গলাচিপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় মরিয়ম বেগম (৭) নামের এক শিশুর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের কালির চর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শিশু মরিয়ম বেগম গোলখালীর ৫নং ওয়ার্ডের কালির চর গ্রামের মো: মনির মোল্লার একমাত্র মেয়ে। সে বাড়ির পার্শ্ববতী পূর্ব কালির চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।

জানা গেছে, মরিয়ম বেগমের বংশীয় দাদা শাহজামাল মোল্লার মিশুক গাড়িতে ঘরের সামনেই চার্জ দেয়া হচ্ছিল। মরিয়ম বেগম সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চার্জের ব্যাটারির কাছে যায়। এ সময় পুরুষরা জুমার নামাজে ও মহিলারা রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকায় মরিয়মকে কেউ দেখতে পায়নি। পরে বাড়ির লোকজন তাকে দেখতে পেয়ে গলাচিপা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ফেরদৌস আলম খান জানান, অভিভাবকরা এসেছিলেন। অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।




গলাচিপায় স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে এক তরুণীর অনশন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে অনুপম ভূইয়া (৩০) নামে এক যুবকের বাড়িতে অন্তরা রানী শীল (২২) নামে এক তরুণী অনশন করছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গলাচিপা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গলাচিপা সরকারি হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে শের-ই-বাংলা রোড এলাকায় অনশন করেন ওই তরুণী।

অভিযুক্ত অনুপম ভূইয়া ওই এলাকার অ্যাডভোকেট অরুন ভূইয়ার ছেলে এবং অনশনকারী অন্তরা রানী শীল বরিশাল ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বাশতলা, কাশিপুর নামক এলাকার কৃষ্ণ চন্দ্র শীলের মেয়ে।

আরো পড়ুন : জলকেলিতে মাতোয়ারা রাখাইন কিশোর-কিশোরীরা

অনশনকারী ওই তরুণী স্ত্রীর মর্যাদা না পেলে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি সর্ব মহলের প্রশাসনকে অবহিত করেছেন এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও চেয়েছেন।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্তরা রানী শীল অভিযুক্ত অনুপম ভূইয়ার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার অন্তরা রানী শীল গলাচিপা পৌরসভায় আসেন এবং বিকেল থেকে অনুপম ভূইয়ার বাড়িতে অবস্থানসহ অনশন শুরু করেন। এ সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়িতে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয়রা ভিড় করতে থাকেন।

অনশনকারী ওই তরুণী বলেন, ‘আমার মামা তাপস শীল এক সময় অনুপমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সেই সুবাদে তাদের বাসায় বেড়াতে যেতাম। যাওয়ার পর থেকে অনুপমের সাথে আমার পরিচয়। দীর্ঘ আট বছর ধরে অনুপমের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে এমনকি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা আমাকে ঘুরতে নিয়ে যান অনুপম। ঘুরতে গিয়ে বরিশালের একটি মন্দিরে নিয়ে আমাকে শাখা-সিঁদুর পরিয়ে বিয়েও করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিয়ের আগে ও পরে তিনি (অনুপম) আমার সাথে অসংখ্যবার শারীরিকভাবে মেলামেশা করেছেন। তার প্রমাণ রয়েছে। এরপর হঠাৎ আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন অনুপম। সরকারি চাকরি করবে বলে বিয়ের কথা গোপন রাখতে মিথ্যে প্রলোভনও দেন অনুপম ভূইয়া। এরপর থেকে আজ নয় কাল করে বছরের পর বছর ঘুরাতে থাকে, অনুপমের অন্যেত্রে বিয়ের খবর শুনে আমি (অন্তরা রানী শীল) স্বামীর অধিকার নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলে অনুপমের পরিবার আমার সাথে খারাপ আচরণসহ বাড়ির বাহিরে বের করে দেয়ার চেষ্টা চালায় অনুপমের বাবা অরুন ভূইয়া।’

অন্তরা রানী শীল আরো বলেন, ‘স্বামীর অধিকার আদায়ের জন্য আমরণ অনশন করে আত্মহত্যা করবে বলে, খবরটি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ছে। আমার আর কোথায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। অনুপমের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ না করলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার কোনো পথ নেই। তাই স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনুপমের বাড়িতে অনশন করছি।

আরো পড়ুন : জমে উঠেছে কমলাপুর ইউপি নির্বাচনী প্রচার

বর্তমানে অনুপম গা ঢাকা দিয়েছে। গলাচিপায় বিষয়টি এখন সবার মুখে মুখে।’

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস আলম খান বলেন, ‘খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মেয়ের সিকিউরিটির কথা চিন্তা করে মহিলা পুলিশ নিয়ে রাতে থানা হেফাজতে তরুণীকে রাখা হয়েছে। সমাধান না হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহিউদ্দিন আল হেলাল জানান, ‘বিষয়টি অবগত আছি। দুই পরিবারকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করছি।’




জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের সদস্যপদ আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিয়েছে। বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর ভোট হয়।

১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ১২টি দেশ পক্ষে ভোট দেয়। যুক্তরাষ্ট্র বিপক্ষে ভোট দেয়।

যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার জন্য ফিলিস্তিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করায় যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ভেটো প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র দেখিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের সম্পর্কে তারা আসলে কী ভাবে।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটন মনে করে, ফিলিস্তিনিরা নিজস্ব রাষ্ট্র পাওয়ার যোগ্য নয়।

দ্য গার্ডিয়ান ও আল জাজিরা




জলকেলিতে মাতোয়ারা রাখাইন কিশোর-কিশোরীরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আয়োজন করা হয়েছে তিন দিনব্যাপী রাখাইনদের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলকেলি উৎসব।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মার্কেটে এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। সাংগ্রাই জলকেলি উৎসব উপলক্ষে রাখাইন কিশোর-কিশোরীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের মধ্যে রাখা হয়েছে একটি সাজানো গোছানো নৌকা। নৌকার মধ্যে রাখা হয়েছে পানি। আর এ পানি একে অপরের গায়ে মারছেন রাখাইন কিশোর কিশোরীরা। এসময় নাচে গানে মাতোয়ারা হয়ে উঠে কিশোর-কিশোরীরা। এদিকে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বাড়িতে বাড়িতে ফুল দিয়ে সাজানো, বিহারে মোমবাতি প্রজ্বলন এবং প্রার্থনা করা, নতুন পোশাক পরাসহ নানা আয়োজন করে রাখাইনরা।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী পৌর মেয়রের উদ্যোগে ইমামসহ ১২ জনের হজের সুযোগ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান রাকিবুল আহসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব তালুকদার এবং কলাপাড়া ও কুয়াকাটার পৌর মেয়র উপস্থিত ছিলেন।

কেরানীপাড়ার তরুণ রাখাইন ওয়োনাইচে বলেন, পুরনো দুঃখকে ভুলে নতুন বছরে ভালো কিছু করার প্রত্যাশায় জলকেলিতে অংশ নিয়েছি। একটি বছর অপেক্ষা করি এমন দিনের জন্য। আমরা অনেক আনন্দ করছি।

একই এলাকার মাচান বলেন, নববর্ষের শুরুতে আমরা নানান রকমের খাবার তৈরি করেছি। পুরনো দুঃখ-কষ্টকে ভুলে নতুন বছরে ভালো কিছুর প্রত্যাশায় জলকেলিতে অংশ নিয়েছি।
শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের

পরিচালক ইন্দ্র বংশ ভান্তে বলেন, উৎসবকে ঘিরে সাজ সাজ রব রাখাইন পাড়ায়। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পাড়া থেকে যোগ দিয়েছে রাখাইনরা। পুরনো পাপ জলকেলির মাধ্যমে ধুয়ে মুছে নতুন বছর ভালোভাবে শুরু করব।




ইসরায়েলে হামলা: নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব ব্যর্থ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পশ্চিমা দেশগুলোকে আর আগের মতো পাশে পাচ্ছেনা ইসরায়েল। যদিও দেশটিতে ইরানের হামলার পর বেশ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তররাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ। কিন্তু গাজা ও ইউক্রেন ইস্যুতে মার্কিন দ্বি-মুখী নীতি ক্রমশ. স্পষ্ট হওয়ায় ইসরোয়েলও দিন দিন বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। এদিকে ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলার পর ৩২টি দেশকে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নেতানিয়াহুর চিঠিও তেমন সাড়া ফেলেনি। এরই মধ্যে আজ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হামলা ইস্যুতে নিন্দা প্রস্তাব আনতে চেয়েছিল দেশটিকে সর্বাত্বক সহায়তা করে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। কিন্তু চীন ও রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশের বিরোধিতার কারণে এই প্রস্তাব ব্যর্থ হয়।




২ ঘণ্টা পর ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কে যান চলাচল শুরু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ২ ঘণ্টা অবরোধের পর জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কে ফের যান চলাচল শুরু হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে পটুয়াখালীর বড় চৌরাস্তা এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে দুটি বাসকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সড়ক অবরোধ করে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয় বাস শ্রমিকরা। এতে করে ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কের দুই দিকে আটকে পড়ে শতাধিক যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। তীব্র গরমে যানবাহনের ভেতর হাঁসফাঁস করতে থাকেন তারা।

আরো পড়ুন : ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করায় পটুয়াখালীতে বাস বন্ধ

পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস দেয়া হলে বেলা সোয়া ৩টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পটুয়াখালী জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন মৃধা বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষেরা ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন। সময় বাঁচানোর জন্য তারা চালক ও হেলপারের নিষেধ উপেক্ষা করেই অতিরিক্ত যাত্রী হিসেবে বাসে উঠছে। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছেন। জরিমানার পরিমাণ সহনশীল হলেও সেটি ঠিক ছিল, কিন্তু প্রতিটি বাসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এত টাকা বাসের চালক বা হেলপারের পক্ষে দেয়া কষ্টসাধ্য, তাই তারা সড়ক অবরোধ করেন।
পরে জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে জরিমানা পরিশোধ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।




এমপি-মন্ত্রীদের সন্তান-আত্মীয়রা প্রার্থী হতে পারবেন না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রতীক দিচ্ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ৷ ফলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারছেন স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে৷ তবে তৃণমূলে যেন স্বজনপ্রীতি না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। দলীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সন্তান ও আত্মীয়রা কেউ এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, যে সকল এমপি, মন্ত্রী পরিবারের সদস্যরা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, তারা নির্বাচন করতে পারবে না। এ বিষয়ে দলের প্রধান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে এমপি, মন্ত্রীরা হস্তক্ষেপ করতে পারবে না৷ ‘মাইম্যান’ সৃষ্টি করতে পারবে না। যারা নিকট আত্মীয়দের দিয়ে নির্বাচন করাচ্ছেন তাদের তালিকা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, তৃণমূলে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা কাজ করছি। আমাদের দলীয় সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেশকিছু নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের দলীয় সাধারণ সম্পাদকও এ বিষয়ে বার্তা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এমপি ও মন্ত্রী সাহেবদের আত্মীয়-স্বজনরা নির্বাচন করলে সেখানে একটা পক্ষপাতিত্ব হতে পারে। তাই দলীয় নির্দেশ— এমপি ও মন্ত্রী সাহেবদের আত্মীয়রা যেন নির্বাচন না করে। সাংগঠনিকভাবে আমরা এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে কাজ করছি।

এ ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরির কারণও জানিয়েছে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করা এবং প্রভাব মুক্ত রাখা এখন দলের লক্ষ্য। ফলে কেউ যেন নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে তা বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে শেখ হাসিনার দল।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অধিকাংশ নেতাদের অভিমত ছিল— প্রতীক বরাদ্দের কারণে দলের তৃণমূলে ‘গ্রুপিং বৃদ্ধি পাচ্ছে’। ফলে প্রতীক বাদ দেওয়া হয়।

সূত্র জানিয়েছে, প্রতীক তুলে দেওয়ার পর প্রভাবশালী নেতারা, বিশেষ করে স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রীরা স্ব স্ব নির্বাচন এলাকায় তাদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের প্রার্থী করছেন। এ কারণে দলের তৃণমূলে ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়েছে।

যেহেতু এমপি, মন্ত্রী প্রশাসনের উপর খবরদারি করার সুযোগ আছে, তাই কেন্দ্রীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের নিকটাত্মীয়রা যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী না হতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি ওঠে।

ইতিমধ্যে দলীয় হাইকমান্ড বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।




বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য : হেপাটাইটিস সংক্রমণের উচ্চঝুঁকিতে বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশে হেপাটাইটিস সংক্রমণ ক্রমে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। প্রথমে রয়েছে চীন এবং দ্বিতীয় ভারত। এমন পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের সংক্রমণ ও মৃত্যু ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সুচিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডাব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে হেপাটাইটিস বি ও সি আক্রান্ত রোগী ৩০ কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে ২৫ কোটি ৪০ লাখ হেপাটাইটিস বি ও পাঁচ কোটি হেপাটাইটিস সি ভাইরাস বহন করছে। ভাইরাসটিতে আক্রান্তদের অর্ধেকের বয়স ৩০ থেকে ৫৪ বছর। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ পুরুষ এবং ১২ শতাংশ শিশু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেপাটাইটিসের দুই-তৃতীয়াংশই বাংলাদেশ, চীন, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, রাশিয়া ও ভিয়েতনামে। বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে প্রায় ৮৩ লাখ মানুষ আক্রান্ত। এর মধ্যে ৮৬.৭৪ শতাংশ হেপাটাইটিস বি ও ১৩.২৬ শতাংশ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত।গত সপ্তাহে পর্তুগালে বিশ্ব হেপাটাইটিস সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত ডাব্লিউএইচওর প্রতিবেদন অনুসারে ১৮৭টি দেশের নতুন তথ্যে দেখা গেছে, ভাইরাল হেপাটাইটিসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২০২২ সালে ১৩ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ১১ লাখ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেপাটাইটিস সংক্রমণে বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন তিন হাজার ৫০০ জন মারা যাচ্ছে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস বি থেকে ৮৩ শতাংশ এবং হেপাটাইটিস সি থেকে ১৭ শতাংশ।

২০২২ সালের শেষ নাগাদ দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে এবং ৩ শতাংশ অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা পেয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৩৬ শতাংশ ডায়াগনসিস হয়েছে এবং ২০ শতাংশ ওষুধ পেয়েছে। ২০২২ সাল নাগাদ ৭০ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি চিকিৎসা পেয়েছে ও এক কোটি ২৫ লাখ হেপাটাইটিস সি চিকিৎসা পেয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক যে লক্ষ্যমাত্রা এর অনেক কম।

হেপাটাইটিস বি এর উপসর্গ হলো জ্বর, দুর্বলতা, অবসাদ, বমি ভাব বা বমি হওয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে অনেকেই এসব উপসর্গ নিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা নিচ্ছেন। কবিরাজি চিকিৎসা বিশ্বাসের একটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হলো হেপাটাইটিস এ এবং ই যথাযথ বিশ্রাম নিলে এমনিতেই সেরে যায়। এ ভাইরাসে সংক্রমিতরা ঝাড়-ফুঁক, ডাব পড়া পানি পড়া নিয়ে মনে করেন যে কবিরাজি চিকিৎসায় কাজ হয়েছে। কিন্তু হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস রক্তে সংক্রমিত হলে লিভার সিরোসিস এবং শেষ পর্যন্ত লিভার ক্যান্সার হয়ে মৃত্যু হতে পারে। তাই বাংলাদেশের বিরাট জনগোষ্ঠীকে হেপাটাইটিস থেকে রক্ষা করতে সচেতন করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা।




পানিতে ভাসছে দুবাই, মরুশহরের কেন এই বিপর্যয়?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত। গত ৭৫ বছরে এত বৃষ্টিপাত দেখেনি দেশটির মানুষ। এতে প্রধান বাণিজ্যিক শহর দুবাইয়ের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। সেখানে সৃষ্টি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, শপিংমল। এমনকি তলিয়ে গেছে বিমানবন্দরও। এতে পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট ওঠানামা বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।

পশ্চিম এশিয়ার অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয় দুবাইকে। কিন্তু প্রবল ঝড়-বৃষ্টির জেরে যে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, তাতে এই মুহূর্তে থমকে রয়েছে যাবতীয় কাজকর্ম। দুবাই মল এবং মল অফ দ্য এমিরেটসে ঢুকে গেছে পানি। পানিতে তলিয়ে গেছে মেট্রো স্টেশনও। কোথাও কোথাও হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। নৌকায় চেপে পার হতেও দেখা গিয়েছে মানুষজনকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ছবি এবং ভিডিও সামনে এসেছে দুবাইয়ের, তাতে পানিতে খেলনার মতো ভাসতে দেখা গিয়েছে দামি গাড়িকে। রাস্তাঘাট সব জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। গগনচুম্বী বিল্ডিংগুরোর সামনেও পানি থৈ থৈ অবস্থা। দুবাই বিমানবন্দরে নামার কথা থাকলেও বিপর্যয়ের জেরে একাধিক বিমানকে অন্যত্র ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে বুধবারও দুবাইয়ে পরিস্থিতি উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই। স্কুল-কলেজ আপাতত বন্ধ। আমিরাতের আল আইন এবং সৌদির আল হিলালের মধ্যে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফুটবল সেমিফাইনাল ম্যাচেও আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে। ঝড়-বৃষ্টির জেরে ম্যাচ ২৪ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়।

তেলসমৃদ্ধ আমিরাত একটি মরুদেশ। সেখানে বৃষ্টির দেখাই পাওয়া যায় না। কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটাতে হয়। তাই আচমকা ভারী বৃষ্টি, বন্যা কেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। জলবায়ু পরিবর্তনের জেরেই আবহাওয়ার আচরণ খামখেয়ালি বলে দাবি তাদের।

জলবায়ু পরিবর্তনের জেরেই এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছে আমিরাতের সরকারও। আগামী দিনে প্রায়শই এমন ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

তবে দুবাইয়ের এই বন্যা পরিস্থিতির জন্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ ‘ক্লাউড সিডিং’-কেই দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তির কারণেই বানভাসি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক শহর দুবাই।

বিশ্বের মধ্যে অন্যতম উষ্ণতম এবং শুষ্ক মরু অঞ্চল হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেখানে বৃষ্টি প্রায় হয় না বললেই চলে। আর সেই কারণেই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়াতে ‘ক্লাউড সিডিং’ প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। যার ফলে কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরি করা যায়। এই প্রযুক্তির আসল উদ্দেশ্য হলো, মরু এলাকায় পানির ঘাটতি মেটানো।

এমনিতে বছরে দুবাইয়ে গড়ে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সেই তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টাতেই ৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। গত ৭৫ বছরের ইতিহাসে মঙ্গলবারই সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আমিরাতের সরকার।

দেশের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, গত ৭৫ বছরে এত পরিমাণ বৃষ্টি দেখা যায়নি। খতম আল-শকলায় ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ২৫৪.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দেড় বছরে যে বৃষ্টি হয়, তা একদিনে হয়ে গিয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ ইঞ্চি পানি জমে যায়।

আবহাওয়া বিভাগের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। বন্যাদুর্গত এবং জলমগ্ন এলাকা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে সবাইকে।




বার্ধক্যে বধিরতার ঝুঁকি এড়াতে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :একটু বয়স বাড়লেই অনেকেই কানে কম শুনতে শুরু করেন। তবে সবসময় বয়সজনিত কারণেই যে কানের এমন সমস্যা হতে পারে, তা কিন্তু নয়। কানে কম শোনার পেছনে কারণ হতে পারে অপুষ্টি। তাই প্রয়োজন সঠিক পুষ্টিকর খাবারের জোগান। চলুন জেনে নেই কোন খাবারগুলো বধিরতার ঝুঁকি এড়াতে আপনাকে সাহায্য করবে:

পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার
হিয়ারিং হেলথ ফাউন্ডেশনের মতে, শ্রবণশক্তি হ্রাস প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পটাশিয়াম। এটি দেহে বিভিন্ন তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্তঃকর্ণে তরল পদার্থ থাকে। তাই অন্তঃকর্ণ ভাল রাখতে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খেতে পারেন কালো ডাল, আলু, কলার মতো পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার।

ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
শ্রবণশক্তি ভাল রাখতে সহায়তা করে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও। তাই পাতে রাখুন সামুদ্রিক মাছ, আখরোট, চিয়া বীজ, তিসি বীজ, ডিম ও মাছের তেল।

জিঙ্ক
শরীরে জিঙ্কের ঘাটতি হলে শ্রবণশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই খেতে হবে জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার। পাতে রাখুন রাজমা, কাঁচা মুগ, ছোলা, কাবলি ছোলা, দুধ, ডিম ও দই।

দুগ্ধজাত খাবার
দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবারে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, ডি, ই, কে-র মতো উপাদান। এছাড়া অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ পনির, টোফু খেতে পারেন।