৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল, সংকটে বরিশালের চিকিৎসা সেবা

বরিশালে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শেষ হলেও দীর্ঘ সাত বছরেও তা চালু না হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে শিশু চিকিৎসা সেবা। শয্যা সংকট, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং সীমিত সুবিধার কারণে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ভোগ।

বর্তমানে এসব হাসপাতালে এক বিছানায় একাধিক শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জায়গা না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছে অসুস্থ শিশুরা। এতে চিকিৎসক ও নার্সদেরও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, বরিশাল মহানগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় ২০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও সেটি এখনো চালু হয়নি। গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১০ তলা ভিত্তির ওপর চারতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতালটির কাজ ২০১৯ সালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে সাত বছর পার হলেও হাসপাতালটি এখনো চালু হয়নি।

গণপূর্ত বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম জানান, হাসপাতাল ভবনের অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনও স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে বরিশালের সিভিল সার্জন এস এম মঞ্জুর-ই-এলাহী বলেন, হাসপাতালটি চালু করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তার মতে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্টসহ প্রায় ৩০০ জন জনবল প্রয়োজন। পাশাপাশি ইনকিউবেটর, লাইফ সাপোর্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির চাহিদা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এসব ব্যবস্থা না হলে সেবা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়।

এই দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জনবল ও সরঞ্জামের অজুহাতে দুই বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে বিভাগের লাখো শিশুর স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে গত ৩০ এপ্রিল হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান। তিনি দ্রুত হাসপাতালটি চালুর আশ্বাস দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনেও হাসপাতাল চালু না হওয়া দুঃখজনক। সকল জটিলতা দূর করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৩ হাজার ৬৫০ জন শিশু, যার মধ্যে মারা গেছে ২৪ জন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি চালু না থাকায় এই বিপুল সংখ্যক শিশুর যথাযথ চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




১০ সেকেন্ডে ১০ মাস্ক, গিনেসে মঠবাড়িয়ার সিফাত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার এক তরুণ চোখ বাঁধা অবস্থায় দ্রুততম সময়ে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন। এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ধনীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুড়ী গ্রামের সিফাত আকন (১৮)।

জানা গেছে, চোখ বাঁধা অবস্থায় ১০টি মাস্ক পরতে তার সময় লেগেছে মাত্র ১০ দশমিক ৩২ সেকেন্ড, যা তাকে বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি এ রেকর্ডের জন্য আবেদন করেন এবং গত ২৮ এপ্রিল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ তার সাফল্য আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

সিফাত আকন জানান, প্রায় চার বছর আগে একটি পত্রিকায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেখে তার আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। করোনাকালীন সময়ে মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি মাস্ক-সম্পর্কিত একটি রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনা করেন।

তিনি বলেন, “প্রথমে একজন ভারতীয় ১১ দশমিক ৫৪ সেকেন্ডে এই রেকর্ড করেছিলেন। তখনই আমি সেটি ভাঙার কথা ভাবি। তবে শুরুতে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন পাওয়া কঠিন ছিল। অনেক চেষ্টা করেও সঠিক দিকনির্দেশনা পাইনি।”

সিফাত আরও জানান, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নিয়ম-কানুন জানতে তিনি ফেসবুক ও ইউটিউবে খোঁজাখুঁজি করেন এবং আগের রেকর্ডধারীদের ই-মেইলেও যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি তার জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর দীর্ঘ ছুটিতে তিনি নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেন। শুরুতে ২৫ থেকে ২৬ সেকেন্ড সময় লাগলেও ধীরে ধীরে অনুশীলনের মাধ্যমে সময় কমিয়ে আনতে সক্ষম হন। চোখ বাঁধা অবস্থায় মাস্ক খুঁজে নেওয়া এবং সঠিকভাবে পরা—এই দুটি বিষয়ই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি জানান, তার মা, ছোট ভাই এবং বন্ধু ইমন অনুশীলনের সময় তাকে নিয়মিত উৎসাহ দিয়েছেন। গত ১৮ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন করার পর প্রায় তিন মাস অপেক্ষার পর ২৮ এপ্রিল রাতে ই-মেইলের মাধ্যমে তিনি স্বীকৃতির খবর পান।

সিফাতের বাবা আবদুল জলিল বনরক্ষী হিসেবে কর্মরত এবং মা বেগম সুরমা একজন গৃহিণী। ছেলের এই অর্জনে তারা গর্বিত ও আনন্দিত।

মা বেগম সুরমা বলেন, “সিফাত সামনে আরও নতুন রেকর্ড গড়তে চায়। এক মিনিটে সবচেয়ে বেশি মানুষকে আলিঙ্গন করা এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক হ্যান্ডশেক করার মতো রেকর্ড নিয়েও সে ভাবছে।”

বাবা আবদুল জলিল বলেন, “আমার ছেলে খুব পরিশ্রম করেছে। অল্প সময়ে ১০টি মাস্ক পরে বিশ্ব রেকর্ড গড়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতে সে আরও ভালো কিছু করবে বলে আশা করি।”

সিফাতের বন্ধুরা জানান, প্রায় নয় মাস ধরে সে নিরলস পরিশ্রম করেছে। অনেকেই শুরুতে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করলেও এখন তারাই প্রশংসা করছেন। শুরু থেকেই তারা সিফাতকে সাহস ও সহযোগিতা করেছেন।

২৪ নম্বর ফুলজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন হোসেন বলেন, “সিফাত আমাদের এলাকার গর্ব। কঠোর অনুশীলন ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সে এই সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে সে আরও বড় কিছু করবে বলে আমরা আশাবাদী।”

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




 ববি ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিতর্ক, ‘ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তি’ অভিযোগ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘিরে সংগঠনটির অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্যাগী ও দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২৭ সদস্যবিশিষ্ট এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণার পরপরই সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিত অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি দ্রুতই সংগঠনের ভেতরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, নতুন এই কমিটিতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে অন্য সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তি তাদের জন্য হতাশাজনক। অনেকেই এ ঘটনাকে ‘ছাত্রলীগের পুনর্বাসন’ হিসেবে দেখছেন বলেও মন্তব্য করেন তারা।

অভিযোগে উল্লেখিতদের মধ্যে রয়েছেন সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন, মো. জিহাদুল ইসলাম, আরমান হোসেন, মো. ইমরান, আব্দুল্লাহ নুর কাফি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ তাকভীর সিয়াম, প্রিতম দাস, বর্ণ বরন সরকার এবং গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রবিন আহমেদ তানভীর।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত বলেন, কমিটিতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতামত যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক তারেক হাসান বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনে অবদান রাখা এবং বিতর্কমুক্ত এমন ব্যক্তিদেরই কমিটিতে রাখা হয়েছে, তারা আগে অন্য রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে পরামর্শ করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

এদিকে ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, সিনিয়র-জুনিয়র ভারসাম্য রক্ষা না করা এবং কমিটি প্রণয়নে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে—এমন অভিযোগও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সব মিলিয়ে ববি ছাত্রদলের এই নতুন কমিটি সংগঠনটির ভেতরে বিভাজন, আস্থার সংকট এবং সাংগঠনিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা

দীর্ঘদিন পর বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। নতুন কমিটিতে দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

শনিবার (২ মে) রাতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাছির পৃথকভাবে এ কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটি ঘোষণার পরপরই বরিশাল নগরীতে আনন্দ মিছিল বের করেন নেতাকর্মীরা।

বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনামুল হাসান তাসনিম। সদস্য সচিব করা হয়েছে মো. নাভিদ রহমান খান (তুষার)-কে। এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাহমুদ হাসান তানজিল।

মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন আহাদ হোসাইন আবির, মাজহারুল ইসলাম মনিস, সজল তালুকদার, মো. খালেদ হোসেন বাবর, মো. হুমায়ুন কবির খান (ফেরদৌস), জহির রায়হান, মো. সাদ্দাম হোসেন, মো. সিহাব (ববি), আল আমিন হাসান ও মো. রাকিব তালুকদার।

অন্যদিকে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক করা হয়েছে তৌফিকুল ইসলাম ইমরানকে। সদস্য সচিব হয়েছেন মো. আল আমীন মৃধা এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন আসিফ আল মামুন।

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল কাদের মোল্লা, মো. ইমরান আহমেদ (ইব্রাহিম), মো. জাহিদুল ইসলাম পিন্টু, জাহিদ সাকিন (ববি), মহসিন শিকদার, আরিফ হোসেন (ববি), মো. ইমতিয়াজ চৌধুরী, মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক মৃধা) ও সৈয়দ মাহমুদ হাসান।

নবগঠিত মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ছাত্রদলকে আরও সংগঠিত ও সক্রিয় করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডেও সংগঠনের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে।

মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাভিদ রহমান খান তুষার বলেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদল আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হবে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠনকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আগের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০১১ সালে। পরে ২০১৮ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ সময় পর নতুন নেতৃত্ব পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




চার দফা দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল বিএম কলেজ

সেশন ফি কমানো, অতিরিক্ত অর্থ ফেরত ও ফি কাঠামোর স্বচ্ছতার দাবিতে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (৩ মে) বেলা ১১টার দিকে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের কাছ থেকে সেশন ফি বাবদ ২ হাজার ৬২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে প্রায় ৭৮০ টাকার খরচের কোনো স্পষ্ট হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। তারা অভিযোগ করেন, যেসব খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে, বাস্তবে সেসব সুবিধা শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষকে সকল ফি’র স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করতে হবে এবং যেসব খাতে কোনো সেবা প্রদান করা হয়নি, সেসব খাতের অর্থ ফেরত দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীবান্ধব ফি কাঠামো প্রণয়ন ও সেশন ফি জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর দাবিও জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
১. সেশন ফি জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি।
২. সেবাবিহীন খাতে আদায়কৃত অর্থ ফেরত।
৩. সকল ফি’র স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ।
৪. শিক্ষার্থীবান্ধব ফি কাঠামো নিশ্চিত করা।

একই দাবিতে পৃথকভাবে সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরাও। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে নিয়ে সমস্যার সমাধান করা উচিত।

এ বিষয়ে বিএম কলেজের অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, কলেজে বছরে একবার সেশন ফি নেওয়া হয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত খাতেই ফি আদায় করা হয়। নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে, যাতে তারা পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দ্রুত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




 গৌরনদীতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে বরিশালের গৌরনদীতে র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে গৌরনদী প্রেসক্লাব। দিবসটি ঘিরে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

রোববার (৩ মে) সকালে গৌরনদী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া এবং খন্দকার মনিরুজ্জামান মনির।

সভাপতির বক্তব্যে জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা শুধু সাংবাদিক সমাজের একার দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বলেন, সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশনই একজন পেশাদার সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকদের সাহসিকতা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে কাজ করে যেতে হবে।

সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া সাম্প্রতিক সময়ে গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কয়েকজন সাংবাদিক সদস্যকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো কিংবা হুমকি দেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

খন্দকার মনিরুজ্জামান মনির বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকরা সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোকন আহমেদ হীরা, মো. হানিফ সরদার, উত্তম দাস, সহ-সভাপতি এম আলম, সাবেক সহ-সভাপতি এইচ এম নাসির উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ জামিল মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদ, সদস্য মনীশ চন্দ্র বিশ্বাস, এইচ এম মোশাররফ, বদরুজ্জামান খান সবুজ, বিএম বেলাল, সোলায়মান তুহিন, মো. আনিচুর রহমান, আবু সাঈদ, পলাশ তালুকদার ও শামীম মীরসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাব সদস্য মো. লিটন খান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বানারীপাড়ায় জেলেকে হত্যা মামলায় স্ত্রী-ছেলে জেলহাজতে

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের নলশ্রী গ্রামে জেলে হাবিবুর রহমান মোল্লা (৫০) হত্যা মামলায় তার স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২ মে) সকালে গ্রেফতারকৃত স্ত্রী সেলিনা বেগম ও ছেলে সাগরকে বরিশাল আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে শুক্রবার (১ মে) নিহতের বাবা আ. মন্নাত মোল্লা বাদী হয়ে বানারীপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে মারধর ও নির্যাতন করে তার ছেলে হাবিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। মামলায় নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগম ও ছেলে সাগরকে আসামি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতের কোনো এক সময় হাবিবুর রহমানকে বেদম মারধর ও নির্যাতন করা হয়। শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

গ্রামবাসীদের দাবি, নিহতের নাক, মুখমণ্ডল, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং নিহতের স্ত্রী ও ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। শুক্রবার দুপুরে বরিশাল জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সৌমেন সরকারও থানায় গিয়ে ঘটনাটি পরিদর্শন করেন।

বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, “হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মামলার আসামি স্ত্রী ও ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।”




খোলা আকাশের নিচে বেদে শিশুদের পাঠশালা, শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন দুই বোন

বরিশালের বাবুগঞ্জে শিক্ষাবঞ্চিত বেদে শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন দুই তরুণী। খোলা আকাশের নিচে ছোট্ট একটি পাঠশালা চালু করে প্রায় অর্ধশত শিশুকে অক্ষরজ্ঞান দিচ্ছেন দুই বোন মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার। তাদের এই মানবিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের মীরগঞ্জ ফেরিঘাটসংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে প্রায় ৭০টি বেদে পরিবার বসবাস করছে। কেউ নৌকায়, আবার কেউ বাঁশ ও পলিথিনের তৈরি ছোট ঘরে অস্থায়ীভাবে জীবনযাপন করছেন। দারিদ্র্য ও অনিশ্চিত জীবনের কারণে এসব পরিবারের অধিকাংশ শিশু বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না।

এই বাস্তবতা বদলাতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন হাওলাদারের দুই মেয়ে মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার। গত ১৫ এপ্রিল থেকে তারা নিজেদের বাড়ির আঙিনায় প্রতিদিন বিকেলে এক ঘণ্টা করে শিশুদের পড়ানো শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ জন শিশু পাঠশালায় অংশ নিচ্ছে।

উদ্যোক্তা মুন্নি আক্তার বলেন, “বেদে শিশুদের অক্ষরজ্ঞান দেওয়া এবং তাদের স্কুলমুখী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই তারাও সমাজের অন্য শিশুদের মতো পড়াশোনা করে ভালো মানুষ হোক। তবে বই, খাতা ও শিক্ষা উপকরণের অভাবে কার্যক্রম চালাতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে পাঠশালাটি আরও বড় পরিসরে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় প্রায় ২০০ শিশু রয়েছে। এর মধ্যে এখনো দেড় শতাধিক শিশু শিক্ষার বাইরে রয়েছে। জীবিকার তাগিদে অনেক শিশুকেই ছোটবেলা থেকেই মাছ ধরা ও পরিবারের বিভিন্ন কাজে যুক্ত হতে হয়।

বেদে সম্প্রদায়ের সদস্য হেলেনা বেগম বলেন, “আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সুযোগ খুব কম। সংসারের অভাবের কারণে ছোটদেরও কাজ করতে হয়। যদি সরকার সহযোগিতা করে, তাহলে আমাদের শিশুরাও পড়াশোনা করতে পারবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “বেদেরা দীর্ঘদিন ধরে সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। তবে এই ধরনের উদ্যোগ তাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।”

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, “বেদে শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই তরুণীর উদ্যোগ সম্পর্কে আমরা জেনেছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

স্থানীয়দের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেদে শিশুদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং একদিন তারাও সমাজের মূলধারায় যুক্ত হতে পারবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গণঅধিকারসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদান

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। শনিবার (২ মে) দুপুর ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণঅধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগদান করেন।

অনুষ্ঠানে যোগদানকারী নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এনসিপি বরিশাল জেলার আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা। তিনি বলেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা শতাধিক নেতাকর্মী আজ জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য ফরম পূরণ করে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। নতুন রাজনৈতিক ধারায় মানুষ আস্থা রাখছে।”

যোগদানকারীদের মধ্যে ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের বাবুগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম হাওলাদার, উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ, কেদারপুর ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান খান, উজিরপুরের আজমিয়া বিশ্বাস, বশির উদ্দিন ও আবু নোমান, গৌরনদীর তানজিল ইসলাম শুভ ও রবিন, মেহেন্দিগঞ্জের সুমন, মেজবাহ উদ্দিন, সাসুদ রানা, জাকারিয়া, শিফাত ও তারেক, মুলাদী-বাকেরগঞ্জের রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, ছাত্রশক্তি বরিশাল সদরের তামিম, তাসিন ইসলাম আলভি, রাতুল, মৃদুল, গৌরনদীর জিদান ও শাওন সরদার, উজিরপুরের মিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি বরিশাল জেলার সদস্য সচিব আবু সাঈদ খান ফেরদৌস, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আবেদ আহমেদ রনি, জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নাফিসা মুসতারি, সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ আলী ও ইমরান হোসেন, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান, যুগ্ম সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ সোহাগ, মহানগর সংগঠক মোহন হোসেন, নাদিম মাহমুদ, সবুজ হাওলাদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে জাতীয় নাগরিক পার্টি কাজ করছে। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




 বরিশাল নগরীতে বাড়ছে যানভাড়া, সিটি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জোরালো

জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে বরিশাল নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। দীর্ঘদিন ধরে সিটি বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আর সেই সুযোগে নগরজুড়ে বাড়ছে যানবাহনের ভাড়া। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। দ্রুত সিটি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

বর্তমানে বরিশাল নগরীতে প্রধান বাহন হিসেবে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটো, রিকশা, গ্যাসচালিত সিএনজি ও তেলচালিত মাহিন্দ্রা। এসব যানবাহন জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় চলমান সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়ছে যাত্রী ভাড়ায়।

চালকদের দাবি, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি ভাড়া নেওয়া ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়া তালিকা না থাকায় চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার নগরীতে প্রথমবারের মতো সিটি বাস সার্ভিস চালু করেন। নথুল্লাবাদ-রুপাতলী-লঞ্চঘাট রুটে বিআরটিসির দ্বিতল বাস চলাচল শুরু করলে স্বল্প ভাড়ায় নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পায় নগরবাসী। তবে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর সেই সেবা বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরণের উদ্যোগে আবারও সিটি বাস চালু করা হয়। রুপাতলী বাস টার্মিনাল, নথুল্লাবাদ ও নদীবন্দর সংযোগে বাস চলাচল করলেও ২০১৩ সালে অজ্ঞাত কারণে আবারও বন্ধ হয়ে যায় এই গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা। এরপর এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সিটি বাস আর চালু হয়নি।

বর্তমানে নথুল্লাবাদ থেকে লঞ্চঘাটে যেতে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। একইভাবে লঞ্চঘাট থেকে রুপাতলী, চৌমাথা কিংবা নথুল্লাবাদ রুটেও আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। যেখানে একসময় একই রুটে ৫ থেকে ১০ টাকায় যাতায়াত করা যেত, এখন সেখানে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অতিরিক্ত ভাড়াকে কেন্দ্র করে প্রায়ই যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে। অনেক সময় তা সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিএম কলেজের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন কলেজে যেতে ২৫ টাকা ভাড়া লাগে। সিটি বাস চালু থাকলে অনেক কম খরচে যাতায়াত করা সম্ভব হতো।” প্রাক্তন শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “২০১২ সালে মাত্র পাঁচ টাকায় লঞ্চঘাট থেকে কলেজে যেতাম। এখন একই পথে যেতে ২৫ টাকা দিতে হচ্ছে।”

রুপাতলী এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, “আগে ৫ টাকায় যাতায়াত করা যেত, এখন ২০-২৫ টাকা লাগে। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে দ্রুত সিটি সার্ভিস চালু করা প্রয়োজন।” এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার শিরীন বলেন, “সিটি বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নগরীর সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভাড়া নিয়ন্ত্রণে মালিক-চালক ও বিআরটিএ’র সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করা হবে। প্রতিটি যানবাহনে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানানো বাধ্যতামূলক করা হবে।” প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। বিভাগীয় শহর হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই নগরীর পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। নগরবাসীর দাবি, দ্রুত সিটি বাস সার্ভিস চালু করা হলে যানভাড়া নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫