ইরানে পাল্টা হামলায় ইসরায়েলকে ‘সমর্থন দেবে না’ যুক্তরাষ্ট্র: বাইডেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইরানের হামলার জবাবে ইসরায়েল যদি ইরানে পাল্টা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে তবে সেই কাজে সাহায্য করবে না ওয়াশিংটন।

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, এই হামলা চলাকালেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন বাইডেন।

আলাপকালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তবে তিনি এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র এবং এই ধরনের কোনো অভিযানকে সমর্থনও করবে না ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সমর্থক এবং বন্ধু রাষ্ট্রটি।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা আরও জানান,  বাইডেন নেতানিয়াহুকে বলেছেন—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য বন্ধু দেশগুলোর যৌথ প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টায় ইসরায়েলের ওপর ইরানের আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনী ইসরায়েলকে প্রায় সব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সহায়তা করেছে।

বাইডেন তার মিত্রদের সুরক্ষার জন্য আবারও ওয়াশিংটনের ‘লৌহবর্মের’ মতো সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

বাইডেন বলেন, শনিবার মার্কিন বাহিনী বা এর স্থাপনায় কোনো হামলা না হলেও আমরা সব হুমকির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকব।

১ এপ্রিল সিরিয়ায় তেহরানের কনস্যুলেটে হামলার পর ইরান প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে। ইরান ওই হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে। হামলায় একাধিক ইরানি কমান্ডার নিহত হন।




এমভি আবদুল্লাহ : কত দিতে হলো মুক্তিপণ?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সোমালিয়ান জলদস্যুদের সঙ্গে অবশেষে হলো চূড়ান্ত সমঝোতা। মুক্তিপণ দিয়েই জিম্মি থাকা ২৩ নাবিক ও এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ মুক্ত হয়েছে। সোমালিয়ার উপকূল থেকে মুক্ত হয়ে জাহাজটি রওনা হয়েছে আরব আমিরাতের দিকে। কিন্তু কত টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হলো এম ভি আবদুল্লাহ? সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি মালিকপক্ষের কেউ। তবে সোমালিয়ার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে লেনদেন হওয়া মুক্তিপণের পরিমাণ ৫ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫৫ কোটি টাকা! সেখানকার পান্টল্যান্ড মিরর নামের সংবাদ মাধ্যম ডলারের এই অঙ্ক উল্লেখ করে দিয়েছে ব্রেকিং নিউজ। তবে মালিক পক্ষের আরেকটি সূত্র মুক্তিপণ বাবদ দেয়া টাকার অঙ্ক আরও কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এদিকে জলদস্যুদের সঙ্গে বোঝাপড়া চূড়ান্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছে কেএসআরএম গ্রুপের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান রাহাত। নতুন বছরের শুরুর দিনই এমন সুসংবাদ দিলেন তিনি।

মালিকপক্ষের মুখপাত্র ও মিডিয়া অ্যাডভাইজার মিজানুল ইসলাম বলেন, মুক্তিপণের বিষয়টি কৌশলগত কারণে আমরা বলতে পারব না। গণমাধ্যমকে এটা নিয়ে প্রশ্ন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। ।




মিডল ইস্ট আই’র প্রতিবেদন : ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ভূমি ব্যবহার করতে দেবে না আরব দেশগুলো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে সম্ভাব্য হামলা চালানোর কাজে তাদের ভূমি ব্যবহার করতে দেবে না বলে সতর্ক করেছে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। এক প্রতিবেদনে মিডল ইস্ট আই’র এমনটি জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম পার্স-টুডে।

আরব দেশগুলো এমন সময় এই হুঁশিয়ারি দিলো যখন দামেস্কের ইরানি কনস্যুলেটে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ নিতে তেহরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

লন্ডন-ভিত্তিক নিউজ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট আই অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কুয়েত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এসব দেশে অবস্থিত ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছে।

একজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন, ‘ইসরায়েলে ইরানি হামলার পর আমেরিকা যাতে মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানে পাল্টা হামলা চালাতে না পারে সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের পারস্য উপসাগরীয় মিত্ররা ব্যাপকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো আমেরিকাকে একথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করিয়ে দিচ্ছে যে, যে চুক্তির ভিত্তিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে তাতে অন্য দেশে হামলা চালানোর কথা বলা হয়নি। এমনকি মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো যাতে এসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে না পারে সে চেষ্টাও করছে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো।




আজ থেকে চালের বস্তায় জাত ও মূল্য লেখা বাধ্যতামূলক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: চালের বস্তার গায়ে ধানের জাত, মিলের ঠিকানা ও দাম লেখা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে মাস দুয়েক আগে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছিল তা কার্যকর হচ্ছে আজ পহেলা বৈশাখ থেকে। এর ব্যত্যয় ঘটলে রয়েছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

আজ রোববার থেকে চালের বস্তায় ধানের জাত, মিলগেটের মূল্য, উৎপাদনের তারিখ ও প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে। এমনকি প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠানের অবস্থান (জেলা ও উপজেলা) উল্লেখ করতে হবে। থাকতে হবে ওজনের তথ্যও।

গতকাল শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশের চাল উৎপাদনকারী কয়েকটি জেলায় পরিদর্শন করে নিশ্চিত হওয়া গেছে বাজারে একই জাতের ধান থেকে উৎপাদিত চাল ভিন্ন ভিন্ন নামে ও দামে বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম অযৌক্তিক পর্যায়ে গেলে বা হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে মিলার, পাইকারি বিক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। এতে ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে পছন্দমত জাতের ধানের চাল কিনতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ অবস্থার উত্তরণের লক্ষ্যে চালের বাজার মূল্য সহনশীল ও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে ধানের নামেই যাতে চাল বাজারজাতকরণ করা হয় তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম মনিটরিংয়ের সুবিধার্থে নির্দেশনায় কয়েকটি বিষয় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- চালের উৎপাদনকারী মিলমালিকদের গুদাম থেকে বাণিজ্যিক কাজে চাল সরবরাহের প্রাক্কালে চালের বস্তার ওপর উৎপাদনকারী মিলের নাম, জেলা ও উপজেলার নাম, উৎপাদনের তারিখ, মিল গেট মূল্য এবং ধান বা চালের জাত উল্লেখ করতে হবে। বস্তার ওপর এসব তথ্য কালি দিয়ে লিখতে হবে। যা আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে কার্যকর হবে।

চাল উৎপাদনকারী মিল মালিকের সরবরাহ করা সবধরনের চালের বস্তা ও প্যাকেটে ওজন উল্লেখ থাকতে হবে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা প্রতিপালন করতে হবে। এক্ষেত্রে মিলগেট দামের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান চাইলে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ করতে পারবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ, বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬ ও ধারা ৭ মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনটির ধারা-৬-এর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার সুযোগ রয়েছে। আর ধারা-৭-এর শাস্তি হিসেবে রয়েছে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান।




ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তুত ৪০ হাজার মার্কিন সেনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ইসরায়েলের বন্ধু রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র। যেকোন প্রয়োজনে দেশটিকে পাশে পায় ইসরায়েল। এবারও যখন ইসরায়েলকে হুমকি দিচ্ছে ইরান, ঠিক তখনি ইরানকে সতর্ক করে বক্তব্য দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের যত সামরিক ঘাঁটি ও সেনা আছে সবই ইরানের বিরুদ্ধে নামিয়ে দিবেন তিনি।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, কুয়েত, কাতার, আমিরাত, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অন্তত ১০টি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এছাড়া মোতায়েন আছে ৪০ হাজারের বেশি সেনা। সমরবিদরা বলছেন, ইসরায়েলের চেয়েও ইরানের অন্যতম মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে মার্কিন বাহিনী।

জানা যায়, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেজে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭৬তম এয়ার এক্সপেডিশনারি উইং রয়েছে।

এখান থেকে তারা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা এয়ার বেজে রাখা আছে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং যুদ্ধবিমান। যে কোনো প্রয়োজনে এখান থেকেই শক্রপক্ষকে ঘায়েল করতে চায় পেন্টাগন। এমনকি কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে রয়েছে ৩৮৬তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং। কাতার এবং বাহরাইনেও আছে হাজার হাজার মার্কিন সেনা।

ইরানে হামলার জন্য উপসাগরীয় এলাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘাঁটি ব্যবহার না করার জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। শুধু তাই নয়, ইরানের ওপর প্রতিশোধমূলক মার্কিন হামলার ক্ষেত্রে এসব উপসাগরীয় দেশ তাদের আকাশসীমা দিয়ে মার্কিন বিমান উড্ডয়ন প্রতিরোধ করার পদক্ষেপও নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, চীনের উত্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের সেই দাপট আবার ফিরিয়ে আনতে ইরানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে পারে বাইডেন প্রশাসন।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে কারও খবরদারিকে তোয়াক্কা করছে না তেহরান। সিরিয়ায় ইরানি কনস্যুলেটে হামলার জবাব দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইরান। এরইমধ্যে ইসরায়েলে হামলা শুরু হয়ে গেছে।




জাহাজসহ মুক্ত জিম্মি ২৩ নাবিক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ৩১ দিন পর অক্ষত অবস্থায় মুক্তি পেলেন সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা বাংলাদেশি ২৩ নাবিক ও জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টার দিকে মুক্তিপণের ডলারভর্তি তিনটি ব্যাগ জলদস্যুদের হাতে পৌঁছালে নাবিকসহ জাহাজটিকে মুক্ত করা হয়।

জাহাজের মালিকপক্ষ কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কিছুক্ষণ আগে জাহাজটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ২৩ নাবিকই অক্ষত অবস্থায় আমরা ফেরত পেয়েছি। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

গত ১২ মার্চ ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ জিম্মি করেছিল সোমালিয়ার জলদস্যুরা। তাদেরকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয় সরকার ও মালিকপক্ষ থেকে। কিন্তু বারবার সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অবশেষে শনিবার মুক্তিপণের মাধ্যমে জাহাজসহ ২৩ নাবিককে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে নৌ পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সোমালিয়ায় জলদস্যুর কবলে পড়া বাংলাদেশি ২৩ নাবিককে ঈদের আগে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধারের তৎপরতা চলছে। বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আশা করি, অল্প কিছুদিনের মধ্যে তাদের সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব। চেষ্টা করেছিলাম তাদের ঈদের আগে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। জলদস্যুরা কিছু একটা পাওয়ার জন্য জিম্মি করেছে নাবিকদের। কিন্তু তাদের কত টাকা দিতে হবে এটা বলা যাচ্ছে না।




পটুয়াখালীতে দেশী প্রজাতির ছোট বড় মাছ বিলুপ্ত হতে চলছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার সবগুলো উপজেলাতে বিভিন্ন দেশী প্রজাতির ছোট বড় মাছ বিলুপ্ত হতে চলছে। জেলার বিভিন্ন খালে-বিলে বাঁশের চাঁই ব্যবহারের ফলে ছোট প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। চাঁই ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির দেশী মাছের পোনা ও ছোট বড় মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। গ্রাম-গঞ্জে বাঁশের তৈরী চাঁই পেতে মাছের বংশ নষ্ট করছে এক শ্রেনীর অসাধু জেলেরা।

অন্যদিকে বিভিন্ন খালে ও ডোবায় অধিক হারে কীটনাশকযুক্ত পানি প্রবেশ করার কারনে মাছের বংশ বিস্তার করতে পারছে না। এই সব অবৈধ চাঁই প্রতিরোধ করতে না পারলে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তারপরও থেমে নেই মাছ শিকারে অসাধু জেলেরা। ফলে ভবিষ্যতে দেশী প্রজাতির ছোট-বড় মাছ রুপকথার গল্পের মত হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন : দীর্ঘ ৮ বছর পর পটুয়াখালী-কুয়াকাটার ১১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ

জেলায় মাছের ক্ষেত্র হিসাবে পরিচিত আলীপুরা, বাঁশবাড়িয়া, রনগোপালদী, চরবোরহান, দশমিনা, গলাচিপা, ছোট বিঘাই, দুমকি, মির্জাগঞ্জ, সুবীধখালী, কলাপাড়া, আনন্দপুর, বেতাগী সানকিপুর ইত্যাদি ইউনিয়নসহ চরাঞ্চল এলাকা ছোট-বড় খাল এখন মাছ শূন্য হয়ে গেছে।

উল্লেখিত এলাকায় বোয়াল, মাগুর, শিং, কৈ, টেংরা, শোল, টাকি, পুটি, গজার, চাপিলা, খৈইলশা, পাবদা, আইড়, চিংড়ি, মলা, বাইন, বেলে সহ অর্ধ শতাধিক প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত হবার পথে রয়েছে। বিশেষ করে নদীর মাছ হিসাবে পরিচিত পোয়া, ইলিশ, আইড়, রিটা যার দেখা এখন অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। অত্র অঞ্চলের সোনার হরিণ হিসাবে পরিচিত ইলিশ মাছ যেন এখন হয়ে গেছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত জালের অবাধ ব্যবহার, কৃষি জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার, বর্ষাকালে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মা মাছ সহ পোনা নিধন, শুস্ক মৌসুমে মাছ ধরার প্রবনতা এবং মাছের বিচরন ক্ষেত্র কমে যাওয়া সহ প্রভৃতি কারনে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ফসল হিসাবে পরিচিত মৎস্য সম্পদ আজ বিলুপ্ত হতে চলছে। এছাড়া মাছের প্রজনন মৌসুম ও পোনা মাছের বৃদ্ধিকালীন সময় অবাধে ছোট-বড় মাছ ধরা এবং মৎস্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় মৎস্য সম্পদ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বিগত ২০ বছর আগে গ্রামাঞ্চলে সর্বত্র দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও এখন আর সেই অবস্থা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা গুলোর বিভিন্ন হাট-বাজারে অবৈধ ভাবে বাঁশের তৈরী চাঁই বিক্রি করে থাকে স্থানীয় ও সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীরা। বৈশাখ থেকে ভাদ্র মাসের শেষ পর্যন্ত জেলার ৭টি উপজেলাতেই ধানী জমি ও খাল-বিল, ডোবা-নালাতে বাশেঁর চাঁই পেতে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ ও বড় মাছ শিকার করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মাছ শিকারের জন্য ব্যবহারিত নিয়ম কানুন না মেনে অবৈধ ভাবে চাই পেতে মাছ শিকারে মেতে উঠেছে অসাধু জেলেরা। এ সকল অসাধু জেলেরা দুই সুতাঁ পরিমান ফাঁকা রেখে বাশেঁর চাঁই তৈরী করে ব্যবহার করছে। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশ নষ্ট করছে। আর দেশীয় মৎস্য প্রজনন কমে যাচ্ছে।

আরো পড়ুন : নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজি খাদে, নিহত ২

অন্য দিকে এ অঞ্চলের মানুষের মাছের আকাল দিন দিন বেড়েই চলছে। এমতাবস্থায় বাঁশের চাঁই ব্যবহার দ্রুত বন্ধ না করলে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে দেশীয় মাছ রুপকথার গল্পের মত
থেকে যাবে।

এই বিষয়ে দশমিনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন,বাশেঁর চাঁই দিয়ে মাছ শিকারের কারনে এই অঞ্চলের দেশী বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন কমে যাচ্ছে। দেশী প্রজাতির মাছ রক্ষায় জেলেদেরকে সচেতন করা হবে।




আজ চৈত্র সংক্রান্তি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আজ শনিবার (১৩ এপ্রিল) ১৪৩০ বঙ্গাব্দের শেষ দিন। এদিন পালিত হবে চৈত্র সংক্রান্তি। আগামীকাল রোববার পয়লা বৈশাখ-নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩১। এদিন জীর্ণ পুরাতন সবকিছু ভেসে যাক, ‘মুছে যাক গ্লানি’ এভাবে বিদায়ী সূর্যের কাছে এই আহ্বান জানাবে বাঙালি।

আবহমান বাংলার চিরায়িত বিভিন্ন ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসছে এই চৈত্র সংক্রান্তি। বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান-উৎসবের আয়োজন। মনে করা হয়, চৈত্র সংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পয়লা বৈশাখ উদযাপনের এত আয়োজন।

চৈত্র সংক্রান্তির দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্র মেনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস করে থাকেন। নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন।

এছাড়াও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে নানা ধরনের মেলা ও উৎসব হয়। হালখাতার জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠিখেলা, গান, সংযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য, শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে উদযাপিত হয় চৈত্র সংক্রান্তি।

চৈত্র সংক্রান্তির প্রধান উৎসব চড়ক। চড়ক গাজন উৎসবের একটি প্রধান অঙ্গ। এ উপলক্ষে গ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে অন্য গ্রামের শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। একজন শিব ও একজন গৌরী সেজে নৃত্য করে এবং অন্য ভক্তরা নন্দি, ভৃঙ্গী, ভূত-প্রেত, দৈত্য-দানব সেজে শিব-গৌরীর সঙ্গে নেচে চলে।




ঈদের দিন প্রকাশ্যে তরুণীকে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঈদের দিন দুপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় এক তরুণীকে দফায় দফায় নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ধারণকৃত ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ঈদের দিন দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া শৌলা সড়কের সাদা পায়েজামা ও কালো পাঞ্জাবি পরা ২৬-২৭ বছরের এক তরুণ ও কালো সেলোয়ার কামিজ পরা এক তরুণী হাত ধরে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে হেঁটে যাচ্ছেন। তরুণের পিছনের দিকে কালো পাঞ্জাবি অর্ধেক ছেড়া।
হেঁটে যাওয়ার একপর্যায়ে ওই তরুণ তরুণীকে একটি নির্মাধীন ভবনের সামনে কিলঘুষি মারছেন। চুল ধরে টানাটানি করছেন। ওই তরুণ সামনের দিকে হাঁটতে থাকলে তরুণীটি পিছন থেকে তরুণের হাত ধরে ফেলে । এরপর দুজনে হেঁটে সামনে এ গিয়ে তরুণটি ওই তরুণীকে আবার ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়।

আরো পড়ুন : আল্লাহর কাছে ছেলেকে ভিক্ষা চাইছিলাম’

তরুণীটি উঠে পুনরায় ওই তরুণেরর হাত ধরে এবং সামনে হাঁটতে থাকে। একপর্যায়ে জনৈক জামাল স্যারের বাসার সামনে ওই তরুণ তরুণীটিকে চুলের মুঠি ধরে কিলঘুষি মারতে থাকেন এবং ধাক্কা মেরে রাস্তার পাশে ফেলে দেন। এভাবে দফায় দফায় তরুণীকে মারধর করা হয়।

ওই সময় রাস্তা দিয়ে যানবাহন ও পথচারীরা চলচল করলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। ঈদের দিন সন্ধ্যার দিকে ৪৬ সেকেন্ডে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মা্যেমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পরলে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজনরা ভিডিওর নিচে নানা ধরনের কমেন্ট করছেন।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিন ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, নির্যাতিন তরুনীর নাম মিম। তার বাবার নাম মিলন। কালাইয়া  লঞ্চ ঘাট এলাকায় তাদের বাসা। গত এক বছর আগে উপজেলার চন্দ্রদ্বিপ ইউনিয়নের কামরুল নামের এক তরুনের সাথে তার বিয়ে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্যাতিত ওই তরুণীর এক ঘনিষ্ঠ আত্বীয় জানান, ঈদের দিন ওই তরুন তার শ্বশুরের বাসায় আসেন। এরপর স্ত্রীর সাথে মান অভিমান করে বাসা থেকে বেড় হয়ে যান। স্ত্রীও তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে রাস্তায় বসে তাদের মাঝে মারামারি, ধস্তাধস্তি ও টানাটানির ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন : অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে কিশোরীর মৃত্যু

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক পথচারী বলেন, তরুণটি জোড় কদমে হেঁটে যাচ্ছেন। তরুণীটি তার পিছন দিক থেকে কালো পাঞ্জাবি ধরে তাকে থামানোর চেষ্টা করতেই পাঞ্জাবিটির পেছনের অংশ ছিঁড়ে যায়। তখন ওই তরুণ ক্ষুব্ধ হয়ে তরুণীটিকে কিলঘুষি মারতে থাকেন। এভাবে তরুণীটিকে কয়েক দফা মারধর করা হয়।

এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, ভিডিওটি তিনি দেখেছেন। তবে নির্যাতিত তরুণীর পক্ষ থেকে থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।




একসঙ্গে ৬ সন্তান জন্ম দিলেন গৃহবধূ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  টাঙ্গাইলের সখীপুরে একসঙ্গে ছয় সন্তান জন্ম দিয়েছেন সুমনা আক্তার (২৬) নামের এক গৃহবধূ। তবে জন্মের পরে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে তিনি ছয় সন্তান জন্ম দেন।

সুমনা আক্তার উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা কড়ইচালা এলাকার ফরহাদ মিয়ার স্ত্রী।

প্রবাসীর মামা শাহজাহান মিয়া জানান, সকালে ব্যথা উঠলে সুমনা আক্তারকে প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে তার পেটে ছয়টি বাচ্চার বিষয় নিশ্চিত হন। পরে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে চারটি মেয়ে ও দুটি ছেলে প্রসব করেন তিনি। জন্মের কিছুক্ষণ পর ছয় নবজাতক মারা যায়।

এ বিষয়ে বহুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরকার নূরে আলম মুক্তা জানান, ছয় সন্তান জন্মের বিষয়টি শুনেছি। জন্মের পর তারা মারাও গেছে। এ ঘটনায় ওই পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।