গাজা নীতির বিরোধিতা করে মার্কিন পররাষ্ট্র মুখপাত্রের পদত্যাগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের গাজা নীতির বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরবি ভাষার মুখপাত্র হালা রাহারিত। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলা নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতির বিরোধিতা করেছেন তিনি। এর জেরেই পদত্যাগ করেছেন রাহারিত। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। খবর রয়টার্স।

তার এই পদত্যাগের খবর বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লিংকডইনে এক পোস্টে তিনি নিজেই এই তথ্য জানান।

লিঙ্কডইন পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মানজনক পদে ১৮ বছর চাকরি করার পর আমি ২০২৪ সালের এপ্রিলে চলে যাই। এর কারণ গাজা ইস্যুতে মার্কিন সরকারের নীতি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হালা রাহারিত এক সময় মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত একটি সংস্থা দুবাই রিজিওনাল মিডিয়া হাবের ডেপুটি ডিরেক্টর ছিলেন। এই সংস্থা আরব বিশ্বের মিডিয়া আউটলেটগুলোর সঙ্ড়ে মার্কিন সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা পালন করে।

তারপর ২০০৬ সালে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার কর্মকর্তা এবং আরবি ভাষার মুখপাত্র হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগ দেন তিনি।

অবশ্য হালা রাহারিতই প্রথম কর্মকর্তা নন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের গাজা নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন। গত মার্চে একই কারণে পদত্যাগ করেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার ব্যুরোর কর্মকর্তা অ্যানেলি শেলিন।

এই ইস্যুতে প্রথম যে মার্কিন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন, তার নাম জশ পল। গত অক্টোবরে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়া জশ পলও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ছিলেন।

 




শিশুদের কলরবে মুখরিত পুরো চর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কয়েকটি উপজেলা খুবই দুর্গম। যাতায়াতে দুর্গম এসব উপজেলার বেশ কিছু চর আছে, যেখানে পৌঁছানো অনেক কষ্টকর। এই অঞ্চলগুলোর শিক্ষার অবস্থা খুবই নাজুক। পড়ালেখার সুযোগ কম থাকায় শিশুরা অল্প বয়স থেকেই কাজে লেগে যায়।

মা-বাবার মতো এক সময় তারাও ঝুঁকে পড়ে কৃষি কাজ কিংবা মাছ ধরার কাজে। এসব অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষের পেশা মাছ ধরা ও কৃষি কাজ। অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এই অবস্থায় সন্তানদের কষ্ট করে একটু দূরের স্কুলে পড়ানোর কথা ভাবতেও হয়তো ভয় পায় মানুষগুলো।

প্রকৃতির সঙ্গে নিয়মিত লড়াই করে বেঁচে থাকা এই মানুষদের কথা বিবেচনা করে গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার তিনটি অতি দুর্গম চরে স্কুল করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ। যে শিশুরা একসময় স্কুলে যাওয়ার কথা চিন্তাও করত না, তারা এখন নিয়মিত স্কুলে যায়। তাদের কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো চর। তিনটি চরের বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে এখন তিন শতাধিক শিশু পড়াশোনা করছে।

আরো পড়ুন : দুমকীতে ২৪টি কেউটে সাপের বাচ্চা হত্যা ও মা সাপ উদ্ধার

তেঁতুলিয়া নদীর কোল ঘেঁষে গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের চর আগস্তি গ্রাম। গ্রামের বড় একটি অংশের সঙ্গে জুড়ে আছে ঘাসির চর। রাঙ্গাবালী উপজেলা ও গলাচিপা উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই অংশটি বেশ অবহেলিত বলা যায়। এখানে তিন শতাধিক পরিবারের বাস। প্রতিদিন জোয়ার-ভাটায় চরে পানি ওঠে।

চর আগস্তির এই গ্রামটি নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এক বছর আগেও চরটিতে কৃষকের হাঁকডাক এবং জেলেদের ডাকচিৎকার ছাডা আর কিছুই শোনা যেত না। কিন্তু এই দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়ে গেছে ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল’ প্রতিষ্ঠার পরই। বেড়িবাঁধের একটু দূরেই (পশ্চিম পাশে) নির্মাণ করা হয়েছে দক্ষিণ চর আগস্তি মুজিব কেল্লা বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। সুবজের মাঝে লাল-সাদা ভবনটি প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থীর কলরবে মুখরিত থাকে। বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসে ঘুরে যায় স্কুলে। দেখে যায় বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের কার্যক্রম। বিশাল এই চরে সবুজের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। পিছিয়ে পরা এই গ্রামের শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে স্কুলটি। গ্রামটির বিভিন্ন দিক থেকে ইউনিফর্ম পরে স্কুলে আসা শিক্ষার্থীদের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে এলাকার মানুষ। বিচ্ছিন্ন এই এলাকার শিক্ষার্থীরা এভাবে জামা, প্যান্ট, জুতা, ব্যাগ নিয়ে সেজেগুজে স্কুলে আসবে, এটা যেন তাদের কাছে স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তব করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। তাইতো গ্রামের মানুষ সব সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি।

দক্ষিণ চর আগস্তি বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ সাহিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মো. রেজাউল ইসলাম প্রমুখ পরিদর্শন করেছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের এমন উদ্যোগুলো আরো বিস্তৃত হোক, এটাই চেয়েছেন সবাই।

তাঁরা বলেছেন, দেশসেরা শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরার কল্যাণে উপকৃত হচ্ছে প্রান্তিক অসহায় পরিবার ও তাদের সন্তানরা। বসুন্ধরা গ্রুপ বলেই এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে। বসুন্ধরা পরিবারের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।

দক্ষিণ চর আগস্তির ঘাসির চরের কৃষক আলকেস মৃধা বলেন, ‘আমার তিন ছেলে-মেয়ে। বড় মেয়ে বিয়ে দিছি। মাইজ্জা পোলা তৃতীয় শ্রেণিতে দূরের একটা স্কুলে পড়ে। সাড়ে চাইর বছরের একটা ছোট মাইয়া আছে। আমি এই মাইয়াডারে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে ভর্তি করামু। বাড়ির ধারে স্কুল, এইডাই আমাগো বড় সুবিধা, যদিও একটা হাক্কা (সাঁকো) পার হইয়া আইতে হইবে। তাতেও সমেস্যা নাই। দূরের চাইয়্যা হাক্কা পারানো সহজ। আমাগো মতো গরিব মাইনসের পোলাপানরে জামা, প্যান্ট, জুতা, ব্যাগসহ লেহাপড়ার সব এমন করে কেউ দেয় নাই। একমাত্র বসুন্ধরাই দিছে। স্কুল শুরু হইলে আমি প্রায়ই আইয়া চাইয়া দেহি আমাগো গেরামের ছোট ছোট পোলাপান একই জামাকাপড়, জুতা, ব্যাগ লইয়া স্কুলে যায়, পরানডা ভইরা যায়। আমার ধারে স্বপ্নের লাহান লাগে।’

আরো পড়ুন : লবনাক্ত জমিতে কোলেস্টেরল মুক্ত তৈলের হাতছানি দিচ্ছে হাইব্রিড সূর্যমুখী

দশমিনার চরবোরহানে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। উত্তাল তেঁতুলিয়া নদী পাড়ি দিয়ে ওপারের চরবোরহানে যেতে হয়। যোগাযোগের মাধ্যম মাত্র একটি ট্রলার। তা-ও দিনে একবার যাতায়াত করে। চরটি প্রায় চার দশক আগে জেগে উঠলেও বসতি মাত্র দুই দশক ধরে। নেই কোনো বেড়িবাঁধ। তাই জলোচ্ছ্বাস কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে লড়াই করে বাঁচতে হয় এখানকার বাসিন্দাদের। মৌলিক চাহিদা তো দূরে থাক, স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই এখানে কঠিন। চরের বেশির ভাগ পরিবার মাছ ধরা বা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাইতো পড়াশোনা তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। পরিবারের সঙ্গে কাজ করতে ক্ষেতে বা নৌকায় মাছ ধরতে দেখা যায় সাত-আট বছরের শিশুদের। এসব দেখে এগিয়ে আসেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা। শত প্রতিকূলতাও থামাতে পারেনি শুভসংঘ বন্ধুদের। শিশুদের জন্য বর্ণমালার বই হাতে ছুটে চলা এই উদ্যমী তরুণদের দমিয়ে রাখতে পারেনি উত্তাল নদীও। দরিদ্র পরিবারের কোমলমতি শিশুদের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের আর্থিক সহায়তায় গড়ে তুলেছেন বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে স্কুলটি। দশমিনার আলিপুর লঞ্চঘাট থেকে উত্তাল তেঁতুলিয়া নদীতে প্রায় এক ঘণ্টা পাড়ি দিতে হয়। পূর্ব পাশে ভোলা জেলা, দক্ষিণে গলাচিপা উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে চরবোরহান। তেঁতুলিয়া নদীর তীরেই জেগে ওঠা চরবোরহানের আবাসন প্রকল্প এলাকায় টিনের চালের একটি ঘরে ৮০ জন শিশু নিজেদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অবিরত চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব শিশুকে জামা, জুতা, ব্যাগ, শিক্ষা উপকরণ, স্কুলের অবকাঠামো, বৈদ্যুতিক পাখাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ। নতুন জামা, ব্যাগ, জুতা হাতে পেয়ে ঘ্রাণ নিচ্ছে শিশুরা। শিশুদের চোখেমুখে আনন্দের হাসি।

শিক্ষার্থী রুবাইয়ার মা লিপি বেগম বলেন, ‘আমি তো মেয়ের পড়াশোনার কথা চিন্তাই করি নাই। আমাগো ভাগ্য অনেক ভালো, বসুন্ধরা গ্রুপ আমাগো মতো গরিব মাইনসের মাইয়া-পোলার কথা চিন্তা কইররা স্কুল করছে।’

রাঙ্গাবালীর বিচ্ছিন্ন চর ইমারশনে কোনো স্কুল না থাকায় নদী পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হতো শিক্ষার্থীদের। পুরো জেলা থেকেই স্থলপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাবালী। এই উপজেলার একেকটি চরে যেতে পোহাতে হয় নানা দুর্ভোগ। সেই চরগুলো থেকে শিশুরা শিক্ষা নিতে অনেক দূরের পথ পাড়ি দিতে চায় না। মা-বাবারাও শিশুদের এত দূরে দিয়ে পড়ালেখা করাতে চান না। এসব কিছু বিবেচনা করে চর ইমারশনে একটি স্কুল করার সিদ্ধান্ত নেয় বসুন্ধরা শুভসংঘ। স্কুলহীন চর ইমারশন এখন বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকে। অভিভাবকরাও এখন নিশ্চিন্ত মনে সন্তানদের স্কুলে পাঠান।




দুমকীতে ২৪টি কেউটে সাপের বাচ্চা হত্যা ও মা সাপ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় একটি বসত ঘর থেকে ২৪টি বাচ্চাসহ একটি বিষধর কেউটে সাপ ধরা পড়েছে।বাচ্চাগুলোকে হত্যা করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে দুমকী গ্রামের গাজী আব্দুল হামিদ এর মেয়ে নাসিমা বেগমের বসত ঘর থেকে এই বাচ্চা ও মা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

নাসিমা’র ভাই আবু বকর গাজী জানান, সকাল ৮ টার দিকে তার ছেলে ও ভাগ্নী বোনের বাসার সামনের বারান্দায় খেলা করতে গিয়ে কেউটে সাপের বাচ্চা চলাচল করতে দেখে। এ কথা তাকে জানালে বাসার খাটের নিচে ও শোকেসের আড়াল খোঁজ করে কেউটে সাপের বাচ্চা গুলো বের করে আনা হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাচ্চাগুলো মেরে ফেলা হয়। পরে জেলা শহর থেকে সাপুড়েরা এসে চেষ্টা চালিয়ে বিকেলে মা সাপকে জীবিত অবস্থায় ধরতে সক্ষম হয়। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় সাপ আতংক বিরাজ করছে।

আরো পড়ুন : আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিশ্ববাজারে পটুয়াখালীর মৃৎ শিল্প

এ সময় সকলকে সচেতন হতে বলে তিনি আরও বলেন, বাসার চিপাচাপা সহ বিভিন্ন কোনাকানায় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বিশেষ করে বাসার মা-বোন ও বাচ্চাদের সতর্ক হতে হবে। প্রতি বছর এ সময় বিষাক্ত সাপের ছোবলে অনেকেই নিহত হন।




লবনাক্ত জমিতে কোলেস্টেরল মুক্ত তৈলের হাতছানি দিচ্ছে হাইব্রিড সূর্যমুখী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরনের জন্য সূর্যমুখী হাইসান ৩৩ ফসলের মাঠ পরিদর্শন, ফসল কর্তন ও মাঠ দিবস পালন উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব ও মহাপরিচালক (বীজ) বীজ অনুবিভাগ মো. আবু জোবায়ের হোসেন বাবলু বলেন, লবনাক্ত জমিতে ফসল উৎপাদন কোন বাধা হতে পারেনা যদি লবন ক্ষয়িষ্ণু বীজ রোপন করা যায়৷ দক্ষিণাঞ্চলে এ মৌসুমে ৩৫ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে। এ অনাবাদি জমি আবাদিতে রুপান্তর করতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ব্রাক সিড। ব্রাকের উৎপাদিত সূর্যমুখী হাইসান ৩৩ এ অঞ্চলের কৃষকের মুখে হাসি ফুটাচ্ছে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে এনে নিজেদের উৎপাদিত তেল নিজেরা ব্যবহার করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ।

শুক্রবার (২৬এপ্রিল) বিকেলে ব্র্যাক সিড অ্যাড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের আয়োজনে মোয়াজ্জেমপুরে সূর্যমুখী হাইসান ৩৩ ফসলের সূর্যমুখী উৎপাদন পরবর্তী প্রক্রিয়াজাতকরন উদ্যোগ, এডাপটেশন ক্লিনিক পরিদর্শন, সূর্যমুখী মাঠ পরিদর্শন, ফসল কর্তন ও মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়।

আরো পড়ুন : আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিশ্ববাজারে পটুয়াখালীর মৃৎ শিল্প

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএডিসির সদস্য পরিচালক ( বীজ ও উদ্যান) মো. মুস্তাফিজুর রহমান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ও বিএডিসি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শওকত ওসমান, বরিশাল এসিআই সীড বিজনেস ডাইরেক্ট সুধীর চন্দ্র নাথ, এ্যডভান্টা সীড ইন্টারন্যাশনাল কান্ট্রি ম্যানেজার ডঃ এবিএম জিয়াউর রহমান,কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আরাফাত হোসাইনসহ প্রমূখ।

উপজেলার তথ্যমতে, এ উপজেলার প্রায় ১হাজার ৯৫০হেক্টর জমিতে সূর্যমূখী আবাদ হয়েছে। সে হিসাবে প্রায় ১৩৬৫ মেট্রিকটন তেল উৎপাদন হবে। প্রতি কেজি ৩’শত টাকা করে মূল্য নির্ধারণ করলে সেক্ষেত্রে ৪০ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকার তেল কৃষকরা বিক্রি করবে।

লতিফপুরের স্থানীয় কৃষক মো. নুর ইসলাম আকন বলেন, এবারি প্রথম ২.৫ বিঘা জমিতে হাইব্রিড হাইসান ৩৩ এর বীজ রোপন করলাম। ভালো ফলন হয়েছে। আশা করি ২০ থেকেন ২২ মন বীজ পাব। বীজ থেকে যে তৈল পাব তা দিয়ে আমার সংসারের পুরো বছরে আর তৈল ক্রয় করতে হবে না।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে পথচারীদের পানির বোতল ও স্যালাইন দিচ্ছেন রেড ক্রিসেন্ট

মো. নেওয়ামুর নাসির বলেন, ব্রাকের অর্থায়নে আমাদের পতিত জমিতে লবন ক্ষয়িষ্ণু হাইব্রিড হাইসান ৩৩ বিজ দিয়েছি। আমাদের জমি সারা বছরে একবার ফসল উৎপাদন করতে পারি কিন্তু এবারেই প্রথম ব্রাকের সহায়তায় আমি ১০ বিঘা জমিতে হাইব্রিড হাইসান ৩৩ চাষ করে প্রায় ৫০ মনের বেশি বীজ পাব। যা বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারব।

বিশেষ অতিথি বিএডিসির সদস্য পরিচালক ( বীজ ও উদ্যান) মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিজটি এই অঞ্চলের জন্য আর্শীবাদ। লবনের সাথে যুদ্ধ করে বেড়ে উঠে। আমাদের আর যেন তেল আমদানি না করা লাগে। সেই লক্ষে সূর্যমুখীর চাষ বেড়ে গেছে। আমাদের খাদ্য ও পুষ্টি যোগান দিবে।




আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিশ্ববাজারে পটুয়াখালীর মৃৎ শিল্প

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মৃৎ শিল্পে এসেছে বৈচিত্র্য। নিত্যপণ্যের বাইরে এখানে তৈরি হচ্ছে হরেক রকম শো-পিস। যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে বিশ্ব বাজারে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আর স্বল্প সুদে ঋণ পেলে এই শিল্প আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিল্পীদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ঘুরছে চাকা। দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় এটেল মাটির দলা থেকে তৈরি হচ্ছে নানা পণ্য। এমন চিত্র চোখে পড়ে পটুয়াখালীর বাউফলের কুমার পাড়ায়। আগে শুধু গৃহস্থালি নিত্যপণ্য বানানো হলেও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন বৈচিত্র্য এসেছে এখানকার মৃৎ শিল্পে।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় রহমতের বৃষ্টি পেতে ইসতিসকার নামাজ আদায়

এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায় মাটির তৈজসপত্র। এমনকি দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশের বাজারও দখল করছে এ পণ্যগুলো। এতে ভাগ্য বদল হয়েছে এখানকার কুমারদের। 

এ শিল্পে উচ্চ আয়ের হাতছানি থাকলেও উদ্যোক্তাদের রয়েছে পুঁজির অভাব। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মৃৎ শিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নেয়া সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন : বিপুল পরিমাণ শাপলা পাতা-পিতাম্বরী ও হাঙর মাছ জব্দ

কারিগররা বলেন, মাটি যেন আমরা সহজ পদ্ধতিতে পাইতে পারি, সেটাই সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন। যাদের চাহিদা আছে তাদেরকে স্যাম্পল অনুযায়ী দিতে পারলে আরও ভালো হতো। যদি সরকারি আরও সহযোগিতার পাই তাহলে আমরা সঠিকভাবে শিল্পটাকে উপস্থাপন করতে পারবো।

এলাকার কুমারদের আরও দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ঋণ সহায়তা দেয়ার কথা জানান এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, ‘রপ্তানি করার ব্যাপারে তাদেরকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি মাত্র ৪ শতাংশ সুদে তাদেরকে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করে থাকে এসএমই ফাউন্ডেশন।’

বাউফলে মৃৎ মিল্পের ছোট-বড় প্রায় ৮০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫ হাজার মানুষের।




পটুয়াখালীতে পথচারীদের পানির বোতল ও স্যালাইন দিচ্ছেন রেড ক্রিসেন্ট

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তিব্র তাপদাহ থেকে সাধারণ মানুষকে প্রশান্তি দিতে গত কয়েকদিনের মত আজও পথচারীদের মাঝে পানির বোতল ও খবার স্যালাইন বিতরণ করছেন পটুয়াখালী যুব রেড ক্রিসেন্ট এর সদস্যরা।

শুক্রবার বেলা ১১ টা থেকে শহরের সোনালী ব্যাংক মোড়ে সেচ্ছাসেবকরা দিনমজুর, রিকশা চালক সহ তৃষ্ণার্ত মানুষকে পানি খাওয়াচ্ছেন।

আর তিব্র গরমে এই সহযোগীতায় খুশি এই পথে চলাচলকারী মানুষরা।

আরো পড়ুন : বিপুল পরিমাণ শাপলা পাতা-পিতাম্বরী ও হাঙর মাছ জব্দ

যুবরেড ক্রিসেন্ট পটুয়াখালী ইউনিটের যুব প্রধান নাসিম জানান, গত কয়েকদিন থেকেই তারা বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণের কার্যক্রম চলমান রেখেছেন। তিব্র তাপ দাহকে একটি দূর্যোগ হিসেবেই বিচেনা করে তারা মাঠে কাজ করছেন।

বিশেষ করে বৈশি^ক উষ্ণায়ন সবাইকেই বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছে। আগেও যেমন সকল সংকটে যুব রেড ক্রিসেন্ট এর সেচ্ছাসেবকরা ঝাঁপিয়ে পরেছে, এখনও তারা নিজ উদ্যোগে সাধারন মানুষের পাশে কিছুটা হলেও প্রশান্তি দেয়ার চেষ্টা করছেন। আগামী যে কয়েকদিন তিব্র তাপ দাহ চলমান থাকবে তারা সেই পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান রাখবেন বলেও জানান সেচ্ছাসেবী সংগঠনটির যুব প্রধান।

এদিকে রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের পাশপাশি পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ,পটুয়াখালী বাসী সহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে সাধারণ মানুষকে বীনামূল্যে পানি, সরবত ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করছেন।




বাংলাদেশের উন্নয়নে পাকিস্তান প্রশংসা করে অথচ বিরোধী দল দেখে না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে পাকিস্তান প্রশংসা করে, অথচ বিরোধী দল উন্নয়ন দেখতে পায় না। তারা দিনের আলোতে রাতের অন্ধকার দেখে। দেশের উন্নয়ন নিয়ে এতটা হীন মনোবৃত্তির পরিচয় তারা দিচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে তাদের বাস্তবতা বোঝা উচিত।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশের যে উন্নতি ও উচ্চতা… এটা দেখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ লজ্জিত হন। তখন পূর্ব পাকিস্তানকে তাদের কাছে মনে হতো বোঝা। এখন সে বোঝাই অনেক উন্নয়নে এগিয়ে গেছে। সে উন্নয়ন দেখে তিনি লজ্জিত হন। বিএনপি যতটা অপপ্রচার করে… তাদের শাহবাজ শরিফের বক্তব্য থেকে প্রকৃত সত্য শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু আছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা বিশ্ব যুদ্ধ-সংঘাতে ভয়ংকর পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েছে। আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন-হামাস পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে রেখেছে। বিশ্ব জনমতকে উপেক্ষা করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু রাফায় আগ্রাসী অভিযান শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে আমাদের নেত্রী যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে চলেছেন। সকল প্রকার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ও এ যুদ্ধকে না বলার জন্য বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান ও কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী প্রমুখ।




কুয়াকাটায় রহমতের বৃষ্টি পেতে ইসতিসকার নামাজ আদায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈশাখের শুরুতেই তীব্র তাপদাহ , ঝাঁঝালো রোদ আর অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ কুয়াকাটার উপকূলীয় খেটে খাওয়া মানুষ। প্রখর রোদ আর অনাবৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন ফসল। তীব্র এই গরম থেকে পরিত্রাণের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের খোলা আকাশের নিচে ইসতিসকার নামাজ ও দোয়া করেন মুসুল্লিরা। নামাজ শুরুর পূর্বে ইমাম সাহেব সকলকে তার পরনের পোশাক উল্টিয়ে নিতে বলেন।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় নামাজ শেষে অনাবৃষ্টি ও প্রচণ্ড খরা থেকে রেহাই পেতে মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

আরো পড়ুন : খানাখন্দে ভরা কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়ক

নামাজ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন, কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম সরোয়ারি। নামাজ ও দোয়ায় ছাত্র, যুবকসহ শহরের আশপাশের শতশত মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। তাওবাতুন নাসুহা বা একনিষ্ঠ তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে রহমতের বৃষ্টি কামনা করে ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করা হয়। মোনাজাতে মুসল্লিরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তওবা ও ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। এ সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তিসহ দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া করা হয়।

নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা জানান, প্রচণ্ড দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠঘাট কৃষিজমি। তীব্র খরায় ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন মানুষ। এখন চাষাবাদ করতে পারছি না। তাই আল্লাহর অশেষ রহমতের জন্য এ নামাজ আদায় করা হয়েছে।




বাংলাদেশের উন্নতি দেখে এখন লজ্জিত হই: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশ ছিল পাকিস্তানের অংশ। ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নামে এই জনপদকে তখন ‘বোঝা’ মনে করতো তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী।

সময়ের পরিক্রমায় সেই ‘বোঝা’র জনপদ এখন উন্নতির নানান সূচকে ছাড়িয়ে গেছে পাকিস্তানকে।

বাংলাদেশের এ অভূতপূর্ব অগ্রগতিতে ‘লজ্জা’ পান বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

সেদেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বুধবার (২৪ এপ্রিল) এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান তিনি। খবর ডন অনলাইনের।

১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ভাগ হওয়ার পর বাঙালিদের এ ভূখণ্ড পাকিস্তানের একটি অংশ হয়ে শাসিত হতে থাকে। কিন্তু সবকিছুতে এ জনপদের মানুষের ওপর ছিল বৈষম্য।

পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে একসময় মুক্তির সংগ্রাম শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে হয় স্বাধীনতার যুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ শেষে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে পাকিস্তানের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

মুক্তিযুদ্ধের আগের সময়ের প্রসঙ্গ টেনে শেহবাজ শরিফ বলেন, আমি তখন অনেক তরুণ ছিলাম…তখন আমাদের বলা হতো ওই অঞ্চল (বাংলাদেশ) আমাদের জন্য বোঝা। আজ আপনারা জানেন, সেই ‘বোঝা’ কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে (অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে)। তাদের দিকে তাকালে আমি এখন লজ্জিত হই।

অনুষ্ঠানে শেহবাজ শরিফ পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সেদেশের ব্যবসায়ীদের রপ্তানি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেন।

তিনি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের বিষয়েও কথা বলেন। এছাড়া দেশে ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা’র জন্য পিটিআই প্রধান ইমরান খানের প্রতি তার নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গিও প্রকাশ করেন শেহবাজ।

গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই শেহবাজ।




আগামীকাল থেকে চট্টগ্রামে রুদ্ধদ্বার অনুশীলন করবে বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তিন দিনের রুদ্ধদ্বার অনুশীলন সেশন করবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।
বিসিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছে, আগামী ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই অনুশীলন সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচ এবং ঢাকায় শেষ দুই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
ইতোমধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের জন্য ১৭ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। তবে রুদ্ধদ্বার অনুশীলন সেশনের পর সিরিজের জন্য মূল দল ঘোষণা করা হবে।
দেশের বাইরে থাকার কারণে প্রাথমিক দলে রাখা হয়নি সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানকে। সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সাথে থাকলেও, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলছেন মুস্তাফিজ।
আইপিএল শেষ না করেই ২ মে দেশে ফিরবেন মুস্তাফিজ। আর চলতি মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে সাকিবের।
আগামী ২৮ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছে  সরাসরি চট্টগ্রামে যাবে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল।