জন্মের ৫ ঘণ্টার মাথায় সন্তানকে হাসপাতালে রেখে চলে গেলেন মা!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৫ ঘণ্টার মাথায় হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে মা সানজিদা আক্তার পপির (২২) নামে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আব্দুর রবের ছেলে আলামিন ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মোজাম্মেল চৌকিদারের মেয়ে সানজিদা আক্তার পপির দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকত। এ ছাড়া এ নিয়ে থানা পুলিশও হয়েছে কয়েকবার।

আরো পড়ুন : পর্যটকদের মন কাড়ছে কুয়াকাটার কীটনাশকমুক্ত শুঁটকি

ভুক্তভোগী আলামিন বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার শাশুড়ি তার মেয়েকে নানান ধরনের কুবুদ্ধি দিয়ে আসছেন। এমনকি আমার সঙ্গে বিয়ের আগে সানজিদা অন্য একটা ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল তা গোপন করে আমার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে। তাও আমি মেনে নিয়ে সংসার করার চেষ্টা করেছি। একপর্যায়ে সানজিদার পেটে বাচ্চা এলে তার মা বাচ্চাকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করে; কিন্তু আমার জন্য পারেনি। গত সোমবার সানজিদাকে দুমকি হাসপাতালে নিয়ে ওষুধ খাইয়ে বাচ্চা নষ্ট করতে চেয়েছে।

কিন্তু চিকিৎসক সানজিদাকে পটুয়াখালী সদর হসপিটাল রেফার করেন এবং নরমাল ডেলিভারিতে মঙ্গলবার দুপুরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন। বাচ্চা জন্ম নেওয়ার ৫ ঘণ্টার মাথায় হাসপাতাল থেকে আমার শাশুড়ি আমার নবজাতক বাচ্চা ফেলে রেখে তার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যান।

আরো পড়ুন : বেড়েই চলছে গরমের তীব্রতা, নিম্নআয়ের মানুষ দিশেহারা

এ বিষয়ে সানজিদার বাবা মোজাম্মেল চৌকিদার বলেন, আমার মেয়ের সন্তান ডেলিভারির সঠিক সময় হয়নি। কিন্তু আলামিন আমার মেয়ের পেটের ৮ মাসের বাচ্চা নষ্ট করতে দুমকি বাজারে বসে পেটের ওপর লাথি কিল-ঘুষিসহ মারধর করেন। একপর্যায়ে আমি আমার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ব্লিডিং শুরু হয়। পরে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে নরমাল ডেলিভারিতে মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। তবে বাচ্চা জন্ম নেওয়ার পর পরিপূর্ণ বয়স না হওয়ায় অসুস্থ ছিল। তাই আমরা বাঁচার জন্য তাদের পরিবারের হাতে বাচ্চা বুঝিয়ে দিয়ে আমার মেয়ে নিয়ে চলে আসি।




তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাবে!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : তীব্র গরমে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জনজীবন যখন অস্থির হয়ে উঠেছে, তখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কিছু জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসলেও সেটি খুব বেশি স্থায়ী হবে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

গত কয়েক বছর যাবত দেখা যাচ্ছে, বৈশাখ মাসের এই সময়টিতে তাপমাত্রা এ রকম থাকে এবং এবারো সেটির ব্যতিক্রম হয়নি।

এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে উদ্বেগও বাড়ছে। সাধারণত দেখা যায়, গরম বাড়লে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেয়।

এমন অবস্থায় আবহাওয়া অধিদফতর যে পূর্বাভাস দিচ্ছে সেটি গরম নিয়ে দুশ্চিন্তা আরো বাড়িয়ে তুলছে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, আগামী ২০ এপ্রিলের পরে গরমের তীব্রতা আরো বৃদ্ধির পূর্বাভাস করা হচ্ছে।

‘আগামী ২০ তারিখের পর বিভিন্ন জায়গায় গরমের ব্যাপ্তি আরো বাড়বে,’ আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

দেশের কিছু জায়গায় ইতোমধ্যে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব জায়গা হচ্ছে – রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গা।

আবহাওয়া অধিদফতর বলেছে, মৃদু তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা থাকে ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা থাকে ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপ প্রবাহের তেমন কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছে না আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেছেন, কয়েকদিন পরে ময়মনসিংহ, সিলেট এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। তবে তাতে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা কম বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘যে বৃষ্টিপাত হবে তাতে গরমের তীব্রতা কমবে না। গরমের তীব্রতা কমে আসার জন্য যে ধরনের বৃষ্টিপাত প্রয়োজন সেটির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না,’ বলেন তিনি।

আজ (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, গত বছরের ১৬ এপ্রিল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। তখন তাপমাত্রা ছাড়িয়েছিল ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী সপ্তাহ নাগাদ ঢাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

ছবি ও কনটেন্ট বিবিসি বাংলার সৌজন্যে। 




শাওয়াল মাসের ছয় রোজার ফজিলত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পবিত্র রমজান মাস ছিল মুমিনের আমলের মৌসুম। এ মাসের আমলগুলো যেন পুরো বছর অব্যাহত থাকে সেটাই এ মাসের প্রধান শিক্ষা। এর মাধ্যমে রোজার সামর্থ্যের জন্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়। কোরআনে রোজা রাখার নির্দেশের পরই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কথা এসেছে।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম দিক হলো, আমল করা অব্যাহত রাখা। এর মধ্যে রমজানের পর শাওয়ালের ছয় রোজা রাখা গুরুত্বপূর্ণ আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ রোজা রাখতেন এবং সাহাবাদের তা রাখার নির্দেশ দিতেন।

আবু আইউব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রমজানে রোজা রাখবে এবং পরবর্তী সময়ে শাওয়ালের ছয় রোজা রাখবে সে যেন পুরো বছর রোজা রাখল।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬৪)ছয় দিনের রোজায় পুরো বছরের সওয়াব : রমজান মাসে রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসে আরো ছয়টি রোজা রাখলে পুরো বছর রোজার সওয়াব পাওয়া যায়। সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ সব ভালো কাজের প্রতিদান ১০ গুণ করে দেন। তাই রমজান মাস ১০ মাসের সমতুল্য এবং পরবর্তী (শাওয়াল মাসের) ছয় রোজার মাধ্যমে এক বছর পূর্ণতা লাভ করে। (নাসায়ি : ২/১৬২)

পুরো বছর সওয়াব হয় যেভাবে মূলত রমজান মাসের রোজার পর অতিরিক্ত ছয় রোজা মিলে সাধারণত ৩৬টি রোজা হয়। আর তা ১০ গুণ করলে মোট ৩৬০টি হয়। কারণ মুমিনের যেকোনো আমলের সওয়াব ১০ গুণ করে দেওয়া হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ কোনো ভালো কাজ করলে সে তার ১০ গুণ পাবে। আর কেউ কোনো খারাপ কাজ করলে তাকে শুধু তার প্রতিফলই দেওয়া হবে; তাদের ওপর কোনো জুলুম করা হবে না। (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬০)

রমজানের রোজার পরিপূরক : নফল আমলের মাধ্যমে ফরজের ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করা হয়। তেমনি শাওয়ালের রোজার মাধ্যমে রমজানের রোজার ত্রুটিগুলো পূর্ণ করা হবে। নামাজ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার ফরজ নামাজের হিসাব করা হবে। তা ঠিক থাকলে সে সফলকাম। আর তাতে সমস্যা হলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর কোনো ফরজ আমলে অপূর্ণতা দেখা দিলে মহান রব বলবেন, তোমরা দেখো, আমার বান্দার কি কোনো নফল নামাজ রয়েছে? নফল থাকলে তা দিয়ে ফরজকে পরিপূর্ণ করা হবে। এভাবে সব ফরজ আমলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ করা হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৪১৩)




রেকর্ডময় ‘ব্লকবাস্টার’ ম্যাচে কোহলিদের হারাল হায়দরাবাদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ট্রাভিস হেডের সেঞ্চুরিতে আইপিএলে নিজেদের গড়া সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। জবাবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও কম যায়নি।

দীনেশ কার্তিকের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে রানের পাহাড়ে চড়েছে তারাও। দুই দল মিলে গড়েছে বেশ কয়েকটি রেকর্ড।শেষ পর্যন্ত ব্লকবাস্টার ম্যাচটিতে জয় পেয়েছে হায়দরাবাদ।

বেঙ্গালুরুর ঘরের মাঠ এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আজ ২৫ রানে জিতেছে হায়দরাবাদ।

আগে ব্যাট করে তারা ৩ উইকেটে ২৮৭ রানের অবিশ্বাস্য সংগ্রহ গড়ে। যা স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

এর আগে এশিয়ান গেমসে ৩ উইকেটে ৩১৪ রান তুলেছিল নেপাল। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে হায়দরাবাদের রানই সর্বোচ্চ।

আইপিএলের ইতিহাসে শীর্ষ পাঁচ দলীয় সংগ্রহের ৪টিই হয়েছে এবারের আসরে। এর মধ্যে আজকেই হয়েছে দুটি রেকর্ড। হায়দরাবাদের ছুড়ে দেওয়া লক্ষ্য তাড়ায় ৭ উইকেটে ২৬২ রান তুলতে পারে বেঙ্গালুরু। আইপিএলে লক্ষ্য তাড়ায় যা কোনো দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

দুই দল মিলে তুলেছে ৫৪৯ রান, যা আইপিএল তো বটেই, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেই সর্বোচ্চ। তাছাড়া আইপিএলে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ছক্কা (৩৮টি) ও চারের (৪৩) রেকর্ডও হয়েছে আজ। চার ও ছক্কা হয়েছে মোট ৮১টি। এর আগে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে সমান বাউন্ডারি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও উইন্ডিজ ম্যাচে।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দুই ওপেনার বিরাট কোহলি ও ফাফ ডু প্লেসির ব্যাটে ঝোড়ো শুরু পায় বেঙ্গালুরু। দুজনের জুটিতে আসে ৮০ রান। ২০ বলে ৪২ রান করে কোহলি বোল্ড হয়ে ফিরলে ভাঙে এই জুটি। সেই ধাক্কার পর দলীয় ১২২ রান তুলতেই আরও ৪ উইকেট হারায় বেঙ্গালুরু।

ধুঁকতে থাকা বেঙ্গালুরু দশম ওভারে ম্যাচ থেকে একপ্রকার ছিটকেই যায়। কিন্তু এরপরই বেঙ্গালুরুর আশার আলো হয়ে আসেন কার্তিক। প্রায় একাই দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন তিনি। মাত্র ২৩ বলে তিনি তুলে নেন ফিফটি। ১১ বলে ১৯ রান করে তাকে প্রথমে সঙ্গ দেন মহিপাল লোমরোর।

কার্তিক যেভাবে ব্যাট করছিলেন, তাতে ম্যাচ বেঙ্গালুরুর দিকেই হেলে পড়তে শুরু করেছিল এক পর্যায়ে। কিন্তু লক্ষ্যটা অনেক বেশি হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। শেষ ১২ বলে ৫৮ রান দরকার ছিল তাদের। ১৯তম ওভারের প্রথম ৪ বলে ১৪ রান তুলে ফেলেন কার্তিক। কিন্তু পঞ্চম বলে কাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন তিনি।

মাত্র ৩৫ বলে ৮৩ রান করেন কার্তিক। যা ৫টি চার ও ৭টি ছক্কায় সাজানো। এমনকি শেষ ওভারে অনুজ রাউত ৪ চারে ২০ রান তুলে ফেলেছিলেন। কিন্তু জয় থেকে ২৫ রান পেছনে রয়ে যায় তারা।

এর আগে শুরু থেকেই বেঙ্গালুরুর বোলারদের তুলোধুনো করে হায়দরাবাদের ওপেনাররা। ট্রাভিস হেড তো ছিলেন একদমই বিধ্বংসী রূপে। অভিষেক শর্মাকে সঙ্গে করে ১০৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন তিনি।

অভিষেক ৩৪ রানে ফিরে গেলেও হেড তাণ্ডব চালাতেই থাকেন। মাত্র ৩৯ বলে স্পর্শ করেন সেঞ্চুরি। যা  আইপিএল ইতিহাসে চতুর্থ দ্রুততম। সেঞ্চুরির পর অবশ্য এই অজি ওপেনার অবশ্য মাত্র দুই বলই টেকেন। তবে বাকি ব্যাটারদের জন্য বিধ্বংসী শুরুর সুর বেঁধে দিয়েছেন। ৪১ বলে ৯ চার ও ৮ ছক্কায় ১০২ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

হায়দরাবাদের ঝড় তখনো থামার নাম নেই। হেডের জায়গায় বসে বেঙ্গালুরুর বোলারদের কচুকাটা করতে থাকেন হাইনরিখ ক্লাসেন। মুম্বাইয়ের বিপক্ষে সেদিন ভয়ানক রূপে থাকা এই প্রোটিয়া ব্যাটার আজও ছক্কার বৃষ্টি বইয়ে দেন। খেলেন ৩১ বলে ২ চার ও ৭ ছক্কায় ৬৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস।

ক্লাসেন যখন আউট হন তখনো ইনিংস শেষ হতে তিন ওভার বাকি ছিল। সেই তিন ওভারে ৫৬ রান তোলেন এইডেন মারক্রাম ও আব্দুল সামাদ। ১৭ বলে  ২ চার ও ২ ছক্কায় মারক্রাম ৩২ ও সামাদ ১০ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

সব মিলিয়ে এই ইনিংসে ২২টি ছক্কা মেরেছেন হায়দরাবাদের ব্যাটাররা। যা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। এর আগে একই মাঠে পুনে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ২১টি ছক্কা মেরেছিল বেঙ্গালুরু।

প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৯ দিন আগে গড়া নিজেদের রেকর্ড ভাঙে হায়দরাবাদ। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ২৭৭ রান করে আইপিএলে দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ গড়েছিল তারা। ভেঙেছিল ১১ বছর ধরে টিকে থাকা বেঙ্গালুরুর রেকর্ড। নিজেদের গড়া রেকর্ড আজ ভাঙে হায়দরাবাদ।

বল হাতে বেঙ্গালুরুর চারজন বোলার খরচ করেছেন ৫০-এর অধিক রান। এককথায় আজ বেঙ্গালুরুর ঘরের মাঠ ছিল বোলারদের বধ্যভূমি। হায়দরাবাদের বোলারদের ওপর ঝড় বয়ে গেছে সমানতালে। তবে ভুবনেশ্বর কুমার ৬০ রান খরচ করলেও পেয়েছেন ৪ উইকেট।

এই জয়ে ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট হলো হায়দরাবাদের। যা তাদের তুলে আনলো পয়েন্ট টেবিলের চারে। দুই ও তিনে থাকা কলকাতা নাইট রাইডার্স ও চেন্নাই সুপার কিংসেরও পয়েন্টও ৮। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে আছে তারা। আর কলকাতা ম্যাচ খেলেছে ৫টি। শীর্ষে থাকা রাজস্থান রয়্যালসের সংগ্রহ ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট।




মোবাইলের অব্যবহৃত অ্যাপ যেভাবে অটো আর্কাইভ করবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্টোরেজ দেওয়া থাকলেও প্রয়োজনের থেকে বেশি অ্যাপ থাকলে ডিভাইসের স্টোরেজ দখল করে নেয়।

সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েড একটি অপশন চালু করেছে যেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আর্কাইভ হয়ে যাবে ফোনের অব্যবহৃত অ্যাপ।

২০২৩ সালের এপ্রিলে প্লে স্টোরের মাধ্যমে চালু হয় অ্যান্ড্রয়েডের অটো-আর্কাইভ। এ ফিচারটি ব্যবহারকারীরা যেসব অ্যাপ ব্যবহার করছেন না, সেগুলো বাদ দিয়ে ফোনে নতুন অ্যাপ ইনস্টল করার জায়গা তৈরি করে।

এটি কার্যকর ফিচার হলেও কেবল তখনই পাওয়া যেত যখন ফোনের স্টোরেজ শেষ। সম্প্রতি গুগল এ ফিচার আপডেট করেছে। এখন ফোনে যতটুকু স্টোরেজই থাকুক না কেন, চালু করা যাবে অটো আর্কাইভ ফিচারটি। গুগলের প্লে স্টোরের একটি টগলের মাধ্যমেই ব্যবহারকারীরা এ ফিচার চালু করতে পারবেন।

গুগল বলছে, এ ফিচারটি কেবল তখনই অ্যাপগুলো আর্কাইভ করবে যখন একজন ব্যবহারকারীর ফোনের জায়গা একেবারে কমে আসবে। কেউ ফোনে অনেক ফাঁকা জায়গা নিয়ে ফিচারটি চালু করা হলেও, স্টোরেজের সংকট না দেখা দেওয়া পর্যন্ত অ্যাপগুলো আর্কাইভ করা হবে না।

যেভাবে ফিচারটি চালু করবেন

অটো-আর্কাইভ ফিচারটি চালু করতে প্রথমে অ্যান্ড্রয়েডের প্লে স্টোর অ্যাপটি চালু করতে হবে। সেখান থেকে নিজের প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করতে হবে। এরপরে ‘সেটিংস’ অপশনে যেতে হবে। সেটিংসের ‘জেনারেল’ বিভাগে প্রবেশ করলেই ‘অটোমেটিকালি আর্কাইভ অ্যাপস’ নামের টগলটি চালু করে দিতে হবে।

যখন ফোন বিভিন্ন অ্যাপ আর্কাইভ করা শুরু করবে, প্লে স্টোরে ব্যবহারকারীর অ্যাপ লাইব্রেরির ‘আর্কাইভড’ শিরোনামের নিচে অ্যাপগুলোর তালিকা দেখা যাবে।




ভিটামিন ডির ঘাটতি হয় কেন, ৭ লক্ষণ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ভিটামিন ডি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর ঘাটতি শরীরের নানা রকম ঝুঁকির কারণ হয়।

খাদ্যে ভিটামিন ডির অপ্রতুলতা এবং সূর্যরস্মির অভাবে অনেকের শরীরেই ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হয়। ভিটামিন ডি শরীরের বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে যেকোনো বয়সী মানুষ।

যেসব কারণে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হতে পারে, তাদের মধ্যে নিম্নলিখিত কারণগুলো উল্লেখযোগ্য। যেমন :

• শরীরের রং বেশি কালো হওয়া
• বয়স্ক হলে
• অতিরিক্ত ওজন
• পর্যাপ্ত মাছ বা দুধ না খাওয়া
• অতিরিক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা
• সবসময় ঘরে বসে থাকা ইত্যাদি

ভিটামিন ডি কমে যাওয়ার লক্ষণ

১. ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে ভিটামিন ডি। প্রায়ই সর্দি-কাশি বা ফ্লুতে ভোগার জন্য দায়ী হতে পারে ভিটামিন ডি-এর কম মাত্রা।

২. ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড়, জয়েন্ট, পিঠ ও স্নায়ুতে ব্যথা হতে পারে।

৩. ভিটামিন ডি-এর অভাবের সঙ্গে বিষণ্নতার সম্পর্ক রয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই বিষণ্ন লাগলে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা পরীক্ষা করে নিন।

৪. অত্যধিক চুল পড়া হতে পারে ভিটামিন ডি কমে যাওয়ার লক্ষণ।

৫. অস্ত্রোপচার বা আঘাতের পরে ধীরে ধীরে ক্ষত নিরাময় হওয়া ভিটামিন ডি অভাবের লক্ষণ হতে পারে।

৬. বাড়তি ওজনের কারণ হতে পারে অপর্যাপ্ত ভিটামিন ডি।

৭. ক্লান্তবোধ করা ভিটামিন ডি কমে যাওয়ার লক্ষণ। শরীরের এনার্জি লেভেল কমতে শুরু করে এই ভিটামিনের অভাবে, ফলে অল্প কাজ করেও লাগতে পারে ক্লান্ত।

ভিটামিন-ডি পাওয়া যায় যেসব খাবারে

ভিটামিন-ডি একটি ফ্যাট সলিউবল সিকুস্টারয়েড। এর কাজ হচ্ছে দেহের অন্ত্র (ইনটেসটাইন) থেকে ক্যালসিয়ামকে শোষণ করা; এটি আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফসফরাসকেও দ্রবীভূত করে। ভিটামিন-ডি নিয়ে আগে এত কথা না হলে বর্তমানে এ বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। পুষ্টিবিদরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন-ডি জাতীয় খাবার রাখার পক্ষে জোর দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন-ডি’র অভাবে শিশুদের দেহের হাড় ঠিকমতো বৃদ্ধি পায় না এবং হাড় বাঁকা হয়ে যায়। এর অভাবে বয়স্ক লোকদের হাড় নরম হয়ে যায়; আলঝেইমার রোগ হতে পারে। যাঁদের দেহে ভিটামিন-ডি’র অভাব রয়েছে, তাঁদের অ্যাজমার সমস্যা হতে পারে।

মাছ

বিভিন্ন মাছে রয়েছে ভিটামিন-ডি। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত মাছ, যেমন : স্যালমন, সারদিনস, টুনা, ম্যাককেরেল ইত্যাদি। দৈনিক ভিটামিন-ডি’র চাহিদার ৫০ শতাংশ পূরণ হতে পারে একটি টুনা মাছের স্যান্ডউইচ বা তিন আউন্স ওজনের একটি স্যালমান মাছের টুকরো থেকে।

মাশরুম

মাশরুমে রয়েছে ভিটামিন-ডি। পরটোবেললো মাশরুম সূর্যের আলোয় বড় হয়, এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-ডি। তাই চাহিদা পূরণে নিয়মিত মাশরুম খেতে পারেন।

কমলার জুস

বাজারে কিছু ভালো ব্র্যান্ড রয়েছে, যারা কমলার জুস তৈরিতে ভিটামিন-ডি যোগ করে। অন্যান্য জুসের মধ্যে এটি দেওয়া হলেও কমলার জুস ভিটামিনের উপাদান ধরে রাখতে পারে। তাই ভিটামিন-ডি’র জন্য ভালো ব্র্যান্ডের জুসও খাওয়া যেতে পারে। তবে খাওয়ার আগে প্যাকেটের গায়ে দেখে নিন, কী কী উপাদান দিয়ে তৈরি হয়েছে এটি।

ডিম

ডিমে হালকা পরিমাণ ভিটামিন-ডি রয়েছে। তবে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে, তাঁদের ডিমের কুসুম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জাতীয় খাবার

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জাতীয় খাবারে ভিটামিন-ডি রয়েছে, যেমন : গরুর মাংসের লিভারে ভিটামিন-ডি আছে। তবে এটা রান্না করে খাওয়ার চেয়ে অনেকেই হয়তো দুধ থেকে ভিটামিন-ডি খেতে বেশি পছন্দ করবেন।

 




পটুয়াখালী মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন চিকিৎসক হবেন?

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসক তৈরির নামে জোড়াতালির পাঠদানে স্বাস্থ্যখাত ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

এ ছাড়াও ল্যাব-আবাসন সংকটের পাশাপাশি শিক্ষক সংকটেও নেই মাথাব্যথা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও কার্যত কোনো ফল মিলছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজটি ২০১৪ সালে যাত্রা শুরুর পর ২০১৬ সালে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালে হস্তান্তর হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফায় সময় বাড়িয়েও এখনও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।

আরো পড়ুন : পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত কুয়াকাটা

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কলেজের একাডেমিক ভবনের কাজ। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি নিয়েই পাঠদান কার্যক্রম চলছে। কোনো ল্যাব এখনও না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিশ্চিত হচ্ছে না গুণগত মান; রয়েছে আবাসন সংকটও।

শুধু তাই নয়, বছরের পর বছর শিক্ষক সংকটেও ভুগছে প্রতিষ্ঠানটি। ৭৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩০ জন। সংকটের বিষয়ে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ফল আসেনি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্র্যাকটিক্যাল রিলেটেড ক্লাসগুলো থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। পাঠদানে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, সরঞ্জামেরও অভাব রয়েছে। তাহলে বলেন, এখানে পড়ে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন চিকিৎসক হবেন?

আরো পড়ুন : বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন টাইগারদের নতুন কোচ

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মনরিুজ্জামান বলেন, প্রতিমাসই মাসিক প্রতিবেদন আমরা অধিদফতরের পাঠাই। আমাদের কতোটা পদ খালি আছে সেটার বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের প্রকল্প পরিচালক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের একাডেমিক ভবনটা আসলে কীভাবে রেডি করা যায় সে বিষয়ে কাজ করছি। সে বিষয়ে তাগেদাও দেয়া হচ্ছে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে বর্তমানে ১০ ব্যাচসহ ৩২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।




কর্মস্থলে ফেরার সময় গুরুত্বপূর্ণ ৬ দোয়া

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ঈদ ছুটি শেষ হওয়ার পর জীবনের প্রয়োজনে আবারও কর্মস্থলে ফেরার সময় হয়ে গেছে। তাই চাকরিজীবী, শ্রমজীবী কিংবা ব্যবসায়ীরা পরিবার পরিজনের মায়া ছেড়ে কর্মস্থলে ফেরার সময় ৬টি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া পাঠ করার শিক্ষা রয়েছে হাদিসে। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো।

১. ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া 
بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللَّهِ উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’ অর্থ : আল্লাহর নামে, আল্লাহ তাআলার ওপরই নির্ভর করলাম, আল্লাহ তাআলার সাহায্য ছাড়া বিরত থাকা ও মঙ্গল লাভ করার শক্তি কারো নেই।’
আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যদি কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দোয়াটি পড়ে, তাকে বলা হয় (আল্লাহ তাআলাই) তোমার জন্য যথেষ্ট, তুমি হেফাজত অবলম্বন করেছ (অনিষ্ট থেকে)। তাতে শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়। (তিরমিজি: ৩৪২৬)।

২. পরিবার পরিজনের জন্য দোয়া
أَسْتَوْدِعُكَ اللهَ الَّذِي لَا تَضِيعُ وَدَائِعُهُ উচ্চারণ: ‘আসতাওদিউকাল্লাহাল্লাজি লা তাদীউ ওয়াদা-ইউহু’ অর্থ: ‘আমি তোমাকে আল্লাহর আমানতে সোপর্দ করলাম, যাঁর নিকট সোপর্দকৃত জিনিস ধ্বংস হয় না।’ (ইবনে মাজাহ: ২৮২৫)।

৩. যানবাহন কিংবা নৌযানে আরোহনের দোয়া
বাহনে আরোহনের দোয়া: سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সুবহানাল্লাজি সাখখারালানা হা-যা ওয়া-মা-কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুন কালিবুন।’ অর্থ: ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি অত্যন্ত দয়ালু ও অশেষ করুণাময়। তিনি পূতপবিত্র ওই সত্তা যিনি বাহনকে আমার অধীন করে দিয়েছেন। আমাদের কাছে তাকে আয়ত্তে আনার ক্ষমতা ছিল না। অবশ্যই আমরা আমাদের প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।’ (শামায়েলে তিরমিজি: ১৭৩)
নৌযানে চড়ার দোয়া: بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا وَمُرْسَاهَا إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَحِيمٌ উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহি মাজরিহা ওয়া মুরসা-হা, ইন্না রাব্বি লা গাফুরুর রহিম।’ অর্থ: ‘আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ন, মেহেরবান।’ (সুরা হুদ: ৪১)।

. ভ্রমণের মাঝপথে দোয়া
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ الله التَّامَّاتِ من شَرِّ ما خَلَقَ উচ্চারণ: ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।’ অর্থ: ‘আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমার মাধ্যমে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা চাচ্ছি।’ ভ্রমণের মাঝপথে এ দোয়া পড়ার নির্দেশ দিয়ে রাসুল (স.) বলেন, ‘এই দোয়াটি পড়লে, ঘরে ফেরা পর্যন্ত কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না।’ (মুসলিম: ২৭০৮)।

৫. সফর শেষে দোয়া
آيِبُونَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ উচ্চারণ: ‘আয়িবুনা ইনশাআল্লাহু তায়িবুনা আবিদুনা লি-রাব্বিনা হামিদুন।’ অর্থ: ‘আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাকারী, ইবাদতকারী নিজ রবের প্রশংসাকারী।’ (তিরমিজি: ৩৪৪৭, বুখারি, ওমরা: ১৭৯৭; মুসলিম, হজ: ১৩৪৪)

৬. কর্মেক্ষেত্রে বরকত লাভের দোয়া
اللهم اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عن حَرَامِكَ ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বি হালালিকা আন হারামিক, ওয়াগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।’ অর্থ: হে আল্লাহ! হারামের পরিবর্তে আপনার হালাল রুজি আমার জন্য যথেষ্ট করুন। আর আপনাকে ছাড়া আমাকে কারো মুখাপেক্ষী করবেন না এবং স্বীয় অনুগ্রহ দিয়ে আমাকে সচ্ছলতা দান করুন। (তিরমিজি: ৩৫৬৩; মুসনাদ আহমদ: ১৩২১)।




রাতভর ইরানের হামলা ঠেকাতে ইসরায়েলের খরচ বিলিয়ন ডলার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাতভর ইরানের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকিয়ে দেওয়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করতে ইসরায়েলের ১০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাবেক এক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রিম আমিনোচ ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন কথা জানান। খবর মিডল ইস্ট আই’র।

আমিনোয়াচ বলেন, আমরা যদি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথা বলি; ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র- যা অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে ভূপাতিত করা দরকার, সেগুলো আমরা মূলত যুদ্ধবিমান দিয়ে ভূপাতিত করছি। অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ৩৫ লাখ ডলার, ডেভিডস স্লিংয়ের জন্য ১০ লাখ ডলার, এছাড়া জেট বিমানের জন্যও এ ধরনের খরচ হয়েছে। অর্থাৎ সব খরচ মেলালে ১ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে।

গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার ইরানিয়ান কনস্যুলেটে হামলার প্রতিশোধ নিয়েছে তেহরান। এখন প্রশ্ন হলো ইসরায়েল কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঝে সরাসরি যোগাযোগের কোনো মাধ্যম নেই। আগামী কয়েক ঘণ্টা এবং ভবিষ্যতের দিনগুলোতে তারা বিপজ্জনক যে কোনো সিদ্ধান্ত এড়াতে সক্ষম হবে কিনা সেটাও এখন সবচেয়ে বড় আশঙ্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্ব আরেকটি যুদ্ধের ভার বহন করতে পারবে না।’ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের কারণ হতে পারে-এমন যেকোনো পদক্ষেপ এড়াতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বানও জানিয়েছেন গুতেরেস।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, অঞ্চলব্যাপী (মধ্যপ্রাচ্য) বিধ্বংসী উত্তেজনার প্রকৃত বিপদ সম্পর্কে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি। তারা এমন কোনো পদক্ষেপ যেন না নেয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের কারণ হতে পারে। আমি বারবার জোর দিয়ে বলেছি, এই অঞ্চল বা বিশ্ব আরেকটি যুদ্ধের ভার বহন করতে পারবে না।




এমভি আবদুল্লাহ ছিনতাইয়ে জড়িত ৮ জলদস্যু গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : মুক্তিপণ নেওয়ার পর ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ছেড়ে দিয়েছে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। এমভি আবদুল্লাহকে ছেড়ে দিয়ে তীরে উঠতেই অন্তত আট জলদস্যুকে দেশটির পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সোমালিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘গারোই’ অনলাইনের প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

সোমালিয়ার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পান্টল্যান্ডের একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ জিম্মি করে রাখা আট দস্যুকে গ্রেপ্তার করেছে পান্টল্যান্ড পুলিশ।

তবে তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা উদ্ধার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে, ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দুই দস্যু জানিয়েছে, দুইদিন আগেই মুক্তিপণ হিসেবে তাদের ৫০ লাখ ডলার দেওয়া হয়। এই অর্থগুলো নকল কিনা পরবর্তীতে সেটি যাচাই-বাছাই করে তারা। এরপর নিজেদের মধ্যে অর্থগুলো ভাগ করে তারা জাহাজ থেকে চলে যায়।

মুক্তিপণের মাধ্যমে জাহাজ ছাড়িয়ে নেওয়ার বিষয়টি দস্যুদের আরো জাহাজ ছিনতাইয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পুন্টল্যান্ডের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা।