প্রার্থীর পক্ষে গোপন বৈঠক: ৫ প্রিসাইডিং অফিসারসহ ৬ জন কারাগারে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে গোপন বৈঠক করার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ৫ প্রিসাইডিং অফিসার এবং বৈঠকের সম্বয়ককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ মে) সন্ধ্যায় তাদের সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. বিল্লাল হোসাইন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কোর্ট পরিদর্শক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সদর উপজেলার যমুনা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক আবু সামা, বাহুকা কলেজের প্রভাষক বাচ্চু কুমার ঘোষ, জনতা ব্যাংক সিরাজগঞ্জ জোনাল অফিসের প্রিন্সিপাল অফিসার ইয়াসিন আরাফাত এবং বৈঠকের সমন্বায়ক শিয়ালকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আমিনুর ইসলাম।

গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুলহাজ উদ্দীন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম জানা যায়নি।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন জানান, ওই বৈঠকের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটা নির্বাচন নিয়ে একটি ষড়যন্ত্র।

প্রসঙ্গত, রোববার সদর উপজেলার কাদাই এলাকায় একটি রিসোর্টে প্রিসাইডিং অফিসাররা গোপন বৈঠক করছিল-এমন অভিযোগে পুলিশ ও নির্বাচন অফিসার অভিযান চালায়। কিন্তু কাউকে না পেলেও পরের দিন সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ওই ছয় জনকে আটক করে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০ জনের বিরুদ্ধে জেলা নির্বাচন অফিসার মামলা দায়ের করেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত শেষে পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




বরগুনায় সুপেয় পানির সংকট, বিপাকে তিন লাখ মানুষ

বরিশাল অফিস :: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী ৩৮৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট বিশাল জলরাশি, যার তিন দিকেই রয়েছে বড় বড় নদী। চারদিকে অথৈ জলরাশি থাকলেও সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। মাটির নিচে পাথরের মতো শক্ত বস্তু থাকায় নলকূপ বসানো যায় না। ফলে বিপাকে পড়েছেন এ উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

পানির সংকট ক্রমান্বয়ে তীব্র হচ্ছে এবং সারাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ বরগুনার পাথরঘাটায় চলমান তীব্র দাবদাহে ৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার অস্বাভাবিক গরমের পাশাপাশি নেই স্বস্তির বৃষ্টি। উপকূলীয় জনপদে চলছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। প্রতিদিন পানির চাহিদা বাড়লেও বাড়ছে না সুপেয় পানির পরিমাণ। পানির উৎস পুকুর, দীঘি, জলাশয়, নদ-নদী, খাল-বিল শুকিয়ে হ্রাস পাচ্ছে নিরাপদ পানির চাহিদা।

নদীমাতৃক এলাকার চারদিকে বিভিন্ন নদ-নদীতে অথৈ পানি থাকার পরেও বিশুদ্ধ পানির তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই এই এলাকায়। ফলে বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে অনেকেই অতিমাত্রায় লবণ ও কাদাযুক্ত পুকুরের পানি পান করে আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন জটিল রোগে।

ছবি : চন্দ্রদীপ নিউজ

বঙ্গোপসাগর মোহনায় পাথারঘাটা উপজেলার চারদিক ঘিরে বিভিন্ন নদ-নদীসহ পানির পর্যাপ্ত উৎস থাকলেও সুপেয় পানির নেই তেমন কোনো ব্যবস্থা। এতে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এখানকার বাসিন্দাদের। বিশেষ করে এই উপজেলার প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি এলাকায় রয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট।

এছাড়া এই উপজেলায় প্রায় ১৫ থেকে ২০টি এলাকায় রয়েছে মাঝারি ধরনের পানির সংকট। স্বাভাবিকভাবে পানিতে লবণের মাত্রা ৬০০ পিপিএম (প্রতি মিলিয়ন অংশ) পর্যন্ত থাকলে সেই পানি খাবার উপযোগী ধরা হয়।

তবে পাথরঘাটার ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণের মাত্রা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত। এতে বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানি পেতে গভীর নলকূপ বসালেও লবণাক্ততার কারণে নলকূপগুলো কোনো কাজেই আসছে না। এছাড়া অনেক এলাকায় নলকূপ বসালেও কাদাযুক্ত পানি ওঠায় সে পানি কোনো কাজে ব্যবহারে করা যায় না।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাথরঘাটা উপজেলায় ৮৬টি টিউবওয়েল, ৬৮টি সোলার পিএসএফসহ ৪৫২০টি পানির ট্যাংক ২০২৫ সালের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়াও ৪৮টি পুকুর খনন করা হয়েছে, তবুও পানির তীব্র সংকটে উপজেলাজুড়ে।

সরেজমিন দেখা যায়, বৈশাখের তীব্র রোদে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির নলকূপ বা ভিন্ন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পানি সংগ্রহ করতে বেগ পেতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। পৌর সভার ব্যবস্থাপানায় ও বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে কিছু পানির ফিল্টারের ব্যবস্থা করলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এতে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় হেঁটে হেঁটে বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহ করেছেন অনেকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা সব সময়ই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পানি নিতে ভিড় লেগে থাকে প্রত্যেকটি পানির ফিল্টারে। একদিকে চাহিদার তুলনায় পানির ফিল্টার কম, অপরদিকে কাছাকাছি পানির ব্যবস্থা না থাকায় বাড়িতে নিয়ে মেপে পানি পান করতে হয় এসব এলাকার বাসিন্দাদের।

পাথরঘাটা বাদুরতলা এলাকায় বাংলাদেশ বন্ধু ফাউন্ডেশন (বন্ধু) সংগঠন তাদের নির্মিত একটি মাত্র ফিল্টারের পানিতে চাহিদা মেটে ঐ এলাকার কয়েক হাজার মানুষের। তাও আবার মাসিক চাঁদা দিতে হয় ৩০ টাকা করে, এখানে প্রতি মাসে একটি পরিবার ১৫ দিন পানি দিতে পারে ২ কলস করে।

ফিল্টার থেকে পানি নিতে আসা ঐ এলাকার বাসিন্দা রাব্বি বলেন, আমাদের এলাকায় কোনো নলকূপ বসানো যায় না। যদি কেউ বসায় তাহলে তা দিয়ে লবণ পানি ওঠে, খাওয়া যায় না। এলাকার বাইরে চরে অনেকগুলো পরিবারের পানির জন্য মাত্র একটি ফিল্টার। এর সঙ্গে সংযোগ দেওয়া পুকুরটিও ছোট হওয়ায় অনেক সময় শুকনো মৌসুমে পানি শুকিয়ে গেলে আর পানি পাওয়া যায় না।

চরলাঠিমারা গ্রামের বাসিন্দা আবুল ফরাজি বলেন, আমাদের এলাকায় কোনো টিউবওয়েল বসানো যায় না। তারপরও যা আছে তা দিয়ে লবণ পানি ওঠে। দীর্ঘদিন বৃষ্টির পানিও ধরে রাখা যায় না, পানি নষ্ট হয়ে যায়। এসব পানি খেলে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

বরগুনা জেলা জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী রাইসুল ইসলাম বলেন, বরগুনার ৬টি উপজেলার মধ্যে পাথরঘাটার ভৌগোলিক অবস্থা একটু বিচিত্র ধরনের। এখানাকার বিভিন্ন ইউনিয়নসহ পাথারঘাটা সদরেও গভীর নলকূপ বসানো যায় না। আমরা পরীক্ষামূলক কিছু নলকূপ বসিয়েছি। তবে দেখা গেছে, ১২০০ থেকে ১৩০০ ফুট গভীরে যাওয়ার পরেও পানির ভালো স্তর পাওয়া যায়নি। এ কারণে এসব উপকূলীয় এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বৃষ্টি পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

তবে এগুলো পর্যাপ্ত না হওয়ায় পুকুর খনন করে পানি বিশুদ্ধ করে ব্যবহারের পাশাপাশি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পাথরঘাটায় সুপেয় পানির দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে।




মির্জাগঞ্জে ঘোড়ার দৌড় দেখতে হাজারো মানুষের ঢল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে ও বৈশাখী মেলা উপলক্ষে পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ মে) বিকেলে উপজেলার পশ্চিম গাবুয়া স্থানীয় যুব সমাজের আয়োজনে এই ঘোড়া দৌড় দেখতে ওই এলাকায় হাজারো মানুষের ঢল নামে।

তিন বারে ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগীতার প্রথম হয়েছেন উপজেলা সদর সুবিদখালী কলেজ রোড এলাকার অলি আহমেদ।

আরো পড়ুন : বাউফল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মত বিনিময় সভা

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই চলে মাইকিং যার কারণে দর্শনার্থী সংখ্যা বেড়ে যায়। হাজার হাজার নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী শিশুরা মাঠে জড়ো হতে থাকেন এবং হাজার হাজার দর্শকে কানায় কানায় ভরে যায় মাঠ। এমন আয়োজনে খুশি দর্শনার্থীরা। তবে তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকল প্রার্থী ও সমার্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড় দৌড় কালের বিবর্তনে প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। তাই গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এই ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ফলে এখানকার শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষের বিনোদনের কোনো কমতি ছিল না। বিভিন্ন এলাকা থেকে নয়টি প্রতিযোগী ঘোড়া নিয়ে অংশ নিয়েছে।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান প্রার্থী খান মো: আবু বকর সিদ্দিকী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কাকড়াবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: সেলিম মিয়াসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




তুরস্কের ভাতান পার্টির চেয়ারম্যান : ‘ন্যাটোর সদস্যপদের কারণে আমরা বিপদে আছি’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ন্যাটোর সদস্যপদের কারণে তুরস্কের জনগণ বিপদের মধ্যে আছে বলে মন্তব্য করে তুরস্কের ভাতান পার্টির চেয়ারম্যান ডোগু পেরেনস্ক  যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের প্রভাব এবং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, আপনারা কয়েক বছর অপেক্ষা করুন, আমরা সংসদে জায়গা করে নেব। পেরেনস্ক বিশ্বাস করেন যে প্রতি বছর তুর্কি জনগণ পশ্চিমা মূল্যবোধ এবং তাদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনীতিবিদদের থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছে। এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কারণে, যা নিয়মিতভাবে এই অঞ্চলে অবন্ধুত্বপূর্ণ এবং এমনকি আক্রমণাত্মক আচরণ প্রদর্শন করে এবং যা তুরস্কের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি চলছে। রাশিয়া টুডে (আরটি) কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

পেরেনস্ক এসব কথা বলেন। ৮১ বছর বয়স্ক এই রাজনীতিবিদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ দেশের সাধারণ মানুষ দেখছে, এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এটি দেখছে। তুরস্কই এখন আমেরিকার প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাড়িয়েছে। সাক্ষাৎকারকালে পেরেনস্ক তুরস্কের একটি মানচিত্র দেখান যেখানে তুরস্কের চারপাশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি মার্কিন পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।

সম্প্রতি ইন্টারনেটে ইরানেরও একই ধরনের একটি মানচিত্র শেয়ার করা হয়েছে।

 

ওয়াশিংটনের সাথে  বিচ্ছেদের তিন ধাপ 
পেরিনসেকের মতে, আঙ্কারা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব মূলত কৌশলগত এবং তা একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। কেন নয় তাও তিনি বলেছেন..

ডোগু পেরেনস্ক: আমি তুর্কি-মার্কিন সম্পর্কের ইতিহাসকে তিনটি যুগে ভাগ করব। প্রথমটি ১৯৪৫-১৯৮০ সালে, দ্বিতীয়টি ১৯৮০-২০১৪ সাল এবং তৃতীয়টি ২০১৪ সালের পরে শুরু হয়েছিল।

প্রথম যুগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তুরকিয়ের বিপ্লবী অর্জনগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু এতে অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছিল। ১৯৮০ সালের পর,  প্রধান কাজ ছিল তুর্কি অর্থনীতিকে বিশ্ব অর্থনীতিতে একীভূত করা। অবশ্যই, বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে একীকরণের জন্য দেশের জাতীয় অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং রাজনীতির নির্মূল হওয়ার কথা ছিল। পশ্চিমারা এমনকি জোর করে এই দৃশ্যকল্প বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলো। কিন্তু তখন আমাদের দলই ছিল এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। তখন একে শ্রমিক-কৃষকের দল বলা হতো। প্রায় ২ হাজার ৫০০ দলের সদস্যদের কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল যেখানে তাদের নির্যাতন করা হয়েছিল। তদুপরি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের ভূখণ্ডে “কুর্দিস্তান” প্রকল্প তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। (পেরেনস্ক এটিকে “দ্বিতীয় ইস্রায়েল প্রকল্প” বলে)। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং যেকোনো উপায়ে প্রতিরোধ করেছি। ২০১৪ সালে, আমরা অবশেষে  ২০০৭ সালে কারাবন্দী অফিসার ও জেনারেলদের মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।

এরপর শুরু হয় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তৃতীয় পর্ব, যখন তুরস্ক ধীরে ধীরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে। এই সময়টি সন্ত্রাসবাদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে লড়াই দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ২০১৬ সালের গ্রীষ্মে মার্কিন এজেন্টরা সশস্ত্র অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নেয় এবং চেষ্টা করে। তবে তারা ব্যর্থ হয়। এরপরই শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। ১ লাখ ৪০ হাজার বিশ্বাসঘাতককে তাদের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বা কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। এর ফলে একটি নির্দিষ্ট বৈপরীত্য দেখা দেয়: ন্যাটো এজেন্টদের সম্মিলিতভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তুরস্ক এখনও ন্যাটোর একটি অংশ হিসাবে রয়ে গেছে।

আরটি: আপনি বলেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মূলত ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এটি তুরস্ককে রাশিয়ার সাথে সহযোগিতা করা থেকে বিরত রাখতে চায় …

ডোগু পেরেনস্ক: এটা সত্যি। কিন্তু তাদের (তুর্কিয়ে) ওপর চাপ প্রয়োগের নীতি অচলাবস্থায় পৌঁছাতে চলেছে। তুরস্ক ধীরে ধীরে চীন, রাশিয়া ও ইরানের কাছাকাছি চলে আসছে। তবে এটি একটি জটিল ও ধীর প্রক্রিয়া। একদিকে এরদোগান প্রশাসন আটলান্টিক বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হতে চায় না, অন্যদিকে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চায়। এরদোগান পুতিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চান, কিন্তু তিনি বাইডেনের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রাখতে চান।

যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। তুরস্কের একটি বড় জাতীয় ঋণ রয়েছে এবং এটি আমদানি নির্ভর। চাপ কেবল অর্থনৈতিক নয়, মার্কিন অস্ত্রও আমাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয় (পেরিনসেক আবার মানচিত্রের দিকে ইঙ্গিত করে)। তুরস্ককে ন্যাটো ছাড়তে বাধ্য করার জন্য তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।

আরটি: কিন্তু জোট থেকে সরে আসার কোনো আইনি প্রক্রিয়া নেই।

ডোগু পেরেনস্ক: আমাদের লোকেরা ইতিমধ্যে এটি থেকে সরে এসেছে। আজ যদি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে তুরস্কের ৮০ শতাংশ মানুষ উত্তর আটলান্টিক মহাজোট ছাড়ার পক্ষে রায় দেবে।

আটলান্টিসিস্ট বনাম দেশপ্রেমিক
আরটি: তবে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রে তুরস্ক ন্যাটোর পক্ষে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা সম্প্রতি কিয়েভের কাছে বায়রাক্তার ড্রোন উৎপাদনের জন্য একটি কারখানা নির্মাণের কথা শুনেছি।

ডোগু পেরেনস্ক: আটলান্টিকবাদী এবং দেশপ্রেমিকদের মধ্যে বিভাজন তুরস্কে সমস্ত স্তরে ঘটে। ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেও তা বিদ্যমান। ন্যাটোতে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি এবং ইউক্রেন সম্পর্কে তুরস্কের নীতি প্রমাণ করে যে তুরস্কে আটলান্টিকবাদ এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী।

আরটি: আর তুর্কি প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে কী বলবেন- তিনি কার পক্ষে? ইউক্রেনে তুর্কি ইউএভি উৎপাদনের ইস্যুতে ফিরে আসি, আমরা লক্ষ্য করতে পারি যে এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এরদোগানের জামাতা।

ডোগু পেরেনস্ক: এরদোগানের জামাতা সেলকুক বায়রাকতার আটলান্টিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করেন। আটলান্টিকবাদীরা তাকে তার শ্বশুরকে সরিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও দেশের নেতা হিসেবে চায়।

যাইহোক, আমরা বলতে পারি না যে এরদোগান নিজেই আটলান্টিকবাদীদের পুরোপুরি সমর্থন করেন, কারণ তিনি খুব ভাল করেই জানেন যে আমেরিকানরা তার প্রতি সন্তুষ্ট নয়। ওয়াশিংটনের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য (এরদোগান) যতই চেষ্টা করুক না কেন, তারা তাকে সেখানে গ্রহণ করবে না। এক্ষেত্রে তুর্কি নেতার মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের বিষয়টি বেশ চমকপ্রদ।

ফিলিস্তিন ইস্যু ও ইরান তুরস্কে পশ্চিমা প্রভাবকে দুর্বল করছে
আরটি: ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের উপর ইরানের আক্রমণ সম্পর্কে তুরস্ক এবং বিশেষ করে তুর্কি অভিজাতরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে?

ডোগু পেরেনস্ক: সংঘাতের শুরুতে এরদোগান ফিলিস্তিনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাননি। কিন্তু ফিলিস্তিনি জনগণের মরিয়া সংগ্রাম তাকে তাদের পক্ষ নিতে বাধ্য করে।

৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং ইরানের হামলা তুরস্কের আটলান্টিকবাদীদের জন্য মারাত্মক আঘাত হানে। কয়েকদিন আগে আমি ইরানি দূতাবাসে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সংক্রান্ত একটি বৈঠকে অংশ নিয়েছিলাম। ওই বৈঠকে তুরস্কের জেনারেলরা উপস্থিত ছিলেন। এটি লক্ষণীয়, কারণ তুরস্কের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা অতীতে এ জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।

অবশ্যই, পশ্চিমারা এই অঞ্চলে এবং তুরস্কে ইরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করছে। বিশেষত, এটি শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বে ইন্ধন জোগাতে ধর্মীয় মৌলবাদীদের ব্যবহার করে, তবে খুব বেশি সাফল্য পায়নি।




স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে পটুয়াখালীতে পতাকা উত্তোলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগে পতাকা উত্তোলন, পদযাত্রা ও ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৬ মে) বেলা সাড়ে ১১ টায় পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এসময় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোদাচ্ছের বিল্লাহ, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আশিষ কুমার হৃদয়, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তানভীর হাসান আরিফ সহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন : জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, আহত ১১

পরে মহিলা কলেজের সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পদযাত্রা শেষে বকুল চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্ব আজ শোশক আর শোষিত এই দুভাগে বিভক্ত। ছাত্রলীগ বরাবর শোষিতের পক্ষে কাজ করে। তাই শোষিত ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়ার দাবিতে জেলা ছাত্রলীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছে।




স্বামী কারাগারে, ঘরে আত্মহত্যা স্ত্রীর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় নাসিমা (২২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে গলাচিপা থানা পুলিশ। আত্মহত্যা আগ থেকেই নাসিমার স্বামী কাওসার মৃধা পটুয়াখালী জেল হাজতে রয়েছেন।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রামানন্দ গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।

নাসিমা ওই গ্রামের নাসির বয়াতির মেয়ে।

আরো পড়ুন : চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান মিজান এর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমখোলা গ্রামের ফারুক মৃধার ছেলে কাওসার মৃধা (২৮) ও একই ইউনিয়নের রামানন্দ গ্রামের নাসির বয়াতির মেয়ে নাসিমার সাথে ৩/৪ বছর আগে বিবাহ হয়। ভালো ভাবেই সংসার করছিল। দুই বছর আগে তাদের সংসার জুড়ে ফুটফুটে একটি সুন্দর কন্যা সন্তান হয়। তাদের মধ্যে পাবিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী নাসিমা বেগম স্বামী, শ্বশুর ও শাশুরিসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা করেন। এতে আদালত স্বামী কাওসার মৃধাকে জেল হাজতে পাঠান, আর তার একমাত্র মেয়ে করিমাকে তার শ্বাশুরি বিউটি তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। এ কারণে হয়তো নাসিমা বেগম রাগে ও ক্ষোভে বাবার বাড়িতে আজ ভোরে শূন্য ঘর পেয়ে ঘরের আড়ার সাথে লায়লন রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার করেন বলে স্বামীর পরিবারের অভিযোগ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী তিন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র যাছাই বাছাই অনুষ্ঠিত

এ ব্যাপারে গলাচিপা থানার এস আই মনির হোসেন জানান, রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় নাসিমা নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।




২০ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে ইংলিশ ক্রিকেটার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ২২ গজের লড়াইয়ে গতকালও বোলিং করতে দেখা গিয়েছে তাকে। শুধু তা-ই নয়, সমারসেটের দ্বিতীয় একাদশের বিপক্ষে উস্টারশায়ার দ্বিতীয় একাদশের হয়ে তিনটি উইকেটও নেন তিনি।

কিন্তু আজ ক্রিকেট বিশ্বকে শোকের চাদরে ভাসিয়ে মাত্র ২০ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন জশ বেকার। মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে তার কাউন্টি ক্লাব উস্টারশায়ার।

যদিও মৃত্যুর কারণ জানায়নি তারা।

এক বিবৃতিতে উস্টারশায়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার অ্যাশলি জাইলস বলেন, ‘জশের মৃত্যুর খবরে আমরা সবাই ভেঙে পড়েছি।

জশ একজন সতীর্থের চেয়েও বড় কিছু ছিল। আমাদের ক্রিকেট পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সে।

ইংল্যান্ডের ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের রিজার্ভ দলে থাকা জশ ২০২১ সালেই নাম লেখান পেশাদার ক্রিকেটে। উস্টারশায়ারেই তার হাতেখড়ি। বাঁহাতি স্পিনে কাউন্টি ক্লাবটির হয়ে ২২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪৩ উইকেট ও ১৭টি লিস্ট এ ম্যাচে ২৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ৮ ম্যাচ খেলে তার শিকার ৩ উইকেট। কাউন্টির এবারের আসরে অবশ্য খেলেছেন মাত্র দুই ম্যাচ। যেখানে ৪ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এই স্পিনার।




স্বস্তির বৃষ্টির সঙ্গী ভয়ংকর বজ্র, ১ দিনেই প্রাণ গেল ১০ জনের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :  স্বস্তির বৃষ্টিতে বজ্রপাতে আজ একদিনেই চট্টগ্রাম বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।

বৃহস্পতিবার (২ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুমিল্লা, রাঙামাটি, কক্সবাজার ও কুমিল্লায় বৃষ্টির সময়ে হওয়া বজ্রপাতে মোট ১০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৪ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন, কক্সবাজারে ২ জন, খাগড়াছড়িতে একজন প্রাণ হারিয়েছেন।




কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতকে যা যা বললেন মিল্টন সমাদ্দার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার আশ্রমের কার্যক্রম শুরু করেন মিল্টন সমাদ্দার ২০১৪ সালে। এক বছর পর সমাজসেবা অধিদপ্তরে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন তিনি। ২০১৮ সালে আশ্রমের কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স পান। আশ্রমটিকে কেন্দ্র করে মোট ২টি লাইসেন্স করা হয়। একটি ফাউন্ডেশনের জন্য, আরেকটি সমাজকল্যাণের জন্য। সমাজকল্যাণের লাইসেন্সে হতদরিদ্রদের আশ্রয়, সেবা দেওয়া ও চিকিৎসার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত।

বৃহস্পতিবার রিমান্ড ও জামিন শুনানি চলাকালে বিচারকের জেরার মুখে এসব তথ্য জানিয়েছেন মিল্টন সমাদ্দার।

এ সময় বিচারক চিকিৎসার জন্য আশ্রমে কী কী ব্যবস্থা আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। আদালতে ‘ফিরিস্তিযোগে’ মিল্টনের আইনজীবীর দাখিল করা ছবির বিষয়ে বিচারক বলেন, এই মানুষগুলোকে সেখানে (আশ্রম) নিয়ে গেলেই ভালো হয়ে যায় কি না। এ সময় তিনি একজন ডাক্তারের নাম বলেন। ওই ডাক্তার আশ্রিতদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেন বলে জানান মিল্টন।

মিল্টন জানান, এ পর্যন্ত আশ্রমে ১৩৫ জন মারা গেছেন। তাদের কবরস্থ করার রশিদও আছে। মৃতদের কবরস্থ করার বিষয়ে একাধিক মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সহযোগিতা পাননি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় আশ্রমের নিজস্ব অর্থায়নে মৃতদের কবরস্থ করা হয় বলে জানান তিনি।

মিল্টন আদালতকে জানান, বর্তমানে আশ্রমটিতে ২৫৬ জন অসহায় মানুষ অবস্থান করছেন। এদের সবাই বেওয়ারিশ। এর মধ্যে ৬ জন গর্ভবতী নারীও রয়েছেন। তাদের দেখভাল করার জন্য একজন ডাক্তার রয়েছেন। গর্ভবতীদের পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আশ্রমের নিজস্ব অর্থায়নে সিজার করানো হয়। আশ্রমটিতে বেওয়ারিশ ছাড়া অন্য কারও থাকার সুযোগও নেই।

ডেথ সার্টিফিকেটের বিষয়ে মিল্টন জানান, যেহেতু তাদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায় না তাই মৃতদের কবরস্থ করার জন্য সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। এর বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। কোনো সার্টিফিকেটে তার স্বাক্ষর নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বাক্ষর করে থাকেন।

সার্টিফিকেটে কী লেখা থাকে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কী কারণে লোকটি মারা গেছে সেটাই লেখা থাকে। মৃত্যুর এই কারণ কীভাবে পান? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমাদের একজন ডাক্তার আছেন। তিনি যখন তাদের দেখে যান কার কী সমস্যা সেটা উল্লেখ করা থাকে। সার্টিফিকেটও লেখা হয় তার কী কী রোগ ছিল সেটার ওপর ভিত্তি করে।

ডাক্তার পরিচয়ে কোনোদিন কোনো কাগজে স্বাক্ষর করেননি বলে জানান মিল্টন সমাদ্দার। এ সময় তিনি একটা সুযোগ চান, যাতে চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে আশ্রমটি ভালোভাবে চালাতে পারেন।
আয়-ব্যয়ের বিষয়ে তিনি জানান, অডিট ফার্ম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে অডিট করা হয়। ২০১৭ সাল থেকে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করা আছে।

মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জাল মৃত্যু সনদ তৈরির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের হয়। এরপর তার আশ্রমের টর্চার সেলে মারধর করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়। এছাড়া মানবপাচার আইনেও একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

এর আগে বুধবার রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ




মুগডাল ভাঙানো মেশিন: দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকের স্বপ্নপূরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মুগ ডাল উৎপাদন হয়। এর বেশিরভাগ হয় পটুয়াখালী এবং বরিশাল অঞ্চলে।

বারি মুগ-৬ এই অঞ্চলে কৃষকদের এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি জমিতে রূপান্তর করেছে। মুগ ডাল আমিষের একটি অন্যতম উৎস। যা গরীব কৃষকদের আমিষের চাহিদা পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে।

কিন্তু এই অঞ্চলে উৎপাদিত এই মুগ ডালগুলো এ অঞ্চলের কৃষকরা খুব কমই ভক্ষণ করতে পারে। কারণ এই মুগ ডালের খোসা ছাড়িয়ে খাবার উপযোগী ডাল উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি সহজলভ্য হয়নি।

নতুন উদ্ভাবিত এই যন্ত্রটির বিভিন্ন সুবিধাবলি যন্ত্র প্রস্তুত কারক বিজ্ঞানী সম্প্রসারণ কর্মী ও সাধারণ জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য এফএমপিই ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, গাজীপুর ও সরেজমিন কৃষি গবেষণা বিভাগ, বিএআরআই পটুয়াখালীর আয়োজনে আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্রের সিসা-এমইএ প্রকল্পের অর্থায়ানে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার জামলাতে এক মাঠ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, লেবুখালী, পটুয়াখালী।

তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে এ যন্ত্রটি ছড়িরিয়ে দিতে বারি উদ্ভাবিত এই যন্ত্রটির ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা প্রয়োজন। মানসম্পন্ন প্রস্তুতকরণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানদের প্রশিক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরো পড়ুন : হবিগঞ্জে নিহত পাঁচজনের চারজনই পটুয়াখালীর এক পরিবারের

মো. মাইনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. এইচ, এম খায়রুল বাসার, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বিএআরআই পটুয়াখালী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পটুয়াখালী।

সভাপতি তার বক্তৃতায় তীব্রভাবে আশা পোষণ করেন যে, সদাশয় সরকার যদি এই যন্ত্রে ভর্তুকি প্রদান করেন এবং স্বল্পমূল্যে দক্ষিণাঞ্চলে কৃষকের মাঝে এই যন্ত্রটি ছড়য়ে দেয় সাথে সাথে যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাহলে তা এ অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকের মাঝে একটি অভূতপূর্ব সারা ফেলবে।