃত্যুর সমান।

ডব্লিউএইচওর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ১৮৭টি দেশের রিপোর্ট অনুসারে- ২০১৯ সালে যেখানে ১১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল হেপাটাইটিসে, সেখানে ২০২২ সালে মৃত্যু হয়েছে ১৩ লাখ মানুষের। এর মধ্যে ৮৩ শতাংশ মৃত্যুর কারণ হেপাটাইটিস বি।

অন্যদিকে হেপাটাইটিস সি কেড়েছে ১৭ শতাংশ মানুষের প্রাণ। আর এই সব মৃত্যুর ক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশ মৃত্যুই হয়েছে বাংলাদেশ, চীন, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, রাশিয়া ও ভিয়েতনামে।

মনে করা হচ্ছে, ২০২২ সালেই হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ। হেপাটাইটিস সি-এর ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৫ কোটি। আক্রান্তদের মধ্যে অর্ধেকই ৩০-৫৪ বছর বয়সী মানুষ। ১২ শতাংশ নাবালক। নারী ও পুরুষদের মধ্যে দেখলে আক্রান্তের ৫৮ শতাংশই পুরুষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল হেপাটাইটিস রিপোর্ট অনুযায়ী, ভাইরাল হেপাটাইটিসে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। ২০১৯ সাল থেকে রিপোর্ট দেখলে বোঝা যাবে, ১৮৭টি দেশে হেপাটাইটিসে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষের। এই সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

ডব্লিউএইচওর সমীক্ষা বলছে, বিশ্বজুড়ে ২৫ কোটির বেশি মানুষ হেপাটাইটিস নিয়ে বেঁচে আছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেছেন, ‘এই রিপোর্ট বিপন্ন দৃশ্যকে তুলে ধরছে। যদিও হেপাটাইটিসের সংক্রমণ ও মৃত্যু রুখতে বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তবুও খুব অল্প মানুষেরই হেপাটাইটিস ধরা পড়ে ও চিকিৎসা করা সম্ভব হয়। এই পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচও এই রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচতে সব দেশের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

প্রসঙ্গত, লিভারের মারাত্মক অসুখই হলো হেপাটাইটিস। মূলত লিভারের প্রদাহজনিত অসুখ এটি। হেপাটাইটিসের কারণ ভাইরাল ইনফেকশন। এর নানা ধরন আছে। হেপাটাইটিস-এ এবং ই সংক্রমিত হয় দূষিত খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে। আর হেপাটাইটিস-বি, সি এবং ডি সংক্রমিত হয় রক্তের মাধ্যমে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, সারা বিশ্বে প্রতি বছর মোট ১০ কোটিরও বেশি মানুষ হেপাটাইটিস রোগে আক্রান্ত হন। কিশোর-কিশোরী এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে, এই সংক্রমণের উপসর্গ অনেক বেশি মারাত্মক হতে পারে।




পদ্মা সেতুতে একদিনে প্রায় ৫ কোটি টাকা টোল আদায়ের রেকর্ড

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : একদিনে টোল আদায়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে পদ্মা সেতু। মঙ্গলবার পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ের এই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়েছে ৪৫ হাজার ২০৪টি যানবাহন। এতে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৭ হাজার ৫০ টাকা। যা একদিনে টোল আদায়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

দেশের সর্ববৃহৎ স্থাপনা পদ্মা সেতু সাইট অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আমিরুল হায়দার চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর গতকাল পর্যন্ত একদিনে ৫ কোটি টাকার টোল আদায় হয়নি।




চাঁদ রাতে জান্নাত ওয়াজিব হয় যেসব আমলে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পবিত্র মাহে রমজান শেষে যে রাত আগমন করে যাকে সহজে বুঝি আমরা চাঁদ রাত হিসেবে। এই রাতটি অত্যন্ত বরকতময় একটি রাত।

ঈদুল ফিতরের রাত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রাপ্তির রাত। এজন্য হাদিসে এই রাতকে পুরস্কারের রাত হিসেবে ব্যক্ত করা হয়েছে।

ফুকাহায়ে কেরামও দুই ঈদের রাতে জাগ্রত থাকাকে সুন্নত লিখেছেন। তাই এ রাতের বিশেষ কদর করা উচিত। এ রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম।

প্রথম ফজিলত: খোদার জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায় ঈদুল ফিতরের রাতে ইবাদতের মাধ্যমে। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত (ইবাদতের মাধ্যমে) জাগ্রত থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।

এক. যিলহজ মাসের ৮ তারিখের রাত, দুই. যিলহজ মাসের ৯ তারিখের রাত (আরাফার রাত), তিন. ঈদুল আজহার রাত, চার. ইদুল ফিতরের রাত এবং পাঁচ. ১৫ শাবানের রাত। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব লিল মুনজেরি ২/৯৮, হাদিস : ১৬৫৬)।

দ্বিতীয় ফজিলত: ঈদের রাতে কৃত দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত এবং দুই ঈদের রাতসহ এ পাঁচ রাতে কোনো দোয়া করে; সে রাতে তার কোনো আবেদনই ফিরিয়ে দেয়া হয় না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭৯২৭)

তৃতীয় ফজিলত: ঈদের রাতে ইবাদতকারীর অন্তর কিয়ামতের দিন মরবে না। হজরত আবু উমামা বাহেলি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে আল্লাহর কাছে সওয়াব প্রাপ্তির নিয়তে ইবাদত করবে তার হৃদয় সেদিনও জীবিত থাকবে যেদিন সকল হৃদয়ের মৃত্যু ঘটবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৮২)।

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হজরত উবাদা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার রাতকে (ইবাদতের মাধ্যমে) জীবিত রাখবে তার অন্তর ওই দিন মরবে না যেদিন অন্যদের অন্তর মরে যাবে। (আল মুজামুল আওসাত ১/৫৭, হাদিস : ১৫৯)।

ঈদুল ফিতরের রাতে ইবাদতে মশগুল থাকা মুস্তাহাব। যেমন হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) এরশাদ করেন, রমজানের ব্যাপারে আমার উম্মতকে বিশেষভাবে পাঁচটি জিনিস দেয়া হয়েছে, যা পূর্বর্বী উম্মতগণ পায়নি। তন্মধ্যে একটি হল রমজানের শেষ রাতে রোজাদারদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়।

সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ক্ষমার এই রাতটি শবে কদর নয় তো? নবীজি (সা.) বললেন, না, বরং শ্রমিকের কাজ শেষ হওয়ার পূর্বেই শ্রমের মজুরি দিয়ে দেয়া হয়। (মুসনাদে আহমদ)

উল্লেখিত হাদিসগুলোতে ঈদের রাতের যে সব ফজিলতের কথা বলা হয়েছে এগুলোর মধ্যে কোনটিতে বিশেষ কোনো ইবাদত করার কথা বলা হয়নি। তাই এই রাতে সাধ্যানুসারে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযকার, ইস্তিগফার এবং দোয়া-মুনাজাতে মশগুল থাকা কর্তব্য।

বরকতময় এই রাতে অযথা কাজে লিপ্ত হওয়া, বাজারে-মার্কেটে ঘুরাঘুরি করার পরিবর্তে এশা এবং ফজরের নামাজ সময়মত জামাতের সঙ্গে আদায় করা। সঙ্গে অন্যান্য আমলগুলো করা। অন্যান্য আমলগুলো করা সম্ভব না হলেও অন্তত এশা এবং ফজরের নামাজের জামাত ঠিক রাখা।




পটুয়াখালীর ২১ গ্রামে ঈদ উদযাপন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে পটুয়াখালীর ২১টি গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ বুধবার (১০ এপ্রিল) ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।

আজ সকাল সাড়ে ৮টায় কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের উত্তর নিশানবাড়িয়া জাহাগিরিয়া শাহসূফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গনে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ১০০ বছর ধরে তারা একদিন আগেই ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

আরো পড়ুন : আগামীকাল ঈদুল ‍ফিতর

এছাড়া, জেলার সদর উপজেলার চারটি, কলাপাড়ার সাতটি, রাঙ্গাবালীর দুটি, গলাচিপার তিনটি, দুমকির দুটি ও বাউফল উপজেলার তিনটি গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।

চম্পাপুর থেকে নিশানবাড়িয়া জাহাগিরিয়া শাহসূফি মমতাজিয়া দরবার শরীফে ঈদের জামাতে আসা ফরিদ শিকদার বলেন, আমার বাপ-দাদারা চট্টগ্রামের এলাহাবাদ সুফিয়া ও চানটুপির অনুসারী ছিলেন। আমরাও শাহ সুফির অনুসারী। আজ এখানে হাজারো মানুষ একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়েছি। আমরা দুনিয়ার প্রতিটি মুসলমান এক সঙ্গে চলতে পারি আল্লাহর কাছে সেই দোয়া করেছি।

উত্তর নিশান বাড়িয়া এলাকার সায়েম মিয়া বলেন, আমার পরিবারের সবাই আজ ঈদ উদযাপন করছি। ঈদের নামাজ আদায় করেছি। ভালোই কাটছে সময়। 

উত্তর নিশানবাড়িয়া জাহাগিরিয়া শাহসূফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের পরিচালক নিজাম বিশ্বাস জানান, এখানে এক হাজারেরও বেশি মুসুল্লি একত্রে নামাজ আদায় করেছেন। এখানে আমরা মিষ্টান্নের আয়োজন করেছি। এছাড়া কলাপাড়ার বেশ কয়েকটি স্থানে আজ ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা মূলত দেশের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলেই ঈদ উদযাপন করি। কারণ ইসলামে আছে চাঁদ দেখলেই ঈদ উদযাপন করতে হবে। তাই সব মুসলমানদের আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদ উদযাপন করার অনুরোধ করছি।




ঈদের আগে হিলি বন্দর দিয়ে এলো ৪৭ ট্রাক আলু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টানা ছয়দিন বন্ধের একদিন আগে হিলি স্থলবন্দরে ৪৭টি ভারতীয় ট্রাকে ১ হাজার ১৯৮ মেট্রিক টন আলু আমদানি হয়েছে। যা আলু আমদানি অনুমতির পর এটিই সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রেকর্ড পরিমাণ আলু আমদানি হওয়ায় ঈদের ছুটিতে আমদানি বন্ধ থাকলেও দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান আমদানিকারকরা।

সোমবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব আলু ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করেছে।

হিলি স্থলবন্দর জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক বলেছেন এর আগে চলতি মাসের ৩ তারিখে ২৬ ট্রাকে ৬৭৮ মেট্রিকটন আলু আমদানি হয়েছিল। যেটি ছিল এই বন্দরে সর্ব্বোচ্চ আলু আমদানির পরিমাণ।

সোহরাব হোসেন মল্লিক জানান, ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে হিলি স্থলবন্দরের টানা ৬ দিন আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও পানামা পোর্ট সরকারি ছুটি ব্যতীত পণ্য লোড-আনলোড স্বাভাবিক রয়েছে। তাই রেকর্ড পরিমাণ আমদানি করা আলু আমদানিকারকদের চাহিদা মোতাবেক আলুর গাড়িগুলো ছাড়করণ করা হচ্ছে।