বাউফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে ২য় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাউফল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ২জন এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ২জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।

মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন আজ রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. শাহীন শরীফ এর কাছে বিভিন্ন সময়ে প্রার্থীরা এ সব মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন।

আরো পড়ুন : ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে স্ত্রী নিহত, স্বামী আহত

উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো.শাহীন শরীফ জানান, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত উপজেলা পরিষদের ২য় ধাপের তফসিল অনুযায়ী আজ রোববার ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এই দিন পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. মোশারেফ হোসেন খান(বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান) মোঃ মশিউর রহমান লাবলু ও সজল কুমার হালদার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো.আনিচুর রহমান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদাক মো. মাহমুদ রাহাত(জামসেদ) এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোসা. মরিয়ম বেগম নিশু (বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান) ও মোসা. ঝর্না বেগম মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

আরো পড়ুন : বাউফলে চিঠি লিখে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

তফসিল অনুযায়ী এ উপজেলায় আগামী ২১ মে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে মোট ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬৪ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬০ জন।




বাউফলে চিঠি লিখে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে বিষপানে মোসা. মৌসুমী আক্তার (১৭) নামে এক শিক্ষার্থী বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে কনকদিয়া ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৌসুমী ওই গ্রামের মো. নিজাম উদ্দিন গাজীর মেয়ে এবং কনকদিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনির ছাত্রী ছিলেন।

জানা গেছে, শনিবার সকালে মৌসুমীর মা-বাবা দু’জনই মুগডাল তুলতে বাড়ির পাশে ক্ষেতে গিয়েছিলেন। এই সুযোগে মেয়ে মৌসুমী বিষপান করে। পরে মুমূর্ষ অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন : মামলা থেকে বাঁচতে নবজাতক রেখে চলে আসি – সানজিদা

মৃত্যুর আগে মৌসুমী একটি চিঠি লিখে রেখে গিয়েছেন। প্রেম সংক্রান্ত কারণে মৌসুমী বিষপান করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

মৌসুমীর ফুফু মোসা. পিয়ারা বেগম জানান, আত্মহত্যার পূর্বে মৌসুমী একটি চিঠি রেখে গেছে। তাতে কি লেখা রয়েছে আমরা জানিনা। চিঠিটি পড়ার আগেই পুলিশ আমাদের কাছ থেকে নিয়ে গেছেন।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আতিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ সময় একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই চিঠিতে কি লেখা রয়েছে তা তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রেম-ভালবাসা জনিত কারণে মৌসুমী আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।




মামলা থেকে বাঁচতে নবজাতক রেখে চলে আসি – সানজিদা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুমকিতে ‘সন্তান ভূমিষ্ঠের ৫ ঘণ্টা পরই নবজাতককে হাসপাতালে রেখে মায়ের পলায়ন’ শীর্ষক সংবাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সানজিদা আক্তার পপি নামে এক গৃহবধূ।

শনিবার সকালে দুমকি প্রেস ক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।  এতে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোজাম্মেল হাওলাদারের মেয়ে গৃহবধূ সানজিদা আক্তার পপি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, হাসপাতাল থেকে সন্তান রেখে আমি পালিয়ে আসিনি বরং কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে মার্ডার কেস থেকে রেহাই পেতে আমার ননদের কাছে নবজাতককে বুঝিয়ে দিয়ে আমি বাড়ি চলে আসি। যদি ওই অসুস্থ সন্তান আমার কাছে রাখি এবং পরবর্তীতে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে আমার স্বামী আমার পরিবারসহ সবাইকে সন্তান হত্যা মামলা দেবে। তাই আমি বাধ্য হয়ে সন্তান রেখে চলে আসি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

পপি আক্তার আরও বলেন, পারিবারিকভাবে দুবছর আগে একই উপজেলার দুমকি সাতানী গ্রামের আ. রব হাওলাদারের ছেলে আল আমীনের (৩০) সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই স্বামী আল আমীন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সোহেলের বোনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ায়। এ নিয়ে শুরু থেকেই আমাদের মধ্যে তীব্র দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রতিনিয়ত আমার ওপর আল আমীন শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। এনিয়ে বেশ কয়েকবার থানা পুলিশসহ সালিশ বৈঠকও হয়েছে। তাতে আমার ওপর নির্যাতন কমেনি। আমার গর্ভে সন্তান আসলে স্বামী টের পেয়ে একাধিকবার নষ্ট করার চেষ্টা করে। তাই আমি বাপের বাড়ি চলে আসি। যখন আমি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা তখন আল আমীন নেওয়ার কথা বলে দুমকি বাজারে আমার পেটে একাধিকবার লাথি কিল-ঘুসি মারে- যাতে আমার সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে আমার বাবা-মা আমাকে দুমকি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার পটুয়াখালী রেফার করেন। সেখানে নরমাল ডেলিভারিতে আমার কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে আমাকে ছাড়পত্র দিলে আমি অসুস্থ বাচ্চা আমার ননদের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে বাড়ি চলে আসি।

অভিযোগের বিষয়ে আল আমীন বলেন, সব মিথ্যা।  উলটো সানজিদা ও তার পরিবার আমার সন্তান নষ্ট করতে চেয়েছে।  না পেরে রাগে ক্ষোভে ৫ ঘণ্টার মাথায় হাসপাতালে সন্তান রেখে পালিয়ে যায় সানজিদা। আমার বন্ধু সোহেলের বোনের সঙ্গে পরকীয়ার বিষয়টি একদম ভিত্তিহীন। আমার সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে এগুলো বলে বেড়াচ্ছে।




পাওয়ার প্লেতে হায়দরাবাদের বিশ্বরেকর্ড

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে চার ছক্কার ঝড় তুলেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ব্যাটাররা। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ছয় ওভারে বিনা উইকেটে ১২৫ রান সংগ্রহ করেছে দলটি। এতেই স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লেতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড নিজেদের করে নিয়েছে হায়দরাবাদ।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলমান আসরের ৩৫তম ম্যাচে দিল্লির মুখোমুখি হয় হায়দরাবাদ। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ঝড় তোলেন হায়দরাবাদের দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে দলীয় শতরান পূর্ণ করে হায়দরাবাদ। শেষ পর্যন্ত পাওয়ার প্লে তে বিশ্বরেকর্ড গড়ে দলটি।

এর আগে পাওয়ার প্লেতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের দখলে। ২০১৭ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ১০৫ রান তুলেছিল দলটি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০২ রান সংগ্রহ করেছিল দলটি।

আইপিএলে পাওয়ায় প্লেতে সর্বোচ্চ রান
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: ১২৫/০ প্রতিপক্ষ দিল্লি ক্যাপিটালস – ২০২৪ সাল
কলকাতা নাইট রাইডার্স: ১০৫/০ প্রতিপক্ষ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু – ২০১৭ সাল

এর মধ্য দিয়ে যায় দিল্লির সামনে ২৬৭ রানের আকাশছোঁয়া লক্ষ্য দেয় হায়দরাবাদ।

জবাবে দিল্লি ১৯৯ রানে অলআউট হয়ে ৬৭ রানে হারে।

এত বড় রান তাড়ায় জেইক ফ্রেজার ম্যাগার্ক আর অভিষেক পোরেল ছাড়া দিল্লির কারো ব্যাট হাসেনি।

এ নিয়ে টানা চার ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে আছে হায়দরাবাদ। সাত ম্যাচে তাদের জয় পাঁচটি। অন্যদিকে আট ম্যাচে তিন জয় নিয়ে টেবিলের সাতে আছে দিল্লি।




বন্যা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে ৭১ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে এডিবি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ এবং পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশকে ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা দেবে। এই সহায়তা গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণকে জোরদার করবে।

এ লক্ষ্যে শনিবার ঢাকায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও এডিবির মধ্যে একটি ঋণচুক্তি সই হয়েছে। ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বাংলাদেশের পক্ষে এবং এডিবির আবাসিক প্রধান এডিমন গিনটিং এডিবির পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

এডিমন গিনটিং বলেন, এই প্রকল্পটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে এডিবির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটাবে। কেননা এর মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পানি ব্যবস্থাপনার অনেক উন্নতি হবে, যা প্রধানত জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করবে।




তীব্র গরমে কী খাবেন আর কী খাবেন না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আগামী তিন দিন তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে হিট অ্যালার্ট বা আবহাওয়ার সতর্কবার্তাও জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।

এমন পরিস্থিতিতে ডায়রিয়ার মতো অসুখ এড়াতে এবং নিজেদেরকে সুস্থ রাখতে খাবার-দাবারে যেসব সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

গরমে যা খাওয়া উচিত নয়
কিছু খাবার আছে, যেগুলো খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গরম অনুভূত হতে পারে। ল্যাবএইড হাসপাতালের পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম তেমনই কিছু খাবার সম্বন্ধে জানিয়েছেন।

মশলাজাতীয় খাবার
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মশলা জাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করলেও গরমের সময় ‘ভুনা মাছ বা গোশত’ খাওয়া এড়াতে হবে। কারণ এ ধরণের খাবার হজম করতে বেশি সময় লাগে। শরীরে বিপাক প্রক্রিয়া যদি বেশি সময় ধরে চলে, তখন গরম লাগতে শুরু করে।

ডিম
শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর অন্যতম মাধ্যম ডিম। কিন্তু গরমের সময় ডিম খেলে অনেকের সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে যাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, কিংবা উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাহলে তারা চাইলে ডিম এড়িয়ে চলতে পারে। ডিমের পরিবর্তে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে তারা তাদের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত মাছ কিংবা মুরগির গোশত রাখতে পারেন।

আইসক্রিম ও কোমল পানীয়
অনেকে মনে করেন, আইসক্রিম ও ঠাণ্ডা বোতলজাত কোমল পানীয় খেলে গরম কম লাগবে। কিন্তু এগুলো খেলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেজন্যই আইসক্রিম কিংবা কোমল পানীয় খাওয়ার পরপর তৃষ্ণার্ত বোধ করে মানুষ।

ফাস্টফুড
ফাস্টফুড নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বহু আলোচনা-সমালোচনা চললেও মানুষ বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফ্রায়েড চিকেন, পিৎজা ইত্যাদি হরহামেশা খাচ্ছে। কিন্তু গরমের সময়ে তো বটেও, সাধারণ সময়ে এগুলো খাওয়া উচিৎ নয়। কারণ এসব খাবারে প্রচুর পরিমাণ শর্করা ও চর্বি থাকায় হজম করতে সময় লাগে। ফলে, এগুলো রক্তচাপকে প্রভাবিত করে, প্রদাহ বাড়ায়।

ডুবো তেলে ভাজা খাবার
ডুবো তেলে ভাজা খাবার ও অতিরিক্ত তেলেভাজা খাবার মুখরোচক হলেও তা শরীরের জন্য মোটেও ভালো না। এ ধরনের খাবার গরমে এড়িয়ে চলতে হবে। ভাজা-পোড়া জাতীয় খাবার শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি করে।

চা-কফি
শীতকালে শরীর গরম রাখার জন্য অনেকে চা-কফি পান করেন। তাহলে যে চা-কফি শীতকালে শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে, তা নিশ্চয়ই গরমকালেও একই ভূমিকা পালন করবে। তাই, গরমকালে অতিরিক্ত চা-কফি পান করা উচিৎ নয়। কারণ চা বা কফির ক্যাফেইন দেহকে পানিশূন্য করে ফেলে এবং শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে।

দুগ্ধজাতীয় খাবার
গরমকালে দুধ জাতীয় খাবার, যেমন মেয়োনেজ বা বিভিন্ন শেক খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ গরমের সময় এ জাতীয় খাবারে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত হয়।

স্টেক
অনেকেই রেস্টুরেন্টে গিয়ে স্টেক খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু স্টেক যদি সম্পূর্ণরূপে রান্না করা না হয়, তাহলে তার মাঝে ব্যাকটেরিয়া থেকে যেতে পারে। তাই, এক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

তেল-চর্বি জাতীয় খাবার
গরুর গোশত, হাঁসের গোশত, খাসির গোশত কার না পছন্দ? কিন্তু গরমের সময় এগুলো এড়িয়ে চলা উচিৎ। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে চর্বি থাকে। একইসাথে সুস্থ থাকার জন্য পোলাও, বিরিয়ানিতেহারি ইত্যাদি তেলযুক্ত খাবারকেও না বলা উচিৎ।

অতিরিক্ত চিনি ও লবণ
চিনি ও লবণ, এ দু’টো জিনিস এমনিতেই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু গরমের সময় সেই ক্ষতির মাত্রাটা আরো বেশি হয়ে দাঁড়ায়। এ সময় অতিরিক্ত চিনি ও লবণ খেলে শরীরে অস্বস্তি হতে পারে। তাই, গরমে প্যাকেট জাতীয় খাবার বা প্রসেসড ফুড খাওয়া একদমই উচিৎ না।

গরমে যেগুলো খাওয়া যেতে পারে
গরমে ‘যেসব খাবার খাওয়া যাবে’, এমন খাবার সম্বন্ধেও জানিয়েছেন মিজ তাসনিম। তিনি বলেন,

কম মশলা জাতীয় খাবার
মশলা জাতীয় ভারী খাবার খেতে ভালো লাগলেও গরমের সময় কম মশলা জাতীয় খাবারের ওপর জোর দিতে হবে। কারণ এগুলো সহজে হজমযোগ্য।

শাক-সবজি
বাজারে এখন ঝিঙ্গা, চালকুমড়া, লাউ, চিচিঙ্গা, সজনেডাঁটা, শাকের ডাঁটা ইত্যাদি কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোকে যদি পাতলা ঝোল করে রান্না করে খাওয়া হয়, তাহলে এগুলো একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা জোগাবে, অপরদিকে শরীরে গরম অনুভব করাবে না।

পাতলা স্যুপ
স্যুপকে অনেকে মজা করে রোগীর খাবার বলে থাকেন। কিন্তু গরমের সময় একদম ‘ক্লিয়ার ভেজিটেবল’ স্যুপ (পাতলা করে সবজি স্যুপ) খেলে তা শরীরের জন্য উপকারী।

নিরাপদ পানি
গরমে নিরাপদ পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। কারণ গরমের সময় ঘাম ও প্রস্রাবের সাথে শরীর থেকে সোডিয়াম, পটাশিয়াম বের হয়ে যায়। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার বা ১২ থেকে ১৩ গ্লাস পানি পান করা উচিৎ।

ডাবের পানি
শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে এবং ইলেকট্রলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাবের পানি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের পক্ষেই প্রতিদিন ডাব কিনে খাওয়া প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার। সেক্ষেত্রে তারা বিকল্প হিসেবে স্যালাইন পানি খেতে পারেন।

লেবু পানি
গরমের সময় লেবুর শরবত পান করলে তা শরীরের ক্লান্তি দূর করবে। সেক্ষেত্রে একদম সাধারণ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে যাদের হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ নেই, তারা স্বাদের জন্য সামান্য লবণও ব্যবহার করতে পারেন।

ফলমূল
গরমে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করার জন্য ফলমূল খাওয়া উচিৎ। স্ট্রবেরি, শশা, জাম ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। তবে বাংলাদেশের বাজারে এই সময়ে তরমুজে ভরপুর থাকে। তাই, গরমের ফল হিসেবে তরমুজ খাওয়া যেতে পারে। কারণ তরমুজে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পানি থাকে।

কাঁচা আমের শরবত
কাঁচা আমের মাঝে ভিটামিন-সি থাকে। কাঁচা আমের সাথে মরিচ যুক্ত না করে যদি এটিকে শরবত হিসেবে খাওয়া যায়, তাহলে গরম কম অনুভব হতে পারে।

টক দই
পাকস্থলীকে সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিন টকদই খাওয়া যেতে পারে। টক দই খালিও খাওয়া যায়, আবার টকদইকে পানি দিয়ে গুলিয়েও খাওয়া যায়। অথবা, টক দইয়ের সাথে শশাও খাওয়া যেতে পারে।

ডিটক্স ওয়াটার
গরমের সময় ভারী খাওয়ার পর ডিটক্স খাবার খাওয়া যেতে পারে। ডিটক্স ওয়াটার হলো পানি, লেবুর রস, শশা, গাজর, পুদিনা ইত্যাদির রসের সমন্বয়ে তৈরি একধরনের পানীয়।

তবে এক্ষেত্রে মিজ তাসনিম এও বলেন, ‘একজনের জন্য যে খাবারটি খাওয়া ভালো হবে, তা সবার জন্য নাও হতে পারে। যেমন, অনেকের শশা খেলে সমস্যা হয়।’

খাবার সংরক্ষণে সতর্কতা
গরমের সময় চারপাশে এত বেশি তাপমাত্রা থাকে, যে খাবারগুলোতে সহজেই ব্যাকটেরিয়া হতে পারে। তবে খাবার একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রার মাঝে থাকলে ব্যাকটেরিয়া জন্মায় না। তাপমাত্রা লিমিট ক্রস করলেই ব্যাকটেরিয়া হয়।

তাপমাত্রা পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে ও ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে গেলে খাবারে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয় না।

ডায়রিয়া এড়াতে করণীয়
বাংলাদেশে প্রতি বছরই গ্রীষ্মকালে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। এবছরও তা শুরু হয়ে গেছে।

কিন্তু গরমের সময় ডায়রিয়া এড়াতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ‘একসাথে ভরপেট না খেয়ে কিছুটা বিরতি দিয়ে’ খাবার খাওয়া উচিত।

এছাড়া, মাছি ডায়ারিয়ার সংক্রমণ ছড়াতে খুব বড় ভূমিকা পালন করে। সেজন্যে সবসময় সব খাবার ঢেকে রাখতে হবে। রাস্তার খাবার, যেমন- ফুচকা, চটপটি, লেবুর শরবত খেতেও বারণ।

এছাড়া, ডায়রিয়া প্রতিরোধে অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো হচ্ছে খাবার প্রস্তুত, স্পর্শ করা, পরিবেশন করা ও খাবার খাওয়ার আগে, টয়লেট থেকে বের হয়ে, বাইরে থেকে ফিরে এসে হাত ধুয়ে নেয়া। কারণ হাত দিয়েই মানুষ সবকিছু স্পর্শ করে এবং সবচেয়ে বেশি জীবাণু বহন করে।

ডায়রিয়ার জীবাণু ছড়ানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হচ্ছে পানি। তাই, যে পানিই আপনি পান করবেন, তা যেন বিশুদ্ধ পানি হয়।

সূত্র : বিবিসি




দশমিনায় দু’হাত বাঁধা অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদীর তীরে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৭টায় উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের পাতারচর গ্রামে নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে দশমিনা থানা পুলিশ।

উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের পাতারচর গ্রামে তেঁতুলিয়া নদীর তীরে শনিবার সকালে একটি লাশ ভাসতে দেখে এলাকার লোক জন। পরে স্থানীয়রা দশমিনা থানায় খবর দিলে থানা পুলিশ ঘটনা স্থল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ উদ্ধার করে। ময়না তদন্তের জন্য লাশটি পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক ভাবে দেখা যায় অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশের দুই হাত পিছনে গামছা দিয়ে বাঁধা এবং মুখমন্ডল বিকৃত। বয়স আনুমানিক ৩৫। ধারণ করা হচ্ছে কেউ মেরে দুই হাত পিছনে বেঁধে নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছে।

দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, ঘটনার বিষয় অবহিত হবার পর ঘটনাস্থল থেকে উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আসাদসহ সঙ্গীয় ফোর্স লাশ উদ্ধার করে দশমিনা থানায় নিয়ে আসে।

তিনি আরো বলেন, ‘লাশ ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর মূল ঘটনা জানা যাবে। লাশ শনাক্তের জন্য জেলা সিআইডি ও ক্রাইম সিম ম্যানেজমেন্ট টিম অফিসের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে অজ্ঞত যুবকের পরিচয় ও মৃত্যুর কারন উদঘাটন করা যাবে।




পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাগুরার ‘সোনার তরী’ দল।

শনিবার বিকাল ৪টায় শহরঘেষা লাউকাঠী নদীতে খেয়াঘাট থেকে শুরু হয়ে ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটারের যাত্রায় রানার্স আপ হয়েছে মাগুরার এলাকার ‘মায়ের দোয়া’ এবং তৃতীয় হয়েছে গোপালগঞ্জের ‘শিতলা তরী’।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে নদীতে ডুবে স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সন্ধ্যায় ডিসি লঞ্চঘাটে জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলমের সভাপতিত্বে বিজয়ীদের হাতে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার তুলে দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যক্ষ মো. মহিববুর রহমান এমপি।




পটুয়াখালীতে নদীতে ডুবে স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে লোহালিয়া নদীতে গোসল করতে নেমে ডুবে এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার দুপুরে শহরের লোহালিয়া নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান পটুয়াখালী নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার মুজিবুর রহমান ।

আরো পড়ুন : তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে সমুদ্রের টানে পর্যটকরা

নিহত মো. রাফি (১৩) শহরের কাটপট্টি এলাকার কবির গাজীর ছেলে। তিনি পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্টেশনের লিডার মুজিবুর সাংবাদিকদের বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে নামে। কিছুক্ষণ পর নিখোঁজ রাফিকে উদ্ধার করা হয়।
পরে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।




মুগডাল তোলা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, ২ নারীসহ আহত ৭

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে জমি থেকে মুগডাল তোলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২ নারীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের নেতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, সদর ইউনিয়নের নেতা গ্রাম সংলগ্ন আমলিবাড়িয়া মৌজার একটি কৃষি জমি নিয়ে একই বংশের দুই পক্ষের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে। এনিয়ে ২০২২ সালে আদালতে একটি মামলাও করেন একপক্ষ। বিরোধী পক্ষ সেই জমিতে শুক্রবার সকালে মুগডাল তুলতে গেলে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে একপক্ষের পাঁচজন এবং আরেক পক্ষের দুইজন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন, উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের সবুজ সরদার (৫৫), জহির আকন (৪০), সালমা (৩০), কচি বেগম (২৫), নূর মোহাম্মদ (২৫), সদর ইউনিয়নের নেতা গ্রামের আবু মিয়া (৩৫) ও  চান মিয়া (৪০)। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এদিন দুপুরে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ফিরোজ বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।