বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে মরিশাসের প্রতি আহ্বান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে মরিশাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

বুধবার সকালে মরিশাসের পররাষ্ট্র, আঞ্চলিক সংহতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী মনিশ গোবিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠককালে তিনি এ আহ্বান জানান। সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মরিশাসের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে মরিশাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে বাংলাদেশ ও মরিশাসের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে উল্লেখ করে দুই দেশের সম্পর্ককে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন বলে মরিশাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে মরিশাসে আরও বেশি শ্রমিক ও পেশাজীবীদের নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন।

এছাড়া মরিশাসে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা যাতে দ্রুত দেশে রেমিটেন্স পাঠাতে পারে সে ব্যাপারে মরিশাস সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

মরিশাস আফ্রিকা মহাদেশের প্রবেশদ্বার হওয়ায় মরিশাসে বাংলাদেশের বিনিয়োগের মাধ্যমে আফ্রিকা মহাদেশে বাংলাদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বৈঠকে তুলে ধরেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে মরিশাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মনিশ গোবিনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রতিমন্ত্রী।

পশ্চিম ভারত মহাসাগর অঞ্চলে মাদক পাচার এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার নিয়ে প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বর্তমানে মরিশাসে অবস্থান করছেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত।




রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের জন্য বিশেষ স্মার্ট কার্ডের কথা ভাবা হচ্ছে

চন্দ্রদ্নীপ ডেস্ক : যারা রেমিট্যান্স পাঠান তারা ও তাদের পরিবারের জন্য বিশেষ স্মার্ট কার্ড দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার৷ বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংসদ সচিবালয়।

কমিটির সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে কমিটি সদস্য ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, এম এ মান্নান, এ কে আব্দুল মোমেন, আহমেদ ফিরোজ কবির, এ কে এম সেলিম ওসমান ও রুনু রেজা অংশ নেন।

তারা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণে গতি আনয়নের লক্ষ্যে চলমান আর্থিক প্রণোদনার পাশাপাশি অ-আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করেন।

এ লক্ষ্যে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ও তাদের পরিবারের জন্য বিশেষ স্মার্ট কার্ড দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কার্ডটির মাধ্যমে প্রবাসী ও তাদের পরিবার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

প্রবাসীদের বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানদের জন্য সব পর্যায়ের সরকারি হাসপাতাল, সরকারি সেবা অফিস ও সুরক্ষার জন্য আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিশেষ প্রাধিকার প্রদানের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্মার্ট অ্যাপসের ব্যবহার, প্রবাসীরা যাতে নির্বিঘ্নে অর্থ পাঠাতে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে স্বচ্ছ প্ল্যাটফর্মে কার্যক্রমের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বিমানবন্দরে নির্বিঘ্নে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেন।




জিম্মি এক ইসরায়েলি-আমেরিকানের ভিডিও প্রকাশ করল হামাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জিম্মি থাকা ইসরায়েলি-আমেরিকান তরুণ হার্শ গোল্ডবার্গ-পোলিনের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাস। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে হামাস যোদ্ধারা যাঁদের ধরে এনেছিলেন, তাঁদের একজন গোল্ডবার্গ-পোলিন। ওই দিন গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি যে বেঁচে আছেন, তার প্রথম প্রমাণ হিসেবে বুধবার প্রকাশিত এই ভিডিও এসেছে।

সে সময় ২৩ বছর বয়সী গোল্ডবার্গ-পোলিনকে নোভা সংগীত উৎসব থেকে ধরে এনেছিলেন হামাস যোদ্ধারা। ওই দিন ইসরায়েলে ঢুকে ১ হাজার ২০০–এর বেশি মানুষকে হত্যা এবং দুই শতাধিক মানুষকে ধরে এনে জিম্মি করেছিল হামাস।

বুধবার প্রকাশিত ভিডিওতে গোল্ডবার্গ-পোলিনকে একটি চেয়ারে বসে থাকতে দেখা গেছে। ভিডিওতে তিনি নিজের পরিচয় এবং জন্মতারিখ ও মা–বাবার নাম বলেছেন। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে গোল্ডবার্গ-পোলিন বলেন, তিনি এখানে প্রায় ২০০ দিন ধরে আছেন। তার অর্থ দাঁড়ায়, ভিডিওটি মঙ্গলবারের আগে ধারণ করা হয়েছে। কারণ, মঙ্গলবারই এই যুদ্ধের ২০০ দিন পূর্ণ হয়েছে।

ভিডিওতে গোল্ডবার্গ-পোলিনকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করতে শোনা গেছে। যেমনটি এর আগে প্রকাশিত জিম্মি ইসরায়েলের নাগরিকদের ভিডিওতে দেখা গেছে।

নিজের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন গোল্ডবার্গ-পোলিন।




গলাচিপায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় পৃথক ঘটনায় ঈসা (২) ও সুমাইয়া (৩) নামের দুইটি শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ঈসার বাড়ি দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেন্টার বাজার নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

শামিম বয়াতির দুই ছেলের মধ্যে ঈসা ছোট ছেলে।

জানা গেছে, শামিম বয়াতীর ঘরের সামনে উঠানে ঈসা খেলা করছিল। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে উঠানের সাথেই পুকুরে পড়ে যায়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায় ঈসাকে দেখে পানি থেকে তীরে তুলে তাৎক্ষণিক গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করে।

আরো পড়ুন : পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকার খামখেয়ালিপনায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: নজির আহমেদ সরদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

অপর দিকে গলাচিপা উপজেলায় রতনদী তালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া গ্রামের রাকিব মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (৩) নামের শিশু পানিতে পড়ে মারা যাবার খবর পাওয়া গেছে। সুমাইয়াকে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত্যু ঘোষণা করে।




গাজা ইস্যুতে ইউরোপের নীতির সমালোচনায় অ্যামনেস্টি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বার্ষিক রিপোর্টে জার্মানি-সহ ইউরোপের দেশগুলোর সমালোচনা করলো।

অ্যামনেস্টির রিপোর্টে এবার সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। সেই সূত্রেই ইউরোপের দেশগুলোর মনোভাব ও অবস্থান নিয়ে রিপোর্টে মন্তব্য করা হয়েছে।

রিপোর্ট পেশ করে জার্মানিতে অ্যামনেস্টির সেক্রেটারি জেনারেল জুলিয়া ডাচরো জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেয়ারবকের সমালোচনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘বেয়ারবক তথ্যের ভিত্তিতে মানবাধিকার ভিত্তিক পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছেন না।’ ইসরাইল-গাজা সংঘাত নিয়ে ডবল স্ট্যান্ডার্ড-এর কথাও বলেছেন অ্যামনেস্টি প্রধান।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপের কিছু নেতা এবং ইইউ নেতৃত্ব জাতিসঙ্ঘের চার্টারে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারে উল্লিখিত নীতিগুলো মানছেন না। তাদের আচরণ ডবল স্ট্যান্ডার্ডের উদাহরণ হয়ে থাকছে।’

২০২৩-এর ৭ অক্টোবর হামাসের সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘হামাস ভয়ংকর অপরাধ করেছে।’

যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ এবং অনেকগুলো দেশ হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে ঘোষণা করেছে। ৭ অক্টোবর ইসরাইলে ঢুকে হামাস এক হাজার ২০০ জনকে হত্যা করেছিল এবং প্রায় ২৫০ জনকে অপহরণ করে গাজা ভূখণ্ডে নিয়ে যায় ও বন্দী করে রাখে।

ডাচরো বলেছেন, ‘অ্যামনেস্টি হামাস বা কোনো সংগঠনকেই সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে অভিহিত করে না, কারণ, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের কোনো সংজ্ঞা দেয়া হয়নি।’

ইসরাইল নিয়ে অ্যামনেস্টি
অ্যামনেস্টির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘৭ অক্টোবরের পর ইসরাইল প্রত্যাঘাতের প্রচার শুরু করে। এরপর বেসামরিক মানুষের উপর, বেসামরিক পরিকাঠামোর উপর নির্বিচারে আক্রমণ শুরু হয়।’

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক ও মানবিক আইন মেনে গাজায় আক্রমণ করেছে। কিন্তু বাস্তবে তারা এই আইনের প্রধান বিষয়গুলো লঙ্ঘন করেছে।’

গত দুই বছর ধরে ইসরাইল ও ইহুদি সংগঠনগুলো অ্যামনেস্টির প্রবল সমালোচনা করছে। কারণ, আগের রিপোর্টে অ্যামনেস্টি ইসরাইলকে ‘বর্ণবিদ্বেষী’ বলে অভিযোগ করেছিল। ইসরাইল সেই অভিযোগ খারিজ করে দেয়।

ইসরাইলের অভিযোগ, অ্যামনেস্টি ইহুদি-বিদ্বেষ বাড়াচ্ছে এবং তারা সংঘাত নিয়ে একপেশে মনোভাব নিয়েছে।

মানবাধিকার নিয়ে
অ্যামনেস্টির সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, ‘১৯৪৮ সালের সর্বজনীন মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতি থেকে বিশ্ব পিছনের দিকে যাচ্ছে।’

তিনি বলেছেন, ‘২০২৩ সালে অনেক সরকার ও সমাজ স্বৈরাচারী নীতি নিয়েছে, যার ফলে মতপ্রকাশের অধিকার ও লিঙ্গ-সাম্যর উপর আঘাত এসেছে।’

এই রিপোর্টে ইউক্রেন যুদ্ধ ও চীনের আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের প্রসঙ্গও আছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে বলা হয়েছে, ‘এর ফলে বারবার যুদ্ধাপরাধ করা হয়েছে। যুদ্ধবন্দীদের উপর অত্যাচার ও খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। নদীবাঁধ ভেঙে দেয়া, বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপর আক্রমণ, খাদ্যশস্য রফতানি পরিকাঠামোর উপর আক্রমণের ফলে পরিবেশগত বিপুল ক্ষতি হয়েছে।’

সূত্র : ডয়চে ভেলে




থর মরুভূমির প্রভাব দেশে, ১০ দিনে বৃষ্টির সুখবর নেই

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দেশের আবহাওয়ায় বিরাজ করছে মরুভূমির তাপ। বৃষ্টির বাতাস সরে গেছে চীনের দিকে।

ফলে একদিকে যেমন তাপমাত্রা কমছে না। অন্যদিকে বৃষ্টির প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে না।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে আবহাওয়ার তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও স্থায়ী স্বস্তি পাওয়ার কোনো আভাস নেই।

তাদের মতে, বর্তমানে চরম ভাবাপন্ন ওয়েদার বিরাজ করছে সিস্টেমে। সেটা আরও ১০ দিন থাকবে।

আগামী সাতদিনে বজ্রমেঘ সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা কম। মে মাসের তিন তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও কম।

তাদের মতে, বর্তমানে চরম ভাবাপন্ন ওয়েদার বিরাজ করছে সিস্টেমে। সেটা আরও ১০ দিন থাকবে।আগামী সাতদিনে বজ্রমেঘ সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা কম। মে মাসের তিন তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও কম।

স্বস্তির বৃষ্টি কবে
মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে পুরো মাসে ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস নেই। এ সময় ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে কালবৈশাখী ও বজ্রঝড়ের আভাস রয়েছে। টানা বা স্থায়ী বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তাদের গাণিতিক মডেলগুলো অনুযায়ী, তাপমাত্রা এত বাড়বে না। ৪০ কিংবা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশেই থাকবে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত এটা বলা যায়। এরপর আসলে সঠিকভাবে বলা যায় না। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টিপাত হতে পারে দেশের মধ্যাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে। তবে ঢাকায় তেমন হবে না। এখন জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাতাসে বেড়েছে। এতে তাপমাত্রা অতিতীব্র না হলেও গরম অনুভূতি বাড়বে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের জন্য স্বস্তিদায়ক বৃষ্টি মে মাসে পাওয়া যাবে।

গড় তাপমাত্রা বেশি, কথাটা সঠিক নয়
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলছেন, মে মাস হচ্ছে উষ্ণতম মাস। আমাদের দেশে ১৯৭২ সালে রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেটা মে মাসেই। মে মাসে ৩ থেকে ৪টি তাপপ্রবাহ থাকে। এক্ষেত্রে টানা বৃষ্টি বা ভারী বৃষ্টিপাতেরে কোনো সম্ভাবনা নেই।

অনেকেই বলছেন তাপমাত্রা বেশি বা গড় তাপমাত্রা বেশি এই কথাটা মোটেই ঠিক নয়। গড় তাপমাত্রাও বাড়েনি। এপ্রিলের ২৩ তারিখ পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কাজেই বাড়ল কোথায়। তাপমাত্রা এখন স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি আছে। চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ায় তাপমাত্রা ২ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকে। তাপমাত্রার গড় হিসেব করা হয় ৩০ বছরে। কাজেই ৩০ বছরের গড় তো বাড়েনি। এছাড়া গড় কখনও সঠিক পরিসংখ্যান দেয়ও না।

২০১৪ সালের পর থেকে গরম অনুভূত হচ্ছে বেশি
বর্তমানে এপ্রিল মে মাসের তাপপ্রবাহ সাতদিন, ১৫ দিন, ২৩ দিন এমনভাবে স্থায়ী হয়। বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর থেকে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহের সময়কাল বা স্থায়িত্ব বেড়ে গেছে। এজন্য তাপমাত্রাটা অসহনীয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। প্যানিক তৈরি হচ্ছে। অনেক গণমাধ্যমও এভাবে প্রতিবেদন তৈরি করছে। ফলে মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হচ্ছে। কিন্তু তাপমাত্রা আগের তুলনায় অস্বাভাবিক নয়।

বৃষ্টিপাত না হাওয়ার তিন কারণ
বাতাসের জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকার কারণে বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে না। ফলে বৃষ্টি নামছে না। জলীয় বাষ্প আসে সাগর থেকে, সেটা হচ্ছে না। এর পেছনে আবার কারণ হচ্ছে এল নিনোর প্রভাব। পেরুর কাছে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো সক্রিয় থাকার কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প কম আসছে বলেছেন আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।

তাপমাত্রা বেশি থাকলে বৃষ্টি হয় না। কারণ বাতাসে যে জলীয় বাষ্প থাকে তা বেশি তাপমাত্রার কারণে ঘনীভূত হতে পারে না। ফলে বজ্রমেঘ তৈরি হয় না। এছাড়া বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে আবহাওয়ার একটা বিরাগ আধিপত্য রয়েছে দেশের বাতাসে। সেখানে অতিতীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশের বাতাসের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। আর সেখানকার তাপমাত্রা বাড়ার কারণ হলো ভারতের রাজস্থানের থর মরুভূমি। পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম মরুভূমি এটা। থর মরুভূমির তপ্ত বাতাসই বিহার, মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের আসছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, দেশে বৃষ্টিপাত হয় পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে। সেটা ভূমধ্যসাগরে তৈরি হয়ে উজবেকিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত হয়ে দেশের সিস্টেমে প্রবেশ করে। এক্ষেত্রে ওইসব দেশের তাপমাত্রা কমলে বাংলাদেশের তাপমাত্রাও কমে। এপ্রিলে ভূমধ্যসাগরে আগের মতো পশ্চিমা লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে না, যেটা এ সময়ে বাংলাদেশের দিকে আসে।

অন্যদিকে ভূমধ্যসাগরে সৃষ্টি হওয়া পশ্চিমা লঘুচাপ যেটা সৃষ্টি হচ্ছে সেটা পূর্বদিক হয়ে চীনের দিকে সরে গেছে। সেখানে কিন্তু অতিবৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পাকিস্তান থেকে থাইল্যান্ড পর্যন্ত সব দেশেই বৃষ্টিপাত কম হচ্ছে এবং তাপমাত্রা বেড়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ।

তিনি বলেন, বায়ুমণ্ডলের ওপরের দিকের বাতাস উত্তর দিকে মাঝে মধ্যে সরে গেলে এমন হয়। এদিকে তখন পশ্চিমা লঘুচাপ আসতে দেরি হয়। এর পেছনে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবকেও দায়ী করছেন তিনি।

এপ্রিলের শুরু থেকেই চলছে তাপপ্রবাহ। তিন তিনটি হিট অ্যালার্টও দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এখনও একটি হিট অ্যালার্ট চলছে। অতিতীব্র তাপপ্রবাহ কেটে গেলেও দেশের অধিকাংশ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করছে সরকার। জনজীবন যখন কাহিল তখন খুব একটা সুখবর নেই দেশবাসীর জন্য।

চলতি মৌসুমে গত ২০ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন চুয়াডাঙ্গায় ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি, মোংলায় ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি, ঈশ্বরদীতে ৪১ দশমিক ৬ ডিগ্রি, খুলনায় ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানেও মৃদু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এখনও যা বিদ্যমান আছে।

২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল আগের নয় বছরের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ঈশ্বরদীতে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ২০১৪ সালের মে মাসে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি বলেন, বায়ুমণ্ডলের ওপরের দিকের বাতাস উত্তর দিকে মাঝে মধ্যে সরে গেলে এমন হয়। এদিকে তখন পশ্চিমা লঘুচাপ আসতে দেরি হয়। এর পেছনে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবকেও দায়ী করছেন তিনি।

এপ্রিলের শুরু থেকেই চলছে তাপপ্রবাহ। তিন তিনটি হিট অ্যালার্টও দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এখনও একটি হিট অ্যালার্ট চলছে। অতিতীব্র তাপপ্রবাহ কেটে গেলেও দেশের অধিকাংশ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করছে সরকার। জনজীবন যখন কাহিল তখন খুব একটা সুখবর নেই দেশবাসীর জন্য।

২০২৩ সালের ১৬ এপ্রিল আগের ৫৮ বছরের মধ্যে ঢাকার তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় ১৯৬৫ সালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে ১৯৬০ সালে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই রেকর্ড এখনও ভাঙেনি।




কলাপাড়ায় দখলদার মুক্ত হলো মাছের পাইকারি বাজার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে দখলমুক্ত হল পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরের বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন বড় পাইকারী মাছের বাজার। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের রেকর্ডীয় জমি দাবী করে টিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু মাছ বাজারটি থেকে ভিটি ভাড়ার নামে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে আদায় করতো। এর কিছু অংশ চৌরাস্তা বাসষ্ট্যান্ড জামে মসিজদ পেলেও সরকার এ বাজার থেকে কোন রাজস্ব পেতনা। উপজেলা প্রশাসন পাইকারী মাছ বাজারটি দখলমুক্ত ঘোষনা করে বাজার থেকে আদায়কৃত অর্থ রাজস্ব খাতে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে খুশী স্থানীয় সাধারন মানুষ সহ খুচরা, পাইকারী মাছ বিক্রেতারা। তারা ইউএনও’র এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

জানা গেছে, কলাপাড়া-পটুয়াখালী মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বড় পাইকারী মাছ বাজারে ২৫-৩০টি মাছের আড়ৎ রয়েছে। বাজারটিতে প্রতিদিন ভোররাত থেকে শুরু হয় লক্ষ লক্ষ টাকার নিলামে মাছ বেচা কেনা হয়। শতকরা ৫ টাকা হারে ক্রেতা, বিক্রেতা উভয় পক্ষের কাছ থেকে খাজনার নামে টাকা উত্তোলন করা হতো।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে মাদক অভিযানে গিয়ে ৩ পুলিশ সদস্য আহত

এছাড়া চট প্রতি দিনে ২০০ টাকা। এভাবে প্রতিদিন ৫-১০ হাজার টাকা আদায় করা হতো এ বাজার থেকে, প্রতিমাসে যার অংক দাড়ায় দেড় থেকে তিন লক্ষ টাকা।

সূত্রটি আরও জানায়, মহাসড়কের পাশের মাছ বাজারের ওই জমি সর্বশেষ বিএস জরিপে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন উন্নয়ন বোর্ডের নামে জরিপ হয়। যা এক সময় পাউবো থেকে ব্যক্তি নামে বন্দোবস্ত দাবী করা হলেও আদালত থেকে ঘোষনামূলক ডিক্রী ছাড়া বর্তমানে এর কোন ভিত্তি নেই।

টিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু বলেন, চৌরাস্তা মাছ বাজারের ওই জমি আমাদের ক্রয়কৃত রেকর্ডীয় জমি। আমরা আইনী মোকাবেলার জন্য আদালতে যাবো।

টিয়াখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সুজন মোল্লা বলেন, মাছ বাজারটি দখলমুক্ত হওয়ায় সাধারন জনগন খুশী। টিয়াখালী ইউনিয়নের জনসাধারনের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।

কলাপাড়া ইউএনও মো: রবিউল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসন এখন থেকে ওই মাছ বাজার থেকে রাজস্ব আদায় করে সরকারী কোষাগারে জমা দেবে। এতে কেউ বিপত্তির চেষ্টা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বাজার ব্যক্তিগত কিংবা সরকারী জমি যেখানেই হোক না কেন রাজস্ব আদায় করার বৈধতা কেবল সরকারের। তবে সরকারের কাছ থেকে শর্ত সাপেক্ষে ইজারা নিয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে খাজনা আদায় করা যেতে পারে।




পটুয়াখালীতে মাদক অভিযানে গিয়ে ৩ পুলিশ সদস্য আহত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে মাদক অভিযানে গিয়ে অস্ত্রের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নে অভিযান চালাতে গিয়ে এ ঘটনার শিকার হন তারা।

আহতরা হলেন— পটুয়াখালী গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত এএসআই সাইদুর রহমান, কনেস্টবল তানভীর ও মাহাফুজ। যদিও ওই অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী মো. রনি হাওলাদারকে (৩০) আটক করেছেন ডিবি। রনি ওই এলাকার রেজাউল হাওলাদার ওরফে মাসুদের ছেলে। এর আগেও ডিবির একটি অভিযানে রনিকে আটক করা হলেও তিনি হাতকড়া নিয়ে পালিয়ে যান।

আরো পড়ুন : বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙন থেকে বাঁচতে শতাধিক পরিবারের আকুতি

ঘটনার বরাত দিয়ে পটুয়াখালী গোয়েন্দা শাখার ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদক সরবরাহ করছেন রনি। পরিচয় গোপন করে রনির বিরুদ্ধে ডিবির কাছে এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির এসআই সম্বিত রায়ের নেতৃত্বে উল্লেখিত ইউনিয়নে অভিযান চালান তারা।

মঙ্গলবার গভীর রাতে ৩নং ওয়ার্ডস্থ বড়চত্রা এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের বাড়ির সামনে রনিকে আটক করে দেহ তল্লাশি চালালে তার শরীর থেকে ৩শ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। আটকের পর রনির সঙ্গে থাকা হাতলযুক্ত সুইচ গিয়ার চাকু নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে রনি একটি পরিত্যক্ত জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। ডিবির সদস্যরাও এ সময় ওই জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়ে রনিকে আটক করেন। রনি পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ধস্তাধস্তিও করেন।




বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙন থেকে বাঁচতে শতাধিক পরিবারের আকুতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউয়িনের বুড়াগৌরাঙ্গ নদ ঘেঁষা বেড়িবাঁধ এখন ভাঙনের মুখে। ওই ইউনিয়নের বউবাজার থেকে মিটার বাজার পর্যন্ত নির্মিত এ বাঁধটি ভাঙলে নদীগর্ভে বিলীন হবে অসংখ্য ভিটেবাড়ি ও ফসলি জমি।

ভাঙনকবলিত এলাকাবাসীর উদ্যোগে গত সোমবার দুপুরে বউবাজার এলাকার ভাঙনকবলিত বাঁধের ওপর মানববন্ধন করেছেন নদ তীরবর্তী শতাধিক নারী-পুরুষ। 

জানা গেছে, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বউবাজার, হিন্দুগ্রাম, খেয়াঘাট ও দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামটিকে রক্ষা কবজ হিসেবে ঘিরে রেখেছে এ বাঁধটি। কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরু না হতেই বাঁধ ভাঙনের মুখে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চার গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার।

আরো পড়ুন : অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহে পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা

মানববন্ধনে অংশ নেয়া রাসেল খান বলেন, সাগর মোহনাসংলগ্ন বুড়াগৌরাঙ্গ নদের তীরের এ বাঁধ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বাঁধ চার এলাকায় লবণ পানি থেকে ফসল রক্ষাসহ মানুষের জানমাল রক্ষা করে আসছে। কিন্তু প্রতি বছরই নদের তীব্র স্রোতে বাঁধ ভেঙে পড়ছে। তাই জনস্বার্থে পরিকল্পিতভাবে বাঁধটি নির্মাণ প্রয়োজন।’

ভাঙনকবলিত হিন্দুগ্রামের বাসিন্দা মিলন হাওলাদার বলেন, বার বার বাঁধ মেরামত হলেও তা টেকসই হচ্ছে না। তাই ব্লক ফেলে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের দাবি আমাদের।’

একই গ্রামের সুরেন সিকদার বলেন, ‘বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙনে তিনবার তাদের বাড়িঘর সরাতে হয়েছে। পৈতৃক সম্পত্তি বলতে এখন তাদের কিছুই নেই। বর্তমানে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বাস করছেন তিনি। এখন ভাঙন তাদের দিকে ছুটে আসছে। পুরো বাঁধ ভেঙে গেলে তাদের শেষ আশ্রয়ের ঘরও ভেঙে যাবে। এলাকার লবণ পানিতে ফসলি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩ হাজার

এ ব্যাপারে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বউবাজার এলাকায় ৫৫/৪ পোল্ডারের এ বাঁধটি দৈর্ঘ্য সাড়ে ৩২ কিলোমিটার। এর মধ্যে নদীর স্রোতে প্রায় তিন কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহে পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে এবং অসহ্য গরমে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে পর্যটনকেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা। কোথাও নেই পর্যটকদের কোলাহল। সৈকতজুড়ে শুধু ধু ধু বালুচর। দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। দীর্ঘ সরকারি ছুটিতেও মিলছে না পর্যটক।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তারা বলেছেন, অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের কারণে এবার পর্যটক কমেছে।
প্রতিদিন এখানে অনেক দর্শনার্থীর আগমন ঘটত। সকাল, দুপুর, বিকাল কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত পর্যটকদের পদচারণায় সাগরতট থাকত মুখরিত। পর্যটন স্পট গুলোতেও ছিল পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়। সাগরের ঢেউ গর্জন করে তীরে আছড়ে পড়ছে। দেখলে মনে হয় যেন এসব মনোরম দৃশ্য দেখার কেউ নেই। কিছু পর্যটক থাকলেও তারা দিনের বেলা হোটেল থেকে বের হচ্ছে না প্রচণ্ড গরমের কারণে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে পড়েছে একেবারে গ্রাহকহীন। 

এ দিকে কলাপাড়াসহ উপকূলজুড়ে অসহ্য তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসেও মিলছে না স্বস্তি।

কুয়াকাটা সৈকতে চটপটি বিক্রেতা আলামিন বলেন, ঈদুল ফিতর ও বৈশাখ উপলক্ষে অনেক পর্যটকের ভিড় ছিল। এখন অস্বাভাকি তাপপ্রবাহের কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩ হাজার

হোটেল গ্র্যান্ড সাফা ইনে ম্যানেজার মো: সাইদুর রহমান জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে কুয়াকাটা পর্যটক নেই। বর্তমানে হোটেলের বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, গরমে পর্যটক এসে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। যে কারণে মানুষ এসে টিকতে পারছেন না। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিছু ট্যুরিস্ট আসছিল এরপর থেকে প্রচণ্ড গরমের কারণে বর্তমানে হোটেল-মোটেলের সিট ফাঁকা রয়েছে। সাগরের পাড়ে এসে মানুষ উত্তাপে টিকতে পারছে না। লবণাক্ত পানিতে শরীর শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে।